কাজ, অনুপ্রবেশ এবং সংঘ

চন্দন দাস
শাখার সংখ্যা ৩৫০ থেকে আজ ২১০০-র কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছেছে। তবে শুধু তার ভিত্তিতেই সংঘের বিষাক্ত অগ্রগতি বিচার করা যায় না। সরকারের টাকায় মন্দির বানানো হয়েছে দীঘায়। মন্দির বানানো চলছে মাটিগাড়ায়, নিউটাউনে। বিধানসভায় বেদ, উপনিষদকে ইতিহাস বলে দাবি করে বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শিবের মন্দিরের দিকে মাথা দিয়ে শুয়ে থাকার তথ্য বিধানসভায় জানিয়ে, ‘আমিও ব্রাহ্মণ’ ঘোষণা করেছেন মমতা ব্যানার্জি। সংঘ উৎসাহিত হয়েছে। তৃণমূলের নেতারা রামনবমীতে অস্ত্র হাতে মিছিল করে সমাজে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টির হাতিয়ার হিসাবে কাজ করেছেন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ স্বাগত জানিয়েছে।

‘রাজ্যের যুবকরা কাজ পায় না ঘুসপেটিয়াদের জন্য। ...ঘুষপেটিয়াদের কারণে বাঙালি হিন্দুরা কম হয়ে যাচ্ছে।’ 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই কথাগুলি বলেছেন। বলেছেন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে, গত ১৪ মার্চ। 

এক নিমেষে এত বড়ো সমস্যার সমাধান হয়ে গেল। কাজের অভাবের জন্য কেন্দ্র কিংবা রাজ্য, কোনও সরকার দায়ী নয়। কোনও সরকারেরই আর্থিক নীতির বদলের প্রয়োজন নেই। রাজ্যের কয়েক কোটি কর্মহীন যুবক যুবতী কাজ পেয়ে যাবেন— ‘ঘুসপেটিয়া’ না-থাকলে!

‘ঘুসপেটিয়া’ শব্দের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ বিশেষ ভাবে পরিচিত হয়েছে ২০১৪ থেকে। বাংলা মানে ‘অনুপ্রবেশকারী।’ পশ্চিমবঙ্গ অনুপ্রেশকারী শব্দর সঙ্গে অনেকদিনই পরিচিত। রাজ্য রাজনীতিতে অনুপ্রবেশকারী শব্দের ব্যবহার বেড়েছে মমতা ব্যানার্জির সৌজন্যে। এই প্রশ্নে নরেন্দ্র মোদিরই একটি বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা যায়। ২০১৪-তে তখনও তিনি প্রধানমন্ত্রী হননি। লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে কলকাতায় মোদি বলেছিলেন, ‘‘দিদি কেন বিরোধিতা করছেন এখন? উনিই তো সংসদে তুলেছিলেন এই কথা। এখন পালটি খেলেন কেন?’’ 

ঠিকই। দিনটি ছিল ২০০৫-র ৪ আগস্ট। তৃণমূল কংগ্রেস তখন বিজেপি-র শরিক। সংসদের অধ্যক্ষ তখন ছিলেন সোমনাথ চ্যাটার্জি। কিন্তু ঘটনার সময়ে সংসদের কাজ সামলাচ্ছিলেন উপাধ্যক্ষ চরণজিৎ অটওয়াল। সংসদে তার কয়েকদিন আগেই বিজেপির তৎকালীন দলনেতা লালকৃষ্ণ আদবানী ‘অনুপ্রবেশ’ নিয়ে মুলতুবি প্রস্তাব এনেছিলেন। আদবানীর বক্তব্যে আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম অনুপ্রবেশের কথা বারবার চলে এসেছিল সেই সময়ে। আদবানীর মুলতুবি প্রস্তাবের বিরোধিতা করে পার্টির পক্ষ থেকে বাসুদেব আচারিয়া আলোচনা করেছিলেন। যদিও মুলতুবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার দিন মমতা ব্যানার্জি ছিলেন না। একদিন পরে ৪ আগস্ট হাজির হন এবং ‘পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ’ নিয়ে বলতে চান। তাঁর দাবি ছিল, সিপিআই(এম) অনুপ্রবেশে মদত দেয়। এবং অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকায় তুলে দেয়। প্রসঙ্গত, শুধু সংসদেই নয়। পশ্চিমবঙ্গে ‘অনুপ্রবেশ’ হয়, এই দাবি মমতা ব্যানার্জি রাষ্ট্রপতি, নির্বাচন কমিশনকেও জানিয়েছিলেন। সেদিন তাঁকে সংসদে বলতে না-দেওয়ায় তিনি উপাধ্যক্ষর দিকে কাগজের বান্ডিল ছুঁড়ে মেরেছিলেন। তাঁর আচরণের বিরোধিতা করেছিল অনেক দল। বিজেপি চুপ ছিল।

অর্থাৎ ভোটার তালিকায় ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ নাম তোলার প্রসঙ্গ লোকসভায় প্রথম উত্থাপন করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। আজ তাই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, সেই সূত্রে আরএসএস-এর দীর্ঘদিনের অ্যাজেন্ডা ‘জনসংখ্যার আনুমাতিক পরিবর্তন’কেও নির্বাচনী প্রচারের ময়দানে সোচ্চারে হাজির করেছেন মোদি।

দলে দলে মুসলমানরা বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢোকেন—   সংঘের হিন্দুরাষ্ট্র কায়েমের সড়ক নির্মাণের পথে এই প্রচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের নির্বাচনেও তাকে হাতিয়ার করছে বিজেপি। জাতীয় ক্ষেত্রে এই বিষয়টিকে প্রথম সোচ্চারে হাজির করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি।

মোদি এবার তার সঙ্গে যুক্ত করতে চাইলেন কাজের প্রশ্ন। পশ্চিমবঙ্গে কাজের অভাবের অন্যতম কারণ অনুপ্রবেশ—  মোদি বললেন।

কাজের প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গে কারও পক্ষে এড়ানো সম্ভব নয়। অমিত শাহ্‌ও ‘সোনার বাংলা’ গড়ার আহ্বানকে আকর্ষণীয় করতে কর্মসংস্থানের কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন। কী বলেছেন তিনি? ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকে অমিত শাহ্‌ বলে চলেছেন, বিজেপি ‘সোনার বাংলা’ গড়তে চায়। অমিত শাহ্‌ সম্প্রতি মথুরাপুরের সভায় বলেছেন, ‘রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়লে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সব শূন্য পদ পূরণ করবে। যে পদগুলি তুলে দেওয়া হয়েছে (অবলুপ্ত পদ) ফেরানো হবে।’ কর্মসংকোচন যাঁদের অর্থনীতির মূল কথা, যাঁদের শাসনে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন বিভাবে স্থায়ী পদ কমেছে, কর্মী নিয়োগ বন্ধ হয়েছে, তাঁরা দিচ্ছেন শূন্যপদ পূরণের প্রতিশ্রুতি! ২ কোটি বেকারের চাকরির কথা ২০১৪-তে মোদি বলেছিলেন। কোথায় তা? 

কেন তবে শূন্যপদ পূরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন? আমি হিন্দু, নাকি মুসলমান— এই পরিচিতি সত্তার থেকে পশ্চিমবঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কাজ, উপার্জনের প্রশ্ন। ২০০৭-০৮-এ যা ছিল বামফ্রন্টের লড়াইয়ের প্রধান অ্যাজেন্ডা, তা আজ সমাজের স্বাভাবিক দাবিতে পরিণত হয়েছে।

