|
অক্টোবর বিপ্লব: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে তার অনপনেয় স্বাক্ষর ২সীতারাম ইয়েচুরি |
|
|
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম অক্টোবর বিপ্লবের অব্যবহিত পরেই ভারতের সামগ্রিক বৈচিত্র্যের সীমানা ছাড়িয়ে সর্বস্তরে রুশ জনগণের সাহস এবং নিজেদের শৃঙ্খলমুক্ত করার সুদৃঢ় আত্মপ্রত্যয়ের প্রশংসা করে ভারতের নানা প্রান্তে একাধিক ভারতীয় ভাষায় প্রবন্ধ ও কবিতা প্রকাশিত হতে থাকে। ব্রিটিশদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও দর-কষাকষির মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের যে পদ্ধতি এত দিন ধরে প্রচলিত ছিল, তার পরিবর্তে প্রত্যক্ষ গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামে সাধারণ মানুষের আরও ব্যাপক অংশগ্রহণকে এই রচনাগুলি প্রেরণা জুগিয়েছিল। ভারতের স্বাধীনতার স্বপক্ষে বিশিষ্ট মনীষীদের লেখার কয়েকটি উদ্ধৃতি থেকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে ভারতের মুক্তির সংগ্রামে অক্টোবর বিপ্লবের যে কতটা সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল, সেই সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৩০)— “আমি এখন রাশিয়ায়... এখানে না এলে আমার জীবনের তীর্থযাত্রা অসম্পূর্ণ থেকে যেত। ...প্রথমেই আমার মনে যে কথাটি আসে, তা হল—কী অবিশ্বাস্য সাহস! একটা নতুন পৃথিবী গড়ে তুলতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সময় নষ্ট করার অবকাশ তাদের নেই, কারণ গোটা পৃথিবীই তাদের প্রতিপক্ষ। নিজের চোখে না দেখলে আমি কখনোই বিশ্বাস করতে পারতাম না যে, অজ্ঞতা ও অপমানের অন্ধকারে ডুবে থাকা লক্ষ লক্ষ মানুষকে শুধু শিক্ষিতই করে তোলা যায় না, তাদের মনুষ্যত্বের মর্যাদাও দেওয়া সম্ভব।” ১৯৩০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি চিঠিতে সোভিয়েত ইউনিয়ন সম্পর্কে তিনি লিখেছিলেন— “মানুষের ইতিহাসে অন্য কোথাও আমি এমন কোনো স্থায়ী উপলক্ষ্য খুঁজে পাইনি, যা মানুষকে এতটা আনন্দ ও আশা দিতে পারে।” জওহরলাল নেহরু তাঁর The Discovery of India গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন ১৯৪১ সালে মৃত্যুশয্যায় দেওয়া তাঁর শেষ বার্তা, যেখানে তিনি বলেছিলেন - “...রাশিয়া যেভাবে অক্লান্ত উদ্যমে রোগব্যাধি ও নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সচেষ্ট হয়েছে এবং ক্রমাগত অজ্ঞতা ও দারিদ্র্য দূর করে একটি বিশাল ভূখণ্ডের মানুষের জীবন থেকে অপমানের গ্লানি মুছে দিতে সফল হয়েছে, তা সত্যিই উল্লেখযোগ্য। তাদের সভ্যতায় এক শ্রেণির সঙ্গে অন্য শ্রেণির, এক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো বৈষম্যমূলক বিভাজন নেই।” লালা লাজপত রায় ১৯২০ সালে অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে বলেছিলেন— “সাম্রাজ্যবাদ ও সামরিকতন্ত্র হল পুঁজিবাদের যমজ সন্তান; এই তিনটি আদর্শ অবিচ্ছেদ্য, বস্তুত, তারা আসলে একই সত্তার তিনটি রূপ, আবার তিনের মধ্যেই একের অস্তিত্ব। সম্প্রতি এর একটি প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়েছে, আর সেই প্রতিষেধক হল সংগঠিত শ্রমিকশ্রেণি। ইউরোপ ও আমেরিকার শ্রমিকরা এখন বুঝতে পেরেছেন যে, সারা বিশ্বের শ্রমিকদের স্বার্থ একই সূত্রে বাঁধা। এশিয়ার শ্রমিকরা সংগঠিত এবং আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের মুক্তি সম্ভব নয়। ...ইউরোপের শ্রমিকরা প্রত্যক্ষ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আরেকটি অস্ত্র খুঁজে পেয়েছেন। সবার সামনে রয়েছে রাশিয়ার শ্রমিকরা, যাঁদের লক্ষ্য হল সর্বহারা শ্রেণির একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করা।” সংবাদপত্রে প্রকাশিত বলশেভিক বিরোধী প্রচার সম্পর্কে ১৯২০ সালে লালা লাজপত রায় লেখেন— “যখন আমরা বলশেভিকদের বিরুদ্ধে ভণ্ড রাষ্ট্রসমূহের আক্রমণগুলি পড়ি, তখন বিস্মিত হতে হয় এই ভেবে যে, তাদের ভণ্ডামি ও মিথ্যাচারের কোনো সীমা নেই।” অন্যত্র তিনি লিখেছিলেন— “ইউরোপ ও আমেরিকা সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আমার মনে হয়েছে, সমাজতান্ত্রিক, এমনকি বলশেভিক সত্যও পুঁজিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী সত্যের চেয়ে বেশি উন্নত, অধিকতর নির্ভরযোগ্য এবং অনেক বেশি মানবিক।” বলশেভিক মতাদর্শ সম্পর্কে লিখতে গিয়ে মহাত্মা গান্ধি বলেছিলেন— “...