উত্তর আধুনিকতাবাদ, ফ্যাসিবাদ ও মার্কসবাদ (১ম পর্ব)

আইজাজ আহমেদ
১৯২৫ থেকে ১৯৭০ অবধি নিজেদের অস্তিত্বের প্রথম ৪০ বছর আরএসএস জাতীয় রাজনীতিতে অতি তুচ্ছ এবং অস্পৃশ্য ছিল। ৭০'র দশকে দেশজুড়ে ইন্দিরা বিরোধিতার ঝড় উঠলে জাতীয় স্তরে তারা প্রথমবার প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।

পুঁজিবাদি রাষ্ট্রব্যবস্থার দুটি ধ্রুপদী রূপ — একটি উদারনৈতিক, অন্যটি ফ্যাসিস্ত। এই দুটি রূপ থেকেই বাছাই করা গুণাবলি আহরণ করে এক নতুন ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে যা ঐতিহাসিকভাবে অভূতপূর্ব। নরেন্দ্র মোদীর জমানায় ভারতও সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে।

সংশয়হীন ভাবে বলা যায়, ভারতের রাষ্ট্রশাসনব্যবস্থা ১৯৯২তে বাবরি মসজিদ ধ্বংস, ১৯৯৮এ অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকারের দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসীন হওয়া অথবা ২০০২ সালে গণহত্যার ঘটনার চেয়েও অনেক বেশি অমঙ্গলসূচক সন্ধিক্ষণ পেরিয়ে চলেছে। এক দশকের ব্যবধানে সংগঠিত দুটি হিংসাশ্রয়ী ব্যভিচার ও সেই দশকের মাঝামাঝি সময়ে দেশের নির্বাচনী পরিমণ্ডলে এক নিঃশব্দ রূপান্তর, এই দুয়ের ওপর ভিত্তি করেই ধারাবাহিকভাবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ-পোষিত ভারতীয় জনতা পার্টির ক্ষমতায় উত্থান ঘটেছে। রামমন্দিরের নামে আন্দোলন চলাকালীন হত্যাকাণ্ডের ঘটনাবলি এবং বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পরিণামে সৃষ্টি হওয়া পরিবেশকে আলোচনার বাইরে রেখে কোনভাবেই ১৯৯৬ ও ১৯৯৮ সালে বাজপেয়ী সরকারের ক্ষমতায় উঠে আসাকে ব্যখ্যা করা যাবে না। বিনায়ক দামোদর সাভারকরের স্বপ্নের “যুদ্ধবাজ হিন্দুত্ব” ও তার থেকে উদ্ভূত ফ্যাসিস্ত দৃষ্টিতে সবকিছুকে দেখার অভ্যাসগুলি রূপান্তরিত হয়েছিল ভোটের বাক্সে যা প্রমাণ করে সংগঠিত সাম্প্রদায়িক হিংসা ভোট জিততে সহায়তা করে। নরেন্দ্র মোদী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সাথে সাথেই গুজরাটে গণহত্যা সংগঠিত হয়। একের পর এক বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর পক্ষে সমর্থন বাড়তে থাকে এবং দেশজুড়ে মধ্যবিত্ত জনমানসে তাঁকে ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সমর্থনের ভাবনা আরও ভালভাবে জায়গা করে নেয়। নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে জনসমর্থন আদায়ের উদ্দেশ্যে কাজ করে চলা বিভিন্ন সংস্থাগুলি জনগণের মধ্যে তাঁকে “বিকাশ পুরুষ” বলে তাঁর পরিচতির পুনঃনির্মাণ করলেও তিনি নিজে কখনই তাঁর আগুনখেকো সাম্প্রদায়িক চরিত্রে লাগাম দেননি। দিল্লিতে সরকার গড়তে একদিকে বিকাশের প্রতিশ্রুতি আর অন্যদিকে আগুনখোর সাম্প্রদায়িকতা দুটি বৈশিষ্ট্যই একযোগে কাজ করে এবং সাফল্য এনে দেয়।

সংসদীয় এবং সংসদ বহির্ভুত রাজনীতিতে আরএসএস ও তার কুলোদ্ভূতদের মধ্যেকার হিসাব নিকাশ ও আচরণের এর চেয়ে স্পষ্ট ছবি আর কোথাও মেলে না। প্ররোচনা ও বলপ্রয়োগের সমবায়ে গঠিত ব্যাবস্থাপনা সংঘ পরিবারকে অন্তত চারটি সুবিধা অর্জন করতে সাহায্য করেছে। প্রথমত, রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রসার। নির্বাচনী রাজনীতিতে ওঠা নামা থাকলেও একথা বলাই যায় যে ১৯৮৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৩০ বছরের সময়কালে হিংসার রাজনীতিকে ব্যবহার করেই বিজেপি একটি ছোট দলের অবস্থা থেকে নিজেদের এক অপ্রতিরোধ্য রাজনৈতিক সুসংগঠিত যন্ত্র হিসেবে গড়ে তুলেছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল, দুর্গা বাহিনী এবং কতিপয় অন্যান্য বাহিনী নানা সময়ে রুটিনমাফিক শিরোনামে উঠে এসেছে আবার হারিয়ে গেছে। ভোটের ফলাফলে বিজেপি'র সঙ্গে এরাও সবাই কৃতিত্বের অধিকারী। আরএসএস ক্যাডাররা প্রয়োজনমতো বিজেপি'র হয়ে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যথাযথভাবে নিয়োজিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি হিসাবে আরএসএস'র মতাদর্শকে সম্পূর্ণ অথবা আংশিকভাবে হলেও নিজেদের রোজকার জীবনের সঙ্গে প্রকাশ্যে একাত্ম করার অভ্যাসের সামজিক ভিত্তিটির পরিসর বেড়ে যাওয়া। জনগণের অতি দ্রুত মনোভাবের বদল হওয়ার ফলে তাকে অনুধাবন করা কঠি হয়ে পড়েছে একইসময়ে। এমনকি মতাদর্শগত গুরুত্বের ভরকেন্দ্রেটিও বদলে গিয়েছে।

তৃতীয়ত, মতাদর্শগত গুরুত্ব বদলে যাওয়ার পরিণামে দেশের নৈতিক কাঠামোটি ক্রমাগত অমসৃণ হতে শুরু করেছে। মোদি এবং যোগীকে প্রকাশ্যে ভজনা করা লক্ষাধিক জনগণ সেই অমসৃণতা চিহ্নিতকারী একটি সূচক। সহজ হিসাবে জার্মানি, ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডের সম্মিলিত জনসংখ্যার প্রায় সমান হল উত্তরপ্রদেশের জনসংখ্যা । আমরা আজ যে জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি সেই অবস্থার দিকেই ক্রমাগত উসকানি দিয়ে এবং কোনোরকম বাধা না পেয়ে এত বড় একটি রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর আসন পেয়েছে এই যোগী যে আসলে বজরং দলের একজন গেরুয়াধারী পাণ্ডা। মনে রাখতে হবে বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপি তাকে ‘তারকা প্রচারক’ হিসবে ব্যাবহার করছে শুধু তাই নয় ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসাবেও তুলে ধরছে।

চতুর্থ সুবিধাটি নিকট এবং দূর ভবিষ্যতের পক্ষে সবচেয়ে বিপজ্জনক। কংগ্রেসের মতো নিজেদের মুখ্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের থেকে তো বটেই, এর পাশাপাশি আরএসএস সুপ্রিম কোর্ট সহ সেই সব জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলির থেকেও নিজেদের দুষ্কর্মের ব্যাপারে মৌন সম্মতি আদায়ে সফল হচ্ছে যাদের দায়িত্বই হল এ দেশের জনজীবনকে আইন মোতাবেক নিরাপত্তা দেওয়া এবং সংবিধানের ভিত্তিগুলিকে রক্ষা করা। একটি ঘটনার সংক্ষিপ্ত উল্লেখই এই ব্যাপারে যথেষ্ট হবে। বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত বিশৃঙ্খলার সময়ে সঙ্ঘ পরিবার ও শিব সেনারা নিজেদের ক্যাডারদের যখন সবিস্তারে প্রায় দীর্ঘ এক বছর ধরে প্রশিক্ষিত এবং প্রস্তুত করেছিল তখন গোয়েন্দা বিভাগ অবশ্যই এই নিয়ে ওয়াকিবহাল থাকতে পারত। অথচ তারা কিছুই না জানার ভান করে ছিল। সেই সময়কার রাজনৈতিক ঊর্ধ্বতনেরা কি খবর পেয়েছিলেন? যদি না পেয়ে থাকেন তবে কেন পাননি? এই সময়ে পি ভি নরসিমা রাও সরকারের নিষ্ক্রিয়তা এক অত্যাশ্চর্য ঘটনা। সুপ্রিম কোর্টে মসজিদের কাঠামো অক্ষত রাখা নিয়ে কল্যাণ সিংএর অঙ্গীকারকে এক বাকচাতুর্য বললেই সবচেয়ে ভাল বলা হয়। দায়িত্ব পালনে দক্ষ সেনাপতি খুঁজতেই কোর্ট ব্যর্থ হল। নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে কল্যাণ সিং সহজেই নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে গেল এবং ছাড়ও পেয়ে গেল। ফ্যাসিস্ত কায়দায় মসজিদ ধ্বংস করার গোটা ঘটনাটাই টেলিভিশনে দেখানো হয়েছিল। বিজেপি নেতারা ও সঙ্ঘ পরিবারের সব নক্ষত্রেরা সেখানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন এবং চিৎকার করে ধ্বংসকারীদের উৎসাহ যোগাচ্ছিলেন। তাঁদের কারোরই শাস্তি হয়নি। তিন মাসের মধ্যে মসজিদ ধ্বংস ও আনুষঙ্গিক সমস্ত ঘটনার প্রতিবেদন জমা দিতে বিচারপতি এম এম লিবারহানের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করা হয়। সেই কাজ শেষ করে ১৭ বছর পরে যে রিপোর্ট জমা করা হল তাতে কিছু নাম উল্লেখ করা হল। সেই সময়কার কংগ্রেস সরকার বা সুপ্রিম কোর্ট কেউই এই নিয়ে সেভাবে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। মোদ্দা কথাটা এই দাঁড়াল যে আরএসএস, বিজেপি, ভিএইচপি এবং সংঘ পরিবারের অন্যান্য দলগুলির কোনও বড় নেতা-নেত্রীরই শাস্তি হয়নি। ২০০২ সালে গুজরাট গণহত্যার ঘটনার পরে যখন ব্রিটেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একযোগে মোদিকে ভিসা দিতে অস্বীকার করে তখন মনমোহন সিং এক ভারতীয় মুখ্যমন্ত্রীর অপমানের সূচক হিসাবে এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন। এইভাবে শিষ্টাচারের সঙ্গে শুচিতাবাতিকের আড়ালে আসলে আইন ও নৈতিকতাকে ফাঁকি দেওয়া হল।

অমঙ্গলসূচক সন্ধিক্ষণ

১৯৯২, ১৯৯৮ এবং ২০০২এর যে ঘটনার উল্লেখগুলি ইতিমধ্যেই করা হয়েছে তার প্রত্যেকটিই আরএসএসকে দেশের ক্ষমতায় তুলে আনার ক্ষেত্রে অবধারিত ভূমিকা পালন করেছিল। মূল সমস্যাটি হল এই যে ১৯২৫ থেকে ১৯৭০ অবধি নিজেদের অস্তিত্বের প্রথম ৪০ বছর আরএসএস জাতীয় রাজনীতিতে অতি তুচ্ছ এবং অস্পৃশ্য ছিল। ৭০'র দশকে দেশজুড়ে ইন্দিরা বিরোধিতার ঝড় উঠলে জাতীয় স্তরে তারা প্রথমবার প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে সেই আন্দোলন তর্জন-গর্জন সহ তুঙ্গে উঠলেও মূলত সংগঠনহীন ও ব্যক্তি নির্ভর ছিল। মোরারজি দেশাইয়ের ব্যক্তি হিসাবে প্রতিপত্তি সত্ত্বেও তাঁর দল কংগ্রেস(ও) ততদিনে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গিয়েছিল।

আরএসএস'র বিভিন্ন সংগঠনের ভিতরে সংযোগ রক্ষাকারী নেতৃত্ব, যথাযোগ্যভাবে প্রশিক্ষিত ক্যাডার এবং সংসদীয় ফ্রন্ট (জনসংঘ) সবই ছিল। এর জোরেই তারা ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে দক্ষিণপন্থী জোটের নেতৃত্ব দেয় এবং ১৯৭৭এর নির্বাচনে সংসদে ৯৪টি আসন দখল করে। সেই প্রথম ভারতের রাজনীতিতে একটি অংশ হিসাবে আরএসএস পরিচিতি লাভ করে। এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা না করেও বলা যায় পরবর্তী ৪০ বছর সময়কালে ২০১৪ সালে মোদীর নেতৃত্বে প্রথমবার দিল্লিতে সরকার গঠন করার সময় পর্যন্ত আরএসএস ক্রমাগত ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মূল ধারার রাজনীতিতে সম্মানজনক অবস্থানের দিকে উঠে এসেছে।

সংসদে ২৮২টি আসনের জোরে নির্ঝঞ্ঝাট সংখ্যাগরিষ্ঠতা সহ দশ বছর বাদে ক্ষমতায় ফিরে এসে মোদীর প্রথম শাসনকাল (২০১৪-১৯) মূলত ব্যয় হয়েছে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর দৃঢ় প্রভাব বিস্তার, গৈরিকীকরণের ব্যাপকতা বৃদ্ধি এবং বিজেপির লুম্পেনিকরণের কাজে। যার ফলে সরকারি কর্মকাণ্ড ও দেশের সামাজিক জীবনযাত্রায় অনেক বেশি স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষভাবে আরএসএস এর প্রভাব পড়েছে।

উত্তরপ্রদেশের পশ্চিমদিকের মুজফফরনগর থেকে শুরু করে সুদূর বাংলা ও অসম পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মুসলমানদের প্রকাশ্যে পিটিয়ে খুন করা এক নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ অংশেও এধরনের পিটিয়ে মারার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এইসব ঘটনায় যুক্ত হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির সঙ্গে আরএসএস নিজেদের ধোঁয়াশার মতো দূরত্ব বজায় রেখে চলেছে - প্রয়োজনমতো এদের নিজেদের লোক হিসাবে অস্বীকার করার প্রয়োজনেই কি? নাকি দেশজুড়ে হিন্দুত্বের নামে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়াতে সক্ষম নানা স্বশাসিত দল গঠনের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এই পদক্ষেপ? অধ্যাপক এমএম কালবুর্গি, সাংবাদিক গৌরি লঙ্কেশ এবং অন্যান্য সম্মানীয় বুদ্ধিজীবীদের খুনের ঘটনায় এই প্রশ্নটিই বারে বারে উঠে এসেছে। কর্তৃত্ববাদী হিন্দু জাতীয়তাবাদের ধারণা অনুযায়ী বিচ্ছিন্নভাবে কিছু অসহায় মুসলমানকে হত্যা করা অথবা সংঘ পরিবারের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ইসলামে আস্থাশীল সম্প্রদায়কে সন্ত্রস্থ করে তোলার কাজকর্মের তুলনায় বুদ্ধিজীবীদের এভাবে হত্যার রাজনৈতিক গুরুত্ব একেবারেই আলাদা। ধর্মীয় পরিচয়ের বিশিষ্টতাহীন বুদ্ধিজীবী, উদারমনস্ক সক্রিয় চিন্তাবিদ, যুক্তিবাদী ও কমিউনিস্টদের অথবা এমন যে কোনও কাউকে যে বা যারা ইতিহাস, সমাজ, রাজনীতি ও সরকারের বিষয়ে আরএসএসএর চিন্তাভাবনার বিরোধিতা করে, তাদেরকেই হত্যা করার মধ্যে দিয়ে ভারতীয় সমাজের পুনর্গঠনের এই কর্মসূচি আসলে হিন্দুত্ব প্রকল্পের ভরকেন্দ্রটির অতি দক্ষিণপন্থার দিকে রূপান্তরিত হওয়া যার অনুপ্রেরণা এরা পেয়েছে যুক্তিবাদবিরোধী ফ্যাসিবাদের থেকে এবং তাকেই উত্তরাধিকার সূত্রে বহন করে চলেছে।

মোদী শাসনকালের প্রথম জমানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আক্রমণের ঘটনাগুলিও ওই একই প্রকল্পের অন্তর্গত। যদি গোমাতার নামে জনৈক গরিব মুসলমানকে দেশের কোনও এক ছোট শহর বা গ্রামের উপকণ্ঠে কোনও অশিক্ষিত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে খুন হতে হয় তবে ভারতমাতার নামে আদালত চত্বরে একগুচ্ছ আইনজীবীদের জেএনইউ'র ছাত্র সংসদের সভাপতি কানহাইয়া কুমারকে মারধর করাও চলে!

মোদী সরকার দেশের অর্থনীতির সর্বনাশ করে ফেলেছে। নোট বাতিল ও জিএসটি দুটি সিদ্ধান্তই প্রয়োগ করার পরে বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে। ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের রাজনীতিকরণ করেও লাভ না হওয়ায় জাতীয় ব্যাংকগুলিকে চাপ দিয়ে ধান্দাবাজ বৃহৎ ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলিকে অর্থ সাহায্য পাইয়ে দিয়েও সমস্যার সুরাহা হয়নি। পুঁজিবাদ সবসময়ই ধান্দাবাজ। কিন্তু এই মোদি-আদানি যৌথ প্রকল্পটি তার চাইতেও বেশি কিছু। ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে সারা দেশে শিল্পক্ষেত্রে ১১ লক্ষ মানুষ কাজ হারিয়েছেন, বলা যায় জাতীয় অর্থনীতির প্রায় অর্ধেক স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। দেশজুড়ে বেকারের সংখ্যা ২৫ লক্ষ ছুঁয়েছে এবং চাকরিপ্রার্থীদের মোট ৬.২ শতাংশ কর্মহীন হয়ে থাকলেও নতুন কাজের কোন সুযোগ নেই বললেই চলে।

ভাষান্তর: সৌভিক ঘোষ

* ফ্রন্টলাইন পত্রিকার ৩১ জানুয়ারি ২০২০ সংখ্যায় প্রকাশিত ইংরাজি নিবন্ধের অনুবাদটি উত্তর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র শিরোনামে নন্দন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল

* উত্তর আধুনিকতা, ফ্যাসিবাদ ও মার্কসবাদ শিরোনাম মার্কসবাদী পথের


প্রকাশের তারিখ: ২২-ডিসেম্বর-২০২২

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org