কারো হাতে ছাড়বেন না ধর্মঘটের অধিকার

জ্যোতি বসু
অনেক লড়াই-আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে শ্রমিকশ্রেণি ধর্মঘট করার অধিকার অর্জন করেছে। এই অর্জিত অধিকার আপনারা কখনও কারো হাতে ছেড়ে দেবেন না। এমনকি, ধর্মঘটের অধিকার আপনারা বামফ্রন্ট সরকারের হাতেও তুলে দেবেন না। প্রথমে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই শ্রমিক ও মালিকদের বিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। কিন্তু প্রয়োজন হলে ধর্মঘট করতে হবে।
[২০০৮, রাজ্যে তখন বামফ্রন্ট সরকার। ৬৭-বছর ধরে পলিটিক্যাল অ্যক্টিভিস্ট জ্যোতি বসু চুরানব্বইয়ে। বন্দর ও ডক শ্রমিক থেকে রেলশ্রমিকদের সংগঠিত করার কাজ। ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের দাপুটে নেতা প্রতিবারই থেকেছেন মে দিনের সমাবেশে। সেবার পারেননি। বাধ সেধেছে শরীর। তাই বার্তা পাঠিয়েছেন। শ্রমিক-কর্মচারীদের যে কথা বারবার বলতেন, সেকথাই আরেকবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন: কারো হাতে ছেড়ে দেবেন না ধর্মঘটের অধিকার। এমনকি, ধর্মঘটের অধিকার আপনারা বামফ্রন্ট সরকারের হাতেও তুলে দেবেন না। কাল দেশজোড়া সাধারণ ধর্মঘট। স্তব্ধ হবে দেশ। তাঁর ১১২-তম জন্মদিবসে সেই অমোঘ আহ্বানই হোক আজকের শপথ।


আজ ঐতিহাসিক মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের আন্তর্জাতিক সংহতি দিবস। প্রতি বছরই সিআইটিইউ-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেডারেশনগুলির ডাকা মে দিবসের সমাবেশে আমি উপস্থিত থাকার চেষ্টা করি। আমার খুবই খারাপ লাগছে যে এবারে এই সমাবেশে আমি শারীরিক অসুস্থতার জন্য থাকতে পারছি না। 

আমার বয়স এখন ৯৪ চলছে। গত ৬৭ বছর ধরে আমি রাজনৈতিক কর্মী। রাজনৈতিক জীবনের গোড়া থেকেই আমি শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত আছি। আমার মনে আছে, ১৯৪৩ সালে প্রথমে বন্দর ও ডক শ্রমিকদের মধ্যে আমি কাজ শুরু করি। পরে রেলশ্রমিকদের সংগঠিত করার কাজে নামি। তারপর থেকে বরাবরই শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকেছি। এখনও সিআইটিইউ-র সর্বভারতীয় ও পশ্চিমবঙ্গ কমিটিতে আমি যুক্ত আছি। তাই এই সমাবেশে না-আসতে পেরে খারাপ লাগছে। আর আপনারা যারা এই সমাবেশে ব্যাপক সংখ্যায় উপস্থিত হয়েছেন, তাঁদের সকলকে আমি আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।

যাই হোক, আপনারা আজ যে সমাবেশ করছেন, তার তাৎপর্য বিরাট এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৮৮৬ সালে শিকাগোর হে মার্কেটের ঘটনার পরে কমরেড ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের নেতৃত্বে দ্বিতীয় কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক ১ মে দিনটিকে প্রথম সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসাবে পালন করার আহ্বান জানায়। ১৮৯০ সালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ঘোষণা করে, ‘শুধু ৮ ঘণ্টা কাজের জন্যই মে দিবসের সমাবেশ নয়, সমাজ পরিবর্তনের মাধ্যমে শ্রেণি বৈষম্য ধ্বংস করার জন্য তাকে শ্রমিকশ্রেণির দৃঢ় সংকল্পের সমাবেশে পরিণত করতে হবে।’ মহান মে দিবসের তাৎপর্য আজও তাই শ্রমজীবী মানুষের কাছে অম্লান।

সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের ফলে পৃথিবীর দেশে দেশে শ্রমিক-কর্মচারীদের ওপর এখন ভয়ানক আক্রমণ নেমে আসছে। শ্রমিকদের প্রাপ্য ন্যায্য এবং অর্জিত অধিকারগুলিও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়। এই বিশ্বায়নের নীতি অনুসরণ করে কোনও উন্নয়নশীল দেশের ভালো হয়নি। ধনী দেশগুলির কয়েকটি অতিকায় বহুজাতিক সংস্থা উন্নয়নশীল দেশের বাজার দখল করে নিচ্ছে। যার ফলে দারিদ্র্য, বেকারী, শিল্পে মন্দা, ক্লোজার, লক-আউট, কর্মচ্যূতি বাড়ছে। এমনকি উন্নত দেশগুলিতেও এখন শ্রমিক ছাঁটাই, লে-অফ নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই  কিছুদিন আগেই আমেরিকায় জেনারেল মোটরস্‌ তাদের ৭২ হাজার শ্রমিককে উদ্বৃত্ত ঘোষণা করেছে। এই বিশ্বায়নে গরিব মানুষের কোনও সুবিধা হয়নি। কেবলমাত্র মুষ্টিমেয় ধনীদেরই সম্পদ বাড়ছে। এই নীতির বিরুদ্ধে তাই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মানুষ আন্দোলনে নামছেন। লাতিন আমেরিকায় সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের নীতির বিরুদ্ধে যারা লড়াই করছেন, তাঁদেরই মানুষ বিপুলভাবে নির্বাচিত করছেন। এই ঘটনাপ্রবাহ থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।

আমাদের দেশে কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউপিএ সরকারও আগের বিজেপি জোট সরকারের মতো এই সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের নীতিকেই অন্ধভাবে অনুসরণ করছে। যে সাধারণ ন্যূনতম কর্মসূচী রূপায়ণের শর্তে বামপন্হীরা এই সরকারকে সমর্থন করছে, তা ওরা মানছে না। জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প-সহ তার কয়েকটি রূপায়ণ শুরু হলেও বাকি কাজ করতে ওদের অনীহা দেখা যাচ্ছে। বলা হচ্ছে জি ডি পি বাড়ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ তার কোনও উপকার পাচ্ছেন না। কাজের সুযোগ কমছে, বেকারী বাড়ছে। কৃষিক্ষেত্রে সংকট তীব্র আকার নিয়েছে। কৃষক আত্মহত্যার খবর আসছে। জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া। সরকার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। রেশন-ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে, সরকার উদাসীন। এর ফলে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মানুষ রায় দিয়েছে। কিন্তু তার থেকেও কংগ্রেস শিক্ষা নিচ্ছে না।

শুধু তাই নয়, এই সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ করে শ্রমিক-কর্মচারীদের সামাজিক নিরাপত্তা এবং অর্জিত অধিকারগুলিকে আক্রমণ করা হচ্ছে। ১৯৯০ সাল থেকে এ পর্যন্ত কেন্দ্রে যতগুলি সরকার গঠন করা হয়ছে তার সবগুলির কাছেই বামপন্থীরা বারেবারে দাবি করেছে, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক এবং খেতমজুরদের স্বার্থরক্ষা করার জন্য একটা সার্বিক আইন প্রণয়ন করার জন্য। দেশের শ্রমশক্তির ৯৩ শতাংশই অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করেন। এদের সারা বছর কাজও থাকে না অনেক সময়। কাজের নির্দিষ্ট সময়, প্রভিডেন্ট ফান্ড, চিকিৎসা ভাতা বা অন্য কোনও সামাজিক নিরাপত্তাই এদের নেই। ন্যাশনাল কমিশন ফর এন্টারপ্রাইজেস্‌ ইন আনঅর্গানাইজড সেক্টর এদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পের সুপারিশ করেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এখনও এই সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করছে না। বরং শ্রমিকদের ইতোমধ্যেই অর্জিত অধিকারগুলি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। শ্রম আইনকে শিথিল করে মালিকদের হাতে হায়ার অ্যান্ড ফায়ার-এর অধিকার দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের পিএফ-এর টাকা অনেক মালিক জমা না-দিয়েও পার পেয়ে যাচ্ছেন। এখন আবার কেন্দ্রীয় সরকার আইন পালটে পেনশনের অধিকারটুকুও কেড়ে নিতে চেষ্টা করছে। তবে আমরা, বামপন্থীরা এসব বিষয়ে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে যথাসম্ভব বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

পুঁজিবাদী শোষণের পথকে আরো মসৃণ করার জন্য এখন শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার এবং ধর্মঘট করার অধিকারকেও অস্বীকার করা হচ্ছে। তামিলনাডু সরকার তো ধর্মঘট করার জন্য সরকারী কর্মচারীদের শাস্তি পর্যন্ত দিয়েছিল। আরো দুঃখের কথা, বিচার বিভাগ পর্যন্ত ধর্মঘটের বিরুদ্ধে মত দিয়ে শ্রমিকদের লড়াইয়ের হাতিয়ারকে কেড়ে নেওয়ার কথা বলেছে। আমি রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলাম ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী হিসাবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ধর্মঘট সব জায়গায় সবসময় করা উচিত নয়। কিন্তু ধর্মঘট হল শ্রমিকশ্রেণির সর্বশেষ হাতিয়ার। অনেক লড়াই-আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে শ্রমিকশ্রেণি ধর্মঘট করার অধিকার অর্জন করেছে। এই অর্জিত অধিকার আপনারা কখনও কারো হাতে ছেড়ে দেবেন না। এমনকি, ধর্মঘটের অধিকার আপনারা বামফ্রন্ট সরকারের হাতেও তুলে দেবেন না। প্রথমে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই শ্রমিক ও মালিকদের বিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। কিন্তু প্রয়োজন হলে ধর্মঘট করতে হবে। সংগঠিত হওয়া বা ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারও ছাড়া চলবে না। ট্রেড ইউনিয়ন মানেই নেতিবাচক আন্দোলন নয়, তার অনেক ইতিবাচক গুরুত্ব রয়েছে। ট্রেড ইউনিয়নগুলিকে এইসব অর্জিত অধিকার ছাঁটাইয়ের প্রতিটি প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলন করতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের নজর রাখতে হবে উৎপাদনের কাজে যেন অবহেলা না-ঘটে। উৎপাদন সংক্রান্ত চুক্তি রক্ষা করতে হবে এবং শিল্পক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও কাজের পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। ভারতে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই আমরা বামপন্থীরা রাজ্য সরকারী কর্মচারীদের ধর্মঘট করার অধিকার দিয়েছি। যদিও গত ৩০ বছর তাঁদের কখনও ধর্মঘট করতে হয়নি। আলোচনা করেই আমরা সমস্যা মিটিয়ে নিতে পেরেছি।

পশ্চিমবঙ্গে এখন আমাদের দায়িত্ব অনেক বেড়েছে। মানুষ পরপর সাতবার বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টকে জয়ী করেছেন। বামফ্রন্ট সরকারের প্রতি মানুষের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষের এই আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা আমাদের রক্ষা করতে হবে। মানুষের সব চাহিদা আমাদের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে কতটুকু কী কারণে করা সম্ভব হচ্ছে না, তাও মানুষকে বুঝিয়ে বলতে হবে। মানুষই আমাদের শক্তি।

সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন রয়েছে। এ-রাজ্যে গ্রামের লক্ষ লক্ষ ভূমিহীন গরিব মানুষকে আমরা জমি দিয়েছি। কংগ্রেস সেই সময় বাধা দিয়েছিল, অনেক মামলাও করেছিল। কিন্তু আমরা মাথা নিচু করিনি। অপারেশন বর্গার মাধ্যমে বর্গাদারদের নাম নথিভুক্ত করে তাঁদের জীবিকার নিরাপত্তাও দেওয়া হয়েছে। ১৯৭৭ সালে প্রথম দিন মহাকরণে এসেই আমরা ঘোষণা করেছিলাম, শুধু মহাকরণ থেকে এই বামফ্রন্ট সরকার চলবে না। আমরা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করব। পঞ্চায়েত এবং পৌরসভার মাধ্যমে সেই কাজও করা হয়েছে। এ-রাজ্যে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতীব্যবস্থা বামফ্রন্ট সরকারই প্রথম তৈরি করে। এবং তার নিয়মিত নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কংগ্রেস আমলে তো কোনও নির্বাচনই হত না। রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন আমাদের এই কাজ দেখে প্রশংসা করেছিলেন। এবং সারা দেশে পশ্চিমবঙ্গকেই মডেল বলেছিলেন। কৃষিতে আমরা অনেক সাফল্য পেয়েছি। খাদ্যে স্বনির্ভর হয়েছি। কিন্তু আমাদের কৃষির আরো সম্ভাবনা আছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহায্য নিয়ে আমাদের কৃষির মান আরো উন্নত করতে হবে। কৃষিতে আমরা প্রথম হয়েছি। শিল্পেও আমাদের এগোতে হবে। সপ্তম বামফ্রন্ট সরকার সেই লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এ-রাজ্যের গ্রামের মানুষ প্রতিবারের মতো এবারেও পঞ্চায়েত নির্বাচনে বামফ্রন্টকেই বিপুলভাবে জয়ী করবেন।

ঐতিহাসিক মে দিবসে আমাদের শপথ নিতে হবে, এ-রাজ্যের শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লড়াই-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে-অধিকার অর্জন করেছেন, তাকে রক্ষা করতে হবে। এখনও আমাদের অনেক পথ অগ্রসর হতে হবে। শ্রেণিহীন, শোষণহীন সমাজ গঠনের যে চূড়ান্ত লক্ষ্য তার জন্য লড়াই চলবে। মে দিবসে আমাদের মনে রাখতে হবে শ্রমিকশ্রেণির আন্দোলনকে শুধু অর্থনৈতিক দাবি-দাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। সমাজ পরিবর্তনের লড়াইয়ে তাঁদের যে ভূমিকা আছে তার জন্যও তৈরি হতে হবে। শ্রমিকশ্রেণিকেই এই লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে হবে। তাই তাঁদের রাজনীতি বুঝতে হবে। রাজনৈতিক সংগ্রামে শামিল হতে হবে।

ঐতিহাসিক মে দিবস উপলক্ষে আমি আপনাদের আরেকবার অভিনন্দন জানাচ্ছি।

ঐতিহাসিক মে দিবস দীর্ঘজীবী হোক।

শিরোনাম মার্কসবাদী পথের


প্রকাশের তারিখ: ০৮-জুলাই-২০২৫

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org