প্রয়াত কমরেড নগুয়েন ফু ত্রঙ

তো লাম
পার্টি সম্পর্কে ফু ত্রঙ বলেন, ‘‌আমাদের পার্টিকে অবশ্যই জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার সর্বোচ্চ বোধ অর্জন করতে হবে। জনগণের বস্তুগত এবং আত্মিক জীবনের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে। পার্টির যে সমস্ত নীতি জনগণ, দেশ এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করে না, এবং ঐতিহাসিক বিবর্তনের নিয়মাবলীর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, সেগুলো ভুল নীতি। জনগণের সাথে নিবিড় যোগাযোগ হল অস্তিত্বের নিয়ম, সেটিই পার্টির সিদ্ধান্ত গ্রহণের শক্তি, উন্নতি ও পার্টির কার্যক্রমের সাথে যুক্ত।’

ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নগুয়েন ফু ত্রঙ ছিলেন একজন চিন্তাবিদ, সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ ও পার্টির তাত্ত্বিক অবস্থানের পতাকাবাহক। প্রয়াত ফু ত্রঙ ছিলেন এক বিশিষ্ট ছাত্র যিনি ধারাবাহিকভাবে মহান প্রেসিডেন্ট হো চি মিনের চিন্তা, নৈতিকতা ও জীবনশৈলিকে অধ্যয়ন ও অনুসরণ করেছেন । তিনি পার্টির নেতৃত্বে বিপ্লবের জন্য, দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য নিজের সমস্ত জীবনই উৎসর্গ করেছেন। গত পঞ্চান্ন বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি বিপ্লবী অনুশীলনের মাধ্যমে পরীক্ষিত হয়ে উঠে এসেছেন। সুস্পষ্ট ভবিষ্যৎদৃষ্টি এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত তীক্ষ্ম চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কমরেড নগুয়েন ফু ত্রঙ এবং পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি মার্কসবাদ–লেনিনবাদ ও হো চি মিনের মতাদর্শকে সৃজনশীলভাবে প্রয়োগ করেছেন এবং তাকে আরও উন্নত করেছেন।  এবং ধারাবাহিকভাবে গড়ে তুলেছেন একটা খাদহীন শক্তিশালী পার্টি। গড়ে তুলেছেন জনগণের সমাজতান্ত্রিক আইনের শাসনের রাষ্ট্র এবং সেই রাষ্ট্র গড়ে তোলা হয়েছে জনগণের দ্বারা ও জনগণের জন্য। একই সঙ্গে সংস্কার কর্মসূচি সফলভাবে কার্যকর করার প্রক্রিয়ায় আরও নতুন নতুন উপাদান যোগ করেছেন, কর্মসূচিকে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন এবং তাতে নানা ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন। এভাবে আমাদের দেশকে ফু ত্রঙ এবং পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি ‘‌এমন সৌভাগ্য, শক্তি, খ্যাতি এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সঙ্গে গড়ে তুলেছেন যা আমদের দেশ আগে কখনও দেখেনি।’‌

পার্টির কর্মকাণ্ড ও পার্টি গঠন ছিল তাঁর বিপ্লবী জীবনের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিক। পার্টিগঠনে হো চি মিনের মতাদর্শের সৃষ্টিশীল প্রয়োগের মাধ্যমে কমরেড নগুয়েন ফু ত্রঙ আমাদের পার্টির চরিত্র কী হবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। নির্দিষ্ট করেছিলেন জাতীয় পুনর্নবীকরণে পার্টির ভূমিকা। ভিয়েতনামে সংস্কার কর্মসূচি প্রণয়নে শাসক দলকে কীভাবে গড়ে তুলতে হবে, তাও স্পষ্ট করেছিলেন তিনি।  পরে, তিনি এবং কেন্দ্রীয় কমিটি পার্টি গঠন এবং পার্টির শুদ্ধিকরণ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন এবং এবিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলি সফলভাবে প্রয়োগের নির্দেশও দিয়েছিলেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে ও নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে পার্টির মধ্যে থাকা ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদ ও নৈতিক অবনমনের বিরুদ্ধে, দুর্নীতি সহ আরও নানাবিধ নেতিবাচক প্রবণতার বিরুদ্ধে লড়াই করেন। এরই পাশাপাশি তিনি সংহত করে তোলেন বিপ্লবী মূল্যবোধ, কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার ক্ষমতা এবং বৌদ্ধিক  স্তরকে আরও উন্নত করার প্রয়াস । পার্টি যাতে পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করতে পারে, ভালো ঐতিহ্যগুলোকে অব্যাহত রাখে এবং  এবং জনগণের সাথে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনে জোর দেয়, সেইসব বিষয়েও ক্রমাগত উন্নতি করার উপর জোর দেন তিনি।  

সাধারণ সম্পাদক কমরেড নগুয়েন ফু ত্রঙের নেতৃত্বে আমাদের পার্টির নেতৃবৃন্দ কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার ক্ষমতা এবং নেতৃত্বের প্রজ্ঞার পরিচয় দিেয়ছেন। এবং সংস্কার কর্মসূিচতে বিরাট সাফল্য অর্জনে সমগ্র পার্টি, জনগণ ও সমগ্র সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন বিরোধী শক্তির সব অন্তর্ঘাতকে ব্যর্থ করে দিতে এবং সত্যিকারের একটি ‌‘‌নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও আধুনিক’‌ সমাজ গড়ে তোলার কাজে। 

জাতীয় পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কমরেড নগুয়েন ফু ত্রঙ জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা এবং তাঁদেরই স্বার্থে সমাজতান্ত্রিক আইনের শাসনের রাষ্ট্র গড়ে তোলার কাজে সর্বদা মনোনিবেশ করেছেন ।  নতুন যুগে ভিয়েতনামী সমাজতান্ত্রিক আইনের শাসনের রাষ্ট্র কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে গড়ে তোলার জন্য, এবং সেই রাষ্ট্রকে আরও উন্নত করে তোলার জন্য ফু ত্রঙের নেতৃত্বে আমাদের পার্টি প্রথম বারের মত একগুচ্ছ প্রস্তাব পেশ করেছিল। এই প্রস্তাবের লক্ষ্য ছিল, পরিপূর্ণ আইনি কাঠামোকে কঠোর ভাবে বলবৎ করা, সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, এবং মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকারকে কার্যকর ভাবে রক্ষা করার কাজটিকে নিশ্চিত করা। লক্ষ্য ছিল, রাষ্ট্রশক্তিকে একতাবদ্ধ করা, স্পষ্টভাবে প্রতিটি কাজ ভাগ করে দেওয়া এবং সবকিছু কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। উদ্দেশ্য ছিল, পেশাদারি দক্ষতাসম্পন্ন একটা কাঠামো গড়ে তোলা যেখানে আইনের শাসন, আধুনিক প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে। লক্ষ্য ছিল, যাতে রাষ্ট্রের পরিকাঠামো মাথাভারী না হয়ে বরং নির্মেদ হয়, নিখাদ হয় এবং দক্ষতার সঙ্গে ও কার্যকর ভাবে কাজ করে যেতে পারে। লক্ষ্য ছিল, যথেষ্ট গুণমানসম্পন্ন, দক্ষতাসম্পন্ন, সত্যিকারের পেশাদারি যোগ্যতাসম্পন্ন এবং নিজেদের কর্তব্যের প্রতি সংহত এমন ক্যাডার,  আমলা ও সরকারি কর্মচারীদের একটা বাহিনী গড়ে তোলা।  লক্ষ্য ছিল, যাতে আধুনিক ও কার্যকর‌ জাতীয় শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, যাতে দেশের দ্রুত ও স্থায়ী উন্নয়নের প্রয়োজনীতার লক্ষ্য পূরণ করা যায় এবং যার ফলশ্রুতিতে ২০৪৫ সালের মধ্যে উন্নত এবং উচ্চ আয়সম্পন্ন সমাজতন্ত্র-অভিমুখী একটি দেশ হিসাবে ভিয়েতনামকে গড়ে তোলা যায়। 

হো চি মিনের মতাদর্শ অনুধাবন করে, সমাজে সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অবস্থানের গুরুত্ব খেয়াল করেছিলেন কমরেড নগুয়েন ফু ত্রঙ। বলেছিলেন, ‘‌সংস্কৃতি'ই জাতির নির্যাস’‌ এবং  ‘‌সংস্কৃতি যতক্ষণ টিকে থাকে, জাতিও ততক্ষণই টিকে থাকে’। পার্টির সাংস্কৃতিক ফ্রন্টের নেতা হিসেবে তিনি উন্নত সাংস্কৃতিক গুণমানসম্পন্ন জাতীয় পরিচিতি নির্মাণে ব্রতী ছিলেন এবং  তিনি মনে করতেন সেই পরিচিতিই জাতির শক্তিশালী মানসিক ভিত্তি হিসাবে সমাজের গভীরে কার্যকর থাকবে ও জাতীয় উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। কমরেড নগুয়েন ফু ত্রঙের নেতৃত্বে পার্টির ত্রয়োদশ কংগ্রেসের নথিপত্র পরিপূর্ণ ও গভীরভাবে সাংস্কৃতিক বিষয়াদি উল্লেখ করেছিল। সত্তর বছর পরে সংস্কৃতি বিষয়ক জাতীয় সম্মেলন একটি বিশেষ মাইলফলক স্থাপন করে, যার ফলে পার্টির যাবতীয় মতাদর্শ ও কার্যক্রমের সাথে জনগণ ও সৈন্যবাহিনী সংযুক্ত করে এবং জাতীয় পুনর্নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সংস্কৃতির ভূমিকা ব্যাখ্যা করে এবং সমৃদ্ধ ও সুখী দেশ গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছিল। 

গভীর রাজনৈতিক অন্তর্দৃষ্টি ও স্ট্রাটেজিক চিন্তাশক্তির সঙ্গে, নগুয়েন ফু ত্রঙ ও কেন্দ্রীয় কমিটি, ভিয়েতনামের বিদেশনীতি প্রণয়ন করেন, বাস্তবিক অভিজ্ঞতার সারসংক্ষেপ করে শৈল্পিক দক্ষতায় নির্মাণ করেন ব্যাম্বু ডিপ্লোম্যাসি। এই পদ্ধতিতে ভিয়েতনামী বাঁশের বিশিষ্ট চরিত্র যুক্ত ভিয়েতনামী কূটনীতির জন্ম ও বিকাশ ঘটেছিল। পার্টির নেতৃত্বে কমরেড নগুয়েন ফু ত্রঙ ব্যাম্বু ডিপ্লোম্যাসির পরিচিতি প্রসারে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভিয়েতনামের সহায়ক শক্তিগুলোর সাথে সম্পর্কের ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ গুণগত পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল। মর্যাদাসম্পন্ন ও বিশ্বাসযোগ্য, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক স্তরে ভিয়েতনামের ভাবমূর্তি এতটা উজ্জ্বল আগে কখনও ছিল না। ভিয়েতনাম এর আগে কখনই বিশ্ব অর্থনীতিতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এবং মানবসভ্যতার নিরিখে এতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেনি।‌

প্রেসিডেন্ট, জাতীয় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিভাগের চেয়ারম্যান, ভিয়েতনামের পিপলস্ আর্মির কমাণ্ডার ইন চিফ হিসাবে, কমরেড নগুয়েন ফু ত্রঙ সবসময় সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন সেনাবাহিনী এবং জনগণের সুরক্ষার প্রতি, দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন শক্তিশালী সেনাবাহিনী ও জনগণের সুরক্ষাপ্রদানকারী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করবার উদ্দেশ্যে। প্রায়শই তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে গভীরতা অর্জন করা, পড়াশুনা করা আর প্রেসিডেন্ট হো চি মিনের মতাদর্শ,  নৈতিকতা ও জীবনযাত্রা অনুসরণ করবার কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন। তিনি জোর দিতেন একথার উপর: সম্মান রক্ষাই সবচেয়ে পবিত্র এবং মহান ব্যাপার, আর উৎসাহিত করতেন সমস্ত হৃদয় দিয়ে দেশ ও জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন করবার জন্য। বলতেন, কর্মরত জনগণের উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে, সত্যি সত্যি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ হতে, মানুষকে সম্মান করতে, আর তাঁদের ভালবাসতে উদ্বুদ্ধ করতেন। জনগণের সাথে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখে তাঁদের স্বার্থ রক্ষা করতে বলতেন, যাতে জনগণের বিশ্বাস ও সমর্থন অর্জন করা চলে। পার্টি নেতৃত্ব হিসাবে কমরেড নগুয়েন ফু ত্রঙ সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন ভিয়েতনামে একটি উচ্চ গুণমানসম্পন্ন, মেদহীন, শক্তিশালী, সত্যি সত্যি নিষ্কলুষ একটি সৈন্যবাহিনী তৈরি হয়, যাঁরা এখন নতুন পরিস্থিতির চাহিদা পূরণ করে ফলাফল এনে দিচ্ছেন। জনগণের সুরক্ষা বিভাগ এবং সৈন্যবাহিনী ঐক্যবদ্ধ থাকছে, একসাথে কাজ করছে, তলোয়ার আর ঢালের মতো, পাখির দুটো ডানার মতো, একযোগে জাতীয় উন্নতির স্বার্থে তাঁরা রক্ষা করছেন শান্তি আর স্থিতিশীলতা।

কমরেড নগুয়েন ফু ত্রঙের সমস্ত চিন্তার একেবারে প্রাণকেন্দ্রে ছিলেন জনগণ এবং স্বভাবতই রয়েছে পিছুটানহীনভাবে তাঁদের প্রতি দায়বদ্ধতার সংকল্প। সেইসঙ্গে, মানুষ তৈরি করা, জনগণকে বিষয়ী হিসাবে গ্রহণ করা থেকেছে পুনর্নবীকরণের প্রক্রিয়ার কেন্দ্রস্থলে।‌ পার্টি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‌আমাদের পার্টিকে অবশ্যই জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার সর্বোচ্চ বোধ অর্জন করতে হবে। জনগণের বস্তুগত এবং আত্মিক জীবনের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে। পার্টির যে সমস্ত নীতি জনগণ, দেশ এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করে না, এবং ঐতিহাসিক বিবর্তনের নিয়মাবলীর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, সেগুলো ভুল নীতি। জনগণের সাথে নিবিড় যোগাযোগ হল অস্তিত্বের নিয়ম, সেটিই পার্টির সিদ্ধান্ত গ্রহণের শক্তি, উন্নতি ও পার্টির কার্যক্রমের সাথে যুক্ত। সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আইনের শাসন এবং পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের আইনের শাসনের পার্থক্যগুলো বিশ্লেষণ করে তিনি স্পষ্টতই বলেছেন: সমাজতান্ত্রিক আইনের শাসনের রাষ্ট্র আর পুঁজিবাদী আইনের শাসনের রাষ্ট্র চরিত্রে আলাদা। পুঁজিবাদী শাসনের আইন আসলে বুর্জোয়া স্বার্থ রক্ষা করবার একটা যন্ত্র। আর সমাজতান্ত্রিক সমাজে আইনের শাসন সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রভুত্ব ও স্বার্থ রক্ষার অভিব্যক্তি প্রকাশ এবং অনুশীলন করে।‌

সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতি সম্পর্কে তিনি মনে করতেন, ভিয়েতনামের বাজার অর্থনীতির সমাজতান্ত্রিক অভিমুখ হল এই যে, অবশ্যই অর্থনৈতিক নীতি সমূহকে নিশ্চিত ভাবে সামাজিক নীতির সাথে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সমস্ত উন্নয়ন প্রক্রিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপেই অর্থনৈতিক উন্নতি এবং সামাজিক প্রগতি ও সমানাধিকার সমান্তরালভাবে হতে হবে। প্রতিটি অর্থনৈতিক নীতি সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচালিত হওয়ার লক্ষ্য বজায় রাখতে হবে। উৎসাহিত করতে হবে ক্ষুধা দূরীকরণ ও দারিদ্র হ্রাসে। যারা মেধাভিত্তিক পরিষেবায় রয়েছেন এবং যারা কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছেন,  তাঁদের সকলের খেয়াল রাখতে হবে।

কমরেড নগুয়েন ফু ত্রঙের নেতৃত্বে আমাদের পার্টি আর্থসামাজিক উন্নয়নের নীতি গ্রহণ করেছে। দেশের অভ্যন্তরে ছয়টি অর্থনৈতিক এলাকায় জাতীয় সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে ২০৩০ পর্যন্ত, দৃষ্টি রাখতে হবে ২০৪৫ সাল অবধি। পার্টি গঠনের ১০০ বছর এবং গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসাবে ভিয়েতনামের ১০০ বছরের লক্ষ্য অনুধাবন করে উদ্দেশ্য স্থির রাখতে হবে, দিক নির্ণয় করতে হবে এবং ফলাফলে উপনীত হতে হবে।‌ একুশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে আমাদের দেশ একটি উন্নত দেশে পরিণত হবে, আমাদের দেশকে পাঁচটি মহাদেশের শক্তিশালীদের সমকক্ষ হিসেবে দেখার যে ইচ্ছে প্রেসিডেন্ট হো চি মিনের ছিল তা পূরণ হবে।

আমাদের পার্টি ও দেশের বিপ্লবী উদ্দেশ্যের প্রতি, সমস্ত জীবন ধরে পার্টির সাধারণ সম্পাদক নগুয়েন ফু ত্রঙ নিজেকে ইস্পাত কঠিন দৃঢ় ইচ্ছা শক্তির অনুষঙ্গে নিবেদন করেছেন। তিনি বাধা এবং অসুবিধার সম্মুখীন হয়ে পিছিয়ে আসেননি। তিনি ছিলেন এক বিশেষ ব্যক্তিত্বের ধারক যিনি সম্মানকে মনে করতেন সবচেয়ে পবিত্র এবং মহান ব্যাপার, তিনি উর্ধ্বে তুলে ধরেছেন মতাদর্শ, সমস্ত জীবন নিবেদন করেছেন দেশ এবং জনগণের প্রতি। তিনি ছিলেন খাদহীন বিপ্লবী মূল্যবোধের এক বিশেষ উদাহরণ। তাঁর স্বকীয়তা ছিল স্বচ্ছ। পক্ষপাতহীন দৃষ্টিভঙ্গিতে, অনাড়ম্বর জীবনে, গণতান্ত্রিক চেতনায়, বিজ্ঞানচেতনাসম্পন্ন কর্মদক্ষতায়, আর জনগণের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসায় তিনি উচ্চ সম্মান পেয়েছেন, বিশ্বাস অর্জন করেছেন। তাঁকে ভালোবাসতেন পার্টি সদস্যরা, কর্মকর্তারা এবং আপামর জনসাধারণ, তাঁর প্রশংসা করতেন আন্তর্জাতিক বন্ধুরাও।‌

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি পার্টির নেতৃত্বে আমরা ঋজুতার সঙ্গে মার্কসবাদ লেনিনবাদ, হো চি মিনের মতাদর্শ এবং পার্টির পুনর্নবীকরণের প্রক্রিয়া প্রয়োগ করব এবং তাকে আরও উন্নত করব।  আমরা স্বাধীনতা, সমাজতন্ত্র আর পার্টি গঠনের নীতিগুলো বজায় রাখব। সমস্ত পার্টি, জনগণ, এবং সেনাবাহিনী এক এবং ঐক্যবদ্ধ থাকবে, তাঁরা সুযোগ গ্রহণে ও চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় যুক্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন। গঠন করবেন প্রকৃত অর্থে নিষ্কলুষ, সবদিক থেকে শক্তিশালী পার্টি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা, দ্রুততার সাথে ব্যবস্থা নেবেন দেশের দীর্ঘস্থায়ী উন্নতির জন্য এবং রক্ষা করবেন পিতৃভূমিকে। ফলশ্রুতিতে, ২০৩০ সালে যখন পার্টির ১০০ বছর পালিত হবে, তখন ভিয়েতনাম পরিণত হবে আধুনিক কারখানা যুক্ত একটি মধ্য-উচ্চ আয়সম্পন্ন উন্নয়নশীল দেশে। এর মাধ্যমে, ২০৪৫ সালে যখন দেশের ১০০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন হবে, সেই সময়ের মধ্যে একটি উন্নত উচ্চ আয়সম্পন্ন সমাজতান্ত্রিক দেশ গঠনের  শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হবে।


তো লাম সমাজতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্রী ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট এবং পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য

ভাষান্তর: নবারুণ চক্রবর্তী


প্রকাশের তারিখ: ৩০-জুলাই-২০২৪

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org