স্বাস্থ্যকে রাজনৈতিক আন্দোলন করে তোলা: কেন এবং কীভাবে?

কুমার রাণা
যে সামাজিক বৈষম্য থেকে খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে নানা অভাব তৈরি করে ও সেগুলোকে জীইয়ে রাখে, সেই অভাবগুলো থেকে উৎপন্ন অস্বাস্থ্যের সুযোগ নিয়ে বৈষম্যগুলোকে বাড়িয়ে তোলা হয়। যেমন, একজন মিড ডে মিল কর্মী জন্মজাত অপুষ্টি এবং কঠোর পরিশ্রম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দীর্ঘ শ্রমের কারণে সহজেই অসুখের শিকার হন। এবার, সেই অসুখের চিকিৎসার জন্য তাঁকে প্রায়শই টাকা খরচ করতে হয়, যা তাঁর কাছে থাকে না।
রাজনৈতিক আন্দোলনের উদ্দেশ্য যদি হয় মানব জীবনের উন্নতি, তাহলে সেই উদ্দেশ্য সাধনে একেবারে প্রথমেই যে কর্তব্যটি হাজির হয় তা হল মানুষের সু-স্বাস্থ্য। মানুষের দেহই তার প্রাথমিক অস্তিত্ব গড়ে দেয়, দেহের বিকাশই যদি বাধাপ্রাপ্ত হয় তাহলে, তার অন্যান্য দিকের বিকাশও রুদ্ধ হতে বাধ্য। বস্তুত, মানুষে মানুষে যে ভেদাভেদ, এক মানুষের সঙ্গে আর এক মানুষের সম্পর্কের প্রভেদ, তাতে স্বাস্থ্যের সুযোগ বা সুযোগহীনতা একটি প্রধান উপাদান হিসেবে দেখা দেয়। এই উপাদান আবার দুভাবে কাজ করে: অস্বাস্থ্য যেমন মানব জীবনের অন্যান্য সুযোগগুলোকে সংকীর্ণ করে তোলে, তেমনি অন্যান্য সুযোগগুলোর অভাব অস্বাস্থ্যের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন, স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগতে থাকা কোনো মানুষের পক্ষে আয় থেকে নিয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন ও সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ সুস্থ মানুষের চেয়ে অনেক কম হয়। আবার, উল্টোদিকে সামাজিক অবস্থানের হিসেবে মানুষের স্বাস্থ্যগত অর্জনও নির্ধারিত হয়ে যায়। যেমন, যাঁর আয় কম, তাঁর পক্ষে পর্যাপ্ত পুষ্টি জোগাড় করা সম্ভব হয় না; শিক্ষার অভাব কোনো মানুষের স্বাস্থ্যগত ধারণাগুলোকে পশ্চাদমুখী রেখে দেয়; কঠিন দৈহিক শ্রমের কাজ বা বিশ্রামের অবকাশহীন কাজ মানুষের অস্বাস্থ্যের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এক কথায়, সমাজে শ্রেণিগত, লিঙ্গগত, বা অন্যান্য পরিচিতিগত যে-সব বিভাজন আছে, এবং রাজনৈতিক আন্দোলন যে বিভাজনগুলোকে দূর করতে চায়, সেগুলোতে স্বাস্থ্যের ভূমিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বস্তুত, রাজনৈতিক আন্দোলন যে বিভাজনগুলো থেকে মানবসমাজকে মুক্ত করতে চায়, স্বাস্থ্যগত সুযোগহীনতা সেই বিভাজনগুলোকেই শক্তিশালী করে তোলে। 

উদাহরণ হিসেবে, আমরা পশ্চিম বাংলার সমাজটিকেই দেখতে পারি। এখানে, বিপুল সংখ্যক মানুষকে বেঁচে থাকার জন্য কঠিন পরিশ্রম করতে হয়। শুধু তাই নয়, তাঁদের যে-ধরনের কাজ করতে হয়, তার বেশির ভাগই অস্বাস্থ্যের কারণ। যেমন, বাড়ি বা রাস্তা তৈরির কাজ, ইটভাটার কাজ, রান্নার কাজ, ইত্যাদি করার সময় শ্বাসের মধ্য দিয়ে লোকেদের দেহে যে-পরিমাণ ধুলিকণা ঢোকে, তা তাঁদের নানাবিধ শ্বাসজনিত রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চাষের কাজ করতে গিয়ে একদিকে তাঁদের শরীরে কৃমির চিরস্থায়ী বাসা গড়ে ওঠে, আবার, কীটনাশক ছড়ানোর মতো কাজের মধ্য দিয়ে তাঁদের দেহে সরাসরি বিষ ঢোকে। কাজের জায়গায় শৌচকর্মের ব্যবস্থা না থাকায়, বিশেষত মেয়েদের নানাবিধ রোগের শিকার হতে হয়। কাজের জায়গায় খাবারের অভাবে তাঁদের নানবিধ প্যাকেটজাত অখাদ্য খেতে হয়, অনেক জায়গায় লোকেদের প্লাস্টিকে ভরে নিয়ে আসা খাবার – এমনকি গরম চা বা অন্য কিছু – খেতে হয়, যা তাঁদের চিরকালীন ব্যাধিগ্রস্ততার শিকার করে তোলে। নানা প্রতিরোধযোগ্য অসুখ খেটে খাওয়া মানুষের আয়ু কমিয়ে দেয়। এরই সঙ্গে আছে পুষ্টির অভাব। আজকের দিনে ডাল, সবজি, ডিম, মাংস, দুধ, ইত্যাদির যা দাম, এবং সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের যা মজুরি বা আয় তাতে লোকেদের চলে আসা পুষ্টির ঘাটতি আরও বেড়ে যাচ্ছে। অপুষ্টি যেমন তাঁদের এবং তাঁদের সন্তানদের, দেহকে খর্ব করে রাখে, তেমনি আবার তাঁদের ঠেলে দেয় নানান রোগের কবলে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একশ্রেণির মানুষের ধন বাড়ানোর নেশায় প্রকৃতির ওপর নিরন্তর অত্যাচার, যার কারণে ঘটে চলেছে বিরাট পরিবেশগত ক্ষয়, আর এর সব থেকে বড় শিকার হচ্ছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। তার ব্যবহারের জন্য জল, বাতাস, আলো, এমনকি ঘুমের সুযোগটুকুও নেই।
 
যে সামাজিক বৈষম্য থেকে খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে নানা অভাব তৈরি করে ও সেগুলোকে জীইয়ে রাখে, সেই অভাবগুলো থেকে উৎপন্ন অস্বাস্থ্যের সুযোগ নিয়ে বৈষম্যগুলোকে বাড়িয়ে তোলা হয়। যেমন, একজন মিড ডে মিল কর্মী জন্মজাত অপুষ্টি এবং কঠোর পরিশ্রম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দীর্ঘ শ্রমের কারণে সহজেই অসুখের শিকার হন। এবার, সেই অসুখের চিকিৎসার জন্য তাঁকে প্রায়শই টাকা খরচ করতে হয়, যা তাঁর কাছে থাকে না। সেই টাকা যোগাড় করতে তাঁকে ধার করতে হয়; আবার প্রায়শই, অসুস্থতার কারণে তিনি কাজ করতে পারেন না, তাঁর বেতন কাটা যায়, এবং সংসার খরচের যে টাকাটা তাঁর ওই সামান্য আয় থেকে আসে, সেটাও ধার করে সংগ্রহ করতে হয়। ধার শোধ করতে তাঁকে আবার কঠোর পরিশ্রম করতে হয় এবং আবারও অসুস্থ হতে হয়। এভাবে যেখানে দেশের এক শ্রেণির মানুষ ৮০-৯০ বছর বয়স পর্যন্ত সুস্থ জীবন যাপন করছে, এই মিড ডে মিল কর্মীর জীবন, পঞ্চাশ ষাট বছরে শেষ হয়ে যাচ্ছে।
 
এখানে রাষ্ট্রের ভূমিকা প্রায়শ বঞ্চিতদের বিরুদ্ধে যায়। শ্রমজীবীদের ওপর মালিকশ্রেণির শোষণের ওপর কোনও বাধা তো সে দেয়ই না, উল্টে মালিকশ্রেণির পক্ষেই সে কাজ করে, সরকারের অগ্রাধিকার মালিকের স্বার্থরক্ষা – মালিককে যাতে বেশি মজুরি দিতে না হয়, কাজের সুস্থ পরিবেশের জন্য খরচ করতে না হয় ইত্যাদি। এমনকি, রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রেও, আমাদের উল্লিখিত মিড ডে মিল কর্মীর মতো যে লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষ – অধিকাংশ নারী – কাজ করছেন, রাষ্ট্র নিজেই তাঁদের কাজের জন্য নামমাত্র মজুরি দিয়ে থাকে। অর্থাৎ, একেবারে গোড়াতেই তাঁদের অস্বাস্থ্যের ও স্বল্পায়ু হবার কারণ হয় রাষ্ট্রের বৈষম্য।
 
এই বৈষম্যই ভিন্ন রূপে দেখা দেয় স্বাস্থ্য পরিচর্যার ব্যাপারে, যেখানে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জন্য পরিচর্যার ব্যবস্থা করা তো দূর, রাষ্ট্র বরং উৎসাহ দেয় স্বাস্থ্যের ব্যবসার মধ্য দিয়ে মালিক শ্রেণির মুনাফা বাড়িয়ে তোলায়। মুনাফা বৃদ্ধির পাশাপাশি, বেড়ে চলে শ্রেণি বিভাজন – চিকিৎসা ব্যবস্থাতেই তৈরি হয় নানা উঁচু নীচু সিঁড়ি, একবারে নিচের তলায় থাকেন অতি সামান্য মজুরিতে কাজ করা স্বাস্থ্যকর্মী – প্রধানত মহিলা, আর ওপরের দিকে থাকেন চিকিৎসকরা, যাঁরা মানবসেবার শপথ নিয়েও মানুষের দেহটাকে করে তোলেন মুনাফা বাড়িয়ে চলার উপায়।
 
এমন এক অবস্থায়, রাজনীতিকে যদি সত্যিই তার উদ্দেশ্যের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হয়, তাহলে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিবিধ বঞ্চনাগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইটাকে প্রাধান্য দিতেই হবে। এবার প্রশ্ন সে লড়াইটা কেমন হবে? সেটা কি কেবল হাসপাতাল ও অন্যান্য চিকিৎসা পরিষেবার উন্নতির দাবিতে আন্দোলন? না কি স্বাস্থ্যকে তার প্রকৃত সংজ্ঞায় উপলব্ধি করে, একটি সামগ্রিক স্বাস্থ্য আন্দোলন গড়ে তোলা? আজকে যাঁরা স্বাস্থ্য আন্দোলন করছেন বলে দাবি করছেন, তাঁদের অনেকেই স্বাস্থ্যের সংকীর্ণ সংজ্ঞাটিকে ধরেই লড়ছেন, অর্থাৎ, স্বাস্থ্য মানে ডাক্তার, চিকিৎসা, হাসপাতাল, ইত্যাদি, এই দৃষ্টিতে দেখছেন। পুষ্টি, শিক্ষা, পরিবেশ, ইত্যাদি সামাজিক নির্ধারকগুলো নিয়ে তাঁদের বক্তব্য সীমিত। কিন্তু, প্রকৃত রাজনৈতিক কর্মীদের পক্ষে, স্বাস্থ্যকে তার সামগ্রিক রূপে না দেখে উপায় নেই। কারণ, স্বাস্থ্যের এই সামগ্রিক রূপের মধ্যেই নিহিত আছে, সামাজিক বৈষম্য ও বঞ্চনার নানা উপাদান, সু-স্বাস্থ্যের দাবিতে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যেগুলোর অনেকটা মোকাবিলা করা যায়। অর্থাৎ, এই আন্দোলনটি হবে বহুমাত্রিক ও বহুস্তরীয়। 

এর একটা প্রধান দাবি অবশ্যই হবে, সকলের জন্য স্বাস্থ্য পরিচর্যার সমান সুযোগ। কোনো মানুষই যাতে কোনো ভাবেই স্বাস্থ্য পরিচর্যার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, এটাই হবে এই দাবির অন্তর্বস্তু। অর্থাৎ, সকলের জন্য বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য পরিচর্যাই পর্যাপ্ত নয়, যাতে সকলেই সেই সুযোগ পান, তার ব্যবস্থাও করতে হবে। সেটা কীভাবে সম্ভব? এর কিছুটা ব্যবস্থা স্বাধীন ভারত সরকারের গৃহীত নীতিতে ছিল – স্পষ্টতই সোভিয়েতের সমাজতান্ত্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রেরণায়। যেমন, প্রতি পাঁচ হাজার জন সমুদায়ের জন্য স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র, প্রতি তিরিশ হাজার জনসমুদায়ের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, প্রতি এক লক্ষ কুড়ি হাজারের জন্য সামুদায়িক স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র), প্রতি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অন্তত দশটি বেড, প্রতি সামুদায়িক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অন্তত চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ইত্যাদির মতো এমন কিছু ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, যা ঠিকমতো রূপায়িত হলে সাধারণ মানুষ বেশির ভাগ অসুখের চিকিৎসা নাগালের মধ্যেই পেতেন। এটা রূপায়িত না হওয়ার একটা ভয়াবহ পরিণতি হয়েছে, হাসপাতাল স্তরে চিকিৎসার বেসামাল চাপ, আর অন্য কুফলটি হয়েছে লাভান্বেষী বেসরকারি চিকিৎসা বাজারের ফুলে ওঠা, যা মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে কারবারের মধ্য দিয়ে তাকে দেহের দিক দিয়ে এবং আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত করে দেয়। 

এর সঙ্গে স্বাস্থ্যের অন্যান্য সামাজিক নির্ধারকগুলো নিয়েও জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। যেমন পুষ্টির জন্য, আই সি ডি এস ও মিড ডে মিলের সুষ্ঠু, মানবিক পরিচালনা; কাজের নিশ্চয়তা; খাদ্যের নিশ্চয়তা; মূল্যবৃদ্ধিকে হিসেবের মধ্যে রেখে মজুরি নির্ধারণ; সমান কাজে সমান মজুরি; কাজের সুস্থ পরিবেশ; প্রকৃতির ওপর অনাচার চালানো আর্থিক প্রকল্প বাতিল ইত্যাদি।
  
এমন নয় যে, সব কিছু নিয়ে একযোগে এবং সর্বত্র একই মাত্রায় আন্দোলনের তেজ ধরে রাখা যাবে। কিন্তু, কর্মসূচির মধ্যে স্বাস্থ্যের এই বিস্তৃত রূপটিকে রাখতেই হবে। 

পাশাপাশি, স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষের সঙ্গে নিরন্তর আলোচনা চালানো, তাঁদের সঙ্গে এবং তাঁদের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য নিয়ে নানাবিধ সামাজিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া, এই আন্দোলনের একটি বড় দিক হতে পারে। এর মধ্যে দিয়ে তথাকথিত বিশেষজ্ঞদের জ্ঞানকে মানুষের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি মানুষের নিজেদের চেষ্টায় বহু প্রাণনাশী বা অক্ষম করে দেওয়া, কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য অসুখ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় করা যায়। উদাহরণ হিসেবে, আজকের ভারতে হৃদরোগ একটি বিপর্যয়কর অসুখ হিসেবে নেমে এসেছে – আগে লোকেদের বিশ্বাস ছিল, হৃদরোগ বড়লোকের অসুখ, কিন্তু এখন আর তেমন কোনো বিভাজন নেই, গরিব মানুষকেও এর শিকার হতে হচ্ছে। এর একটা প্রধান কারণ খাদ্যাভ্যাস। আমাদের দেশের গরিব মানুষের যা অবস্থা, তাতে খাদ্যাভ্যাসকে সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত করে তোলার পথে বাধা অনেক। কিন্তু, সীমিত আকারে হলেও নানা উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। যেমন, প্যাকেটজাত খাবার, বোতলবন্দী মিষ্টি পানীয়, তামাক সেবন ও মদ্যপান, ইত্যাদি বন্ধ করার জন্য সামাজিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া যায়, যার নেতৃত্ব দিতে পারে স্থানীয় লোকেরাই। আবার, প্লাস্টিকের ব্যবহার থেকে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি, সরাসরি মানবদেহের যে বিপুল ক্ষতি হয়ে চলেছে, তা নিয়েও সহজেই মানুষের মধ্যে আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব।   

এক কথায়, একদিকে রাষ্ট্রের ওপর ন্যায্যতার দাবিগুলো নিয়ে ক্রমাগত চাপ জারি রাখা, এবং অন্যদিকে সামাজিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অস্বাস্থ্যের মোকাবিলা করা – এই দ্বিবিধ উপায়ে স্বাস্থ্যকে প্রকৃতই একটি রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে তুলে আনা যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল, আন্দোলন মানে কেবল রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ নয়, মানুষে মানুষে আলোচনা, মতামতের ব্যাপক আদানপ্রদান, এটাও একটা বড় মাপের আন্দোলন। আলোচনার মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন স্বাস্থ্য নিয়ে দাবি আদায়ের আন্দোলন সংগঠিত করা যায়, তেমনি এই আন্দোলনের দাবি, স্তর এবং মাত্রা ক্রমশ বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ হয়ে উঠতে পারে।  

প্রকাশের তারিখ: ২৩-ডিসেম্বর-২০২৪

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org