পশ্চিমবঙ্গের পরিবেশ সংকট:  জনস্বার্থের প্রশ্ন

প্রত্যয় মুখোপাধ্যায়
দ্য ওয়্যার-এর একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বীরভূম এখন পশ্চিমবঙ্গের বেআইনি বালি অর্থনীতির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে সেখানে একাধিক সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়েছে, এবং ২০২২-এর বগটুই হত্যাকাণ্ডেও বালি চক্রের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে CBI। তৃণমূল কর্মীরা সরাসরি বালি ব্যবসার সাথে যুক্ত, এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত এই বালি মাফিয়ার ভাগ বাটোয়ারা পৌঁছায়। পরিবেশ থেকে লুঠ করে বছরে কয়েকশো কোটি টাকা পায় এই বালি মাফিয়া।

পশ্চিমবঙ্গ আজ এক গভীর পরিবেশগত সংকটের সম্মুখীন। এই সংকটকে প্রায়শই প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভৌগোলিক দুর্বলতা বা জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলে ব্যাখ্যা করা হয়। কিন্তু এই ব্যাখ্যা অসম্পূর্ণ এবং বিভ্রান্তিকর। বাস্তব হল, গত দেড় দশকে যে পরিবেশ ধ্বংস হয়েছে, তা শুধুমাত্র কোনও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার ফল নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক নীতির ফল, যেখানে প্রাকৃতিক সম্পদকে সাধারণ মানুষ ও সামগ্রিক প্রাণীজগতের সম্পদ হিসেবে নয়, লুঠের বস্তু হিসেবে দেখা হয়।

খাল, বিল, পুকুর, নদী, বনভূমি - এই সবই ছিল জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আজ সেগুলিই দখল, ভরাট, দূষণ এবং অব্যবস্থাপনার শিকার। ফলে পরিবেশের প্রশ্ন এখন আর আলাদা কোনও বিষয় নয়, এটি সরাসরি মানুষের জীবন, জীবিকা এবং ভবিষ্যতের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

একদিকে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের তরাই-ডুয়ার্সের জঙ্গল কাটা পড়ছে নির্বিচারে। দামোদর থেকে অজয়, তিস্তা থেকে জলঢাকা - রাজ্যের নদীগুলি বেআইনি বালি মাফিয়ার লুটের শিকার। পুকুর ভরাট হয়ে উঠছে বহুতল, জলাভূমি বদলে যাচ্ছে রিয়েল এস্টেটে।

জলাভূমি দখল ও নগর পরিবেশের ভাঙন

রাজ্য জুড়ে খাল, বিল, পুকুর ও জলাভূমি নির্বিচারে ভরাট করার প্রবণতা গত কয়েক বছরে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই ভরাট কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়া, যেখানে প্রাকৃতিক জলাধারকে রিয়েল এস্টেটের পণ্যে পরিণত করা হচ্ছে।

এর ফলে শহর ও শহরতলিতে জল জমা আজ স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে যে জল কয়েক ঘণ্টায় নেমে যেত, এখন তা দিনের পর দিন জমে থাকে। কারণ, প্রাকৃতিক নিকাশি ব্যবস্থাই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর ক্রমশ নিচে নামছে, যা ভবিষ্যতের জন্য আরও বড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।



কলকাতা ও আশেপাশের অঞ্চলে এই সমস্যা সবচেয়ে প্রকট। পূর্ব কলকাতা জলাভূমি (ইস্ট কলকাতা ওয়েটল্যান্ডস), যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রামসার সাইট (Ramsar Site) এবং একসময় বিশ্বের অন্যতম কার্যকর প্রাকৃতিক বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত ছিল, তা আজ দখলদারি ও বাণিজ্যিক স্বার্থের চাপে সংকুচিত হচ্ছে। গত ১৫ বছরে অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলার পরিমাণ এখানে দ্বিগুণ হয়েছে। দূষণের কারণে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র, উদ্ভিদ ও প্রাণীজগত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হাজার হাজার মৎস্যজীবীর জীবিকা বিপন্ন হয়ে উঠেছে। 

গাছ কাটা ও সবুজের সংকট

উন্নয়নের নামে নির্বিচারে গাছ কাটা আজ এক সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তা প্রশস্তকরণ, নির্মাণ প্রকল্প বা অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের অজুহাতে হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। কিন্তু তার বদলে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো বা সবুজ অঞ্চল বৃদ্ধি করার কোনও সুসংহত উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। 

এর ফলে শহর ও গ্রামে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বায়ুদূষণ বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, সবই একসঙ্গে বাড়ছে। সবুজের সংকট শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

সুন্দরবন ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলির অবনতি

সুন্দরবন অঞ্চলে পরিবেশগত সংকট সবচেয়ে তীব্র। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততার কারণে এই অঞ্চলের জীবনযাত্রা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। বহু এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

কিন্তু এই সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বদলে অস্থায়ী ও আংশিক কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ম্যানগ্রোভ বন পুনরুদ্ধার, স্থানীয় মানুষদের অংশগ্রহণ, এবং বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছেনা।

সুন্দরবনে কমপক্ষে হাজার হেক্টর ম্যানগ্রোভ ধ্বংস করে অবৈধ চিংড়ি চাষের জন্য জলাভূমি তৈরি করা হয়েছে। সুন্দরবনের ঘন ম্যানগ্রোভের আচ্ছাদন (৭০ শতাংশের বেশি ঘনত্ব) ২০০৭ থেকে ২০২১-এর মধ্যে ১,০৩৮ বর্গ কিমি থেকে কমে ৯৯৪ বর্গ কিমিতে নেমে এসেছে।

উত্তরবঙ্গের পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলেও বনভূমি ধ্বংস এবং নিয়ন্ত্রণহীন পর্যটন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। পশ্চিমাঞ্চলের বনভূমি ও জলসম্পদও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সর্বত্র একই প্রবণতা, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের বদলে তার ওপর চাপ বৃদ্ধি।

এছাড়াও এর সাথে যুক্ত আছে কাঠ মাফিয়া। শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গের তরাই ও ডুয়ার্সের জঙ্গল থেকে প্রতি বছর অন্তত ৫০ কোটি টাকার কাঠ পাচার হচ্ছে বলে অনুমান।

নদী: দূষণ, ভাঙন ও বেআইনি লুঠ

হুগলি নদী সহ রাজ্যের নদীগুলি আজ চরম সংকটে। শিল্পের বর্জ্য, অপরিশোধিত নিকাশি এবং বর্জ্য পদার্থ সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে নদীর জল দূষিত হচ্ছে এবং জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এর পাশাপাশি বেআইনি বালি তোলা একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই কার্যকলাপ নদীর তলদেশকে দুর্বল করে দিচ্ছে, নদীভাঙন বাড়াচ্ছে এবং আশেপাশের এলাকাকে বিপজ্জনক করে তুলছে।

উত্তরবঙ্গে নদী অববাহিকা (river basin) থেকে অনিয়ন্ত্রিত বালি ও পাথর উত্তোলন বেশ কয়েকটি নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে দিয়েছে। এই ঘটনা দেখা গেছে তিস্তা, শিল তোর্ষা, কালজানি, জলঢাকা, রায়ডাক নদী ছাড়াও নানান নদীতে।  এর ফলে গত কয়েক বছর ধরে প্রায় প্রত্যেক বর্ষাতেই নদীর বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে, বিস্তর জমি জলের নিচে চলে যাচ্ছে ও ঘর ভেঙে পড়ছে দরিদ্র কৃষকদের। 

দক্ষিণবঙ্গতেও বীরভূম, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলী, বর্ধমান - নানান জেলায় এই একই চিত্র। যেমন গত ১০ বছর ধরে বাঁকুড়ার দামোদরের তীরে নির্বিচারে বালি তোলা হচ্ছে। ফলে একরের পর একর কৃষিজমি ও বাড়ি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। বীরভূমের অজয় নদী থেকে বালি চুরির বিষয়ে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (National Green Tribunal - NGT) তদন্তের নির্দেশও দিয়েছে।

দ্য ওয়্যার-এর একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বীরভূম এখন পশ্চিমবঙ্গের বেআইনি বালি অর্থনীতির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে সেখানে একাধিক সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়েছে, এবং ২০২২-এর বগটুই হত্যাকাণ্ডেও বালি চক্রের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে CBI। তৃণমূল কর্মীরা সরাসরি বালি ব্যবসার সাথে যুক্ত, এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত এই বালি মাফিয়ার ভাগ বাটোয়ারা পৌঁছায়। পরিবেশ থেকে লুঠ করে বছরে কয়েকশো কোটি টাকা পায় এই বালি মাফিয়া।

বিভিন্ন জেলায় নদীভাঙনে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। কিন্তু তাদের জন্য কোনও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনা নেই। সমস্যার মূল কারণ দূর করার বদলে তা চলতেই দেওয়া হচ্ছে।

শিল্পাঞ্চল ও সম্পদ শোষণ

দুর্গাপুর, আসানসোল, হলদিয়া, খড়গপুর প্রভৃতি শিল্পাঞ্চলে দূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। বায়ু ও জল দূষণের ফলে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য বিপন্ন হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও বাস্তুচ্যুতি

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে ক্রমশ বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, অনিয়মিত বৃষ্টি, - সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক, মৎস্যজীবী এবং প্রান্তিক মানুষ।

সুন্দরবন ও নদীভাঙন অঞ্চল থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষ অন্যান্য গ্রামে বা শহরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। তাদের জন্য কোনও সুসংহত নীতি বা সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। ফলে পরিবেশ সংকট সামাজিক বৈষম্যকে আরও তীব্র করছে।

প্রয়োজন কঠোর সরকারের হস্তক্ষেপ ও জনসম্পৃক্ততা

এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দেয় যে পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবই প্রধান সমস্যা। আইন থাকলেও তার প্রয়োগ নেই। বেআইনি ভরাট, গাছ কাটা, বালি তোলা, সব কিছুই প্রায় বাধাহীনভাবে চলছে।

২০১১-র পরে তৃণমূল কংগ্রেস নিয়ন্ত্রিত রাজ্য সরকারের সাথে নানানরকম মাফিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক সখ্যতা এর পেছনে প্রধান কারণ। 

পরিবেশ রক্ষাকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা, জবাবদিহিতা এবং জনসম্পৃক্ততা।

পরিবেশ রক্ষা মানেই মানুষের অধিকার রক্ষা

শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে বা ভারতে নয়, বর্তমানে পরিবেশ সম্পর্কিত সমস্যা সারা পৃথিবী জুড়ে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত গ্লোবাল নর্থের দেশগুলির এই সংকটে দায়ভার বেশি, কিন্তু তারা নিজেরা সেই দায় না নিয়ে উন্নতশীল গ্লোবাল সাউথের দেশের ওপর দায় চাপিয়ে দিচ্ছে। পৃথিবীর একদম শীর্ষ ধনী ১% ব্যক্তি এবং তাদের দায়িত্বে থাকা কোম্পানিগুলি মুনাফা লোভে প্রাকৃতিক বিপর্যযয়ের জন্য সিংহভাগ ভাবে দায়ী, কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে দরিদ্রতম ৫০% সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়, এই বিপর্যয়ের ভার এদেরকেই বইতে হয়। 

একইরকমভাবে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তি পরিকল্পিত ভাবে পরিবেশ ধ্বংস করছে নিজের পকেট ভরাতে। এবং এর ফলে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

পশ্চিমবঙ্গের পরিবেশ সংকট শুধুমাত্র প্রকৃতির সংকট নয়, এটি মানুষের জীবনের সংকট। এই সংকটের সমাধান তখনই সম্ভব, যখন উন্নয়নের ভিত্তি হবে মানুষের প্রয়োজন, প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়।

পরিবেশ রক্ষা মানে কেবল গাছ লাগানো নয়। এটি মানুষের অধিকার, জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ রক্ষার সংগ্রাম। এই সংগ্রামকে সংগঠিত ও শক্তিশালী করাই আজকের সবচেয়ে জরুরি কাজ। 

নির্বাচনের কর্মসূচি: পরিবেশ রক্ষায় আমাদের অঙ্গীকার

খাল, বিল, পুকুর, জলাভূমি এবং নদী ভরাট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে এবং দখলমুক্ত করা হবে। নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করে রাজ্য জুড়ে বিশেষ ‘সবুজ বাহিনী’ গড়ে তোলা হবে। 

বন দফতরের পাশাপাশি স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলিকে যুক্ত করে পরিবেশ রক্ষার কাজ করা হবে। 

সুন্দরবন, উত্তরবঙ্গের পাহাড়-তরাই-ডুয়ার্স এবং পশ্চিমাঞ্চলের বনভূমি ও জলাভূমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। 

নদী থেকে বেআইনি বালি তোলা এবং খাদান থেকে বেআইনি পাথর তোলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

নদীভাঙন রোধে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে এবং এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব নিশ্চিত করা হবে।


প্রকাশের তারিখ: ১৪-এপ্রিল-২০২৬

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org