আন্তর্জাতিক নারী দিবস

জোসেফ স্তালিন
শ্রমজীবী নারী-শ্রমিক ও কৃষক নারীরা শ্রমিকশ্রেণির সবচেয়ে বড় মজুত শক্তি। তাঁরা জনগণের অর্ধেক অংশ। সর্বহারা আন্দোলনের ভবিষ্যৎ, সর্বহারা বিপ্লবের জয়-পরাজয়, সর্বহারার ক্ষমতার জয়-পরাজয়—  এ সবই নির্ভর করছে এই মজুত নারীবাহিনী শ্রমিকশ্রেণির পক্ষে-কি-বিপক্ষে থাকবে তার উপর।

মানবজাতির ইতিহাসে শ্রমজীবী নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া নিপীড়িত মানুষের একটি বড় আন্দোলনও সফল হয়নি।

শ্রমজীবী নারীরা হলেন নিপীড়িতদের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত। তাঁরা জনগণের ব্যাপক মুক্তি আন্দোলনের পথ থেকে কখনও সরে দাঁড়াননি, ভবিষ্যতেও সরে দাঁড়াবেন এমন কখনোই হবে না। একথা কারো অজানা নয় যে, দাসদের মুক্তি সংগ্রামের মধ্য দিয়েই শত সহস্র নারী শহীদ হয়েছেন। বীরাঙ্গনা হয়ে বেরিয়ে এসেছেন। ভূমিদাসদের মুক্তি সংগ্রামের মধ্যে হাজার হাজার শ্রমজীবী নারী অংশগ্রহণ করেছেন। নিপীড়িত জনগণের মুক্তি আন্দোলনের মধ্যে শ্রমিকশ্রেণির বৈপ্লবিক আন্দোলনই সবচেয়ে শক্তিশালী। সেই বৈপ্লবিক আন্দোলনের পতাকাতলে যে লক্ষ লক্ষ নারী শ্রমিক সমবেত হয়েছেন, তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

শ্রমিকশ্রেণির মুক্তি সংগ্রাম অপরাজেয়। তার সামনে রয়েছে মহান ভবিষ্যৎ। 

আন্তর্জাতিক নারী দিবস বহন করছে তারই ইঙ্গিত। শ্রমজীবী নারী-শ্রমিক ও কৃষক নারীরা শ্রমিকশ্রেণির সবচেয়ে বড় মজুত শক্তি। তাঁরা জনগণের অর্ধেক অংশ। সর্বহারা আন্দোলনের ভবিষ্যৎ, সর্বহারা বিপ্লবের জয়-পরাজয়, সর্বহারার ক্ষমতার জয়-পরাজয়—  এ সবই নির্ভর করছে এই মজুত নারীবাহিনী শ্রমিকশ্রেণির পক্ষে-কি-বিপক্ষে থাকবে তার উপর।

সেজন্যই শ্রমিকশ্রেণি ও তাদের পুরোধা কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম কাজই হলো বুর্জোয়াদের প্রভাব থেকে শ্রমিক-কৃষক-নারীদের মুক্ত করার জন্য, তাদের রাজনৈতিক শিক্ষার জন্য, সর্বহারার পতাকাতলে তাদের সংগঠিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট সংগ্রাম করা। শ্রমিকশ্রেণির মজুত বাহিনী, নারী শ্রমিকদের সর্বহারার পতাকাতলে সমবেত করার পক্ষে আন্তর্জাতিক নারীদিবস সহায়কের কাজ করবে। 

তবে শ্রমজীবী নারীরা শুধুমাত্র মজুত বাহিনীই নয়। শ্রমকশ্রেণি যদি সঠিক পথে চলতে পারে, তবে সেই নারী বাহিনীও পারে। এবং অবশ্যই পারে বুর্জোয়াদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে প্রকৃত সংগ্রামী বাহিনীতে পরিণত হতে।

শ্রমিকশ্রেণির দ্বিতীয় সুনির্দিষ্ট কাজ হলো শ্রমজীবী মজুত নারী বাহিনীর মধ্যে এমন একটি শ্রমিক-কৃষক-নারী বাহিনী গড়ে তোলা, যারা সর্বহারার মহান বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করতে পারবে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মধ্য দিয়ে যেন শ্রমিক-কৃষক-নারীদের মজুত বাহিনী সর্বহারার মুক্তি সংগ্রামের সক্রিয় বাহিনীতে পরিণত হতে পারে। 

আন্তর্জাতিক নারী দিবস দীর্ঘজীবী হোক!

৮ মার্চ, ১৯২৫, প্রাভদা


প্রকাশের তারিখ: ০৮-মার্চ-২০২৩

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org