কর্পোরেট সাম্প্রদায়িক আঁতাত: আক্রান্ত ভারতের বুনিয়াদ

সোমনাথ ভট্টাচার্য
ওদের হিন্দুত্ববাদ কখনই ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশ্বাসের হিন্দু ধর্ম নয়। হিন্দুধর্ম প্রাচীন, হিন্দুত্ববাদ নবীন (১৯২৩-এ আত্মপ্রকাশ)। হিন্দুধর্ম মানুষকে ভালবাসতে শেখায়। হিন্দুত্ববাদ ঘৃণা ছড়ায়। হিন্দুধর্ম উদার, হিন্দুত্ববাদ অনুদার। হিন্দুধর্ম হল মানুষের বিশ্বাস। হিন্দুত্ব হল রাজনীতির হাতিয়ার। সেখানে বিশ্বাস পরিণত হয় বিষে। হিন্দুত্ববাদের মর্মবস্তু, “Hinduise Politics and Militarize Hindudom" অর্থাৎ রাজনীতির হিন্দুকরণ এবং হিন্দু সমাজের সামরিকীকরণ। আপনি আমি হিন্দুধর্মের আলোচনায় কোনোদিন এসব কথা শুনেছি নাকি? হিন্দুত্ববাদের ধারণা থেকেই ওরা চায় হিন্দু রাষ্ট্র গড়তে। যে রাষ্ট্র গড়ার জন্য পুড়িয়ে ফেলতে হবে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের সুর বেঁধে দেওয়া আমাদের প্রাণের প্রিয় সংবিধানকে।

অধ্যাপক প্রভাত পট্টনায়ক আমাদের বুঝিয়ে বললেন, “কর্পোরেট–সাম্প্রদায়িকতার আঁতাত সংকটের সেই পর্যায়ে উদ্ভুত হয় যখন পুঁজিবাদের স্বাভাবিক আত্মসমর্থনমূলক আর কোনও পর্যাপ্ত যুক্তি থাকে না, তখন তার হিন্দুত্বের আখ্যানের সাথে যুক্ত হওয়া একটি অনিবার্যতায় পরিণত হয়।”

দেশকে কর্পোরেটদের অবাধ বাণিজ্যের মৃগয়া ক্ষেত্র বানাতে তৎপর বিজেপি, আরএসএস-র সরকার। দেশবাসীর সর্বনাশ করেও ক্ষমতায় টিকে থাকতে ওদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিন্দুত্বের রাজনীতি। আজকের ভারতে মোদি সরকারের নীতিতে আগ্রাসী পুঁজিবাদ অতি দক্ষিণপন্থার হাত ধরে নয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তায় পাড়ি দিয়েছে। বিগত শতাব্দীতে জার্মানিতেও হিটলারের নেতৃত্বে নাৎসিবাদের উত্থানের সময় আমরা দেখেছি লগ্নিপুঁজির দাপাদাপি ও আর্য রক্তের বিশুদ্ধতার নামে ইহুদি নিধন যজ্ঞ। এই শতাব্দীতে নয়া ফ্যাসিবাদের যুগে আমরা দেখছি আন্তর্জাতিক লগ্নিপুঁজির রমরমা। এদেশেও আজ কর্পোরেট পুঁজির লাগামহীন বাড়বাড়ন্ত, ধান্দার ধনতন্ত্র এবং মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা ওদের প্রধান হাতিয়ার। বেপরোয়া লুট চলছে জল, জমি, জঙ্গল, পাহাড়-পর্বত প্রকৃতি। একের পর এক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের বিলগ্নিকরণ। যার পরিণতিতে কর্পোরেটদের পৌষ মাস, আম-জনতার সর্বনাশ।

স্বাধীন ভারতে ১৯৫০ সালে গঠিত হয়েছিল প্ল্যানিং কমিশন। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি দেশের প্রধানমন্ত্রী হবার পর সেই প্ল্যানিং কমিশন তুলে দিয়ে ২০১৫ সালে গঠিত হয় ‘নিতি আয়োগ’। NITI-National Institution for Transforming India। বোঝাই যায় এ নিতি সে নীতি নয়। এর সঙ্গে নীতি-নৈতিকতার কোনও সম্পর্ক নেই। এদের কাজ দেশের সম্পদ বেসরকারীর হাতে তুলে দেওয়া। নবরত্ন মহারত্ন থেকে রাস্তাঘাট, রেল, বিদ্যুৎ, টেলিকমিউনিকেশন, ব্যাঙ্ক, বীমা, কী নয়। প্রতিরক্ষার মত ক্ষেত্রেও বেসরকারী হস্তক্ষেপ সুনিশ্চিত করা হচ্ছে। যা দেশের সুরক্ষার জন্য এক বড় বিপদ। ডি-মনিটাইজেশন (নোট বন্দি) থেকে ন্যাশনাল মনিটাইজেশন পাইপ লাইন মোদি সরকারের কর্পোরেট তোষণ নীতিকেই পরিপুষ্ট করছে।

সম্প্রতি চারটি শ্রমকোড লাগু করার মধ্য দিয়ে শ্রমজীবিদের অধিকার ব্যাপকভাবে খর্ব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় আইন করে শ্রমজীবি মানুষদের উপর নানা ধরণের আগ্রাসী পদক্ষেপ নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য সম্মিলিত ও সংগঠিত পদক্ষেপকে অপরাধ হিসাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই অপরাধের শাস্তি হিসাবে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১১ নং ধারায় বলা হল জামিন অযোগ্য ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১০৬ (১) ও (২) নং ধারায় বলা হল কোনও দুর্ঘটনা হলে তার প্রধান দায় চালককে নিতে হবে। সেখানে কার্যতঃ একজন বাস বা ট্রাক চালকের সারাটা জীবন বরবাদ করে দেবার নিদান দেওয়া হয়েছে। অথচ জনবিশ্বাস আইনে বিধান অনুসারে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই কর্পোরেটদের ১৮০টি অপরাধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এধরণের নানা পদক্ষেপে মধ্য দিয়ে কর্পোরেট এবং মালিকপক্ষকে শ্রম আইন লঙ্ঘন করার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

এই নীতির অনিবার্য পরিণতি দেশীয় সম্পদের বেসরকারীকরণ, রাজনৈতিক দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, স্বৈরাচারী পদক্ষেপ গ্রহণ, বিরোধী কন্ঠ রোধ করা। এ পথেই চলছে দেশ। আক্রান্ত সংবিধান, আক্রান্ত গণতন্ত্র, আক্রান্ত ধর্মনিরপেক্ষতা। আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব।

৩৭০ ধারা বাতিল, জম্মু-কাশ্মীরকে ভেঙ্গে দেওয়া, অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মান, হিন্দু রাষ্ট্রের জিগির তোলা সবই হিন্দুত্ববাদের উগ্র প্রকাশ। তাদের দাবি কাশীর জ্ঞানবাপী মসজিদ, মথুরার শাহি ঈদগাহ, আগ্রার জামা মসজিদ, মধ্যপ্রদেশের কামাল মওলা মসজিদ, তাজমহল, কুতুবমিনার সবই ভাঙতে হবে। সবই নাকি হিন্দু ধর্মস্থান ভেঙে হয়েছে। উন্মাদের প্রলাপ। গো-মূত্র পানের বুদ্ধি বলে কথা! যদিও সকলকে গো-মূত্র পানের উপদেশ দেওয়া রামদেব বাবা যিনি সর্বরোগের ওষুধ জানেন তিনি স্বয়ং নিজের হাঁটু অপারেশন করতে জার্মানীতে যান। যাই হোক এক লাইনে বলে রাখা ভাল, হিন্দুত্ববাদীদের পূর্বোক্ত দাবি ১৯৯১ সালের উপসনাস্থল আইনের (Places of Worship Act) পরিপন্থী।

একইভাবে মন্দির মসজিদ আর হিন্দু মুসলমান নিয়ে রাজনীতিতে মাতোয়ারা মমতা ব্যানার্জী তৃণমূল কংগ্রেস ও রাজ্য সরকার। ওদেরও লক্ষ্য নিজেদের দুর্নীতি, অপশাসন ও অপদার্থতাকে বিভাজনের রাজনীতি দিয়ে আড়াল করা। তাই এরাজ্যে কর্পোরেট–সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে হলে অবশ্যই লড়তে হবে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে।

একটা কথা আমাদের সব সময়ে খেয়াল রাখতে হবে ওদের হিন্দুত্ববাদ কখনই ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশ্বাসের হিন্দু ধর্ম নয়। হিন্দুধর্ম প্রাচীন, হিন্দুত্ববাদ নবীন (১৯২৩-এ আত্মপ্রকাশ)। হিন্দুধর্ম মানুষকে ভালবাসতে শেখায়। হিন্দুত্ববাদ ঘৃণা ছড়ায়। হিন্দুধর্ম উদার, হিন্দুত্ববাদ অনুদার। হিন্দুধর্ম হল মানুষের বিশ্বাস। হিন্দুত্ব হল রাজনীতির হাতিয়ার। সেখানে বিশ্বাস পরিণত হয় বিষে। হিন্দুত্ববাদের মর্মবস্তু, “Hinduise Politics and Militarize Hindudom" অর্থাৎ রাজনীতির হিন্দুকরণ এবং হিন্দু সমাজের সামরিকীকরণ। আপনি আমি হিন্দুধর্মের আলোচনায় কোনোদিন এসব কথা শুনেছি নাকি? হিন্দুত্ববাদের ধারণা থেকেই ওরা চায় হিন্দু রাষ্ট্র পড়তে। যে রাষ্ট্র গড়ার জন্য পুড়িয়ে ফেলতে হবে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের সুর বেঁধে দেওয়া আমাদের প্রাণের প্রিয় সংবিধানকে। কারণ ধর্মনিরপেক্ষতার সংবিধান রেখে হিন্দু রাষ্ট্র গড়া যায় না।

ওদের পরিকল্পনার হিন্দুরাষ্ট্রে মানতে হবে: 

ব্রাহ্মণরা উৎকৃষ্ট, বাকিরা নিকৃষ্ট। এসসি এসটি-রা অতি নিকৃষ্ট। মহিলারা উনমানব অর্থাৎ পুরুষের চেয়ে কম। মুসলমান, খ্রিস্টানদের ভোটের অধিকার থাকবে না। জ্ঞানবিজ্ঞান, ইতিহাস যুক্তিবাদ পেছনের সারিতে চলে যাবে। সামনে দাপিয়ে বেড়াবে কুসংস্কার, অন্ধত্ব, পুরাণ, অসত্য আর অর্ধসত্য। এই না হলে বিজেপি-আরএসএস!

হিন্দুত্ববাদীরা বলে “হিন্দুধর্ম খতরে মে হ্যায়”। কুতুবুদ্দিদন আইবক (১২০৬) থেকে আওরাঙ্গজেব (১৭০৭) পর্যন্ত পাঁচশো বছরের বেশি সময় ইসলামি শাসনে কেউ একথা বলেনি। ১৯০ বছরের ব্রিটিশ শাসনে কেউ একথা বলেনি। আজ কেন বলা হচ্ছে? কারণ এটাই ওদের রাজনীতির হাতিয়ার। মুসলিম মৌলবাদীরাও “ইসলাম খতরে মে হ্যায়” বলে ওদের রাজনীতি করে। মনে রাখতে হবে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বাড়বাড়ন্তের অনিবার্য পরিণতি মুসলিম মৌলবাদের উত্থান। যা আমাদের দেশেও প্রকট হচ্ছে। আমরা এ প্রসঙ্গে দুটি কথা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে চাই। (ক) হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা ও মুসলিম মৌলবাদ দুটোই মানবতার চূড়ান্ত শত্রু। (খ) হিন্দু ধর্মের কোথাও সাম্প্রদায়িকতার কথা বলা নেই, যেমন ইসলামের কোথাও মৌলবাদের কথা বলা নেই। এ দুটোই ধর্ম নিয়ে রাজনীতির কারবারীদের তৈরি করা আখ্যান।