নরেন্দ্র মোদি, মমতা ব্যানার্জি এবং অমিত শাহ্‌, তিনজনই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের অনুচর। শাহ্‌ প্রত্যক্ষভাবে, মমতা ব্যানার্জি আরএসএস-এর ঠিকাদার। পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্বের বিস্তারে দুজনেই কাজ করেছেন, করছেন। কিন্তু সেই তাঁদের কর্মপ্রার্থীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করতে হচ্ছে।

কারণ— যা ছিল বামপন্থীদের দীর্ঘদিনের ইস্যু, তা সমাজের সর্বস্তরের স্বাভাবিক দাবিতে পরিণত হয়েছে। ধর্মের নামে বিভাজনের নানা সরকারি, দলীয় কর্মসূচি কাজের দাবিকে প্রশমিত করতে পারেনি। কাজের দাবিতে ‘ইনসাফ যাত্রা’ হয়েছে। কর্মসংস্থান, শিল্পর দাবি ছিল ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’র অন্যতম ইস্যু। ভিন রাজ্যে পরিযায়ীদের দুর্দশা রাজ্য রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এই সংকট সংঘের রাজনীতি, অর্থনীতিকেই চ্যালেঞ্জ করে বসেছে।


ইনসাফ যাত্রা 

‘অন ইকনমিক প্রবলেমস’-এ মহাদেব সদাশিব গোলওয়ালকার বলছেন, ‘‘শোষক এবং শোষিতর ভিত্তিতে ভাগের যে তত্ত্ব তা ভুল। কখনও মালিক আবার অন্য সময় শ্রমিকরা ধর্মঘট করে। শ্রমিকদের দাবি এবং একই ভাবে মালিকের ক্ষতি দুই-ই ক্রেতার উপর গিয়ে পড়ে। তাহলে কে আসলে ক্ষতিগ্রস্ত?’’

প্রথমত, মালিক ধর্মঘট করে না। লক আউট করে। মোদি, অমিত শাহ্‌র ‘গুরুজী’ তা মানেন না। রাজ্যে মমতা ব্যানার্জিও ঠিক তেমনই। তিনি বলেন, ধর্মঘট-শূন্য রাজ্য গড়েছেন। কিন্তু লক আউট শূন্য রাজ্য গড়তে পারেননি, বরং কারখানা, চটকল, চা-বাগান বন্ধ হওয়া বেড়েছে, তা তাঁর সরকার স্বীকার করে না। একই পথ উত্তরপ্রদেশের যোগী-শাসনের, কেন্দ্রের মোদি-শাসনের। দ্বিতীয়ত, ক্রেতাদের একাংশ সেই গরিব মানুষই হন।

অর্থনীতির ক্ষেত্রে সংঘ-তৃণমূলের তফাৎ নেই। পশ্চিমবঙ্গ সাক্ষী সংঘের অর্থনীতিই প্রয়োগ করছেন মমতা ব্যানার্জি।

দেশে গত পনেরো বছরে দেশে এবং রাজ্যে সেই ‘ক্লাস কনফ্লিক্ট’ বেড়েছে। নানাভাবে তার প্রকাশ ঘটেছে। অসংগঠিত গিগ শ্রমিকরা সংগঠিত হয়েছেন, ধর্মঘটে এগিয়েছেন। পরিযায়ী শ্রমিকরা বিভিন্ন ভাবে নিজেদের বিক্ষোভের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। রেগার কাজ, মজুরির দাবিতে ব্লকে ব্লকে বিক্ষোভের সামনে সারিতে দেখা গেছে মহিলাদের। আবার চটকলেও লড়াই চলছে। লাগাতার লড়ছেন চা বাগান মজদুররা। গত দেড় দশকে রাজ্যে কাজের সুযোগ বাড়েনি। ছোটো এবং মাঝারি শিল্পেরও বিকাশ হয়নি, কারণ বড়ো শিল্পেই বিনিয়োগ কমেছে। পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশে এখন প্রধান সমস্যা মুখ্যত তিনটি— কাজের অভাব, মজুরি কম, কৃষির সংকট। আর প্রবণতা মূলত একটিই—  ধূমায়িত গণ বিক্ষোভ। 

