|
তাসখন্দে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার গোড়ার কথাসুচেতনা চট্টোপাধ্যায় |
রায় স্মৃতিচারণ করেছেন ঔপনিবেশিক সেনাবাহিনীতে তাদের যে-সাথীরা তখনও ছিল তাদের কাছে এই কথা অজানা রইল না এবং এই খবরগুলি পৌঁছে যাওয়ার ফলে ব্রিটিশ বাহিনীতে বিভেদ সৃষ্টি হল। ব্রিটিশ সেনাবাহিনী থেকে পলাতকদের সংখ্যা প্রতিদিন বেড়ে যেতে থাকল। |
আমার পূর্ববর্তী গবেষণার বিষয় ছিল ভারতীয় উপমহাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের গোড়ার দিকের ইতিহাস। এই গবেষণার অভিনিবেশ ছিল মুজফ্ফর আহ্মদ ও কমিউনিস্ট আন্দোলনের সূচনার সামাজিক উৎস, জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য যখনও তিনি এম. এন. রায় হননি এবং সুসংগঠিত সাম্রাজ্যবাদী পুলিশি ব্যবস্থা যার উদ্দেশ্য ছিল ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষে কমিউনিজমের বিস্তারের উপর নজরদারি চালানো। বিশ শতকের গোড়ার দিকের ঔপনিবেশিক ও আধা-ঔপনিবেশিক বিশ্বে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তনগুলি ক্রমাগত ঘটে চলেছিল এবং তার সঙ্গে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবের আন্তর্জাতিক প্রভাবসমূহের যে বৃহত্তর ক্যানভাস তার মধ্যে এই বিষয়গুলিকে আমি রাখার চেষ্টা করেছি। এই কাজের সূত্র ধরে উঠে এসেছে আমার বর্তমান গবেষণার মূল দিকগুলি। গবেষণার কেন্দ্রে রয়েছেন ‘মুহাজির’রা। অর্থাৎ ভারতবর্ষ থেকে স্বেচ্ছায় নির্বাসিত মুসলিমরা; যাঁরা যুদ্ধকালীন ও বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চেয়ে এবং ব্রিটিশ শাসনের হাত এড়াবার জন্য ১৯১৫ ও ১৯২০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে দলে-দলে কাবুলে পালিয়ে গিয়েছিলেন, ওঁদের মধ্যেই কেউ কেউ পৌঁছে গেলেন সোভিয়েত মধ্য এশিয়ায় এবং ১৯২০-২১ সালে এই দেশ থেকে বহূ দূরে একটি ছোট্ট কমিউনিস্ট পার্টি সংগঠন গড়ে তুললেন। শুরুতে ছিলেন প্যান-ইসলামি কিন্তু সেই অবস্হান থেকে তাঁরা সরে দাঁড়ালেন। এই ইতিহাস লেখার কাজে আমাকে দেখতে হচ্ছে এখনও পর্যন্ত অব্যবহৃত মহাফেজখানার (Archival) নথি, বিভিন্ন রাজনৈতিক স্মৃতিচারণা ও সংবাদপত্রের উপেক্ষিত অংশগুলি। সেই সঙ্গে ভারত, পাকিস্তান ও অন্যত্র গবেষক, ঐতিহাসিক ও আন্দোলনকারীরা ইতিপূর্বে এই বিষয়ে যে কাজগুলি করেছেন সেগুলি। সমসাময়িক সামাজিক পরিস্থিতি ও ১৯১০-এর দশকের সময়কাল জুড়ে মধ্য এশিয়ার যুদ্ধ, বিপ্লব ও গৃহযুদ্ধের পটভূমিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের ক্রমবিকাশের নিরিখে এই ইতিহাস অনুধাবন করার উপরে জোর দেওয়া হয়েছে। বলকান যুদ্ধের সময়ে ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনাকালে ভারতবর্ষে ঔপনিবেশিকতাবাদ বিরোধিতার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ‘প্যান-ইসলামিজম’ যা ‘সুন্নি-ইসলাম’ ঐক্য এবং তার খলিফা অর্থাৎ অটোমান সাম্রাজ্যের কর্তৃত্বকে তুলে ধরেছিল। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ব্রিটিশ রাজশক্তি-কে একটা অনাধ্যাত্মিক, পার্থিব অন্তরায় হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল। অবিভক্ত পাঞ্জাবের রাজধানী শহর লাহোরের ‘গভর্নমেন্ট কলেজে’ একটি ছাত্রদলের উত্থান ঘটে। এই দলের পলাতক ছাত্রদের মধ্যে কয়েকজন চলে গিয়েছিলেন কাবুলে। ঔপনিবেশিক শাসনের আধুনিকতা শিক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত সমৃদ্ধিলাভের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল অথচ কার্যক্ষেত্রে তা দিতে অস্বীকার করল; এবং যাবতীয় পারিপার্শ্বিক সম্পদ ঔপনিবেশিক পুঁজির হয়ে নিঃশেষে শোষণ করে ফেলল; এই আপাতবিরোধী আধুনিকতার সংস্পর্শে এসে এবং নিপীড়ন ও বর্ণবিদ্বেষের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই এই ছাত্ররা প্যান-ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। আফগানিস্তান কোনোভাবেই ইসলামিক পুনরুত্থানের স্বপ্নরাজ্য ছিল না। ফলত তাঁরা হতাশ হয়েছিলেন। কাবুলে এই পলাতক ছাত্র-দল ওবেইদুল্লা সিন্ধির ঘনিষ্ঠ অনুগামী হয়ে উঠলেন। ওবেইদুল্লা ছিলেন ভারতবর্ষ থেকে নির্বাসিত এক বিপ্লবী এবং প্যান-ইসলামি প্রচারক। কাবুলে নির্বাসনকালে তাঁরা একটি ‘অস্থায়ী ভারত সরকার’ গঠন করলেন। সিন্ধি এবং মুহাজির যুবকবৃন্দ রাজনৈতিক স্বাধীনতা লাভের পর ভারতবর্ষে সামরিক-ধর্মনৈতিক একনায়কতন্ত্রের পরিবর্তে বহু-ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের জন্য একটি গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ সাংবিধানিক সরকার গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন। এই উদ্দেশ্যে কোরানের পাশাপাশি সাগ্রহে তাঁরা ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি মডেল সম্পর্কেও পড়াশোনা করেছিলেন। ১৯১৫ সালের অক্টোবরে কাবুলে ভারত-তুর্কি-জার্মান মিশন আবির্ভূত হলেও আমির হাবিবুল্লাহ (১৯০১ থেকে ১৯১৯ পর্যন্ত আফগানিস্তানের শাসক) ব্রিটিশ-বিরোধী জোটে যোগদান করতে রাজি হলেন না। একদিকে জারতন্ত্রী মধ্য এশিয়া ও অন্যদিকে ব্রিটিশ অধিকৃত ভারত— দুইয়ের মধ্যে নিষ্পেষিত হয়ে আফগান সরকার চাইল ব্রিটেনকে শান্ত রাখতে এবং মৌলানা সিন্ধি ও মুহাজির ছাত্রদের ওপর আরোপিত হল কঠোর বিধিনিষেধ। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যখন এক ব্রিটিশ-বিরোধী আমির সিংহাসনে বসলেন তখন পরিস্থিতি সামান্য উন্নত হল। ততদিনে এই নির্বাসিত বিপ্লবীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক আশা-আকাঙ্খাগুলি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে পড়েছে। ভারতে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি তাঁরা নিতে পারলেন না; অগত্যা চলে গেলেন আরও পশ্চিমে, রাশিয়ান মধ্য এশিয়া ও তুরস্কের দিকে। দলবদ্ধভাবে একটা বড় অংশের মানুষ ভারতবর্ষ ছেড়ে চলে যেতে শুরু করলেন এবং আফগানিস্তানে তাঁদের সংখ্যা অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি পেল। ১৯২০ সালের ‘হিজরত’— ভারতীয় মুসলমানদের ধর্মীয় অভিনিষ্ক্রমণ— একটি আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। প্রায় ৪০,০০০ উদ্বাস্তু আফগানিস্তান চলে গিয়েছিলেন। যে মুহাজিররা তুরস্কে মুস্তফা কামালের নেতৃত্বে ব্রিটিশ-বিরোধী যুদ্ধে যোগদান করতে আগ্রহী ছিলেন, তাঁরাও চলে যাওয়ার অনুমতি পেয়ে ছিলেন। এম. এন. রায়ের