|
রাতের শিফটের কাজ সত্যিই কি নারী শ্রমিকদের জন্য সমতার সুযোগ?কিরণ মোঘে |
নিরাপদ পরিবহণ, সিসিটিভি নজরদারি, যথেষ্ট আলো, মহিলা নিরাপত্তাকর্মী ইত্যাদির মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও, ১৯৮৪ সাল থেকে কার্যকর থাকা মহিলাদের রাতের শিফটে কাজের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ট্রেড ইউনিয়নগুলির পক্ষ থেকে প্রবল ও দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে পুঁজিপতি শ্রেণি রাতের শিফটের পক্ষে এক নতুন যুক্তি তুলে ধরেছে—এইবার তা হল ‘সমতা’-র যুক্তি। |
যখন কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নসমূহ এবং শ্রমিক অধিকার রক্ষার জন্য লড়াইয়ে থাকা অন্যান্য সংগঠনগুলি বিজেপি পরিচালিত মোদি সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে এবং চারটি শ্রম কোড বাতিলের দাবিতে ৯ জুলাইয়ের বিশাল সর্বভারতীয় ধর্মঘটের প্রস্তুতিতে ছিল, ঠিক তখনই কিছু রাজ্য সরকার ‘শ্রম সংস্কার’–এর নামে ওই আইনগুলিরই বাস্তবায়নে ব্যস্ত হয়ে পড়ে—যেগুলির বিরুদ্ধে ট্রেড ইউনিয়নগুলি আন্দোলন করছে। এই তথাকথিত ‘শ্রম সংস্কার’ প্রকৃতপক্ষে ‘ব্যবসার সুবিধা করা’ ছাড়া আর কিছুই না৷ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফ্যাক্টরিজ অ্যাক্ট, ১৯৪৮ এবং শপ অ্যান্ড কমার্শিয়াল এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট-এর সংশোধন, যার মাধ্যমে মহিলা শ্রমিকদের রাতের শিফটে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদিও অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ওয়ার্কিং কন্ডিশন্স কোড, ২০২০-তে রাতের কাজের অনুমোদন রয়েছে, কিন্তু সেটি এখনও কার্যকরভাবে বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশিত হয়নি। রাজ্য সরকারগুলোর কাছে যে সমান্তরাল ক্ষমতা আছে, তা ব্যবহার করে একাধিক রাজ্য ইতিমধ্যেই নিজেদের আইন সংশোধন করেছে, যাতে মহিলাদের রাতের শিফটে কাজ করতে দেওয়া যায় এবং দৈনিক কাজের সময়সীমা ৮ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ১০–১২ ঘণ্টা করা যায়। এই রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, ওড়িশা এবং উত্তরপ্রদেশ। সর্বশেষে দিল্লি এই তালিকায় যোগ দিয়েছে এবং গুজরাটও খুব শিগগিরই একই পদক্ষেপ নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যগুলির তালিকা পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট বোঝা যায়, এই উদ্যোগ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক সিদ্ধান্ত নয়, বরং শাসক শ্রেণির সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রীরা ও প্রশাসনিক কর্তারা যে মন্তব্য করেছেন, তা থেকেও এই মনোভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেমন, দিল্লির ক্ষেত্রে, এক পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এবং লেফটন্যান্ট গভর্নর উভয়েই মন্তব্য করেন যে শ্রম আইনকে ‘সহজতর’ (আসলে দুর্বলতর) করার প্রক্রিয়া সন্তোষজনক হয়নি এবং এই ধরনের বিধিনিষেধ ব্যবসার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। অনেক কর্পোরেট প্রতিনিধি মনে করেন, মহিলাদের রাতের শিফটে কাজের অনুমতি দেওয়া অর্থনীতির জন্য একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে, যা আর্থিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করবে। উল্লেখযোগ্য, মহিলাদের রাতের শিফটে কাজের অনুমতির প্রস্তাব নতুন কিছু নয়; এর ইতিহাস বহু পুরনো, যা নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে শুরু হয়। তখন বাণিজ্য মন্ত্রক শ্রম মন্ত্রককে প্রস্তাব দেয়, রপ্তানি নির্ভর অঞ্চলগুলিতে কর্মরত মহিলাদের জন্য রাতের কাজের অনুমতি দেওয়া হোক। বাণিজ্য মন্ত্রকের মতে, তৃতীয় শিফটে মহিলাদের কাজ করার সুযোগ দিলে উৎপাদন ক্ষমতা আরও বেশি ব্যবহৃত হবে, খরচ কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা বাড়বে। এই প্রস্তাব সেই সময় একাধিক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি প্রবলভাবে বিরোধিতা করে। যদিও শ্রম মন্ত্রক আশ্বস্ত করেছিল যে মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, ট্রেড ইউনিয়নগুলি তাদের অবস্থানে অনড় থাকে এবং প্রস্তাবটি স্থগিতই থেকে যায়। পরবর্তী সময়ে ইউপিএ সরকার ২০০৫ সালে আবার এই প্রস্তাব মন্ত্রীসভায় আনার চেষ্টা করে—এইবার তা মহিলাদের ‘ক্ষমতায়ন’-এর নামে, দেশের নানা প্রান্তে গড়ে ওঠা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলিতে (SEZ)। সেই সময়ও সিআইটিইউ (CITU) এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করে এবং দৃঢ়ভাবে এর বিরোধিতা করে। নিরাপদ পরিবহণ, সিসিটিভি নজরদারি, যথেষ্ট আলো, মহিলা নিরাপত্তাকর্মী ইত্যাদির মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও, ১৯৮৪ সাল থেকে কার্যকর থাকা মহিলাদের রাতের শিফটে কাজের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ট্রেড ইউনিয়নগুলির পক্ষ থেকে প্রবল ও দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে পুঁজিপতি শ্রেণি রাতের শিফটের পক্ষে এক নতুন যুক্তি তুলে ধরেছে—এইবার তা হল ‘সমতা’-র যুক্তি। রাতের শিফটে মহিলাদের কাজের উপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে তা অনুমোদনের এই প্রক্রিয়াকে বলা হচ্ছে ‘নিষেধাজ্ঞা থেকে সুরক্ষা’-য় রূপান্তর এবং একে একটি ‘লিঙ্গসমতা ভিত্তিক পদক্ষেপ’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এখানে শুধু নিয়োগকর্তারাই নয়, বরং কিছু সদিচ্ছাপূর্ণ মহিলা সংগঠনও এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষে কথা বলেছে, কারণ তাদের মতে এই বিধিনিষেধগুলি ‘বৈষম্যমূলক’ এবং ভারতের সংবিধানে সংরক্ষিত নারীদের মৌলিক সমতা অধিকারের পরিপন্থী। এছাড়াও, এই নিষেধাজ্ঞা সংবিধানের ১৯ নম্বর ধারারও লঙ্ঘন, যেখানে—মহিলাদের যেকোনও পেশা বেছে নেওয়ার অধিকার এবং যেকোনও ব্যবসা-বাণিজ্য বা পেশায় যুক্ত হওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। এই যুক্তির ভিত্তিতেই কিছু হাইকোর্ট ১৯৮৪ সালের ফ্যাক্টরিজ অ্যাক্টের সংশ্লিষ্ট ধারা (৬৬)-কে অসাংবিধানিক বলে খারিজ করে দিয়েছে। এমনকি, মাদ্রাজ হাইকোর্ট এমন কিছু বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে, যেখানে রয়েছে—যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির পদ্ধতি, যথাযথ অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া, কমপক্ষে ১০ জন বা তার বেশি মহিলাকে একসঙ্গে নিয়োগ, আলাদা কাজের শেড, ক্যান্টিন, শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য নির্ধারিত পরিবহণ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলো, বিশ্রাম, স্বাস্থ্যকর কাজের পরিবেশ, প্রবেশ ও প্রস্থানপথে নিরাপত্তা, শিফটের মধ্যে কমপক্ষে ১২ ঘন্টার বিশ্রাম এবং প্রতিটি রাতের শিফট সংক্রান্ত রিপোর্ট নিয়মিতভাবে পরিদর্শক এবং স্থানীয় থানায় জমা দেওয়া। এই প্রস্তাবিত অনেক ব্যবস্থাই দিনের শিফটে কর্মরত মহিলাদের জন্যও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও ইতিবাচক। তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে মহিলাদের রাতের শিফটে কাজ করার বিরোধিতা শুধুমাত্র তাঁদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ থেকে জন্মায় না—যদিও এই দিকটি এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন দেশে নারীদের ওপর হিংসার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। রাতের শিফটের বিরোধিতার অন্যতম প্রধান কারণ, স্বাস্থ্যের দিকটি। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, রাতের শিফটে কাজ করলে স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে—যেমন হজম ও স্নায়বিক সমস্যা, অতিরিক্ত নেশাজাতীয় দ্রব্য (যেমন তামাক) গ্রহণ, হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি ইত্যাদি। নারীদের ক্ষেত্রে এগুলি প্রজনন সংক্রান্ত ঝুঁকি—অনিয়মিত কাজের সময়ের কারণে গর্ভপাত, সময়ের আগে সন্তান জন্ম, কম ওজনের শিশু জন্মগ্রহণের মতো ঘটনা বেড়ে যায়। পারিবারিক ও সামাজিক জীবনেও ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটে, সম্পর্ক ও জীবনযাপনে চাপ তৈরি হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মহিলারা যেভাবে কাজের পাশাপাশি গৃহস্থলির কাজ ও সন্তানের দেখাশোনার দ্বৈত-দায়িত্ব বহন করেন—সেটাই রাতের শিফটে মহিলাদের কাজের বিরোধিতার সবচেয়ে যৌক্তিক ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এটা সর্বজনবিদিত যে পুরুষ কর্মীরা রাতের শিফটের পরে দিনের বেলায় কিছুটা বিশ্রাম নিতে পারেন, কিন্তু মহিলারা প্রায়শই সেই সুযোগ পান না এবং বিশ্রামের যথেষ্ট সময় ছাড়াই আবার গৃহকাজে শুরু করতে হয়—যার ফলে তাঁদের উপর শারীরিক ও মানসিক চাপ মারাত্মকভাবে প্রভাব ফেলে। এই দ্বৈত বোঝা রাতের শিফট নিষিদ্ধ রাখার দাবি জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করে। গুজরাট সরকারের সাম্প্রতিক সংশোধনী অনুযায়ী, কোনও মহিলা শ্রমিককে জোর করে রাতের শিফটে কাজ করতে বাধ্য করা যাবে না এবং এই দায়িত্ব নিতে হলে তাঁকে লিখিত সম্মতি দিতে হবে। দৈনিক কাজের সময় ৯ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং টানা কাজের সময়সীমাও ৫ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে এটা অজানা নয় যে, বেকারত্বের খাঁড়া যখন শ্রমিকদের মাথার ওপর ঝুলে থাকে, তখন ‘সম্মতি’ জোগাড় করা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে, যখন মহিলাদের জন্য কাজের সুযোগ চরমভাবে সংকুচিত এবং অনেক শ্রমিক এখনও কোনও রক্ষাকবচহীন অবস্থায় রয়েছেন যেখানে তাঁদের স্বার্থ রক্ষার জন্য শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়নের সহযোগিতা নেই—তখন রাতের শিফটের কাজ তাঁদের সামনে এলে মহিলারা তা প্রত্যাখ্যান করবেন, এমন আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। পুঁজিপতি শ্রেণি ‘উৎপাদনশীলতা’-র নামে দীর্ঘ কর্মকালকে উৎসাহিত করছে এবং ইতিমধ্যেই অনেক কর্মচারী তাঁদের ডিজিটালভাবে ‘বন্ধ’ হয়ে থাকার (switch off) অধিকার হারাচ্ছেন—যা তথ্যপ্রযুক্তি (IT) ও আইটিইএস (ITeS) শিল্পে প্রচণ্ড মানসিক চাপ ও ক্লান্তির ইঙ্গিত দেয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) বিশ্বের বিভিন্ন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (EPZs) শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা করে দেখেছে, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা ও রাতের শিফটের পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের পক্ষে কাজ এবং পারিবারিক দায়িত্ব একসাথে সামলানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এখন লক্ষ্যণীয় যে শিল্পমহলের দাবি কেবল EPZ বা IT খাতে মহিলাদের রাতের শিফটে কাজের নিষেধাজ্ঞা তোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—এই দাবি এখন সব ক্ষেত্রেই সাধারণভাবে ছাড় চাওয়ার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। কর্ণাটকে সরকার আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বিপজ্জনক শিল্পক্ষেত্রে মহিলাদের কাজ করার উপরে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে! এই সিদ্ধান্তের পিছনে ধরে নেওয়া হচ্ছে যে শ্রমিকেরা ‘সচেতন সম্মতি’ দেবেন এবং উপযুক্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হবে। তবে এটা স্পষ্ট যে, এমন এক দেশে যেখানে প্রায় প্রতিটি শ্রম আইন নির্দ্বিধায় লঙ্ঘন করা হয় এবং শ্রমিকদের অধিকারকে প্রকাশ্যেই অবজ্ঞা করা হয়, সেখানে শ্রমিকদের কাজ করতে হয় সবচেয়ে দুর্বিষহ পরিবেশে। ‘শ্রম সংস্কার’–এর নামে শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং পরিদর্শনের পুরো ব্যবস্থাটিকেই পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে ফেলা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে নারীদের ক্ষেত্রে আসলে কোনও ‘পছন্দ’ বা ‘পছন্দের স্বাধীনতা’ নেই! যদি রাতের শিফট চালু হয়, তাহলে তাঁদের সেটা মেনে নিতে হবে, না হলে চাকরি হারাতে হবে। বাস্তবে দেখা যায়, রাতের শিফট ছাড়াও বহু মহিলা কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্তা ও ভয়ভীতির সম্মুখীন হন এবং প্রতিশোধের আশঙ্কায় অধিকাংশই চুপ থাকেন। আইএলও (ILO) একদম সঠিকভাবেই বলেছে যে, নারীদের জন্য রক্ষাকবচমূলক ব্যবস্থাগুলোর পর্যালোচনা শুধুমাত্র সমতার সুযোগ সুনিশ্চিত করার একটি উপায় হতে পারে। তবে এসব রক্ষাকবচ বাতিল বা সংশোধনের আগে অবশ্যই বিদ্যমান কর্মপরিস্থিতি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দক্ষতা, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সাংস্কৃতিক মানদণ্ডগুলোর গুরুত্বকে বিবেচনায় নিতে হবে। আমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নারীদের জন্য এসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষে মোটেই উপযোগী নয়। বরং, এখন যখন পুঁজিপতি শ্রেণি সমস্ত রকম সুরক্ষামূলক নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে, তা থেকেই স্পষ্ট হয় যে, এই উদ্যোগের সাথে ‘সমতা’র কোনও সম্পর্ক নেই—এর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো নারীদের সস্তা শ্রমকে কাজে লাগিয়ে লোভী মুনাফা অর্জন করা। ভাষান্তর: স্বাতী শীল প্রকাশের তারিখ: ০৬-আগস্ট-২০২৫ |
© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |