আজ ভোট ব্রাজিলে, কীভাবে সক্রিয় দক্ষিণপন্থীরা

ব্রাজিলের চার সাংবাদিক
নির্বাচনে লুলা জিতলেও যে কোনও অজুহাতে এরা সবকিছু এলোমেলো করে দিতে প্রস্তুত। এরা ঐক্যবদ্ধ দক্ষিণপন্থী শিবির। সর্বত্র দক্ষিণপন্থী শাসকদের রক্ষা করাই এদের কাজ। এদের জাল ছড়িয়ে রয়েছে দুনিয়া জুড়ে। এই অগ্নিবলয় ভেদ করেই দুর্গ দখল করতে হবে লুলা ও তাঁর সমর্থকদের। তাঁকে নিতে হবে একুশ শতকের স্পার্টাকাসের ভূমিকা।

কেন সিলভারস্টেইন, অ্যালিস মেশিয়েল, নাতালিয়া ভিয়ানা এবং লরা স্কোফিল্ড

‘‘ব্রাজিলে আজ দ্বিতীয় দফার ভোট। এই ভোটেই চূড়ান্ত ফয়সালা হবে কে জিতবেন— লুলা, নাকি বোলসোনারো। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এগিয়ে লুলাই। তবে বসে নেই দক্ষিণপন্থী শিবিরও। কতদূর প্রসারিত ঐক্যবদ্ধ দক্ষিণপন্থী ষড়যন্ত্রের জাল, তার কিছুটা আভাস দিয়েছেন ব্রাজিলের সাংবাদিকেরাই।

২ অক্টোবর, ২০২২।  ব্রাজিলের ইলেকটোরাল কোর্ট ঘোষণা করল দেশের প্রেসিডেন্ট পদে প্রথম দফার নির্বাচনে জয়ী বামপন্থী প্রার্থী লুই ইনাসিও লুলা দ্যা সিলভা। তিনি পেয়েছে ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোট। পরাজিত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো।

এর ঠিক পরের দিন ৩ অক্টোবর। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাক্তন মুখ্য কৌশল রচয়িতা  এবং বোলসোনারোর পারিবারিক বন্ধু, স্টিভ ব্যানন ইউটিউবে তাঁর একটা বক্তৃতা আপলোড করলেন। নাম দিলেন ‘‌ব্যাননের ওয়ার রুম’‌। তাতে দাবি করলেন, লুলা ব্রাজিলে জিতেছেন জালিয়াতি করে। ব্যাননের সুরে সুর মেলালেন ম্যাথু টিরম্যান্ড। তিনি প্রোজেক্ট ভেরিটাস–এর বোর্ড মেম্বার। কী করে এই প্রোজেক্ট ভেরিটাস? এটা মার্কিনীদের একটা গোষ্ঠী যারা দাবি করে , গোপন ক্যামেরা ব্যবহার করে তারা বামপন্থী সাংবাদিকদের ‘‌মুখোশ’‌ খুলে দেয়। এই দুজনের দলে যোগ দিলেন ডারেন বেটি। তিনি একদা ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তৃতা লিখে দিতেন। ২০১৮ সালে ফাঁস হয়ে যায় যে, ডারেন গোপনে ২ বছর আগেই বর্ণবিদ্বেষবাদী ন্যাশনালিস্টদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এভাবে ডারেনের ‘‌মুখোশ’‌ খুলে যাওয়ায় তাকে ট্রাম্পের ভাষণ লেখার চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে হয়। (‌যদিও মার্কিন কংগ্রেসের কাছে বেটি দাবি করেছিলেন যে, বর্ণবিদ্বেষী সংগঠনের লোকজনের দেখা করে ‘আপত্তিকর কিছু’‌ বলেননি তিনি।)‌

ব্যাননের পডকাস্টে এই তিনজনই বললেন, লুলা জিতেছেন জালিয়াতি করে। টিরম্যান্ডের কথায়, জালিয়াতি হয়েছে। কারণ প্রথম দিকে দেখা যাচ্ছিল বোলসোনারো জিতছেন। যখনই দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে লুলার ঘাঁটি এলাকায় গণনা শুরু হল, তখনই দেখা গেল বোলসোনারো পিছিয়ে পড়ছেন। এটাই তো জালিয়াতির স্পষ্ট প্রমাণ।

পারিষদদের কথায় একমত বাবু স্টিভ ব্যানন। নবাবজাদা ট্রাম্প অবশ্য মুখ খুললেন না। ব্যানন বললেন, দেখছেন না, বোলসোনারোর পার্টি সেনেট নির্বাচনে ৮টি আসনে জিতেছে। সেখানেই ওরাই তো সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী। তাহলে নীচুতলায় হারে কী করে? ‌নিশ্চয়ই লুলার শাগরেদরা ইলেকট্রনিক ব্যালটে কারসাজি করেছে।

কিন্তু ব্যাননের অভিযোগ দাঁড়ায় না। কারণ মার্কিন বিদেশ দপ্তর মনে করে ব্রাজিলের ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেম গোটা বিশ্বের কাছেই একটা মডেল। কারণ, ১৯৯৬ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত এই ব্যবস্থায় একটা জালিয়াতিরও প্রমাণ মেলেনি। দ্য অর্গানাইজেসন অফ আমেরিকান স্টেটস, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকটোরাল অ্যাসিস্ট্যন্স, ইউ এস কার্টার সেন্টার — সবাই জানিয়েছে ব্রাজিলের ভোট স্বচ্ছতার সঙ্গে সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে ব্যানন ও তাঁর পারিষদেরা তা মানবেন না। কারণ তাঁরা তো বিশ্বের দক্ষিণপন্থী শিবিরের নেতা। ব্রাজিলের মসনদে বোলসোনারোকে রক্ষা করাটাই তাঁদের কাজ। অতএব, বোলসোনারো জিতলে ভোটিং মেশিন জিন্দাবাদ। আর লুলা জিতলে ভোটিং মেশিন মুর্দাবাদ। হিসেবটা ওদের কাছে বিষয়টা এতটাই সহজ।

কথায় বলে, বায়ুর আগে বার্তা ছোটে। বিশেষত ভুল বার্তা। অতএব এই বার্তা ধীরে ধীরে রটি গেল ক্রমে যে, লুলা প্রথম দফায় জালিয়াতি করে জিতেছেন। নিজেদের হোয়াটস অ্যাপ ও টেলিগ্রাম বার্তায় ঝড়ের বেগে এই ভুয়ো খবরটা ছড়িয়ে দিলেন ওঁরা। সেটাকে লুফে নিলে ‘বিকল্প’ দক্ষিণপন্থী মিডিয়া। ভুয়ো প্রচারের ঝড় উঠল ডিজিটাল মিডিয়ায়। মনে রাখতে হবে, ট্রাম্পের কয়েক ডজন সাঙাৎ গত চার বছরে বোলসোনারো পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। কারণ দেশে দেশে দক্ষিণপন্থীদের রক্ষা করাই ট্রাম্প শিবিরের পবিত্র কর্তব্য। এরা সবাই এক ভাষায় কথা বলে, একই কৌশলে প্রচার করে, একই মঞ্চ ব্যবহার করে গণতন্ত্রের মুণ্ডপাত করে। এভাবেই সত্যকে এড়িয়ে, মিথ্যাকেই সত্য হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস চালায়।

ব্রাজিলের সাংবাদিকদের স্বাধীন সংস্থা এজেন্সিয়া পাবলিকা তদন্ত করে দেখিয়েছে, সারা বিশ্বজুড়ে চরম দক্ষিণপন্থী ন্যারেটিভগুলোর মধ্যে একটা মৈত্রী গড়ে তোলা হয়েছে। জোটবদ্ধ সেই শক্তির কাজ হল, ট্রাম্প ও বোলসোনারোকে সমর্থন করা আর কমিউনিজমের বিপদ ও ‘‌সাংস্কৃতিক মার্কসবাদ‌’‌ সম্পর্কে লোকজনকে সতর্ক করা। সাধে কী আর নরেন্দ্র মোদি এদেশে এবার ‘কলমধারী মাওবাদী’‌দের টার্গেট করেছেন। ইংরেজিতে যা ‘‌সাংস্কৃতিক মার্কসবাদ‌’‌ এদেশের ভাষায় তা ‘কলমধারী মাওবাদী’। এবং পরে মোদির লব্‌জে যে কথাটা যে শুধুই ‘কলমধারী বুদ্ধিজীবী’ হয়ে উঠবে তা বুঝতে অসুবিধা হয় না।  বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না যে, এদেশে স্টিভ ব্যাননদের বিশ্বস্ত মুখপাত্রটি আসলে কে। যিনি ট্রাম্পকে নিয়ে মোতেরায় নৃত্য করেন তিনিই সেই ব্যক্তি।

অতএব ব্রাজিলের সাংবাদিকেরা যদি বোলসোনারোর নাম দিয়ে থাকেন ‘ট্রাম্প অফ দ্য ট্রপিকস’, তাহলে ভুল কিছু করেননি। ট্রাম্প কিংবা বোলসোনারো বা মোদির ডিএনএ একই। এঁরা অপরাধ দমনে কঠোর, অভিবাসন বিরোধী, বন্দুকের অবাধ লাইসেন্সের পক্ষে এবং প্রকাশ্যেই মিডিয়াকে টার্গেট করার পক্ষে। ট্রাম্প আর বোলসোনারোর ভাষা হল, জনতার ইচ্ছের বিরুদ্ধে নির্বাচনে জালিয়াতি করে তাঁদের ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা হচ্ছে। ২০২০ সালে ট্রাম্প যখন অভিযোগ করলেন যে মার্কিন নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে, তাঁকে দুহাত তুলে সমর্থন করেছিলেন বোলসোনারো। রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে বোলসোনারোই সবচেয়ে শেষে বাইডেনের জয়কে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

 এবার প্রতিদানে ট্রাম্প দাঁড়িয়েছেন বোলসোনারোর পক্ষে। বলেছেন, ‘‌উনি দারুন লোক। আমার পুরো সমর্থন রয়েছে বোলসোনারোর প্রতি।’‌ ট্রাম্পের নিজস্ব সোশাল মিডিয়া মঞ্চের নাম ট্রুথ সোশাল। সেখানে বোলসোনারোর জয়গাথা গেয়ে রেখেছেন তিনি।

কাহিনি আরও আছে। এডুয়ার্ডো বোলসোনারো। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের তৃতীয় সন্তান। চেম্বার অফ ডেপুটিজ–এর সদস্য। ২০১৮ সালে জাইর ভোটে জেতার কয়েকমাস আগে ছেলে এডুয়ার্ডো নিউ ইয়র্কে গিযে দেখা করেন স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে। ব্যানন তখন ব্রেইটবার্ট নিউজের এগজিকিউটিভ চেয়ারম্যান। ব্যাননের সঙ্গে দেখা করার পর এডুয়ার্ডোর টুইট, ‘‌আমাদের বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গী এক। বিশেষ করে কালচারাল মার্কসবাদের বিরুদ্ধে আমরা হাতে হাত মিলিয়ে লড়ব।’‌ আমাদের কবিয়ালের ভাষায় বললে, যেমন রতনে রতন চেনে আর শূয়োরেতে কচু ইত্যাদি।

২০১৯ সালে একটা মঞ্চ গড়লেন স্টিভ ব্যানন। নাম দিলেন দ্য মুভমেন্ট। দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দলগুলির একটি মঞ্চ। এডুয়ার্ডোকে করলেন মঞ্চের দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধি। মঞ্চের লক্ষ্য, ‘‌পপুলিস্ট জাতীয়তাবাদীদের সমর্থন করা এবং বিশ্বায়নের প্রভাব খারিজ করা।’‌ এজেন্সিয়া পাবলিকা হিসাব করে দেখেছে, গত পাঁচ বছরে ট্রাম্পের প্রধান প্রধান সমর্থক ও এডুয়ার্ডোর মধ্যে ৭৭ বার বৈঠক হয়েছে। এর মানে, বুঝ মন যে জানো সন্ধান।

এরকম একজন ট্রাম্প সমর্থের নাম মার্ক ইভানিও। রিপাবলিকানস পর ন্যাশনাল রিনিউয়াল নামে একটি দক্ষিণপন্থী থিঙ্ক ট্যাঙ্কের ডিরেক্টর। মার্কিন এবং বিশ্বের অন্যত্র দক্ষিণপন্থীদের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তোলাই এই সংস্থার লক্ষ্য। ইভানিও জানিয়েছেন, ব্রাজিলে তাদের মূল সহযোগী এডুয়ার্ডো এবং ২০২০ সালে এই থিঙ্কট্যাঙ্কের সূচনায় মূল বক্তাই ছিলেন এডুয়ার্ডো বোলসোনারো।

২০২১ এর ৬ জানু্য়ারি। নির্বাচনে পরাজয় মেনে নেননি ট্রাম্প। সমর্থকদের বলেছেন, শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে দিয়ে লড়ুন। এর কয়েক ঘণ্টা বাদে ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিলে তুলকালাম বাধিয়ে দিল ট্রাম্পের সমর্থকেরা। ঠিক তখনই ওয়াশিংটনে ছিলেন এডুয়ার্ডো বলসোনারো। কেন তিনি হঠাৎ সেদিন সেখানে গিয়েছিলেন, সেই রহস্যের সমাধান এখনও হয়নি। এমনকী আমেরিকার ব্রাজিলের দূতাবাসও জানিয়েছে, ব্রাজিলের বিদেশমন্ত্রকও এই সফরের কথা জানত না।

এডুয়ার্ডো সেই যাত্রায় ওয়াশিংটনে ছিলেন ৪ থেকে ১১ জানুয়ারি। তখনই ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ও জামাই জারেড কুশনারের সঙ্গে ছবি তুলেছেন। ছবিতে আরও ছিলেন কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির চেয়ারম্যান ম্যাট স্ক্যালপ, আমেরিকান কনজারভেটিভ ইউনিয়নের নেতা ড্যানিয়েল স্নেইডার।

৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলের ঘটনার দিন ওয়াশিংটন পোস্টের ছবিতে দেখা গেছে উগ্র ট্রাম্প-সমর্থক মাইক লিন্ডেলকে। হোয়াইট হাউজে একটা নোট হাতে করে ঢুকছিলেন লিন্ডেল। তাতে লেখা ছিল, আমেরিকায় সামরিক আইন জারি করুন ট্রাম্প। লিন্ডেলের সঙ্গেও সেদিনও কথা হয়েছিল এডুয়ার্ডোর। লেন্ডেল পরে বলেন, ‘রাতে ব্রাজিলের সঙ্গে দেখা হল, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের ছেলে..।’ ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনার নিন্দা করেননি বোলসোনারো। সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন,‌‘‌আপনারা জানেন ট্রাম্পের সঙ্গে আমার সম্পর্ক কী। অতএব আমার প্রতিক্রিয়াও আপনাদের জানা। এক একটা লোক তিন-তিন, চার-চার বার করে ভোট দিয়েছে। মরা লোকেরাও ভোট দিয়েছে।’‌ এ হেন বোলসোনারো ভোটে হেরে গেলেও পরাজয় যে মানতে চাইবেন না, সেনিয়ে কী প্রশ্ন থাকতে পারে। কারণ ট্রাম্পই তো তাঁর ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর।

এডুয়ার্ডো যেমন বার বার ওয়াশিংটন কিংবা নিউ ইয়র্কে ছুটে গেছেন, তেমনি মার্কিন রক্ষণশীল শিবিরের কর্তারাও ব্রাজিলে এসেছেন। তাঁদের সঙ্গে গোপন এক বৈঠক হয়েছিল বোলসোনারোর। সেপ্টেম্বর ২০২১। দুর্নীতির দায় আর লাগাতার ইম্পিচমেন্টের জেরে বলসোনারোর জনপ্রিয়তা তখন তলানিতে। মার্কিন রাজনীতিকদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের পরেই ৭ সেপ্টেম্বর, ব্রাজিলের স্বাধীনতা দিবসের দিন  সমর্থকদের রাস্তায় নামতে বললেন বোলসোনারো। বললেন, ‘‌আমার সামনে তিনটি বিকল্প। জেল,মৃত্যু কিংবা জয়। এবং প্রথমটা আমি খারিজই করে দিচ্ছি।’‌

হাজার হাজার বোলসোনারো সমর্থকেরা সেদিন পথে নামল। দাবি করল, ক্ষমতা যাক সামরিক বাহিনীর হাতে। নির্বাচন বাতিল করতে হবে। সাও পাওলোয় লক্ষাধিক লোকের জমায়েতে বোলসোনারো বললেন, আদালতের নির্দেশও তিনি মানবেন না। বললেন, ‘শুয়োরের বাচ্চাদের জানিয়ে দিন, আমি কোনওদিন গ্রেপ্তার হব না।’ ট্রাক চালকেরা হাইওয়ে আটকে দিল। দেশে খাদ্যের অভাবের আশঙ্কা দেখা দিন।’ একদল জোর করে সুপ্রিম কোর্টে ঢুকে পড়ে আদালতের দখল নিতে চাইল। শেষে ৯ তারিখ সুর নরম করলেন জাইর। মুচলেকা দিয়ে বললেন, তিনি সুপ্রিম কোর্টে হামলা চালাননি। একেবারে ট্রাম্পের নির্দেশে ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার রেপ্লিকা। যখন আইনি লড়াইয়ে ক্ষমতা যায় যায়, তখন ফয়সালা করো রাস্তার লড়াইয়ে। এটাই দক্ষিণপন্থীদের বার্তা। যখন এভাবে সেই দিন অস্থিরতায় জ্বলছে গোট ব্রাজিল, তখন রিও ডি জেনিরোর কোপাকাবানা প্যালেস হোটেলে ১৬ জন বিশিষ্ট মার্কিন রক্ষণশীল শিবিরের নেতা বসে ডিনার সারছিলেন। ডিনারের আয়োজন করেছিল  ব্রাজিলের ন্যাশনাল কনফেডারেশেন অফ ইনডাস্ট্রি। ছিলেন ব্রাজিলের রাজনীতিকেরা, পর্দার আড়ারে কলকাঠি নাড়ার লোকেরা, আর টাকার থলির মালিকেরা। যাকে বলে কর্পোরেট, দেশি–বিদেশি পুঁজি ও দক্ষিণপন্থী রাজনীতিকদের একেবারে সুসংহত জোট, যারা যে কোনও ভাবে বোলসোনারোকে ক্ষমতায় রাখতে চায়।

এরা সকলে এখনও আছে। আছে ব্রাজিলে, আছে আমেরিকায়। শ্যেন দৃষ্টি রেখে চলেছে ব্রাজিলের নির্বাচনের ওপর। নির্বাচনে লুলা জিতলেও যে কোনও অজুহাতে এরা সবকিছু এলোমেলো করে দিতে প্রস্তুত। এরা ঐক্যবদ্ধ দক্ষিণপন্থী শিবির। সর্বত্র দক্ষিণপন্থী শাসকদের রক্ষা করাই এদের কাজ। এদের জাল ছড়িয়ে রয়েছে দুনিয়া জুড়ে। এই অগ্নিবলয় ভেদ করেই দুর্গ দখল করতে হবে লুলা ও তাঁর সমর্থকদের। তাঁকে নিতে হবে একুশ শতকের স্পার্টাকাসের ভূমিকা।

সূত্র : ‘‌ওপেন ডেমোক্রেসি’‌ মঞ্চ–এর জন্য লেখাটি তৈরি করেছেন ব্রাজিলের ‘এজেন্সিয়া পাবলিকা’‌–র চার সাংবাদিকতাঁদের নাম ওপরে উল্লেখ করা হয়েছে।  রিপোর্টের একটি অংশ এখানে তুলে ধরা হল।

ভাষান্তর : সুচিক্কণ দাস


প্রকাশের তারিখ: ৩১-অক্টোবর-২০২২

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org