উপনিবেশ, আফ্রিকা ও ফুটবল

সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়
আফ্রিকার সোনার মাটি তৈরি করেছে অজস্র বড়ো ফুটবলারদের। কালুসা বওলায়া, ১৯৮৮ অলিম্পিকে একাই গুঁড়িয়ে দেন ইতালিকে। ১৯৯৩ সালের ভয়ঙ্কর বিমান দুর্ঘটনা যেভাবে ধ্বংস করে দিয়েছিল জাম্বিয়াকে, সেখান থেকে পুনর্জন্ম ঘটান তিনি, পরের সি এ এফ রানার্স করিয়ে। এছাড়াও বলতে হয় আন্দ্রে কানা বিইক, মার্ক ভিভিয়ান ফো, স্যামুয়েল এটো, জর্জ ওয়ে, দিদিয়ে দ্রোগবা, রজার মিল্লার মতো ফুটবলারদের কথা। কালো মানুষের লড়াইকে আরও উজ্জ্বল করেছেন এঁরা ফুটবলের মাঠে।

'আফ্রিকা'– শব্দটি উচ্চারিত হলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ এবং প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদে ভরা একটি মহাদেশ। হাজার হাজার বছর (উত্তর আফ্রিকার কিছু অংশ রোমানদের অধীনে ছিল) শ্বেতাঙ্গদের দ্বারা শাসিত এই মহাদেশের উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে লড়াই পৃথিবীর সর্বত্র শ্রেণি আন্দোলনকে প্রকৃত অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। সেই মহাদেশের একটি দল মরক্কো এই প্রথম আফ্রিকার কোনও দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ চারে পৌঁছেছে। বিশ্বব্যাপী ফ্র্যাঞ্চাইজি ও কর্পোরেটের আধিপত্যবাদী ফুটবলের বিরুদ্ধে এ-এক সজোরে চপেটাঘাত। কারণ ফিফা (যতই নিজেদের ফুটবলের প্রচারক বলে দাবী করুক আসলে বিশ্বজোড়া চেম্বার অফ কমার্স ছাড়া অন্য কিছু নয়) মোটেও আফ্রিকা বা এশিয়ার ফুটবলের উন্নতি চায় না। চায় শুধু ইউরোপীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ফুটবলের ভালো খেলোয়াড়দের একটা সাপ্লাই বেল্ট। 

একবার মহাদেশটির ম্যাপের দিকে তাকিয়ে পাঠক অবাক হয়ে যাবেন। কোনও দেশের সীমানা স্কেলের মাধ্যমে টানা সরলরেখা হতে পারে ? কোনও আঁকাবাঁকা রেখা নয়ত; সরাসরি সরলরেখা। কারণ ওইভাবেই সাম্রাজ্যবাদী ইউরোপীয় শক্তি নিজেদের মধ্যে ভাগ বাঁটোয়ারা করেছিলো আফ্রিকাকে। কোনো দেশের নাম ছিল তার ঔপনিবেশিক শক্তির নামে— বেলজিয়াম কঙ্গো, জার্মান পূর্ব আফ্রিকা, ফরাসী পশ্চিম আফ্রিকা ইত্যাদি। কোনো দেশের আবার নাম হতো উপনিবেশ তৈরিতে মূখ্য ভূমিকা থাকা ব্যক্তির নামের; যেমন সিসিল রোডসের নামে রোডেশিয়া।

এই শ্বেতাঙ্গদের কারণেই আফ্রিকার মানুষের যন্ত্রণার দিন শুরু হয়। মহাদেশকে শোষণ করে, লুঠ করে, পরাধীন করে, দাস বানিয়ে বিক্রি করে, প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করে, এমনকি গোটা বিশ্বের কাছে আফ্রিকাকে অসভ্য, বর্বর, অন্ধকারাচ্ছন্ন, রহস্যাবৃত মহাদেশ হিসেবে তুলে ধরে ঔপনিবেশিক শাসকদের মহান, আবিষ্কারক, বীর, সাহসী হিসেবে তুলে ধরে।

উপনিবেশবাদের বিকাশ ও গতিপথ পুঁজিবাদেরই মতো সর্বত্র সমান ভাবে চলে না। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আন্দোলনও সর্বত্র সমানভাবে চলে না। উপনিবেশবাদীরা নিজেদের শ্রেষ্ঠ প্রমাণের উদ্দেশ্যে ক্রীড়াঙ্গন থেকে কৃষ্ণাঙ্গদের সরিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে। এরই ফল হল খেলার মাঠকে আফ্রিকার কালো মানুষেরা ব্যবহার করেছিলেন প্রতিবাদের ক্ষেত্র হিসেবে। ফুটবল ছিল তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। কারণ খুবই স্বাভাবিক। ফুটবল আফ্রিকার জনপ্রিয়তম খেলা। 

ফুটবলের সূত্রপাত এই মহাদেশেও ব্রিটিশদের হাত ধরে। ১৮৬২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় সৈন্য ও সিভিল সার্ভেন্টের মধ্যে খেলা একটি ম্যাচকে বলা হয় আফ্রিকার প্রথম ফুটবল ম্যাচ। মনে রাখতে হবে, তখনও রাগবি ফুটবল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়নি। ১৮৮০ সালে তৈরি হয় প্রথম স্বীকৃত ফুটবল সংগঠন পিটারমারিৎসবার্গ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ১৮৮২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্যাভেজ এফ সি আর মিশরের গেজিরা এফ সি তৈরি হয়। এরাই আফ্রিকার প্রথম ফুটবল ক্লাব। ওই বছরেই সম্পূর্ণ শ্বেতাঙ্গদের তৈরি দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (SAFA) প্রতিষ্ঠা পায়। এরপরেই তৈরি হয় মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া এফ সি (১৮৯০), আলজেরিয়ার সিডিজে ওরান (১৮৯৪) এবং সি এ এল ওরান (১৮৯৭)। ১৯১০ সালে SAFA ফিফার সদস্যপদ পায়। ১৯২৩ সালে পায় মিশর, সুদান পায় ১৯৪৮ সালে, ইথিয়োপিয়া ১৯৫৩ সালে। 

১৯০৬ সালে বুয়েনস আয়ার্সে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা, এরপরেই ১৯০৭ সালে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবল সংস্থা তৈরি হয় ডারবান ও জেলা ফুটবল সংস্থা নামে। কিন্তু ১৯১০-এ পাওয়া ফিফা স্বীকৃতি ছেড়ে দেয় SAFA ১৯২৪ সালে। পরে ১৯৫২ সালে আবার ফিরে আসে। 

১৯২০ সালে মিশর প্রথম আফ্রিকা থেকে অলিম্পিক খেলে ফুটবলে। প্রথম ম্যাচেই ইতালির বিরুদ্ধে হেরে যায়।  প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে বিশ্বকাপেও অংশগ্রহণ করে মিশর। ১৯৩৪ সালে মিশর পরাজয় বরণ করে তাদের একমাত্র খেলায় হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে (২-৪)। 

তবে এসবই শ্বেতাঙ্গদের। ১৯৩২ সালে প্রথমে কৃষঙ্গদের (SAAFA), তারপর বান্টুদের (SABFA), এরপর কালার্ডদের জন্য (SACFA) একের পর এক ফুটবল সংস্থা তৈরি হতে শুরু করে প্রথমে দক্ষিণ আফ্রিকায়, পরে অন্যত্র।  কিন্তু অনুন্নত পরিচর্যাহীন মাঠ, শ্বেতাঙ্গদের অসহযোগিতা, ব্যঙ্গ করা এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে আক্রমণ করাও হতো। 

তবে লড়াকু আফ্রিকিয়রা একবিন্দু হার না-মেনে লড়াই শুরু করে ভেতরে বাইরে সর্বত্র। ১৯৫৪ সালে SAAFA ঠিক করে যে ফিফার সদস্য পদ নেবে। কিন্তু শ্বেতাঙ্গ নয় বলে তাদের আবেদন খারিজ করে ফিফা।

দক্ষিণ আফ্রিকার মতো চূড়ান্ত বর্ণবিদ্বেষী রাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের যাবতীয় অধিকার ছিল অন্ধকারে। একের পর এক অন্যায় আইনের প্রয়োগ, অমানবিক আচরণের শিকার হতে হয়েছে এই অঞ্চলের মানুষকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আফ্রিকায় একাধিক দেশের শ্বেতাঙ্গ শাসক সম্প্রদায় ফ্যাসিবাদীদের সমর্থন করত। কিন্তু ফ্যাসিবাদের মতো বিপুল সংখ্যাগুরু ছিল না বলে এরা দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন চালাতে পারেনি, কিন্তু যেটা চালিয়েছিল সেটা প্রায় একই পর্যায়ের। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যাঁরা ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়েছেন, কোনোভাবে যদি তাঁরা আফ্রিকায় প্রবেশও করতেন, তাহলেও তাঁদের নিষ্কৃতি ছিল না। কিছু-না-কিছু সমস্যায় ফেলে দেওয়া হত।

বস্তুত পক্ষে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর একের পর এক আফ্রিকার দেশগুলি স্বাধীন হতে থাকে। জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের প্রভাবে সেখানে মানুষের খেলার মাঠের লড়াইও অন্য মাত্রায় যেতে শুরু করে। তৈরি হয় কনফেডারশন অফ আফ্রিকান ফুটবল বা সি এ এফ। এঁরা ইউরোপিয়ান নেশনস কাপের তিন বছর আগেই আফ্রিকান নেশনস কাপ আয়োজন করেন। ১৯৬০ থেকেই এখানে ১৬ দল যুক্ত হয়ে পড়ে। 

যদিও আফ্রিকার ফুটবলের মান ভালো নয় বলে ১৯৫৬ সালের ফিফা কংগ্রেসে বাধা দিয়েছিল আর্জেন্টিনা; অথচ তাঁরা জানতেন ১৯৫৩ সালেই আফ্রিকার ব্যাপারে ফিফার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গিয়েছিল। ঘটনা হল বহু বিতর্কের পরে অবশেষে ফিফার ভোটে ২৪-১৭য় জিতে আফ্রিকা আলাদা জোন হিসেবে স্বীকৃতি পায়। 

এদিকে প্রথম ন্যাশনস কাপে দক্ষিণ আফ্রিকা খেলেনি। একটা বড়ো অংশের মত বর্ণবিদ্বেষের জন্য এই ঘটনা ঘটে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ, কালার্ড (মিশ্র), ভারতীয় প্রভৃতির জনগোষ্ঠী মিলে একটা সংগঠন তৈরি করেন, সাউথ আফ্রিকান সকার ফেডারেশন। ফিফা কিন্তু কোনোভাবেই এঁদের স্বীকৃতি দেয়নি, কারণ এখানে কোনো শ্বেতাঙ্গ প্রতিনিধি ছিল না। 

এদিকে ১৯৬১-১৯৯২ অবধি দক্ষিণ আফ্রিকা সম্পূর্ণ ভাবে ফিফা কর্তৃক সাসপেন্ড হয়ে যায়। কেবলমাত্র ১৯৬৩ সালে সাময়িক সময়ের জন্যে সাসপেনশন উঠে যায় । 

ঠিক এই সময় ১৯৬৬ সালের জন্য কোয়ালিফাইং রাউন্ডের ক্ষেত্রে ফিফা নিয়ম করে যে আফ্রিকার ও এশিয়ার দেশগুলি সরাসরি নয়, প্লে অফ খেলে বিশ্বকাপে আসতে হবে। প্রবল প্রতিবাদে ফেটে পড়ে আফ্রিকা। একযোগে সমগ্র জোন প্রতিবাদে বয়কট করে বিশ্বকাপ। 

উপনিবেশবাদীরা আফ্রিকা ছেড়ে চলে গেলেও ফিফা বা আইসিসির মতো সংস্থার সদস্যদের থেকে প্রচ্ছন্ন মদত চিরকাল পেয়ে এসেছে। স্যার স্ট্যানলি, স্ট্যানলি রস ফিফার তৎকালীন সভাপতি, বর্ণবৈষম্যের ব্যাপারে আফ্রিকার দেশগুলির অনড় অবস্থান লক্ষ করে একটি গোপন পরিকল্পনা করেন, যে দেশগুলি বর্ণবৈষম্যের সমর্থক, সেই আফ্রিকান দেশগুলি নিয়ে আলাদা জোন তৈরি করার। প্রকৃতপক্ষে ফিফা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ফিরিয়ে নিলেও CAF সাসপেন্ড করে দেয় ১৯৫৮ সালে। ফলে ১৯৬১ সালে অবশেষে আবার সাসপেন্ড। কারণ অনর্থক বিভাজনকে ফিফা স্বীকৃতি দিতে চায়নি অন্যান্য আফ্রিকান দেশ ও এশিয়ার চাপ পড়ে। এমন সময় সভাপতি স্যার স্ট্যানলি,  দক্ষিণ আফ্রিকায় যান 'তদন্ত' করে দেখতে। বর্ণবৈষম্যের পক্ষে থাকা এই প্রাক্তন ব্রিটিশ রেফারি রিপোর্ট দেন, যদি এখনই না-ফেরানো হয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে, তাহলে ফুটবল খেলাটাই ওই দেশে মৃত্যুর মুখে পতিত হবে। 

এইবার দক্ষিণ আফ্রিকাকে ফিরিয়ে তার সঙ্গে রোডেশিয়া, মালাউই, মাদাগাস্কার, মরিশাস ও বতসোয়ানাকে নিয়ে আলাদা জোন তৈরি করার গোপন পরিকল্পনা করেন। উল্লেখযোগ্য, সবকটা দাগী বর্ণবৈষম্যপন্থী দেশ। এরমধ্যে রোডেশিয়াকে CAF সাসপেন্ড করেছে, ফিফার কাছেও বহু আবেদন জমা পড়েছে। 

কংগ্রেস শুরু হওয়ার আগে স্যার স্ট্যানলিকে একসঙ্গে সব অফ্রিকার দেশ বিষয়টি স্পষ্ট করতে বলেন, এবং হুমকি দেয়, যদি ফিফা অবৈধভাবে একই মহাদেশে দুটো আলাদা কনফেডারেশন করার মতো ঘৃণ্য বিচ্ছিন্নতাবাদী মদতদানকারী পক্ষপাতমূলক আচরণ বজায় রাখে, তবে তারা প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে ফিফা ছাড়বেন। 

প্রকাশ্যে এই ঘটনা বড়ো রকমের বিতর্ক সৃষ্টি করতেই পারে, বুঝতে পেরে স্যার স্টানলি পিছিয়ে আসেন। এর চার বছর বাদে রোডেশিয়াকে সাসপেন্ড করে ফিফা। 

উপনিবেশ বাদের উত্তরসূরীদের মুখের মতো জবাব দিয়ে আফ্রিকা থেকে উঠে এসেছে অজস্র শক্তিশালী ফুটবল খেলিয়ে দেশ যে নাইজিরিয়া, আলজেরিয়া, মরক্কো, সেনেগাল, ক্যামেরুন। 

এমন নয়, যে বর্ণবাদী আক্রমণ থেমে গেছে। বরং বলা উচিৎ, তা নতুন চেহারা নিয়ে ফিরেছে। ২০১৮ সালে জেমস ইয়েকু, তাঁর নিবন্ধে দেখিয়েছেন যে কীভাবে বারংবার শক্তি, শারীরিক ক্ষমতা বেশি করে দেখিয়ে আসলেই বর্ণবাদকে তুলে ধরছে একদল মানুষ, আসল লক্ষ্য আফ্রিকান খেলোয়াড়দের ফুটবল খেলার দক্ষতাকে ছোটো করা। এঁরা আসলে বিশ্ব ফুটবলের বিভিন্ন ঘটনাবলীর শ্বেতাঙ্গ ধারাভাষ্য তৈরির মাধ্যমে সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ কায়েম করে অর্থনৈতিক ফায়দা তুলতে চায়। বিশ্বকাপের রিপোর্ট, প্রচার সর্বত্রই বিভিন্ন শ্বেতাঙ্গ দেশের কর্পোরেট প্রচার মাধ্যম এই কাজ করে আসছে। সেনেগালের উত্থানের পরে এই ধারণা চরম আকার ধারণ করেছে। ইউরোপের লিগে যতই বাড়ছে কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলারদের সংখ্যা, এই আক্রমণ ততই ঘনীভূত হচ্ছে। 

আফ্রিকার সোনার মাটি তৈরি করেছে অজস্র বড়ো ফুটবলারদের। কালুসা বওলায়া, ১৯৮৮ অলিম্পিকে একাই গুঁড়িয়ে দেন ইতালিকে। ১৯৯৩ সালের ভয়ঙ্কর বিমান দুর্ঘটনা যেভাবে ধ্বংস করে দিয়েছিল জাম্বিয়াকে, সেখান থেকে পুনর্জন্ম ঘটান তিনি, পরের CAF রানার্স করিয়ে। এছাড়াও বলতে হয় আন্দ্রে কানা বিইক, মার্ক ভিভিয়ান ফো, স্যামুয়েল এটো, জর্জ ওয়ে, দিদিয়ে দ্রোগবা, রজার মিল্লার মতো ফুটবলারদের কথা। কালো মানুষের লড়াইকে আরও উজ্জ্বল করেছেন এঁরা ফুটবলের মাঠে। 

আজকে যখন মরক্কো প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে খেলছে, তখন বিশেষভাবে এঁদের কথা এবং উপনিবেশ ও পরবর্তীকালের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আফ্রিকার ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের কথা আরেকবার মনে করা উচিৎ। 

ফিফা সুপরিকল্পিতভাবে ফুটবলের উন্নতির নাম করে আফ্রিকা ও এশিয়ায় জটিল কোয়ালিফাইং রাউন্ড করে রেখেছে ইউরোপীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ফুটবলের স্বার্থে। এমন অবস্থায় এশিয়া ও আফ্রিকার এই ২০২২ বিশ্বকাপের লড়াই কিছুটা হলেও চিন্তায় ফেলবে কর্পোরেটদের। 

এরপরেও একটা চামড়ার গোলা, হয়তো তাও নয়, কাগজের বা অন্য কিছু নিয়ে পায়ে নিয়ে এগিয়ে যায় আফ্রিকার শিশুরা। ক্ষুধা, শিশু-পাচার, খাদ্য-সংকট, জল-সংকট, অস্ত্র-ব্যবসা, বিদেশি মদতে গৃহযুদ্ধের মধ্যেও ওরা বেচে থাকে ফুটবলের জন্য, লড়বার জন্য, শাসকের ডিফেন্স চিরে বলটাকে জালে জড়ানোর জন্য।


প্রকাশের তারিখ: ১৪-ডিসেম্বর-২০২২

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org