পশ্চিমবঙ্গের অর্থব্যবস্থা: শিল্প, বিনিয়োগ ও আয়

শুভনীল চৌধুরী
আসলে পশ্চিমবঙ্গে সংগঠিত ক্ষেত্রে বিশেষ কর্মসংস্থান হচ্ছে না। কৃষি গোটা দেশেই আর লাভজনক পেশা নয়, অধিকাংশ মানুষের জন্য। অতএব জীবিকানির্বাহ করার জন্য মানুষ ছোটো ও ক্ষুদ্র আয়ের কোনও পেশা বা সংস্থায় নিযুক্ত হচ্ছেন। এই পেশা মানুষের আয় বাড়াতে পারছে না। ফলত, পশ্চিমবঙ্গ মাথা পিছু আয়ের হিসেবে ভারতের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে।... যেখানে বেকারত্ব ভাতা নেই, সেখানে আপনি হাতের কাছে যা কাজ পাবেন, তাই করতে চাইবেন। খাতায় কলমে আপনি কর্মে নিযুক্ত থাকবেন, যদিও যৎসামান্য আয়ে। পশ্চিমবঙ্গের শিল্প চিত্র আপাতত এরকমই এক ক্ষুদ্রতা এবং অনুৎপাদনশীলতার জালে আটকা পড়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের পর প্রায় পনেরো বছর অতিক্রান্ত। ২০১১ সালে পরিবর্তনের স্লোগান তুলে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল সরকার। বাম আমলের তথাকথিত অনুন্নয়ন, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক সমস্যা, পাহাড় প্রমাণ সরকারী ধার, ইত্যাদি বিবিধ বিষয়ে বাম সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রচার চালিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। বিগত ১৫ বছরে, পরিবর্তনের পরে কি রাজ্যে উন্নয়নের পালে হাওয়া লেগেছে? তৃণমূল নেতাদের কথায়, রাস্তায় উন্নয়ন দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু সেই উন্নয়ন চোখে দেখা যাচ্ছে কি? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার খোঁজেই এই নিবন্ধ। পশ্চিমবঙ্গের অর্থব্যবস্থার সামগ্রিক আলোচনা এই প্রবন্ধের পরিসরে সম্ভব নয়। আমরা এই নিবন্ধে মূলত দেখব পশ্চিমবঙ্গের মাথা পিছু আয় এবং শিল্পায়নের তথ্য।

পশ্চিমবঙ্গে মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও মাথা পিছু আয়

২০১১-১২ সাল, যেই বছর তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এল, সেই বছরে পশ্চিমবঙ্গের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিএসডিপি) ছিল ৫,২০,৪৮৫ কোটি টাকা (২০১১-১২ সালের মূল্যে), যা সেই বছর ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি)-এর ৫.৯৬ শতাংশ। এই বছর থেকে শুরু করে প্রত্যেক বছর ভারতের জিডিপি-র অনুপাতে, পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন লাগাতার কমেছে। ২০১১-১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের মোট উৎপাদন ছিল ভারতের জিডিপি-র ৫.৯৬ শতাংশ, সেখানে ২০২৩-২৪ সালে তা কমে পাঁচ শতাংশের কাছাকাছি চলে এসেছে। অর্থাৎ ভারতের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের মোট উৎপাদন পিছিয়ে পড়ছে। ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার রাজ্যের তুলনায় বেশি হওয়ার কারণেই দেশের অনুপাতে পশ্চিমবঙ্গের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমে চলেছে।

কেউ অবশ্য প্রশ্ন তুলতেই পারেন যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন মাপার প্রকৃত মাপকাঠি মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন নয়, মাথা পিছু আয়। কথাটি সঠিক। অতএব আমরা এবার তাকাব পশ্চিমবঙ্গের মাথা পিছু আয়ের হিসেবের দিকে।

২০১১-১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের মাথা পিছু আয় ছিল ৫১,৫৪৩ টাকা, যেখানে ভারতের মাথা পিছু আয় ছিল ৬৩,৪৬২ টাকা (২০১১-১২ সালের মূল্যে)। অর্থাৎ, ২০১১-১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের মাথা পিছু আয় ভারতের অনুপাতে ছিল ৮১.২২ শতাংশ। ২০২৩-২৪ সালে, পশ্চিমবঙ্গের মাথা পিছু আয় বেড়ে হয় ৭৯,৬২২ টাকা। কিন্তু ভারতের মাথা পিছু আয়ের তুলনায় যা মাত্র ৭৪.৫৯ শতাংশ। অর্থাৎ, কালের স্বাভাবিক নিয়মে, তৃণমূলের আমলে, পশ্চিমবঙ্গের মাথা পিছু আয় বেড়েছে ঠিকই। কিন্তু তা ভারতের তুলনায় পিছিয়ে গিয়েছে। মোট এবং মাথা পিছু আয়ের নিরিখে অতএব বলা যেতে পারে যে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূলের আমলে ভারতের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে। 

তাহলে কী পরিবর্তন হল? মা-মাটি-মানুষ-এর সরকার বাংলার নামে জয়ধ্বনি করলেও, বাংলার মানুষকে ভারতের মধ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলেন কি? এর উত্তরে অবশ্যই না বলতে হবে, অন্তত মোট এবং মাথা পিছু আয়ের তথ্য সে কথাই বলছে।

পশ্চিমবঙ্গে ম্যানুফাকচারিং শিল্প

কোনও অর্থব্যবস্থায় যদি মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা মাথা পিছু আয়ের বৃদ্ধি করতে হয়, তাহলে ম্যানুফাকচারিং শিল্পে উৎপাদন এবং বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি থেকে শিল্পের উৎপাদনশীলতা বেশি। অতএব যদি এক টাকা বিনিয়োগ হয়, তাহলে কৃষির তুলনায় শিল্পে উৎপাদন বেশি বাড়বে। তাই যদি শিল্পে লাগাতার বিনিয়োগ হতে থাকে, তাহলে রাজ্যের আর্থিক বৃদ্ধির হার বাড়বে। অবশ্যই পরিষেবা কেন্দ্রীক অর্থব্যবস্থা এখন সমস্ত ভারতের একটি বৈশিষ্ট্য। কিন্তু শিল্পের গুরুত্ব তাতে ছোটো হয়ে যায় না। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরে কি রাজ্যে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হয়েছে? 

পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃত অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের নিরিখে (Net State Value Added at Basic Prices) ম্যানুফাকচারিং-এর অনুপাত ২০১১-১২ সালে ছিল ১২.৮১ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ সালে বেড়ে হয়েছে ১৭.৮২ শতাংশ। অর্থাৎ, এই সময়ে পশ্চিমবঙ্গের মোট উৎপাদনে ম্যানুফাকচারিং শিল্পের অনুপাত বেড়েছে ৫ শতাংশ বিন্দু। একই সময়ে, রাজ্যের মোট উৎপাদনে কৃষির অনুপাতও কমেছে ৫ শতাংশ বিন্দু। আপাতদৃষ্টিতে মোট উৎপাদনে ম্যানুফাকচারিং-এর অনুপাত বাড়লে তা উন্নয়নের একটি মাপকাঠি হিসেবেই ধরা হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের রাজ্যে এই সিদ্ধান্তে আসার আগে আমাদের আরও কিছু তথ্যের দিকে তাকাতে হবে।

প্রথমত, একদিকে যেখানে মোট উৎপাদনের নিরিখে ম্যানুফাকচারিং-এর অনুপাত বেড়েছে, একই সময়ে ম্যানুফাকচারিং-এ মোট কর্মরত মানুষের অনুপাত কমেছে। ২০১১-১২ সালে গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে কর্মরত মানুষের প্রায় ২০ শতাংশ (১৯.৪৭%) ম্যানুফাকচারিং-এ কর্মরত ছিল। শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই সংখ্যা ছিল ৩১ শতাংশ। ২০১৭-১৮ সালে গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা কমে হয় ১৩.৫৯ শতাংশ, শহরে এই সংখ্যা হয় ২৭.৫৫ শতাংশ। ২০২৩-২৪ সালে এই সংখ্যা দুটি যথাক্রমে হয় ১৩.৭৮ শতাংশ এবং ২৪.২৮ শতাংশ। একদিকে যেখানে মোট উৎপাদনের নিরিখে ম্যানুফাকচারিং-এর অনুপাত বাড়ছে, সেখানে কর্মসংস্থানের নিরিখে তা কমছে। অর্থাৎ ম্যানুফাকচারিং শিল্প রাজ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে কর্মসংস্থান তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছে। 

ম্যানুফাকচারিং শিল্পকে সংগঠিত ও অসংগঠিত দুটি ক্ষেত্রে ভাগ করা যেতে পারে। সংগঠিত শিল্পের তথ্য কেন্দ্রীয় সরকার তার বার্ষিক শিল্প সমীক্ষা (Annual Survey of Industries) রিপোর্টে দেয়। এই তথ্য অনুযায়ী ভারতে সংগঠিত শিল্পে মোট কারখানার ৩.৮৬ শতাংশ ২০১১-১২ সালে রাজ্যে অবস্থিত ছিল। ২০২২-২৩ সালে এই সংখ্যা হয় ৪.০৪ শতাংশ। অর্থাৎ বিগত ১৫ বছরের রাজত্বকাল পরেও সংগঠিত কারখানার অনুপাতে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান তলানিতেই থেকে গেছে। আবার এই ক্ষেত্রে মোট শ্রমিকের ৫ শতাংশ ২০১১-১২ সালে পশ্চিমবঙ্গে ছিল। ২০২২-২৩ সালে তা কমে হয়েছে ৪.০৪ শতাংশ। আবার এই ক্ষেত্রে মোট উৎপাদনের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গের অনুপাত ২০১১-১২ সালে ছিল ২.৬৯ শতাংশ, যা ২০২২-২৩ সালে বেড়ে হয়েছে ৩.২৪ শতাংশ। মোট কারখানা, শ্রমিক এবং উৎপাদন প্রত্যেক ক্ষেত্রেই পশ্চিমবঙ্গ দেশের মধ্যে তলানিতে এসে পৌঁছিয়েছে। দেখা যাচ্ছে যে কারখানা ও উৎপাদনের নিরিখে রাজ্যের অনুপাত সামান্য বাড়লেও, শ্রমিকের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অতএব বলা যেতে পারে যে রাজ্যে যৎসামান্য যা বিনিয়োগ বা উৎপাদন সংগঠিত শিল্পে হচ্ছে, তার অধিকাংশই পুঁজি নিবিড় শিল্পে হচ্ছে, যার ফলে কর্মসংস্থান সেভাবে বাড়ছে না।

অ-কৃষি অসংগঠিত ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার আরেকটি সমীক্ষা করে। ২০২৩-২৪ সালের হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ গোটা দেশের মধ্যে অ-কৃষি অসংগঠিত ক্ষেত্রের মোট সংস্থার নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, যেখানে দেশের ১২.৬৩ শতাংশ সংস্থা এই রাজ্যে রয়েছে। ২০১১-১২ সালেও পশ্চিমবঙ্গ এই হিসেবে দ্বিতীয় স্থানে ছিল। এর মধ্যে আমরা যদি ম্যানুফাকচারিং শিল্পের দিকে তাকাই তাহলে পশ্চিমবঙ্গ দেশে প্রথম স্থানে রয়েছে। এই সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে দেশের ১৬ শতাংশ ম্যানুফাকচারিং অসংগঠিত সংস্থা রয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এই হিসেব আশাব্যঞ্জক মনে হলেও আমাদের তাকাতে হবে সংস্থার উৎপাদন এবং উৎপাদনশীলতার হিসেবের দিকে।

২০২৩-২৪ সালের হিসেব অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে গড়ে একটি ম্যানুফাকচারিং অসংগঠিত সংস্থার উৎপাদন মূল্য হল বছরে ৯৮,৪৬৭ টাকা, যেখানে গোটা ভারতের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ১,৮৮,৭৮৯ টাকা। ভারতের প্রধান রাজ্যগুলির মধ্যে শুধুমাত্র ওড়িশা এবং মধ্যপ্রদেশ এই নিরিখে পশ্চিমবঙ্গের থেকে পিছিয়ে রয়েছে। আবার যদি শ্রমের উৎপাদনশীলতার হিসেব দেখতে চাই, তাহলে আমাদের দেখতে হবে শ্রমিকের মাথা পিছু উৎপাদনের তথ্যের দিকে। পশ্চিমবঙ্গের ম্যানুফাকচারিং ক্ষেত্রে একজন শ্রমিকের গড় উৎপাদন হল বছরে ৬৮,৩১৫ টাকা, যেখানে ভারতের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ১,১২,৮৬৯ টাকা। আবারও ওড়িশা এবং মধ্যপ্রদেশ ব্যতিরেকে বাকি সব রাজ্যেই শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা পশ্চিমবঙ্গের থেকে বেশি।

আসলে পশ্চিমবঙ্গে সংগঠিত ক্ষেত্রে বিশেষ কর্মসংস্থান হচ্ছে না। কৃষি গোটা দেশেই আর লাভজনক পেশা নয়, অধিকাংশ মানুষের জন্য। অতএব জীবিকানির্বাহ করার জন্য মানুষ ছোটো ও ক্ষুদ্র আয়ের কোনও পেশা বা সংস্থায় নিযুক্ত হচ্ছেন। এই পেশা মানুষের আয় বাড়াতে পারছে না। ফলত, পশ্চিমবঙ্গ মাথা পিছু আয়ের হিসেবে ভারতের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে। অনেক অর্থনীতিবিদ কর্মসংস্থানের হিসেবের জন্য বেকারত্বের হারের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এতে কোনও ভুল নেই। কিন্তু যেই অর্থব্যবস্থায় বেকার থাকলে আপনার আয় শূন্য হয়ে যাবে, কারণ বেকারত্ব ভাতা নেই, সেখানে আপনি হাতের কাছে যা কাজ পাবেন, তাই করতে চাইবেন। খাতায় কলমে আপনি কর্মে নিযুক্ত থাকবেন, যদিও যৎসামান্য আয়ে। পশ্চিমবঙ্গের শিল্প চিত্র আপাতত এরকমই এক ক্ষুদ্রতা এবং অনুৎপাদনশীলতার জালে আটকা পড়েছে। 

শিল্প বিনিয়োগ

এমন নয় যে ছোটো শিল্প মাত্রেই তা অনুৎপাদনশীল। দেশেই এমন রাজ্য আছে যেখানে ম্যানুফাকচারিং ক্ষেত্রে এই ছোটো কারখানাতেও বছরে গড়ে ৭ লক্ষাধিক (গোয়া), পাঁচ লক্ষাধিক (দিল্লি), চার লক্ষাধিক (হরিয়ানা), তিন লক্ষাধিক (কেরালা), ২ লক্ষাধিক (গুজরাত) টাকার উৎপাদনমূল্য তৈরি হয়। কিন্তু আমাদের রাজ্যে তা এক লক্ষ টাকাও ছোঁয় না। আসলে ছোটো শিল্পের উৎপাদনশীলতা এবং ব্যবসা বাড়ানোর জন্য তাদের মূলত নির্ভর করতে হয় বড়ো শিল্পের উপর। পশ্চিমবঙ্গে বড়ো শিল্পের অভাব আসলে ছোটো শিল্পেরও ক্ষতি করছে।

রাজ্য সরকার প্রত্যেক বছর ঘটা করে বেঙ্গল বিজনেস সামিট-এর আয়োজন করেন। সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্ট এবং আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারী ঘোষণার হিসেবে বেঙ্গল বিজনেস সামিটে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির হিসেবটি নিচের সারণীতে দেওয়া হল।

সারণী ১: বেঙ্গল বিজনেস সামিটে প্রতিশ্রুত বিনিয়োগ (কোটি টাকার হিসেবে)

বছর

বিনিয়োগ

সূত্র

২০২৫

৪৪০৫৯৫

পশ্চিমবঙ্গ বাজেট ২০২৫

২০২৩

৩৭৬০০০

হিন্দু, ২৩ নভেম্বর ২০২৩

২০২২

৩৪২০০০

হিন্দু, ২১ এপ্রিল ২০২২

২০১৫-২০২১

১২৩২৫৭৮

বিজিবিএস ২০২২ পুস্তিকা 


কিন্তু প্রকৃত চিত্র কী?

সারণী ২: পশ্চিমবঙ্গে প্রকৃত শিল্প বিনিয়োগ (কোটি টাকায়) 

সাল

বিনিয়োগের পরিমাণ

২০১১

৩২৫

২০১২

৯৬২

২০১৩

২৪৮২

২০১৪

৩৭৪৭

২০১৫

৯৮৩

২০১৬

৩৪৩৩

২০১৭

২৬০২

২০১৮

৬৫৫০

২০১৯

২৩৬১

২০২০

৮১৭

২০২১

১৯৬৭

২০২২

৩৭৩৫

২০২৩

৪৯৩০

সূত্র: কেন্দ্রীয় সরকারের বাণিজ্য দপ্তর প্রকাশিত বিভিন্ন বছরের SIA Statistics

সারণী ২ থেকে দেখা যাচ্ছে যে ২০১১ সাল থেকে শুরু করে ২০২৩ সাল অবধি রাজ্যে বাস্তবায়িত বিনিয়োগের মোট পরিমাণ কোনও বছরই ৭০০০ কোটি টাকাও অতিক্রম করেনি, লক্ষাধিক কোটি টাকা দূরস্থান। সব মিলিয়ে এই ১২ বছরে রাজ্যে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৩৫০০০ কোটি টাকাও হয়নি। কিন্তু রাজ্য সরকারের বিজনেস সামিটের হিসেব অনুযায়ী রাজ্যে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছে। আসলে এই বিজনেস সামিটের বিনিয়োগের অঙ্কগুলির উদ্দেশ্য খবরের শিরোনামে আসা। একটা বাতাবরণ তৈরি করার চেষ্টা যে রাজ্যে যেন প্রবল উন্নয়ন ও বিনিয়োগের জোয়ার এসেছে। কিন্তু বস্তনিষ্ঠ তথ্যের কষ্টিপাথরে যাচাই করলে, রাজ্য সরকারের এই সমস্ত দাবির কোনও ভিত্তি নেই।

শুভনীল চৌধুরী: অর্থনীতিবিদ, আরেক রকম পত্রিকার সম্পাদক


প্রকাশের তারিখ: ০৭-সেপ্টেম্বর-২০২৫

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org