বক্তব্য অনুযায়ী প্রায় ‘২০০ খিলাফত যাত্রী’ রাশিয়ান তুর্কিস্তানে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন। কয়েকজন মুহাজির ছাত্র, ১৯১৫ সালে লাহোর থেকে কাবুলে পালিয়ে গিয়েছিলেন যাঁরা তাঁদের মতই, স্মরণ করেছেন কীভাবে নানারকমের মানুষ তিরমিজে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন; তাঁদের মধ্যে ছিলেন তুর্কি, উজবেক, তাজিক ও রুশ মানব গোষ্ঠী। একটি ব্যান্ড তাঁদের সম্মান প্রদর্শন করে ‘ইন্টারন্যাশনাল’ ও ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বাজাচ্ছিল। আফগানিস্তানের সতর্ক ও সীমিত আতিথেয়তার পরে এই অভিজ্ঞতায় তাঁরা অভিভূত হয়ে পড়েন। ইউরোপীয় রাশিয়ায় গৃহযুদ্ধের কার্যত অবসান ঘটলেও মধ্য এশিয়ায় ব্রিটিশ সমর্থনে যুদ্ধ রীতিমত জারি ছিল। শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, সৈন্যদের নিয়ে গঠিত নির্বাচিত বিপ্লবী কমিটির সরকার দ্বারা পরিচালিত তিরমিজ ছিল যেন একটা বলশেভিক দ্বীপ। বেশিরভাগ মুহাজির চেয়েছিলেন তুরস্কে চলে যেতে; তাঁরা শ্বেত বিদ্রোহীদের হাতে পড়ে যান এবং তাঁদের ধর্মদ্রোহী হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়। কারাবাস, অনাহার ও সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ড থেকে তাঁদের উদ্ধার করে লাল ফৌজ। এই মুহাজিরদের মধ্যে ছত্রিশজন অবিলম্বে প্রতিবিপ্লবী শক্তিগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য রুশ ও তুর্কমেনদের নিয়ে গঠিত বলশেভিক সামরিক দলে যোগ দেন। বোখারার তরুণদের একাংশ তাসখন্দে একটি কমিউনিস্ট পার্টি তৈরি করেছিলেন এবং নতুন বিপ্লবী সরকার গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। এই তরুণদের দ্বারা মুহাজির যুবকেরা বিশেষ ভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। জমি বাজেয়াপ্ত করে কৃষকদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করার বিপ্লবী কর্মসূচী বিপুল জনসমর্থন লাভ করেছিল । ওই অঞ্চলের পরিবেশ ও সমকালীন দৃষ্টিভঙ্গি তাঁদের প্রভাবিত করেছিল। ইতিমধ্যে বলশেভিক সরকার এম. এন. রায়-কে মুহাজিরদের তত্ত্বাবধান করবার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। জাতীয়তাবাদী থেকে কমিউনিস্ট হয়ে ওঠা এম.এন. রায় ভারতবর্ষ থেকে মেক্সিকো হয়ে রাশিয়ায় উপস্থিত হয়েছিলেন। প্যান-ইসলামিরা সহজে বলশেভিক আদর্শ গ্রহণ করবেন কিনা এ বিষয়ে তিনি একেবারেই সদর্থক মনোভাব পোষণ করতেন না। তবে তাঁর আশা ছিল যে এঁদের মধ্যে কয়েকজন ব্রিটিশ-সমর্থন প্রাপ্ত প্রতিবিপ্লবীদের বিরুদ্ধে বলশেভিকদের পক্ষ নিয়ে গৃহযুদ্ধে যোগ দিতে পারেন এবং ভারতবর্ষের স্বাধীনতার স্বার্থে সামরিক প্রশিক্ষণ দেবার প্রস্তাবে সাড়া দিতে পারেন। তিনি তাসখন্দে এঁদের জন্য জামাকাপড়, বাসস্থান ও খাবারের প্রয়োজন জানিয়ে চিঠি পাঠান। রায় ইতিমধ্যেই ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সামরিক বাহিনী থেকে পলাতক ভারতীয় মুসলমানদের সংগঠিত করে তাদের লাল ফৌজের আন্তর্জাতিক বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। মধ্য এশিয়ার সীমান্তগুলিতে ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে তাঁরা সোৎসাহে মোতায়েন ছিলেন। কয়েকজন অফিসার পদে উন্নীত হন। ঔপনিবেশিক সেনাবাহিনীতে উচ্চ পদগুলি (অফিসার পদ) সাধারণ সেপাইদের দিতে অস্বীকার করা হত। পরবর্তী কালে রায় স্মৃতিচারণ করেছেন— ‘ঔপনিবেশিক সেনাবাহিনীতে তাদের যে-সাথীরা তখনও ছিল তাদের কাছে এই কথা অজানা রইল না এবং এই খবরগুলি পৌঁছে যাওয়ার ফলে ব্রিটিশ বাহিনীতে বিভেদ সৃষ্টি হল। ব্রিটিশ সেনাবাহিনী থেকে পলাতকদের সংখ্যা প্রতিদিন বেড়ে যেতে থাকল।’ সেনার উর্দি পরলেও এই পলাতক সৈন্যদের বেশিরভাগই ছিলেন কৃষক। রায় এই সৈনিকদের নিয়ে কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলার কোনো চেষ্টা করেননি। বাংলার শিক্ষিত ও বিচ্ছিন্ন মধ্যবিত্ত হিন্দু উচ্চবর্ণের যুবকদের সংগঠিত করার পূর্বলব্ধ জাতীয়তাবাদী প্রশিক্ষণের প্রভাবেই সম্ভবত তিনি মুহাজির ছাত্রদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে কমিউনিস্ট হিসেবে নিযুক্ত করার প্রচেষ্টা চালাতে শুরু করেন। এর মধ্যেই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল খুশি মহম্মদ ও মহম্মদ শফিকের । তর্ক ও আলাপ-আলোচনা চালিয়ে তিনি তাঁদের কমিউনিস্ট হয়ে ওঠার ব্যাপারে সম্মত করে ফেলেছিলেন। এরপর তিনি ভারতবর্ষ থেকে আগত অন্যান্য তরুণ মুহাজির ছাত্রদের দিকে মনোযোগ দিলেন। তাসখন্দের ‘ইন্ডিয়ান মিলিটারি স্কুলে’ প্রায় পঞ্চাশজন প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। কমিউনিজমের প্রতি সংশয়াপন্ন মনোভাব পোষণ করলেও কয়েকজন এই নাস্তিক মতবাদ সম্পর্কিত প্রাথমিক সংস্কার কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হলেন। এর ফলে মুহাজিরদের মধ্যে ভাঙন দেখা দিল। যে অংশটি বামপন্থী হয়ে উঠেছিল তাদের ইচ্ছা ছিল একটি কমিউনিস্ট পার্টি গঠন করার। যদিও সাবধানী এম. এন. রায় জোর দিয়ে বলেন তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই। শেষ পর্যন্ত তাঁদের দাবিতেই ১৯২০ সালের অক্টোবরে তাসখন্দে প্রবাসী কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হল। মহম্মদ শফিক এই পার্টির সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হলেন। রায় তাঁর বর্ণনায় বলেছেন শফিক এক ‘বুদ্ধিদীপ্ত ও বেশ শিক্ষিত তরুণ’। আরও বেশি সদস্য আকৃষ্ট করবার জন্য তাঁরা আবাসনের মধ্যে নিয়মিত বক্তৃতার আয়োজন করতেন। ধর্ম-কে আক্রমণ করার বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন, ‘কমিউনিজম’ শব্দটা উচ্চারণ করতেন না কিন্তু ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য একেবারে নিচের স্তর থেকে গণবিপ্লব সংগঠিত করার একটা পরিকল্পনা তুলে ধরতেন। তাঁদের এই অবস্থান বিপ্লবী জাতীয়তাবাদী ও প্যান-ইসলামি প্রচারকদের অবস্থানের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক-এর দ্বিতীয় অধিবেশন কমিউনিস্ট পার্টিগুলিকে ভবিষ্যতের দুনিয়া জোড়া বিপ্লবের পরিকল্পনার কেন্দ্রস্থলে নিয়ে এল। রায় এক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেন। তিনি লেনিন ও ‘কমিন্টার্ন’-কে সম্মত করিয়ে তাঁর “সাপ্লিমেন্টারি থিসিস অন দ্য কলোনিয়াল কোয়েশ্চেন”-কে গ্রহণ করাতে পেরেছিলেন। রায়ের যুক্তি ছিল, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় মুক্তিলাভের লড়াই কখনই জাতীয়তাবাদীদের কুক্ষিগত থাকতে পারে না, কারণ তাদের প্রবণতা হল আপোষ করা ও শ্রেণিবৈষম্যকে বলবৎ করা; কমিউনিস্ট পার্টিগুলিকে গড়ে তুলতে হবে শ্রমিক ও কৃষকদের সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে যাতে ঔপনিবেশিক ও আধা-ঔপনিবেশিক দেশগুলিতে জাতীয় মুক্তি আন্দোলন একটা সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী ও বিপ্লবী শ্রেণিযুদ্ধে পরিণত হয়। এরপরেই ১৯২০ সালের সেপ্টেম্বরে সংঘটিত হয় বাকু কংগ্রেস অফ দ্য পিপল অফ দ্য ইস্ট। সেখানে সবধরণের পুঁজির সাম্রাজ্য-কে ভেঙে ফেলার জন্য গণ-অভ্যুত্থানের ভূমিকার উপরে বিশেষ জোর দেওয়া হয়। ইউরোপীয় রাশিয়া থেকে শুরু করে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিকতাবাদী বিপ্লবের ঢেউ উঠেছিল যার ফলে তৈরি হল এক নতুন দর্শন। শ্রেণিসংগ্রামের পরিকল্পনাকে এই দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করল সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী রাজনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি-আন্দোলনের সঙ্গে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতি ও পরিবেশ প্রবাসে পার্টি গড়ে তোলার কাজে ইন্ধন যুগিয়েছিল। পার্টি আয়তনে ছিল ক্ষুদ্র তবে তার সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি পেল। ১৯২১ সালের মার্চ মাসে অ্যাংলো-রাশিয়ান বানিজ্য চুক্তির পরে গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটল। যে মুহাজিররা আরও প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী ছিলেন, সংখ্যায় তাঁরা প্রায় ছত্রিশজন বা চল্লিশজন, ১৯২১ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে মস্কোয় ইউনিভার্সিটি অফ দা টয়লার্স অফ দা ইস্টে (প্রাচ্যের শ্রমজীবী বিশ্ববিদ্যালয়) যোগদান করেন। রায় স্মৃতিকথায় বলেছেন, কিছুটা দুঃখের সঙ্গে, বাদবাকি মুহাজিরদের জন্য তিনি অর্থের ব্যবস্থা করে দেন যাতে তাঁরা হয় মধ্য এশিয়ার বসবাস করতে পারেন বা তুরস্কে চলে যেতে পারেন অথবা আফগানিস্তান বা ভারতে ফিরে যেতে পারেন। তাঁরা সংখ্যায় ছিলেন প্রায় একশোর কাছাকাছি। যে মুহাজিররা কমিউনিস্ট মতবাদ গ্রহণ করেছিলেন তাঁরা চাইছিলেন ভারতে ফিরে গিয়ে একটা জোরালো বামপন্থী আন্দোলন গড়ে তুলতে যার গণভিত্তি হবেন শ্রমিক, কৃষক, নারী ও তরুণরা, বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীরা। রায় বলছেন, ১৯২০-র ‘হিজরতে’ অংশ নিয়েছিল যে ছাত্ররা তাদের মধ্যে একজন, নাম শওকত উসমানি, যে ছিল ‘বুদ্ধিদীপ্ত এবং সবচাইতে বেশি গোঁড়া’ সে হয়ে উঠল কমিউনিস্ট; তার বক্তৃতা ক্রমেই বাকিদের প্রভাবিত করতে শুরু করল। শওকত উসমানি রায়ের এই ব্যঙ্গাত্মক মূল্যায়ন সম্পর্কে অবগত ছিলেন না, পরবর্তীকালে তিনি লিখেছেন তাঁদের কাছে রায় ছিলেন ‘পিতৃসম’। তাঁকে মার্ক্স পড়তে উৎসাহ দেওয়া হত, এদিকে তিনি যে অঞ্চল থেকে এসেছিলেন সেখানে আধুনিক শিল্পোৎপাদন ব্যবস্থা বলতে প্রায় কিছুই ছিল না, ফলে শিল্প ও উৎপাদন ভিত্তিক পুঁজিবাদ সম্পর্কে খুব একটা ভাল ধারণা না থাকায় ‘বুর্জোয়া’, ‘প্রোলেতারিয়েত’ ইত্যাদি শব্দগুলো তাঁর কাছে একটা কৌতুকপূর্ণ অথচ জটিল ব্যাখ্যামূলক, কৌতূহলোদ্দীপক শব্দভাণ্ডার হয়ে উঠে ছিল। ট্রেড ইউনিয়ন সম্পর্কে পড়াশোনা করতে বলা হলে তিনি অধৈর্য্য হয়ে জানিয়ে ছিলেন তাঁর শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ে কোনো আগ্রহ নেই। এই কথা শুনে রায় এবং তাঁর ‘আমেরিকান স্ত্রী’ ও কমরেড ইভলিন হাসিতে ফেটে পড়েন। অবশ্য খুব দ্রুতই তিনি কমিন্টার্নের সমাজতান্ত্রিক ও আন্তর্জাতিকতাবাদী শব্দভাণ্ডার আয়ত্ত করে ফেলেছিলেন এবং ঔপনিবেশিক ও আধা-ঔপনিবেশিক দেশগুলিতে শ্রমিক ও কৃষকদের অবস্থা সম্পর্কে প্রভূত পড়াশোনা করেছিলেন। কমিউনিজমের আদর্শের দিকে সরে এলেও তাঁদের সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী অভিমুখ পরিবর্তিত হয়নি। তাঁদের মতাদর্শ ও দর্শন, পৃথিবীকে তাঁরা যেভাবে দেখতেন সেই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হল। গৃহযুদ্ধ ও বিপ্লবের পরিস্থিতিতে একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শকে অন্যান্য মতাদর্শের তুলনায় বেশি রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী, সামাজিক গুরুত্বসম্পন্ন ও অভিনব বলে মনে করেছিলেন বলেই মুহাজির ছাত্রদের একটি অংশ কমিউনিজম- এর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। উপনিবেশভুক্ত বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে তাঁদের সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধিতার মূলে যে সামাজিক ভিত্তি ছিল তার রূপান্তর ঘটেছিল পরিবেশ-পরিস্থিতি ও নতুন চিন্তাধারার সম্মিলিত প্রভাবে। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এশিয়ায় ঔপনিবেশিকতা ও আধা-ঔপনিবেশিকতা বিরোধী আন্দোলনগুলির প্রতি বলশেভিক সমর্থন, এবং তুরস্ক ও আফগানিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, যেহেতু প্রত্যেকেই ব্রিটিশ আক্রমণের মোকাবিলা করছিলেন, এই সবকিছুর ফল হিসেবেই বেশ কয়েকজন মুহাজির ছাত্র বামপন্থার প্রতি আস্থা দেখিয়ে ছিলেন। এই প্রক্রিয়ার অংশ ছিল ভারতীয় প্যান-ইসলামি এবং জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বের দ্বারা প্রস্তাবিত রাষ্ট্র ও সমাজ পরিকল্পনাটিকে প্রত্যাখ্যান করা। সাংবিধানিক সরকার যা মালিকের কর্তৃত্বকে সংরক্ষণ করবে এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির নিয়মকে সুরক্ষিত রাখবে সেই প্রস্তাবিত সরকারের পরিবর্তে কয়েকজন একটা নতুন মডেলের সরকার গঠনের কথা ভাবলেন যা গরিব মানুষের স্বশাসনের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে। ছিন্নমূল বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে এবং দরিদ্র কৃষকসমাজ থেকে উঠে এসেছিলেন বলে দারিদ্র্যের কষ্ট, দৈন্য-দুর্দশার সঙ্গে তাঁদের ভালোই পরিচয় ছিল। দ্বিতীয় পথটি তাঁদের মধ্যে স্বশাসনের সম্পর্কে একধরনের সহমর্মিতার বোধ জাগিয়ে তুলতে পেরেছিল এবং বলশেভিকদের সঙ্গে তাঁরা যোগ দিতে চেয়েছিলেন। সম্প্রতি একটি প্রবন্ধে আমি এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি, যেসব মুহাজিররা ‘বলশেভিকবাদ’-কে গ্রহণ করলেন তাঁরা চেয়েছিলেন ভারতে ফিরে গিয়ে ঔপনিবেশিক শাসনকে উপড়ে ফেলতে। প্রাক্তন-মুহাজির কমিউনিস্টরা ভারতের উপনিবেশ বিরোধী গণ অভ্যুত্থানে যোগ দেবার এবং শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা করেন। উসমানি ফিরে আসেন এবং ১৯২৪ সালের কানপুর বলশেভিক ষড়যন্ত্র মামলায় মুজফ্ফর আহ্মদ এবং এস.এ. ডাঙ্গে ও নলিনী গুপ্তের সঙ্গে অভিযুক্ত হন। প্রথম দুইজন ইতিমধ্যেই যথাক্রমে কলকাতা ও বম্বেতে সক্রিয় ছিলেন এবং শেষোক্ত জন ছিলেন রায়ের প্রতিনিধি। মস্কো ছাড়ার সময় উসমানি জানতেন না যে ১৯২১-এর জুন থেকেই প্রাক্তন মুহাজিরদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছিল। সীমান্ত শহর পেশোয়ারে তাঁদের জন্য অপেক্ষা করেছিল গোপন বিচার এবং কঠোর কারাবাস। তাঁদের দীর্ঘ যাত্রাপথ শেষ হতে চলেছিল। সাম্রাজ্যবাদীরা মুসলমান বিদ্রোহীদের মনে করত ভবঘুরে, বিপজ্জনক এবং শত্রুপক্ষের দ্বারা নিযুক্ত আক্রমণকারী। এই বোঝাপড়া তাঁদের জন্যও বহাল রইল। মুহাজির থেকে কমিউনিস্ট হয়ে ওঠা এই বিপ্লবীরা পামিরের রুক্ষ কর্কশ ভূখণ্ড প্রায় পুরোটাই পায়ে হেঁটে পাড়ি দিলেন, সোভিয়েত মধ্য এশিয়া থেকে আফগানিস্তান পৌঁছলেন এবং অবশেষে উত্তরপশ্চিম সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করলেন। ১৯২২-২৩ সালে পেশোয়ার বলশেভিক ষড়যন্ত্র মামলায় যে সাতজন অভিযুক্ত ছিলেন তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ১৯২০-র গোটা দশেক জুড়ে এবং তার পরেও কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গেই রয়ে গেলেন। উপনিবেশের গোয়েন্দা সংস্থা ১৯১৫ থেকে ১৯২০-র মধ্যে মুহাজিরদের মধ্যে চর পাঠিয়ে তাঁদের গতিবিধি সম্পর্কে জানার প্রভূত চেষ্টা চালায়। আব্দুল কাদির নামে এক গুপ্তচর তাসখন্দ ও মস্কোয় তাঁদের যাত্রার বিবরণ দিতে গিয়ে সম্ভবত অজ্ঞাতসারেই তাঁদের রাজনৈতিক রূপান্তরের সামাজিক মাত্রা সম্পর্কে কিছুটা আভাস দিয়ে ফেলেছিলেন। তিনি বলেন— ‘কমিউনিস্টরা এবং আমরাও পরস্পরকে সম্বোধনের জন্য যে শব্দটা ব্যবহার করে থাকি তা হল ‘তাওয়ারিশ’, যার অর্থ কমরেড।’ যাঁরা কমিউনিস্ট হয়েই গেলেন তাঁরা আন্তর্জাতিকতাবাদী পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। পেশোয়ারে অভিযুক্ত হওয়ার পর জেল খেটে ছাড়া পেয়ে আব্দুল মজিদ নিজের শহর লাহোরে ফিরে এলেন। একদল পাঞ্জাবি তরুণ বামপন্থীদের আয়োজিত সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে মাজিদ মুহাজির হিসেবে মধ্য এশিয়ায় নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন। তিনি আফগানিস্তানের পরিস্থিতি, তুর্কমেন প্রতিবিপ্লবীদের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং প্যান- ইসলামি রাজনীতির অসারতার কথা জানিয়ে ছিলেন। তিনি সন্ধান করেছিলেন একটা পরিচিতি সত্ত্বা ভিত্তিক কাঠামো যা ইসলামিয় ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের প্রতিশ্রুতি বহন করবে। কিন্তু বাস্তবে তা অপূর্ণ রয়ে গেল। তিনি শৃঙ্খল মুক্তির আশ্বাস খুঁজে পেলেন না। তাই একজন প্রাক্তন মুহাজির ‘বলশেভিক’ হয়ে উঠলেন। নির্বাসনে থাকাকালীন যুদ্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের অভিজ্ঞতা, পেশোয়ার ও বলশেভিক ষড়যন্ত্র মামলা ও তার সঙ্গে ভারতে ১৯২০’র দশকে জঙ্গি শ্রমিক আন্দোলনের সম্মিলিত প্রভাবে সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মীরা উঠে এসেছিলেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিমুখগত দিক থেকে তাঁরা ছিলেন স্পষ্টত বামপন্থী। বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ একসঙ্গে মিশে গিয়ে ১৯২৫ সালে গড়ে উঠল একটি সর্ব-ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি নেটওয়ার্ক এবং বিশেষ করে পাঞ্জাব, বম্বে ও বাংলায় শ্রমিক ও কৃষক সংগঠনগুলি তৈরি হল। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ঔপনিবেশিক শাসনে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছিল এবং গোপনে কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। এগুলি ছিল তার প্রকাশ্য সংগঠন। তাসখন্দের ইন্ডিয়া হাউস ছিল তাসখন্দের পুরোনো ও নতুন অংশের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত একটি একতলা বাড়ি। এই বাড়িটি বিভিন্ন বয়সের এবং সামাজিক স্তরের মুহাজিরদের বাসস্থান হয়ে ওঠে; কয়েকজন তরুণ ছাত্র যারা বামপন্থা অবলম্বন করেছিল তারাও সেখানে ছিল। ইন্ডিয়া হাউসের আভ্যন্তরীণ জীবন বলশেভিক বিপ্লবকে কেন্দ্র করে মুহাজিরদের মধ্যে যে মতের বিভিন্নতা ছিল তাকে আরো প্রকট করে তোলে। রায় স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছেন, বলশেভিকরা এমন এক সময়ে ভারতীয় মুহাজিরদের সবরকমের মৌলিক স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন যখন তাঁরা নিজেরাই অসহনীয় কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। প্রবাসীরা যাতে নিজেদের বিভিন্ন কাজকর্ম ও সমস্যা নিজেরাই মেটাতে পারেন তার জন্য একটি হাউস কমিটি গঠন করা হয়। আত্ম-পরিচালনা ও বিতর্কমূলক এই পরিবেশ শওকত উসমানি ও অন্যান্যদের মধ্যে বামপন্থী রাজনীতি ও তার সামাজিক ভিত্তি সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি করতে পেরেছিল। শওকত উসমানি তাঁর স্মৃতিচারণায় বলেছেন, ইন্ডিয়া হাউসে প্যান-ইসলামি ও রায়ের দলের মধ্যে কমিউনিজম ও ধর্ম বিষয়ে মতভেদ ছিল। কিছুকাল উভয় দলের থেকে দূরত্ব বজায় রাখলেও শেষ পর্যন্ত তিনি কমিউনিস্টদের সঙ্গে যুক্ত হন। সুচেতনা চট্টোপাধ্যায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এবং An Early Communist: Muzaffar Ahmad in Calcutta, 1913-1929 ও Voices of Komagata Maru: Imperial Surveillance and Workers from Punjab in Bengal বইয়ের লেখক। এই লেখাটি Frontline পত্রিকায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের লিখিত রূপ। Frontline পত্রিকার তরফে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন সুহৃদ শংকর চট্টোপাধ্যায়। মূল সাক্ষাৎকারটির লিঙ্ক— https://frontline.thehindu.com/the-nation/origins-of-communist-party-of-india-in-tashkent/article32952125.ece প্রকাশের তারিখ: ১৭-অক্টোবর-২০২২ |
© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |