পরিবেশ রক্ষার চ্যালেঞ্জ

বাসব বসাক

আপামর ভারতবাসীর স্বার্থে পরিবেশ রক্ষার লড়াইকে শক্তিশালী করতে হ’লে প্রাকৃতিক সম্পদের এই অবাধ কর্পোরেট লুটের বিরুদ্ধে, এই মুনাফা লোভী কর্পোরেট লুটেরা পুঁজির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইকে সংহত করতে হবে। তবে সেইসঙ্গে সজাগ থাকতে হবে যাতে এহেন পরিবেশ সক্রিয়তার ফাঁক গ’লে উগ্র ফ্যাসিবাদী উপাদানের অনুপ্রবেশ না-ঘটে।

একিউআই ডট্ ইন নামক বাতাসের গুণমান সূচক নির্ণয়কারী একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার দেওয়া তথ্য পরিবেশন ক’রে ভারতের জলবায়ু সর্বেক্ষণ দপ্তর থেকে জানানো হয়েছিল গত ২২ মে সকাল ১০ টা ৫০-এ বিশ্বের উষ্ণতম শহরগুলোর মধ্যে ওড়িশার বালাঙ্গির, মহারাষ্ট্রের আকোলা বা সোলাপুর, উত্তরপ্রদেশের বান্দা, বেনারস, এটাওয়া, ঝাঁসি বা কানপুর, মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র বা ভোপাল, ছত্তিশড়ের ভিলাই, দুর্গ বা রায়পুর, তেলেঙ্গানার খাম্মাম, কিম্বা বিহারের পাটনা, সিওয়ান বা গাজিপুরের মতো প্রথম পঞ্চাশটাই ছিল ভারতের। তারপর থেকে দেশজুড়ে উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে তাপমান। ইতোমধ্যেই রাজধানী দিল্লির তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পাড় করে ফেলেছে। বান্দার মতো শহরে তাপমান পেরিয়ে গেছে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র তাপ প্রবাহে পুড়ছে ভারত ভূমির বিস্তীর্ণ অঞ্চল। পরিস্থিতি এমন যে দিনের পর দিন টানা ৪০ ডিগ্রি বা তার বেশি তাপমাত্রার কারণে বুন্দেলখণ্ডের কৃষকরা বাধ্য হচ্ছেন গভীর রাতে এলইডি আলো জ্বেলে চাষের কাজ করতে। এর আগে ১২২ বছরের মধ্যে উষ্ণতম বছর পার করেছি আমরা ২০২৪ সালে। ২০২৬-এ সে-রেকর্ড ভাঙতে চলেছে অচিরেই। এহেন ক্রমাগত উষ্ণতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত অবশ্য ছিলই। বিশ্বজোড়া এমন উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণও আমাদের জানা। প্রখ্যাত নেচার পত্রিকার গত ২২ এপ্রিল, ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশিত এক গবেষণা পত্রে ইসাবেলা এস তাগোমোরি ও তাঁর সহ গবেষকরা প্যারিস জলবায়ু চুক্তি কার্যকর করতে হলে, অর্থাৎ কিনা চলতি শতকের শেষে উষ্ণতা বৃদ্ধিকে শিল্পায়ন পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে বেঁধে রাখা ততক্ষণ কার্যত অসম্ভব, যতক্ষণ পর্যন্ত না জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারে কার্যকরী কঠোর নিয়ন্ত্রণ লাগু করা সম্ভব হচ্ছে। যেমন চলছে তেমনই চলতে থাকলে একবিংশ শতাব্দীর শেষে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে চলেছে ৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর বিভিন্ন দেশ তাদের স্বেচ্ছা ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা যদি পূরণও করে (যে সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ) তাহলেও শতাব্দীর শেষে উষ্ণতা বৃদ্ধিকে কিছুতেই ২.৮ ডিগ্রির নিচে বেঁধে রাখা সম্ভব হবে না।  বিশ্ব জলবায়ু সংস্থা গত ২৮ মে গভীর আশঙ্কা ব্যক্ত ক’রে জানিয়েছে শতাব্দীর শেষ এখনও বহুদূর, আগামী ২০৩০-এর মধ্যেই শিল্পায়ন পূর্ববর্তী সময়কালের তুলনায় পৃথিবী তেতে উঠতে চলেছে ১.৩ থেকে ১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ বছর আবার প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝ বরাবর সমুদ্রের জল অতিরিক্ত উষ্ণ হয়ে ওঠায় সুপার এল নিনোর ধাক্কায় পরিস্থিতি আরো ঘোরালো হয়েছে। তবে মনে রাখা ভালো জনপ্রতি সব থেকে বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি উদ্ভূত কার্বন উদ্গীরণকারী আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র বা আর্জেন্টিনার মতো দেশগুলি ইতিমধ্যেই প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছে। ভারতে অচিরাচরিত শক্তির উৎপাদনে যৎসামান্য উন্নতি ঘটলেও এখনো এ দেশের শক্তি উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশই হয় কয়লা থেকে। আসলে জীবাশ্ম জ্বালানি আজও পুঁজিবাদী ব্যবস্থার প্রধান চালিকাশক্তি। সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তুতন্ত্রের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট গবেষক এ্যান্ড্রু মাল্ম সঠিকভাবেই বলেছেন জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্প বুর্জোয়া গণতন্ত্রের কোনো পার্শ্ব প্রদর্শন বা সাইড শো নয়, এ হল সমসাময়িক পুঁজিবাদের বস্তুগত কাঠামো। সেই কারণেই দর্শনগত দিক এবং অর্থনৈতিক দিক– উভয় তরফেই জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পের প্রতি পুঁজির স্বাভাবিক রাজনৈতিক পক্ষপাত লক্ষ্য করা যায়। ফলে একদিকে বছরের পর বছর বিপুল অর্থ ব্যয় ক’রে অনুষ্ঠিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনগুলি অশ্বডিম্ব প্রসব ক’রে চলে; অন্যদিকে অতিমাত্রিক প্রযুক্তি নির্ভরতার মধ্যেই সমাধান খোঁজার গ্রিন ওয়াশ চলতে থাকে। পাশাপাশি যাবতীয় পরিবেশগত সমস্যার দায় সুচারু কৌশলে চালান করা হয় ব্যক্তি মানুষের ঘাড়েই।

এই যেমন ভারতের প্রধানমন্ত্রী গত ২৭ মে তাঁর এক্স হ্যান্ডেল থেকে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে এই তীব্র তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ স্তরে প্রস্তুত থাকার, বেশি ক’রে জল খাওয়ার, সঙ্গে জল বহন করার এবং অন্যকে এক গ্লাস জল খাওয়ানোর মতো একগুচ্ছ ফাঁপা পরামর্শ দিয়েই তাঁর দায়িত্ব সেরেছেন। অনীশ চৌধুরী নামক এক যুবক প্রধানমন্ত্রীর এক্স হ্যান্ডেলে করা ওই জ্ঞানবাণীর নিচে তীব্র ব্যাঙ্গ ক’রে মন্তব্য করেছেন, ‘হ্যাঁ মহাশয়; আপনি আদানিকে জঙ্গল উজাড় ক’রে গাছ কাটার ঢালাও ছাড়পত্র দিয়ে যান; বাকি যা কিছু করার তা আমরা করছি’। এর আগেও আমরা শুনেছি প্রধানমন্ত্রীর অমৃত বাণী যখন তিনি বলেছিলেন জলবায়ু নয়, আসলে বদলে গেছি আমরাই।

অনীশ চৌধুরী অবশ্য ভুল কিছু লেখেননি। মোদী সরকারের শাসনকালে অবিশ্বাস্য দ্রুততায় ছাড়পত্র পেয়েছে একের পর এক প্রকৃতি, পরিবেশ, ও বাস্তুতন্ত্র বিধ্বংসী প্রকল্প। অরণ্য সংরক্ষণ থেকে, জীববৈচিত্র রক্ষা, শিল্প প্রকল্পের পরিবেশগত অভিঘাত নির্ণয় প্রক্রিয়া থেকে পরমানু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা– বিগত বারো বছরে ক্রমাগত লঘু করা হয়েছে পরিবেশ রক্ষা বিষয়ক প্রতিটি আইন। ভারত ভূখণ্ডের প্রাচীনতম আরাবল্লী পাহাড়ের সংজ্ঞা বদলে ফেলে খনি প্রকল্পের জন্য ভাঙা হয়েছে মাইলের পর মাইল পাহাড়। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা আরাবল্লীর প্রাচীর ধ্বংস হওয়ায় রাজস্থানের থর থেকে উড়ে আসা ধূলো ঝড়ে আজ আচ্ছন্ন দিল্লি সহ সমগ্র উত্তর ও মধ্য ভারত। মধ্যপ্রদেশের সিঙ্গরৌলি এলাকায় আদানির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ধিরৌলি কয়লা ব্লক; যার দরুন কাটা পড়তে চলেছে অন্তত ছ লক্ষ গাছ। একই ভাবে বেদান্ত কোম্পানির হাতে উপঢৌকন দেওয়া হয়েছে বক্সাইট সম্বৃদ্ধ ওড়িশার সিজমালি পাহাড়, যে পাহাড় জুড়ে আছে অন্তত দু’শোটি ছোটো বড়ো জলধারা, যে পাহাড় হাতিদের যাতায়াতের করিডর, যে পাহাড় যুগ যুগ ধ’রে জনজাতি মানুষের বাসভূমি। হাসদেও আরন্দে আদানিদের খনি সম্প্রসারণ প্রকল্পের বলি হয়েছে কয়েক লক্ষ গাছ, উৎখাত হতে হয়েছে এলাকার জনজাতি গোষ্ঠীর মানুষকে। আপাতত থেমে থাকলেও নিকোবরের ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ বর্ষাবন সাফ ক’রে ৮১০০০ কোটি টাকার প্রকল্প রূপায়নের সব প্রস্তুতি