|
বৈশাখের উত্তাপকে পরাস্ত করবে জীবন যন্ত্রণাসঞ্জয় পূততুণ্ড |
কেরালায় দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সরকারি পদক্ষেপের ফলে ওয়ানাদ এবং কাশার গড় জেলায় ব্যাপক আত্মহত্যার প্রবণতা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়। এখানে বাগিচায় উৎপাদিত ফসলের দাম না-পেয়ে কৃষক ঋণ পরিশোধে অপারগতার যে-পরিস্থিতি ছিল, তাদের সরকার তার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা নেয়। |
সবুজে ঢাকা ব্রিগেড ময়দানের মাঝে প্রশস্ত রাজপথ দূর থেকে তেমন চোখে পড়ে না। কিন্তু অসংখ্য মানুষের চলার পথ করে দেয়। ২০ এপ্রিল এই রাজপথ এবং সবুজের প্রদর্শনী ক্ষেত্রে শ্রমজীবী মানুষের জীবন যন্ত্রণা উগরে পড়বে। চারিদিকে দেশ ও রাজ্যের শাসকরা বীভৎস উদ্দীপনায় তৈরি করেছে ধনীদের লুটের-লুটের নৃশংস স্বর্গ। ক্ষুদ্র এই স্বর্গের নিচে আছে যন্ত্রণা কাতর শ্রমজীবীরা। পুঁজিবাদী লুটের সর্বশেষ প্রকল্প নয়া-উদারবাদের তিন দশক পার হল। আজ এ-ব্যবস্থায় গভীর সংকটের কুৎসিত চেহারা আর ঢেকে রাখার সুযোগ থাকছে না। লুটেরাদের লুটের ভাগ নিয়ে সংঘাত নানাভাবে প্রকাশ পেলেও এ-পথেই আরও বৃহত্তর লুটের জন্য এগোতে তারা বেপরোয়া। তাই প্রত্যুত্তর দিতে পথে নামছে শ্রমিক-কৃষক। সক্রিয় সহায়তায় শামিল অন্য শ্রমজীবীরাও। দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গড়ে উঠছে সুদৃঢ় সংগ্রামী ঐক্য। এগোতে হবে অনেক পথ, পার হতে হবে শ্রেণিযুদ্ধের সীমাহীন বাধা। লড়াইয়ের ফলক চিহ্ন হয়ে থাকবে নিষ্পেষিত শ্রেণিগুলির উত্তপ্ত সংগ্রামী মেজাজ। শ্রমিক শ্রেণির সাথে কৃষক-ক্ষেতমজুরও উজাড় করে দেবে তাদের সমস্ত উদ্যোগ। স্বাধীন দেশের কৃষি ক্ষেত্র স্বাধীনতার পর কৃষি ক্ষেত্রের হাল ছিল শোচনীয়। কৃষি উৎপাদনে ছিল বিপুল ঘাটতি। তীব্র খাদ্য সংকটের সাথে শিল্পের কাঁচামালের যোগানেও ছিল বিপুল ঘাটতি। অবস্থা মোকাবিলায় রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় বৈপ্লবিক ভূমিকা থেকে অনেক দূরে থাকলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে শামিল হয়- ১. গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বৃহৎ সেচ প্রকল্প। ২. জমির উর্ধ্বসীমা নিয়ন্ত্রণে অতি সীমিত কিছু পদক্ষেপ। ৩. যন্ত্র-রাসায়নিক সার উচ্চ ফলনশীল বীজের প্রচলন। ৪. সহায়ক মূল্যে কৃষকের ফসল ক্রয় ব্যবস্থা। ৫. চাষে প্রত্যক্ষ সরকারি তদারকি। ৬. ব্যাঙ্ক-সমবায়ের মাধ্যমে কৃষি ঋণ। আশির দশক থেকে রাষ্ট্রের ভূমিকা কিন্তু বিপরীতমুখী। পুঁজি-সর্বগ্রাসী লোলুপ দৃষ্টি এবার কৃষি ক্ষেত্রে। তৎকালীন আদানি-মার্কাদের সাথে নিয়ে এগিয়ে এল বিদেশি লগ্নি পুঁজি। তারা সমগ্র কৃষি এবং আনুষঙ্গিক ক্ষেত্র দখলে উদ্যোগী। ব্যাঙ্ক বা সমবায় কৃষি ঋণ নামিয়ে আনা হল অর্ধেকে। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাও ক্রমশ তুলে দেবার পথে। কৃষিতে সরকারি তদারকি প্রায় বন্ধ। কৃষি উপকরণের বলগাহীন মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়ে ক্রমশ কৃষককে চুক্তি চাষে আগ্রহী করার চেষ্টা হয়েছে। ৯০-এর দশকে কৃষি এবং আনুষঙ্গিক ক্ষেত্র দখলে উদ্যোগী হয়ে ব্যাঙ্ক সমবায়ের ঋণ অর্ধেকে নামানো হয়েছে। সরকারি ফসল ক্রয় ব্যবস্থাও তুলে দেবার পথে। চাষে সরকারি তদারকি প্রায় বন্ধ। কৃষি উপকরণের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়ে কৃষককে চুক্তি চাষে আগ্রহী করার চেষ্টা হয়েছে। ৯০ দশকে কৃষি ও আনুষাঙ্গিক ক্ষেত্রে নেমে এল গভীর সংকট। শুরু হল কৃষক আত্মহত্যার নিদারুণ মিছিল। পরিবর্তনের লক্ষ্য ছিল সুস্পষ্ট। শুধু উৎপন্ন ফসলের ওপর কর্তৃত্ব নয়, শুধু তাদের শ্রমের ফল লুট করা নয়— সমগ্র কৃষি জমি থেকে কৃষককে উৎখাত করে জমির ওপর দখলদারি করাই ছিল আসল নিশানা। ইউরোপে ৭% এবং আমেরিকায় ২%-এর কিছু বেশি মানুষ কৃষক। অবশিষ্টরা জমি হারিয়েছে পুঁজির দখলদারিতে কৃষি ও আনুষঙ্গিক ক্ষেত্র দখলে সেখানে প্রায় ২০০ বছর পার হয়েছে। ভারতেও কৃষককে অতি দ্রুত জমি হারা করার চক্রান্ত চলছে। জমি ব্যবস্থায় শিল্পের তুলনায় কৃষির উৎপাদনশীলতা কম। তাই সকল উন্নত দেশে কৃষিতে উচ্চ হারে ভর্তুকি দেওয়া হয় প্রায় ৫০%। ফলে উচ্চ ভর্তুকি সম্পন্ন কৃষি পণ্যের সাথে আমাদের দেশের কৃষক প্রতিযোগিতায় রক্ষা পাবে না। তাই কৃষক, ক্ষেত-মজুরের আত্মহত্যার মিছিল ইতিমধ্যেই সাড়ে তিন লক্ষ অতিক্রম করেছে। মর্মান্তিক এই পরিস্থিতিতে ২০০৬ সালে বামপন্থীদের দাবি মেনে ইউপিএ সরকার স্বামীনাথন কমিশন নিয়োগ করেছিল। কিন্তু মূল সুপারিশ সরকার কার্যকর করেনি। বিজেপি দল সোচ্চারে ঘোষণা করে— সরকারে এলে তারা সব সুপারিশ কার্যকর করবে। সরকারে আসীন হওয়ার কয়েক মাস পরে প্রতারক এই সরকার আদালতে জানায়— সুপারিশ কার্যকর করে ফসলের উৎপাদন ব্যয়ের দেড় গুণ দাম বা ঋণ মুকুব সম্ভব নয়। বরং কৃষককে সর্বস্বান্ত করতে তারা তিনটি আইন তৈরি করে। তার ফলে আত্মহত্যার প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পায়। কেরালায় দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সরকারি পদক্ষেপের ফলে ওয়ানাদ এবং কাশার গড় জেলায় ব্যাপক আত্মহত্যার প্রবণতা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়। এখানে বাগিচায় উৎপাদিত ফসলের দাম না-পেয়ে কৃষক ঋণ পরিশোধে অপারগতার যে-পরিস্থিতি ছিল, তাদের সরকার তার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা নেয়। কেন আত্মহত্যা? সরকারি ব্যাঙ্কে মোট ঋণের ১৮% কৃষিতে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত ছিল। বর্তমানে দেওয়া হয় ৯ শতাংশেরও কম। স্টেট ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অরুন্ধতী ভট্টাচার্য বলেছিলেন— কৃষি ঋণ মুকুব করলে কৃষকের অভ্যাস খারাপ হবে। তবে বৃহৎ পুঁজির মালিকদের ১৬ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ মুকুব করায় তাদের অভ্যাস কতটা ভালো হল, তা জানানোর প্রয়োজন ভদ্রমহিলা বোধ করেননি। কৃষক আন্দোলন কৃষককে জমিহারা করা শুরু হয় জমি অধিগ্রহণে। দেশব্যাপী প্রবল প্রতিরোধের মুখে তৎকালীন সরকার আলোচনায় বাধ্য হয়। ২০১৩ সালে বিভিন্ন দলের ঐক্যমতে জমি অধিগ্রহণের নতুন আইন তৈরি হয়। কিন্তু ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতা দখলের সঙ্গে সঙ্গেই সর্বসম্মত আইন প্রত্যাহার করে তারা নতুন আইন তৈরি করে। দেশের বিভিন্ন অংশে আবার আন্দোলন শুরু হয়। এই পর্যায়েই প্রথম ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনেরও সূত্রপাত। পরে ঐক্যের পরিধি হয় আরও বিস্তৃত। আন্দোলন দমনেও চলে নির্মম আক্রমণ। মধ্য প্রদেশের মন্দসোর জেলায় গুলিবর্ষণে ৬ জন কৃষক নিহত হন। আন্দোলন পাশের সমস্ত রাজ্যে প্রসারিত হয়, ঐক্যের পরিবেশ আরও প্রসারিত হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক মত বিভিন্ন দর্শনের অনুগামীরা এই আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সামিল হন। এবার বিশ্বের বৃহত্তম কৃষক আন্দোলনে এক বৎসর দিল্লি অবরুদ্ধ হয়। বহু প্রতারণা প্রলোভন আক্রমণেও আন্দোলনের তীব্রতা স্তিমিত হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনটি আইন প্রত্যাহার করে নিতে হয়। কিন্তু প্রতারক সরকার তাদের লক্ষ্যে অটল। রাজ্য সরকার গুলির মাধ্যমে বা অন্য আইনের সাহায্যে লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করে চলেছে। আমাদের রাজ্য সরকার ২০১৪ সালেই তিনটি আইনের সহায়ক আইন তৈরি করেছে। আলোচ্য আন্দোলন ব্যতীত সরকারের কৃষক বিরোধী ভূমিকার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে বিভিন্ন কৃষি পণ্যের লাভজনক দামের জন্য। ফসল ভিত্তিক আন্দোলনগুলিতে উৎপাদনের এলাকাগুলিতে বেশি ছাপ পড়ে। আপেল চাষীদের সংগ্রাম হিমাচল কাশ্মীরে, রাবার বাগিচা কেরালায়। তাছাড়া আদিবাসীদের জমি থেকে উৎখাতের প্রচেষ্টা রুখতে অনেকগুলি এলাকায় আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে। দেশবাসী কেমন আছে ২০২৩-২৪ এর কেন্দ্রীয় আর্থিক সমীক্ষা বলছে– ‘১৭-‘১৮ সালের কৃষকসহ স্বনির্ভর প্রকল্পের আয় পুরুষদের ৯৪৫৪ টাকা থেকে ৯% কমে ২০২৩-২৪ শে ৮৫৯১ টাকা। কৃষকসহ স্বনির্ভর প্রকল্পের মহিলাদের আয় ৪৩৪৮ টাকা থেকে ৩২% কমে ’২৩-‘২৪ এ ২৯৫০ টাকা। বিপরীতে কোম্পানি কর ও সুদের ব্যয় মেটাবার পরে ২০২৩-২৪-এ বৃদ্ধি পেয়েছে ২২%। ২০১৭-১৮ বেতনভোগীদের মাসিক আয় পুরুষদের ক্ষেত্রে ছিল ১২৬৬৫ টাকা, ২০২৩-’২৪ এ হয়েছে মাসিক আয় ১১৮৫৮ টাকা। ২০১৭-১৮ সালে বেতনভোগী মহিলাদের মাসিক আয় ১০,১১৬ টাকা ২০২৩-২৪ শে ৮৮৫৫ টাকা। সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির প্রয়োজন অর্থনীতিবিদরা বলে থাকেন। কারণ এই কাজের ফলে বাজারে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হবে— উৎপাদনের গতি সৃষ্টি হবে। ফলে তৈরি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান। কিন্তু বর্তমান দুই সরকার বিপরীত পথ গ্রহণ করে। ব্যয় সংকোচের ফলে মানুষের উপার্জন কমেছে চাহিদা হয়েছে সংকুচিত। বিগত বছরের বরাদ্দের তুলনায় ব্যয় হয়েছে অনেক কম। শিক্ষা-স্বাস্থ্য-খাদ্য গ্রাম উন্নয়নে এক লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় কম হয়েছে। গত ১০ বছরে কর্পোরেট সংস্থায় ঋণ মুকুব করা হয়েছে ১৬.১১ লক্ষ কোটি টাকা। বিপরীতে কৃষি ঋণ মুকুব করলে দেশের অর্ধেকের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পেত। কিন্তু কথায় আছে— ‘যার তরে যার কাঁদে মর্ম’— তেমন শ্রেণি নীতিই অনুসৃত হয়েছে। তীব্র বেকারত্ব, প্রকট আয় বৈষম্য, ভোগ সংকোচ মেটাবার পথ সরকার গ্রহণ না-করায় সংকট থাকল আর মানুষের যন্ত্রণা ভয়ংকর রূপ নিল। কর্পোরেটদের মুনাফার স্বার্থেই এমন সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষক নিয়োগ নেই, ফলে ব্যক্তি মালিকানার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ভিড় করবে, সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাত্রের অভাবে ধুঁকবে আর স্কুল মালিকদের ব্যবসা হবে জমজমাট। লাগামহীন ফী’সে শিক্ষার অধিকার থাকবে শুধুমাত্র উচ্চবিত্তের। বেসরকারি মালিকদের হাতে সমস্ত তুলে দেওয়ার এমন প্রক্রিয়া দুই সরকারের পক্ষেই সক্রিয়। শতকোটি মানুষের গলা চেপে মালিকের রমরমা ব্যবসার ব্যবস্থা করতেই এসেছে শ্রম কোড। শত শত বছরের শ্রমিক আন্দোলনে যে সকল অধিকার অর্জন করা সম্ভব হয়েছে, তার বিপরীতে চালু করা হয়েছে নয়া-শ্রমকোড। এই কোড সর্বতোভাবে চালু করতে পারলে শ্রমিকদের কাজের সময়, শ্রমিকের বেতন থাকবে সম্পূর্ণভাবে মালিকদের মর্জির ওপর। অনেক ক্ষেত্রেই ইতোমধ্যেই তা চালুও করা হয়েছে। সীমাহীন ঔদ্ধত্যের সঙ্গে এক মালিক ঘোষণা করেছে—ক শ্রমিকদের ৯০ ঘণ্টা সপ্তাহে কাজ করতে হবে, কারণ শ্রমিকরা নাকি অলস হয়ে যাচ্ছে। অমানবিক এই প্রমাণটির বিরুদ্ধে বলতে হবে— শ্রমিকরা কাজ না-করলে তার কোম্পানির মুনাফার বিপুল সম্পদ কে সৃষ্টি করছে? আরও কত চাই? দিকে দিকে শ্রমিকরা এর প্রতিবাদী প্রত্যুত্তর দিচ্ছে। কোনও কোনও সংস্থায় ইতোমধ্যে মালিকদের মাথা নত করতে বাধ্য করা হয়েছে, সামসাং তার প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। এই আক্রমণের শিকার ছোটো উৎপাদকের অধীনে ক্ষুদ্র শিল্প। শ্রম বিক্রয় নয়, শ্রম দাসে পরিণত করা হচ্ছে মেহনতী মানুষদের। সমগ্র ক্ষেত্রই তার জন্য প্রস্তুত করছে কর্পোরেট মালিক শ্রেণি। রাজ্যের হাল দেশের শাসকদের নির্মম নিষ্পেষণে সোচ্চারে সঙ্গত দিয়ে চলেছে এই রাজ্যের তৃণমূল পরিচালিত সরকার। মাঝে মধ্যে তাদের মান-অভিমান প্রকাশ পায় যখন হিসাব না-দেবার দায়ে ‘রেগার’ অর্থ বরাদ্দ বন্ধ হয়। তবে কেন্দ্রীয় সরকার চুরি ধরায় আগ্রহী নয়, দুর্নীতি আপোষে আগ্রহী, তাই অচিরেই মিটেও যায় অভিমান। বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রের অগ্রগতিতে রাজ্য ছিল প্রথম সারিতে। আজ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমাদের রাজ্যের নাম খুঁজে পাওয়া যাবে অনেক নিচে। কিন্তু চুরি, দুর্নীতি, নারী-নির্যাতন, গণতন্ত্র-অপহরণের অপকর্মে এ রাজ্য সামনের সারিতে থেকে রাজ্যবাসীকে কলঙ্কিত করছে। কারণ সব ক্ষেত্রেই অপকর্মের শীর্ষস্থানে রয়েছে শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব। আর জি কর কাণ্ড বা অতি সম্প্রতি শিক্ষক পদ কেনা-বেচার ক্ষেত্রে আদালতের রায়ে তা আবারও প্রমাণিত। ওপর থেকে নিচের স্তর পর্যন্ত সাজানো আছে লুটেরা বাহিনী। লুটের ভাগ নিচের স্তর থেকে পৌঁছে যায় উচ্চতম স্তরে। বর্গা-পাট্টা উচ্ছেদের ঘটনাও নিয়মিত প্রতিবাদ প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়ে চলেছে। তবে যে কোনও অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন সর্বদাই সক্রিয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে নয়। নির্বাচিত সংস্থাগুলির নির্বাচন প্রায় বন্ধ। তাও যেখানে নির্বাচন হয় সেখানে পুলিশের সহায়তায় লুটেরা বাহিনী ভোট লুটের কাজ সম্পন্ন করে থাকে। সাম্প্রতিক সমবায় নির্বাচনে প্রতিরোধের মুখে বাহিনী পিছু হটায় প্রগতিশীল শক্তির জয় নিশ্চিত হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সামগ্রিক উৎপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের বিকাশের বাস্তব প্রয়োজন সামনে এসেছে। বাঁচার পথ করে নিতে কঠোর সংগ্রাম ছাড়া আর কোনও বিকল্প থাকছে না। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিপর্যয়ের ফলে সর্বব্যাপী যে বেপরোয়া লুট চলছে, তিন দশক সময়ে তা অনেক দ্বন্দ্বের জন্ম দিয়েছে। শ্রমজীবীদের সাথে লুটেরা দ্বন্দ্ব বিশ্বব্যাপী বিকশিত। তাই সমগ্র ইউরোপ আমেরিকায় ফেটে পড়ছে শ্রমিক এবং কৃষকদের ব্যাপক আন্দোলন। সাথে শোষকদের মধ্যেকার সম্পর্কও সুখকর নেই সেখানেও দ্বন্দ্ব স্পষ্ট। বিকাশমান দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটেই হবে আমাদের দেশের শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম। সংগ্রামের বিকাশ স্তব্ধ করতে আমেরিকা থেকে ভারত পর্যন্ত সর্বত্র শাসকরা বিভেদের অস্ত্র ব্যবহার করে আত্মরক্ষার চেষ্টায় ব্যস্ত। বিভেদ ছড়াতে না-পেরে অসফল হয়ে প্রতিবাদীদের আক্রমণের পথ গ্রহণ করছে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সামনে সমস্ত অস্ত্রই অকেজো হতে বাধ্য। সংগ্রামী জনতার প্রত্যাঘাতের শক্তি সর্বত্রই ক্রমশ বিকশিত হয়ে চলেছে। আগামী ২০ এপ্রিল সংগ্রামী জনতা সেই উত্তাপে ছড়িয়ে দেবে সারা রাজ্যে। প্রকাশের তারিখ: ১২-এপ্রিল-২০২৫ |
© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |