|
জার্সির রঙে নাগরিকত্ব: কলকাতা ডার্বি, পরিচিতি ও অন্তর্ভুক্তির রাজনীতিঅনীক বিশ্বাস, অত্রেয় দে |
|
কলকাতা ডার্বিতে দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে কটাক্ষ, বা গালিগালাজ নতুন বিষয় নয়। মোহনবাগান–ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ মানেই বহুদিন ধরে একে অপরকে নিয়ে ঠাট্টা, ব্যঙ্গ, খোঁচা ইত্যাদি। কে ঘটি, কে বাঙাল, কার উচ্চারণ কেমন, কে কী খায়, কার বাড়ি বাংলার কোন্ প্রান্তে এইসব নানাবিধ বিষয় উঠে আসে সেখানে। এই রসিকতা কখনও আপাত-নীরিহ, কিন্তু কখনও আবার তার মধ্যে শ্রেণি, অঞ্চল ও সামাজিক মর্যাদার পুরোনো হিসাবও মিশে থাকে। তবুও মশকরা, কটাক্ষ নিয়ে এই দ্বৈরথ একটি সীমার মধ্যে আবদ্ধ ছিল। ‘বাঙাল’ ও ‘ঘটি’ মূলত যেহেতু একই বাঙালি হিন্দু সমাজের ভিতরের দুই পরিচিতি তাই তারা একে অপরকে ঠাট্টা করলেও সেই বিবাদ একে অপরের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন পর্যন্ত পৌঁছাত না। তবে সাম্প্রতিক কয়েক বছরে সেই জায়গাটিই বদলাতে শুরু করেছে। বর্তমানে কলকাতা ডার্বি ঘিরে যুবভারতীর গ্যালারি বা সামাজিক মাধ্যমে প্রায়শই শোনা যাচ্ছে নানা অচেনা শব্দবন্ধ। ‘বাংলাদেশি’, ‘অবৈধ উদ্বাস্তু’, ‘ইলিগ্যাল’, ‘কাগজ দেখাও’, ‘NRC করে বের করে দেবো’— কটাক্ষের ভাঁড়ারে যুক্ত হয়েছে এমনই একাধিক ‘ব্যান্টর’। অর্থাৎ, যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা একসময় প্রধানত সাংস্কৃতিক পার্থক্য, আঞ্চলিক স্মৃতি এবং দেশভাগের ইতিহাসকে ঘিরে আবর্তিত হত, তার মধ্যে ঢুকে পড়েছে নাগরিকত্ব, বৈধতা এবং বহিষ্কারের শব্দভাণ্ডার। আমাদের গবেষণার শুরু এই পরিবর্তনটিকে বোঝার চেষ্টা থেকেই। ২০২০ সালের জানুয়ারির একটি ডার্বি আমাদের কাছে এই পরিবর্তনের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে। CAA ও NRC নিয়ে তখন সারা দেশে প্রবল রাজনৈতিক বিতর্ক। কলকাতা কাঁপছে CAA ও NRC বিরোধী মিছিলে। ম্যাচ শেষে সল্টলেক স্টেডিয়াম থেকে বিধাননগর স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলাম। ইস্টবেঙ্গলের জার্সি পরা আমাদের দেখে কয়েকজন মোহনবাগান সমর্থক ঘিরে ধরলেন। চিৎকার করে বললেন— ‘বাংলাদেশি’, ‘ইলিগ্যাল’, ‘উদ্বাস্তু’, ‘NRC বের করে দেবে’। এতদিন যে জার্সি আমাদের একটি ফুটবল-পরিচয় দিত, সেই জার্সিই মুহূর্তের মধ্যে আমাদের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহের চিহ্ন হয়ে উঠল। এই অভিজ্ঞতা থেকেই প্রশ্নটা তৈরি হয়: কীভাবে একটি ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যার শিকড় ছিল সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক পার্থক্যে, তা এসে পৌঁছল নাগরিকত্বের বৈধতা-অবৈধতার প্রশ্নে? এর উত্তর খুঁজতে গেলে আগে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে ‘বাঙাল’ পরিচয়ের ইতিহাসের দিকে। ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে ‘বাঙাল’ ও ‘ঘটি’ পরিচয়ের সম্পর্ক চিরকালীন। দেশভাগের পরে পূর্ববঙ্গ থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসা উদ্বাস্তুদের অভিজ্ঞতা এই বিভাজনকে আরও তীব্র করে। উদ্বাস্তুদের কাছে ইস্টবেঙ্গল হয়ে ওঠে পূর্ববঙ্গের হারানোর স্মৃতি, হয়ে নতুন জায়গায় জীবন গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা এবং সেই হারানো ‘দেশের’ সঙ্গে সম্পর্কের একটি সাংস্কৃতিক জায়গা। কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ‘বাঙাল’ পরিচয়টি ঐতিহাসিকভাবে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় হলেও, সাম্প্রতিক নাগরিকত্বের রাজনীতি সেই পরিচয়কে অন্যভাবে পড়ার সুযোগ তৈরি করেছে। NRC, CAA এবং নাগরিকত্বের নথি নিয়ে বিতর্কের ফলে বংশপরিচয়, কাগজপত্র, ঠিকানা এবং ‘প্রমাণ’-এর প্রশ্ন জনজীবনে অনেক বেশি দৃশ্যমান হয়েছে। ফলে পূর্ববঙ্গ থেকে আসার ইতিহাস, যা একসময় মূলত উদ্বাস্তু স্মৃতি বা ‘বাঙাল’ পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল, এখন সেটির সাথে কখনও কখনও ‘বাংলাদেশি’ বা ‘বিদেশি’ পরিচয়ের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিবর্তনটি আমরা শুধু একটি-দুটি ঘটনার মধ্যে দেখিনি। ২০১৯ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত সাতটি ডার্বি পর্যবেক্ষণ এবং ২৭ জন সমর্থকের সঙ্গে কথোপকথনের পাশাপাশি আমরা সামাজিক মাধ্যমেও এই ভাষার বিস্তার অনুসরণ করেছি। ফেসবুকে বাংলার জনপ্রিয় ফুটবল গ্রুপগুলিতে ডিজিটাল এথনোগ্রাফি চালিয়ে আমরা প্রায় ৩৫০টি পোস্ট বিশ্লেষণ করি, যার মধ্যে ৭৯টিতে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের ‘বাংলাদেশি’, ‘উদ্বাস্তু’ বা ‘ইলিগ্যাল ইমিগ্র্যান্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। পোস্টগুলি ও তার কমেন্ট সেকশনে ইস্টবেঙ্গলের প্রসঙ্গে বার বার উঠে এসেছে ‘Another Bangladeshi club’, ‘Bangladesh Bengal’, ‘illegal’, এবং ‘detention camp’-এর মতো শব্দ। ২০২৫ সালে কটাক্ষের এই ভাষা আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়। ওই বছর আগস্টের একটি ডার্বির পরে আমরা একটি বিরল অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই। আমরা দেখেছিলাম, কয়েকজন মোহনবাগান সমর্থক কাছেই থাকা একটি নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ির দিকে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের দেখিয়ে বলছেন— ‘স্যার এরা অবৈধ বাংলাদেশি, এদের অ্যারেস্ট করে নিন’। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থককে ‘বাংলাদেশি’ বলা আর শুধু অপমান হিসেবে থেমে থাকেনি, তাঁরা যেন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই নিজেদের অভিযোগের সাক্ষী এবং সম্ভাব্য প্রয়োগকারী হিসেবে আহ্বান করছেন। আমাদের গবেষণায় এই ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছিল, কারণ এখানে ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভাষা সরাসরি রাষ্ট্রের ভাষার সঙ্গে মিশে যায়। আরও অদ্ভুত বিষয় হল, এই ভাষার জন্য সবসময় কোনো সরাসরি রাজনৈতিক ব্যাবস্থার প্রয়োজনও হচ্ছে না। ২০২৫ সালেরই আরও একটি ঘটনা আমাদের স্তম্ভিত করে। অক্টোবরে এমনই এক ডার্বির পর স্টেডিয়াম মেট্রো স্টেশনে একদল মোহনবাগান সমর্থক আমাদের ঘিরে ধরে। নানা কটাক্ষ, তির্যক মন্তব্যের মাঝে এক স্কুলপড়ুয়া ছেলে আমাদের দিকে রীতিমত রেগে উঠে বলে— ‘SIR-এর document দেখাও। নইলে detention camp পাকা।’ একটি স্কুলপড়ুয়া শিশুর মুখে এই কথাটি শুনলে প্রথমে সেটিকে ঠাট্টা বলে উড়িয়ে দেওয়া সহজ। কিন্তু একটু ভেবে দেখলে ঘটনাটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে ‘SIR’, ‘document’ এবং ‘detention camp’ কোনো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার শব্দ হিসেবে নেই; এগুলি এমন এক জনপ্রিয় শব্দভাণ্ডারের অংশ হয়ে গেছে, যা একটি শিশুও ফুটবলের ময়দানে মজায় ব্যবহার করতে পারে। অর্থাৎ, রাষ্ট্রীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভাষা শুধু রাজনৈতিক সভা বা সরকারি দপ্তরে নেই; তা ধীরে ধীরে দৈনন্দিন সংস্কৃতির কথ্যভাষায় ঢুকে পড়েছে। এখানেই আমাদের গবেষণার সঙ্গে নাগরিকত্ব নিয়ে বৃহত্তর তাত্ত্বিক আলোচনার যোগ তৈরি হয়। নাগরিকত্বকে আমরা সাধারণত রাষ্ট্রের দেওয়া একটি আইনি পরিচয় হিসেবে ভাবি— কেউ নাগরিক, কেউ নয়। কিন্তু নাগরিকত্ব নিয়ে গবেষণা দেখিয়েছে, নাগরিকত্ব শুধু আইনের বইয়ে বা সরকারি দপ্তরে নির্ধারিত হয় না; দৈনন্দিন জীবনেও মানুষ ক্রমাগত স্বীকৃত, সন্দেহভাজন, অন্তর্ভুক্ত বা বহিষ্কৃত হতে পারেন। একইভাবে, নথিও কেবল প্রশাসনিক কাগজ নয়। নথি মানুষকে শ্রেণিবদ্ধ করে, পরিচয়কে দৃশ্যমান করে এবং কে ‘বৈধ’ আর কে ‘সন্দেহজনক’— এই ধরনের সামাজিক ধারণা তৈরি করে। এই জায়গাতেই ফুটবল আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রের এই শ্রেণিবিন্যাসগুলি রাষ্ট্রের দপ্তরে আটকে থাকে না। সেগুলি যখন মানুষের দৈনন্দিন ভাষায় ঢুকে যায়, তখন তাদের নতুন সামাজিক জীবন তৈরি হয়। কলকাতা ডার্বির নতুন আমদানি এই ‘কাগজ দেখাও’ কথাটিকে তাই শুধু কটাক্ষ হিসেবে দেখা যায় না। এটি রাষ্ট্রীয় যাচাইয়ের ভাষার একটি সামাজিক সংস্করণ। যে প্রশ্নটি এতদিন সাধারণত প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে করা হতো যেমন ‘আপনি কে, কোথা থেকে এসেছেন, আপনার প্রমাণ কী?’— সেটিই এখানে একজন সমর্থক আরেকজনকে করতে শুরু করেন। ঠিক এই জায়গাতেই সাম্প্রতিক কালের কলকাতা ফুটবল গ্যালারি হয়ে উঠেছে এক ধরনের জনতার আদালত। এখানে কোনো বিচারক নেই, কোনো সরকারি নথি যাচাই হচ্ছে না, কিন্তু তবুও মানুষ একে অপরের পরিচিতি বিচার করছে। কাজেই ‘বাংলাদেশি’, ‘উদ্বাস্তু’, ‘ইলিগ্যাল’ এই শব্দগুলি তখন শুধুই কটাক্ষ নয়; এগুলি কাউকে ‘ভিতরের’ না ‘বাইরের’ মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করার উপায়। তবে এই প্রক্রিয়া একতরফা নয়। ইষ্টবেঙ্গল সমর্থকেরাও আইনের এই ভাষাকে নিজেদের মতো করে পাল্টেছেন। ২০২০ সালের ডার্বিতে গ্যালারিতে দেখা যায় ‘Bangal, the Great’ লেখা বিশাল টিফো। ২০২৫-শে দেখা যাচ্ছে ইষ্টবেঙ্গল সমর্থকরা মাঠে আসছেন CAA-এর সমর্থনে পোস্টার, ব্যানার হাতে। তাতে কখনও উঠে এসেছে ‘We support CAA’ বা ‘CAA is our shield’ মতো উক্তি। এই প্রতিক্রিয়াটি আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর অর্থ হল, মানুষ রাষ্ট্রের তৈরি ‘classification’-এর নিষ্ক্রিয় শিকার মাত্র নয়। তারা সেই classification গ্রহণ করতে পারে, প্রত্যাখ্যান করতে পারে, আবার নিজেদের পক্ষে নতুন অর্থও দিতে পারে। এই জায়গাতেই আমাদের গবেষণার মূল তাত্ত্বিক অবদান। আমরা নাগরিকত্বকে শুধু আইন বা রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখতে চাই না। আমরা দেখাতে চেয়েছি, নাগরিকত্বের ভাষা যখন সমাজের নানা স্তরে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তা নতুন নতুন পরিসরে মানুষকে বিচার করার একটি মাধ্যম হয়ে ওঠে। তখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে— কে এই সমাজের অন্তর্ভুক্ত, কে বহিরাগত, কে বৈধ এবং কার উপস্থিতি নিয়ে সন্দেহ করা যায়। ফুটবল সমর্থকদের জগত-ও সেই রকম একটি পরিসর। গ্যালারি, সমর্থকগোষ্ঠী, ফেসবুকের পোস্ট, মিম, স্লোগান কিংবা টিফো— এসব জায়গাতেও নাগরিকত্ব, পরিচয় এবং অন্তর্ভুক্তির প্রশ্ন নতুনভাবে হাজির হয়েছে। এই কারণেই আমরা ‘লোকায়ত বিচারসভা’ বা vernacular tribunal-এর ধারণাটি ব্যবহার করেছি। রাষ্ট্রীয় আদালতের বাইরে এমন কিছু সামাজিক পরিসর রয়েছে, যেখানে মানুষ পরস্পরের পরিচয়, বৈধতা এবং ‘কে এখানকার’— এই প্রশ্নগুলির বিচার করতে থাকে। কলকাতা ডার্বি সেই অর্থে শুধু দুই ফুটবল দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; এটি পরিনত হয়েছে নাগরিকত্বের এমন একটি লোকায়ত পরিকাঠামোয়, যেখানে রাষ্ট্রের তৈরি শ্রেণিবিভাগ সাধারণ মানুষের ভাষা, আবেগ এবং ফুটবল-প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে নতুন অর্থ লাভ করে। তবে এই ‘লোকায়ত বিচারসভা’ একতরফাভাবে কাজ করে না, এবং তার রায়ও সবসময় এক নয়। কেউ ‘বাংলাদেশি’ বলে অন্যকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কেউ সেই পরিচয় প্রত্যাখ্যান করছেন, আবার কেউ ‘উদ্বাস্তু’ পরিচয়টিকেই গর্ব ও অধিকার দাবি করার ভাষায় পরিণত করছেন। অর্থাৎ, একই ফুটবল-সংস্কৃতির মধ্যে বর্জন এবং প্রতিরোধ, এই দুই প্রক্রিয়াই পাশাপাশি কাজ করছে। ফুটবলকে আমরা প্রায়ই সমাজের আয়না বলি। কিন্তু কলকাতা ডার্বির এই পরিবর্তন আমাদের আরও একটু এগিয়ে যেতে বাধ্য করে। ফুটবল শুধু সমাজের পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে না; ফুটবল নিজেও সমাজে ‘belonging’ তৈরি ও বিচার করার একটি জায়গা। তাই একসময় যে ডার্বির প্রশ্ন ছিল— ‘তুই ঘটি না বাঙাল?’, আজ সেই প্রশ্নের পাশে কখনও কখনও এসে দাঁড়াচ্ছে— ‘তুই এখানকার তো? কাগজ আছে?’-র মতো প্রশ্ন। এই দুই প্রশ্নের মধ্যেকার বিবর্তনই আমাদের সময়ের কলকাতা ডার্বির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলির একটি। নাগরিকত্বের রাজনীতি তাই শুধু সংসদ, আদালত বা সরকারি দপ্তরে সীমাবদ্ধ থাকে না। তার ভাষা যখন ফুটবল গ্যালারিতে পৌঁছয়, তখন রাষ্ট্রের ‘নাগরিক’ ও ‘বহিরাগত’-র শ্রেণিবিন্যাস সাধারণ মানুষের হাতে নতুন অর্থ পায়— কখনও কটাক্ষ হিসেবে, কখনও ‘জনতার আদালত’ হিসেবে, আবার কখনও তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ভাষা হিসেবে। (লেখাটির প্রাথমিক উৎস/খসড়া Citizesnship Studies জার্নালে প্রকাশিত গবেষনাপত্র) প্রকাশের তারিখ: ২৭-সেপ্টেম্বর-২০২৬ |
© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |