শ্রমের বিস্তৃত পরিসর ও শ্রেণির নির্মান

সাত্যকি রায়
মার্কস এর মতে, যে শ্রমকে পুঁজি নিয়োগ করছে উদ্বৃত্ত মূল্য সৃষ্টির কাজে এবং তা যদি উদ্বৃত্ত মূল্য সৃষ্টি করতে পারে তবে পুঁজিবাদের চোখে সেটাই উৎপাদনশীল শ্রম। আর যে সব পরিষেবা মূলত অর্জিত আয় থেকে খরচ করে কেনা হয় সে সবই অনুৎপাদনশীল শ্রম। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে যে রেস্তোরাঁর মালিক যখন শেফ নিয়োগ করে তার উদ্দেশ্য তাকে দিয়ে রান্না করিয়ে নিজে খাওয়া নয়, বরং তার বিশেষ দক্ষতার শ্রমশক্তি ক্রয় করে তাকে দিয়ে খাবার বানিয়ে বিক্রি করে লাভ করা। এই কারিগর পুঁজির চোখে উৎপাদনশীল শ্রম করছে। আবার এই রাঁধুনিকেই কেউ বাড়িতে নিয়োগ করলেন ভালো ভালো রান্না করে খাওয়ানোর জন্য এবং নিজের আয় থেকে মাইনে দিলেন তখন ওই একই রাঁধুনির শ্রমকে  অনুৎপাদনশীল ধরা হবে।

বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে শ্রমজীবী মানুষের প্রতিরোধ সংঘর্ষের ছবিগুলি বেশ কিছুটা বদলে যাচ্ছেপ্রথাগত কারখানার শ্রমিকদের অথবা খনি শ্রমিকদের লড়াইয়ের পাশাপাশি সামনে উঠে আসছে আশা কর্মীদের সংগ্রাম, বিভিন্ন ধরণের ডিজিটাল কর্মীদের সংগঠিত প্রতিরোধ, গিগ শ্রমিকদের সংগঠন গড়ে ওঠা ইত্যাদিএই পরিবর্তন আমাদের দেশের কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য নয় বরং সারা পৃথিবী জুড়েই শ্রমের পরিসর প্রতিরোধের নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছেএই ছবিটির পরিবর্তনের সাপেক্ষে দু ধরণের পরস্পর বিরোধী প্রতিক্রিয়া রেডিক্যাল পলিটিক্স এর আলোচনায় উঠে এসেছে যার নানা রকমের রূপ আমাদের দেশেও খেয়াল করলে দেখা যাবে: এক,কারখানার শ্রমিকদের বৃহত্তর পরিবর্তনের লড়াইয়ে ভূমিকা কমে আসছেদুই, প্রথাগত শ্রমিকদের বাইরে যে প্রতিরোধ গড়ে উঠছে তা আর যাই হোক শ্রমজীবীদের লড়াইয়ের কেন্দ্রে থাকতে পারে নাএই ধারণার প্রধান প্রতিপাদ্য বিষয়টি হল কারখানার উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকরাই সর্বহারার একমাত্র রূপ এবং বাকি শ্রমজীবী জনতা সমাজ পরিবর্তনের লড়াইয়ে তুলনামূলক ভাবে কম গুরুত্বপূর্ণএই মতামতটি অনেকে এরকম একটি বোঝাপড়া থেকে উপস্থিত করে থাকে যে মূল্য সৃষ্টি উদবৃত্ত মূল্য আত্মসাত করার কাজ মূলত কারখানা ভিত্তিক উৎপাদন ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে ফলে শ্রেণি-সংঘাতের প্রধান ক্ষেত্র এইটি

অর্থনীতির তাত্ত্বিক আলোচনায় উৎপাদনশীল এবং অনুৎপাদনশীল শ্রমের ধারণাটি নানা ভাবে নানা তত্ত্বে উপস্থিত হয়েছেপ্রাক পুঁজিবাদী চর্চায় কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতিতে কৃষি উৎপাদনের কাজকেই কেবলমাত্র উৎপাদনশীল বলে মনে করা হত তার কারণ উৎপাদনকে তখনও মূলত পরিমান বৃদ্ধি হিসেবেই ভাবা হতপাঁচ কিলো বীজ থেকে ধরা যাক পাঁচ মন ধান তৈরী হল অর্থাৎ পরিমান বৃদ্ধি হলশিল্প উৎপাদন শুরু হওয়ার পর মানুষের উৎপাদনের ধারণা বদলাতে শুরু করলউৎপাদন মানে শুধু পরিমানের পরিবর্তন নয়, উৎপাদনের উপকরণকে সম্পূর্ণ রূপান্তরিত করাও উৎপাদন হিসেবে দেখা শুরু হলধ্রুপদী অর্থনীতিতে মূল্যের ধারণার উদ্ভবের পরিপ্রেক্ষিত এই প্রাথমিক উপলব্ধিআধুনিক অর্থনীতির জনক অ্যাডাম স্মিথ উৎপাদনশীল অনুৎপাদনশীল শ্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেনতাঁর ধারণা মোটামুটি সহজ করে বললে এরকম: যে ধরণের কাজ জিনিসের পরিমান বা গুণের পরিবর্তন ঘটায় তাই উৎপাদনশীল শ্রম এবং পরিষেবা মূলত অনুৎপাদনশীল শ্রম কারণ তা জিনিসের গুণ বা পরিমান কোনোটারই পরিবর্তন করছে নাধরুন চুল কাটা, ঘর পরিষ্কার করা, খাবার পরিবেশন করা অথবা কাউকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পৌঁছে দেওয়া, গান গাওয়া অথবা কোনো জিনিস বিক্রি করা এসব কোনো কিছুই কোনো জিনিসের গুণ বা পরিমানের কোনো পরিবর্তন ঘটাচ্ছে না, অতএব সাধারণভাবে এগুলিকে অনুৎপাদনশীল শ্রম বলেই ধরা হতবিশেষত এই ধরণের শ্রমকে মূলত সামন্ততান্ত্রিক সমাজ সম্পর্কের অনুৎপাদনশীল বিলাসিতার সঙ্গে তুলনীয় বলে মনে করা হত

মার্কস উৎপাদনশীল শ্রমকে ব্যাখ্যা করেছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাবেমার্কস এর চিন্তায় পণ্য একটি সামাজিক সম্পর্ককে তুলে ধরে যার সঙ্গে পণ্যের ফিজিক্যাল চেহারার কোনো সম্পর্ক নেইঅর্থাৎ কোনো কিছু বিক্রি করার জন্যে তৈরি করা হলে,তাই পণ্য তা সে জুতো হতে পারে বইও হতে পারে আবার কোনো মিউজিক ভিডিও হতে পারে অথবা একঘন্টার অনলাইন প্রশিক্ষণও হতে পারেশুধু তাই নয় ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে উৎপাদিত একই জিনিস পণ্য হতেও পারে, আবার নাও হতে পারেবাড়ির গাছের আম আমি খাওয়ার জন্য উৎপাদন করলাম সেটা পণ্য নয় আবার সেই আম উৎপাদন করছি মূলত বিক্রির উদ্দেশ্যে তখন একই আম পণ্য  হিসেবে বিবেচিত হবেএর মানে পণ্য সম্পর্কটি মার্ক্সীয় চিন্তায় একটি সামাজিক সম্পর্ক এবং তা জিনিস বা পরিষেবা যে কোনো কিছুই হতে পারেঠিক একইভাবে মার্কস উৎপাদনশীল অনুৎপাদনশীল শ্রমের প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ক্যাপিটাল -এর প্রথম খন্ডে এবং আরও বিস্তারিত ভাবে তাঁর থিওরিস অফ সারপ্লাস ভ্যালু’ প্রথম খন্ডেমার্কস এর মতে, যে শ্রমকে পুঁজি নিয়োগ করছে উদ্বৃত্ত মূল্য সৃষ্টির কাজে এবং তা যদি উদ্বৃত্ত মূল্য সৃষ্টি করতে পারে তবে পুঁজিবাদের চোখে সেটাই উৎপাদনশীল শ্রমআর যে সব পরিষেবা মূলত অর্জিত আয় থেকে খরচ করে কেনা হয় সে সবই অনুৎপাদনশীল শ্রমউদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে যে রেস্তোরাঁর মালিক যখন শেফ নিয়োগ করে তার উদ্দেশ্য তাকে দিয়ে রান্না করিয়ে নিজে খাওয়া নয়, বরং তার বিশেষ দক্ষতার শ্রমশক্তি ক্রয় করে তাকে দিয়ে খাবার বানিয়ে বিক্রি করে লাভ করাএই কারিগর পুঁজির চোখে উৎপাদনশীল শ্রম করছেআবার এই রাঁধুনিকেই কেউ বাড়িতে নিয়োগ করলেন ভালো ভালো রান্না করে খাওয়ানোর জন্য এবং নিজের আয় থেকে মাইনে দিলেন তখন ওই একই রাঁধুনির শ্রমকে  অনুৎপাদনশীল ধরা হবেঅর্থাৎ যে কাজ পুঁজি সম্পর্কের অধীন এবং মুনাফা তৈরির কাজে নিযুক্ত সেই সব শ্রমই পুঁজির চোখে উৎপাদনশীলএক্ষেত্রে উৎপাদিত পণ্যটি কোনো জিনিস না পরিষেবা তাতে কিছু যায় আসে না প্রসঙ্গে মনে রাখা দরকার যে মার্কস এর উৎপাদনশীল অনুৎপাদনশীল শ্রমের আলোচনার সঙ্গে প্রয়োজনীয় না অপ্রয়োজনীয় এই বিচারের কোনো সম্পর্ক নেইকোনো অনুৎপাদনশীল শ্রম প্রয়োজনীয় হতে পারেযেমন কেউ যদি কোনো অসুস্থ রোগীর দেখভাল করার জন্যে বাড়িতে কোনো সেবক বা সেবিকা নিয়োগ করেনএই শ্রম নিয়োগ বাড়ির লোকের কাছে অনুৎপাদনশীল শ্রম কিন্তু অত্যন্ত প্রয়োজনীয় শ্রমআবার এই ধরণের পরিষেবার যোগান দেওয়ার জন্য যদি কেউ পুঁজি বিনিয়োগ করে থাকে তার কাছে উক্ত সেবক বা সেবিকাকে নিয়োগ করার উদ্দেশ্য তার পরিষেবা প্রদানকারী শ্রম ব্যবহার করা নয় কারণ তার কাছে এই সেবা অপ্রয়োজনীয়কিন্তু তার কাছে এই শ্রম মুনাফা উৎপাদনকারী উৎপাদনশীল শ্রম

সুতরাং প্রথমত, পুঁজি-শ্রমের লড়াইয়ের ক্ষেত্রটি শুধুমাত্র কারখানার শ্রমিক মালিকের সংঘাতের মধ্যে দিয়ে প্রতিভাত হতে হবে এর কোন মানে নেইএকথা ঠিক যে বিংশ শতাব্দীতে এটাই শ্রেণি সংঘাতের প্রধান ক্ষেত্র ছিল কারণ উৎপাদন মূলত কারখানা ভিত্তিক সংগঠিত হতআজকে আমাদের মত দেশেও উৎপাদনের চেহারা বদলে যাচ্ছেতথ্য-প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে যোগাযোগের খরচ অনেক কম হয়ে এসেছেএর সুযোগ নিয়ে পুঁজিবাদও উৎপাদন সংগঠন বদলে ফেলেছেউৎপাদন খণ্ডিত হচ্ছেআউটসোর্সিং, সাব-কন্ট্রাকটিং বাড়ছে পৃথিবী জুড়েবহুজাতিক কোম্পানির ভ্যালু চেনের শেষ অংকে হয়তো কেউ বাড়ি বসে কোনো কাজ করছেউৎপাদন আজ কারখানার সীমানা ছাড়িয়ে গোটা সমাজব্যাপী বিস্তৃত হচ্ছেদ্বিতীয়ত,পরিষেবার যে সমস্ত ক্ষেত্রগুলি অতীতে সরকারের বা কোনো যৌথ মালিকানার অধীন ছিল সেগুলিকে বেসরকারি মালিকানায় নিয়ে এসে মুনাফা সৃষ্টির নতুন ক্ষেত্রে রূপান্তরিত করা হচ্ছেশিক্ষা, স্বাস্থ্য, যানবাহন, কেয়ার এই সব ক্ষেত্রে নিযুক্ত শ্রমিকদের বড় অংশই আজ মুনাফা উৎপাদনকারী উৎপাদনশীল শ্রমফলে এই ক্ষেত্রগুলো ক্রমাগত শ্রেণি সংঘাতের নতুন আঙিনায় রূপান্তরিত হচ্ছেতৃতীয়ত,আজকের উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে সর্বক্ষেত্রে দুটি বিষয় সংযোজিত হচ্ছে: একটি তথ্যের কনটেন্ট এবং অপরটি কালচারাল কনটেন্টজিনিস মানে আজকের দিনে শুধু একটা ব্যবহারের বস্তু নয়তার সাথে প্যাকেজিং, প্রেসেন্টেশন, ইমেজ তৈরি এইসব অ্যাডিশনাল কনটেন্ট যুক্তএবং এই কাজের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক যুক্তযারা পণ্যের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য কালচারাল কনটেন্টের যোগান দিচ্ছে এবং তার সঙ্গে প্রতিনিয়ত বাজারের পছন্দের পরিবর্তন মূল্যায়ন করে চলেছেপরিবর্তিত পছন্দ প্রবণতা সম্পর্কে তারা উৎপাদককেও অবগত করে চলেছেএই ডিজিটাল শ্রমের উপরের দিকে যেমন সৃষ্টিশীল নানাধরণের শ্রম যুক্ত সেরকম নিচের দিকে সেই সব অসংখ্য শ্রমিক যুক্ত যারা মূলত সহজে প্রতিস্থাপন যোগ্য শ্রম বিক্রি করে থাকেএরাই আধুনিক পরিষেবা ক্ষেত্রের প্রলিটারিয়েটএই সব নিয়েই আজকের পৃথিবীর বিস্তৃত শ্রমের পরিসরএবং সে কারণেই এই সব অংশেই শ্রম পুঁজির সংঘাত অনিবার্য

আসলে নয়া উদারবাদের জমানায় গোটা সমাজটাই একটি কারখানায় রূপান্তরিত হয়েছে যার শোষণ মুনাফা সৃষ্টির পরিসর তাই কারখানার চার দেওয়ালে আর সীমাবদ্ধ থাকতে  পারে নাএই পরিপ্রেক্ষিতে শ্রেণির নির্মাণ সংঘাতের ক্ষেত্রও বহু বিস্তৃতশ্রেণির নির্মাণ কোনো পূর্বনির্ধারিত প্রক্রিয়া নয় বরং তা শোষণ নিপীড়নের সম অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠেপুঁজির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে শ্রমজীবী  মানুষ তার শত্রু-মিত্র চিনতে শেখে এবং সেই লড়াই যেমন  নিজ নিজ ক্ষেত্রে শ্রম পুঁজি সম্পর্কের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী গড়ে ওঠে সেরকম একইভাবে তা শ্রমজীবীদের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলেএই নির্মাণে শ্রমজীবীদের কোন অংশ কোন লড়াইয়ে কতটা এগিয়ে বা পিছিয়ে থাকবে তা পূর্বনির্ধারিত নয়ই. পি. থম্পসন তাঁর বিখ্যাত দা মেকিং অফ দা ইংলিশ ওয়ার্কিং ক্লা বইটিতে ব্রিটেনে শ্রমিক শ্রেণির গড়ে ওঠার বিস্তারিত বিবরণ  দেন১৭৯০-এর দশক থেকে, মূলত ফরাসি বিপ্লবের অনুপ্রেরণায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন শ্রমজীবী গোষ্ঠীর মূলত  রেডিকাল পপুলিজম জ্যাকবিন ঘরানার প্রতিরোধগুলি কিভাবে শাসক শ্রেণি খতম করেছিল তার বিবরণ  পাওয়া যায়এই খন্ড-খন্ড প্রতিরোধগুলিকে মেথডিজম এর ধর্মীয় আন্দোলন বা মধ্যবিত্ত পরিচালিত কনস্টিটিউশনালিজমের অভিমুখে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিলকিন্তু ঊনবিংশ শতাব্দীতে শিল্প-বিপ্লব পরবর্তী সময় শ্রমজীবী মানুষ তাদের জীবনে শোষণের সাধারণ অভিজ্ঞতা থেকেই আবার সংঘবদ্ধ হয়ে শ্রেণি পরিচয় গড়ে তোলার দিকে এগিয়ে যায়সেই নির্মাণ প্রক্রিয়ায় কারিগরদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল কারণ সেই সময় তাদের সামাজিক প্রভাব শিল্প শ্রমিকদের তুলনায়  বেশি ছিলশিল্প শ্রমিকদের সংখ্যা সেই সময় কম হলেও  তারা কারখানার চৌহদ্দির মধ্যেও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই  চালিয়ে যায়

আজকের পৃথিবীতেও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রম পুঁজির নির্দিষ্ট সংঘাতগুলির মধ্যে দিয়ে গড়ে উঠছে বৃহত্তর শ্রমজীবী  জনগণের যৌথ শ্রেণিসত্তা যার ব্যাপ্তি আজ শুধু কারখানার চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ নয় বরং গোটা সমাজটাই লড়াইয়ের বিস্তৃত শ্রেণিযুদ্ধের ক্ষেত্রে রূপান্তরিত হচ্ছে


প্রকাশের তারিখ: ০৩-জানুয়ারি-২০২৩

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org