সাম্রাজ্যবাদ এবং ভারতে তার গুন্ডামি

প্রভাত পট্টনায়েক
এর ওপর ট্রাম্প ব্রিকস নিয়ে হুমকি জারি করেছেন। যার মানে হল ভারতের ওপর তর্জনগর্জন করা যাতে হয় ভারত ব্রিকস ছেড়ে দেয়। নতুবা ব্রিকসের ভেতরে থেকে মার্কিন ট্রোজান হর্স হিসাবে কাজ করে। তব এর কোনও আশু তাৎপর্য নেই। রাশিয়ার তেল কেনার যে আশু ও বুনিয়াদি ইস্যু, তাতে ভারত সরকার নড়বড়ে অবস্থান নিচ্ছে, পরস্পর বিরোধী মন্তব্য করছে। আসলে এ হল ছলচাতুরির আড়ালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তোষণ করা।

এটা ভাগ্যের পরিহাস যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভারতের মানুষের সংগ্রামের বিজয়ের ৭৮তম বার্ষিকীতে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ভারতের ওপর খোলাখুলি গুন্ডামি করে বলছে যে, তাদের নির্দেশ মেনে চলতে হবে। বলা হতেই পারে যে, এটা তো সাম্রাজ্যবাদের চরিত্রই। বস্তুত গত ৭৮ বছরে বেশ কয়েকবার মার্কিন সামাজ্যবাদ চেষ্টা করেছে ভারতকে তাদের নির্দেশ মেনে নিতে। তবে এখনকার ও আগের প্রয়াসের মধ্যে দুটি বুনিয়াদি পার্থক্য রয়েছে: এখনকার হুমকি এই ভাষায় দেওয়া হচ্ছে না যে ‘যা বলা হচ্ছে তা আপনাদের ভালোর জন্যই বলা হচ্ছে।’ বরং এখন যা বলা হচ্ছে তা আরও সরাসরি,’ যা বলছি তাতে আমাদের ভালো হবে। তেমনটাই করুন। তেমনটা না-করলে আপনাদের শাস্তি পেতে হবে’। দ্বিতীয়ত আগেকার সরকারগুলির মতো ভারত সরকার দৃঢ়ভাবে এই হুমকির বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে না। বরং, এই গুন্ডামির বিরুদ্ধে মিশ্র বার্তা দিচ্ছে। বিষয়টাকে ব্যখ্যা করা যাক।

সোভিয়েত ইউনিয়নকে বিশ্বের চারদিক থেকে ঘেরাও করার জন্য যখন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সিয়াটো এবং সেন্টোর মতো সামরিক জোট গঠন করছিল, তখন স্বাধীন ভারত ওই সব জোটে যোগ দিতে অস্বীকার করে। বরং ভারত সে-সময় জোট নিরপেক্ষ নীতি গ্রহণ করেছিল। এর  ফলে ভারতের ওপর ক্রুদ্ধ হয়েছিল আমেরিকা। তখনই মার্কিন বিদেশ সচিব জন ফস্টার ডালেস এই হুকুম জারি করেছিলেন, ‘যদি আপনারা আমাদের পক্ষে না-হলে তাহলে আপনারা আমাদের বিরুদ্ধে।’ তখন আমেরিকা ভারতের সঙ্গে শত্রুর মতোই আচরণ করেছিল। ভারত যখন আত্মনির্ভরতার সঙ্গে পরিকল্পনা কার্যকর করার উচ্চাকাক্ষার পর্বে, যখন রাষ্ট্রায়ত্ত সেক্টরের অধীনে অর্থনীতির ভারী শিল্পের ভিত তৈরি করা হচ্ছিল, এবং অর্থনীতির ওপর মেট্রোপলিটান পুঁজির ফাঁস আলগা করা হচ্ছিল, তখন কী আমেরিকা কিংবা তাদের নিয়ন্ত্রিত বিশ্ব ব্যাঙ্ক থেকে ভারত ‘উন্নয়নের জন্য কোনও সহযোগিতাই’ পায়নি। আমেরিকার টাকায় বিভিন্ন ‘বিশেষজ্ঞ’ এদেশে এসে ভারতকে ‘উপদেশ দিয়েছিলেন’ মহলানবিশের নীতি কার্যকর না-করতে। অথচ সেটাই আত্মনির্ভরতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিকে অভিব্যক্তি দিয়েছিল। (দেখুন ড্যানিয়েল ও অ্যালিস থর্নারের বই ল্যান্ড অ্যান্ড লেবার ইন ইন্ডিয়া-য় ‘প্লাউয়িং দ্য প্ল্যান আন্ডার’ প্রবন্ধটি।

সোভিয়েত ইউনিয়নের অবিচল সহযোগিতায় ভারত জোট-নিরপেক্ষ নীতিতে অচল ছিল। স্থিতধী ছিল আত্মনির্ভরতার নীতিতেও। তখন মেট্রোপলিটান পুঁজির আধিপত্যের বিরোধিতা করার জন্য কাজে লাগানো হয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সেক্টরকে। তখন ভারতকে বিদেশি মুদ্রা খরচে রেশনিং চালু করতে হয়েছিল। কিন্তু ভারত আত্মনির্ভারতার পথ ছাড়েনি। ১৯৫০-এর দশকের শেষ দিকে, ডালেসের মৃত্যুর পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে তাদের অবস্থান বদল করছিল। ওদের ভয় হয়েছিল যে, দূরে সরে থাকার নীতিতে তাদের নিজেদেরই ক্ষতি করছে (এবং সোভিয়েত ইউনিয়নকে সাহায্য করছে)। এবং ভারতের মতো দেশগুলি আদৌ মাথা নত করছে না। ৫০-এর দশকের শেষ দিকে আইজেনহাওয়ারের ভারত সফরের পর, শেয পর্যন্ত বিশ্ব ব্যাঙ্কের কিছু ‘সাহায্য’ ভারতে পৌঁছতে শুরু করে। তাও শুধু পরিকাঠামোর প্রকল্পের জন্য।  

পরে, বাংলাদেশ যুদ্ধের সময় যখন ভারত হস্তক্ষেপ করেছিল এবং ঘোলা জলে মাছ ধরা থেকে আমেরিকাকে বঞ্চিত করেছিল, তখন মার্কিন সরকার এতটাই ক্রুদ্ধ ছিল যে তারা বঙ্গোপসাগরে পাঠিয়ছিল টাস্ক ফোর্স ৭৪। নেতৃত্বে ছিল বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ। তবে এসবে ভয় না-পেয়ে ভারত নিজের পথে অবিচল ছিল। এবং বাংলাদেশ গঠনে সহযোগিতা করেছিল।

অতএব মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের গুন্ডামি, যেটা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সাধারণ সাম্রাজ্যবাদী প্রয়াস নয়, বরং আরও সুনির্দিষ্টভাবে প্রয়াস চালানো যাতে ভারত অ্যামেরিকান অ্যাজেন্ডার অংশ হয়ে ওঠে, সেটা একেবারেই পুরোনো ঘটনা। তবে আগে স্বাধীন ভারত এমন প্রয়াস সাফল্যের সঙ্গে প্রতিরোধ করেছিল। তবে এখনকার যে গুন্ডামি, যদিও তা মোটেই নতুন নয়, তবে এখন এটা ঘটছে ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে। ভারত এখন নয়া-উদারবাদী পুঁজিবাদকে গ্রহণ করেছে। অতএব এখন বিশ্বায়িত ফিনান্স পুঁজির আধিপত্য কায়েম হয়েছে। 

এখন ট্রাম্পের যে গুন্ডামি  সেটা শুধু ভারতের ওপরেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্যে দুটি ইস্যু রয়েছে: প্রথম ইস্যুটি শুল্ক। শুল্ক নিয়ে ১ আগস্টের মধ্যে -দুদেশের বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। তার মানে আমেরিকার বাজারে ভারতের ওপর বসবে ২৫ শতাংশ শুল্ক। দ্বিতীয় হল জরিমানা শুল্ক। রাশিয়ার ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা। সেই নিষেধাজ্ঞা ভেঙে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনছে ভারত। এর ওপর ট্রাম্প ব্রিকস নিয়ে হুমকি জারি করেছেন। যার মানে হল ভারতের ওপর তর্জনগর্জন করা যাতে হয় ভারত ব্রিকস ছেড়ে দেয়। নতুবা ব্রিকসের ভেতরে থেকে মার্কিন ট্রোজান হর্স হিসাবে কাজ করে। তব এর কোনও আশু তাৎপর্য নেই। রাশিয়ার তেল কেনার যে আশু ও বুনিয়াদি ইস্যু, তাতে ভারত সরকার নড়বড়ে অবস্থান নিচ্ছে, পরস্পর বিরোধী মন্তব্য করছে। আসলে এ হল ছলচাতুরির আড়ালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তোষণ করা। 

মার্কিন সম্মতি প্রাপ্ত যে-সব সূত্র থেকে ভারত তেল পেতে পারে, রাশিয়ার তেল তার চেয়ে শস্তা। তার মানে এটা স্পষ্ট যে ভারতকে রাশিয়ার তেল না-কেনার জন্য চাপ দেওয়া মানে ভারতের নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধেই কাজ করতে বলা। কিন্তু কেন? দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্য ইস্যুতে যে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল সেগুলি ছিল রাষ্ট্রসঙ্ঘ সমর্থিত। তবে আমেরিকার জারি করা নিষেধাজ্ঞা তেমন নয়। এগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির চাপানো একতরফা নিষেধাজ্ঞা। এগুলো যে-সব দেশের বিরুদ্ধে জারি করা হয় সেগুলি ওই সব দেশ এই হুকুমদারি মানে না। যেমন কিউবা, ইরান কিংবা ভেনেজুয়েলা। জোর করে এসব হুকুম মেনে চলতে বাধ্য করা মানে দেশগুলিকে তাদের নিজেদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে বাধ্য করা। মানে সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থকেই দেখা। কিছু বড়ো বড়ো নীতি কার্যকর করার নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন বিভিন্ন দেশকে বাগে আনতে কোনও রকম রাখ-ঢাক করছে না। এই দেশগুলিকে প্রকাশ্যে এবং স্পষ্ট বোঝা যায় এমন ভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে যে যাতে তারা নিজেরা মূল্য চুকিয়ে সাম্রাজ্যবাদের স্ট্র্যাটেজিক স্বার্থের সেবা করে। 

এই সব ইস্যুতে মোদি সরকার কেন সাহসের সঙ্গে এবং নির্ধারকভাবে ট্রাম্পকে খারিজ করে দেয়নি? চীনকে বাদ দিলে, এমনকী একটি পুঁজিবাদী দেশ ব্রাজিলের সরকারও ট্রাম্পের সঙ্গে সাহসের সাথে মোকাবিলা করেছে। এবং প্রেসিডেন্ট লুলা ঘোষণা করেছেন যে, যদি আমেরিকা ব্রাজিলের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসায়, তাহলে আমরাও মার্কিন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসাব। কংগ্রেস সঠিকভাবেই এ-ব্যাপারে মোদির ভীরুতার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ যুদ্ধের সময় নিক্সনের সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধী যেভাবে সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করেছিলেন সেকথা উল্লেখ করেছে (নিক্সন একবার স্বীকার করেছিলেন যে শ্রীমতি গান্ধীর চোখের দিকে চাইতে তিনি ভয় পেতেন)। তবে কোনও নেতার ভীরুতা কিংবা সাহস কোনটাই তাদের শ্রেণির থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। মোদি ও লুলার মধ্যে ফারাক হল লুলার শিকড় রয়েছে শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে। আর মোদি শ্রমিকদের কিছু ভোট পেলেও মূলত তাকে তুলে ধরেছে বড়ো বুর্জোয়ারা। আবার যদি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের যে ভারতের ওপর গুন্ডামি করার কৌশল তার মোকাবিলায় ভারতের এখনকার ও আগেকার অবস্থান, সেটার কারণ নেহরু বা ইন্দিরা গান্ধীর কিংবা মোদির ব্যক্তিগত স্বতন্ত্রতা নয় (যদিও ব্যক্তিগত পার্থক্যকে অস্বীকার করা যায় না)। আসলে এই পার্থক্যটা রয়েছে উপনিবেশ বিরোধী রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণবাদী ব্যবস্থা এবং নয়া-উদারবাদী ব্যবস্থার মধ্যে।

এটা খুবই স্পষ্ট যে কোনও দেশের অর্থনৈতিক নীতি এবং বিদেশনীতির মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগ থাকে। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণবাদী অর্থনৈতিক নীতি যা আত্মনির্ভরতার ওপর জোর দিয়েছিল সেটার সঙ্গে তালমিল ছিল ভারতের জোট নিরপেক্ষ নীতির। তাই সাম্রাজ্যবাদী গুন্ডামির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ইচ্ছা ও ক্ষমতা দুটোই ভারতের ছিল। নয়া-উদারবাদী ব্যবস্থা যে কারণে কুখ্যাত তা হল এই ব্যবস্থা আত্মনির্ভরতার যে কোনও প্রয়াসকেই অন্তর্ঘাত করে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ আসলে এদেশে বিদেশি পুঁজিকে কোনও কিছু তৈরি করার জন্য আমন্ত্রণ। নয়া-উদারবাদের অস্তিত্বের শর্তই হল উন্নয়নশীল দেশগুলির আত্মনির্ভরতা অর্জনের সব রকম প্রয়াস থেকে দূরে সরে যাওয়া। তার ফলে এই দেশগুলি সহজেই সাম্রাজ্যবাদের হাত মুচড়ে আদায় করা নীতির শিকার হয়ে যায়। 

যখন ভারতে নয়া-উদারবাদী ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, তখন তার স্বপক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে এটা একটা স্থায়ী নতুন ব্যবস্থা যেখানে পুঁজির চলাচল হয় বিশ্বজুড়ে। এর ফলে দক্ষিণ গোলার্ধের কম মজুরির দেশগুলি হয়ে উঠবে সমস্ত ধরনের কাজকর্মের প্রাথমিক ঠিকানা যে কাজগুলি এতদিন হত উত্তর গোলার্ধের দেশগুলিতে। এভাবে উত্তর থেকে দক্ষিণে কাজগুলো সরে এলে এসব দেশে দারিদ্র এবং অনুন্নয়ন দূর হবে। এই যুক্তির স্পষ্ট সমস্যাটা হল, কোনও বিশ্ব ব্যবস্থাকেই চিরকালের জন্য বৈধ বলে ধরে নেওয়া যায় না। এই ব্যবস্থাগুলো তৈরি করে সাম্রাজ্যবাদ এবং এখন স্পষ্ট যে তারা চাইলেই এই ব্যবস্থায় বদল আনতে পারে। কিন্তু যখন চালু কোনও ব্যবস্থা থেকে সাম্রাজ্যবাদ পিছু হঠে, তখন ভারতের মতো দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলি যারা ইতিমধ্যে সাম্রাজ্যবাদের মুঠোর মধ্যে গিয়ে পড়েছে তারা আর নিজেদের বের করে আনতে পারে না।

একবার যদি কোনও দেশ বাণিজ্যনির্ভর হয়ে পড়ে, তাহলে সেই বাণিজ্যে কোনওরকম ব্যাঘাত ঘটলে সেটা বড়োসড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। তখন যদি অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট দেশটি বড়ো ধরনের বদল করতে রাজি না-থাকে, তাহলে যখনই সাম্রাজ্যবাদ নগ্ন গুন্ডামির আশ্রয় নেবে তখন সেই দেশটিকে আপোসের পথে হাঁটতে হবে। আবার এ-ধরনের রদবদল করার চেষ্টা হলে বৃহৎ বুর্জোয়ারা এবং শহুরে উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণিও তাতে বাধা দেবে। কারণ নয়া-উদারবাদ থেকে তারাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছে। এবং যে-সরকার মূলত এই দুই শ্রেণির স্বার্থ নিয়ে ভাবিত, সাম্রাজ্যবাদের গুন্ডামির দাবির সঙ্গে সমঝোতা করাটাই তাদের প্রবণতা হয়ে দেখা দেবে। 

একটা দৃষ্টান্ত দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির কারণে ইতিমধ্যেই টাকার দাম পড়তে শুরু করেছে। যখন উঁচু হারে শুল্ক কার্যকর হবে, তখন টাকার দামে আরও পতন হবে যদি পুঁজির ওপর নিয়ন্ত্রণ জারি করা না-হয়। এর ওপর বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণও জারি করতে হবে। এটা করতে হবে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার ঠিক রাখার জন্য। এ-সবের মানে হল নয়া-উদারবাদী জমানা থেকে সরে আসা এবং তার বদলে আনতে হবে একটা বিকল্প শাসন। কিন্তু যে-বৃহৎ বুর্জোয়া বিশ্বায়িত ফিনান্স পুঁজির সঙ্গে সুসংহতভাবে জুড়ে গেছে তারা এর বিরোধিতা করবে। ফলে যে-সরকার এদের স্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধ তারা অন্য কোনও বিকল্পের কথা ভাববেই না। বরং সাম্রাজ্যবাদের গুন্ডামির সঙ্গে তারা সমঝোতা ও আপোস করবে।

তার মানে যদি সাম্রাজ্যবাদের হাত থেকে স্বাধীনতা পেতে হয় তাহলে নয়া-উদরাবাদী কৌশলের মৌলিকভাবে বিরোধী পথে হাঁটতে হবে । ১৯৯০ সালে মোড় ফেরার অনেক আগেই একাধিক ভারত সরকার এই বিষযটির স্বীকৃতি দিয়েছিল। নয়া-উদারবাদের পক্ষাবলম্বন করে দেশের স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের গুন্ডামি শুধু এই বিষয়টিকেই যথেষ্টভাবে স্পষ্ট করে তুলছে। 

সূত্র- পিপলস ডেমোক্রেসি, ৪-১০ আগস্ট, ২০২৫


প্রকাশের তারিখ: ১১-আগস্ট-২০২৫

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org