|
সাম্রাজ্যবাদী অবরোধ বনাম কমিউনিস্ট প্রত্যয় (দ্বিতীয় পর্ব)ময়ূখ বিশ্বাস |
আসলে ষাট বছরের বেশি সময় ধরে মার্কিনীরা নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেও ব্যর্থ হয়েছে। প্রজন্মান্তর হয়েও সমাজতন্ত্রী কিউবার নাগরিকেরা বিপ্লবী রয়ে গিয়েছে। আফ্রিকায় বছরের পর বছর লড়ে গিয়েছে আন্তর্জাতিকতাবাদী সেনা হয়ে। ফিদেল আর রাউলের সেই আন্তর্জাতিকতাবাদ কিউবার ভূখণ্ড এক ইঞ্চিও বাড়ায়নি, সোনা-দানা-তেল লোটেনি। শুধু ফিরিয়ে এনেছে কিউবার শহিদ সন্তানদের। যারা লড়েছেন বিশ্ব মানবতার মুক্তির জন্যে আলজেরিয়া থেকে নিকারাগুয়ায়। এসবের জন্যে কিউবার ভৌগোলিক সীমানা বাড়েনি কিন্তু রাজনৈতিক সীমানা বেড়েছে। কিউবার মানবিকতা, কিউবার প্রতি সংহতি, বিপ্লবী কিউবার সম্মান পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে পড়েছে। |
প্রথম পর্বের পরে... কিউবার জনসংখ্যা দেড় কোটি (বৃহত্তর কলকাতার চেয়েও কম), আয়তন তেলেঙ্গানার মতো। ছয় দশকের মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চেয়েও বেশি ডাক্তার ও মেডিকেল ব্রিগেড দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়েছে কিউবা। বিনা পয়সায় পড়াশোনা করিয়ে বিদেশি গরিব শিক্ষার্থীদের শর্ত একটাই: স্বদেশে ফিরে নিজ মহল্লায় সেবা করতে হবে। ‘অপারেশন মিরাকল’-এ লাখো মানুষের দৃষ্টি ফিরিয়েছে, চেরনোবিলে পাশে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসক-জনসংখ্যা অনুপাত ১:১৭০ (আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে ১:৩৯০, ভারত ১:১৪৫৬)। ৩৭ হাজার ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী ৫৭টি দেশে কাজ করছেন। পোলিও, হাম নির্মূল হয়েছে। এইডস ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শীর্ষে কিউবা। করোনাকালেও ইতালি থেকে চীনে 'কিউবান মেডিকেল মিশন' এর ঐতিহাসিক ভূমিকায় নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার দাবি উঠেছিল। যখন ভারতে কুসংস্কারে বশবর্তী হয়ে থালা বাজানোর নিদান দেওয়া হচ্ছিলো, সেই সময় কিউবায় প্রতিদিন রাত ৯ টা নাগাদ ডাক্তারদের ধন্যবাদ জানিয়ে হাততালি দেওয়া হতো। কিউবায় 'War Heroes' এর মর্যাদা পান ডাক্তাররা। ২০০০ সালের পর থেকে এই মেডিকেল মিশন যে দেশে যায়, চুক্তি অনুসারে সেই দেশ থেকে অর্থ নেওয়া হয়। এর ২৫ শতাংশ ডাক্তাররা পান এবং ৭৫% কিউবা 'রাষ্ট্র'-এর কাছে যায়, যে অর্থ আবার কিউবার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতিতে ব্যবহৃত হয়। সমাজতন্ত্রে দীক্ষিত কিউবান ডাক্তার-নার্সরা জানেন, তাদের অর্থ কিউবার রাষ্ট্রপতিরা চুরি করেন না, বরং বিনা পয়সায় চিকিৎসা করানো হয় কিউবায়। এখন সেই কিউবান মেডিকেল টিমকে আক্রমণ শুরু করেছে ট্রাম্পের টিম, মূলত ফ্লোরিডার রাজনীতিবিদরা। তাঁরা বলছে, কিউবার মেডিকেল মিশন আসলে মানব পাচারের এজেন্ট। আবার কখনো বলছে, এটা কমিউনিস্ট দাসপ্রথা, বাধ্যতামূলক শ্রমের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘন ইত্যাদি। US Aid তিন মিলিয়ন ডলার খরচ করে তদন্ত করছে কিউবার মেডিকেল মিশন সম্পর্কে। ব্রাজিলে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রপতি বলসোনারো নির্বাচনে জেতার পর ট্রাম্পের নির্দেশে কিউবান মেডিকেল মিশনকে এমনই 'অপবাদ' দিয়ে বাতিল করে দেন । সেই পথেই হাঁটে দক্ষিণপন্থী শাসনে থাকা বলিভিয়া, ইকুয়েডরের মতো কিছু দেশ। কিউবার ক্ষতি হয় কয়েক শত মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ, কিউবান ডাক্তাররা চলে আসার পর ব্রাজিলের ১৭০০ মিউনিসিপালিটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। ডাঃ মারিও দিয়াজ ছিলেন এমনই মেডিকেল মিশনের অংশ। ছিলেন ব্রাজিলের এক প্রত্যন্ত এলাকায়। কারণ,আমাজন হোক বা সাহারা মরুভূমি - প্রত্যন্ত এলাকায় দেশীয় ডাক্তাররাও যেখানে আসতেন না, থাকতেন কিউবান ডাক্তাররা। দিয়াজ বলছেন,"আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে আসেন ৭০ বছরের এক নিরক্ষর ব্রাজিলিয়ান ভদ্রলোক। তিনি কোনওওভাবে জেনেছিলেন আমি আর ব্রাজিলে থাকতে পারবো না। সেদিন তিনি শুধু এসেছিলেন আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে।" সাম্রাজ্যের ষড়যন্ত্রের জাল এভাবেই ছিঁড়ে যায় সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিকতাবাদে। এখানেই কিউবার নাগরিকেরা চ্যাম্পিয়ন। নেপথ্যে মার্কিন ঘরোয়া রাজনীতি এখন কিউবায় সরকারি ক্ষেত্রের পরিধি সীমিত। তার ওপর ছয় দশকের অবরুদ্ধ পরিস্থিতি। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর জীবনযাত্রা অনেক কঠিন হয়েছে। আবার অবরোধের ফলে এবং করোনা পরিস্থিতিতে মূল অর্থনৈতিক ক্ষেত্র পর্যটন ধাক্কা খায়। এমতাবস্থায় কিউবা বিভিন্ন আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নতুন করে ভাবনা চিন্তা শুরু করেছিল। ২০০৮ সাল থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিনিয়োগ করেছিল স্পেন, ইতালির মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো, ব্রাজিল সহ দক্ষিণ আমেরিকার কিছু দেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা, রাশিয়া, চীনের মতো দেশগুলো। আহ্বান জানানো হয়েছিলো মার্কিনীদেরও। মজার ব্যাপার হলো, Cuba's Office of Industrial Property বিভাগে ট্রাম্পের কোম্পানিও নিজেদের রেজিস্ট্রিভুক্ত করেছিলো ফ্যাশন শো, হোটেল, ক্যাসিনো, বিউটি কন্টেস্ট, গল্ফের আয়োজন করার জন্যে। ২০শে এপ্রিল ২০১৫ সালে রাউল কাস্ত্রো এবং বারাক ওবামার ঐতিহাসিক বৈঠকের পর মার্কিন বিনিয়োগের রাস্তাও খোলে। হাভানা ছেয়ে যায় সেলিব্রিটি, গায়ক, রাজনীতিবিদ, রোলিং স্টোনের কনসার্ট এবং ‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ এর মতো সিনেমার শুটিং এ। ২০১৬ তে মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাক্কালে ট্রাম্প এই নীতি চালিয়ে যাওয়ার কথা প্রথমে বললেও মার্কিন রাজনীতিতে একটা অদ্ভুত মোড় আসে। ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই তাঁর কট্টর বিরোধী ছিলেন মার্কিন-ল্যাটিনো সম্প্রদায়ের কিউবান বংশোদ্ভূত মার্কো রুবিও। রুবিও কমিউনিস্ট বিরোধী কিউবান-মার্কিনী গোষ্ঠীর প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং এরা নিয়ন্ত্রণ করে টেক্সাস-ফ্লোরিডার মতো রাজ্যের ভোট। এর মধ্যে টেক্সাস হলো সুইং স্টেট অর্থাৎ দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য, যেখানে ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান, কোনওও দলই একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না। এই রাজ্য গুলো জিততে ট্রাম্প সমঝোতা করলো রুবিও-র সাথে এবং রুবিও-র টিম বানালো উগ্র-কমিউনিস্ট বিরোধী নয়া ল্যাটিন আমেরিকান তথা কিউবান পলিসি৷ ২০১৬ সালে 'ট্রাম্পের যুদ্ধ কিউবার বিরুদ্ধে' স্লোগান ট্রাম্পকে জিততে সাহায্য করলো কিউবান-আমেরিকানদের লবির সমর্থন তথা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সবথেকে বড় সুইং স্টেট টেক্সাস। এবার ২০২৬ সালে আবার মার্কিন দেশে মিড টার্ম নির্বাচন। জেফরি এপস্টাইন ফাইলে জর্জরিত ট্রাম্প। তাই বেপরোয়া ট্রাম্প আরও চাপ বাড়াচ্ছে কিউবার ওপর। ইতিমধ্যে সিআইএ প্রধানকে কিউবায় পাঠিয়েছে হুমকি দিতে। এর সঙ্গে ১০০ মিলিয়ন ডলার মানবিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে মার্কিনী শাসকরা। যাতে কিউবার সরকারের শাঁখের করাতের মতো অবস্থা হয়। পুরানো মিথ্যার ঝুড়ি আবার খুলেছে রুবিও কোম্পানি। আউড়ে যাচ্ছে, "কিউবায় চীন আর রাশিয়ার ঘাঁটি পুরো পশ্চিম গোলার্ধের জন্য হুমকি।" কিন্তু যাঁরা কিউবা গিয়েছেন সেই মার্কিন কংগ্রেস সদস্য থেকে সিআইএ অফিসার সহ বড় বড় সংবাদমাধ্যমও জানে, ট্রাম্প-রুবিও মিথ্যা বলছেন। ১৪ই মে হাভানায় সিআইএ প্রধান র্যার্টক্লিফের সঙ্গে কিউবার শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হয় জটিল পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সংলাপ চালিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে। সেখানে কিউবার স্পষ্ট প্রমাণ দিয়ে বলেছে, তারা মার্কিন নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়। কোনও সন্ত্রাসবাদীকে কোনওদিন আশ্রয় দেওয়া হয়নি কিউবার মাটিতে। বরং কিউবাই সন্ত্রাসের শিকার। কিন্তু একরোখা ট্রাম্পে বলেই যাচ্ছে, ‘একদিন কিউবা আমাদের কাছেই আসবে।’ আসলে এটা ধাক্কাখাওয়া সাম্রাজ্যের হতাশা। ইরানে মুখ পুড়েছে। চীনে মান খুইয়েছে। গোটা দুনিয়ার নজর ছিলো চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং ও মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং বৈঠকে। তার ঠিক আগে চীনের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন, কিউবা ও ভেনেজুয়েলার বিষয়ে চীনের অবস্থান সবসময় পরিষ্কার ও অপরিবর্তিত। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিউবা ও ভেনেজুয়েলার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ও চাপ বাড়াচ্ছে, যার বিরোধিতা করছে চীন। এর আগে চীনের আরেক মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, চীন ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সমর্থন দিয়ে যাবে এবং কিউবার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী মনে করে। একই সঙ্গে চীন কিউবাকে চাল, আর্থিক সহায়তা ও সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম দিয়ে সাহায্য করছে। গত এক বছরে চীনের সহায়তায় কিউবায় ১০০০ মেগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা যুক্ত হয়েছে। এছাড়া ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞারও কড়া বিরোধিতা করেছে বেজিং। কিউবার পাশে রয়েছে দুনিয়ার অধিকাংশ দেশ, তা রাষ্ট্রসংঘের ভোটে বার বার প্রমাণিত। এমতাবস্থায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প-রুবিওর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে মিয়ামির বাতিস্তার ভক্ত ফ্যাসিস্টরা। তারা ক্যাসিনো, মাদক, পতিতাবৃত্তি, লুটপাট ফিরিয়ে আনার জন্য কিউবায় দ্রুত জয় চায়। সময় যে ফুরিয়ে আসছে, তা তারা বুঝতে পেরেছে। তাই এবার সামরিক অভিযানের স্বপ্নে মশগুল। কিউবায় প্রতিরোধের সুর ট্রাম্পের হুমকির উল্টোদিকে কিউবার কমিউনিস্ট সরকার বলেছে, যে কোনও সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পূর্ণ অধিকার কিউবার আছে। আর সাম্প্রতিক সময়ে কিউবার ড্রোন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ চাপে রাখছে সিআইএ-কে। কুখ্যাত সিআইএ-এর আশঙ্কা, গুয়ান্তানামো বে ও ফ্লোরিডার মতো এলাকায় কিউবা ড্রোন হামলা চালাতে পারে। কারণ, ফিদেল-রাউলের উত্তরসূরী মিগুয়েলের স্পষ্ট কথা, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালালে রক্তবন্যা বয়ে যাবে। দুপক্ষের বহু লোক মারা যাবে। কিন্তু কিউবা যেমন নিজের দেশের মাটিতে কোনও কিউবান নাগরিকের মৃত্যু দেখতে চায় না, তেমনি কোনও মার্কিন সেনার জীবনহানিও আমাদের কাছে কাম্য নয়।’ কিউবার বিদেশ দপ্তর বলেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নয়া অবরোধ আসলে সার্বভৌমকত্বের ওপর সরাসরি হামলা। কিন্তু কিউবা এতে ভয় পায় না। নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরেও কিউবানরা দৃঢ় অবস্থানে আছে। শুধু এপ্রিল মাসের দুই সপ্তাহে দেশটির ৮০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ‘আমার স্বাক্ষর মাতৃভূমির জন্য’ কর্মসূচিতে নাম লিখিয়েছেন। ছেষট্টি লাখ মানুষ সই দিয়ে নিজেদের দেশ রক্ষা করতে রাজি হয়েছেন। আর মে দিবসে প্রায় ৫০ লক্ষ কিউবার নাগরিক (যা প্রায় দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক) রাস্তায় নেমে দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে এবং নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন। এই নির্মম মার্কিন অবরোধ,খাদ্যাভাবেও কিউবায় কমিউনিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে কোনও বিদ্রোহ হয়নি, বরং মানুষ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, লড়ে যাচ্ছেন। এসব দেখে ট্রাম্পদের মাথা আরও খারাপ হচ্ছে। আসলে ষাট বছরের বেশি সময় ধরে মার্কিনীরা নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেও ব্যর্থ হয়েছে। প্রজন্মান্তর হয়েও সমাজতন্ত্রী কিউবানরা বিপ্লবী রয়ে গিয়েছে। আফ্রিকায় বছরের পর বছর লড়ে গিয়েছে আন্তর্জাতিকতাবাদী সেনা হয়ে। ফিদেল আর রাউলের সেই আন্তর্জাতিকতাবাদ কিউবার ভূখণ্ড এক ইঞ্চিও বাড়ায়নি, সোনা-দানা-তেল লোটেনি। শুধু ফিরিয়ে এনেছে কিউবার শহিদ সন্তানদের। যারা লড়েছেন বিশ্ব মানবতার মুক্তির জন্যে আলজেরিয়া থেকে নিকারাগুয়ায়। এসবের জন্যে কিউবার ভৌগোলিক সীমানা বাড়েনি কিন্তু রাজনৈতিক সীমানা বেড়েছে। কিউবার মানবিকতা, কিউবার প্রতি সংহতি, বিপ্লবী কিউবার সম্মান পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ক্যারিবিয়ানের এই দ্বীপের মজারু কিন্তু বিপ্লবী আদর্শে জেদী মানুষগুলো জানেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের প্রতিটা অভিযোগের পিছনে রয়েছে দখলের মাপ, প্রতিটা হুমকির সাথে রয়েছে যুদ্ধজাহাজ, আর দেশ লুঠ করা লোভীদের দল। সিয়েরা মায়েস্ত্রার গরিব কৃষক মারিও সারিওলের ঘরে যখন মার্কিন রকেট পড়ছে, তখন দৃপ্ত কন্ঠে ফিদেল বলেছিলেন, ‘মারিওর বাড়িতে যেসব রকেট ছুঁড়েছে, তা দেখে আমি নিজেকে শপথ দিলাম, মার্কিনীরা যা করছে, তার মূল্য দিতে হবে তাদের। এই যুদ্ধ শেষ হলে আমার জন্য আরেক যুদ্ধ শুরু হবে, যা হবে আরো বড় ও দীর্ঘ। যুদ্ধ ওদের বিরুদ্ধে। আমি বুঝতে পারছি এটাই আমার আসল নিয়তি।’ এটাই এখনও কিউবা বিপ্লবের মূল মেরুদণ্ড। আর সেই মেরুদণ্ডই এখনো কিউবাকে পথ দেখায়। ওরা কিউবার পতন চায়। অপমান করতে চায় কমিউনিস্টদের। কিন্তু ভুল মানুষদের সাথে চ্যালেঞ্জ নিয়েছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। আজকের প্রজন্মের দৃপ্ত কিউবান বিপ্লবীরা বলছেন, ‘শেষ আঘাত যখন করবে, তখন শুধু এটাই দেখতে পাবে ট্রাম্প, কিউবা তখনও দৃঢ়ভাবেই দাঁড়িয়ে আছে।’ এটাই বিপ্লবের জিয়নকাঠি। প্রকাশের তারিখ: ২৯-মে-২০২৬ |
© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |