মনুবাদের বিপদ, গড়ে তুলতে হবে প্রতিরোধ

অলকেশ দাস
তিনি বলেছেন আমি নিজের মেয়েদের বিয়ে দিয়েছি, পণ দিয়েছি। ছেলের বিয়ে দিয়েছি, পণ নিয়েছি। ব্যাপারটা এমন যেন শোধবোধ। কিন্তু আসলে অন্তর্নিহিত অর্থ যে তিনি নারীকে দাঁড়িপাল্লায় তুলেছেন। পণ্য করেছেন। বিজেপি আরএসএস তাদের মতাদর্শে নারীকে কিভাবে দেখে বা তাদের দৃষ্টিতে সমাজের কোনও স্থানে নারীর সামাজিক অবস্থান এতেই তা স্পষ্ট। মনুস্মৃতিকে পাথেয় করে তারা মনুবাদকে প্রয়োগ করতে উদগ্রীব। সাধে আর আরএসএসের গুরু গোলওয়ালকার মনুকে বিশ্বের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ আইন প্রস্তুতকারক বলেননি। তাকেই সংবিধান করতে চেয়েছিলেন। মনুসংহিতাই নাকি ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পুরোপুরি প্রতিফলিত করে। তা করতে না পেরে আম্বেদকরের উপর রাগ।

ভারতের প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থ বেদ। তাকে কেন্দ্র করেই বৈদিক ধর্ম। পরবর্তীতে ব্রাহ্মণরা এই ধর্মের মাথায় চেপে তাকে ব্রাহ্মণ্য ধর্মে রূপান্তরিত করে। অনেকে এই ব্রাহ্মণ্য ধর্মকে হিন্দু ধর্মের রূপ বলে মনে করে। প্রাচীন হিন্দু ধর্ম শাস্ত্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী গ্রন্থ মনুসংহিতা বা মনুস্মৃতি। ভারতের সংস্কৃতি-রাজনীতি-ইতিহাস-ঐতিহ্যের মধ্যে তা প্রভাব ফেলেছে। মনুসংহিতার রচনাকাল আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২০০ অব্দ থেকে খ্রিস্ট পরবর্তী ২০০ অব্দে। এই সময় ছিল শুঙ্গ, গুপ্ত যুগ। স্মর্তব্য যে এই সময় ছিল ব্রাহ্মণ্য ব্যবস্থার স্বর্ণযুগ। ভারতের নির্দিষ্ট শ্রেণি গোষ্ঠীর স্বার্থের প্রতিফলন ঘটানো হয় মনুসংহিতায়। আর্য অভিজাত বর্গের, মূলত ব্রাহ্মণ্যবাদের একচেটিয়া সামাজিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অনুশাসনের নির্মাণ হয়।

রাষ্ট্র তার নিজের প্রয়োজনে প্রাচীন বেদ ও বেদোত্তর অনুশাসনগুলি নতুনভাবে বিন্যস্ত করে। তারই পরিনামে নারীর সামাজিক অবস্থান ও মর্যাদা ক্রমশ নিম্নগামী হয়। নিরঙ্কুশ পিতৃতন্ত্র এবং উচ্চবর্ণের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা হয়। শূদ্র আর নারী হয়ে যায় হীনজন্ম। অপূর্ণ মানব। এমনকি ব্রাহ্মণ নারী ও শূদ্র নারী একই রকম নিম্ন গোত্রীয় হয়। নারীর ধর্মশাস্ত্র পাঠ, প্রথাগত শিক্ষা বন্ধ করার বিধান দেয় মনুস্মৃতি। নারীর মানবিক, সাংস্কৃতিক বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় মনুসংহিতা। মনু নারীদের বিবাহ বাধ্যতামূলক করে দেয়। ভূমি, পশু, বস্তু যদি দানযোগ্য হয়, তাহলে যেহেতু নারী বস্তু ছাড়া আর কিছুই না, সুতরাং তাকে সম্প্রদান করা যায়, পুরুষকে নয়। বিধবা হওয়ার পর নারী কঠোর ব্রহ্মচর্য অবলম্বন করবে। কিন্তু পুরুষের পত্নী বিয়োগ হলে সঙ্গে সঙ্গেই তাকে দ্বিতীয় পত্নী বরণ করতে হবে। বিবাহের বয়স পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে দিয়েছে মনুস্মৃতি। ৩০ বছর বয়স্ক পুরুষ বিবাহ করবে দ্বাদশ বর্ষীয়া কন্যাকে। ২৪ বছরের পুরুষ বিবাহ করবে ৮ বছরের কন্যাকে। আসলে মনুর মতে, পুরুষ এবং নারীর মধ্যে বয়সের যত ফারাক থাকবে ততোই তাকে মুঠোর মধ্যে রাখা যাবে। নারীর পছন্দের কোনও অধিকার থাকবে না। কারণ নারী ভোগের বস্তু, সন্তান উৎপাদনের আধার মাত্র। নারী শৈশবে পিতার, যৌবনে স্বামীর, বার্ধক্যয় পুত্রের অধীনে। অধীনতা ছাড়া নারীর স্বাধীনতা নেই। মনু নারীকে অশুভ, অধর্মের প্রতীক হিসাবে আখ্যায়িত করেছে। বলেছে ব্রাহ্মণ ঋষির শয্যাসঙ্গিনী হলে নাকি শূদ্র নারীর সামাজিক সম্মান প্রাপ্তি ঘটে। এরই  অনুসরণে সামাজিক প্রথা ছিল— যে কোনও সম্প্রদায়ের বিবাহিত রমনীর প্রথম সন্তানের জন্ম অবশ্যই ব্রাহ্মণের ঔরসে এবং পরবর্তী সন্তান ধারণ হবে স্বামীর ঔরসে। নারীর অসবর্ণ বিবাহকে মনুস্মৃতিতে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নারীর পূর্বের উপনয়ন, বেদ পাঠ, গুরুগৃহে গমণের অধিকার কেন কেড়ে নেওয়া হলো তারই উত্তরে মনু বলেছেন— নারীর বিবাহ-ই উপনয়ন, পতিসেবা বেদ অধ‍্যয়ন, পতিগৃহে বাস মানে গুরুগৃহে বাস। শয়তানের ছলের অভাব হয় না!

অর্ধেক আকাশে নারী— এই বক্তব্য তাচ্ছিল্যে বর্জন করেছে মনুস্মৃতি। এখানে পুরো আকাশেই বিরাজমান পুরুষেরা। মনুসংহিতা প্রজননের প্রয়োজনে নারীকে পশুর সঙ্গেও তুলনা করেছে। নারীগর্ভকে জমির সঙ্গে তুলনা করেছে। নারীরা যাতে ‘গৃহদীপ্তি’ হয় তার উপায় বাতলেছে মনুস্মৃতি। নারীকে রূপচর্চা, শিশু পালন, ধাত্রীবিদ্যা ইত্যাদিতে বেঁধে রাখো। যাতে সে বাইরের জগতে পুরুষের অংশীদারত্বের ধারেকাছে যেতে না পারে। প্রতিমুহূর্তে মনুসংহিতা নারীকে স্মরণ করিয়েছে— তুমি পুরুষের পদানত। তোমার স্বাধীন কোনও মন নেই। তোমার কোনও ইচ্ছা থাকতে পারে না। মনুস্মতিতে নারীর বেদনাময়, বঞ্চনাময় অবস্থান। নারীদের স্বভাব হলো পুরুষদের দূষিত করা। জ্ঞানী গুণী মানুষকে স্ত্রী লোকেরা বিপথগামী করতে পারে— মনুস্মৃতি শিখিয়েছে। পুত্রার্থে ক্রিয়তে ভার্যা— এর উৎস মনুস্মৃতি। অর্থাৎ স্ত্রীর কাজ শুধু সন্তান উৎপাদন করা। নারীকে অপবাদ দিয়েছে মনুস্মৃতি, বলেছে নারী কখনো কোনও কিছু গোপন করতে পারে না। সেজন্য সে বিশ্বাসযোগ্য নয়। বিচার কাজে নারীর ভূমিকা নেই, এমনকি সাক্ষী দেওয়ার অধিকারও তার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যাকে বলা হয়েছে বুদ্ধির স্থিরতা নেই— সে কিভাবেই বা সাক্ষ্য দিতে সক্ষম হবে?

নারীর উত্তরাধিকার মনুস্মৃতিতে স্বীকার করা হয়নি। মনুসংহিতাতে কোনও যুক্তি ছাড়াই মেয়েদের জ্ঞানের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। কারণ সে নাকি অশুদ্ধ। মনুসংহিতায় উল্লেখ হয়েছে যে বিবাহ একজন নারীর বাবা এবং তার স্বামীর মধ্যের চুক্তি। বাবার কর্তৃত্ব থেকে স্বামীর কর্তৃত্বে পৌঁছানো। মনুসংহিতায় বলা হয়েছে পরিবারে যদি মহিলারা হিংসার সম্মুখীন হয়, তাহলে তা মেনে নিতে হবে। এটি এমন এক ধর্মগ্রন্থ যেখানে নারী পুরুষের পায়ে নয়, পায়ের তলায়। ব্রাহ্মণদের বহুবিবাহ করার অনুমতি দিয়েছে মনুসংহিতা। সেই মেয়েদের কোনও বয়সের আগল ছিল না। এখান থেকেই এসেছে— বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা। বলা হয়েছে ব্রাহ্মণদের এমন স্থানে ভোজনে বসাতে হবে যে ভোজনরত ব্রাহ্মণদের যেন চন্ডাল, কুকুর, কুক্কুট, শুকর ও রজস্বলা নারী দেখতে না পায়। এর অর্থ, নারী— কুকুর,শুকর, কুক্কুটের সঙ্গে তুলনীয়। এক অনিশ্চিত কাল পর্বে মেয়েদের জীবন যুদ্ধকে থামিয়ে দিয়েছে মনুসংহিতা। বলেছে— নারী কখনো স্বাধীন নয়। ন ভজেৎ স্ত্রী স্বতন্ত্র্তাম। নারীর নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধের কোনও মর্যাদা নেই। শূদ্র ও নারীকে অমর্যাদা, বৈষম্যের সমাসনে বসিয়েছে‍ মনুসংহিতা।

***

আরএসএস, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। বিজেপির চালিকাশক্তি। আরএসএসের পলিটিকাল উইং বিজেপি। আরএসএস নিজেকে পরিচয় দেয় সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসাবে। কিন্তু কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের মুখোশের পিছনে আসল মুখ আরএসএস— এ বিষয়ে কারুরই কোনও সন্দেহ নেই। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরএসএসের সংগঠক এবং প্রচারক। মন্ত্রিসভার একগাদা সদস্য, রাজ্যপালেদের বড় অংশ, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মাথায় আরএসএসের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। 

📲 এখন এক ক্লিকেই মার্কসবাদী পথ আপনার হোয়াটস অ্যাপে

আরএসএস চলে মনুসংহিতাকে সামনে রেখে। যাতে নারী এবং শূদ্রের বিস্তৃত অমর্যাদা। নারী এখানে স্বাধীন নয়। সঙ্ঘ পরিবার যে এর ঘোর সমর্থক তা বোঝা যায়। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের মহিলা সংগঠন— রাষ্ট্রীয় সেবিকা সঙ্ঘ। ‘স্বয়ং’ এখানে অবলুপ্ত। নারীর স্বাধীনতা এখানে প্রযোজ্য নয়। তাদেরও মতে নারী প্রথমে পিতার, তারপরে স্বামীর, তারপরে পুত্রের।

আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেছেন— বিবাহ হলো সামাজিক চুক্তি। যেখানে পুরুষ নারীকে ভাত কাপড় দেবে বলে। এবং নারী পুরুষের গৃহস্থালী সামলাবে। এই মর্মে বিবাহ নামক চুক্তিতে নারী ও পুরুষ আবদ্ধ হয়। এটা যদি কোনও নারী না মানে তাহলে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অধিকার স্বামীর থাকে। পরিষ্কার বোঝাই যাচ্ছে পুরো ভাবনাটা মনুসংহিতায় রাঙানো।

আরএসএসের আর এক শাখা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মহিলা বাহিনীর এক নেতা কৃষ্ণা শর্মা। কেন স্বামীর স্ত্রীকে প্রহার করা উচিত— তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। শিশু ভুল করলে বাবা-মা তাকে মারে। বাচ্চারা বাবা-মাকে বুঝে চলার চেষ্টা করে। ঠিক তেমনি স্ত্রী ভুল করলে স্বামী তাকে সংশোধনের জন্য প্রহার করতেই পারে। বরং স্ত্রীকে স্বামীর মন বুঝে চলতে হবে, তাকে উত্যক্ত করবে না। সঙ্ঘ পরিবারে নারীর এই অবমূল্যায়নের দৃষ্টিভঙ্গি মনুস্মৃতি সঞ্জাত। 

আর এক চমৎকার সময়োপযোগী মনু ভাবনার দৃষ্টান্ত বিজেপির মহিলা মোর্চার এক সভাপতি মৃদুলা সিনহার। তিনি বলেছেন আমি নিজের মেয়েদের বিয়ে দিয়েছি, পণ দিয়েছি। ছেলের বিয়ে দিয়েছি, পণ নিয়েছি। ব্যাপারটা এমন যেন শোধবোধ। কিন্তু আসলে অন্তর্নিহিত অর্থ যে তিনি নারীকে দাঁড়িপাল্লায় তুলেছেন। পণ্য করেছেন। বিজেপি আরএসএস তাদের মতাদর্শে নারীকে কিভাবে দেখে বা তাদের দৃষ্টিতে সমাজের কোনও স্থানে নারীর সামাজিক অবস্থান এতেই তা স্পষ্ট। মনুস্মৃতিকে পাথেয় করে তারা মনুবাদকে প্রয়োগ করতে উদগ্রীব। সাধে আর আরএসএসের গুরু গোলওয়ালকার মনুকে বিশ্বের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ আইন প্রস্তুতকারক বলেননি। তাকেই সংবিধান করতে চেয়েছিলেন। মনুসংহিতাই নাকি ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পুরোপুরি প্রতিফলিত করে। তা করতে না পেরে আম্বেদকরের উপর রাগ। যে আম্বেদকার ধর্মনিরপেক্ষতার সুর আর ধারণা সংবিধানের পরতে পরতে গেঁথে দিয়েছিলেন। যে আম্বেদকার ‘ব্রাহ্মণ্যবাদের বিজয় স্মারক’ চিহ্নিত করে মনুস্মৃতির প্রতীকি দহন করেছিলেন।

রাজস্থানে রূপ কানোয়ারের স্বামীর চিতায় সতী হওয়ার ঘটনা-গোটা দেশে আলোড়ন ফেলেছিল। সঙ্ঘ পরিবার শুধু সমর্থন যোগায়নি, তাদের নেত্রী বিজয় রাজে সিন্ধিয়াকে দিয়ে বলিয়েছিল— সতী হওয়া মেয়েদের মৌলিক অধিকার। মেয়েদের নিজেদের পছন্দ থাকতে পারে না— মনু স্মৃতির এই ভাবনা প্রতি মুহূর্তে আরএসএস বিজেপির ব্যবহারে প্রতিফলিত হয়। গোলওয়ালকারের ‘বাঞ্চ অব থটস’-বইতে একটি অধ্যায় আছে— কল টু দা মাদারহুড। সেখানে তিনি লিখেছেন— মেয়েরা আধুনিকতা ছাড়ো, আধুনিকতা মানে শরীর দেখানো নয়। সঙ্ঘ পরিবার ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’-তে ভাঙচুর করে, আবার রাধাকৃষ্ণের পরকিয়া প্রেম নিয়ে উচ্ছ্বসিত হয়। ‘হিন্দু কোড বিল’ আম্বেদকর যখন প্রণয়ন করেন, যাতে মহিলাদের উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে সমান অধিকারের কথা লেখা থাকে তার সবচেয়ে বিরোধিতা করে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াড, লাভ জিহাদ, অনার কিলিং, হাথরাস ঘটনা, বিলকিস বানু, উন্নাও ইত্যাদি সবকিছুর মধ্যে মনুস্মৃতির নারীর প্রতি ঘৃণার, তার অবমূল্যায়নের সংকেতের মিল। গুজরাটে সরকার আইন করেছে বিবাহ নিবন্ধীকরণের সময় পাত্র, পাত্রীর মা, বাবার ফোন নাম্বার এবং আধার কার্ড দিতে হবে। উদ্দেশ্য তাদের কাছে বিবাহের খবর পৌঁছে যাওয়া। আসল উদ্দেশ্য নিজেদের মতে অন্য ধর্মে বা অন্য জাতে বিবাহ করার স্বাধীনতা মেয়েদের থেকে কেড়ে নেওয়া। বিজেপি শাসিত বারোটি রাজ্যে ধর্মান্তর বিরোধী আইন আনা হয়েছে। এখানেও উদ্দেশ্য হলো ধর্মান্তকরণ বন্ধ করা মুসলমান এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ও মহিলাদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার জন্য। রাজস্থানের বিধানসভাতে বিজেপির বিধায়ক প্রকাশ্য ঘোষণা করেছেন যে কোনও মেয়ে যেন তার বাবা-মায়ের সম্মতি ছাড়া বিয়ে করতে না পারে। আইন এমনই হওয়া উচিত।

যেটুকু চোখের সামনে ভাসে সেটুকু ভোটের টানে। যেমন ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ শ্লোগানের ব্যাপক প্রচার হয়। আবার যারা প্রচার করে, তারাই পাশাপাশি ধর্ষকদের জেল থেকে জোর করে মুক্তির ব্যবস্থা করে। এবং তাদের সংবর্ধনা দেওয়ার ব্যবস্থা করে। আর গোটা প্রকল্পে অর্থের বরাদ্দ কমিয়ে দিয়ে মেয়েদের পড়াশোনার রাস্তা ছোট করে দেয়। এ রাজ্যে আরএসএসের বর্ণিত দেবী দুর্গা ধর্ষণের ঘটনাকে ‘ছোট’ করে দেন, ঘটনার সামাজিক অভিঘাতকে লঘু করে দেন ধর্ষণের ক্ষতিপূরণ দিয়ে। মহিলাদের সরকারি প্রকল্প দিয়ে ভোটে তার পক্ষে কব্জা করে রাখতে চান। অথচ তার সম্মান ভূলুন্ঠিত হয় নাবালিকা-সহ সর্বোচ্চ নারী পাচারের পরিসংখ্যানে। ধর্ষণের ঘটনাকে চাপা দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় সরকারি প্রশাসনের পক্ষ থেকে। মনুস্মৃতির ভাবনা এখানে পূর্ণোদ্যমে প্রয়োগ হয় রাজ্যে। 

নারীর সমতাকে প্রকৃত প্রতিষ্ঠার জন্য, তার ক্ষমতায়নের জন্য মনুবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই হবে। গড়ে তুলতে হবে বিকল্প মতাদর্শ।


প্রকাশের তারিখ: ০৮-মার্চ-২০২৬

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org