একটি ‘হিন্দু রাষ্ট্রের’ শরীরতত্ত্ব

প্রভাত পট্টনায়েক
ভবিষ্যতের হিন্দু রাষ্ট্র অবধারিতভাবে হবে একটি সন্ত্রাস-নির্ভর একনায়কতন্ত্র। গণতান্ত্রিক ধাঁচের সরকারের শাসনেও খেটেখাওয়া মানুষের ওপর ধনিক শ্রেণির শাসন টিঁকে থাকে শ্রেণিগত একনায়কতন্ত্রের প্রতিনিধিত্বকারী রাষ্ট্রের মাধ্যমে। এটা বলার অর্থ এই নয় যে গণতান্ত্রিক ধাঁচের এই সরকারগুলি অপ্রাসঙ্গিক কিংবা শুধুমাত্র একটি গৌণ ঘটনা। যে বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন তা হল, এই গণতান্ত্রিক ধাঁচটি দুর্বল হয় সেই শ্রেণি একনায়কতন্ত্রের দ্বারাই যার অভ্যন্তরে সেটা প্রতিষ্ঠিত। এই শ্রেণিগত একনায়কতন্ত্র যখন জনগনের অবস্থার অবনতি ঘটায় এবং যখন রাষ্ট্র এ নিয়ে কোনো ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়, তখন এই শ্রেণি একনায়কতন্ত্র বাধ্যতামূলকভাবে, আরো বেশি করে গণতান্ত্রিক ধাঁচটির কন্ঠরোধ করে।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস)-এর প্রতিষ্ঠাই হয়েছিল হিন্দু রাষ্ট্র কায়েম করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে। প্রথমেই প্রশ্ন উঠবে, হিন্দু রাষ্ট্রের অর্থ কী? বিশ্বে এমন অনেক দেশ রয়েছে যেখানে একটি ধর্মকে অন্যান্য ধর্মের ওপরে স্থান দেওয়া হয় অথবা কিছু দেশ রয়েছে যা ধর্মতান্ত্রিক, কিন্তু তাতে ওই দেশগুলির রাষ্ট্রব্যবস্থার শ্রেণিচরিত্রের বিন্দুমাত্র হেরফের হয় না। একইভাবে, যদি আদৌ কখনো হিন্দু রাষ্ট্র বাস্তবে ঘোষিত হয়, তবে হয়তো একটিমাত্র ধর্মকে অন্য সকল ধর্মের ঊর্ধ্বে তুলে তার নামে শপথ করে ঘোষিত হবে। তবে সেক্ষেত্রে এর শ্রেণিচরিত্রের কোনো ব্যাখ্যা থাকবে না। আমরা পরবর্তী আলোচনায় দেখব, এই রাষ্ট্র আবশ্যিকভাবেই একটি একচেটিয়া পুঁজি, বিশেষত তার নতুন আগ্রাসী অংশটির দ্বারা পরিচালিত সন্ত্রাস-নির্ভর একনায়কতন্ত্রের রূপই গ্রহণ করবে।

কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের সভাপতি জর্জি ডিমিট্রভ সংগঠনের সপ্তম কংগ্রেসে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন, ‘লগ্নি পুঁজির সবচেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল ও প্রতিহিংসাপরায়ন অংশের সন্ত্রাসবাদী  একনায়কত্ব’ হিসেবে। ফলে আমাদেরও বক্তব্য, হিন্দু রাষ্ট্র কার্যত একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রই হয়ে উঠবে।

সেই রাষ্ট্রে সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠান হয়তো শুরু হবে হিন্দু দেবদেবীদের প্রতি প্রার্থনা দিয়ে, হয়তো সব রাস্তাঘাট, রেলস্টেশন কিংবা নগর থেকে মধ্যযুগের বাদশাহদের চিহ্ন বিসর্জন দিয়ে সেগুলি হিন্দুত্বপন্থী চরিত্রের নামে নামাঙ্কিত করা হবে, হয়তো সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিদিনের পাঠদান শুরু হবে সরস্বতী বন্দনা দিয়ে, এবং আরো বহু মন্দির তৈরি হবে, এমনকী হয়তো রাষ্ট্রের অর্থায়নেই সেগুলি তৈরি হবে। কিন্তু এই সমস্ত কিছুর কোনো একটিও সাধারণ হিন্দু নাগরিকের জীবনধারণের ক্ষেত্রে সামান্যতম উন্নতি আনবে না। ঠিক যেভাবে ইসলামী ভাবাবেগ চাগিয়ে তুলতে এরদোয়ান সরকার, ইস্তানবুলের হাগিয়া সোফিয়াকে (ষষ্ঠ শতকে নির্মিত গির্জা যা ইতিহাসের নানা পর্যায়ে বিভিন্ন খ্রিস্টীয় গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকার পর পঞ্চদশ শতকে মসজিদে রূপান্তরিত হয়। বিংশ শতকের ধর্মনিরপেক্ষ সাধারণতন্ত্রে এই স্থাপনাকে পরিণত করা হয়েছিল সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে- অনুবাদক) চালু মসজিদে বদলে দেওয়া তুরস্কের সাধারণ নাগরিকদের জীবনে কোনো উন্নতি আনেনি।  

প্রকৃতপক্ষে বিষয়টা আরো বিস্তৃত করা যায়। এই মুহূর্তে হিন্দুত্ববাদীদের শাসনে আমাদের অভিজ্ঞতাকেই ধরা যাক। সেন্টার ফর মনিটারিং দ্য ইন্ডিয়ান ইকনমি (যারা আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী বেতনহীন গৃহকর্মকে বেকারত্ব হিসেবে বিচার করে না) -র মতানুসারে, বিগত কয়েক দশকের নিরিখে বেকারত্বের সমস্যা এখন চরমতম পর্যায়ে। ২০০৮ ও ২০০৯ সময়পর্বের গড় বেকারত্বের হার বেড়ে ৫ - ৬ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই হিসেবে ‘নিরুৎসাহিত শ্রমিক-দশায়’ (একজন নিরুৎসাহিত শ্রমিক মানে যিনি যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যথাযথ কাজের সন্ধান পান নি বা আবেদন করেও কাজ পান নি, ফলে নিরুৎসাহিত হয়ে আর কাজ খোঁজেন না) থাকা শ্রমিকদের ধরা হয়নি। হিন্দুত্ববাদীদের নেতৃত্বাধীন সরকার যে শুধু এই নিম্নগামী প্রবণতা রোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে তাই নয়, এই সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা খোলাখুলি বলে দিয়েছেন যে, বেকারত্ব নিয়ে সরকারের কিছুই করণীয় নেই। তিনি তাঁর কথা পরবর্তীকালে প্রত্যাহারও করেননি কিংবা সরকার থেকেও কেউ এই বক্তব্যকে অস্বীকার করার বা অমান্য বলে ঘোষণা করার চেষ্টা করেননি। এর থেকে স্পষ্টত বোঝা যায় যে, এটাই সরকারের অবস্থান। ফলে সবচেয়ে জ্বলন্ত যে সমস্যা দেশের শ্রমজীবী মানুষকে বিপর্যস্ত করছে এবং তাদের সমস্ত দুর্দশার অন্তরালে রয়েছে যে সমস্যাটি, সেই বিষয়েই সরকার এক কথায় জানিয়ে দিল যে, তারা কিচ্ছু করতে ইচ্ছুক নয়।

এর অর্থ দাঁড়ায় - মানুষের ক্রমবর্ধমান দুর্দশা এই সরকারের জমানায় অব্যাহত থাকবে। তাদের সব দায়িত্ব হবে শুধু অনুমান নির্ভর প্রবৃদ্ধি আর মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের কপট পূর্বাভাস নিয়ে ঢাকঢোল পেটানো। তারপর এই অজুহাতেই ‘উন্নয়ন’-এর নামে রাষ্ট্রের তরফ থেকে একচেটিয়া পুঁজিপতিদের হাতে সম্পদ উজাড় করে দেওয়া হবে, আর যদি এই অবিরাম বেড়ে চলা দুর্দশা নিয়ে কোনো নিরপেক্ষ প্রতিবেদন তুলে ধরার কোনো প্রচেষ্টা হয়, তবে তাকে  নিন্দা ও তিরস্কারের বন্যায় ভাসিয়ে দেওয়া হবে। যদি এটাই হিন্দুত্ববাদী শক্তির অধীনস্থ একটি নির্বাচিত সরকারের কাজের নমুনা হয়, তবে তো ভবিষ্যতের কোনো হিন্দু রাষ্ট্রে মানুষের প্রতিদিনের বেঁচে থাকার সমস্যা নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ঔদাসীন্য এর চেয়েও বেশি সংহত চেহারায় দেখা দেবে।

এই কারণেই, ভবিষ্যতের হিন্দু রাষ্ট্র অবধারিতভাবে হবে একটি সন্ত্রাস-নির্ভর একনায়কতন্ত্র। গণতান্ত্রিক ধাঁচের সরকারের শাসনেও খেটেখাওয়া মানুষের ওপর ধনিক শ্রেণির শাসন টিঁকে থাকে শ্রেণিগত একনায়কতন্ত্রের প্রতিনিধিত্বকারী রাষ্ট্রের মাধ্যমে। এটা বলার অর্থ এই নয় যে গণতান্ত্রিক ধাঁচের এই সরকারগুলি অপ্রাসঙ্গিক কিংবা শুধুমাত্র একটি গৌণ ঘটনা। যে বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন তা হল, এই গণতান্ত্রিক ধাঁচটি দুর্বল হয় সেই শ্রেণি একনায়কতন্ত্রের দ্বারাই যার অভ্যন্তরে সেটা প্রতিষ্ঠিত। এই শ্রেণিগত একনায়কতন্ত্র যখন জনগনের অবস্থার অবনতি ঘটায় এবং যখন রাষ্ট্র এ নিয়ে কোনো ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়, তখন এই শ্রেণি একনায়কতন্ত্র বাধ্যতামূলকভাবে, আরো বেশি করে গণতান্ত্রিক ধাঁচটির কন্ঠরোধ করে। জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক শাসন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলি স্বাভাবিকভাবেই পদদলিত হয়।

একচেটিয়া পুঁজির অধীনস্থ শ্রেণি একনায়কতন্ত্র হিসেবে যদি হিন্দু রাষ্ট্র আত্মপ্রকাশ করে এবং একচেটিয়া পুঁজিপতিদের সঙ্গে সমন্বিত নয়া উদারবাদী কাঠামোয় পরিচালিত হয়, তবে জনগণের সঙ্কটাপন্ন দশার আরো অবনতি ঘটবে, বিশেষ করে নয়া উদারবাদের সংকটের পরিস্থিতিতে। অতএব হিন্দু রাষ্ট্রটি আবশ্যিকভাবেই সন্ত্রাসনির্ভর একনায়কতন্ত্রে পর্যবসিত হবে।

প্রকৃতপক্ষে, এই কারণেই একচেটিয়া পুঁজিপতিদের বড় অংশটি সম্ভবত হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের এই ছকটির অনুবর্তী হবে। সন্ত্রাসের পরিপূরক হবে সাম্প্রদায়িক অসন্তোষে উস্কানি, সংখ্যালঘু ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর ‘অপরত্ব’ আরোপ এবং সেই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা সৃষ্টি- এই সমস্ত কিছুই দানা বাঁধবে হিন্দু রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। একচেটিয়া পুঁজির সন্ত্রাস-নির্ভর একনায়কতন্ত্র পরিপূরক হিসেবে পেয়ে যাবে হিন্দু রাষ্ট্রে দানা বেঁধে ওঠা হিন্দু আধিপত্যবাদের ইন্ধনে। সেজন্যেই নিবন্ধের শুরুতেই আমরা উল্লেখ করেছি যে, সন্ত্রাসের সহায়তা নিয়ে হিন্দু রাষ্ট্র আবশ্যিকভাবেই একচেটিয়া পুঁজিবাদের অধীনে একনায়কতন্ত্র কায়েম করবে।

সন্ত্রাসের প্রয়োগ ও হিন্দু আধিপত্যবাদের ইন্ধন, এই দু’টি বিষয় ছাড়াও, হিন্দু রাষ্ট্রের সমর্থন তৈরি করার তৃতীয় বিষয় হবে প্রতিবিপ্লবী ঘটনাক্রমের আছড়ে পড়া। বিংশ শতকের ভারত দু’টি সমান্তরাল সংগ্রামের আত্মপ্রকাশ প্রত্যক্ষ করেছে: একটি, ঔপনিবেশিকতা বিরোধী সংগ্রাম এবং অপরটি, হাজার বছর ধরে চলে আসা বর্ণভিত্তিক সামন্তবাদী সমাজে সামাজিকভাবে নিপীড়িত জনগণের মুক্তির লড়াই। একটি সংগ্রামের বহু নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হয়ত অপরটির সমর্থক ছিলেন না, কিন্তু জনগণের পরিসরে দু’টি সংগ্রামের এক ধরনের পারস্পরিক নির্ভরতার সম্পর্ক ছিল। বামপন্থী আন্দোলনে এই পারস্পরিক নির্ভরতা প্রতিভাত হয়েছে।  

এই যুগল আন্দোলনের ফলে দেশে এক বিপুল সামাজিক রূপান্তর ঘটেছিল। যদিও সেটা যতটা সর্বগ্রাসী হওয়া উচিত ছিল, তা হয়নি। বু্র্জোয়া ভাবনার পরিধিতে আটকে থাকা সেই লড়াই বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারেনি। তবে নিঃসন্দেহে এই রূপান্তর ছিল এক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি যা একটি উদাহরণের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়।  

বিংশ শতকের শুরুর দিকে আজকের কেরলে শুধু ‘অস্পৃশ্যতা’ নয়, ‘অদর্শনযোগ্যতা’ও ছিল, যার অর্থ অন্ত্যজ বর্ণের দর্শন মাত্রই একজন ‘উচ্চ’ বর্ণের মানুষের অপবিত্র হয়ে যাওয়া। সেই সময়ের তুলনায় আজকের কেরলের মানব উন্নয়ন সূচক শুধু উন্নতিলাভই করেনি, বেশিরভাগ তৃতীয় বিশ্বের দেশের তুলনায় উন্নততর। এমনকী উন্নত বিশ্বের সঙ্গেও এটি তুলনীয়। সামাজিক পরিবর্তনের এই বিপুল চেহারাটি আমরা এর মধ্য দিয়েই অনুধাবন করতে পারি। কেরল অবশ্যই একটি ব্যতিক্রম, কিন্তু এই পরিবর্তন কেরলের তুলনায় কম হলেও সারা ভারত জুড়েই বিভিন্ন মাত্রায় ঘটেছে। 

হিন্দুত্বের অভ্যূত্থান তার অন্তর্নিহিত অঙ্গীকার এবং প্রকৃত তৎপরতার মধ্য দিয়ে এই রূপান্তরকে বিপরীতমুখী করতে উদ্যত। ধর্মনিরপেক্ষতার সংকোচন এবং জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতিনিধিত্বকারী গণতন্ত্রের ক্ষয়ের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে এই সামাজিক রূপান্তরের বিপরীতযাত্রার বিষয়টি সুবিদিত, কিন্তু প্রকৃত বিবেচনায় এই বিপরীতযাত্রা আরো অনেক বেশি ব্যাপ্তিশীল। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়,  হিন্দুত্বের শাসনে নয়া উদারবাদ শিক্ষা সহ সমস্ত ক্ষেত্রে যে বেসরকারীকরণ ঘটিয়েছে তার ফলে কর্মসংস্থান এবং তার সম্ভাব্যতার ক্ষেত্রে সামাজিকভাবে অবহেলিত অংশের নিষ্কাশন ঘটে গেছে, যা ইতোপূর্বে ঘটে যাওয়া রূপান্তরেরই বিপরীতযাত্রা।

উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণি যারা নয়া উদারবাদের জমানায় সবচেয়ে লাভবান এবং যারা সমস্ত ধরনের সহমর্মিতা বিসর্জন দিয়ে শ্রমজীবী জনগণের থেকে নিজেদের পৃথক করেছে, তারা এই প্রতিবিপ্লবের সমর্থক। প্রশ্নটি হল, যদি অতীতের বহু বছরের অর্জিত সামাজিক রূপান্তরের পশ্চাদগমন হিন্দুত্বের উত্থানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়ে থাকে, তবে এটা স্পষ্ট যে, হিন্দু রাষ্ট্র বাস্তবেই প্রতিবিপ্লবের পথ সুগম করবে।

শব্দ সাধারণভাবে খুবই কুহেলিকাপ্রবণ এবং হিন্দু রাষ্ট্র হচ্ছে তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। হিন্দুত্বের প্রচারযন্ত্র এমন একটি ধারণা তৈরি করে যে মনে হয়, হিন্দু রাষ্ট্র আবির্ভূত হয়েই যেন হিন্দুদের মুক্তি নিয়ে আসবে। বিপরীতে, হিন্দু রাষ্ট্র সংকটজর্জর নয়া উদারবাদের রক্ষায় একচেটিয়া পুঁজির স্বার্থে পরিচালিত একটি একনায়কতন্ত্রের ছদ্ম-আবরণ তৈরি করবে। সংখ্যাগুরুর স্বার্থরক্ষা তো দূরস্থান, এর মধ্য দিয়ে এমন একটি প্রতিবিপ্লব আছড়ে পড়বে, যা বিগত এক শতকে অর্জিত সমস্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক অগ্রগতির বিপরীতমুখী পরিবর্তন ঘটাবে। কৃষক সমাজের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপনের মাধ্যমে শ্রমিক শ্রেণিকে হিন্দু রাষ্ট্রের দিকে যাত্রার সমস্ত প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে হবে - এ এক ঐতিহাসিক কর্তব্য।  

 

পিপলস ডেমোক্রেসি পত্রিকার এপ্রিল ০১-০৭, ২০২৪ সংখ্যায় প্রকাশিত

ভাষান্তর: শুভ প্রসাদ নন্দী মজুমদার

 


প্রকাশের তারিখ: ১১-এপ্রিল-২০২৪

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org