|
আমিষ ‘আউট’, প্রসাদ ‘ইন’– মিড ডে মিলের রাজনীতি: শেষ পর্বঅরিজিৎ মুখার্জি |
খুব সহজ ভাষায় বললে, সবজি, সয়াবীন, কাবুলি চানা, রাজমা, বা পনীর, পুষ্টির দিক থেকে দেখলে ডিমের সমান তো নয়ই, আর পাশাপাশি ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে (জিনগত কারণে যার সম্ভাবনা যথেষ্ট বেশি) পনীর হিতে বিপরীত ঘটাতে পারে। যে মিড ডে মিলের উদ্দেশ্য স্কুলে উপস্থিতি বাড়ানো এবং পেটের জ্বালা ভুলে গিয়ে বাচ্চাগুলো যাতে পড়ায় মন দিতে পারে সেই দিকে লক্ষ্য রাখা, সেই মিড ডে মিলই যদি উল্টে শারীরিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াইয়, তখন উদ্দেশ্যটাই পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে যায়। নিউট্রিশন, জেনেটিক্স, ইতিহাস - এই সবকিছুকে উপেক্ষা করে, অভিন্ন নিরামিষ ডায়েট চাপিয়ে দিলে লাভের চেয়ে ক্ষতির অঙ্কই বেশি হয়ে দাঁড়ায়। |
|
আরো একটু তলিয়ে ভাবলে, বিষয়টা শুধুমাত্র সাধ্যের মধ্যে থাকা বাজেট আর সহজলভ্যতার মধ্যেও সীমাবদ্ধ নয়। এর এমন একটা জৈবিক দিক রয়েছে, যা নিয়ে সচরাচর আলোচনা হয় না। আপাতদৃষ্টিতে নেহাতই তুচ্ছ বায়োলজিকাল সায়েন্স ভিত্তিক একটা তথ্য। উত্তর ও পশ্চিম ভারতের তুলনায় পূর্ব এবং দক্ষিণ ভারতের বাসিন্দারা কেন বেশি পরিমাণে ডিম-মাছ-মাংস ইত্যাদি আমিষ খাবার খেয়ে থাকেন, তার মূল কারণ অভ্যাস বা সংস্কৃতির একেবারে বাইরে চলে গিয়ে পাওয়া যায় একটা ছোট জিনগত বাস্তবতায়। ‘13910T’ নামের একটা মিউটেটেড জিন প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে ল্যাক্টেজ (lactase) নামের একটা এনজাইম তৈরী করে, যার ফলে শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠার পরেও মানুষ দুধ বা দুধজাত খাবার হজম করতে পারে। প্রায় ৭,৫০০ বছর আগে ইউরোপে এই জিন প্রথম দেখা যায়। ভারতের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে এই জিনের বিন্যাস একটু অসম। উত্তর ও পশ্চিম ভারতে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষের মধ্যে এই জিনের উপস্থিতি থাকলেও পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতে এই জিনের উপস্থিতির হার ১ শতাংশেরও কম; উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অঞ্চলে এর উপস্থিতি কার্যত শূন্যের কোঠায়। ফলে, দক্ষিণ বা পূর্বাঞ্চলে অনেক জনগোষ্ঠীর প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেই ল্যাকটোজ অসহনশীলতা (lactose intolerance) ব্যাপকভাবে দেখা যায়। প্রাণীজ প্রোটিনের বিকল্প উৎস, যেমন দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার হজম করতে না পারার কারণে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই সমস্ত অঞ্চলের মানুষ প্রাণীজ প্রোটিনের প্রধান উৎস হিসেবে মাছ, মাংস, আর ডিমের ওপর নির্ভর করে এসেছে; তাদের ডাইজেস্টিভ সিস্টেমও সেই অনুসারেই নিজেদের তৈরী করে নিয়েছে। পপুলেশন জেনেটিক্সের বইতে [১,২] এই প্রবণতার ব্যাখ্যা পাবেন, আর ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভের তথ্যেও [৩] এর সত্যতা খুঁজে পাবেন - যে সমস্ত রাজ্যে দুধ বা দুধজাত পণ্যের ব্যবহার বেশি, সেখানে মাছ, মাংস আর ডিমের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম। এর উল্টোটাও একইভাবে সত্যি। প্রশ্নটা ব্যক্তিগত পছন্দ বা অপছন্দের, শুকনো তাত্ত্বিক জিনগত আলোচনাও নয়, নেহাতই বায়োলজিকাল রিয়েলিটি; আর এর প্রভাব পড়তে শুরু করে জীবনের শুরুতেই। এবার আপনি বলবেন স্কুলছাত্রদের সঙ্গে প্রাপ্তবয়সকের ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্ট হওয়ার সম্পর্ক কী? আছে, আর খুবই ক্রিটিকাল সেই সম্পর্ক। বায়োলজিকাল নিয়মে শৈশবের পরেই ল্যাক্টেজের উৎপাদন কমে যাওয়ার কথা, যদি না সেই মিউটেটেড জিন আপনার শরীরে থাকে। ভারতীয় শিশুদের ওপর ২০১১ সালে করা একটি গবেষণায় [৪] দেখা গেছিল যে, ৩ থেকে ৫ বছর বয়সের মধ্যে ল্যাক্টেজ এনজাইমের কার্যকারিতা কমতে শুরু করে এবং ৮ বছর বয়সের মধ্যেই অনেক বাচ্চার মধ্যেই প্রাপ্তবয়স্ক-সুলভ 'হাইপো-ল্যাকটাসিয়া' বা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২০ সালে ড্রাগ ডিসকভারি টুডে-তে প্রকাশিত একটা রিভিউ পেপারে [৫] একাধিক গবেষণার ফলাফল একত্রিত করা হয়েছে - এই একই কথা পাওয়া যায় সেখানেও - ভারতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাধারণত ৩-৫ বছর বয়সের মধ্যে ল্যাকটেজ এনজাইমের কার্যকারিতা কমতে থাকে, আর ৭-৮ বছর বয়সের মধ্যে তা প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে যায়। সহজ কথায়, প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার বয়সে পৌঁছোনোর মধ্যে অনেক ছেলেমেয়েই দুধ ভালোভাবে হজম করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। পুষ্টি নিয়ে নানান আলোচনার মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা একেবারেই হারিয়ে গেছে। অথচ, পরিকল্পনা যাঁরা করেন, তাঁদের মাথায় এই পয়েন্টটা থাকা জরুরী ছিল - যে, স্কুলগামী শিশুদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, বিশেষ করে ৮-১৪ বছর বয়সী ছেলেমেয়েরা অনেকেই দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার থেকে সঠিকভাবে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে না। তাদের জন্য শুধুমাত্র দুধ বা পনীর, প্রাণীজ প্রোটিনের একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস হতে পারে না। বরং, উল্টে আরো কিছু শারীরিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে - যেমন, পেট ফাঁপা, পেটে ব্যথা এবং ডায়েরিয়ার মতো সমস্যা - যে উপসর্গগুলো ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিয়মিতভাবেই দেখা যায়। খুব সহজ ভাষায় বললে, সবজি, সয়াবীন, কাবুলি চানা, রাজমা, বা পনীর, পুষ্টির দিক থেকে দেখলে ডিমের সমান তো নয়ই, আর পাশাপাশি ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে (জিনগত কারণে যার সম্ভাবনা যথেষ্ট বেশি) পনীর হিতে বিপরীত ঘটাতে পারে। যে মিড ডে মিলের উদ্দেশ্য স্কুলে উপস্থিতি বাড়ানো এবং পেটের জ্বালা ভুলে গিয়ে বাচ্চাগুলো যাতে পড়ায় মন দিতে পারে সেই দিকে লক্ষ্য রাখা, সেই মিড ডে মিলই যদি উল্টে শারীরিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াইয়, তখন উদ্দেশ্যটাই পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে যায়। নিউট্রিশন, জেনেটিক্স, ইতিহাস - এই সবকিছুকে উপেক্ষা করে, অভিন্ন নিরামিষ ডায়েট চাপিয়ে দিলে লাভের চেয়ে ক্ষতির অঙ্কই বেশি হয়ে দাঁড়ায়। এবারে চলুন ফিরে তাকাই এই মুহূর্তে মিড ডে মিল নিয়ে বিতর্কের দিকে। পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার কলকাতার মিউনিসিপ্যাল স্কুলের মিড ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব তুলে দিয়েছে ইস্কনের হাতে। কাগজে-কলমে প্রশাসনিক ব্যবস্থা। কিন্তু যেহেতু সংস্থাটি ইস্কন, তাই খাদ্যতালিকার নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। ডিম - বারণ। মাংস - বারণ। মাছ - বারণ। পেঁয়াজ, রসুন - বারণ। মিড ডে মিল বাচ্চাদের আনন্দের জায়গা হওয়ার বদলে হয়ে উঠবে প্রসাদ। অর্থাৎ, একটা নির্দিষ্ট ধর্মীয় কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ পবিত্র খাবার। আপনি ভাবছেন - এ তো শুধু এক ধরণের খাবারের বদলে আরেক ধরণের খাবার। আপনি কীভাবে জানলেন যে এটা নীতির মৌলিক পরিবর্তন নয়? খাদ্যের অধিকারের সঙ্গে জড়িত একটা গণপুষ্টির কর্মসূচীকে কি কখনো একটা নির্দিষ্ট ধর্মীয় ধারণার সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা যায়? মৌলিক অধিকারের ওপরে ভক্তির চাদর জড়িয়ে দেওয়া যায়? তখন এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই কি ব্যাহত হয় না? শাসক দলের অতীত বর্তমান খতিয়ে দেখলে মিড ডে মিল সংক্রান্ত এই এক্সপেরিমেন্টকে ঠিক বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা যাচ্ছে না। বরং এটা এই শাসকের আমলের "এক দেশ, এক ধর্ম" বা "এক দেশ, এক ভাষা” নীতির এক্সটেনশন - "এক দেশ, এক খাদ্য” নীতি নিয়ে অবসেশনের ফসল। উত্তর ও পশ্চিম ভারতের খাবারকেই আদর্শ হিসেবে মেনে নিয়ে জোর করে সেটাকে চাপিয়ে দিতে হবে পূর্ব আর দক্ষিণ ভারতের মানুষের ওপরে, যেভাবে চাপানো হয়েছে হিন্দি ভাষাকে, বা রাম-কে। ধর্ম, ভাষা, পোশাকের মত খাদ্যাভ্যাসের বৈচিত্রকেও স্টিমরোলার চালিয়ে সমতল করে দেওয়ার পরিকল্পনা। আর, মজার ব্যাপার হল, এই আদর্শ খাদ্যাভ্যাসটি নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে যায় - যাদের জন্যে দুধ-ভিত্তিক নিরামিষ খাবার সাংস্কৃতিকভাবে প্রভাবশালী, আর জৈবিকভাবে টেঁকসই। বাকিদের সঙ্গে যে নিয়মনীতির কোনো সামঞ্জস্য নেই। এর ফলে কী হয়, সেসবও অজানা নেই। কারণ, এর সঙ্গে এসে যায় কার্টেলের কথা। পশ্চিমবঙ্গে সিন্ডিকেট শব্দটা অপরিচিত নয়। ব্যাপারটা প্রায় তাই - বিজেপি এবং ইস্কন, কখনো ইস্কনের অফশুট অক্ষয় পাত্র। মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ আর তেলেঙ্গানা ভুক্তভোগী। কখনো মিড-ডে মিল থেকে ডিম সরিয়ে নেওয়ার পরে বাচ্চাদের মধ্যে ভিটামিন, জিঙ্ক আর আয়রনের স্বল্পতা; কখনো অক্ষয় পাত্র বা ইস্কনের বিরুদ্ধে সরাসরি মিড-ডে মিলের চাল বা অন্যান্য জিনিস বাজারে বিক্রি করার অভিযোগ, কখনো সরকারি নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ। তথ্য রয়েছে পাবলিক ডোমেনে [৬-৯]। প্রবণতাও পরিচিত। তবুও, নীতির গতিপথ সেই একই থেকে যায়। বদলায় না আরও একটা বাস্তবতা। মিড ডে মিলের ক্ষেত্রে যাঁরা এই বিধিনিষেধের কথা বলেন, প্রিভিলেজড মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সেই মানুষেরা সবাই কিন্তু নিজের পরিবারে এর হুবহু অনুকরণ করেন এমনও নয়। তাঁদের সন্তানদের একবেলার পর্যাপ্ত পৌষ্টিক খাবারের জন্যে স্কুলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না। তাঁদের সন্তানদের ডায়েটে সেইসব খাবারই থাকে যা মিড ডে মিল নির্ভর এই গরীব পরিবারের বাচ্চাগুলোর ক্ষেত্রে তাঁদেরই ভাষ্য অনুযায়ী "অনৈতিক"। বিধিনিষেধ শুধু তাদেরই জন্যে যাদের অন্য কোনো পথ বেছে নেওয়ার ক্ষমতা সবচেয়ে কম। একদিকে রয়েছে প্রোটিন সাপ্লিমেন্টের ক্রমবর্ধমান বাজার। "হোয়ে প্রোটিন" (whey protein) থেকে ইস্ট প্রোটিন (yeast protein) মেলে যেখানে। দামী এবং স্টেটাস সিম্বল। সেই সমস্ত দামী জিনিস ব্যবহার করার পর নির্দোষ গলায় প্রশ্ন করেন আপনি - “নিরামিষ খাবারের সমস্যাটা কী? আমিও তো নিরামিষ খাই।” না, প্রশ্নটা ভুল নয়। নিরামিষ খাবারে সত্যিই সেরকম সমস্যা নেই, এবং নিরামিষ খাবার অত্যন্ত স্বাস্থ্যকরও হতে পারে। কিন্তু, আপনি যখন প্রশ্নটা করেন, তখন সজ্ঞানে অথবা অজ্ঞানে আপনি ভুলে যান এর প্রেক্ষাপটটার কথা। সমস্যাটা তৈরী হয় তখনই, যখন একটা জনগোষ্ঠীর ওপর খাদ্যাভ্যাসের একটা নির্দিষ্ট বা অভিন্ন মডেল চাপিয়ে দেওয়া হয় - যাদের পুষ্টির চাহিদা, ডাইজেস্টিভ সিস্টেম, আর অর্থনৈতিক বাস্তবতা সেই মডেলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। "মিড ডে মিলে ডিমের কী দরকার? সয়াবীন খেলেও তো হয়" - সমাজমাধ্যম ছেয়ে যায় এই উক্তিতে। একটা জটিল বিষয়, যেখানে দরকার ছিল সহানুভূতি, সেখানে ভেসে আসে অবজ্ঞা। হারিয়ে যায় আসল যুক্তিগুলো - নিউট্রিশন, জেনেটিক্স, ডাইজেস্টিভ সিস্টেম, সাংস্কৃতিক পরিচিতি, বা দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল। বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রে লেখা তথ্যপ্রমাণ ফেলে দিয়ে আপনি অন্য কিছু সিলেক্টিভ তথ্যকে মেনে নেন কারণ সেগুলোর সঙ্গে মিলে যায় আপনার নিজস্ব বিশ্বাস। সুপ্রীম কোর্ট ২০০১ সালে এই বাচ্চাগুলোকে দিয়েছিল খাদ্যের অধিকার। বর্তমান শাসক তাদের দিয়েছে ভক্তির আদেশ। সেই মেয়েটা, যে তার ছোট বাক্সের মধ্যে মিড ডে মিলে পাওয়া ডিমটা সযত্নে ভরে বাড়ি নিয়ে যেত ভাইয়ের সঙ্গে ভাগ করে খাবে বলে, সে এখন থেকে বসবে প্রসাদের থালার সামনে; আপনি তাকে বলে দিয়েছেন যে সেই থালার খাবারটা তার জন্যে পবিত্র হলেও আপনার নিজের সন্তানের জন্যে যথেষ্ট পুষ্টিকর নয়। আপনি আপনার সন্তানকে দিনে বা রাতে ঠিকই ডিম বা মাছমাংস খাইয়ে ফেলবেন। আপনার নিজের সুস্বাস্থ্যের জন্যে প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট কিনবেন অনলাইনে। আপনি কখনও জানতেও পারবেন না খালি পেটে স্কুলে যাওয়ার মানে কী। আপনার প্রিভিলেজ আপনাকে অন্ধ করে দিয়েছে, আর সেই অন্ধত্ব আপনাকে বলছে গরীবের ছেলেনেয়েদের একটু কম পুষ্টি হলেও চলে যায়। কিন্তু ভক্তি বড় জরুরী। কিন্তু এই বাচ্চাগুলো দুপুরের খাবারে পাওয়া সেই ডিমটা ভোলে না। তাদের মায়েরা — হয়তো কখনো বাচ্চাটার বাড়ি নিয়ে যাওয়া খাবার থেকে একটা টুকরো মুখে তুলেছিল — ভোলে না সেই টুকরোর স্বাদ। আর, আমরা — যারা নিজের চোখে দেখেছি এই ঘটনা — আমরাও ভুলছি না। কারণ, একটা শিশুর ক্ষিদের সামনে যে কোনো মতাদর্শ তুচ্ছ। তার মায়ের আত্মত্যাগের সামনে অর্থহীন সমস্ত সাত্ত্বিক বিধিনিয়ম। খাবার, সঠিক পুষ্টি, বিজ্ঞান — এইসবই বাচ্চাগুলোর অধিকার। প্রসাদ নয়। মতাদর্শ নয়। যারা কোনোদিনও ক্ষিদে কাকে বলে চেনেনি, তাদের বলে দেওয়া অভিন্ন খাবার নয়। এই অধিকার কেড়ে নেওয়া অন্যায়। তথ্যসূত্র— (১) Early Indians: The Story of Our Ancestors and Where We Came From, Tony Joseph প্রকাশের তারিখ: ২৯-জুন-২০২৬ |
© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |