ফুটবল: মেঘ ও রৌদ্রের দিনগুলি

সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়
১৯৮৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতের সাফল্য ফুটবলের কফিনে পেরেক পুঁতে দেয়। নেহেরু কাপ আয়োজন করে ভারত কিছুটা চেষ্টা করলেও বিফলে যায়। নব্বইয়ের দশকে জে লীগ আয়োজন করে জাপান যতটা উন্নতি এরপরে করে, ভারত তার সিকি ভাগও আই লিগ আয়োজন করে করতে পারেনি।

অন্যান্য পিছিয়ে পড়া অর্থনীতির দেশের শিশুরা যেমন শৈশবে ফুটবলের প্রতি অগাধ আকর্ষণ বোধ করে, তেমন তিনিও ছিলেন। যদিও নিজের দেশ অর্থাৎ উরুগুয়ের মাঠের কথা ভেবে আর মাঠে নামেননি কোনদিন। কিন্তু দু’বার ফুটবল বিশ্বকাপ জয়ী দেশের ছেলে হিসেবে ফুটবল থেকে দূরে থাকা কোনও দিন তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। 

তাই, খেলাধুলার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক অব্যাহত ছিল। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয় এদুয়ার্দো গালেয়ানোর El fútbol a sol y sombra বা Soccer in the Sun and Shadows গ্রন্থ।  অবিলম্বে ক্রীড়া সংক্রন্ত গ্রন্থাবলীর মধ্যে সেরা কাজগুলির একটি হিসাবে সমাদৃত হয় গ্রন্থটি। স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড এটিকে সর্বকালের ১০০টি সেরা ক্রীড়া বইয়ের একটি হিসাবে স্বাগত জানিয়েছে। এটি শুধুমাত্র একটি ধ্রুপদী ক্রীড়াগ্রন্থ নয়। ১৫০টিরও বেশি অধ্যায়, ছবি। যদিও বেশিরভাগ অধ্যায় এক বা দুই পৃষ্ঠার বেশি নয়। লেখক বিভিন্ন ধরণের কোণ থেকে ফুটবল অন্বেষণ করেছেন। বিশ্বকাপ-সহ কয়েক ডজন উল্লেখযোগ্য গোল, কয়েকটি প্রধান ঘটনাবলী আলোচনা করেছেন।  ফুটবলের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস প্রদান করার চেষ্টা না করে, বরং, খেলাটির বিকাশে, অনবদ্য খেলোয়াড়, মুহূর্ত এবং থিমগুলি অন্বেষণ করে উপস্থাপন করেছেন কিছু খণ্ডচিত্র, যা তিনি গভীরভাবে ভালবাসেন। লেখকের দীর্ঘকালের অনুবাদক মার্ক ফ্রাইড গালেয়ানো গদ্যের গীতিকবিতা এবং কবিতাকে যথাযথভাবে তুলে ধরেছেন। সবমিলিয়ে গ্রন্থটি যেন লাতিন আমেরিকার টাচ ফুটবলের লিখিত রুপ, যার কোনও পূর্বসূরী নেই, কিন্তু উত্তরসূরির ভবিষ্যত রূপরেখা খুবই পেলব রাস্তার দিক নির্দেশ করে।

খেলোয়াড় থেকে সমর্থক, গোলকিপার থেকে নায়ক, ফ্যান থেকে ফ্যানাটিক, রেফারি থেকে গোল, কোনও কিছুই তাঁর নজরের বাইরে যায়নি। সাফল্যের গগনচুম্বী জনপ্রিয়তা থেকে বিস্মৃতির কৃষ্ণগহ্বরে চলে মানুষটি, কিংবা কানায় কানায় ভরা স্টেডিয়ামে দাপিয়ে খেলে বেড়ানো মানুষটি যখন ৩০ বছর হলেই মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হন, সেই দুঃসহ যন্ত্রণা, সবই ধরা পড়েছে লেখকের দৃষ্টিতে। লেখক গালেয়ানো আসলে সেই ব্যক্তি, যিনি এভাবেই বারংবার ফুটবলের ঔজ্জ্বল্যের বিপরীতে যে সমান্তরাল একটি জগৎ চলে, তার আখ্যান তুলে ধরেছেন। সেখানে রেফারি স্বৈরাচারী, লাতিন আমেরিকার একনায়কদের চেহারা ফুটে উঠেছে গালেয়ানোর বর্ণনায়। যদিও রেফারিকে বলির পাঁঠা বানানোর কথাও তিনি ভোলেননি। 

২-৩-৫ এর যুগ থেকে ৫-৪-১ যুগে প্রত্যাবর্তনের মাঝে ৪-৪-২ বা ৪-৩-৩ এর আবির্ভাব ঘটেছিল। কিন্তু আজকের মতো এগারো জনই যে গোল আটকানোর জন্য খেলবে, ০-০ ফলাফল হবে এমনটা আজ থেকে ৭০ বছর আগে কেউ ভাবতো না। অনবরত পাস খেলার এই ছক, আসলে ট্রেনার থেকে ম্যানেজারের বিবর্তনের জন্যই ঘটেছে এমনটা লেখক মনে করেন। ফলে শিল্পের জায়গা নিয়েছে যান্ত্রিকতা। ম্যানেজার উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য জয়।  তাঁর মস্তিষ্ক আইনস্টাইন বা ফ্রয়েডের সমতুল্য। কিন্তু ধৈর্য্য গান্ধীর মতো। অবশ্য ফুটবলের শিল্পের মৃত্যু যে বাণিজ্যিকীকরণের ফল এটা নিয়ে অন্ততঃ গালেয়ানোর কোনও সন্দেহ নেই, একথা তিনি প্রথমেই বলেছেন।  

ফুটবল যেন এক যুদ্ধ, তার রঙ্গমঞ্চ আছে, আলাদা রণসঙ্গীত আছে, তাঁর চিকিৎসক আছে। একটি খালি রঙ্গমঞ্চের সঙ্গে কোনও পার্থক্য নেই একটি খালি স্টেডিয়ামের। বরং খালি স্টেডিয়াম আরও খালি, তার কংক্রিটের তৈরি বসার আসন গুলো তখন খাঁ খাঁ করছে। কত হাসি, কান্না, সুখ, দুঃখের স্মৃতি সেই সব কংক্রিটে। মন্তেভিডিওর সেন্টিনারিও স্টেডিয়াম আজও উরুগুয়ের স্বর্ণযুগের স্মৃতি বহন করে। মারকানায় আজও গুমরে বেরায় ১৯৫০ এর ব্রাজিলের পরাজয়, ১৯৭৪ এর ফাইনাল আজও খেলা হয় মিউনিখের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে কিন্তু সৌদি আরবের মার্বেলে দেওয়া সোনার বক্স ও কার্পেটের স্ট্যান্ড এইরকম কোনো স্মৃতি হাতড়ে বেড়াতে পারবে না, প্রাচুর্য যতই থাক।

আলোচনা করেছেন খেলাটির জন্ম নিয়ে, খেলাটির নিয়ম, খেলাটির জনপ্রিয় হওয়ার পিছনে ইংল্যান্ডের ভূমিকা, লাতিন আমেরিকীয় ইতিহাসও ছুঁয়েছেন তিনি। 

একে একে এসেছে অলিম্পিক, ১৯৩০-১৯৯৪ অবধি ফুটবল বিশ্বকাপ, এসেছে লিওনিদাস দা সিলভা থেকে শুরু করে ডিডি, ডি স্টেফানো, গ্যারিঞ্চা, মূলার, প্লাতিনি, গুলিট, রোমারিও, বাজ্জিওর কথা। অবশ্যই পেলে এবং মারাদোনা স্বমহিমায় আছেন সেখানে। পুসকাস এবং ইউসেবিওর কথাও।

লাতিন আমেরিকার বামপন্থী লেখক গালেয়ানো ১৯৭৩ সালে উরুগুয়ের ক্ষমতা বদলের পরে জেলে আটক হন, তাঁর গ্রন্থ Open Veins in Latin Americaনিষিদ্ধ হয়। শুধু উরুগুয়েতেই নয়, চিলি ও আর্জেন্টিনায়ও।  ইতিমধ্যে তিনি দেশ ছাড়েন।  এরপরে আর্জেন্টিনায় অভ্যুত্থান (১৯৭৬) হলে তিনি স্পেনে চলে যান। 

ফলতঃ লাতিন আমেরিকার বাম দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিশ্বফুটবলের পণ্যায়নকে দেখেছেন। দেখেছেন কীভাবে ইউরোপীয় দেশে খেলতে গিয়েছেন বিপুল অর্থের বিনিময়ে লাতিন  মহাদেশের খেলোয়াড়, সেখানে নিজস্ব শিল্প স্কিল ভুলেছে সে, বিশ্ব ফুটবলকে গ্রাস করেছে গোল না করার প্রবণতা। 

উপরতলার সেরা খেলোয়াড়দের পকেট ভরেছে। নীচু তলার খেলোয়াড়রা সুযোগ না পেয়ে অন্ধকারে তলিয়ে গেছেন। সমৃদ্ধ ফুটবল দেশ অর্থনৈতিক সংকটে জেরবার হয়েছে। পেটে খিদে নিয়ে বুয়েনস এয়ার্সের বস্তি থেকে, মন্তেভিদিও গলি থেকে রাস্তার ধারে বলে লাথি মারা ছেলেরা স্রেফ খেলার আনন্দে যে দৌড় শুরু করে, একদিন তা কারোর জীবন হয়ে ওঠে, কারোর পতন।

স্বভাবতই গালেয়ানোর মধ্যে কর্পোরেট পুঁজির দাপটে চাকচিক্যের ঢক্কানিনাদের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ ছিল, তাই ফুটে উঠেছে তাঁর লেখনীতে। কারণ কোনওভাবেই এই চাকচিক্য ধরা পড়েনি এই গ্রন্থে, উল্টে সাধারণ ফ্যান, নায়ক, স্টেডিয়াম, বিখ্যাত গোল ও ম্যাচের বর্ণনাই আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গে ফুটবল বিপুলভাবে জনপ্রিয়। অথচ গালেয়ানোর মতো ফুটবল গ্রন্থ ভারতে খুব কমই লেখা হয়েছে। বস্তুতপক্ষে Barefoot to Boots: The Many Lives of Indian Football (লেখক - নোভি কাপাডিয়া) এবং ‘কলকাতার ফুটবল’ (লেখক আর বি) ছাড়া এই স্তরের কোনও বই মনে পড়ছে না। এর মধ্যে দ্বিতীয় বইটি নিয়ে না বললেই নয়। 

লেখক আরবি। আসলে এটি রোমান হরফের উচ্চারন, RB। সম্পূর্ন নাম রাখাল ভট্টাচার্য। ’৩০, ’৪০, ’৫০ ও ’৬০ এর দশকের ভারতীয় ক্রীড়া সাংবাদিকতার উজ্জ্বলতম নামগুলির একটি। ফ্র্যাঙ্ক ওরেলের জীবনীর ভূমিকা তিনিই লেখেন। ওরেলের মৃত্যুর খবর বহনকারী ফোনটি এসেছিল তাঁর কাছেই। ১৯১১ সালে মোহনবাগানের প্রথম লীগ জয় মাঠে বসে দেখার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন আরবি’র আরেক পরিচয় হলো তিনি কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের দাদা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জ্যাঠামশাই।

কলকাতার ফুটবল গ্রন্থটি সম্পূর্ণভাবে উনিশ শতক থেকে বিশ শতকের মধ্যভাগ অবধি কলকাতার তথা বাংলার ফুটবল নিয়ে লেখা। স্থানীয় দেশি, ইউরোপীয়, অ্যাংলো ইন্ডিয়ান ক্লাব গুলি নিয়ে খুবই গুরত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত আলোচনা, সামরিক দল গুলির বিবরণ, বিভিন্ন টুর্নামেন্ট, খেলোয়াড়, ম্যাচ ও ঘটনাবলীর নৈর্ব্যক্তিক আলোচনা গোটা বইটিকে বাংলার ফুটবলের প্রায় বাইবেল এর সমকক্ষ করে দিয়েছে। 

প্রতিটি অধ্যায়ের আলোচনা সেখানে নৈর্ব্যক্তিক, এতটুকুও কার্পণ্য না করে ইউরোপীয় ফুটবলারদের প্রসংশা আছে, কিন্তু ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের গুণগান কোথাও নেই। শেষপর্বে আছে ভারতীয় ফুটবলের সংকট নিয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য। কিন্তু কোথাও ক্রিকেটকে দায়ী করা হয়নি। ভাববার বিষয় হলো ষাটের দশক তো অনেক দূরে, আশির দশকের ভারতীয় ফুটবলের স্মৃতি মেদুরতায় কাতর অনেকেই মানতে চান না যে ভারতীয় ফুটবলের সংকটের পিছনে ক্রিকেটের কোনও ভূমিকাই নেই, আছে ক্লাব কেন্দ্রিকতা, অপেশাদারী মনোভাব, আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলা নিয়ে অনীহা, সর্বোপরি ব্যক্তি রাজনীতি। ঠিক এখানেই উরুগুয়ে আর ভারত কোথাও আলাদা হয়ে যায়। উরুগুয়ে স্মরণ করে তাঁদের বিশ্বজয়ের ইতিহাসকে, আমরা স্মরণ করি এমন এটি অতীতের যখন পেশাদার ফুটবল এখানে উপস্থিতই ছিল না;  এক বিস্মৃত অতীত, যাকে ছোঁয়া যায় না, আছে কি নেই, সেটা বোঝাই দুষ্কর। অথচ উরুগুয়ে যেবার শেষবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন (১৯৫০), ভারত তখন অলিম্পিকে চতুর্থ, বিশ্বকাপে ডাক পেয়েছে, তখন কেউ ভাবতেই পারেনি  যে আগামী ৭৫ বছরের মধ্যে উরুগুয়ে বিশ্বকাপ-ই জিততে পারবে না আর ভারতের বিশ্বকাপ দূর অস্ত, শেষ ষাট বছরেরও বেশি সময় ধরে অলিম্পিক খেলতেই পারবে না। 

ব্রিটিশ শাসনকালে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন রেজিমেন্ট ও স্থানীয় ইউরোপীয়দের ক্লাব ভারতের প্রধান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতো। সম্পূর্ণ ভারতীয় ক্লাবগুলি তাঁদের বিরুদ্ধে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে হেরে গেলেও কখনও সখনও জিতেও যেত। খোদ বিলেত থেকে আসা অতিথি দলগুলি এইসব ভারতীয়, ইউরোপীয় ও সামরিক দল গুলির বিরুদ্ধে বেশীরভাগ ড্র করতো, কিছু জিতে যেত, এক আধটা ম্যাচ হারতো। এইসব বিদেশী দল গুলি ছিল অপেশাদার দল, ইউরোপের কোনও জাতীয় দল এইসব ইংলিশ অ্যামেচার দল গুলির বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই পারতো না। লাতিন আমেরিকার বিশ্ব ফুটবলে আগমনের আগে ইংল্যান্ড-ই ছিল সেরা ফুটবল খেলিয়ে দেশ। 

কিন্তু ১৯৩০-এর দশক থেকে অর্থনৈতিক ধ্বস ও বিশ্বযুদ্ধের দামামা ভারতে মিলিটারি দলের সংখ্যা কমিয়ে দিলো। পাবলিক স্কুলে রাগবি খেলার ঝোঁক বেড়ে যাওয়ায় ভারতে উচ্চমানের ব্রিটিশ সিভিলিয়ান ফুটবলার আসা কমে গেলো, এই পরিস্থিতিতে মহামেডানের উত্থান, ভারতে ফুটবলে ব্রিটিশ আধিপত্য শেষ করে। মহান প্রতিদ্বন্দ্বিতার অবসান ভারতের ফুটবলের মান কমিয়ে দেয়। যা ছিল তাই দিয়ে ১৯৬০ অবধি অলিম্পিক বা ১৯৬২ অবধি এশীয় সেরা হয়েছিল ভারত। কিন্তু ১৯৭৮ সালে ইরান যখন বিশ্বকাপ খেললো, তখন বোঝা গেলো ভারত কোথায় দাঁড়িয়ে। কারণ এই ইরান দলের ৮ জন খেলোয়াড় ১৯৭০ সালের যুব এশীয় ফুটবলে ভারতের সঙ্গে যৌথ সেরার দলে ছিল। 

১৯৮৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতের সাফল্য ফুটবলের কফিনে পেরেক পুঁতে দেয়। নেহেরু কাপ আয়োজন করে  ভারত কিছুটা চেষ্টা করলেও বিফলে যায়। নব্বইয়ের দশকে জে লীগ আয়োজন করে জাপান যতটা উন্নতি এরপরে করে, ভারত তার সিকি ভাগও আই লিগ আয়োজন করে করতে পারেনি।

এই অবস্থায় নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলা, অপেশাদারী মনোভাব, ব্যক্তি রাজনীতি, ভারতের ফুটবলকে ধ্বংস করে।

ইতোমধ্যে একুশ শতকে ভারতের ফুটবল মার্কেটের সম্ভাবনা দেখিয়ে কর্পোরেটদের প্রত্যক্ষ মদতে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ শুরু হয় আই এস এল। প্রথম থেকেই এঁদের লক্ষ্য হলো ভারতের ফুটবলকে তার মূল থেকে উৎপাটন করা। অথচ ভারতে ফুটবলের শিকড় খুব গভীর। বিশেষ করে বাংলায় প্রতিটি জেলায়, মহকুমায়, পাড়ায় ফুটবলের নিজস্ব ইতিহাস ও নায়ক আছে, বীরগাঁথা আছে, আছে বিরাট বটগাছের মতো দু-তিনটি ক্লাব। জন্মসূত্রে বাঙালিরা তাঁদের সমর্থক। এখানে ‘রকে রকে ঝগড়া/ ঘরে ঘরে ডাইভোর্স’। এই বটবৃক্ষের শিকড় উৎপাটন করা মোটেই সহজসাধ্য নয়। 

ফলে যেটা শুরু হয়েছে সেটা আসলে ট্রান্স ন্যাশনাল বা মাল্টিন্যাশনাল ক্যাপিটালের সঙ্গে নেশন স্টেট বা জাতি রাষ্ট্রের দ্বন্দ্বের আরেকটি রূপ। কিছুতেই এই অতি করপোরেটাইজেশন ও ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সর্বগ্রাসী মনোভাব মানতে পারছেন না অধিকাংশ সমর্থক, প্রাক্তন খেলোয়াড়দের একাংশ। ফ্র্যাঞ্চাইজিদেরও মনোবৃত্তি নাছোড়বান্দা। ফয়সলা এখনও হয়নি। 

কি জানি আগামী দিনে হয়তো এক নতুন দিনের আলো সারা দুনিয়ার ফুটবলপ্রেমীদের ঐক্যবদ্ধ করবে, তার ইতিহাস, স্মৃতি, শিল্পের সমন্বয় ঘটিয়ে। সেই সারিতে ভারত ও থাকবে, আশা করি।


প্রকাশের তারিখ: ৩০-নভেম্বর-২০২২

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org