ব্রিগেড, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির এক পদক্ষেপ

অমল হালদার
আসলে এই আইন চালু হলে দুই-তৃতীয়াংশ কৃষক চাষ ছেড়ে দেবে। ব্যাপক সংখ্যায় কৃষক ধ্বংস হয়ে ভূমিহীন কৃষকে পরিণত হবে। লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং দোকানদার বাজার থেকে বিতাড়িত হবে। বহুজাতিক কোম্পানি সমস্ত খাদ্যশস্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণভার জোরদার করার ফলে সব জিনিসের দাম বিপুল পরিমাণে বাড়বে। দেশের কৃষক ও কৃষিব্যবস্থা শুধু ধ্বংস হয়ে যাবে তাই নয়, এ-দেশের ১৪০ কোটি মানুষের খাদ্য-নিরাপত্তা ভেঙে চৌচির হয়ে যাবে।

সাড়ে তিনদশক আগে পরিত্রাণ খোঁজার চেষ্টায় বিশ্বায়ন ও উদারীকরণের পথে যাত্রা শুরু করেছিলেন যাঁরা, পঁয়ত্রিশ বছর অতিক্রান্ত হবার পর তাঁরা বিশ্বায়নের ভাবনাকে সমাধি দিতে শুরু করেছেন।

গত ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পসাহেব বানপ্রস্থে না গিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় এসে আমেরিকাকে জাগাবার জন্য এমন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, কী হবে তার ভবিষ্যৎ তা নিয়ে দেশে-বিদেশে বিস্তর আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ রসিকতা বা তামাশার ছলে বলতে শুরু করেছেন, এতদিন পৃথিবীতে যে চারটি দ্বন্দ্ব বিরাজমান, এবার ট্রাম্প বনাম বিশ্বের জনগণের দ্বন্দ্ব বোধ হয় তাতে যোগ হতে চলেছে। আসলে ২০০৮ সাল থেকে বিশ্ব আর্থিক সংকটের সমাধানের চেষ্টা বার বার ব্যর্থ হয়েছে। এখন আর জি-২০ বা জি-৭ নয়, নয়া-ফ্যাসিবাদের রণধ্বনি নিয়ে নয়া জোট তৈরির প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের বিশ্ব আর্থিক সংকটের বিশাল প্রভাব আমাদের দেশে পড়েনি। এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তৎকালীন গভর্নররা স্বীকার করতে বাধ্য হন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প, ব্যাঙ্ক, বিমা-সহ সকল ক্ষেত্রের জন্যই এই ধস থেকে দেশকে রক্ষা করা গেছে। তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হবার পর দেশের অভ্যন্তরে সংকটে তীব্রতা বৃদ্ধির জন্য ‘বিশ্বগুরু’ সাজার চেষ্টায় দক্ষিণপন্থার এক বিপদজনক মুখপাত্র ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলেনি, আমেরিকার ট্রাম্প এবং আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি জেভিয়ার মিলেইয়ের সঙ্গে বৈঠক করে পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদী শোষণের পথের কাঁটা যে বামপন্থা তার বিরুদ্ধে ঘন ঘন তোপ দাগছেন। ট্রাম্পের নিজের ঘরে ক্রমশ সমাজতন্ত্রের আওয়াজ ধ্বনিত হচ্ছে। অনেকেরই মনে আছে ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ার বাজারে ভূমিকম্পের পর সারা আমেরিকাও কেঁপে ওঠে, মার্কসসাহেবের ক্যাপিটাল গ্রন্থের খোঁজ শুরু হয় সারা দেশে তরুণসহ বিভিন্ন মহলে। সম্প্রতি ইজরায়েলকে মদত দিয়ে সারা গাজা ভূখণ্ডকে শ্মশান করে দেওয়ার পর আমেরিকার অভ্যন্তরে প্রতিবাদ তীব্র হচ্ছে। স্বয়ং বিল গেটসের সামনে কর্মীরা এই আক্রমণের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করে চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। ঘটনাগুলি বোঝাতে সাহায্য করছে এতদিনকার লালিত-পালিত গণতন্ত্রের মুখোশ আরও আরো নগ্ন হচ্ছে। খোদ আমেরিকাবাসীও চুপ করে নেই। সবচেয়ে বড় কথা হলো ওদেরই তৈরি বিশ্বায়ন-উদারীকরণের নীতি আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে।  আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী ‘বিশ্বগুরু’ হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে ট্রাম্পের পিছু-পিছু হাঁটতে গিয়ে দেশের আর্থিক অবস্থাকে পঙ্গু করে চলেছেন। সদ্য প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে ২০২৩-২৪ সালে আর্থিক বিকাশের হার ছিল ৯.২%, কিন্ত ২০২৪-২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী নয়-মাসে হিসাবের গড়ে ৬.৫%-এর বেশি হবে না। বিকাশের গতি বিপুল হারে কমে যাচ্ছে। বিকাশের জন্য সামনে আনা হচ্ছে একের পর এক সংস্কারের দাওয়াই। সেই সংস্কার করার জন্য শ্রমিকশ্রেণির অধিকার কেড়ে নেবার জন্যই তৈরি হয়েছে চারটি শ্রমকোড। কর্পোরেটদের পাশে সরকারকে দাঁড়াতে হবে, শ্রমিকশ্রেণির জীবনকে নরকে পরিণত করতে হবে।

এই ভাবনা কৃষি ক্ষেত্রেও নামিয়ে আনা হচ্ছে। তিনবছর আগে ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনের চাপে মোদি সরকার তিন-কৃষি-আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। সরকার সেদিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে কৃষকদের প্রকৃত এমএসপি (ন্যূনতম সহায়ক মূল্য)-র জন্য আইন তৈরি করবে। সারা দেশের কৃষকসমাজ মোদিজীর এই প্রতিশ্রুতি যে ধাপ্পায় পরিণত হবে, এতটা বোধহয় ভাবতে পারেনি। সেই উপলব্ধিটা এলো বিগত লোকসভা নির্বাচনে। কৃষি-প্রধান এলাকায় পরাজয়ের জন্য নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভারতীয় জনতা পার্টি অর্জন করতে পারেনি। তারপরেও কৃষকদের স্বার্থের কথা ভেবে ন্যূনতম কিছু ভূমিকা গ্রহণ করবেন মনে মনে কেউ কেউ হয়তো আশাপ্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু মোদীজি সে-পথে হাঁটলেন না; তিনি সমগ্র কৃষি ব্যবস্থাকে সাম্রাজ্যবাদ-মুখী কর্পোরেটকরণের ব্যবস্থাকে আরো জোরদার করতে এগিয়ে এলেন। নয়া বিপণন নীতি নিয়ে আসা হল, যাকে সংযুক্ত কিষান মোর্চা বলছে, ‘কৃষি বিপণনের নতুন জাতীয় কাঠামো হলো প্রত্যাখ্যাত ও বাতিল হওয়া তিন কালা কৃষি আইনের একটি বিপদজনক সংস্করণ।’ কেন্দ্রীয় সরকার সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে দাঁড়িয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ও তার কর্পোরেট মিত্রদের স্বার্থ রক্ষার নীতির মধ্য দিয়ে ভারতের কৃষকের ওপর নতুন করে আক্রমণ শুরু করেছে। এত ঢাকঢোল পিটিয়ে যে ফসল-বিমা যোজনার কথা প্রচার করেন মোদীজি; ভাবতে পারবেন না যে, বিমা কোম্পানিগুলো বিমাবাবদ অর্থের ৯৭% আত্মসাৎ করে, কৃষকদের ক্ষেত্রে মাত্র ৬.৬১ শতাংশ নিষ্পত্তি হয়েছে। প্রচার মাধ্যমগুলির প্রচার যে কতটা অন্তঃসারশূন্য, কিছু বিষয়ে সামনে আনলে তা বুঝতে সাহায্য করবে।

যেমন বিপণনের উপর যতটুকু নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে, তার ফল কী হয়েছে তার একটি ছোট্ট উদাহরণ রইল– আদানি কোম্পানি হিমাচল প্রদেশের কৃষকদের থেকে আপেল কেনে ১৮ টাকা কেজি দরে, আর সেই আপেল দিল্লিতে বিক্রি করে ২৪০ টাকা কেজি দরে। কাশ্মীরের আপেল চাষীরা ২৫ কেজি আপেলের প্যাকেট বিক্রি করছে ৪৫ টাকায়। ক্রেতা সেই আদানি। সেই আপেল আমরা কী দামে কিনি তা কারুর অজানা নেই।

আসলে এই আইন চালু হলে দুই-তৃতীয়াংশ কৃষক চাষ ছেড়ে দেবে। ব্যাপক সংখ্যায় কৃষক ধ্বংস হয়ে ভূমিহীন কৃষকে পরিণত হবে। লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং দোকানদার বাজার থেকে বিতাড়িত হবে। বহুজাতিক কোম্পানি সমস্ত খাদ্যশস্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণভার জোরদার করার ফলে সব জিনিসের দাম বিপুল পরিমাণে বাড়বে। দেশের কৃষক ও কৃষিব্যবস্থা শুধু ধ্বংস হয়ে যাবে তাই নয়, এ-দেশের ১৪০ কোটি মানুষের খাদ্য-নিরাপত্তা ভেঙে চৌচির হয়ে যাবে। একদিন কৃষক তার জমিতে খেতমজুরে পরিণত হবে। আর চাষ করবে কর্পোরেটরা। ইতোমধ্যে ট্রাম্পের শুল্কনীতির ঠেলায় সবচেয়ে ক্ষতি হতে চলেছে কৃষিপণ্যের বাজারে। আমেরিকায় কৃষিপণ্যের দাম কমে গেলে ভারতের বাজারে তার বিক্রি বেড়ে যাবে। দামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে এদেশের কৃষিপণ্যের দাম কমবে। এবং কৃষকের আয় আরো কমবে। কৃষকসমাজকে নিয়ে এনডিএ সরকারের কোনও হেলদোল নেই। সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে প্রতিদিনই। ওষুধের দাম বাড়ল। ৫০ টাকা বাড়ল গ্যাসের দাম। প্রতিনিয়ত বাড়ছে পেট্রোল ডিজেলের দাম। ডলারের তুলনায় কমছে টাকার দাম। একদিনেই শেয়ারবাজার থেকে ১৯ লক্ষ কোটি টাকা উবে গেল। বিদেশি লগ্নীকারীরা প্রতিদিনই ভারত থেকে বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছে। রোজই তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে কর্পোরেটদের আরো সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। অনাহারে মরণ হবে আমাদের মতন ছাপোষা মানুষদের।

সারাদেশে বৃদ্ধির এই হালে এখন যেমন অন্নদাতা কৃষকদের জীবনেযন্ত্রণা ডেকে আনছে, তেমনই কৃষির চেহারা হয়ে যাচ্ছে ভয়াবহ। বামফ্রন্টের আমলে ভূমিসংস্কার, বর্গারেকর্ড, ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণের মাধ্যমে পঞ্চায়েতের ক্ষমতা সাধারণ মানুষকে প্রদান-সহ একাধিক পদক্ষেপে কৃষি উৎপাদনশীলতা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল। জোতদার, জমিদারদের আমলে পঞ্চায়েতগুলিতে ছিল বাস্তুঘুঘুরা। জনগণ তাদের সরিয়ে নিজেদের মানুষদের ক্ষমতায় বসায়। বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পর সেই বাস্তুঘুঘুরা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে শকুনে পরিণত হয়েছে। এখন গ্রামবাংলার সব ক্ষেত্রেই শকুনের ছোঁ মারার দৃশ্য দেখছেন সাধারণ মানুষ। চুরি-দুর্নীতি কোন্ পর্যায়ে গেছে, তা কল্পনা করা যায় না। আবাস যোজনায় গৃহ নির্মাণে পেয়েছে এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা, তার মধ্যে বালি কিনতেই খরচ হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা, নিজ-পুকুরের পাঁক, নিজের জমির মাটি কাটা সবেতেই ট্যাক্স। একাধারে কৃষকের আয় কমছে, জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া, বাড়ছে কৃষি-উপকরণের দাম, তার ওপর এই জুলুমে অতিষ্ট গ্রামবাংলার মানুষ।

বামফ্রন্টের শেষ বছরে যে-উৎপাদনশীলতা ছিল, কৃষিক্ষেত্রে তা আজ আর নেই। দেশের মোট খাদ্যশস্য উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ছিল ৬.৪ শতাংশ, ২০২৩-২৪ সালে তা নেমে গেছে ৫.৮ শতাংশে। ভারতের মোট ধান উৎপাদনে ২০১০-১১ থেকে ২০১৯-২০ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের অবদান ছিল ১৪ শতাংশের বেশি, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তা নেমে হয়েছে ১২ শতাংশেরও নিচে। বামফ্রন্ট জামানায় পশ্চিমবঙ্গ ধান/ চাল এবং শাকসবজি উৎপাদনে দেশের মধ্যে প্রথম ছিল। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে আমাদের রাজ্য উত্তরপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানার পর অর্থাৎ দেশের মধ্যে তৃতীয়স্থানে চলে গেছে। ২০২৪ সালে, অর্থাৎ চলতি মরশুমে উত্তরপ্রদেশ এবং পাঞ্জাব পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় বেশি ধান উৎপাদন করেছে। ২০২৩-২৪ সালে হেক্টরপ্রতি ফলনবৃদ্ধির হার কমে হয়েছে ০.২ শতাংশ। ক্ষুদ্র সেচ ব্যবস্থার অবস্থাও ২০১১-১২  সালে পশ্চিমবঙ্গে ২৯৫৫ হেক্টর কৃষিজমি সেচ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২০-২১ সালে তা বেড়ে হয়েছে মাত্র ৩১২৮ হেক্টর, ২০২২-২৩ সালে আবার তা কমে হয়েছে ৩০৮৮ হেক্টর। বামফ্রন্টের আমলে কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য যে কাঠামো ছিল, তা এখন ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। বীজ উৎপাদন কেন্দ্রে বিজ্ঞান প্রযুক্তির যে গবেষণাগার ছিল, তা এখন নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে। স্থায়ী কর্মচারী প্রায় নেই বললেই চলে। বামফ্রন্ট আমলে যে শক্তিশালী সমবায় ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল তা এখন ধ্বংসের মুখে। ফলে কৃষককে চড়া দামের সার কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। বাড়ছে মাইক্রোফিন্যান্সের হানা। ঋণভারে জর্জরিত কৃষক জমি বন্ধক রাখতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। কৃষকের আত্মহত্যা আজ দৈনন্দিন হয়েছে। এই সমস্ত তথ্য কিন্তু কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রকের (সৌজন্যে প্রসেনজিৎ বসু ও সৌম্যদীপ বিশ্বাস)।

কৃষিতে ক্রমাগত উৎপাদনশীলতার হ্রাস আমাদের বিপদ ডেকে আনবেই। গ্রামে যৌথ পরিবারগুলি ভেঙে যাওয়ার পর বাস্তুভিটার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অনেকেরই তিন ফসলা জমিতে বসতভিটা স্থাপন করছেন; হাসপাতাল, রাস্তা, স্কুল-কলেজ তৈরিতে জমি ব্যবহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ কৃষি জমির পরিমাণ কমছে। যদি এই অবস্থায় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা না-যায়, আর এভাবে কৃষি জমি কমতে থাকে তাহলে একদিন হয়তো তেলেঙ্গানা থেকে চাল আমদানির প্রয়োজন হতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই অনেক দিক থেকে সংকট বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষকে অনেক বেশি সচেতন করা দরকার। ক্রেতা - বিক্রেতা উভয়কেই সমস্যাগুলো বুঝতে হবে। জাতপাতের বিভাজন এবং ধর্মের বিভাজন পেট ভরাবে না। সন্তান-সন্ততিরা চাকরিও পাবে না। জ্বলন্ত সমস্যাগুলোকে যাতে মানুষের দৃষ্টির বাইরে ছুড়ে ফেলা যায়, তার নিরন্তর প্রতিযোগিতা চলছে সংবাদমাধ্যমে। অন্নদাতা কৃষকদের কথা এরা বলে না। অনেকেই ঘুমিয়ে আছেন তাদের জাগাতে হবে। বিভ্রান্তি কাটাতে হবে। আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে। সে কারণেই লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষের পদচারণা থাকবে ব্রিগেড লক্ষ্য করে।

আমাদের মৃত্যু হোক, কিন্তু কোনভাবেই নতজানু হব না– এই দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েই আমরা এগিয়ে যাব।


প্রকাশের তারিখ: ১৩-এপ্রিল-২০২৫

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org