বিরোধীদের ৩৬% সেই চৌত্রিশ বছরেই

চন্দন দাস
জানুয়ারি, ২০০৭। নন্দীগ্রাম। হামলা কিন্তু প্রথমে সিপিআই(এম)-র কোনও স্থানীয় দপ্তরে হয়নি। হয়নি পার্টির কোনও নেতার বাড়িতেও। হয়েছিল পঞ্চায়েত অফিসে। গড়চক্রবেড়িয়ার কাছে, কালিচরণপুর পঞ্চায়েতের অফিসে। নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণের কোনও নোটিশ কখনও জারি হয়নি। গত ১২ বছরে মমতা ব্যানার্জি তেমন কোনও নোটিশ জনসমক্ষে আনতে পারেননি। থাকলে নিশ্চিত সে সুযোগ ছাড়তেন না! কিন্তু সেদিন দুপুরে কালিচরণপুর পঞ্চায়েতে হামলা চালিয়ে দুটি বিষয় স্পষ্ট করেছিল তৃণমূল এবং তাদের সহযোগীরা।

১৯৭৮: ‘বাস্তুঘুঘুর বাসা ভাঙো।’

২০০৩: ‘উন্নততর পঞ্চায়েত গড়ে তোলো।’

মাঝে ২৫ বছরের অন্তর। সেই সময়ে এবং তার পরবর্তী সময়েও ধারাবাহিক পঞ্চায়েত নির্বাচন হয়েছে রাজ্যে। প্রতিটি নির্বাচনে ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন। পঞ্চায়েত কতটা গ্রাম বাংলার আশার আধার হয়ে উঠেছিল তার প্রমাণ এই পরিসংখ্যান।

আর একটি তথ্যও জরুরি। ১৯৭৮ থেকে ২০০৮—  এই পর্যায়ে ৭টি পঞ্চায়েত নির্বাচনে বামফ্রন্ট পঞ্চায়েত স্তরে গড়ে ভোট পেয়েছিল ৬৩.০৬ শতাংশ। সর্বোচ্চ ১৯৮৮-তে —  প্রায় ৭২ শতাংশ। সর্বনিম্ন ২০০৮-এ। ৫২.৪৭ শতাংশ। আর বামফ্রন্ট বিরোধীরা সেই ৩০ বছরে গড়ে ভোট পেয়েছিল ৩৬.৯৫ শতাংশ।

মনে রাখতে হবে ২০১৩-তেও পঞ্চায়েত পর্যায়ে, তীব্র ভোট লুটের মধ্যেও ৪৯ শতাংশ আসনে বামফ্রন্টকে মানুষ জিতিয়ে ছিলেন। বামফ্রন্ট সরকারে নেই জেনেও। ২০১৮-র তৃণমূলের সন্ত্রাস আরও তীব্র হওয়ার কারন এখানেই আছে।

পঞ্চায়েত পর্যায়ে গ্রামবাসীদের পছন্দ, স্থানীয় নানা ইস্যু অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা পঞ্চায়েত পর্যায়ের ভোটের নিরিখে বোঝা যায় না। তাহলে জেলা পরিষদ পর্যায়ের ভোট দেখা যাক। ১৯৭৮ থেকে ২০০৮—  এই সময়কালে সাতটি পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলা পরিষদ পর্যায়ে বামফ্রন্ট গড়ে ৮৩.৬৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। সর্বোচ্চ ১৯৭৮-এ। ৯০ শতাংশ। সর্বনিম্ন ২০০৮—  ৬১.২২ শতাংশ। ২০১৩-তেও বামফ্রন্ট দুটি জেলা পরিষদে জয়ী হয়েছিল। যা পরে ছলে বলে দখল করে তৃণমূল।

তিনটি বিষয় স্পষ্ট। প্রথমত, পাঁচ বছর অন্তর নিয়মিত নির্বাচন হয়েছে। কোনও টালবাহানা পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে বামফ্রন্ট করেনি। দ্বিতীয়ত, দখলের ভোট বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে হয়নি। তাহলে পঞ্চায়েত পর্যায়ে প্রায় ৩৭ ভাগ মানুষ বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতেন না। তৃতীয়ত, এমন কিছু মানুষ ছিলেন যাঁরা পঞ্চায়েতে বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন, কিন্তু জেলা পরিষদে চেয়েছেন বামফ্রন্টই জিতুক। তাঁরা মূলত বামফ্রন্টের সমর্থক। চতুর্থত, মনে রাখতে হবে বামফ্রন্ট সরকারের সময়কালে বিরোধী হিসাবে কংগ্রেস এবং তৃণমূল একাধিক জেলা পরিষদে জয়ী হয়েছে। মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর তার উদাহরণ।

গণতন্ত্র কতটা বিকশিত হয়েছিল তার প্রমাণ এই তথ্যের আয়নায় ধরা আছে।

১৯৭৮ এবং ২০০৩-এ পঞ্চায়েত নির্বাচনগুলির প্রাক্কালে সিপিআই(এম)-র এই দুটি স্লোগানের মধ্যে কী আদৌ কোনও সম্পর্ক আছে? এর সঙ্গে পঞ্চায়েতের সম্পর্ক কী?

১৯৭৭-’৭৮-এ ভূমিসংস্কার ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য। গণতান্ত্রিক চেতনা বিকাশের জন্য। তার হাতিয়ার হিসাবে পঞ্চায়েত কাজ করেছিল। কিন্তু পরিপ্রেক্ষিত একই থাকতে পারে না। সমাজ বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে পঞ্চায়েতের দায়িত্ব, প্রয়োজনীয়তায় বদল আনতেই হবে। নাহলে তা কার্যকারিতা হারাবে—  মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হবে।

সেই সূত্রেই ফিরে দেখতে হবে ‘উন্নততর পঞ্চায়েত গড়ে তোলো’ স্লোগানের সময়কালকে। তার প্রয়োজনীয়তাকে। মমতা ব্যানার্জি তখন কেন্দ্রের বিজেপি জোট সরকারের শরিক। ২০০৩ সাল। মাত্র একবছর আগে স্বাধীনোত্তর ভারতের জঘন্যতম রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের পটভূমি হয়েছিল গুজরাট। রাজ্যে সেই পঞ্চায়েত নির্বাচনে তবু বিজেপি-র সঙ্গে জোট গড়েই বামফ্রন্টের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। তাছাড়া কেপিপি’র সঙ্গেও তৃণমূলের জোট ছিল। জঙ্গলমহলে জনযুদ্ধ, এমসিসি তখন তৃণমূলের সহযোগী হিসাবে সিপিআই(এম) কর্মীদের উপর হামলা চালাচ্ছে।

সেই সময়ে ‘উন্নততর পঞ্চায়েত গড়ে তোলো’—  আহ্বানটি এলো। বামফ্রন্ট তাদের নির্বাচনী ইশ্‌তেহারে সেই আহ্বান জানিয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর কাছে এক সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল ‘উন্নততর পঞ্চায়েত বলতে আপনারা কী বোঝাতে চাইছেন?’ 

ভূমিসংস্কার, ফসল উৎপাদনে অগ্রগতির তথ্য উল্লেখ করে সেদিন ভট্টাচার্য বলেছিলেন, ‘পঞ্চায়েত যে কৃষিনীতি কার্যকর করেছে, যে ব্যবস্থা নিয়েছে তাতে কৃষি উৎপাদন বেড়েছে। ...আমরা বলছি এই সাফল্যকে সংহত করুন।’ আর? তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘গ্রামে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামে গরিবের হাতে আরও বাড়তি পয়সা। ...এই হচ্ছে একটা স্তর থেকে আর একটা স্তরে যাওয়া। উন্নততর স্তরে যাওয়া।’

তাৎপর্যপূর্ণ হলো ১৯৭৮-এ ছিল ভূমিসংস্কার প্রধান লক্ষ্য। ২০০২-০৩, অথবা তার আগে থেকেই তা দাঁড়ালো কর্মসংস্থানে। কিন্তু ভূমিসংস্কারে পঞ্চায়েতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পঞ্চায়েতের ভূমিকা কী? কেনই বা কর্মসংস্থান হয়ে উঠল গ্রামীণ তথা সমাজের সামগ্রিক বিকাশের প্রধান প্রশ্ন?

কারন—  কৃষিতে কাজের সুযোগ কমছিল। কেন্দ্রীয় সরকারগুলির আর্থিক নীতির কারনে চাষে লাভ ক্রমাগত কমছিল। অর্থাৎ পঞ্চায়েতকে লড়তে হচ্ছিল নয়া আর্থিক নীতির বিরুদ্ধেও। জোত ছোট হচ্ছিল স্বাভাবিক কারনেই। শিল্পের আরও প্রসার হয়ে উঠেছিল অগ্রগতির পরবর্তী পর্যায়।

উন্নয়ন মানে সামাজিক ক্ষেত্রে চলমান সংঘর্ষগুলি থেকে উৎসারিত পথ। তা শ্রেণি নিরপেক্ষ হতে পারে না। সামাজিক সম্পর্ক, দ্বন্দ্ব বদলাচ্ছিল। পঞ্চায়েতের কাজের পরিসরও বাড়ছিল, কিছুটা পালটাচ্ছিলও। গ্রামে কৃষির সঙ্গে যুক্ত নন, এমন শ্রমজীবীর সংখ্যা বাড়ছিল। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি আসলে গণতান্ত্রিক বিপ্লবের অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ছিল।

২০০৭-এ মার্কসবাদী পথ পত্রিকায় সূর্য মিশ্রর একটি প্রবন্ধের শিরোনাম ছিল ‘পশ্চিমবঙ্গে কৃষি বিকাশের প্রশ্নটি কী?’ সেখানে ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সংগ্রাম’ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি লিখলেন, ‘কেবল কৃষির বিকাশের ভিত্তিতে শিল্পায়নের প্রশ্নই নয়। সব দিক থেকে বিবেচনা করলে প্রশ্নটি এখন কৃষক ও কৃষির স্বার্থেই শিল্পায়নের প্রশ্ন। ভূমিসংস্কার ও পঞ্চায়েতের ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে কৃষি ক্ষেত্রে রাজ্য ও রাজ্যের জনগন যে সাফল্য অর্জন করেছেন তা বিপদাপন্ন হবে যদি এখনই শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রের বিকাশ শুরু না হয়।’

অর্থাৎ শিল্পের বিকাশ না হলে ভূমিসংস্কার বিপন্ন হবে। পঞ্চায়েতও বিপন্ন হবে। গ্রামের সম্ভাবনা মরবে। রাজ্যের আশা ধ্বংস হবে।

তাই হয়েছে। মমতা-শাসন তাই করেছে।

ঠিক সেই সময়ে, ২০০৭-র জানুয়ারিতে দেখা গেল আশঙ্কার চিহ্ন। নন্দীগ্রামে।

প্রথম হামলাটি হয়েছিল পঞ্চায়েত অফিসে। সিপিআই(এম)-র স্থানীয় কার্যালয়ে নয়। সিপিআই(এম)-র কোনও নেতার বাড়িতে নয়। ২০০৭-র ৩ জানুয়ারি, নন্দীগ্রামে, তৃণমূল প্রথম হামলা করেছিল গড়চক্রবেড়িয়ার কাছে, কালিচরণপুর পঞ্চায়েতের অফিসে।

তারপরের ঘটনাবলী অনেকেই জানেন। এই লেখার বিষয়বস্তু নন্দীগ্রাম-ফিরে দেখা নয়। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের নামে যে ‘আন্দোলন’ তার প্রথম হিংসার শিকার একটি পঞ্চায়েত অফিস কেন? তৃণমূল প্রচার করেছিল যে, সেদিন কালিচরণপুর পঞ্চায়েত অফিসে নন্দীগ্রামের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে আলোচনা বসেছিল। তাই সেখানে হামলা করেছিল ‘বিক্ষুব্ধ মানুষ।’

নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণের কোনও নোটিশ কখনও জারি হয়নি। গত ১২ বছরের শাসনে মমতা ব্যানার্জি তেমন কোনও নোটিশ জনসমক্ষে আনতে পারেননি। থাকলে নিশ্চই এ সুযোগ ছাড়তেন না। কিন্তু সেদিন দুপুরে কালিচরণপুর পঞ্চায়েতে হামলা চালিয়ে দুটি বিষয় স্পষ্ট করেছিল তৃণমূল এবং তাদের সহযোগীরা।

প্রথমত, নন্দীগ্রাম-১নং ব্লকের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জমি শিল্পের জন্য নেওয়ার আলোচনা একটি ‘সামান্য’ পঞ্চায়েত অফিসে বসে হতে পারে। সিপিআই(এম)-র পার্টি অফিস নয়, পঞ্চায়েত অফিসই গ্রামের ক্ষমতার আধার। দ্বিতীয়ত, শুধু সিপিআই(এম) নেতা, কর্মীদের মেরে, গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করে নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে না। রাস্তা কাটতে হবে। কালভার্ট ভাঙতে হবে। পঞ্চায়েতগুলির যাবতীয় কাজ বন্ধ করতে হবে। অবরুদ্ধ করতে হবে বিস্তীর্ণ এলাকাকে।

বলা হয় যে, পুলিশকে আটকানোর জন্যই অবরুদ্ধ করা হয়েছিল নন্দীগ্রাম-১নং ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকাকে। কিন্তু এটি সত্যের ভগ্নাংশ। যদি সত্যিই অনেক মানুষ তৃণমূলের সেদিনের প্রচারের পক্ষে থাকতেন, যদি সত্যিই সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রবল হয়ে থাকত, তবে পুলিশ কিছু করতে পারত না। মানুষকে দমন করার ক্ষমতা ব্রিটিশ আমলেও পুলিশের ছিল না। আজও নেই। পুলিশ শাসক দলের হয়ে বুথ দখলে সহায়তা করতে পারে, গণআন্দোলনের নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তার করতে পারে, সাজানো মামলায় কিংবা গাঁজা কেসে কয়েদ করতে পারে। কিন্তু ‘চোর তাড়াও জনগণের পঞ্চায়েত গড়ো’ স্লোগানের পক্ষে গড়ে ওঠা জনসমাবেশ আটকাতে পারে না।

সময় তার প্রমাণ দিচ্ছে।

নন্দীগ্রামে আসল লক্ষ্য ছিল অবরুদ্ধ করা। আমরা পরবর্তীকালে দেখেছি যে এলাকায় পুলিশ যেতে পারে না, যেখানে পঞ্চায়েত নেই, সেখানে, সেই অবরুদ্ধ নন্দীগ্রামে সারদা চিট ফান্ডের টাকা উঠেছে।

অবরুদ্ধ নন্দীগ্রাম আসলে গণতন্ত্র অবরুদ্ধ করার পরীক্ষাগার ছিল ২০০৭-০৮-র নন্দীগ্রাম। সেদিন গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করার চক্রান্তে তৃণমূলের পাশেই ছিল বিজেপি। অন্যান্য সাম্প্রদায়িক শক্তিও। এবং মাওবাদীরাও। নন্দীগ্রামের পথেই রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় তখন নৈরাজ্য গড়ে তুলেছিল।

সেই নন্দীগ্রামে চাষের জমিতে লোনা জল ঢুকিয়ে এখন চিংড়ির চাষ করছেন কৃষকরা। ধান চাষ বন্ধ। কারন—  ধান চাষে লাভ নেই। লাভ নেই, তাই খেতমজুরের কাজও কমেছে।

কৃষি আর গ্রামীণ অর্থনীতির প্রধান ধারক থাকতে পারছে না। গ্রাম মানে শুধুই কৃষক, শুধুই কৃষিজীবী মানুষ—  এই ধারনা ভেঙে যাচ্ছে। গ্রাম রূপান্তরের পর্যায়ে ছিল। মমতা ব্যানার্জি আর তার সহযোগিতা সেই গতিকে আটকে দিলেন। বামপন্থীরা এই কথা গত শতাব্দীর শেষ দিক থেকেই বলছিলেন। তখন তাকে অনেকটাই ‘তাত্ত্বিক’ মনে হয়েছিল। ২০০৬-০৭-এ কথাগুলি ছিল অনেক স্পষ্ট, উদাহরণসমেত।

সন্ত্রাসের যেমন, প্রতিরোধের তেমনই শ্রেণি অভিমুখ থাকে। অনেক উদাহরণ সেই সময়ের দিনগুলিতে ছড়িয়ে আছে। দেখা যাবে, নন্দীগ্রামের গড়চক্রবেড়িয়ার খেতমজুর প্রধান এলাকা, লালগড়ের গরিব মানুষ প্রধান গ্রাম তৃণমূল-বিজেপি-মাওবাদীদের সম্মিলিত আক্রমনের মুখে লড়াইয়ের চেষ্টা করে গেছে। তৃণমূলের সমর্থক সিপিআই(এম)-র ঘরছাড়াদের ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে, এমন উদাহরণও নন্দীগ্রামে আছে। লালগড়ের শালকু সরেন কিংবা বেলপাহাড়ির ফাগু বাস্কেরা কেউ গ্রামের নব্য ধনী ছিলেন না।

গণতন্ত্রের অবরোধকে তাই শুধু দলীয় পরিচয়ের বিভাজনেও পুরোপুরি বিচার করা ঠিক হবে না। আবার গত ১২ বছরে গণতন্ত্রের ধ্বংসলীলার উপর গড়ে ওঠা লুটের রাজত্বে দেখা যাবে এমন অনেক তৃণমূল কর্মী আছেন, যাঁরা সবাই সুফিয়ান কিংবা ভাদু সেখ হয়ে ওঠেননি। আজকের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম তাঁদের কাছে টেনে নেওয়া ছাড়া সফল হতে পারে না। ‘জনগণের পঞ্চায়েত’-র মতাদর্শগত ভিত্তিও তাই।


প্রকাশের তারিখ: ০২-জুলাই-২০২৩

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org