বোম্বাই থেকে মাদুরাই- তৃতীয় পর্ব

শংকর মণ্ডল
জাতীয় ক্ষেত্রে এ-সময়ে বিজেপি লোকসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। এর ফলে নয়া-উদারনীতির সাহায্যে ও আরএসএসের নেতৃত্বে হিন্দুত্ববাদী শক্তিগুলি  সাম্প্রদায়িক কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ফলে অতি-দক্ষিণপন্থী শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ় ও লাগাতার সংগ্রাম পরিচালনা করার প্রস্তাব নেওয়া হয়। তাছাড়া পার্টি ও গণসংগঠনের শক্তি বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব গৃহীত হয়। পলিট ব্যুরো ও কেন্দ্রীয় কমিটিকে সংগঠন সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য একটি সাংগঠনিক প্লেনাম করা নির্দেশ দেওয়া হয়। ২১তম কংগ্রেস থেকে ৯১ জন সদস্য নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ১৬ জনের পলিট ব্যুরো গঠিত হয়। সীতারাম ইয়েচুরি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং কন্ট্রোল কমিশনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সুকোমল সেন।

[সিপিআই(এম) সর্বভারতীয় সম্মেলন তথা পাটি কংগ্রেসের সংক্ষিপ্ত সালতামামি তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। পার্টি কংগ্রেস বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্যাবলিকে একত্রিত করার লক্ষ্যে।]

দ্বিতীয় পর্বের পর...

১৮তম পার্টি কংগ্রেস

২০০৫ সালের ৬ থেকে ১১ এপ্রিল দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় অষ্টাদশ পার্টি কংগ্রেস। সপ্তদশ পার্টি কংগ্রেসের সময় পার্টি সদস্য সংখ্যা ছিল ৭,৯৬,০৭৩ জন। অষ্টাদশ পার্টি কংগ্রেসের সময় তা বেড়ে হয় ৮,৬৭,৭৬৩ জন। পার্টি কংগ্রেসে সারা দেশ থেকে মোট ৭৫৮ জন অংশ নেন, এর মধ্যে প্রতিনিধি ছিলেন ৬৯৭ জন এবং দর্শক প্রতিনিধি ৫৯ জন। সবচেয়ে বয়স্ক প্রতিনিধি ছিলেন সমর মুখাজি (৯২) এবং সর্বকনিষ্ঠ প্রতিনিধি ছিলেন তামিলনাড়ুর সেলভারাজ। প্রকাশ কারাত রাজনৈতিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ-সময়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসী পদক্ষেপ, রাসায়নিক মারণাস্ত্র উদ্ধারের নামে ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না-করে বিভিন্ন দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্বের পদদলিত করার প্রসঙ্গ উল্লেখিত হয় প্রস্তাবে। সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যব্যদের বিরুদ্ধে ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ভারতীয় জনগণকে সংগঠিত ও সমবেত করার আহ্বান করা হয়। ২০০৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি পরিচালিত এনডিএ জোট পরাজিত হয় এবং কেন্দ্রে কংগ্রেস পরিচালিত প্রগতিশীল মোর্চা সরকার গঠিত হয়। এই সরকারকে বামপন্থী দলগুলি বাইরে থেকে সমর্থন করে। বিজেপি দলের ১৯৯৮-২০০৪  পর্বের শাসনে দেশের মানুষ চরম দূরবস্থার শিকার হয়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নয়া-উদারবাদী নীতি গ্রহণ, কৃষি ও শিল্প ক্ষেত্রে বিপর্যয়, দেশের স্বাধীন বিদেশ ন্যায় পরিহার, সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান, দলিত ও আদিবাসীদের উপর আক্রমণ, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার উপর আঘাত রিপোর্টে আলোচিত হয়। একইসাথে পার্টিকে শক্তিশালী করা বাম ঐক্য, বাম-গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির বিকাশ ঘটানো, দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখা, মহিলাদের অধিকার রক্ষা, স্বাধীন বিদেশ নীতি বজায় রাখার মতো বিষয় রিপোর্টে উঠে আছে। পার্টি কংগ্রেস থেকে ৮৫ জন সদস্য নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ১৭ জনকে নিয়ে গঠিত হয় পলিট ব্যুরো। প্রকাশ কারাত সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। 

১৯তম পার্টি কংগ্রেস

এই পার্টি কংগ্রেস ২০০৮ সালের ২১ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোরে অনুষ্ঠিত হয়। স্বাগত ভাষণ দেন উমানাথ। প্রকাশ কারাত রাজনৈতিক প্রস্তাব পেশ করেন। এই সময়ে পার্টি সদস্য সংখ্যা ছিল ৯৮২১৫৫ জন। সারা দেশ থেকে ৭৮৭ জন এই পার্টি কংগ্রেসে অংশগ্রহণ করেন। তার মধ্যে প্রতিনিধি ছিলেন ৭১৮ জন এবং দর্শক প্রতিনিধি ৬৯ জন। সবচেয়ে বয়স্ক প্রতিনিধি ছিলেন সমর মুখার্জি (৯৫) এবং কনিষ্ঠতম প্রতিনিধি কেরালার এম এস স্বরাজ (২৮)। রাজনৈতিক প্রস্তাবে উঠে আসে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আস্ফালনের প্রসঙ্গ। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সারা বিশ্বে তার আধিপত্য বজায় রাখার লক্ষ্যে সামরিক অভিযান, অর্থনৈতিক অবরোধ, বিশ্বায়নের নীতি চাপিয়ে দেওয়ার ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ধনী ও গরিবের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়তে থাকে। যদিও এ-সময়েই লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে বামপন্থী সরকার গঠিত হয়েছে এবং নয়া-উদারনীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব উষ্ণায়ন ও আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে যে-সংকট সৃষ্টি হয়েছে সে-বিষয়েও উনবিংশতম পার্টি কংগ্রেস উদ্বেগ প্রকাশ করে। জাতীয় ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলি রিপোর্টে ওঠে এসেছে তা হল—ইউপিএ সরকারের জনবিরোধী এবং উদারবাদী নীতির বিরোধিতা করা, ভারত-মার্কিন পরমাণু চুক্তির বিরোধিতা করা, জনজীবনের জরুরি সমস্যা নিয়ে আন্দোলন সংগঠিত করা, স্বাধীন বিদেশ নীতি গ্রহণের দাবিতে, অর্থনৈতিক বৈষম্য, কৃষিক্ষেত্রে সংকট দূর করার প্রশ্নে, ভূমি সংস্কার, গণবণ্টন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন সংগঠিত করা। পার্টি কংগ্রেসে ৮৭ জন সদস্য নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ১৬ জনের পলিট ব্যুরো গঠিত হয়। প্রকাশ কারাত পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচত হন। এন শংকরাইয়া কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল কমিশনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

২০তম পার্টি কংগ্রেস

২০১২ সালের ৪-৯ এপ্রিল কেরালার কোঝিকোড়ে অনুষ্ঠিত হয় ২০তম পার্টি কংগ্রেস। পিনারাই বিজয়ন স্বাগত ভাষণ দেন এবং রাজনৈতিক প্রস্তাব পেশ করেন প্রকাশ কারাত। ২০তম কংগ্রেসের সময়ে পার্টি সদস্য ছিল ১০৪৪৮৩৩ জন। পার্টি কংগ্রেসে ৭২৭ জন প্রতিনিধি এবং ৭৪ জন দর্শক প্রতিনিধি যোগ দেন। পার্টি কংগ্রেসের রাজনৈতিক বিষয়গুলি উল্লেখিত হয় তা হল— বিশ্ব জুড়ে পুঁজিবাদ গভীর সংকটের মুখে, ধনতন্ত্রের ভবিষ্যতের ব্যাপারে শাসক শ্রেণিগুলির মধ্যে অনিশ্চয়তা তীব্র বলে অর্থনৈতিক অধিকার ও সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত অধিকারগুলি আক্রান্ত হচ্ছে বারবার। সমাজতান্ত্রিক দেশগুলির অব্যাহত অর্থনৈতিক বিকাশ, ভারতে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়ন ও জনবিরোধী উদারনীতির বিরুদ্ধে দেশের বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলির আন্দোলনের ময়দানে অবিচল থাকার অঙ্গীকার গ্রহণ করা হয়। জাতীয় পরিস্থিতির উপর পার্টি কংগ্রেসের প্রস্তাবে যে বিষয়গুলি উল্লেখিত হয়েছে— ইউপিএ সরকার বৃহৎ বুর্জোয়া এবং বিদেশি পুঁজির স্বার্থে কাজ করে চলেছে। ২০০৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়। বিকল্প বাম-গণতান্ত্রিক জোট গড়ার প্রকল্প জারি রাখার আহ্বান জানানো হয়। পার্টি কংগ্রেস থেকে ৮৯ জনকে নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ১৫ জন সদস্য নিয়ে পলিট ব্যুরো গঠিত হয়। প্রকাশ কারাত সাধারণ সম্পাদক পুনর্নির্বাচিত হন। কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল কমিশনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বিনয় কোঙার। । 

২১তম পার্টি কংগ্রেস

২০১৫ সালের ১৪-১৯ এপ্রিল অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত হয় ২১তম পাটি কংগ্রেস। পার্টি কংগ্রেসে ৭৪১ জন প্রতিনিধি এবং ৭১ জন দর্শক প্রতিনিধি অংশ নেন। পাঁচ জন বিশিষ্ট কমিউনিস্ট নেতা পার্টি কংগ্রেসে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্য বাম দলের নেতারা পার্টি কংগ্রেসকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

পার্টি কংগ্রেসে রাজনৈতিক রণকৌশল লাইন বিষয়ে আলোচনা হয়। পর্যালোচনায় বাম ও গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গঠন, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলির ঐক্য গড়া এবং তৃতীয় বিকল্পের স্লোগান ইত্যাদি নিয়ে পর্যালোচনা হয়। বাম ও গণতান্ত্রিক ফ্রন্টকে কার্যকর করতে যে-বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ তা হল— পার্টির স্বাধীন শক্তির বিকাশ এবং পার্টির গণভিত্তিকে আরও প্রসারিত করা। জাতীয় ক্ষেত্রে এ-সময়ে বিজেপি লোকসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। এর ফলে নয়া-উদারনীতির সাহায্যে ও আরএসএসের নেতৃত্বে হিন্দুত্ববাদী শক্তিগুলি  সাম্প্রদায়িক কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ফলে অতি-দক্ষিণপন্থী শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ় ও লাগাতার সংগ্রাম পরিচালনা করার প্রস্তাব নেওয়া হয়। তাছাড়া পার্টি ও গণসংগঠনের শক্তি বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব গৃহীত হয়। পলিট ব্যুরো ও কেন্দ্রীয় কমিটিকে সংগঠন সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য একটি সাংগঠনিক প্লেনাম করা নির্দেশ দেওয়া হয়। ২১তম কংগ্রেস থেকে ৯১ জন সদস্য নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ১৬ জনের পলিট ব্যুরো গঠিত হয়। সীতারাম ইয়েচুরি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং কন্ট্রোল কমিশনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সুকোমল সেন। 

২২তম পার্টি কংগ্রেস

২০১৮ সালের ১৮-২২ এপ্রিল তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত হয় ২২তম পার্টি কংগ্রেস। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৭৫৮ জন প্রতিনিধি এবং ৭১ জন দর্শক প্রতিনিধি যোগ দেন। সিপিআই(এম)-এর প্রথম কেন্দ্রীয় কমিটির দু-জন সদস্য ভিএস অচ্যুতানন্দ এবং এন শংকরাইয়া এই সম্মেলনে যোগ দেন এবং কংগ্রেস তাঁদের সংবর্ধিত করে। উত্থাপিত রাজনৈতিক প্রস্তাবে বলা হয় আরএসএস নিয়ন্ত্রিত বিজেপি-সরকার জনগণের জীবন-জীবিকার উপর এবং দেশের ঐক্য ও সংহতির উপর লাগাতার আক্রমণ সংগঠিত করে চলছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশ্ব পুঁজিবাদী ব্যবস্থা সংকটে, বহু সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক অধিকারগুলিও আক্রান্ত হচ্ছে, অর্থনৈতিক অসাম্য ক্রমবর্ধমান, ইউরোপে নয়া-ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে।

জাতীয় ক্ষেত্রে বিজেপি-র তিন বছরের শাসনে দেখা যাচ্ছে— নয়া-উদারবাদী নীতিসমূহের বেপরোয়া প্রয়োগ ও শ্রমজীবী জনগণের উপর আক্রমণ, আরএসএস-র হিন্দুত্ববাদী কর্মসূচি রূপায়ণের প্রয়াস, রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক কাঠামোগুলিকে নস্যাৎ করার চেষ্টা, সংখ্যালঘু ও দলিতদের উপর আক্রমণ, সংসদীয় গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ধ্বংস করা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্ট্যাটিজিক সমঝোতা শক্তিশালী করা প্রচেষ্টা। ফলত, সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক সহযোগীদের নিয়ে এই কর্তৃত্ববাদী, স্বৈরাচারী সরকারকে মোকাবিলা করার ডাক দেওয়া হয় পার্টি কংগ্রেসে। রাজনৈতিক প্রস্তাবে একটি শক্তিশালী বাম ও গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গড়ার আহ্বান জানানো হয়। পার্টি কংগ্রেস থেকে ৯৫ জনকে নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ১৭ জনের পলিট ব্যুরো গঠিত হয়। সীতারাম ইয়েচুরি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনানির্বাচিত হন। বাসুদের আচারিয়া কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল কমিশনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। 

২৩তম পার্টি কংগ্রেস

২০২২ সালের ৬-১০ এপ্রিল কেরালার কান্নুরে অনুষ্ঠিত হয় পার্টির ২০তম কংগ্রেস। দেশের নানান প্রান্ত থেকে ৭২৯ জন প্রতিনিধি এবং ৭৮ জন দর্শক প্রতিনিধি যোগ দেন। অভ্যর্থনা কমিটির চেয়ারম্যান পিনারাই বিজয়ন স্বাগত ভাষণ দেন। পার্টির সাধারণ সম্পাদক রীতারাম ইয়েচুরি রাজনৈতিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পার্টি কংগ্রেসকে অভিনন্দন জানিয়ে অন্যান্য বাম দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মোট ৪১টি কমিউনিস্ট পার্টি ও ওয়ার্কার্স পার্টি এই মহা-সম্মেলনকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠায়। ২০১৮ সালে পার্টি সভ্য ছিল ১০,০৭,৯০৩ জন, কিন্তু ২০২২ সালে তা কিছুটা কমে হয় ৯,৮৫,৭৫৭ জন। রাজনৈতিক প্রস্তাবে বলা হয় আরএসএস-এর হিন্দুত্ববাদী অ্যাজেন্ডাকে রূপায়ণের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে দ্বিতীয় মোদি সরকার। নয়া-উদারবাদী নীতির আগ্রাসী রূপায়নের সাথে সাথেই কর্পোরেট-হিন্দুত্ব নেক্সাস আরও শক্তিশালী হচ্ছে। রাজনৈতিক দূর্নীতিকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। পার্টি কংগ্রেসের গৃহীত রাজনৈতিক লাইন হল— বিজেপিকে জনবিচ্ছিন্ন ও পরাস্ত করা, আর তার জন্য পার্টির নিজস্ব শক্তি বৃদ্ধি করা ও বাম-গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির বৃহৎ জোট গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। ২৩তম কংগ্রেস থেকে ৮৫ জনকে নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি ও ১৭ জনের পলিট ব্যূরো গঠিত হয়। পুনরায় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সীতারাম ইয়েচুরি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কমরেড সীতারাম ইয়েচুরির প্রয়াণের পর থেকে পার্টির কো-অডিনেটর দায়িত্ব পালন করছেন প্রকাশ কারাত। 

ঋণ
১। প্রদোষকুমার বাগচী, ‘পার্টি কংগ্রেস প্রথম থেকে আজ’,নন্দন।
২। ললিত দেবনাথ, ‘পার্টি কংগ্রেসের দিনলিপি’, দেশের কথা।  


প্রকাশের তারিখ: ১১-মার্চ-২০২৫

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org