মোদীর নয়া ডকট্রিন: এক অন্তহীন যুদ্ধ

প্রকাশ কারাত
প্রধানমন্ত্রী এরপর বিজেপি-র পক্ষে রাজনৈতিক প্রচারে নেমে পড়েছেন। এবং বারবার দাবি করেছেন যে অপারেশন সিঁদুর শেষ হয়নি– কেবলমাত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। এ-অবস্থায় একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উঠে আসে: যদি, প্রধানমন্ত্রী যেমন ভাষণে দাবি করেছেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের পরিকাঠামো ও ঘাঁটিগুলি ধ্বংস করা হয়েছে– যা প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-ও পুনরাবৃত্তি করেছেন– তাহলে কেন এখনও সামরিক আক্রমণের প্রস্তুতি এবং মনোভাব বজায় রাখা হচ্ছে, যা ‘অপারেশন সিঁদুর’-এরই অংশ?

অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী সময়ে, প্রধানমন্ত্রী মোদী ১২ মে এক প্রকাশ্য ভাষণে একটি নতুন নীতি ঘোষণা করেছেন, যাতে রয়েছে তিনটি নির্দেশিকা। এই নীতিগুলিকে বিশ্লেষণ করে উপলব্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ এগুলির গুরুতর প্রভাব রয়েছে দেশের স্ট্র্যাটেজিক ও নিরাপত্তা নীতিতে। একইসঙ্গে, এগুলি দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও সুস্থিতির ওপর বড়ো ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এই তিন-দফা ঘোষণার মূল বক্তব্য হল:

প্রথমত, কোনও সন্ত্রাসবাদী হামলা হলে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। সন্ত্রাসবাদের শিকড় জন্ম নেয়, তা সে যেখান থেকেই হোক না কেন, সেখানেই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দ্বিতীয়ত, ভারত কোনও পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইল বরদাস্ত করবে না। পারমাণবিক হুমকির আড়ালে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটিগুলিতে ভারত নির্ভুল ও কঠোরভাবে আঘাত হানবে।

তৃতীয়ত, ভারত সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া সরকার ও সন্ত্রাসবাদের মূল চক্রীদের (মাস্টারমাইন্ড) মধ্যে আর কোনও পার্থক্য করবে না।

প্রধানমন্ত্রীর সেই ভাষণেই ছিল এই নয়া নীতির মুখবন্ধ, যেখানে তিনি দাবি করেন, ১০ মে দুপুরের মধ্যেই ‘আমরা সন্ত্রাসবাদের পরিকাঠামো বড়ো পরিসরে ধ্বংস করেছি। সন্ত্রাসবাদীদের নির্মূল করা হয়েছে। পাকিস্তানের কেন্দ্রে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিগুলি আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি। ফলে, যখন পাকিস্তান এসে জানায় যে তারা আর কোনও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ কিংবা সামরিক স্পর্ধায় লিপ্ত হবে না, তখন ভারত বিষয়টি বিবেচনায় নেয়।’ সেইসঙ্গে তিনি যোগ করেন: ‘আমরা শুধুই পাকিস্তানের সন্ত্রাস ও সামরিক ঘাঁটিগুলির বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রেখেছি।’

স্ট্র্যাটেজি বন্দি স্ট্রেটজ্যাকেটে

প্রতিটি সন্ত্রাসবাদী হামলার বিরুদ্ধে ভারত সামরিকভাবে প্রতিশোধ নেবে– এই ঘোষণা আসলে ভারতের বিকল্প পন্থাগুলি বেছে নেওয়ার ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করে দেবে। এর ফলে স্ট্র্যাটেজিক উদ্যোগটি কার্যত কিছু সন্ত্রাসবাদীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। যে কোনও সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী একটি হামলা চালিয়ে ভারতকে সামরিক প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে। যার পরিণতিতে পাকিস্তানের সঙ্গে শুরু হয়ে যেতে পারে একটি সশস্ত্র সংঘাত।

যেমন বলেছেন সুপরিচিত নিরাপত্তা বিশ্লেষক অজয় সাহনি: ‘ঘোষণা করা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে ভারতের মাটিতে যে কোনও সন্ত্রাসবাদী হামলাকে যুদ্ধের সমতুল্য হিসেবেই দেখা হবে, এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-ই এখন নিউ নর্মাল, যা আসলে দেশকে এক অনির্দিষ্ট মাত্রার সন্ত্রাসবাদের প্রতিক্রিয়ায় ক্রমাগত সামরিক প্রত্যাঘাতের ফাঁদে ফেলে দিচ্ছে’ (ফ্রন্টলাইন, ২৫ মে ২০২৫)। 

প্রধানমন্ত্রী এরপর বিজেপি-র পক্ষে রাজনৈতিক প্রচারে নেমে পড়েছেন। এবং বারবার দাবি করেছেন যে অপারেশন সিঁদুর শেষ হয়নি– কেবলমাত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। এ-অবস্থায় একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উঠে আসে: যদি, প্রধানমন্ত্রী যেমন ভাষণে দাবি করেছেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের পরিকাঠামো ও ঘাঁটিগুলি ধ্বংস করা হয়েছে– যা প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-ও পুনরাবৃত্তি করেছেন– তাহলে কেন এখনও সামরিক আক্রমণের প্রস্তুতি এবং মনোভাব বজায় রাখা হচ্ছে, যা ‘অপারেশন সিঁদুর’-এরই অংশ?

এই নয়া নীতি আসলেই একটি অন্তহীন যুদ্ধের রেসিপি (প্রণালী), যা ভারতের স্ট্র্যাটেজিকে বন্দি করছে একটি আঁটোসাঁটো জ্যাকেটে (স্ট্রেটজ্যাকেট)। 

ক্রমশ এটা স্পষ্ট হয়ে উঠছে মোদী সরকারের কাছে বাস্তবতার চেয়ে দেখনদারিটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দম্ভের সঙ্গে দাবি করা হচ্ছে যে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং একশোরও বেশি সন্ত্রাসবাদীকে হত্যা করা হয়েছে। এই দাবি মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ জনমতকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে বলে মনে হয়। অনেক নিরাপত্তা বিশ্লেষকই জানিয়েছেন, ২২ এপ্রিল পাহেলগাঁ সন্ত্রাসবাদী হামলার পর সরকারপক্ষের একাধিক নেতারা বারবার বলেছিলেন, বালাকোট স্ট্রাইকের তুলনায় অনেক বড়ো আকারে সামরিক জবাব দেওয়া হবে। কিন্তু এটা বিশ্বাস করা বেশ কঠিন, যে নটি জায়গায় হামলা চালানো হয়েছিল, সেখানে সন্ত্রাসবাদীরা লুকিয়ে বসেছিল, ‌আর নিজেদের সামরিকভাবে হত্যার জন্য অপেক্ষা করছিল। বড়োজোর বলা যেতে পারে, এই অভিযানের মাধ্যমে ভারত সরকার এটা দেখাতে চেয়েছে যে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে টার্গেট করা থেকে তারা পিছপা হবে না।

পারমাণবিক বাস্তবতা

নীতিমালার দ্বিতীয় নির্দেশিকা– যেখানে বলা হয়েছে ভারত কোনওরকম পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইলের কাছে নতিস্বীকার করবে না এবং পারমাণবিক হুমকি সত্ত্বেও সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটিতে সামরিক হামলা চালিয়ে যাবে– এটি একেবারেই দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য। যখন পারমাণবিক শক্তিধর দুটি রাষ্ট্র সামরিক সংঘাতে জড়ায়, এবং তা বাড়তে থাকে, তখন গোটা বিশ্বই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা নিয়ে।

যদিও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান জেনারেল অনিল চৌহান সিঙ্গাপুরে এক সাক্ষাৎকারে আশ্বাস দিয়েছেন, পারমাণবিক যুদ্ধের সীমার নিচেও প্রচুর পরিসর রয়েছে প্রচলিত যুদ্ধের জন্য, তবুও বাস্তবতা হল– একবার উত্তেজনা বাড়তে শুরু করলে, পরিস্থিতি মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইলের কাছে নতিস্বীকার না-করার বিষয়ে মোদীর বক্তব্য মনে হচ্ছে, উভয়পক্ষকে পিছু হটানোর জন্য কথিত মার্কিন হস্তক্ষেপের দ্বারা অনুপ্রাণিত। রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প যদিও অতিরঞ্জিত কথা বলার জন্য পরিচিত, তবুও যেভাবে আমেরিকা ভারত ও পাকিস্তান উভয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, এবং যেসব ব্রিফিং আমেরিকান সূত্র থেকে এসেছে, তা ইঙ্গিত দেয়– পারমাণবিক প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনাই আমেরিকার দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রধান কারণ ছিল। 

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই শুধুমাত্র সামরিক প্রতিক্রিয়ার উপরই নির্ভরশীল– এটি এই ত্রুটিপূর্ণ স্ট্র্যাটেজির বিপদকেই তুলে ধরে। 

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে তৃতীয় বিষয়টি হল– যেখানে বলা হয়েছে, ভারত সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া সরকার ও সন্ত্রাসবাদের মূল চক্রীদের মধ্যে আর কোনও পার্থক্য করবে না। এটি আসলে এই একমাত্রিক সামরিক দৃষ্টিভঙ্গিকেই আরও জোরালো করে তোলে। এতে কোনও সন্দেহ নেই যে পাকিস্তান রাষ্ট্র কিছু চরমপন্থী ইসলামি আদর্শে অনুপ্রাণিত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীকে সহায়তা ও সমর্থন দেয়, কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্র এবং এই উগ্র সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে বিভাজন না-করা একটি গুরুতর ভুল হবে।

পাকিস্তান রাষ্ট্রকে ‘সন্ত্রাসবাদের মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করার মানে হচ্ছে ভবিষ্যতে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও আলোচনার পথই বন্ধ করে দেওয়া। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যাগুলি দ্বিপাক্ষিকভাবেই সমাধান করার অবস্থান যদি ভারতের হয়, তাহলে এই ধরনের নীতিমালা– যাতে প্রতিটি সন্ত্রাসবাদী হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ ও সামরিক প্রতিক্রিয়ার কথা বলা হয়– তা সেই অবস্থানকেই দুর্বল করে দেয়। বরং এতে আরও প্রশস্ত হয়ে যায় বহির্বিশ্বের হস্তক্ষেপের পথ।

কাশ্মীরি জনগণই মুখ্য

কাশ্মীর উপত্যকায় সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মূল প্রশ্ন হল– জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণকে কীভাবে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে যুক্ত করা যায়। পহেলগাঁয়ের নারকীয় ঘটনার পর সাধারণ মানুষ ব্যাপক প্রতিবাদ ও বিরোধিতা জানিয়েছে। মোদী সরকারের কর্তৃত্ববাদী নীতির ফলে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল ও রাজ্য ভেঙে দেওয়ার কারণে কাশ্মীরের মানুষের মধ্যে তীব্র বিচ্ছিন্নতা এবং ক্ষোভের অনুভূতি থাকা সত্ত্বেও এটি ঘটেছে। মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ দমনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। পহেলগাঁ হামলার পরে রাজ্যের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফিরে পাওয়ার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার নিয়েছে ঠিক উল্টো পথ– আরও কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে যোগ সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; যারা উগ্রপন্থী সংগঠনে যোগ দিয়েছিল, তাদের বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে– সেখানে বসবাসকারী পরিবারের কথাও বিবেচনায় করা হয়নি। এখানেও দেখা যাচ্ছে, নরেন্দ্র মোদীর নতুন নীতিগত অবস্থান– রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নকেই সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। এবং এর ফলে জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য যে-রাজনৈতিক পদক্ষেপগুলোর প্রয়োজন ছিল, তা উপেক্ষিতই হচ্ছে।

এটিই আমাদের সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার সঠিক পথে নিয়ে আসে। সরকারকে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তামূলক– এই চার ধরনের পদক্ষেপের সমন্বয় ঘটিয়ে পরিস্থিতি-ভিত্তিক প্রতিক্রিয়া গড়ে তুলতে হবে। গোয়েন্দা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। পহেলগাঁয়ের ভয়াবহ নিরাপত্তা ত্রুটি থেকে শিক্ষালাভ করা জরুরি।

পাকিস্তান একঘরে হয়নি

পহেলগাম হামলার কয়েক সপ্তাহ পর এটা স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাকিস্তান রাজনৈতিক বা কূটনৈতিকভাবে একঘরে হয়নি। শুধু তাই নয়, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার (আইএমএফ) থেকে আরেক দফা ঋণ পেয়েছে, বিশ্বব্যাঙ্ক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (এডিবি) থেকেও পেয়েছে অর্থসাহায্য। উপরন্তু, পাকিস্তান রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত ও সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী কমিটিতে সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।

যা স্পষ্ট, তা হল– দক্ষিণ এশিয়ার কোনও প্রতিবেশী দেশই ভারতের সামরিক অভিযানে প্রকাশ্য সমর্থন দেয়নি। নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলি পহেলগাঁয়ের সন্ত্রাসবাদী হামলাকে কঠোরভাবে নিন্দা করলেও, তারা ভারত-পাকিস্তানের চার-দিনের সংঘর্ষে নিরপেক্ষ অবস্থানের ইঙ্গিত নিয়েছে।

ভারতের একতরফা সিদ্ধান্ত– সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করা– শ্রীলঙ্কার সরকারি ও রাজনৈতিক মহলে আশঙ্কা তৈরি করেছে। প্রশ্ন উঠছে– ভারতের সঙ্গে জ্বালানি, পরিকাঠামো বা অন্যান্য ক্ষেত্রে চুক্তি করা আদৌ যুক্তিযুক্ত কি-না। মোদী সরকারের এই নতুন নীতি ভারতের প্রতিবেশীদের মধ্যে আরও অনিশ্চয়তা ও সংশয় তৈরি করবে।

সংকীর্ণ রাজনৈতিক ফায়দা

যেভাবে ‘অপারেশন সিঁদুর’-কে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে– বিশেষত বিজেপি-র দলীয় স্বার্থে, এবং যেভাবে প্রধানমন্ত্রী এক সামরিক অভিযানের পিছনে দাঁড়িয়ে তাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছেন– তা এটাই প্রমাণ করে যে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াই আসলে জাতীয়তাবাদী উন্মাদনা ও সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ তৈরির অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।

এই নতুন নীতি মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক লাভ ঘরে তোলার উদ্দেশ্যেই রচিত হয়েছে বলেই মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে যদি এটি কার্যকর করা হয়, তাহলে ভারতের উন্নয়নের পথে এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদার উপর আত্মঘাতী প্রভাব পড়বে।

ভাষান্তর:  স্বাতী শীল


প্রকাশের তারিখ: ১৫-জুন-২০২৫

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org