(২)

বামফ্রন্ট সরকার পরিচালিত হয়েছিল এটিকে মুখ্য প্রশ্ন হিসাবে বিবেচনা করে। শিল্পের উদ্যোগ এই সূত্রেই পশ্চিমবঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে উপস্থিত হয়েছিল। শুধু তাই নয়। কর্মহীন যুবদের কাজের ব্যবস্থা ছাড়াও রাজ্যে শিল্পের বিকাশের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন— ভূমিসংস্কার এবং পঞ্চায়েত। এই দুটিরই প্রবল বিরোধী আরএসএস। আর এই দুটি ক্ষেত্রই গত ১৫ বছরে বিধ্বস্ত হয়েছে মমতা-শাসনে। সম্প্রতি যে-খাস জমিগুলিকে ঘিরে মামলা আছে, সেগুলিকে পুরোনো জোতদার পরিবারের বংশধরদের হাতেই তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে তৃণমূলের সরকার। অন্যদিকে যে নির্বাচিত পঞ্চায়েত ব্যবস্থার ঘোরতর বিরোধী ছিলেন গোলওয়ালকার, সেই পঞ্চায়েতকে ‘লুটের আখড়া’ করে তুলেছে তৃণমূল। সংঘের পরিসর এভাবেই নির্মিত হয়েছে মমতা-শাসনে।

শিল্পের প্রয়োজনীয়তার প্রশ্নে নিরুপম সেন এবং ভূমিসংস্কার, পঞ্চায়েতের সঙ্গে শিল্পের সম্পর্কের বিষয়ে সূর্য মিশ্রের অনবদ্য বিশ্লেষণ মার্কসবাদী পথ সহ অন্যান্য পত্রিকাতেই প্রকাশিত হয়েছিল। উপার্জনের উপায়ের সঙ্গে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রসার এবং জমির মালিকানা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। লঙ্ঘিত হলে? ঘাপটি মেরে থাকা সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, সামন্ততান্ত্রিক চেতনা ফনা তুলবেই। সেদিন অনেকের তত্ত্ব মনে হয়েছিল। আজ তাঁদের সামনে সেই তত্ত্বের বাস্তবতা প্রবল সংকটের মোড়কে সামনে হাজির।

কমিউনিস্টরা ২০০৭-০৮-এ এই কথা বলেছেন। বারবার বলেছেন। কিন্তু রাজ্যের মানুষকে পুরোপুরি বিশ্বাস করাতে পারেননি। আর সেই অবিশ্বাসের ছিদ্র দিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) মাথা তুলেছে। সহায়ক হয়েছে তৃণমূল। গত দেড় দশকে পশ্চিমবঙ্গের ঘটনাক্রম দেখলে তা স্পষ্ট বোঝা যাবে। ‘কৃষি বনাম শিল্প’ ছিল মমতা ব্যানার্জির ভাষ্য। স্লোগান ছিল—‘ভাতের কারখানা ধ্বংস করে মোটর গাড়ির কারখানা/সে হবে না, সে হবে না।’ পুরোপুরি মিথ্যা বলেছিলেন তিনি। কারণ, কৃষি এবং শিল্পের কোনও দ্বন্দ্ব নেই। জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবের স্তরে কৃষির বিকাশের ভিত্তিতে শিল্পে উত্থান একটি স্বাভাবিক এবং অনতিক্রম্য প্রক্রিয়া।

আর সেই স্বাভাবিক ধারাকে ঠেকাতে করতে পারলে যাবতীয় সামন্ততান্ত্রিক, পিছিয়ে পড়া মানসিকতা সমাজকে গ্রাস করতে পারবে। এর অপার হতাশায় সমাজকে পিছন দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া যাবে। গত দেড় দশকে তাই হয়েছে। শিল্পে পশ্চিমবঙ্গ এগোয়নি। কৃষিতে সংকট তাই মারাত্মক চেহারা নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবরা অন্য রাজ্যের শস্তা শ্রমের বাজারে পরিণত হয়েছে। রাজ্যের সংস্কৃতির জগৎ ধুঁকছে, কারণ সেই জগতের মূল ধারক মধ্যবিত্ত আর্থিক সংকটে বিধ্বস্ত, ক্ষয়ের মুখে। 

এই পরিবেশ হিন্দুত্ববাদী, মৌলবাদীদের পক্ষে অনুকূল। সেই পরিবেশে ভর করেই গত পনেরো বছরে পশ্চিমবঙ্গে আরএসএস বেড়েছে। শাখার সংখ্যা ৩৫০ থেকে আজ ২১০০-র কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছেছে। তবে শুধু তার ভিত্তিতেই সংঘের বিষাক্ত অগ্রগতি বিচার করা যায় না। সরকারের টাকায় মন্দির বানানো হয়েছে দীঘায়। মন্দির বানানো চলছে মাটিগাড়ায়, নিউটাউনে। বিধানসভায় বেদ, উপনিষদকে ইতিহাস বলে দাবি করে বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শিবের মন্দিরের দিকে মাথা দিয়ে শুয়ে থাকার তথ্য বিধানসভায় জানিয়ে, ‘আমিও ব্রাহ্মণ’ ঘোষণা করেছেন মমতা ব্যানার্জি। সংঘ উৎসাহিত হয়েছে। তৃণমূলের নেতারা রামনবমীতে অস্ত্র হাতে মিছিল করে সমাজে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টির হাতিয়ার হিসাবে কাজ করেছেন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ স্বাগত জানিয়েছে। 


দীঘায় মন্দির উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী 

যার প্রভাব মুসলমানদের মধ্যেও পড়েছে। তাঁদের ‘দুধ দেওয়া গোরু’ হিসাবে বিবেচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর বিজেপি সরকারের ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরতদের বলেছেন ‘দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলন করুন।’ সিএএ, ওয়াকফ আইন, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া— কিছুই করতে দেবো না ঘোষণা করলেও কোনটিই আটকাননি মমতা ব্যানার্জি। বদলে দুর্নীতির মামলাগুলি থেকে তৃণমূলের তাবড়ো নেতাদের রক্ষা করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি— অবশ্যই বিজেপির নির্দেশে, সংঘের চক্রান্ত অনুসারে। এই অবস্থায় বিক্ষুব্ধ গরিব, প্রধানত রাজ্যের কৃষিজীবী, কারিগর সংখ্যালঘুদের মধ্যে শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করেছে সংঘের সহায়ক মৌলবাদী শক্তিগুলি।

যে পরিযায়ীদের সিংহভাগ সংখ্যালঘু মুসলমান, বাংলাভাষায় কথা বলার জন্য ভিন রাজ্যে হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণের শিকার যে মানুষের অধিকাংশ মুসলমান, ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে যাঁদের ধাক্কা মেরে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের কাজ চাই। কাজের পরিবেশে নিরাপত্তা চাই।

কাজের দাবি এই বিপুল জনতার দাবি। মতুয়া, মুসলমান, তফসিলি সহ গরিব, মধ্যবিত্তের একাংশের ভোটাধিকার কেড়ে শেষ চেষ্টা চলছে কাজের দাবিতে একসূত্রে বাঁধা রাজ্যবাসীর মধ্যে বিভাজন তৈরি করার। যোগ্য সবার ভোটাধিকারের আন্দোলন তাই ‘সবার হাতে কাজ চাই’র দাবিতে লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। মুখোমুখি সংঘ আর তার দুই মাধ্যম—তৃণমূল এবং বিজেপি। 


প্রকাশের তারিখ: ১৬-মার্চ-২০২৬

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org