|
সংবিধান সম্পর্কে কমিউনিস্টদের মনোভাবএ কে গোপালন |
|
সাংসদ হিসাবে এ কে গোপালন ২৫ জুলাই, ১৯৬৯-এ নয়া দিল্লিতে এই বিবৃতি দেন - ১৯৫২ সাল থেকে আমি সংসদের সদস্য। ভারতীয় সংবিধানের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ সচেতন, তবুও এই দীর্ঘ বছর ধরে আমি নিজেকে জনগনের স্বার্থে সংসদে ব্যাপৃত রেখেছি। আমি প্রবলভাবে অনুভব করি যে, এবার জনগনকে সতর্ক করার সময় হয়েছে। ন্যায়সঙ্গত সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের জনগনের সংগ্রামকে কায়েমী স্বার্থের এজেন্টরা সংবিধানকে ব্যবহার করে ডুবিয়ে দিতে চেষ্টা করছে। সংবিধান কার্যকর করতে গিয়ে এটা প্রমানিত হয়েছে যে, আমাদের আইনসভা, এক্সিকিউটিভ এবং বিচার বিভাগ কতিপয়ের হাতে সম্পদ কেন্দ্রীভূত হতে সাহায্য করেছে, এবং যখনই আমাদের জনগণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন, তখনই যারা নিজেরাই সংবিধানের প্রত্যেকটি ঘোষিত উদ্দ্যেশ্যকে বানচাল করে যাচ্ছে, তারা অন্তর্ঘাত, সংবিধান ধ্বংস ইত্যাদির ধুয়ো তোলে। এতগুলো বছর ধরে কৃষক, শ্রমিক, মধ্যবিত্ত কর্মচারী তথা দেশের সাধারণের স্বার্থ ও কল্যাণ সম্পর্কিত বহু আইনকে মৌলিক অধিকারের নামে এবং সংবিধানের অন্যান্য ফাঁকের সুযোগ নিয়ে আদালত ব্যাহত করে দিয়েছে, এবং রক্ষা করেছে কায়েমী সম্পত্তিশালী জমিদারের স্বার্থ। এই কারণেই সংসদ কর্তৃক সংবিধান শুধুমাত্র সম্পদশালী শ্রেণি, মুনাফাখোর ও একচেটিয়াদের স্বার্থরক্ষা করবে, দুর্গত জনগণ, যাদের কোনও সম্পত্তি নেই, এমনকি গ্রাসাচ্ছদনের উপায় নেই, তাদের স্বার্থ দেখবে না। এটা আকস্মিক কিছু নয় যে, ভারতীয় সংবাদপত্রে আমার ও নাম্বুদিরিপাদের একটা সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রকাশিত হওয়ার ঠিক পরেই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা কুৎসা প্রচারে নামলেন। এই প্রথম নয় যে নিজলিঙ্গাপ্পা, চ্যবন, শুক্ল ও গোবিন্দ মেনন মিথ্যা চিৎকার তুললেন যে, আমাদের পার্টি ভারতীয় সংবিধানকে বানচাল ও ধ্বংস করছে। কংগ্রেস নেতাদের এ ধরনের ডাকহাঁকের সুপরিকল্পিত উদ্দেশ্য হল, জনসংঘ ও স্বতন্ত্র দলে তাদেরই দোসরদের ইঙ্গিত দেওয়া যাতে তারা আমাদের পার্টির নামে কুৎসা রটায়, এবং এটাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি তোলে। আমি শপথ লঙ্ঘনের দোষে দোষী এবং এই শপথ লঙ্ঘনের দরুণ আমাকে ও নাম্বুদিরিপাদকে রাজ্য আইনসভা থেকে সরিয়ে দিতে শাস্তি দেওয়া যেতে পারে, এই মর্মে মিথ্যা ও ছেলেমানুষী পরামর্শ দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রদপ্তরের রাজ্যমন্ত্রী শুক্ল, মাধোক কোম্পানিকে যেভাবে উত্তেজিত করেছে, তাতে আমি আশ্চর্য হয়ে গেছি। আমি শুক্ল, মাধোক ও তার দলবলকে চ্যালেঞ্জ করছি, তারা সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট অথবা নির্বাচন কমিশনের শরণ নিয়ে আইন বা সংবিধানের যে কোনও ধারায় আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। সংবিধান সম্পর্কে আমাদের মতামত সব সময়েই খোলাখুলি নির্বাচকমণ্ডলীর কাছে রেখেই ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) রাজ্য বিধানসভা ও সংসদের নির্বাচনী লড়াই করেছে। আমরা সংবিধানের ব্যাপক পরিবর্তন দাবি করেছি, যাতে ক্ষুধার্ত জনগণ ন্যায়বিচার পায়। ব্যাংক মালিক ও একচেটিয়া, রাজা-রাজড়া, জমিদার বা তাদের সাম্রাজ্যবাদী প্রভুদের এজেন্ট হিসাবে কাজ করার জন্য আমরা নির্বাচন লড়িনি। আমি আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করেছি। সংবিধান এবং জনপ্রতিনিধিত্ব সংক্রান্ত আইন আমি পড়েছি। আমরা খুঁজে দেখেছি, কিন্তু এমন কোনও ধারা পাইনি, যে ধারায় এসব বন্ধুরা যেটা ব্যগ্রভাবে চান, সেই ফল তারা পেতে পারেন। নাম্বুদিরিপাদ ও আমি, সংসদে, আইনসভায় এবং বাইরে জনগণের সেবা করে যাব যদি না আমরা জনগণের আস্থা হারাই। কী নির্লজ্জ ও নগ্নভাবে ওরা কায়েমী স্বার্থের সেবা করছে, এটা একটা জঘন্য দৃশ্যই বটে! সিন্ডিকেট এবং স্বতন্ত্র ও জনসংঘ নেতৃত্ব, তাদের দোসরদের সাম্প্রতিক কার্যকলাপ লজ্জাকর। তাদের নিজেদের পার্টির মধ্যেই সুরুচিসম্পন্ন যে কোনও ব্যক্তিরা তাদের জন্য লজ্জাবোধ করবেন। প্রকাশের তারিখ: ০৫-নভেম্বর-২০২৩ |
© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |