|
ইএমএসের নোট, জনগণের পঞ্চায়েতচন্দন দাস |
পঞ্চায়েত শুধু ‘গ্রামোন্নয়ন’-র জন্য নয়। পঞ্চায়েতের লক্ষ্য ক্ষমতা মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। মুখ্যমন্ত্রী কতবার গ্রামে গিয়ে চা বানালেন, তাতে মানুষের হাতে ক্ষমতা পৌঁছেছে কিনা প্রমাণিত হয় না। মানুষের হাতে ক্ষমতা মানে গ্রামোন্নয়নের কাজের সিদ্ধান্ত, কোন্ কাজটি এখনই আর কোন্ কাজটি পরে হবে— তা ঠিক করবেন তাঁরাই— সেইসঙ্গে বাস্তবায়নে তাঁদের ভূমিকা। |
১৯৭৮-র ৪ জুন। রাজ্যে প্রথম ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন। আর ইএমএস নাম্বুদিরিপাদের নোটটি প্রকাশিত হল তার প্রায় দু’মাস পরে। আগস্টে। কমরেড ইএমএসের পরিচয় বৃত্তান্ত লেখার কোনও মানে নেই। দেশ জানে তিনি কে। নোটটি তিনি পেশ করেছিলেন কোথায়? অশোক মেহতা কমিটিতে। সেই কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। অশোক মেহতা কমিটি ১৯৭৮-র আগস্টে পঞ্চায়েত ও বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে যে রিপোর্ট পেশ করেছিল তাতে নাম্বুদিরিপাদের নোটটি সংযোজিত ছিল। সেই নোটের প্রসঙ্গে আসা যাবে পরে। ১৯৭৮-র জুনে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের স্লোগান ছিল— ‘বাস্তুঘঘুর বাসা ভাঙো। জনগণের পঞ্চায়েত গড়ো।’ বাস্তুঘুঘু কারা, তা নিয়ে বিশেষ অস্পষ্টতা ছিল না। কারন তার আগের তিরিশ বছরে গ্রামবাংলার সমাজে বাস্তুঘুঘুরা স্পষ্ট চিহ্নিত হয়েছিল, অবশ্যই গণআন্দোলন এবং দু’টি যুক্তফ্রন্ট সরকারের অভিজ্ঞতা ছিল সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছোনর গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক। কিন্তু ‘জনগণের পঞ্চায়েত’ কী? নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্যদের পঞ্চায়েত পরিচালনা করার কথা। আমলাদের, পঞ্চায়েত কর্মীদের দায়িত্ব তাঁদের সহযোগিতা করার। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা না পেলে, গ্রামের রাস্তা, নিকাশি নালা না হলে, পুকুর না কাটা হলে গ্রামবাসীদের দায়িত্ব পঞ্চায়েতের প্রধান, সদস্যদের বলা— এই তো পঞ্চায়েত! এখানে আলাদা করে ‘জনগণের পঞ্চায়েত’ কোথা থেকে এলো? ১৯৭৭-র জুনের এক বিকালে দেশ শুনেছিল কমরেড জ্যোতি বসুর অবিস্মরণীয় ঘোষণা— ‘আমাদের সরকার রাইটার্স বিল্ডিং থেকে চলবে না। আমাদের সরকার চলবে গ্রামে, মানুষের মধ্যে।’ তার একবছর না পেরোবার আগেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। ‘মানুষের মধ্যে সরকার’-র বোঝাপড়ার প্রয়োগ ঘটেছিল সেই পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরে। স্বাধীনতার পর প্রথম দশ বছর ব্রিটিশ আমলের গ্রাম-শাসন পদ্ধতিই বলবৎ ছিল। প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েতের গুরুত্ব নিয়ে গান্ধী এবং নেহেরু-আম্বেদকারের ভিন্ন মত ছিল। সংবিধান সভায় আলোচনার পর যে খসড়া তৈরি হয়েছিল সেখানে পঞ্চায়েতের কোনও উল্লেখ ছিল না। রাষ্ট্র ক্ষমতা কাদের হাতে গিয়েছিল তা কিছুটা স্পষ্ট হয় এই ঘটনায়। কিন্তু বিষয়টি গান্ধীজীর নজরে পৌঁছোয়। তাঁর মন্তব্য ছিল যে, ভারতের স্বাধীনতা যদি জনগণের কন্ঠস্বরের প্রতিফলন ঘটাতে চায় তাহলে পঞ্চায়েতের বাদ পড়ে যাওয়া বিষয়টির উপর আশু নজর দেওয়া দরকার। পঞ্চায়েতের হাতে যত ক্ষমতা দেওয়া যায় ততই মানুষের কল্যাণ— এই ছিল তাঁর মত। আম্বেদকার বিরোধিতা করেন। নেহেরু নিজের বিরোধিতা জানিয়েছিলেন গান্ধীকে চিঠি লিখে। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার সময় এটি নয়। গান্ধী গ্রাম এবং পঞ্চায়েতের গুরুত্বে জোর দিয়েছিলেন। যদিও তাঁর পঞ্চায়েত ভাবনা আর কমিউনিস্টদের পঞ্চায়েত ভাবনার মধ্যে তফাৎ আছে— এবং তা মূলত সেই মৌলিক মতাদর্শগত পার্থক্য। নাম্বুদিরিপাদের কথায় ফিরতে হলে আমাদের দু’টি মেহতা রিপোর্টে ফিরতে হবে। প্রথমটি ১৯৫৭-র ২৪ নভেম্বর, প্রকাশিত হয় বলবন্ত রাও মেহতা স্টাডি টিমের রিপোর্ট। জাতীয় উন্নয়ন পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় তা অনুমোদিত হয় ১৯৫৮-র জানুয়ারিতে। সেই রিপোর্টের সুপারিশ অনুসারে বেশিরভাগ রাজ্যেই পঞ্চায়েত আইন তৈরি হয়। নির্বাচনও হয়। কিন্তু তা পঞ্চায়েতের চরিত্র বদলাতে পারেনি। ক্ষমতা জমিদার, গ্রামের ধনীদের হাতেই রয়ে যায়। ফলে ব্যর্থ হয়। জনতা পার্টির সরকারের সময়, ১৯৭৮-র আগস্টে কাজ শুরু করে আর একটি কমিটি— অশোক মেহতা কমিটি। ঘোষিত লক্ষ্য— পঞ্চায়েত এবং বিকেন্দ্রীকরণ। সেই অশোক মেহতা কমিটির সদস্য ছিলেন ইএমএস নাম্বুদিরিপাদ। মেহতা কমিটির রিপোর্টে নাম্বুদিরিপাদের ভিন্নমত একটি নোট আকারে সংযোজিত হয়েছিল। সেই নোটে লেখা হয়েছিল, ‘‘কেন্দ্র ও রাজ্যস্তরে গণতন্ত্র এবং নিচের স্তরে আমলাতন্ত্র— এটিই হলো সংবিধান নির্ধারিত ভারতীয় শাসন ব্যবস্থার মূল নির্যাস। যে কাজগুলিকে ‘উন্নয়নমূলক’ এবং ‘প্রশাসনিক’ কাজ বলা হয়, সেগুলির মধ্যে কোনও তফাৎ না করেই দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছাড়া পঞ্চায়েতীরাজের সংস্থাগুলিকে অন্য কোনও কিছু বলে আমি ভাবতে পারি না। আমার ভয় হচ্ছে যে প্রশাসনিক কাজগুলি থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে পঞ্চায়েতগুলি নিজেদের কেবল উন্নয়নমূলক কাজে সীমিত করে রাখা উচিত, এই প্রাচীন ধারনার ভূত আমার সহকর্মীদের তাড়া করে বেরাচ্ছে।’’ পঞ্চায়েত শুধু ‘গ্রামোন্নয়ন’-র জন্য নয়। পঞ্চায়েতের লক্ষ্য ক্ষমতা মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। মুখ্যমন্ত্রী কতবার গ্রামে গিয়ে চা বানালেন, তাতে মানুষের হাতে ক্ষমতা পৌঁছেছে কিনা প্রমাণিত হয় না। মানুষের হাতে ক্ষমতা মানে গ্রামোন্নয়নের কাজের সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়নে তাঁদের ভূমিকা স্থাপিত হচ্ছে কিনা— সেটি। পঞ্চায়েতের প্রধান, সদস্যরা দাতা আর গ্রামবাসীরা গ্রহীতা— এই ধারনায় যদি সরকার পরিচালনা হয়, তাহলে একটি স্বৈরতান্ত্রিক দলের শাসনে প্রধানের কোনও ভূমিকাই থাকবে না। সবই হয়ে দাঁড়াবে মুখ্যমন্ত্রী দিচ্ছেন। তিনিই দাতা— একমাত্র পরিত্রাতা। খুব স্বাভাবিকভাবে নির্বাচিত প্রধান কিংবা সভাধিপতির এই দুর্দশার সুযোগ নেবে আমলাতন্ত্র। তখন সেই মুখ্যমন্ত্রী অবশ্যই বলবেন, ‘আমাদের কেউ যদি দুষ্টুমি করে, একটা চড় মারবেন। এতদিন আমরা পঞ্চায়েতের ব্যাপারটা দেখিনি। এবার থেকে পঞ্চায়েতকে আমরা দেখে নেবো।’ মমতা ব্যানার্জি কোচবিহারে তাঁর প্রথম পঞ্চায়েত উপলক্ষ্যে নির্বাচনী সভায় এমনই বলেছেন। গত সোমবার, ২৬শে জুন। আসলে পঞ্চায়েতের কাজ দেখার জন্য গ্রাম উন্নয়ন সমিতি থাকার কথা। হওয়ার কথা বছরে দু’বার গ্রামসভা। থাকার কথা বিরোধী সদস্যদের মাথায় রেখে জেলা পরিষদের কমিটি। যা বামফ্রন্ট সরকার করেছিল। অবরুদ্ধ গণতন্ত্রে, আতঙ্কের ঘেরাটোপে থাকা গ্রামে তা হতে পারে না। তাই ‘দুয়ারে সরকার’ নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করে ক্যাম্প তাহলে হবেই। সেখানে ভাতা দেওয়াই হয়ে দাঁড়াবে পঞ্চায়েত। যাঁর হাতে পঞ্চায়েত পরিচালনার চাবিকাঠি থাকার কথা, তিনি হয়ে উঠেছেন স্রেফ এবং স্রেফ গ্রহীতায়। পঞ্চায়েত তাহলে এখন কী? একটি নিষ্ক্রিয় কমিটি, যেখানে সদস্যরা মূলত টাকার বখরা নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন। কারন— তাঁকে প্রশ্ন করার কোনও ব্যবস্থাই নেই। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ জানানোর জন্য গ্রাম সভা নেই— তাঁকে ফটো তুলে পাঠাতে হবে নবান্নে, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। গণতন্ত্রের অন্তর্জলী যাত্রা! দেশে বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতগুলিরও প্রায় একই দশা। কারন— তৃণমূল অথবা বিজেপি সেই ‘প্রাচীন ভূত’ বয়ে বেড়ায়। অবশ্য এর পিছনে আছে একটি আদর্শগত অবস্থান। একদিকে থাকছে তাদের ‘একক উপভোক্তা’ তৈরি করার দর্শন। আর একদিকে গণউদ্যোগ গড়ে তোলার পথ। যা সিপিআই(এম)-র দর্শন। ১৯৯৩-এ দেশহিতৈষীর শারদীয়া সংখ্যায় পঞ্চায়েত নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সূর্য মিশ্র কী বলছেন? ‘পার্টির রাজনৈতিক লাইন বলতে তার আশু রাজনৈতিক লাইন ও মূল রণনীতিগত লাইন— এই দুই লাইনের সমন্বয় বোঝায়। আশু রণকৌশলের দুটি অংশ হলো— প্রথমত, গণতন্ত্রের জন্য ব্যাপকতম মঞ্চ গঠন এবং দ্বিতীয়ত, শ্রেণিশক্তিগুলির ভারসাম্যের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাম ও গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গড়ে তোলা। এই দুই কাজের মধ্য দিয়েই পার্টি তার রণনীতিগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য জনগণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গড়ার কাজে এগিয়ে যেতে পারে।’ জনগণের ব্যাপকতম মঞ্চ গঠনের জন্য দরকার হয় তাঁদের সন্নিবিষ্ট করা। সংহত করার। এই ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে তাঁদের সচেতন করে তোলা। শ্রেণি ভারসাম্যের পরিবর্তন ঘটে সেই পথে। পঞ্চায়েত পরিচালনা ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এটা ১৯৯৩ নয়। ২০২৩। ঠিকই। রাজ্যের কোনও পঞ্চায়েতেই বামফ্রন্ট নেই। নেই সিপিআই(এম)-ও। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে, ২০২১-এ সেই সূর্য মিশ্রই কী লিখছেন? গণশক্তির শারদ সংখ্যায় ‘চাই সংগ্রামের ব্যপকতম মঞ্চ’-এ মিশ্র তৃণমূল এবং বিজেপি, দুয়েরই বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে লিখলেন, ‘এর জন্য সিপিআই(এম)-কে নিজস্ব স্বাধীন শক্তি বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, বামফ্রন্টের ঐক্যকে সুদৃঢ় করতে হবে। তৃতীয়ত, বামফ্রন্টের বাইরের বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। এভাবেই বাম ও গণতান্ত্রিক বিকল্পের জন্য সংগ্রামকে শক্তিশালী করে সংগ্রামের ব্যাপকতম মঞ্চ গড়ে তুলতে হবে।’ এই ‘ব্যাপকতম মঞ্চ’ কারা? কতগুলি দল? পার্টি? ২০২২-র মার্চে পার্টির ২৬তম রাজ্য সম্মেলনের রিপোর্টে গ্রামীণ এলাকার পরিস্থিতি ও কর্তব্য আলোচনা করতে গিয়ে লেখা হয়েছে, ‘গ্রামীণ এলাকায় ধনীদের চক্রের বিরুদ্ধে লড়াই পরিচালনার জন্য খেতমজুর, গরিব কৃষক, মাঝারি কৃষক, কারিগর ও গ্রামীণ গরিবদের অন্যান্য অংশকে ব্যাপকভাবে ঐক্যবদ্ধ করে সংগঠিত করা প্রয়োজন।’ দুর্নীতির বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনে তারই বহিঃপ্রকাশ অনেকটা দেখা গিয়েছে। আজকের পরিস্থিতিতে ‘জনগণের পঞ্চায়েত’-র এটিই ভিত্তি। যা আমাদের মূল লক্ষ্যের অনুসারী। এবং তা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। লুটেরাদের পঞ্চায়েত আসলে অবরুদ্ধ গণতন্ত্রের ফলাফল। ‘জনগণের পঞ্চায়েত’ গঠনের জন্য সংগ্রাম আসলে ব্যাপকতম অংশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। ‘জনগণের পঞ্চায়েত’ আসলে করবে কী? ‘গণতন্ত্রের জন্য ব্যাপকতম মঞ্চ’ গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান পরিসর পঞ্চায়েত। কীভাবে? পঞ্চায়েতের কাজে দলমত-নির্বিশেষে এলাকার সব মানুষকে যুক্ত করতে হবে। মানুষের মধ্যে এই উপলব্ধি গড়ে তুলতে হবে যে, তাঁদের টাকায় তাঁরা কাজ করছেন। কোন কাজটি এখনই আর কোন কাজটি পরে হবে— তা ঠিক করবেন তাঁরাই। আর সেই প্রক্রিয়াতেই একসময় তাঁরা বরাদ্দের অভাব দেখে এগিয়ে আসবে গ্রামোন্নয়নে শ্রম দিতে, প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তাও করবেন। আগে কী এমনটা হয়েছে? এই ক্ষেত্রে উদাহরণ দেওয়াই ভালো। ‘সহভাগী’ কী? বামফ্রন্ট সরকারের সময়কালে পঞ্চায়েতগুলিতে এই কর্মসূচীর সন্ধান পাওয়া যায়। ‘সন্ধান’ এই কারনেই লিখতে হলো যে, গত ১২ বছরে এই কর্মসূচীর কোনও চিহ্ন নেই। এটি কোনও প্রকল্প নয়। কর্মসূচী। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের নথিতে আজও বামফ্রন্ট সরকারের সময়কালের এই কর্মসূচীর অনেক দৃষ্টান্ত দেখা যাচ্ছে। কেমন? ২০০৯-র জুনে দেখা যাচ্ছে একটি বিবরণের শিরোনাম— ‘গণ উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন হল শান্তির গোরস্থান।’ বর্ণনা হলো— ‘আগাছার জঙ্গলে ভরে ছিল রামবাগ গোরস্থান। মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলা-১ ব্লকের মুসলিম অধ্যুষিত ভগবানগোলা পঞ্চায়েতের রামবাগ গ্রাম সংসদের প্রায় দশ বিঘা এলাকা জুড়ে আছে এই কবরস্থান। রামবাগ কবরস্থান সংসদ কমিটি নামে একটা কমিটি আছে বটে, কিন্তু তা কখনোই কাজের হয়ে উঠতে পারেনি। ইতিমধ্যে গ্রামীণ বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচীর ছোঁয়া লেগেছে এই গ্রাম সংসদেও। উন্নয়নের ভাবনা সঞ্চারিত হচ্ছে সচেতনতা শিবিরের মাধ্যমে। সেই ভাবনা থেকেই গ্রাম উন্নয়ন সমিতি ও রামবাগ কবরস্থান সংসদ কমিটির যৌথ সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে গোরস্থানটিকে। ওই সভাতেই ঠিক হয় যে বছরে দুইবার পরিস্কার করা হবে কবরস্থানটি। প্রতি পরিবার থেকে একজন করে স্বেচ্ছাশ্রম দেবেন এই কাজে। যেমন কথা, তেমন কাজ। ২০০৭-র ১৬ মে গোরস্থান পরিস্কারের কাজে স্বেচ্ছাশ্রম দেন প্রায় ১৫০জন গ্রামবাসী। পাশাপাশি কবরস্থান সংলগ্ন ফাঁকা জমিতে প্রায় ১০০টি বিভিন্ন ফলের চারা লাগানো হয়।’ শুধু কবরস্থান নয়। এমন ভাবে, গ্রামোন্নয়ন সমিতিতে আলোচনা করে, গ্রাম সংসদের সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে গ্রামবাসীরা সেতুর কাজ করেছেন, বনসৃজন করেছেন। নার্সারি বানিয়েছেন। ভাঙন বিধ্বস্ত এলাকায় শৌচাগার তৈরি হয়েছে। মালদহ জেলার গাজোল ব্লকের পান্ডুয়ার বরিজপুরে স্বেচ্ছাশ্রমে, গণউদ্যোগে স্কুল বানানোর উদাহরণও আছে। দাসপুর-২নং ব্লকে গোছাতিতে এই ভাবে লাইব্রেরি বানানো হয়েছিল। আছে আরও অনেক কাজের বিবরণ— ‘সহভাগী’ প্রকল্পে। কখন এমনটি সম্ভব? যখন নিজেদের সমস্যা গ্রামবাসীরা বলতে পারছেন। সমাধানের সিদ্ধান্তের অংশীদার হচ্ছেন তাঁরাই। বাস্তবায়নের উদ্যোগও তাঁদের। পঞ্চায়েত কী করেছে? তাঁদের এক জায়গায় আসার একটা মঞ্চ গড়েছে। পঞ্চায়েতের সব কাজই এই ভাবে হবে না। কিন্তু মানুষের অংশগ্রহণই মূল কথা— গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। প্রকাশের তারিখ: ০১-জুলাই-২০২৩ |
© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |