তামিলনাড়ুতে স্যামসাং শ্রমিকদের বীরত্বপূর্ণ লড়াই

আর কারুমালাইয়ান
ব্রিটিশ উপনিবেশে ভারতীয় শ্রমিকেরা বাধ্য করেছিল ১৯২৬ সালের ভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন আইন প্রণয়ন করতে। এই আইনের দ্বারা শ্রম-অধিকারকে সুনিশ্চিত করতে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের আইনি অধিকার দেয়। স্বাধীন ভারতে নাগরিকদের সংগঠন এবং ইউনিয়ন তৈরির অধিকার সুনিশ্চিত করতে, ভারতীয় সংবিধানে অনুচ্ছেদ ১৯(১)(সি) রয়েছে। সংগঠন তৈরির অধিকার গণতন্ত্রকে সজীব রাখার অন্যতম শর্ত। এই অধিকার ছাড়া তো রাজনৈতিক দলও তৈরি হবে না, আর এরকম দল না থাকলে গণতান্ত্রিক সংসদীয় গঠনতন্ত্র,  সরকারি পরিকাঠামো কার্যকর হওয়াই সম্ভব নয়।  দু:খের কথা, দক্ষিণ কোরিয়ার বহুজাতিক কোম্পানি স্যামসাং এক বাক্যে এই নৈতিক ও  মৌলিক অধিকারকে, এতদিনের ইতিহাসকে, শ্রমিকদের ধারাবাহিক লড়াইকে ‘অবৈধ’ বলে দাগিয়ে দিতে পারছে। বলাবাহুল্য যে, ভারতের বর্তমান শাসকদল বিশ্বপুঁজির সঙ্গে যে সমস্যাজনক সমঝোতায় চলছে- এসব তারই অবদান!

বৈদ্যুতিন মেশিনপত্রের বাজারে মহাকায় স্যামসাং কোম্পানি দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম ‘চেবল’, অর্থাৎ পারিবারিক মালিকানাভিত্তিক গোষ্ঠী (কংগ্লোমারেটস)। ২০২২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার জিডিপি-র ২২.৪% স্যামসাং-এর রাজস্ব থেকে এসেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক পরিসরে স্যামসাং-এর প্রভাব অতুলনীয়। যদিও, স্যামসাং-এর মতো কংগ্লোমারেটস-এর ওপর অত্যাধিক মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে থাকা আজকের দক্ষিণ কোরিয়ার এই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, আসলে  স্বেচ্ছাচারী কর্তৃপক্ষ ও শ্রম অধিকার দমনকারী এবং টানাপোড়নে থাকা শিল্প সম্পর্কে ঐতিহ্য বহন করছে।  

মূল আলোচনার আগে পটভূমি সম্পর্কে একটু বলা দরকার- ভারতে স্যামসাং-এর দুটি কারখানা আছে। যার একটি ২০০৭ সালে চেন্নাইয়ের কাছে শিল্পস্থাপনের পক্ষে সুবিধাজনক জায়গা, শ্রীপেরাম্বুদুরে, তৈরি হয়। স্যামসাং-এর ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় বৈদ্যুতিন ঘরোয়া মেশিনপত্র যেমন- অত্যাধুনিক বিলাসবহুল কিউলেড টিভি, দ্য ফ্রেম লিফস্টাইল টিভি, নানান সুবিধাসম্পন্ন রেফ্রিজারেটর, এআই যুক্ত ওয়াশিং মেশিন, এসি মেশিন ইত্যাদি এই কারখানায় তৈরি হয়। এদের মধ্যে বহু অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিন ঘরোয়া মেশিন বাইরের দেশগুলিতেও রপ্তানি করা হয়। ফলে কারখানাটির গুরুত্ব যথেষ্ট।     

স্যামসাং-এর ১২ বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক রাজস্বের ২০-৩০ শতাংশ আসে শ্রীপেরাম্বদুর কারখানা থেকে। ১৯৯৫ সালে ভারতীয় বাজারে প্রবেশের পর থেকেই দুটি কারখানার ওপর ভর করে দেশের প্রথম শ্রেণির শিল্প তালিকায় স্যামসাং রয়েছে। একটি নয়া দিল্লির কাছে নয়ডা (ইউ পি)-তে, অন্যটি চেন্নাইয়ের কাছে শ্রীপেরাম্বুদুরে। এছাড়াও তাদের ৫টি গবেষণা এবং উন্নয়ন কেন্দ্র (আর অ্যান্ড ডি) ও একটি ডিজাইন কেন্দ্র রয়েছে। এই গোটা ব্যবস্থাপনা আবার ২,০০,০০০-এরও বেশি খুচরো বিপণী এবং ৩,০০০-এর বেশি গ্রাহক-পরিষেবা কেন্দ্রের শক্তিশালী যৌথ সংযুক্ত সম্প্রচার ব্যাবস্থার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।  

শ্রীপেরাম্বুদুর প্ল্যান্টে ৪০ জন মহিলা-শ্রমিক সহ ১৮১০ জন স্থায়ী কর্মী এবং সম্প্রতি নিযুক্ত ৩৭০ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী রয়েছেন। এত সাফল্য সত্ত্বেও ১৬ বছরের চাকরির পরও এই শ্রমিকদের বেতন ২০,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকার মধ্যেই থেমে রয়েছে। যেখানে কোরিয়ায় তাদের সহকর্মীরা প্রতিমাসে ৪.৫৫ লক্ষ টাকা আয় করেন। উপরন্তু কাজের সময় বিধিবদ্ধ আটঘন্টা সীমার বেশি। শ্রমিকেরা জানিয়েছেন- তাঁদের দৈনিক উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে দেওয়া হয়, তা বেশিরভাগ সময়েই একটা শিফটে পূরণ করা সম্ভব হয় না। তখন কর্মীদের ২-৩ ঘন্টা ওভারটাইম করতে হয়। যখন উৎপাদন-চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে তখন শ্রমিকদের নিয়মিত দিনে ১০-১১ ঘন্টা পরিশ্রম করতে হয়।   

তার ওপর উৎপাদন চাহিদা তুঙ্গে থাকাকালীন ওভারটাইম নিয়ে প্রশ্ন করার অধিকার শ্রমিকদের থাকে না। একজন শ্রমিক বলছেন- “যখন মালিকপক্ষ দৈনিক কাজের পরিকল্পনা করে তখন আটের বদলে নয় ঘন্টা ধরে তৈরি করে। তার মধ্যে আমাদের কাজ শেষ করতে হবে, নয়ত বাড়তি সময়ে কাজ করে দিতে হবে। ওভারটাইমের টাকা যাতে না দিতে হয়, তাই সুপারভাইজাররা এক ঘন্টা পূর্ণ হওয়ার দু একমিনিট আগেই আমাদের ছুটি দিয়ে দেয়। আর এই অতিরিক্ত কাজের সময়ের রেকর্ড রাখতেও বাধা দেয়, কার্ড ‘পাঞ্চ’ করতে দেয়না।”

কাজের পরিকল্পনা দিন দিন নিষ্ঠুর এবং শোষণমূলক হয়ে উঠেছে, শ্রমিকরা ঠিকমত ছুটির আবেদন করতে পারে না।  

এই অনিশ্চিত, নিরাপত্তাহীন কর্মক্ষেত্র এবং কর্মসংস্কৃতির বিরুদ্ধে, কম মজুরি, শ্রমের অতিরিক্ত সময় চাপানো, কোনো অভিযোগ জানানোর স্বীকৃতি বা সমাধানের ব্যবস্থাপনা না থাকা ইত্যাদির প্রেক্ষিতে শ্রমিকেরা একটি ইউনিয়ন করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। শেষে, দক্ষিণ কোরিয়ার সিওল প্ল্যান্টের সহকর্মীরা যখন অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেন, তখন তাঁরাও ২০২৪ সালের ১৬ জুন একটি সাধারণ সভা করেন। সি আই টি ইউ-র কাঞ্চিপুরমের জেলা সম্পাদক ই. মুথুকুমার, যিনি এই ধরনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন লড়াই করেছেন, তিনিই ছিলেন সেই সভার আহ্বায়ক। এরপর ই. মুথুকুমারকে সম্পাদক নির্বাচন করে স্যামসাং ইন্ডিয়া ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন গঠিত হয়। এ এক হাস্যকর এবং উদ্বেগের বিষয় যে- ট্রেড ইউনিয়নের প্রচলিত নিয়ম, গণতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক আইন পরিকাঠামোর মতে, ভারতে স্যামসাং-কে বৃহত্তম উৎপাদন ঘাঁটি তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আর এখন এরাই প্রকাশ্যে জানাচ্ছে- স্যামসাং-এর কর্মীদের নাকি ইউনিয়ন তৈরি করার কোনো অধিকার নেই। এই অবস্থানের দ্বারা ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং ভারতীয় সংসদ/রাজ্য আইনসভা প্রণীত শ্রম-আইনের প্রতি এদের অবজ্ঞা আর অসম্মান স্পষ্ট হয়।

এই সূত্রে একজন শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণার্থীকে ২০১৫ সালে একটি চিঠি কোম্পানি থেকে দেওয়া হয়েছিল। এই চিঠির ছয় নম্বর শর্তটি দেখা যাক। কোম্পানি কর্মীকে বলছে- তুমি কোনোসময়েই কোম্পানির কাজ ছাড়া অন্য যেকোনো ধরনের ব্যবসা বা কার্যকলাপের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট হতে পারবে না, আগ্রহীও হতে পারবে না…এরকম বিষয় ঘটলে, শুধুমাত্র কোম্পানিই তার একক বিচারক, এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারী হবে।

এই ধরনের ভাষা স্পষ্টভাবে মালিকপক্ষের হুমকি এবং শোষণমূলক কর্মসংস্কৃতিকেই প্রতিফলিত করে। এখানে সরাসরি কর্মীদের যেকোনও ধরনের সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাদের অনুমতি ছাড়া একটি মানুষ কোম্পানির কাজ ছাড়া আর কোনো পছন্দসই কাজ করতে পারবে না বলে শর্ত চাপানো হচ্ছে- যা নিতান্তই অমানবিক। এই কৌশলগুলি থেকেই বোঝা যায় এতদিন তারা কীভাবে শ্রীপেরাম্বুদুরকে ইউনিয়ন মুক্ত রাখতে পেরেছিল, এতকিছুর পরেও যে ইউনিয়ন তৈরি করা গেছে তা নি:সন্দেহে বড় সাফল্য।

 তদুপরি স্যামসাং কোম্পানি তার আক্রমণাত্মক এবং সংগঠন-বিরোধী আচরণের জন্য, অন্যায্য শ্রম-সংস্কৃতি ও তাদের অধিকারের সঙ্গে অসততার জন্য কুখ্যাত। ১৬ বছর ধরে এরকম অসহযোগী অবস্থা সহ্য করার পর, স্যামসাং কর্মীরা অবিলম্বে তামিলনাড়ু শ্রম বিভাগে তাঁদের ইউনিয়নের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন, এবং মালিকপক্ষের কাছে তাঁদের দাবি সনদ পেশ করেন। যদিও নিবন্ধীকরণের প্রক্রিয়া সরকার আপাতত মুলতুবি রেখেছে এবং পাশাপাশি স্যামসাং কোম্পানি তাদের স্বভাবেই, ক্রমাগত ইউনিয়নের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে চলেছে। এমতাবস্থায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে- শ্রমিকেরা বাধ্য হয়েছেন ধর্মঘট করতে। 

ইউনিয়ন তৈরির অধিকার- এই প্রাথমিক মৌলিক গণতান্ত্রিক দাবি নিয়ে শ্রমিকেরা চেন্নাই-এর কাছে শ্রীপেরাম্বুদুরে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট করছেন। মাদ্রাজ (চেন্নাই) সেই শহর যেখানে প্রথম ভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন - মাদ্রাজ লেবার ইউনিয়ন গঠিত হয়েছিল ১৯১৮ সালে। ব্রিটিশ উপনিবেশে ভারতীয় শ্রমিকেরা বাধ্য করেছিল ১৯২৬ সালের ভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন আইন প্রণয়ন করতে। এই আইনের দ্বারা শ্রম-অধিকারকে সুনিশ্চিত করতে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের আইনি অধিকার দেয়। স্বাধীন ভারতে নাগরিকদের সংগঠন এবং ইউনিয়ন তৈরির অধিকার সুনিশ্চিত করতে, ভারতীয় সংবিধানে অনুচ্ছেদ ১৯(১)(সি) রয়েছে। সংগঠন তৈরির অধিকার গণতন্ত্রকে সজীব রাখার অন্যতম শর্ত। এই অধিকার ছাড়া তো রাজনৈতিক দলও তৈরি হবে না, আর এরকম দল না থাকলে গণতান্ত্রিক সংসদীয় গঠনতন্ত্র,  সরকারি পরিকাঠামো কার্যকর হওয়াই সম্ভব নয়। 

দু:খের কথা, দক্ষিণ কোরিয়ার বহুজাতিক কোম্পানি স্যামসাং এক বাক্যে এই নৈতিক ও  মৌলিক অধিকারকে, এতদিনের ইতিহাসকে, শ্রমিকদের ধারাবাহিক লড়াইকে ‘অবৈধ’ বলে দাগিয়ে দিতে পারছে। বলাবাহুল্য যে, ভারতের বর্তমান শাসকদল বিশ্বপুঁজির সঙ্গে যে সমস্যাজনক সমঝোতায় চলছে- এসব তারই অবদান!   

ধর্মঘটকারী শ্রমিকদের লড়াকু মানসিকতায় ভাঙন ধরাতে বরখাস্ত করা, গ্রেপ্তার করা, আরও যেভাবে যেভাবে সম্ভব সব প্রকারেই লাগাতার হুমকি এবং দমন চলছে। তামিলনাড়ু পুলিশ, চেন্নাই এবং কাঞ্চিপুরমের রাজ্য প্রশাসন স্যামসাং কর্তৃপক্ষের ইশারায় চলছে। শ্রমিকদের প্রত্যেককে কড়া নজরদারির সম্মুখীন হতে হচ্ছে, ভাড়াটে গুণ্ডারা ঘরে ঘরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে। তা সত্ত্বেও এই শ্রমিকেরা তাঁদের লড়াকু চেতনা, অদম্য এবং অনমনীয় জেদ বজার রেখেছেন। ফলে তাঁদের আন্দোলন গোটা তামিলনাড়ুর সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাঁরা সাধারণ মানুষের সমর্থন পাচ্ছেন।   

বিশ্ব মূল্য শৃঙ্খল প্রভাবিত নতুন আন্তর্জাতিক শ্রম বিভাজন ব্যবস্থা যেভাবে ফাঁদ পেতেছে- তাতে বেশিরভাগ শিল্পসংস্থা মূল্যবোধ এবং শ্রম-অধিকারের পরোয়া করে না। তারা শ্রমিকদের নির্মমভাবে শোষণ করে সর্বাধিক মুনাফা অর্জনে সচেষ্ট, এবং নিজেদের জন্য দ্রুত এবং বিশাল অংকের লাভকে সুনিশ্চিত করে। এসবের পর উৎপন্ন মুনাফার একটি ক্ষুদ্র অংশই দেশে থাকে, বেশিরভাগটাই পাঠিয়ে দেওয়া হয় বাইরের দেশগুলিতে। জটিল প্রযুক্তি এবং অন্যান্য অত্যাবশকীয় উপকরণের বাজারে তাদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখার জন্য বহুদেশে নানান ধরনের ব্যবসা করা ট্রান্সন্যাশনাল কর্পোরেশন (টিএনসি)-গুলি মুনাফার বৃহৎ অংশ কুক্ষিগত করে। ফলে সব অর্থেই বিশ্ব জুড়ে শ্রমিকেরা দিন দিন শোষিত, নিপীড়িত, বঞ্চিত হচ্ছেন। এমতাবস্থায় তাঁদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া, নিজেদের অধিকার সুনিশ্চিত করতে সংগঠন তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। আর এখানেই এই বড় বড় শিল্পসংস্থাগুলির ভয়।

বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, প্রতিযোগিতার মানসিকতা বৃদ্ধি, নিয়োগকর্তাদের প্রতি নি:শর্ত নমনীয় থাকার আবেদন- ইত্যাদি সব গালভরা তত্ত্বের মূলে আছে শ্রমিকদের জীবন এবং মৌলিক অধিকারকে বলি দিয়ে শিল্পপতির মুনাফা বৃদ্ধির কৌশল। তামিলনাড়ুর শ্রীপেরাম্বুদুর প্ল্যান্টের শ্রমিকেরা তাঁদের ওপর হওয়া শোষণের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে আন্দোলন এবং লড়াইকে জিইয়ে রেখেছেন। এই বীরত্বপূর্ণ লড়াইকে সমর্থন করতে, সংহতি জানাতে, শক্তিশালী করতে, ছড়িয়ে দিতে আমাদেরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। নব্য ঔপনিবেশিক বহুজাতিক শিল্প সংস্থাগুলির নিষ্ঠুর অবদমন এবং শোষণের বিরুদ্ধে এই অদম্য প্রতিরোধ, সংগ্রামী বীরগাথারূপে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ভাষান্তর: বীথিকা সাহানা 

সূত্র: পিপলস ডেমোক্রেসি, ৬ অক্টোবর ২০২৪

নোট: গত ১৭ অক্টোবর ২০২৪ স্যামসাং কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মজুরিবৃদ্ধি, স্বাস্থ্য বীমা ও অন্যান্য সুযোগসুবিধাসহ ১৪টি দাবি আদায়ের মাধ্যমে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক এক মাসের বেশি সময় ধরে একটানা চলা উক্ত ধর্মঘট প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দেন। যদিও সি আই টি ইউ অনুমোদিত স্যামসাং ইন্ডিয়া লেবার ওয়েলফেয়ার ইউনিয়ন-এর নিবন্ধিকরণের দাবি এখনও আদায় হয়নি- এটি বিচারাধীন বিষয় হওয়ায় আদালতের রায় অবধি অপেক্ষা করতে হবে। 

 


প্রকাশের তারিখ: ৩০-নভেম্বর-২০২৪

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org