আমার দৃঢ় বিশ্বাস, হিংসার ওপর ভিত্তি করে কোনো স্থায়ী কিছু গড়ে তোলা যায় না। কিন্তু যাই হোক না কেন, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, বলশেভিক আদর্শের পেছনে রয়েছে অসংখ্য নারী ও পুরুষের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ, যাঁরা এই আদর্শের জন্য নিজেদের সর্বস্ব উৎসর্গ করেছেন। লেনিনের মতো মহান ব্যক্তিত্বের আত্মত্যাগে যে আদর্শ পবিত্রতা লাভ করেছে, সেই আদর্শ কখনোই ব্যর্থ হতে পারে না।” ( Young India , November 5, 1928). ভগৎ সিং ও তাঁর সহযোদ্ধারা অক্টোবর বিপ্লবের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন যখন এর সম্পর্কে ধীরে ধীরে তাঁরা জানতে পেরেছিলেন। এই প্রসঙ্গে কমরেড অজয় ঘোষ লিখেছিলেন— “যে স্থবির স্তব্ধতা নেমে এসেছিল (১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর), তা ভাঙতে কী করা উচিত, তা নিয়ে আমাদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছিল। সমাজতান্ত্রিক সাহিত্য ধীরে ধীরে আমাদের হাতে এসে পৌঁছাচ্ছিল। অক্টোবর বিপ্লবের বিজয়, রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুসংহতকরণ এবং সর্বোপরি, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির বিরুদ্ধে তুরস্ক ও চীনের মতো এশীয় দেশগুলিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তা— এই সমস্ত কিছুই আমাদের নতুন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রটির প্রতি এবং তার অন্তর্নিহিত আদর্শ ও নীতিগুলির প্রতি আকৃষ্ট করেছিল।”(Bhagat Singh and His Comrades, Ajoy Ghosh) ১৯৩০ সালের ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় বিচার চলাকালীন আদালতকক্ষ থেকেই ভগৎ সিং ও তাঁর সহযোদ্ধারা নিম্নলিখিত টেলিগ্রামটি পাঠিয়েছিলেন— “লেনিন দিবসে মহান লেনিনের আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের সকলকে আমরা আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। রাশিয়া যে মহান পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে, আমরা তার সাফল্য কামনা করি। আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করি। সর্বহারা শ্রেণি জয়ী হবে, পুঁজিবাদ পরাজিত হবে। ধ্বংস হোক সাম্রাজ্যবাদ।” ১৯২০-এর দশকের শেষ দিকে রাশিয়া সফর জওহরলাল নেহরুকে অভিভূত করেছিল, যা তাঁর উপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছিল। তিনি লিখেছিলেন— “আমাদের ভারতীয়দের কাছে এই আকর্ষণ আরও বেশি। এমনকি আমাদের নিজেদের স্বার্থই আমাদের বাধ্য করে সেই বিপুল শক্তিগুলিকে বুঝতে, যেগুলি পুরোনো ব্যবস্থাকে উৎখাত করে দিয়ে এক নতুন পৃথিবীর জন্ম দিয়েছে— যেখানে মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে এবং পুরোনো রীতিনীতির জায়গায় নতুন ধ্যানধারণার জন্ম হয়েছে। ...রাশিয়া আমাদের কাছে অত্যন্ত আগ্রহের, কারণ বর্তমান বিশ্বের যে সমস্ত বড়ো বড়ো সমস্যা রয়েছে, সেগুলির সমাধান খুঁজে পেতে রাশিয়া আমাদের সাহায্য করতে পারে। বিশেষত, রাশিয়ার সম্পর্কে আমাদের আগ্রহের সবচেয়ে বড়ো কারণ হল, সেখানকার পরিস্থিতি অতীতে, এমনকি এখনও, ভারতের পরিস্থিতির সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ নয়। উভয় দেশই বিশাল কৃষিপ্রধান দেশ, যেখানে শিল্পায়নের কেবল মাত্র সূচনা হয়েছে; উভয় দেশকেই নিরক্ষরতা ও দারিদ্র্যের সমস্যার সাথে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। রাশিয়া যদি এই সমস্যাগুলির সমাধান খুঁজে পায়, তাহলে আমাদের কাজও অনেক সহজ হয়ে যাবে।” অন্যত্র তিনি লিখেছিলেন— “বিপ্লবের চতুর্থ দিনেও, যখন রাস্তায় গুলি বিনিময় চলছিল, তখনও তারা শ্রমিকদের জন্য আট ঘণ্টার কর্মদিবস চালু করা এবং সর্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থার নীতি প্রণয়নের জন্য সময় বের করে নিতে পেরেছিল। এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা সংখ্যালঘুদের সমস্যা নিরসনে পদক্ষেপ নিয়েছিল।” ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম যখন ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছিল, ১৯৩৬ সালের গোড়ার দিকের সেই সময় লখনউ কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে তাঁর ভাষণে দৃঢ় প্রত্যয় ও বিশ্বাসের সঙ্গে নেহরু বলেছিলেন— “আমি নিশ্চিত যে, বিশ্বের তথা ভারতের সমস্যাগুলির সমাধানের একমাত্র চাবিকাঠি হল সমাজতন্ত্র। আমি যখন এই শব্দটি ব্যবহার করি, তখন কোনো অস্পষ্ট মানবতাবাদী অর্থে করি না; বরং এর বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক অর্থেই ব্যবহার করি। সমাজতন্ত্র কেবল একটি অর্থনৈতিক মতবাদ নয়; এটি একটি জীবনদর্শনও, আর সেই কারণেই এটি আমাকে আরও আকৃষ্ট করে। সমাজতন্ত্র ছাড়া ভারতীয় জনগণের দারিদ্র্য, বিপুল বেকারত্ব, দুর্দশা ও পরাধীনতার অবসান ঘটানোর কোনো পথ আমি দেখতে পারছি না। এর জন্য আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোয় ব্যাপক ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে হবে। জমি ও শিল্পের ওপর প্রতিষ্ঠিত কায়েমি স্বার্থের অবসান ঘটাতে হবে, পাশাপাশি ভারতের সামন্ততান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক দেশীয় রাজ্যব্যবস্থারও অবসান ঘটাতে হবে। এর অর্থ হল, সীমিত পরিসরে ব্যতিক্রম ছাড়া ব্যক্তিগত সম্পত্তির অবসান ঘটানো এবং বর্তমান মুনাফাভিত্তিক ব্যবস্থার পরিবর্তে সমবায় ব্যবস্থার এক উন্নততর আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা। শেষ পর্যন্ত এর জন্য আমাদের সহজাত প্রবৃত্তি, অভ্যাস ও আকাঙ্ক্ষারও পরিবর্তন ঘটাতে হবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, এর অর্থ হল বর্তমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক নতুন সভ্যতার প্রতিষ্ঠা।” “সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূখণ্ডে এই নতুন সভ্যতার কিছু ঝলক আমরা দেখতে পাই। সেখানে এমন অনেক কিছু ঘটেছে, যা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে এবং যার সঙ্গে আমি একমতও নই। তা সত্ত্বেও, এক নতুন ব্যবস্থা ও সভ্যতার যে বিপুল ও অবাক করা বিকাশ সেখানে ঘটছে, তাকে আমি আমাদের এই হতাশাপূর্ণ যুগের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখি। ভবিষ্যৎ যদি আশায় পরিপূর্ণ হয়ে থাকে, তবে তার বড়ো একটি কারণ সোভিয়েত রাশিয়া এবং তার অর্জন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যদি কোনো বিশ্বব্যাপী বিপর্যয় এই অগ্রগতিকে রুদ্ধ না করে, তবে এই নতুন সভ্যতা অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়বে এবং পুঁজিবাদ যে যুদ্ধ ও সংঘাতকে লালন করে, তার অবসান ঘটাবে।” (Nehru on Socialism , pages 66-67). স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারত আধুনিক ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতন্ত্র নির্মাণের প্রক্রিয়া। সেই নির্মাণের দৃষ্টান্ত থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে নেহেরু ভারতে প্রতিষ্ঠা করেন প্ল্যানিং কমিশন, যে কমিশন স্বনির্ভর ভারতীয় অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছিল। পশ্চিমী সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলি যখন ভারতের স্বাধীন শিল্পোন্নয়নের জন্য আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে অস্বীকার করেছিল এবং যুক্তি দিয়েছিল যে, শিল্পের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ভারতকে পশ্চিমী দেশগুলি থেকেই আমদানি করতে হবে, তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন এগিয়ে আসে। ভারতের ইস্পাত কারখানা এবং অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য তারা মূলধন ও প্রযুক্তি— উভয় ক্ষেত্রেই সহায়তা প্রদান করে এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের মধ্যে দিয়ে একটি স্বনির্ভর অর্থনীতি নির্মাণের পথ প্রশস্ত করে। ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তা এবং সমর্থনের বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত। এই সহায়তা শুধু ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেনি, বরং আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। স্বাধীন ভারতের প্রতি সোভিয়েত ইউনিয়নের এই নিঃস্বার্থ সহায়তা বিশ্বে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের উত্থানেও অবদান রেখেছিল, যেখানে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের মধ্য দিয়ে ভারত উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বার্থরক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণকারী দেশগুলির অন্যতম হয়ে ওঠে। (ক্রমশ) লেখাটি প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালে ডিসেম্বর মাসে ফ্রন্টলাইন পত্রিকার রাশিয়ার বিপ্লবের ১০০তম বার্ষিকী সংক্রান্ত বিশেষ সংখ্যায়। প্রকাশের তারিখ: ১৩-অক্টোবর-২০২৬ |
© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |