কৃত্রিম মেধা ও কর্মসংস্থান

প্রভাত পট্টনায়েক

একটি পুঁজিবাদী সমাজে, শ্রমলাঘবের এ ধরনের উদ্ভাবন সঙ্গে সঙ্গেই আঘাত হানবে কর্মসংস্থানে। আমাদের দৃষ্টান্তের ৫০ জন শ্রমিক নতুন উদ্ভাবনের পর মুহূর্তেই ছাঁটাই হয়ে যাবেন ব্যয় সংকোচন ও মুনাফা বৃদ্ধির লক্ষ্যপূরণে। যেহেতু ৫০ জন শ্রমিকের বাড়তি বেকারত্ব উদ্বৃত্ত শ্রমিকের সংখ্যায় বৃদ্ধি ঘটাবে, যার ফলে শ্রমিকদের দরকষাকষির ক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং তার ফলে মজুরি বৃদ্ধি তো দূরস্থান, যা ঘটবে সেটা হল মজুরি সংকোচন। ফলে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অধীনে শ্রমলাঘবের নতুন উদ্ভাবন হাতে এলে, বেকারত্ব বৃদ্ধি ও মজুরি হ্রাস, দু’দিক দিয়েই শ্রমিকদের দুরবস্থা বেড়ে যায়।

কৃত্রিম মেধা ব্যবহারের জেরে ছাঁটাই হয়েছিলেন হলিউডের লেখকরা। এর বিরুদ্ধে ধর্মঘটে গিয়েছিলেন তাঁরা। সেসময় তাঁরা তুলেছিলেন কিছু মৌলিক প্রশ্ন। পরে সংঘাত মিটে যেতে সেই প্রশ্নগুলি কিছুটা আড়ালে চলে যায়। তবে মনে রাখতে হবে, সেগুলি মৌলিক বিষয় হিসেবেই থেকে গিয়েছে। কৃত্রিম মেধা চালু হলে যে নানা ধরনের সমস্যার আত্মপ্রকাশ হতে পারে, তা নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হচ্ছে। কিন্তু আমরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন এর থেকে জন্ম নেওয়া বিশালাকার কর্মহীনতার প্রশ্নটি নিয়ে।

লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, এই গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাটি একান্তভাবেই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অধীনে কৃত্রিম মেধার প্রয়োগের সাথে জড়িত। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে পুঁজিবাদই যেহেতু এই মুহূর্তের বাস্তবতা, ফলে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শ্রমজীবী মানুষের সামনে কৃত্রিম মেধা একটি ভয়ঙ্কর বিপদ। সমাজতান্ত্রিক সমাজের মতো কোনও সমাজে যেখানে শ্রম ও উৎপাদনের সমবন্টনের নৈতিক আদর্শ অনুসৃত হয়, সেখানে কৃত্রিম মেধার যে ধরনটি শ্রমভার লাঘব করে তাকে নৈতিক বা অন্য আর যে কোনও মাপকাঠিতেই আপত্তি করা হোক, কর্মহীনতা সৃষ্টিকারী বলে আপত্তি করা যাবে না। কিন্তু পুঁজিবাদী সমাজের পরিচালন পদ্ধতিটি মূলগতভাবেই শ্রম ও উৎপাদনের সমবন্টনের নৈতিকতার বিরোধী।

এক্ষেত্রে পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের পার্থক্যকে একটি সহজ দৃষ্টান্তের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়। ধরা যাক, কৃত্রিম মেধার সহায়তায় বা অন্য কোনও ধরনের শ্রমলাঘবের নতুন পন্থা উদ্ভাবনের ফলে, কোনও একটি পণ্যের ১০০টি উৎপাদন এতদিনকার মোট শ্রমের অর্ধেক ব্যয় করেই সম্ভব। অর্থাৎ আগে যা করতে ১০০ জনের প্রয়োজন হত, এখন সেটা ৫০ জন হলেই চলবে। একটি সমাজতান্ত্রিক সমাজে এর ফলে প্রতিটি শ্রমিক আগেকার চেয়ে অর্ধেক সময় কাজ করবে, অথচ মজুরি পাবে আগের হারেই। শ্রমলাঘবের নতুন উদ্ভাবনের প্রভাব ফেলার লক্ষ্য হবে, পণ্য ও পরিষেবা প্রাপ্তির পূর্বেকার সুযোগ অপরিবর্তিত রেখে, প্রতিটি শ্রমিকের অবসর বিনোদনের পরিসরটির বিস্তৃতি ঘটানো। 

বিকল্পে, ১০০ জনের শ্রমশক্তির প্রত্যেকেই সময়সূচি অপরিবর্তিত ধরেই কাজ করবে, অথচ উৎপাদন করবে দ্বিগুণ। তার মানে অবসর বিনোদনের পরিসরের কোনও বিস্তৃতি হবে না ঠিকই, কিন্তু আগেকার চেয়ে দ্বিগুণ মজুরি পাবে। অন্যভাবে বললে, একটি সমাজতান্ত্রিক সমাজে, প্রতিটি উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শ্রমশক্তির প্রয়োজনীয়তাকে অর্ধেক করে দেবে যে উদ্ভাবন, সেটা পণ্য ও পরিষেবা প্রাপ্তি অপরিবর্তিত রেখে, অবসর বিনোদনের পরিসরের বৃদ্ধি ঘটিয়ে কিংবা একই শ্রমের বিনিময়ে অধিকতর পণ্য ও পরিষেবা প্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি ঘটাবে।

একটি পুঁজিবাদী সমাজে, শ্রমলাঘবের এ ধরনের উদ্ভাবন সঙ্গে সঙ্গেই আঘাত হানবে কর্মসংস্থানে। আমাদের দৃষ্টান্তের ৫০জন শ্রমিক নতুন উদ্ভাবনের পর মুহূর্তেই ছাঁটাই হয়ে যাবে ব্যয় সংকোচন ও মুনাফা বৃদ্ধির লক্ষ্যপূরণে। যেহেতু ৫০ জন শ্রমিকের বাড়তি বেকারত্ব উদ্বৃত্ত শ্রমিকের সংখ্যায় বৃদ্ধি ঘটাবে, যার ফলে শ্রমিকদের দরকষাকষি করার ক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং তার ফলে মজুরি বৃদ্ধি তো দূরস্থান, যা ঘটবে সেটা হল মজুরি সংকোচন। ফলে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অধীনে শ্রমলাঘবের নতুন উদ্ভাবন হাতে এলে, বেকারত্ব বৃদ্ধি ও মজুরি হ্রাস, দু’দিক দিয়েই শ্রমিকদের দুরবস্থা বেড়ে যায়। মানুষের ক্লেশলাঘব ও সুখ সুগম করার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি উদ্ভাবন, যা সত্যিসত্যিই সমাজতন্ত্রে ঘটে, তা পুঁজিবাদের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের দুর্দশাগ্রস্ত বৃদ্ধির কৌশলে পর্যবসিত হয়ে যায়। ফলেই পুঁজিবাদী সামাজিক ব্যবস্থাপনার অধীনে কৃত্রিম মেধা শ্রমিকদের সমূহ সর্বনাশের দিকে ঠেলে দেয়।

এভাবে যুক্তি উপস্থাপন করলে প্রথমাবস্থায় মনে হবে উনিশ শতকের ইংল্যান্ডের বস্ত্র শ্রমিকদের লুডাইট গোষ্ঠীর ভ্রান্তিকর যুক্তিধারা মেনে নেওয়া হচ্ছে।  লুডাইটরা চারধারে যন্ত্র ভেঙে বেড়াতো এই যুক্তিতে যে, যন্ত্রগুলিই আসলে বেকারত্ব সৃষ্টির মূলে রয়েছে। যন্ত্রগুলি বেকারত্বের জন্ম দিচ্ছে বলে লুডাইটরা ভুল করেনি।  ওরা যেটা দেখতে পায় নি সেটা হল যে, ওই ঘটনাপ্রবাহটি এসেছে পুঁজিবাদের জন্যেই। ওরা একটি সামাজিক ঘটনাপ্রবাহকে প্রযুক্তিসৃষ্ট বা প্রযুক্তির অঙ্গ ভেবেছিল, কিন্তু সামাজিক ঘটনাপ্রবাহটিকে চিহ্নিত করতে ভুল করেনি। ওদের যাবতীয় ভুল ছিল কারণ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে। প্রকৃতপক্ষে যে অর্থনীতিবিদরা যন্ত্রকে কর্মসংস্থানের জন্যে হিতকর ভেবেছিলেন তারাই ছিলেন তত্ত্বগতভাবে ভুল।

এই অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগণ্য ছিলেন ডেভিড রিকার্ডো। মজুরি সর্বদা বেঁচে থাকার মত ন্যূনতম হারে স্থিত থাকে ধরে নিয়ে তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, যন্ত্র শ্রমহরণ ও বাড়তি বেকারত্বের সৃষ্টির মধ্য দিয়ে মুনাফার ক্ষেত্রে বৃদ্ধি আনবে এবং এর ফলে বৃদ্ধি হবে মুনাফার হারেও। রিকার্ডো বিশ্বাস করতেন সে’র সূত্র বা বাজারের সূত্রে। সেই সূত্রের মতে, একটি পুঁজিবাদী  অর্থনীতিতে মোট চাহিদায় কখনোই ঘাটতি থাকে না। এই সূত্র ধরে তাঁর যুক্তি ছিল, যেহেতু সমস্ত মজুরিরই ব্যয় হয়ে যাচ্ছে এবং পাশাপাশিভাবে সমস্ত অ-ব্যয়িত মুনাফা সঞ্চিত এবং বিনিয়োগ করা হচ্ছে, ফলে মুনাফার বৃদ্ধি প্রতি একক পুঁজির ভাণ্ডারে বিনিয়োগে বৃদ্ধি ঘটাবে, যার অর্থ, পুঁজির ভাণ্ডারের বিকাশের হারে বৃদ্ধি এবং অতএব উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের বিকাশের হারে বৃদ্ধি।

এর অর্থ একদিকে যেমন যন্ত্রের প্রবর্তন সরাসরি বেকারত্ব বৃদ্ধি করছে, আবার কর্মসংস্থানের বিকাশের হারে বৃদ্ধিও ঘটাচ্ছে, যার ফলে একটা সময়পর্বের পর এই বাড়তি বেকারত্বটা সৃষ্ট হচ্ছে শুধুমাত্র সাময়িকভাবেই নয়, বরং সময়ের নিরিখে কর্মসংস্থানের মাত্রা যন্ত্রের অনুপস্থিতির সময়ে সৃষ্ট কর্মসংস্থানের চেয়ে বহুগুণ বেশি দাঁড়াবে। সুতরাং যন্ত্র, সাময়িকভাবে বেকারত্ব যে হারেই সৃষ্টি করুক, শেষ বিচারে অধিকতর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে যা তার অবর্তমানে সম্ভবপর হত না।

এখনও যখনই ট্রেড ইউনিয়নের তরফে বলা হয় যে যন্ত্রের প্রবর্তন কর্মসংস্থানের জন্যে হানিকর তখন সেই রিকার্ডের যুক্তিই তুলে ধরা হয়। কিন্তু তাঁর যুক্তি দু’টি কারণে ভ্রান্ত। প্রথমত, এটা উল্লেখিত হয়েছে যন্ত্র প্রবর্তনের এককালীন ঘটনাকে সামনে রেখে। কিন্তু যদি যন্ত্র প্রবর্তন (অথবা শ্রমলাঘবকারী উদ্ভাবন) একটি চলমান প্রক্রিয়া হয়ে যায়, তখন সাময়িক বেকারত্ব সৃষ্টির ঘটনাটিও প্রতিবারের প্রবর্তনের সূত্রে একটি চলমান প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়। যার ফলে সময়ের নিরিখে বহু প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থানের প্রথমাবস্থার তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়াটিও, কোনও বুদ্ধিগ্রাহ্য সময়সীমার মধ্যে কখনই আসবে না। যে কোনও সময়খণ্ডে প্রকৃত চিত্র দেখা যাবে কর্মসংস্থান অবিরত যন্ত্র প্রবর্তনের পূর্বেকার সময়ের চেয়ে অনেক কম।

এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি নিম্নলিখিত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। শ্রমসংকোচন জাত শ্রমব্যয় হ্রাস এবং তার থেকে হওয়া মুনাফার মাত্রা ও হারের বৃদ্ধি হওয়ার সময়ে পুঁজিপতিরা বিনিয়োগ করে না। তারা বিনিয়োগ করে যখন বাজারের সম্প্রসারণের সম্ভাবনা দেখা দেয়। এবারে ধরা যাক সেই সময়টির কথা যখন যন্ত্র প্রবর্তিত হচ্ছে। রিকার্ডোর যুক্তিতে যেহেতু তখন, প্রকৃত মজুরি বেঁচে থাকার ন্যূনতম স্তরে স্থির থেকেও সরাসরি ধাক্কা লাগবে এসে কর্মসংস্থানে, তখন অন্য সময়ের তুলনায় মজুরি খাতে ব্যয় এবং ফলে শ্রমিকদের ভোগের মাত্রায় হ্রাস ঘটবে এবংপুঁজিপতিদেরও মুনাফার একটি ক্ষুদ্র অংশই ব্যয় হবে (সহজ করে ধরে নেওয়া যাক, তাদের মুনাফার পুরোটাই চলে গেল সঞ্চয়ে)। অর্থনীতিতে মোট ভোগের পরিমাণ তার ফলে সেই সময়খণ্ডে হ্রাস পাবে এবং বাস্তবে তখন কোনও কারণ আদৌই থাকবে না বিনিয়োগ বৃদ্ধির স্বপক্ষে। এর ফলশ্রুতিতেই মোট চাহিদা এবং অতএব উৎপাদনেও তখন হ্রাস দেখা যাবে। সেক্ষেত্রে সময়ের নিরিখে বিনিয়োগের মাত্রা, রিকার্ডোর যুক্তি অনুযায়ী আগেকার চেয়ে বেশি হওয়ার পরিবর্তে বরং হ্রাসই পাবে।  সময়ের নিরিখে কর্মসংস্থানও একইভাবে নিম্নগামী হবে। 

ফলে আগেকার যুগের শ্রমিকদের যুক্তি যে, যন্ত্রের প্রবর্তন কর্মসংস্থানের জন্যে হানিকর। তা স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি, দুইয়ের হিসেবেই সত্য থেকে যাচ্ছে। কিন্তু রিকার্ডোর বিরুদ্ধে আমাদের যুক্তি অনুযায়ী, ইউরোপে তবে কেন যন্ত্রের প্রবর্তনের পর বেকারত্বের হারে ধারাবাহিক বৃদ্ধি ঘটছে না? তার জন্যে দু’টি সুস্পষ্ট কারণ রয়েছে। একটি হচ্ছে, ইউরোপ থেকে নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুর শ্বেতাঙ্গ উপনিবেশগুলিতে বিপুল আকারের বহির্গমন, যেখানে পরিযায়ীরা স্থানীয় জনগোষ্ঠীদের উচ্ছেদ করে তাদের ভূমি গ্রাস করে। এর ফলে ইউরোপের দেশগুলিতে বেকারত্ব অনেক কমস্তরে থাকে এবং মজুরি সাধারণভাবে যা হওয়ার কথা ছিল তা থেকে উচ্চস্তরে থেকে যায়। ডব্লিইউ আর্থার লিউসের মতে, ৫০ মিলিয়ন ইউরোপীয় ‘সুদীর্ঘ উনবিংশ শতক জুড়ে’ কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকায় বহির্গমন করে। মানে, পুরো উনবিংশ শতক ও প্রথম মহাযুদ্ধ পূর্ববর্তী বিংশ শতকের কালপর্ব। ইউরোপে বেকারত্ব প্রকট আকার না নেওয়ার দ্বিতীয় কারণ হল ভারত ও চীনের মত গরম জলবায়ুর উপনিবেশ ও আধা-উপনিবেশের দেশগুলির বাজারে ইউরোপীয় পণ্যের অনুপ্রবেশ ,যা সেখানকার স্থানীয় কারিগরদের উচ্ছেদ করে। এর কার্যত অর্থ দাঁড়াল, বেকারত্বের রপ্তানি ও ইউরোপ থেকে পণ্যসামগ্রীর রপ্তানি যা একইসাথে প্রাক্‌-পুঁজিবাদী অর্থনীতিগুলিতে ‘নিঃশিল্পায়ন’ ঘটায় এবং বেকারত্ব সৃষ্ট করার পাশাপাশি ইউরোপের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে।

সাম্রাজ্যবাদের তরফে মেট্রোপলিটন ক্যাপিট্যালিজম বা পুঁজিবাদের সদর দেশগুলিকে প্রদান করা এই বিশেষ সুরক্ষা ভালভগুলি ছিল অত্যাচারী ও কদর্য চরিত্রের, যা এখন আর মেট্রোপলিটান দেশগুলির  পুঁজিবাদের হাতে নেই। প্রান্তবর্তী দেশগুলির পুঁজিবাদের ক্ষেত্রে তার প্রশ্নই নেই। প্রকৃতপক্ষে কেইনস যেমনটা ভেবেছিলেন, প্রাক্‌-পুঁজিবাদী বাজারগুলির মত রাষ্ট্রীয় ব্যয় পুঁজিবাদী অংশেও চাহিদার সৃষ্টি করবে এবং তার ফলে পুঁজিবাদের সদর দেশগুলিতে অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, সেটা নয়া উদারবাদী পুঁজিবাদে আর কার্যকর হল না যা চলমান সময়ের লাগাতর সংকট থেকেই স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পুঁজিবাদী ভূখণ্ডে ব্যাপকাকার কৃত্রিম মেধার প্রবর্তন বিপুল বেকারত্বের জন্ম দেবে সদর ও প্রান্তিক, উভয় ক্ষেত্রের পুঁজিবাদী দেশগুলিতেই।  বেকারত্বের মুখোমুখি হয়ে যে লেখক ও কন্ঠশিল্পীরা এই মুহূর্তে প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন শুধু তাঁরাই নয়, সাধারণ শ্রমিকদেরকেও এর কঠিন মাশুল দিতে হবে।  সেজন্যেই শ্রমিক আন্দোলনের তরফে যথাযথ দাবি উত্থাপনের মাধ্যমে লড়াই গড়ে তুলে এর বাস্তবায়ন রুখে দেওয়াটাএই মুহূর্তে একটি জরুরি কর্তব্য।

ভাষান্তর: শুভ প্রসাদ নন্দী মজুমদার

সূত্র: দ্য  পিপলস ডেমোক্রেসি, ১৭-২৩ জুন, ২০২০৪

 


প্রকাশের তারিখ: ২৫-জুন-২০২৪

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org