এক দলিত কমিউনিস্টের স্মৃতিকথা (শেষ পর্ব)

আর বি মোরে
১৯২৪ সালকে চিহ্নিত করা যায় এমন বছর হিসাবে যে সনে অচ্ছুৎদের আত্মসম্মান, স্বাধীনতা ও মুক্তির লড়াই তীব্র গতি পায়। এই ছিল সেই বছর যেবারে কোলাবা জেলার নিচুজাতের এ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলন হবার কথা মাহাদে। এই সিদ্ধান্তের খবর সম্মেলনের ভাবী চেয়ারম্যান ড. আম্বেদকরের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল ইতিমধ্যেই। বোম্বের দামোদর ঠ্যাকারসে হলে প্রকাশ্যে তার ঘোষণাও করা হয়। ব্যাপক প্রচারও হয়। এই বছরখানি আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই বছরেই ড. আম্বেদকর ইউরোপীয় ও মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকে নিজের পড়াশোনার যাবতীয় ডিগ্রি অর্জন করে পড়াশোনার পাঠ সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আসেন আর এই বছরেই জনসেবার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন। প্রতিষ্ঠা করেন বহিষ্কৃত হিতকারিণী সভা

[কমরেড রামচন্দ্র বাবাজি মোরে (১৯০৩-১৯৭২)। দেখতেন একটা নীল আকাশ ও লাল সূর্যের স্বপ্ন। তাঁর মেমোরিজ অব আ দলিত কমিউনিস্ট  (২০১৯) ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে মার্কসবাদী পথ ওয়েবসাইটে। Dalit Va Communist Chalvalicha Sashakta Duva: Comrade R.B. More [A Powerful Link between Dalit and Communist Movement: Comrade R.B. More] শিরোনামে বইটি ২০০৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। মূল মারাঠি থেকে ইংরাজিতে অনুবাদ করেছেন বন্দনা সোলানকর। সঙ্গে রয়েছে অনুপমা রাওয়ের অসামান্য ভূমিকা। বইটি মূলত দুটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে আছে কমরেড মোরের আত্মকথা, যা আসলে ১৯০৩-২৭ এই সময়ের কথা। তারপরের অংশে রয়েছে তাঁর পুত্র সত্যেন্দ্র মোরের লেখা বাবার জীবনী। দেবরাজ দেবনাথ ইংরাজি থেকেই বাংলা করছেন। ফলত এটি অনুবাদের অনুবাদ। 

প্রশ্ন হল কেন এই স্মৃতিকথা অনুবাদের পরিকল্পনা। যেখানে কমরেড মোরের অসমাপ্ত স্মৃতিকথায় জীবনের সামান্য কিছুদিনের কথাই রয়েছে। আসলে এই সময়ে ভারতের রাষ্ট্র চালাচ্ছে আরএসএস পরিচালিত বিজেপি। যাদের হাতে সংবিধান আক্রান্ত, আক্রান্ত ভারতের বহুত্ববাদী স্বর। দিনকয়েক আগেই সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর আম্বেদকর বিষয়ে মন্তব্য আমাদের সকলেই জানা। এ-পরিস্থিতিতে কমরেড মোরের জীবন-কথা বাংলাভাষী পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব। কোন অপমান ও পীড়নের মধ্যে একজন দলিত বেঁচে থাকেন, কেমন সে-কাহিনি তাই রয়েছে এ-বইয়ে আর যে-কথা বিস্মৃত হলে প্রকৃত ভারতের খোঁজ অসম্পূর্ণই রয়ে যাবে। 

কমরেড মোরে ছিলেন দলিত আন্দোলনের সংগ্রামী কর্মী; বাবাসাহেব আম্বেদকরের ঘনিষ্ট সহযোদ্ধা। কিন্তু কিছুকাল পরে বোম্বের কাপড়-শ্রমিক আন্দোলনের সাথে সংযোগ এবং কমিউনিস্ট নেতাদের সাথে আলাপচারিতা তাঁকে প্রণোদিত করে কমিউনিস্ট আন্দোলনের অংশীদার হতে। কমরেড সতেন্দ্র মোরের সাক্ষ্য জানান দিচ্ছে যে, ১৯৩০ সালে তিনি প্রথম পড়েন কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার। যা পালটে দেয় জীবনের গতিপথ। অনুভব করেন শোষণ-মুক্তি, দলিতদের লাঞ্ছনা-পীড়ন মুক্তি সর্বপরি মানব-মুক্তির এটাই পথ। সমাজও বিপ্লব না-হলে অস্পৃশ্যতা থেকে মুক্তি নেই। এরপর থেকেই শ্রেণি-শোষণ এবং জাত-শোষণ উভয়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। কমরেড সত্যেন্দ্র লেখা থেকে আমরা জানতে পারি কী অমানুষিক দারিদ্র্য, কষ্ট যন্ত্রণার মধ্যে জাত ও শ্রেণি শোষণের বিরুদ্ধে সংগঠিত করে গেছেন মানুষকে। উজ্জ্বল ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও যে-বালকটিকে স্কুল জীবনে উচ্চবর্ণের শিক্ষক ও বন্ধুদের থেকে শুনতে হত “আমাকে ছুঁইয়ে দিবি না।” ছুঁতে হবে বলে শিক্ষকরা শরীরবিদ্যা ও আঁকার ক্লাস থেকে যে-বালককে বের করে দিত। সে-যোদ্ধার আত্মকথা ছুঁয়ে অপমানে সমান হওয়া অধিকার অর্জন করি আমরা। কমরেড মোরের লড়াই দীর্ঘজীবী হোক। দীর্ঘজীবী হোক শ্রেণি-জাত-লিঙ্গ শোষণ মুক্তির লড়াই।— মার্কসবাদী পথ]

ত্রয়োদশ পর্বের পর...

অমিত ক্ষমতাধর রাষ্ট্রব্যবস্থাও যখন চালু ছিল, রাজা-প্রজার মধ্যে এক ধরনের সম্পর্ক বজায় থাকত, সম্পর্ক থাকত শাসক ও রায়ত বা চাষিদের মধ্যে। আর ভারতে, অচ্ছুৎরা এই তথাকথিত প্রজা বা চাষারায়তদের দ্বারাই জমি থেকে উৎখাত হত, কুয়ো, পুকুর, দীঘি, ধর্মশালা ইত্যাদি ব্যবহার করতে বাধার মুখে পড়ত। প্রজাদের ক্রীতদাসের সমান জীবন কাটাতে হত তাদের। সবাই বলে ১৮৬১ সালে দুনিয়া জুড়ে ক্রীতদাস-প্রথা খতম হয়।১৬ কিন্তু আমাদের দুঃখের সঙ্গে বলতেই হয় ভারতে অস্পৃশ্যতার কু-প্রথা যে দাসব্যবস্থার জন্ম দেয় তা কেবল তখনই বন্ধ হয় যখন সংবিধানে অপৃশ্যতাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এর অর্থ ভারতের শাসক শ্রেণি, সংবিধানকে মান্যতা দিয়ে, অচ্ছুৎ মানুষদের বাকি ভারতীয় জনগণের সমানাধিকার দিতে নিমরাজি হতে বাধ্য হয়। ফলত বাকি ভারতীয়দের কাছে অপ্রিয় ঠেকলেও এই সত্যিটা গিলতেই হবে যে এই অসাধ্য সাধনের শুরুয়াত ব্রিটিশ শাসনের হাত ধরে।

আমায় ধান ভানতে এতক্ষণ শিবের গীত গাইতে হল এইটা বোঝাতে যে কেন বিশ শতকের গোড়ায় এসে অবশেষে মাহাদে অচ্ছুৎদের নাগরিক হিসাবে প্রাপ্য ন্যূনতম মৌলিক অধিকারের জন্যে লড়াই শুরু করা সম্ভব হল। মাহাদ অঞ্চলের অচ্ছুৎ মানুষেরা অস্পৃশ্যতার শৃঙ্খলে বাঁধা পড়ে এত বছর ধরে শোষিত হতে হতে নিজেরা এই শিকল ছিঁড়ে মুক্তির স্বাদ নিতে পেরে উঠছিল না। এই সংগ্রামের পালে হাওয়া লাগল মাহাদের সেই ছোট্ট রেস্তোরাঁ থেকে। এই রেস্তোরাঁ হয়ে উঠেছিল আশেপাশের প্রায় দুশো গ্রামের মানুষের এক আলাপ আলোচনার ঠেক। মাহাদ টাপা অর্থাৎ এলাকা, নাটে টাপা, বিরওয়াড় টাপা, ভিনহেরে টাপা আর টুড়িল টাপা মিলিয়ে পাঁচ খানা টাপার দুশো গ্রামের মানুষের জমায়েতের মঞ্চ হয়ে উঠেছিল এই রেস্তোরাঁ। মতাদর্শগত জাগরণ আর সংগঠনের আঙ্গিক থেকে এর উপযোগিতা অকল্পনীয়। মানুষ যারপরনাই ক্ষিপ্ত ছিল কারণ অস্পৃশ্যতার চল থাকায় তাদের প্রতি পদে পদে অপমানের মুখোমুখি হতে হত, মানুষ ঘৃণার চোখে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করত। ওঁরা এটাও উপলব্ধি করে যে কুখাদ্য (মৃত জন্তুর পচা মাংস) খাওয়া পরিহার করা, নোংরা অপরিচ্ছন্ন জীবনযাপন বদলানো ও অন্যায়কে রুখে দেওয়া সময়ের দাবি; এইসব কিছুই এখন তারা বাস্তবে পালন করতে শুরু করে।

অচ্ছুৎ মানুষেরা আমায় নিয়ে গর্ববোধ করত কারণ আমি মাহাদের ইংরেজি স্কুলের এক মোটের উপর সমঝদার ছাত্র ছিলাম; ছিলাম এক চওড়া বুকের জোয়ান ছেলে যে অস্পৃশ্যতার অন্যায়ের বিরুদ্ধে খুল্লমখুল্লা গলা চড়াত সকলের হয়ে আর আমার বক্তব্য ওদের কাছে মূল্যবানও মনে হত। অতীতে অচ্ছুৎ মানুষদের মাহাদের খোলা বাজারে প্রায়ই গলাবাজি করে দাবড়িয়ে রাখা হত, কখনও কখনও তো মারধোর করাও হত। কিন্তু এখন যদি এমন কিছু ঘটে, রেস্তোরাঁ থেকে আট দশ জন ছোকরা লাঠি হাতে তেড়ে আসবে এর প্রতিবাদে, প্রয়োজনে আরও বড়ো সংখ্যায় ছুটে আসবে সাহায্য করতে। ক্রমে হিন্দু-মুসলিমসহ বাকি মানুষজন বুঝতে শুরু করল যে অচ্ছুৎ লোকেরা, বিশেষত মাহার জাতির লোকেরা, ক্রমে সচেতন ও সংগঠিত হচ্ছে। ওদের সঙ্গে ঝামেলা করা বেঅকুবি হবে এখন।

বাজারের কিছু ব্রাহ্মণ আর গুজ্জর আমাকে খোটা দিয়ে জিগ্যেস করত, তুই কি মামলেদার বা উকিল হতে যাচ্ছিস নাকি? এর জবাবে আমি বলতাম, ‘আমাকে নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না, আমার জাতের এমন প্রচুর লোক আছে যারা এত শিক্ষিত যা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না, প্রচুর মাহার আছে যারা এমএ, পিএইচডি, ডিএসসি ডিগ্রিধারী, এমনকি পেশাদার ব্যারিস্টার।’ আমার কথা শুনে ওরা হেসে উড়িয়ে দিত, বিশ্বাস করত না। মাহার জাতের লোকেরা এত উচ্চশিক্ষিত হতে পারে তা ওরা মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না। ওরা আমায় শুনিয়ে বলত যে বড়ো-জোর কেউ এলএলবি পাশ করতে পারে, তার বেশি কিছু না। আদতে ওরা তখন যা বলেছিল তখনও অবধি তা সত্যিই ছিল; কারণ ব্রাহ্মণদের মধ্যেও এত উচ্চশিক্ষিত হওয়া ছিল কারো পক্ষে দুর্লভ ব্যাপার। কিন্তু আমি মনোস্থির করেছিলাম যে মাহাদে ড. আম্বেদকরকে আনবোই এই লোকগুলোকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে। সেই মোতাবেক আমি পরিকল্পনা শুরু করলাম।

একবার দেশমুখ নামক জমিনদার মোহোপ্রেকারের মালিকানায় থাকা রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিল বকেয়া না মেটানোয়। মোহোপ্রেকার ছিল এই জমিনদারের ভাড়াটে। কিন্তু জমিনদারের কৌশল খাটল না: আমি রেস্তোরাঁ নিজেই নিয়ে নিলাম, ‘আর বি মোরের সরাইখানা’ সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিলাম; আর আবার চালু করে দিলাম। ফলে আমায় নিয়ে চর্চা বহুগুণ বেড়ে গেল। এক নামী নির্দয় জমিনদারকে আমার সবক শেখানোর গল্প অচ্ছুৎদের পাশাপাশি আশেপাশের গরিব মানুষদের মনেও আমার জায়গা করে দিল। মাহাদের ওই রেস্তোরাঁর দৌলতে, শহরের বাজারে আসা প্রত্যেক অচ্ছুৎ নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াতে পারত। অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে আওয়াজ ওঠাতে পারত। গরিব বর্ণহিন্দুরা এই জন্যে ওদের ঘেন্না করত না, ওদের প্রতি ক্রুদ্ধও হত না, বরং অচ্ছুৎদের এই সাহসী চলাচল ওদেরকেও কৌতূহলী করে তোলে যে কীভাবে তা সম্ভব হচ্ছে। আমি নিজে ছিলাম কাছের গ্রাম থেকে রোজ মাহাদে পড়তে আসা এক স্কুলছাত্র, স্কুলের আশেপাশে কোনো অচ্ছুৎদের বাসা ছিল না, বাজারেও খাবারের জলটুকু পেতাম না। রায়গড় উপত্যকার শয়ে শয়ে অচ্ছুৎ যারা সেকালে মাহাদে আসত তাদের অবস্থাও ছিল তথৈবচ। মাহাদের বাজারে এক রেস্তোরাঁ খোলায় আমি আর আমার মতো অসংখ্য মানুষের আপদকালীন সমস্যার সমাধান হয়। অবশ্য তাতেও প্রচুর সংখ্যায় মানুষের পানীয় জলের সমস্যাটা রয়েই গেল। মাহাদের অসংখ্য মানুষের এই সমস্যা ধিকিধিকি জিইয়ে রইল তাই।

এরপরেই এল ১৯২৩ সাল। এই বছরেই এস কে বোলে বোম্বে বিধানসভায় সরকারি কুয়ো, নলকূপ, চৌবাচ্চা, ধর্মশালা, জলসত্র ইত্যাদিতে অচ্ছুৎদেরও জলপানের অধিকার বলবৎ করতে চেয়ে এক প্রস্তাব আনেন। আর ব্রিটিশরাও তাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এই প্রস্তাবকে পাশ করে।১৭ তারপর সরকার এই বিলকে আইন হিসাবে কার্যকর করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, পৌরসভার মতো আধা-সরকারি সংস্থায় পাঠায়। এই সময় বহু প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসে এই সরকারি বিলের পৃষ্ঠপোষক হিসাবে, দাবি করে যে তারা প্রগতিশীল মনোভাবাপন্ন, যদিও তাদের ধান্দা ছিল নিজেদের স্বার্থরক্ষায় সরকারের বদান্যতা লাভ। কিছু দেখনদার সংস্কারক তো বলেই বসে, মৌখিক আশ্বাসও দেয় যে তারা এই বিল সমর্থন করছে। বাস্তবে অবশ্য একখানা সংস্থাও এই বিল কার্যকর করেনি। ওদের এই সততা বা হিম্মৎটুকু ছিল না এই বিলের স্বপক্ষে দু-চার কথা প্রচার করবার। সত্যি কথা বলতে, আমার মতো দু-চারজন শিক্ষিত অচ্ছুৎ মানুষ যারা সামাজিক কার্যক্রমে জড়িত থাকত তারা ছাড়া এই বিল নিয়ে কেউ কুটোটি নাড়তে চাইল না।

বিলখানা পাস হবার একদিন বাদে, আমি মাহারওয়াড়া বা মাহারপাড়ায় বাজারে আসা কিছু অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী আর আমার কিছু বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে একখানা মিটিং সংগঠিত করি। সেখানে জানাই সরকার কর্তৃক পাশ করা এই বিল সম্বন্ধে। আমি ছাড়াও আরও একজন বয়স্ক মুখিয়া লোক ছিল মারুতি আগাভানে নামের যে ক্ষুরধার বক্তব্য রাখে। ওঁর একখানা হাত কাটা গেছিল। মাহাদের বাজারে জুতোর দোকান খুলে বসতেন। সত্যশোধক সমাজের ভাবনা দ্বারা উনি উদ্বুদ্ধ হন। আমার প্রতি বরাবর স্নেহপ্রবণ ছিলেন। ওই মিটিংয়ে উনি বলেন যে পানীয় জলের সমস্যাটার সমাধান চাই। দাক্ষিণাত্যের উপত্যকার ছাম্ভার (মুচি) জাতির লোকেরা মাহাদে আট মাস ধরে দোকান চালাত, আর বর্ষায় চার মাস নিজেদের গ্রামে গিয়ে থাকত। ওই মিটিংয়ে আমরা এক ঐতিহাসিক গুরুত্ববহ সিদ্ধান্ত নিই ড. ভীমরাও রামজি আম্বেদকরের সভাপতিত্বে কোলাবা জেলার নিচুজাতির এসোসিয়েশনের সম্মেলন মাহাদে আয়োজন করব। জাতি পঞ্চায়েতের মুখিয়াদের দায়িত্ব দেওয়া হল প্রতি গ্রাম থেকে মাথাপিছু তিন টাকা অনুদান সংগ্রহের যাতে সম্মেলনের খরচ নির্বাহ করা যায়। বাজারের অচ্ছুৎ ছেলেছোকরাদের মধ্যে এখন নতুন উদ্দীপনা দেখা দিল। কোণে কোণে লোকজন আলোচনা করতে লাগল যে মাহাদে আম্বেদকর সাহেব আসতে চলেছেন এক বড়ো জমায়েতে।

পরে, ১৯২৪-এ আমি বোম্বে গিয়ে আম্বেদকর সাহেবের সঙ্গে মোলাকাত করি। পারেলের দামোদর হলের উপরে দোতলায় একটা ঘরে আমার থাকার ইন্তেজাম করে সোশ্যাল সার্ভিস লিগের লোকজন।১৮  উনি যখন ইংল্যান্ড থেকে ফিরে এলেন বার (আইন) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে, এই ঘরেই উনি প্রথম অফিস বানান। আমি যখন ওঁর সঙ্গে দেখা করতে যাই, শিবরাম শম্ভাবী গায়কোয়াড় আমার সঙ্গে ছিলেন। আমরা প্রথমে সোশ্যাল সার্ভিস লিগের অনন্তরাও ছিত্রের সঙ্গে দেখা করি আর তারপর আম্বেদকরের সঙ্গে দেখা করে বলি যা আমাদের বলার ছিল। ছিত্রের উপস্থিতি আমার জন্যে কাজটা সহজ করে দিল। উনি (আম্বেদকর) তত্ত্বতালাশ করেন যে আমি কোথায় থাকি, কী করি, কদ্দূর পড়েছি ইত্যাদি ইত্যাদি। শেষে সন্তুষ্টিসহকারে মাথা নাড়েন। তারপর আমায় বলেন, ‘তুমি জানো না কোঙ্কনের মানুষেরা কীরকম। ওরা একগুঁয়ে। ওরা বলতেই থাকবে আমরা যেমনি আছি তেমনি থাকব। ওরা প্রশ্ন করবে, কে এই খ্রিস্টপ্রেমী যে এসে আমাদের বাতেলা দিয়ে যাচ্ছে যে আমরা কী করব না করব? ওরা আমার কথা শুনবে না।’ এর উত্তরে আমি বলি, ‘সাহিব, ওরা আমার কথা শোনে। তাই আপনার কথাও শুনবে।’ সবশেষে উনি বলেন, ‘আমার তো এখন একেবারেই সময় নেই। দেওয়ালির সময় আসো। তখন দেখা যাবে কী করতে পারি।’ তারপর আমি ছিত্রের কাছে গেলাম যে পাশের ঘরে বসে ছিল। উনি জানতে চান এই সম্মেলনের জন্যে কীভাবে আমরা খরচার টাকা জোগাড় করছি। আমি বলি সমস্ত গ্রাম থেকেই মানুষজন কিছু টাকাপয়সা তুলে দিচ্ছে। উনি তারপর অর্থসংগ্রহের ব্যাপারে সাহায্য করবেন বলে কথা দেন। আমরা একটা ছক কষে ফেলি দ্রুত। আমরা ঠিক করি একটা নাটক করব। তার মধ্যে দিয়ে যে টাকা উপার্জন হবে তা সম্মেলনে কাজে লাগানো হবে। উনি বাবাসাহেবকে সামনে রেখে মাহাদে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলন নিয়ে এতটাই উৎসাহিত হয়ে পড়েন যে পরদিনই আমায় ডেকে নাটকের ব্যাপারে পাকা কথা বলে নেন।

সোশ্যাল সার্ভিস লিগ শ্রমিক মহল্লায় কাজ করত গোপাল কৃষ্ণ গোখলে বাবুর স্থাপিত সার্ভেন্টস অফ ইন্ডিয়া সোসাইটির নেতৃত্বে। এই সোসাইটির নেতৃত্বেই বোম্বেতে পঞ্চাশ বছর আগে শ্রমিক মহল্লাগুলোয় সমবায় আন্দোলন দানা বাঁধে। সোশ্যাল সার্ভিস লিগ তার কাজ শুরু করে এলফিনস্টোন রোডে সমবায় ঋণ সমিতি, সমবায় ছাপাখানা ও সমবায় থিয়েটার কোম্পানি তৈরির মাধ্যমে। সমবায় থিয়েটার কোম্পানির প্রধান ছিল কদম। সন্ত তুকারাম ওদের প্রথম নাট্যাভিনয়। ওরা প্রতিশ্রুতি দেয় যে ওদের প্রথম রজনীর অভিনয়ের লভ্যাংশ মাহাদে আমাদের সম্মেলনের জন্যে দান করে দেবে। চিত্রে আর কদমের সৌজন্যে আমরাও এই নাটকের দর্শক হতে পারি মুফতে। কিন্তু টিকিট বিক্রি করার দায়িত্ব নেবে কে? নাটক হবার কথা দামোদর হলে। এই হলের মালিক সোশ্যাল সার্ভিস লিগ। ফলে হলের জন্যেও কোনো ভাড়া লাগছে না। আমাদের শুধু টিকিট বিক্রির বন্দোবস্ত করতে হবে। আমি ভাবলাম যে ভীমরাওয়ের বড়োদা বলরাম আম্বেদকর আমাদের এ ব্যাপারে সহায়তা করতে পারেন। আমি সটান ওঁর কাছে চলে গিয়ে ওঁর সাহায্য প্রার্থনা করি। উনিও যারপরনাই খুশি হন মাহাদে সম্মেলন হচ্ছে জেনে। উনি মাহাদের সম্মেলনে আসবেন বলে পাকা কথাও দেন। কিন্তু টিকিট বিক্রির দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে রাজি হন না। উনি বলেন, ‘আমাদের লোকেরা নাটক দেখে না, তামাশা দেখে। তাই এইক্ষেত্রে আমরা বিশেষ কিছুই করে উঠতে পারব না।’ আমি প্রত্যুত্তরে ওনাকে বিনীতভাবে বলি, ‘আমাকে যদি আপনার কিছু চেনা-পরিচিত সহযোগীর নামধাম বলেন, তবে আমি নিজে গিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা করে আমাদের কথাটুকু জানাব।’

উনি তারপর আমায় শম্ভাজী তুকারাম গায়কোয়াড়ের নামঠিকানা বলেন। সেই সময়ে উনি ফরাসি একখানা মোটোরগাড়ি কোম্পানির জমাদার হিসাবে কাজ করতেন। মাইনে পেতেন দুশো টাকা প্রতি মাসে। সে-যুগে কোনো কেরানি বা পিওনের পক্ষেও মাসে কুড়ি-পঁচিশ টাকা কামানো ছিল দুরূহ ব্যাপার। উনি ছিলেন মাহার জাতির এক নিবেদিতপ্রাণ সমাজসংস্কারক। এই প্রথম আমি ওঁর সঙ্গে আলাপ করি। যখন উনি জানলেন যে আমি গ্রামে থেকে আমার মারাঠি আর ইংরেজি শিক্ষা পেয়েছি, যখন জানলেন আমাদের সম্মেলন সংক্রান্ত যাবতীয় পরিকল্পনা, উনি আবেগাপ্লুত হলেন। কিন্তু যখন টিকিট বিক্রির প্রসঙ্গ এলো, উনি সোজাসুজি নিজে টিকিট বিক্রি করতে পারবেন না তা জানিয়ে দেন। এমনকি এ-ও বলেন যে কাউকে জোগাড়ও করতে পারবেন না টিকিট বিক্রির জন্যে। মানুষের বদভ্যাস ও নেশাগ্রস্ততাকে সরাসরি দায়ী করেন উনি।১৯

সে যুগে ড. আম্বেদকর নিজে ছাড়া বোম্বেতে সমাজসংস্কারের জন্যে সত্যিকারের ভাবিত এমন মানুষ আর মাত্র দুইজনকে চিনতাম আমি: বলরাম আম্বেদকর ও শম্ভাজি গায়কোয়াড়। দুইজনেই যখন আমায় প্রত্যাখ্যান করে দেয় সরাসরি, তখন ভীষণ হতাশ হয়ে পড়ি। তারপর আমি চলে যাই আমার তিন বন্ধুর কাছে। ওরা থাকত ফোর্ট চত্বরে সেন্ট জর্জ হাসপাতালের চাকরদের কোয়ার্টারে। আমি ওদের এই নাটকের জন্য টিকিট বিক্রির ব্যাপারে যাবতীয় কথা খুলে বলি। তিনজনেই ইউনিফর্ম পরা রক্ষী বা পিওন হিসাবে কাজ করত। দুইজন কোনোরকমে সইসাবুদ করতে পারত, আরেকজন মারাঠি স্কুল থেকে চতুর্থ শ্রেণির পরীক্ষা পাস করেছিল। আমার এই বন্ধুদের সহায়তায় আমি কয়েকখানা চারআনার টিকিট, কিছু আঠাশআনা আর কিছু দশআনার টিকিট বেচতে পারলাম। নাটক অভিনয়ের দিন এই তিন বন্ধু আমার সঙ্গে দামোদর হলে এসেছিল সমস্ত ব্যবস্থাপনা তদারকি করতে। এদের মধ্যে যে বেশি শিক্ষিত  ছিল তাকে আমি টিকিট কাউন্টারে বসিয়ে দিই টিকিট বেচবার জন্যে। বাকি দুইজনকে টিকিট চেক করে হলে দর্শকদের বসাবার দায়িত্ব দিই। হলে যেহেতু চার-পাঁচ খানা ঢুকবার গেট ছিল, দুইজনে তাই সামলাতে হিমশিম খায়। একটা বড়ো সংখ্যায় দর্শক হল উপচে ভিড় জমায় কোনোরকম টিকিট না কেটেই।

যখন নাটকের অভিনয় শুরু হল তখন ডক্টর সাহেব নিজের অফিসে কিছু কাজ সামলাচ্ছিলেন। আমি ওঁর কাছে যাই। কাতর আবেদন জানাই যাতে বলরামদাদা বা কাউকে পাঠাতে পারেন যে নাটক শেষ হবার পরে মনোরঞ্জন থিয়েটার কোম্পানি, চিত্রে আর কদমকে ধন্যবাদ জানাবে এই পালাটি আমাদের অর্থসংগ্রহের উদ্দেশ্যে অভিনয় করবার জন্যে। উনি বলেন, অন্য কাউকে কী প্রয়োজন, তুমি নিজেই তো আছো, তুমিই সকলকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো। ফলে আমাকেই মঞ্চে উঠে নাটক শেষ হবার পরে সকলকে ধন্যবাদ জানাতে হল। নাটকের শেষ দৃশ্যের অভিনয় সম্পন্ন হলে, পর্দা পড়ল, মঞ্চে একটা টেবিল-চেয়ার সাজানো হল। আমি চেয়ারে বসলাম। কিছুক্ষণ পরে পর্দা সরে গেল। আমি উঠে দাঁড়ালাম। হল হাততালিতে ফেটে পড়ল। আমি টেবিলের পাশে হাতের বলে কোনোরকমে নিজেকে শান্ত রাখি। অল্প কিছু শব্দে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি ধীরে ধীরে, ঠিক যেন একঝাঁক স্কুলছাত্রকে পড়ার নোট দিচ্ছিলাম! জীবনে এই প্রথম বোম্বের শিক্ষিত সমাজের সামনে পাবলিক হলের ডায়াসে দাঁড়িয়ে কোনো বক্তব্য রাখি।

১৯২৪ সালকে চিহ্নিত করা যায় এমন বছর হিসাবে যে সনে অচ্ছুৎদের আত্মসম্মান, স্বাধীনতা ও মুক্তির লড়াই তীব্র গতি পায়। এই ছিল সেই বছর যেবারে কোলাবা জেলার নিচুজাতের এ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলন হবার কথা মাহাদে। এই সিদ্ধান্তের খবর সম্মেলনের ভাবী চেয়ারম্যান ড. আম্বেদকরের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল ইতিমধ্যেই। বোম্বের দামোদর ঠ্যাকারসে হলে প্রকাশ্যে তার ঘোষণাও করা হয়। ব্যাপক প্রচারও হয়। এই বছরখানি আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই বছরেই ড. আম্বেদকর ইউরোপীয় ও মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকে নিজের পড়াশোনার যাবতীয় ডিগ্রি অর্জন করে পড়াশোনার পাঠ সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আসেন আর এই বছরেই জনসেবার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন। প্রতিষ্ঠা করেন বহিষ্কৃত হিতকারিণী সভা (এ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ওয়েলফেয়ার অফ আউটকাস্টস)।

আমি ড. আম্বেদকরকে আগে থেকেই চিনতাম। কিন্তু যেইবারে সম্মেলনের ব্যাপারে কথা বলতে যাই ওঁর কাছে সেই উপলক্ষ্যখানি ছিল অতুলনীয়। সেই বছরে আমি শুধু ওঁর পরিচিত হয়ে উঠি তা না, আমি ওঁর সহযোগী ও অনুরাগী হয়ে উঠি।

আমি ছিলাম তাদের একজন যারা ওঁর নেতৃত্বকে সম্মান জানাত। সেই যুগে, মাহাদ বা অন্যান্য গ্রামীণ এলাকায় বোম্বে শহরের মতো শিল্পতালুকের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ও রেলওয়ে, মোটরগাড়ির মতো যাতায়াত ব্যবস্থার সহজলভ্যতার ফলে আগেকার মতো অস্পৃশ্যতার কু-প্রথা মেনে চলা দুষ্কর হয়ে পড়ে। ব্রিটিশ শাসকেরা এই অগ্রগতির ফায়দা তোলে, সমাজসংস্কারের মহান প্রতিভূ সেজে ১৯২৩ সালে কিছু সরকারি খোলা জায়গা অচ্ছুৎদের ব্যবহারের জন্যে অবাধ করে দেয়। এই প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়েই কিছু অচ্ছুৎ যুবকের সহায়তায় আমি অচ্ছুৎ জনতার মধ্যে কিছুটা হলেও বোধোদয় ঘটাতে সক্ষম হলাম। ১৯২৪ সালে মাহাদে সম্মেলন হবে বলে ঠিক হয়। কিন্তু শেষমেশ ১৯২৭ সালে এই সম্মেলন করে ওঠা সম্ভব হয়। মাঝের তিন বছর মাহাদে জনচেতনা প্রসারে খুবই গুরুত্ববহ। আমি চাই এই কালপর্বে ঘটা কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে লিখতে।

দেখে মনে হচ্ছিল অস্পৃশ্যতাকে চিরতরে মুছে দেওয়া এখন সম্ভবপর, কিন্তু এই কু-প্রথা বজায় রাখবার অপচেষ্টাও ভীষণভাবে হচ্ছিল সে-সময়েই। দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায়, এই সময়ে মাহাদ-ধরমতার-বোম্বে রুটে চালু হয় নতুন প্রাইভেট প্যাসেঞ্জার বাস পরিষেবা। বাস মালিকেরা অচ্ছুৎ মানুষদের বাসে তুলত না। আমি গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে জেলা কালেক্টরের কাছে প্রতিবাদলিপি পাঠাই। উনি এই চিঠি পেয়ে পুলিশের ডেপুটি সুপারিন্টিন্ডন্টের কাছে পাঠিয়ে দেন যাতে চিঠির বক্তব্যকে কার্যকর করা যায়। ডিএসপি চিঠি লিখে আমায় প্রতিশ্রুতি দেন যে এই অন্যায় তিনি বন্ধ করবেন। সেই সময়ে ডিএসপি ছিলেন একজন ইউরোপীয়। আমি ওর থেকে চিঠি যখন পাই তখনও আমি মাহাদের স্কুলছাত্র মাত্র। এই ব্যাপার নিয়ে একবার মাহাদের বাজারে শিক্ষক ও বাকিদের মধ্যে ব্যাপক বাগবিতণ্ডা হট্টগোল হয়। পুলিশ ইন্সপেক্টর মাহাদের বাস মালিকদের ডেকে এই অবিচার যাতে বন্ধ হয় তা নিয়ে সতর্ক করে দেয়। উনি তারপর আমায় ডেকে জানতে চান সেই সব বাস মালিকদের নাম যারা বাসে উঠতে বাধা দিচ্ছে অচ্ছুৎ প্যাসেঞ্জারদের। উনি বলেন এদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবেন উনি। আমি তারপর অচ্ছুৎ মানুষদের জানাই কী কী ঘটেছে। তারপর থেকে ওরা নিজেদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বাসে চড়তে পারত। এই ঘটনার দৌলতে অচ্ছুৎ মানুষদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল মাথাচাড়া দিল। ক্রমে ওরা আমায় ওদের একজন নেতা হিসাবে মানতে শুরু করল।  


টীকা

১৬. ব্রিটিশরা ১৮০৭ সালে দাসব্যবসা বন্ধ করে। ১৮৩৩ সালে ক্রীতদাস প্রথা রদ করে।

১৭. ১৯২৩এর ৪ আগস্ট ৪৭৭০নং প্রস্তাব।

১৮. এন এম জোশী ১৯১১ সালে সোশ্যাল সার্ভিস লিগ তৈরি করেন। গোপাল কৃষ্ণ গোখলের স্থাপন করা সার্ভেন্টস অফ ইন্ডিয়ান সোসাইটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন জোশী। লালা লাজপত রাইয়ের সঙ্গে মিলে উনি অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস গঠন করেন। এই লিগের মাধ্যমে ত্রাণ ও গরিবদের জন্যে সমাজসেবামূলক কর্মসূচি নেওয়া হত। অনন্তরাও ছিত্রে ও এ ভি টিপনিস ছিলেন সোশ্যাল সার্ভিস লিগের অন্যতম দুই উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব। এঁরা মাহাদ সত্যাগ্রহেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯. এস টি গায়কোয়াড় টিকিট বিক্রি করতে রাজি হননি কারণ উনি বিশ্বাস করতেন যে মানুষ নাটক দেখতে ঠিক অভ্যস্ত না, বরং তামাশা দেখতেই তারা পছন্দ করে বেশি। নেশা-বদভ্যাসে পয়সা ওড়াতে মানুষ দু-দণ্ড ভাববে না তাই ছিল ওঁর বিশ্বাস। উনি এ-জাতীয় সমস্যায় নিজেকে জড়াতে চাননি সম্ভবত নিজে অধিক উপার্জনক্ষম শ্রেণির মানুষ বলে। শেষমেশ আর বি মোরে তার সহকর্মীদের সস্তায় টিকিট বিক্রি করতে সক্ষম হন, যদিও তার বাইরেও বহু লোক টিকিট না-দেখিয়েই গেট উপচে নাটক দেখতে চলে আসে, তাদের উনি আটকাতে পারেননি।

অনুবাদ ও টীকা- দেবরাজ দেবনাথ

 


প্রকাশের তারিখ: ২৯-জুন-২০২৫

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org