ত্রিপুরার কমিউনিস্ট আন্দোলন: উত্থান, সংগ্রাম, সাফল্য, চ্যালেঞ্জ (শেষ পর্ব)

মানিক সরকার
কেন্দ্রের সহযোগিতা না-পেলেও রাজ্য সরকার হাত গুটিয়ে বসে থাকল না। নিজের সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে রাজ্য সরকার বেশ কটি ইন্ডিয়া রিজার্ভ (সংক্ষেপে আইআর) ব্যাটালিয়ন গঠন করে নিল, যাতে উগ্রপন্থী দমন করা যায়। উগ্রপন্থীপ্রবণ থানাগুলিতে স্থানীয় যুবক, যারা সংশ্লিষ্ট এলাকা সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল, তাদের বিশেষ পুলিশ আধিকারিক (স্পেশ্যাল পুলিশ অফিসার বা এসপিও) হিসাবে নিয়োগ করা হল। উগ্রপন্থা মোকাবিলায় সামরিক প্রয়াসের পাশাপাশি রাজনৈতিক-সামাজিক উদ্যোগের উপরেও গুরুত্ব আরোপ করা হল। আত্মঘাতী ও বন্ধ্যা উগ্রপন্থার অন্তঃ সারশূন্যতা নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হল গোটা রাজ্যে।

প্রথম পর্বের পর...

বামফ্রন্ট সরকার উৎখাত করার লক্ষ্যে রাজীব গান্ধীর গোপন চুক্তি
দশ বছর ধরে রাজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে বামফ্রন্ট সরকার একের পর এক কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে জনমুখী প্রশাসনের নজির গড়ে চলে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী গোপন চুক্তি সম্পন্ন করেন ওই সময়ে বেআইনি ঘোষিত, বিচ্ছিন্নতাবাদী উগ্রপন্থী সংগঠন টিএনভি-র নেতা বিজয় কুমার রাঙ্খলের সঙ্গে। তারপর ১৯৮৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে একের পর এক উগ্রপন্থী হানার ঘটনা ঘটতে থাকে, নির্বাচনের ঠিক আগের সাত দিনে বিভিন্ন স্থানে মোট ৯১ জন অ-উপজাতিকে হত্যা করা হয়। একের পর এক নৃশংস আক্রমণের সুযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার গোটা রাজকে একতরফা ‘উপদ্রুত এলাকা’ ঘোষণা করে দেয়, নির্বাচনের ঠিক দু-দিন আগে। এই ঘোষণার আগে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের সঙ্গে কোনও কথা বলার প্রয়োজন মনে করেনি, নির্বাচন কমিশনের সম্মতিও নেয়নি। গোটা রাজ্যে নামিয়ে দেওয়া হয় সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনী। কিন্তু তারপরেও বামফ্রন্টের জয় রোখা তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত গণনা কেন্দ্রে জবরদস্তি কারচুপি করে বামফ্রন্ট প্রার্থীর চেয়ে কম ভোট পাওয়া কংগ্রেস প্রার্থীকে জয়ী বলে ঘোষণা করে দেওয়া হল। সেই ১৯৮৮ সালের নির্বাচন গোটা দেশের সামনে জ্বলন্ত নজির হয়ে রইল, একটা ছোট্ট রাজ্যে কমিউনিস্টদের হারাতে বুর্জোয়া দল কত ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র, কত জঘন্য অনিয়ম করতে পারে।

কংগ্রেস-টিইউজেএস জোট সরকারের আধা-ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাস
কংগ্রেস-টিইউজেএস সরকারের পাঁচ বছর মানুষের স্মৃতিতে গেঁথে রইল গণতন্ত্রের উপর বর্বর, রক্তঝরানো আক্রমণের কারণে। এই সরকারের ট্রেডমার্ক হয়ে উঠল বিরোধী রাজনৈতিক দলের উপর লাগামছাড়া আক্রমণ, বিরোধী নেতা ও সমর্থকদের হত্যা, গণহত্যা, তাঁদের বাড়িঘর-দোকানপাট ধ্বংস করা, লুট করা, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার তথা মৌলিক অধিকার হরণ করা, এমনকি বেঁচে থাকার অধিকারটুকু কেড়ে নেওয়া। সবচেয়ে ভয়ংকর যেটা তা হল— নারীদের উপর অবর্ণনীয় আক্রমণ নামিয়ে আনা হল, হত্যা-ধর্ষণ-গণধর্ষণ-শ্লীলতাহানি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে উঠল। জোট শাসনের পাঁচ বছরে তিনশোর বেশি পার্টি নেতা, কর্মী ও সমর্থক খুন হলেন, এবং প্রায় সমসংখ্যক নারী ধর্ষণ, গণধর্ষণ, হত্যা, অপহরণ আর শ্লীলতাহানির শিকার হলেন। পরবর্তী ১৯৯৩ বিধানসভা নির্বাচনে গণতন্ত্রবিরোধী, জনবিরোধী, স্বৈরাচারী ও অত্যাচারী শাসকদের গণহারে বর্জন করেন ত্রিপুরা শান্তিপ্রিয় গণতান্ত্রিক জনগণ।

উগ্রপন্থী তৎপরতা
ত্রিপুরা বিধানসভার ১৯৯৩ সালের নির্বাচনে লজ্জাজনক পরাজয়ের পর কংগ্রেস ও টিইউজেএস রাজ্যের ভিতর ও বাইরের কায়েমী স্বার্থের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আবারও উগ্রপন্থার জাল বিছানোর মতলব করে। যে সকল উগ্রপন্থী ১৯৮৮ সালে বিজয় কুমার রাঙ্খলের সঙ্গে আত্মসমর্পণ করেনি, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এরা। দশরথ দেবের নেতৃত্বে গঠিত তৃতীয় বামফ্রন্ট সরকারকে অস্থির করার লক্ষ্য নিয়ে আবার নতুন উদ্যমে উগ্রপন্থী তৎপরতা শুরু করানো হয়। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে ঘাঁটি গেড়ে বসা উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ত্রিপুরায় ঢুকে আক্রমণের ঘটনা ঘটিয়ে সঙ্গে সঙ্গে আবার সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের ঘাঁটিতে ফিরে যাওয়ার কৌশল নিল। তাদের আক্রমণের নিশানায় থাকলেন মূলত নিরাপত্তা বাহিনী, সিপিআই(এম) নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা। একটা সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর ওৎ পেতে থাকা ঝটিতি আক্রমণ, হত্যা, অপহরণ এবং বড়ো অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করা লাগাতার ঘটে চলল রাজ্যে। প্রায় ২০০৭-২০০৮ পর্যন্ত উগ্রপন্থী তৎপরতা চলতে থাকল।

উগ্রপন্থা মোকাবিলায় বামফ্রন্টের সাফল্য
উগ্রপন্থীরা মূলত দেশের সংহতিকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল। পরিস্থিতির বিবেচনায় বামফ্রন্ট সরকার একে জাতীয় সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করে এবং উগ্রপন্থা মোকাবিলায় কেন্দ্রের কাছে সহযোগিতার আহ্বান করে। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত পর্যাপ্ত সংখ্যায় নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করা হয়। ওই সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কথাও বলা হয়, যাতে উগ্রপন্থীরা সহজে সীমান্ত অতিক্রম করে এপারে আসতে না-পারে। এছাড়াও সীমান্ত এলাকায় আরও বেশি সংখ্যায় বিএসএফ পোস্ট স্থাপিত করে তাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যায় জওয়ান মোতায়েন করার কথাও বলা হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, কূটনৈতিক স্তরে বাংলাদেশের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার দাবি করা হয়, যাতে সে-দেশের মাটি থেকে উগ্রপন্থীদের ঘাঁটি নির্মূল করা সম্ভব হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার থেকে কখনোই এই বিষয়ে আন্তরিকতা দেখা যায়নি, না কংগ্রেস দলের সরকার থেকে, না বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার থেকে। সকলেই যার যার সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষাতেই বেশি ব্যস্ত হয়ে থাকল।

কেন্দ্রের সহযোগিতা না-পেলেও রাজ্য সরকার হাত গুটিয়ে বসে থাকল না। নিজের সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে রাজ্য সরকার বেশ কটি ইন্ডিয়া রিজার্ভ (সংক্ষেপে আইআর) ব্যাটালিয়ন গঠন করে নিল, যাতে উগ্রপন্থী দমন করা যায়। উগ্রপন্থীপ্রবণ থানাগুলিতে স্থানীয় যুবক, যারা সংশ্লিষ্ট এলাকা সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল, তাদের বিশেষ পুলিশ আধিকারিক (স্পেশ্যাল পুলিশ অফিসার বা এসপিও) হিসাবে নিয়োগ করা হল। উগ্রপন্থা মোকাবিলায় সামরিক প্রয়াসের পাশাপাশি রাজনৈতিক-সামাজিক উদ্যোগের উপরেও গুরুত্ব আরোপ করা হল। আত্মঘাতী ও বন্ধ্যা উগ্রপন্থার অন্তঃ সারশূন্যতা নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হল গোটা রাজ্যে। যে-সব যুবক বিভ্রান্ত হয়ে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছে, তাদের পরিবারের সদস্যদের দিয়ে সংশ্লিষ্ট যুবকের কাছে উগ্রপন্থা ত্যাগ করার আহ্বান জানানো হল, যাতে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। আত্মসমর্পণকারী উগ্রপন্থীদের জন্য পুনর্বাসন প্যাকেজ নিয়ে আসা হল। সবকিছু মিলে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া শুরু হল। উগ্রপন্থার আগুন ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে এল, ২০১০ সালের পর থেকে কার্যত রাজ্যে আর কোনও উগ্রপন্থী হামলার ঘটনা ঘটতে দেখা যায়নি। তবে বামফ্রন্ট সরকার কখনোই উগ্রপন্থাকে রাজ্য থেকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার দাবি করেনি, যদিও আর কোনও উগ্রপন্থী তৎপরতার খবর পাওয়া যায়নি।

বিজেপি সরকার এবং জনবিরোধী ফ্যাসিস্ট দমন-পীড়ন
রাজ্যে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে বিজেপি। তাদের জয়ের মূল কারণগুলির মধ্যে রয়েছে অবাস্তব নির্বাচনী ইস্তাহার, অন্তহীন মিথ্যার স্রোত, কুৎসা রটানো, অর্থবল কাজে লাগানো এবং কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন থাকার সুবাদে রাজ্য প্রশাসনের জন্য পদে পদে বাধা-বিপত্তি সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস। কংগ্রেসের একদল রাজ্যস্তরীয় শীর্ষ নেতা দলত্যাগ করে প্রথমে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন, তারপর আবার দলত্যাগ করে নির্বাচনের মাত্র মাসখানেক আগে বিজেপিতে যোগ দিলেন। নির্বাচনী ফলাফল থেকে দেখা গেল কংগ্রেসের সমর্থন ভিত্তির প্রায় পুরোটাই চলে গেল বিজেপি-র পক্ষে। বিজেপি-র ভোটপ্রাপ্তি ৩ শতাংশ থেকে একলাফে বেড়ে ৫০ শতাংশের উপরে উঠে গেল। 

ক্ষমতা দখল করার পরমুহূর্তেই বিজেপি প্রথম যে-কাজটা শুরু করল তা হল, রাজ্যটাকে বিরোধী-শূন্য করে তোলার গবেষণাগারে পরিণত করা। গোটা রাজ্যে বিরোধী দল ও গণতান্ত্রিক গণসংগঠনের একটি কার্যালয়ও অক্ষত থাকল না, প্রতিটি অফিস আক্রান্ত হল— লুটপাট, জবরদখল, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, অথবা বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল। বিরোধী সমর্থকদের হাজার হাজার বাড়িঘর, দোকান, ব্যবসা কেন্দ্রে আক্রমণ হল, লুঠতরাজ, ভাঙচুর, এবং অগ্নিসংযোগ হতে লাগল। অসংখ্য রাবার বাগান থেকে হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলা হল, মাছ চাষের পুকুরে বিষ ঢালা হল, কৃষি জমির ফসল নষ্ট করে দেওয়া হল। কেন? কারণ এগুলি সবই বিরোধী দলের সদস্য, সমর্থকদের জীবিকার উৎস। বিজেপি-আশ্রিত দুষ্কৃতীরা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এক পন্থা নিয়েছে। বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে জীবিকার উৎসটিকে নষ্ট ও বন্ধ করে দেওয়ার পন্থা। কোথাও বা কাজে যোগ দিতে দেওয়া হল না, কোথাও বা কাজ থেকে ছাঁটাই করে দেওয়া হল। 

গত ৭ বছর ধরে ত্রিপুরায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার চলছে, প্রথমে আইপিএফটি-র সঙ্গে জোট বেঁধে, পরে আইপিএফটি ও তিপ্রা মথা দলের সঙ্গে জোট বেঁধে। এই সাত বছরে বিরোধী দল, বিশেষ করে সিপিআই(এম) দলের উপর বেনজির আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত যে হিসাব রয়েছে তা হল—

১। পার্টি কর্মী খুন হয়েছেন— ৩২
২। দৈহিক আক্রমণের ঘটনা— ৩৫০০-রও বেশি
৩। বসতবাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা— ৩০০-রও বেশি
৪। বাড়িঘরে আক্রমণ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা— 8,০০০-এরও বেশি
৫। জীবিকার উপর আক্রমণের ঘটনা— ৪,০০০-এরও বেশি

বিরোধীদের উপর নামিয়ে আনা এত এত অত্যাচার-আক্রমণ-অপরাধের খুব কমই থানায় অভিযোগ আকারে লিপিবদ্ধ করানো সম্ভব হয়েছে। অভিযোগ দায়ের করালেও পুলিশ প্রায় সর্বক্ষেত্রেই নিষ্ক্রিয় থাকে। কিন্তু বিজেপি দুষ্কৃতীরা বিরোধীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করলেও সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের সক্রিয়তা শুরু হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত মিথ্যা মামলায় শত শত সিপিআই(এম) নেতা-কর্মীকে হয়রানি করা হচ্ছে। 

বাস্তবে ত্রিপুরার বুকে বর্তমান সময়ে সংবিধান কাজ করছে না। প্রতিটি নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হচ্ছে। বাক্‌স্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখন লাগাতার হুমকির মুখে থাকে। আইনের শাসনকে দূর করে জঙ্গলের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে রাজ্যে। 

তিপ্রা মথা— নিজ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা
শাসক বিজেপি-র উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও আগ্রাসী হিন্দুত্ব প্রচার রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, ফলত শত শত পরিবারের বাড়িঘর, সহায়-সম্বল ধ্বংস হয়েছে। রাজ্যবাসীকে ধর্মবিশ্বাসের ভিত্তিতে বিভাজন করার লক্ষ্যে সক্রিয় রয়েছে বিজেপি। এর পাশাপাশি তিপ্রা মথা, যারা রাজবংশের প্রতি আনুগত্য ও উপজাতিদের পরিচিতিসত্তার আবেগের উপর ভর করে ক্ষমতার স্বাদ নিচ্ছে, তারা দ্বিচারিতার খেলা খেলছে। তিপ্রা মথার নেতৃবৃন্দ উপজাতি এবং অ-উপজাতিদের মধ্যে দূরত্ব ও বিভেদ সৃষ্টি করার কাজে ব্যস্ত থাকছে।

পার্টি এবং শুভবুদ্ধিসম্পন্ন রাজ্যবাসীর সামনে চ্যালেঞ্জ
১। রাজ্যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে প্রত্যয়ী ও ঐক্যবদ্ধ লড়াই চালিয়ে যাওয়া, শাসক বিজেপি-র সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষপ্রচারকে পরাস্ত করে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে সুরক্ষিত রাখা।
২। রাজ্যের উপজাতি জনগণের একটা বড়ো অংশ পরিচিতিসত্তার রাজনীতিতে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। তাদের সামনে প্রতারণাপূর্ণ ও বিভেদকামী তিপ্রা মথার মুখোশ খুলে দিয়ে উপজাতিদের মধ্যে রাজনৈতিক-মতাদর্শগত এবং সাংগঠনিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখা।
৩। খাদ্য, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে তীব্রতর করে তোলা।
৪। বিজেপি সরকারের জনবিরোধী চরিত্রকে মানুষের সামনে প্রকাশ করা। জ্বলন্ত স্থানীয় সমস্যা নিয়ে তেজিয়ান আন্দোলন গড়ে তোলা, বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার ও তিপ্রা মথা পরিচালিত এডিসি-র সর্বস্তরে শিকড় গেঁথে বসা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির প্রতিবাদে সোচ্চার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া। 

সিপিআই(এম) গভীরভাবে বিশ্বাস করে, জনবিরোধী ফ্যাসিস্টসুলভ ও সাম্প্রদায়িক বিজেপি আরও জনবিচ্ছিন্ন হবে। নিরবচ্ছিন্ন ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে অকুতোভয় রাজ্যবাসী জনবিরোধী বিজেপিকে অবশ্যই পরাস্ত করবেন।

(সৌজন্যে: সিপিআই(এম) ২৪তম পাটি কংগ্রেস উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ স্মরণিকা)
মূল ইংরাজি থেকে ভাষান্তর- অরূপরতন শর্মা।
ঋণ- ডেইলি দেশের কথা


প্রকাশের তারিখ: ২৬-এপ্রিল-২০২৫

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org