আমরা বলি মোদির শাসনে হিন্দুধর্ম বিপদে নেই, বিপদে আছে ভারতের অধিকাংশ হিন্দু মানুষ। বিজেপি-আর এস এস যখন হিন্দু হিন্দু করে মানুষকে প্রতারিত করার চেষ্টা করে তখন একটা সত্য কথা খুব যত্ন করে এদেশের মানুষকে, বিশেষ করে হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী মানুষকে মনে করিয়ে দেওয়াটা আমাদের অবশ্য কর্তব্য। ভারতের জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ হিন্দু। তাই এদেশের সামগ্রিক কিছু ভালো হলে তার দ্বারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হন হিন্দুরা আর খারাপ হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তও হন হিন্দুরাও। মোদির আমলে উপকৃত হয়েছে বড় বড় কর্পোরেটরা আর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমজনতা। যার অধিকাংশই হিন্দু। এ কথাটা আজ স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন। একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা সহজেই বোঝা যাবে।


গৌতম আদানির সাথে নরেন্দ্র মোদি 

নরেন্দ্র মোদির রাজত্বে দেশে ক্ষুর্ধাত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে পৃথিবীর ১২৫টি দেশের মধ্যে আমাদের স্থান ১১১। প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল সবাই আমাদের থেকে এগিয়ে। আমরা এখন ইথিওপিয়া, অ্যাঙ্গোলা, নাইজেরিয়া, জাম্বিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছি। ভাবলে লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়। দেশের প্রায় ৩৯ কোটি মানুষ দারিদ্রে নিমজ্জিত। তার মধ্যে ৩২ কোটি হিন্দু, ৬ কোটি মুসলমান ও ৫৪ লক্ষ খ্রিস্টান। ঠিক যেমন আসামে এনআরসি-তে ১৯ লক্ষ মানুষ বাদ পড়লেন। যার মধ্যে ১২ লক্ষ হিন্দু। তাই ক্ষুধা, দারিদ্র, বেকারি, অপুষ্টি, শিশু মৃত্যু, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি-এই সব কিছুতেই জর্জরিত দেশ আর দেশের মানুষ। আর সেই মানুষগুলোর অধিকাংশই হিন্দু। ওদের জানিয়ে দিতে হবে লোককে বোকা বানানোর দিন শেষ। তোমাদের মিথ্যার মেকি মুখোশটা ছিঁড়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গেছে সারা দেশ জুড়ে। সে লড়াই প্রতিদিন দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই রাম মন্দির দেখিয়ে ভোট পাওয়ার দিন শেষ।

২২ জানুযারি, ২০২৪ অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধন করা হল। সেই মন্দির দেখিয়ে সারা দেশে বিজেপি হিন্দু মানুষদের কাছে ভোট চাইলো। ডাক দিল। এইবার চারশো পার। যদিও দেশের মানুষ খুব সঠিকভাবেই তাদের সে ডাকে সাড়া দেননি। ২০১৯-এ পাওয়া বিজেপি-র ৩০৩টি আসন ২০২৪-এ কমে হয়েছে ২৪০। মানুষের দেওয়া এই শিক্ষা আমাদের জন্য খুবই মূল্যবান। একই সঙ্গে অযোধ্যার মানুষ ফৈজাবাদ কেন্দ্রে) বিজেপি-কে হারিয়ে দিয়েছে। এভাবেই ভারতবাসীকে শিখিয়ে দিয়েছে অযোধ্যা। লড়াইটা এখন রুটি-রুজির। লড়াইটা কাজ পাওয়ার। লড়াইটা জমির অধিকারের। লড়াইটা আপনার আমার সন্তানের ভবিষ্যতের। তাই সেখানে এক ইঞ্চি জমি আমরা ছাড়ব না। তোমাদের মত দুর্নীতিগ্রস্ত, প্রতারক, দেশদ্রোহী, জনবিরোধীদের বিরুদ্ধে লড়াইকে পাখির চোখ করে এগোচ্ছি আমরা। পথে আরো অনেক ধর্মনিরপেক্ষ দেশপ্রমিক গণতান্ত্রিক বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে পেয়েছি, আরও পাবো। প্রতিদিন চওড়া হচ্ছে সেই লড়াইয়ের মাঠ।

গান্ধী হত্যাকারী উত্তরসূরীরা আজ ক্ষমতায়। গান্ধীজির অবস্থান নিয়ে নানা জনের নানা মত থাকলেও তাঁর সম্প্রীতির মনোভাব ছিল প্রায় প্রশ্নাতীত। স্বাধীনতার পর তিনি বারংবার নেহেরু সরকারকে তাগাদা দিতেন পাকিস্তানের প্রাপ্য ৫৫ কোটি টাকা অবিলম্বে দিয়ে দেবার জন্য। সংসার ভাঙলে যেমন সম্পত্তির ভাগ হয় দেশ বিভাজনের পর পাকিস্তানের ওই টাকাটা প্রাপ্য ছিল। হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক শক্তি যখন কলকাতা, আলিগড় প্রভৃতি জায়গায় দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করছিল তখন তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন গান্ধীজি। একই সঙ্গে ধর্মপ্রাণ হিন্দু গান্ধী রামধুন গাইতে গিয়ে বলতেন, ঈশ্বর আল্লাহ তেরো নাম সবকো সম্মতি দিয়ে ভগবান, রঘুপতি রাঘব রাজা রাম। অর্থাৎ রামের মধ্যে তিনি ঈশ্বরকেও পেতেনে, আল্লাহকেও পেতেন। গান্ধীর এহেন অপরাধ হিন্দু মহাসভা আরএসএস ক্ষমা করতে পারেনি। তাই নাথুরাম গডসের বন্দুকের তিনটে বুলেট স্তদ্ধ করে দিয়েছিল গান্ধীজির বুকের স্পন্দন। এটাই আরএসএস-র নীতি। এটাই বিজেপি-র রাজনীতি।

📲 এখন এক ক্লিকেই মার্কসবাদী পথ আপনার হোয়াটস অ্যাপে

আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে চাই রাজনীতির প্রধান এজেন্ডা কখনই মন্দির মসজিদ হতে পারে না। মানুষের রুটি রুজির সংগ্রাম, জীবন-জীবিকার প্রশ্ন, কাজের সংস্থান, জিনিসপত্রের দাম কমানো, ফসলের ন্যায্য দাম, ক্ষেতমজুরের সঠিক পারিশ্রমিক, শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরী, সামাজিক সুরক্ষা, বিশুদ্ধ পানীয় জল, পরিশ্রুত বাতাস এগুলোই রাজনীতির প্রধান উপজীব্য। সেখান থেকে আমাদের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেবার চক্রান্ত চলছে। একাজে আদা জল খেয়ে নেমেছে কর্পোরেটের পয়সায় চলা মিডিয়া।

গবেষকরা বই লিখে (We the People: Establishing Rights and Deepening Democracy), অঙ্ক কষে হিসেব দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কাজ ও পেনশন নিশ্চিত করা যায়। তাদের প্রেসক্রিপশন: আম্বানী আদানি সহ দেশের সবচেয়ে বড় লোক ১ শতাংশ মানুষ যারা নরেন্দ্র মোদির সরকারের সাহায্যে দেশটাকে লুট করছে তাদের উপর দুই রকম বাড়তি কর বসালেই সেটা সম্ভব। সেই লক্ষ্যকে পাখির চোখ করেই আমাদের এগোতে হবে। ভাঙতে হবে কর্পোরেট–সাম্প্রদায়িক অশুভ আঁতাত। বদলাতে হবে। সেই আঁতাতের নিকৃষ্ট সরকার। গড়তে হবে আম-ভারতবাসীর নিজেদের দেশ।


প্রকাশের তারিখ: ২২-জানুয়ারি-২০২৬

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org