সারা। এই প্রকল্পে কাটা পড়বে কিছু না হলেও ১০ লক্ষ প্রাচীন গাছ; বিপন্নতার শেষ সীমানায় গিয়ে দাঁড়াবে ইতোমধ্যেই বিপন্ন অন্যতম প্রাচীন শম্পেন জনগোষ্ঠী। আমাদের রাজ্যেও প্রায় ২১ হাজার স্থানীয় আদিবাসী মানুষকে বাস্তুহারা করার আয়োজন পাকা ক’রে আদানিদের হাতে কয়লার নামে লাভজনক গ্রানাইটের জন্য সীমাহীন শঠতায় তুলে দেওয়া হয়েছে দেউচা পাচামির বিস্তীর্ণ অঞ্চল। আগামী বছরের কুম্ভমেলার প্রস্তুতির জন্য নাসিকে কাটা পড়তে চলেছে কয়েক হাজার গাছ। ওখলা প্ল্যান্ট থেকে প্রতিদিন যমুনার জলে মিশছে ২ কোটি ৪০ লক্ষ লিটার শিল্প বর্জ্য। পাশাপাশি ইন্দোর সহ একাধিক শহরকে আজ ভুগতে হচ্ছে ভয়ংকর জলকষ্টে। এই মুহূর্তে বায়ু দূষণের নিরিখে বিশ্বের প্রথম ১০টি শহরই ভারতে। ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেল্থ নামক পত্রিকার গত সেপ্টেম্বর ২০২৪ সংখ্যায় দাবি করা হয়েছে দিল্লি, কলকাতা, ব্যাঙ্গালুরুর মতো ভারতের অন্তত ১০টি শহরের প্রত্যেকটিতে ফি বছর কম ক’রে গড়ে ৩৩ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে বায়ু দূষণের কারণে। বন্যা, সাইক্লোনের মতো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চরম ঘটনাবলীর অভিঘাতে ভারতে প্রতি বছর ৫০ লক্ষ মানুষ ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হয়ে বেছে নিতে বাধ্য হয় উদ্বাস্তু জীবন। গত তিন দশকে এই ধরনের চরম জলবায়ু জনিত ঘটনার অভিঘাতে ভারতে মৃত্যু ঘটেছে ৮০ হাজার মানুষের; বিপন্ন হয়েছে ১০০ কোটি মানুষ। গ্রিনওয়াচ সংস্থার জলবায়ু বিপন্নতা সূচক, ২০২৬-এর রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতের অবস্থান প্রথম দশটি সর্বাধিক বিপন্ন দেশগুলির মধ্যে নবম। সোজা কথায় তথাকথিত বিকাশের নামে সরকারি উদ্যোগে আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রকে বেলাগাম কর্পোরেট লুটের মৃগয়া ক্ষেত্র বানানোর কাজ চলছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। অথচ এর ফলে পরিবেশের এহেন ভয়ংকর অবক্ষয়ের ফল ভুগতে হচ্ছে আমাদেরই। বিশ্ব ব্যাঙ্ক ২০২৫ সালে আশঙ্কা ব্যক্ত ক’রে জানিয়েছে জলবায়ু সংকটের কারণে এই শতাব্দীর শেষে ভারতের জিডিপি কমতে চলেছে ৬.৪ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত; যার অর্থ শুধু এই কারণেই নতুন ক’রে আরো ৫ কোটি মানুষ নিক্ষিপ্ত হ’তে চলেছে চরম দারিদ্রের মধ্যে। 

২০২৪-এ শ্রী রঞ্জিত সিংহ বনাম ভারত সরকারের একটি মামলায় ভারতের মহামান্য সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীণ ভাষায় জানিয়েছেন প্রতিটি নাগরিকের জলবায়ু পরিবর্তনের যাবতীয় প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া থেকে মুক্ত থাকার অধিকার ভারতের সংবিধান উল্লিখিত একটি মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃত হওয়া উচিৎ। তাই আপামর ভারতবাসীর স্বার্থে পরিবেশ রক্ষার লড়াইকে শক্তিশালী করতে হ’লে প্রাকৃতিক সম্পদের এই অবাধ কর্পোরেট লুটের বিরুদ্ধে, এই মুনাফা লোভী কর্পোরেট লুটেরা পুঁজির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইকে সংহত করতে হবে। তবে সেইসঙ্গে সজাগ থাকতে হবে যাতে এহেন পরিবেশ সক্রিয়তার ফাঁক গ’লে উগ্র ফ্যাসিবাদী উপাদানের অনুপ্রবেশ না-ঘটে।  

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ২০১৯ সালে জর্ডন ডাইয়েট ও ক্যাসিডি তাঁদের ‘Overpopulation discourse: Patriarchy, Racism and the Spectre of Ecofascism’ নিবন্ধে ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর জার্মানিতে কীভাবে বিভিন্ন পরিবেশগত সমস্যাকে বিশেষ বিশেষ জনগোষ্ঠীর মানুষের বিরুদ্ধে তীব্র জাতিবিদ্বেষ তৈরি করার মধ্যে দিয়ে কীভাবে উগ্র জাতীয়তাবাদ ও ফ্যাসিবাদের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছিল। ভারতেও করোনা অতিমারির কালে আমরা দেখেছিলাম কীভাবে দিল্লির নিজামুদ্দিনে একটি ধর্মীয় জমায়েতকে দায়ি ক’রে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কি ভয়ংকর ঘৃণা প্রচার চলেছিল। এহেন বাস্তুতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদের রমরমা এখন আরো তীব্র। এই উগ্র ফ্যাসিবাদী প্রচারের শিকার এখন ভারতে, বিশেষত এই বাংলায় অনেক। সেই কারণেই এখন ‘সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা’ বাংলার পরিবেশ ধ্বংস ও দূষণের জন্য খুব সহজেই ঘুসপেটিয়া দাগিয়ে দিয়ে এক বিশেষ সম্প্রদায়কে দায়ি করা যায়; অথবা হাওড়া, শিয়ালদহ, দমদম, যাদবপুর– মধ্যরাতে মালগাড়িতে পে লোডার এনে সৌন্দর্যায়নের নামে বুলডোজারের ঘর্ঘর যান্ত্রিক শব্দে প্ল্যাটফর্মের হকারদের স্টল এবং সেই সঙ্গে তাদের ঘর, গৃহস্থালি, আশা স্বপ্ন সবকিছু চুরমার ক’রে দিলেও একাংশের মানুষকে এই ভেবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে দেখা যায় যে আহা; এতদিনে স্টেশন চত্বর পরিচ্ছন্ন হল, এতদিনে হাত পা ছড়িয়ে হাঁটা চলার পরিসর মিললো খানিক; কিম্বা কফ-থুথু-মল-মূত্র সহ যাবতীয় আবর্জনার দায় খুব সহজেই চাপিয়ে দেওয়া যায় একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ওপর। দিব্যি আড়ালে চলে যায় গভীর দারিদ্র্য ও সীমাহীন কর্মহীনতার প্রশ্ন, আড়ালে চলে যায় পরিবেশ অবক্ষয়ের মূলগত কারণ বেলাগাম কর্পোরেট লুট, আর ধান্ধার ধনতন্ত্র। তাই পরিবেশ রক্ষার লড়াইকে কর্পোরেট লুটের বিরুদ্ধে যেমন রুখে দাঁড়াতে হবে তেমনিই মোকাবিলা করতে হবে এতদৃশ বাস্তুতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদের চ্যালেঞ্জকেও। একমাত্র এ পথই ‘পৃথিবীর ক্রমমুক্তি’র পথ।

 


প্রকাশের তারিখ: ০৫-জুন-২০২৬

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org