|
আমাদের বিপ্লবকে আমি রক্ষা করবইআলেইদা গুয়েভারা |
অনেকে হয়ত জানেন না— কিউবার ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তর্জাতিক ব্রিগেড, যারা ৫০টিরও বেশি দেশে কাজ করছে, এই অতিমারিকে হারিয়ে ও সবচেয়ে অভাবী মানুষকে আশা জুগিয়েছে— তাদের নাম আসলে এক অসীমসাহসী তরুণ মার্কিন নাগরিকের নামে। উনি হলেন হেনরি রিভ, যিনি উনিশ শতকে স্পেনীয় শাসনের বিরুদ্ধে কিউবার মানুষদের হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিলেন। হেনরি রিভ ব্রিগেডের জন্য, আর এরকম আরও অজস্র অগুনতি কারণে আমি আমার দেশবাসীদের নিয়ে গর্বিত, আমি গর্বিত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব নিয়ে। |
অনেকে হয়ত জানেন না— কিউবার ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তর্জাতিক ব্রিগেড, যারা ৫০টিরও বেশি দেশে কাজ করছে, এই অতিমারিকে হারিয়ে ও সবচেয়ে অভাবী মানুষকে আশা জুগিয়েছে— তাদের নাম আসলে এক অসীমসাহসী তরুণ মার্কিন নাগরিকের নামে। উনি হলেন হেনরি রিভ, যিনি উনিশ শতকে স্পেনীয় শাসনের বিরুদ্ধে কিউবার মানুষদের হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিলেন। হেনরি রিভ ব্রিগেডের জন্য, আর এরকম আরও অজস্র অগুনতি কারণে আমি আমার দেশবাসীদের নিয়ে গর্বিত, আমি গর্বিত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব নিয়ে। আমি কিউবার বাসিন্দা, আমি আমার দেশের মানুষকে ভালবাসি আর আমি আমাদের বিপ্লবকে রক্ষা করব। আমি একজন আন্তর্জাতিকতাবাদী ডাক্তার। এবং এজন্য আমি গর্বিত। আমি আজকের কিউবার বাস্তবতা দেখেছি। আর তা নিয়ে আমি যথেষ্ট সমালোচনাও করি। আমি বুঝি যে আমাদের উন্নতির জন্য বিস্তর জায়গা রয়েছে। এমন অনেক কিছু আছে যা আমাদের অবিলম্বে বদলানো দরকার। আমার আদর্শের এক ভীষণ অনুপ্রেরণা হোসে মার্তি, কিউবার এই মহান জাতীয় নায়ক ও কবি বলেছিলেন, সূর্যের অনেক কলঙ্ক আছে, কিন্তু ও এত আলো আর এত শক্তি দেয় যে এই কলঙ্কগুলো আমরা অত গায়ে মাখি না। মার্তি আমাদের শিখিয়েছেন সব মানুষকে সম্মান করতে। আমরা সবাই একইভাবে ভাবি না বটে। কিন্তু আমাদের প্রত্যেকেরই অধিকার আছে সকলের কথাই যাতে শোনা ও বিবেচিত হয়। তবে এই অধিকার প্রত্যেককেই অর্জন করতে হবে। তুমি যত জোরে ইচ্ছে, আর যতক্ষণ ইচ্ছে চিৎকার করতে পারো, কিন্তু তোমার পাশের মানুষটি যদি অন্য কিছু চিৎকার করে, তোমার কথা কেউ বুঝতে পারবে না, তা সে যত উচ্চস্বরেই হোক না কেন। তাই সাধারণ কিছু নিয়মনীতি থাকা জরুরি। আমার পরামর্শ এটাই যে যদি কেউ কোনও কিছুর সমালোচনা করতে চায়, তবে তাকে সেই সমস্যার সমাধানেরও প্রস্তাব করতে হবে। আমার কাছে এটা স্পষ্ট যে নিজের কথা জোর করে শোনানোর জন্য যদি হিংসার আশ্রয় নিয়েও প্রত্যাখান পেতে হয়— বিশেষত কোনও ওয়াকিবহাল ও আত্মমর্যাদাবান মানুষের দ্বারা— তবে তা একান্তই নিরর্থক। কিছুদিন আগে, কিছু নির্লজ্জ মানুষ দেশজুড়ে নানা শহরে নানারকম ধ্বংসাত্মক কাজে ব্রতী হন, জানালা ভেঙেছেন, দোকানে লুটপাট চালিয়েছেন, শিশু হাসপাতাল লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়েছেন, রাস্তায় গাড়ি উল্টে দিয়েছেন, এমনকি কিছুক্ষেত্রে মানুষশুদ্ধ গাড়িও! কিউবার মানুষরা এ জাতীয় আচরণের সঙ্গে অভ্যস্ত নন। ঘৃণার এই দুর্ভাষ্য ও মিথ্যার সঙ্গে তারা অপরিচিত। আমাকে সবচেয়ে বেশি দুর্ভাবনায় ফেলেছে এইটা যে এই দুষ্কৃতকারীরা বেহায়ার মতো মার্কিন সরকারি সংস্থাদের সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক লেনদেনের ব্যাপার স্বীকার করতে দ্বিধাবোধ করেনি। কিউবার বিপ্লব মোটেই নিখুঁত নয়। কিন্তু একমাত্র কিউবার মানুষেরই অধিকার আছে নিজেদের সমস্যাগুলো মেটানোর। অন্য কোনও দেশের কোনওরকম অধিকার নেই আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলানোর। আপনারা ভাবতে পারছেন কয়েকটি নামকেওয়াস্তে প্রতিবাদ যখন বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের দাবি তুলছে, তখন তা কিউবার আমমানুষের মনে কী প্রতিক্রিয়া জাগিয়েছিল! ওরা এখনও বুঝে উঠতে পারল না আমরা কিউবার মানুষরা নিজেদের নিয়ে অত্যন্ত অহংকারী। আর যখন আমাদের জাতীয় সংহতি প্রশ্নের মুখে পড়ে, আমরা আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে ঐক্যবদ্ধ হবোই। আমাদের অনেক সমস্যা আছে আবাস পরিকল্পনা নিয়ে। আমাদের সরকারি যাতায়াত ব্যবস্থা গভীর সমস্যায় জর্জরিত। এই নিষ্ঠুর অতিমারি তো যন্ত্রণাকে সুতীব্র করে ছেড়েছে নানা স্তরেই। তবে সবচেয়ে শুরুর সমস্যা, গত ৬০ বছর ধরে আমেরিকার সরকার যে অবরোধ জারি করেছে কিউবার ওপরে, তা আরও শক্তিশালী করেছে ইদানিং, যার দৌলতে ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক ও সিরিঞ্জের মতো চিকিৎসার বুনিয়াদি সরঞ্জামও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। মার্কিন অবরোধের বৈশ্বিক চরিত্রের দরুণ জারি করা আর্থিক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রাভাণ্ডারে এতটাই টান যে সকলের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য জোগাড় করাই মুশকিল হয়ে পড়ে। এছাড়াও ইদানিং তেল ও অত্যন্ত দরকারি নানা জিনিস-সমেত বিদেশি জাহাজের কিউবার সমুদ্র বন্দর এসে পৌঁছতে পারাই কার্যত এত দীর্ঘসূত্রিতায় আক্রান্ত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে যে বিরক্তিকর লোডশেডিং কিউবায় নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এখন কেউ কি এমন আছেন, যিনি আমায় উপলব্ধি করাতে পারবেন যে মার্কিন সরকার এই অবরোধ বজায় রাখবার পাশাপাশি আমাদের জনকল্যাণ নিয়ে আদতেই ভাবিত? আমরা সত্যি বুঝে উঠতে পারি না। এতদসত্ত্বেও, কিউবা লাতিন আমেরিকার একমাত্র দেশ যারা কোনও আন্তর্জাতিক ওষুধ কোম্পানির ন্যূনতম সহযোগ ছাড়াই বিপুল ত্যাগস্বীকার করেও একটা না, দু-দু’টো কোভিড-১৯ রুখবার ভ্যাক্সিন (তখনও পর্যন্ত) তৈরি করেছে। ফলত আমরা আমাদের সমস্ত নাগরিকদের বিনামূল্যে ভ্যাক্সিন দিতে পারছি, আর সাহায্য দরকার এরকম মানুষদের সহায়াতা করতে পারছি। আমরা আমেরিকার মানুষদেরও জানাতে চাই, যদি তারা আমাদের সংহতি চায়, আমরা হাসতে হাসতে তা দেব। অনেকে হয়ত জানেন না যে কিউবার ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তর্জাতিক ব্রিগেড যারা ৫০টিরও বেশি দেশে কাজ করছে, এই অতিমারিকে হারিয়ে ও সবচেয়ে অভাবী মানুষকে আশা জুগিয়েছে— তাদের নাম আসলে এক অসীমসাহসী তরুণ মার্কিন নাগরিকের নামে। উনি হলেন হেনরি রিভ, যিনি উনিশ শতকে স্পেনীয় শাসনের বিরুদ্ধে কিউবার মানুষদের হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিলেন। হেনরি রিভ ব্রিগেডের জন্য, আর এরকম আরও অজস্র অগুনতি কারণে আমি আমার দেশবাসীদের নিয়ে গর্বিত, আমি গর্বিত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব নিয়ে। আমার প্রিয় দেশবাসীদের থেকে, কিউবার মানুষদের থেকে এক উষ্ণ আলিঙ্গন রইল। ২১ জুলাই ২০২১, কিউবায় মার্কিন সাইবার যুদ্ধ এবং ওয়াশিংটনের মদতে দ্বীপরাষ্ট্রে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টার পর লেখা। ভাষান্তর: দেবরাজ দেবনাথ প্রকাশের তারিখ: ১৬-জানুয়ারি-২০২৩ |
© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |