উত্তর আধুনিকতাবাদ, ফ্যাসিবাদ ও মার্কসবাদ (২য় পর্ব)

আইজাজ আহমেদ
সংসদে ২৪৫ জন সাংসদ রয়েছেন যারা শাসকদলের নন। কেউ দাবী করতে পারে এই বিশাল বিরোধী পক্ষের মধ্যে কোনোপ্রকার ঐক্য অথবা ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে যার ভিত্তিতে তারা সরকারের বিরুদ্ধে একজোট হতে পারে?

মূলধারার অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ১ শতাংশেরও তলায় নেমে গেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে বৃহৎ সংস্থাগুলি মোদীকে যতই পছন্দ করুক না কেন দেশের অর্থনীতিতে তারা আস্থা রাখতে পারছে না। ধরেই নেওয়া হয়েছিল মোদীকে এসব কিছুর জবাব ব্যালট বাক্সে ফেরত দেওয়া হবে। দেখা গেল, আগের বারের চেয়েও ২৩টি আসন বেড়ে ৩০৩টি আসনসহ মোদী দ্বিতীয়বারের জন্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকারে ফিরে এল। আসলে কী ঘটেছিল?

এমন হবার কারণ অল্প কথাতেই স্পষ্ট করা যায়। অর্থনীতির বেহাল দশা সত্ত্বেও দেশের নির্বাচনী তহবিলে কর্পোরেটরা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ঢেলেছে যার প্রায় ৯৩ শতাংশই গেছে বিজেপি'র খাতে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মোদীর জন্য বারাক ওবামার দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচনী প্রচারে ব্যয়ের সমপরিমাণ টাকা খরচ করেছিল, ২০১৯ সালে তার চেয়েও বেশি অর্থব্যয় করা হয়েছে। জাতীয় অর্থনীতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক কার্পণ্য দেখানো যদি কর্পোরেটদের অসন্তুষ্টিকে নির্দেশ করে, তবে তারাই অন্যদিকে সেই মানুষটির প্রচারে এত বিপুল অর্থব্যয় কেন করবে যার সরকারের আমলে অর্থব্যবস্থা বসে গেছে? এর তিনটি সম্ভাবনা রয়েছেঃ প্রথম, এই বিরাট অংকের অর্থসাহায্য এসেছে সেইসব ধান্দাবাজ ব্যবসায়ী গোষ্ঠীদের থেকে যারা মোদী জমানায় বিপুল মুনাফা কামিয়ে ফুলেফেঁপে উঠেছে, অথবা কর্পোরেটদের সামনে মোদীর বিকল্প হিসেবে কেউ নেই, আর তাই তারা সেই ঘোড়াতেই বাজি রাখছে যাকে জিততেই হবে।

দ্বিতীয়, ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৯ এ বৈদ্যুতিন গণমাধ্যমগুলি আরও ব্যাপক এবং দৃঢ়ভাবে সংঘ পরিবারের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম হিসাবে এনডিটিভি ও কতিপয় ছোট চ্যানেলগুলিকে বাদ দিলে বৈদ্যুতিন গণমাধ্যমের প্রায় পুরোটাই বিজেপির নির্বাচনী কৌশলে আসক্ত হয়ে এবং আইটি সেলের থেকে প্রাপ্ত তথ্য গিলে খেয়ে সেগুলিকেই টিভির পর্দায় নাটকীয়তার সাথে বারে বারে উগরানোর ফলে গভীরভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিরাট আকারের তথ্য বিশ্লেষণ করে সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে অসত্য ও অসামাজিক খবরাখবর লক্ষ লক্ষ অনুগামী এবং নিরীহ মানুষদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া, যাকে রবীশ কুমার “হোয়াটস্যাপ ইউনিভার্সিটি” বলে যথাযথ নামকরণ করেছেন। 

তৃতীয়, পুলওয়ামার ঘটনা ও তার লাভজনক ফলাফল। ২০১৯ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি দেশে সাধারণ নির্বাচনের ঠিক দু’ মাস আগে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়, যাতে সিআরপিএফ'র ৪০ জন জওয়ান নিহত হন এবং ৩৫জন আহত হন। পরে পাকিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে থাকা জইশ-ই-মহম্মদ এই ঘটনার দায় স্বীকার করে। এর ১২ দিন পরে ২৬শে ফেব্রুয়ারি ভারতীয় বায়ু সেনার যুদ্ধজাহাজ পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত পেরিয়ে বোমাবর্ষণ করে একটি মাদ্রাসার উপর। ভারত সরকারের দাবী অনুযায়ী এই হামলায় ৩০০-৪০০ জন সন্ত্রাসবাদী মারা যায়। পাকিস্তানের সরকার ঘোষণা করে, এই হামলায় কেউ হতাহত হয়নি। বিভিন্ন উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত চিত্রগুলি তুলে ধরে সারা পৃথিবীর টেলিভিশনে দেখানো হয় ওই মাদ্রাসার কাঠামোটিও পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। উল্টে পাকিস্তানের জবাবি হামলায় ভারতের একটি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হয়েছে। পুরো ঘটনাটি ভারতের পক্ষে এক কলঙ্কজনক ঘটনা হিসাবে পরিণত হলেও দেশপ্রেমের তাপে জনমানসে এক কৃত্রিম গণউম্মাদনার জন্ম হয় যাতে আখেরে কর্তার লাভ হয়। এইসব অন্ধকারময় ঘটনাবলির পরও দেশের শাসক হিসাবে মোদী নিজের অবয়ব ধরে রাখতে পারেন।

সবশেষে, ইভিএম নামক কুখ্যাত যন্ত্রে কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচনী ফলাফল পাল্টে দেবার প্রশ্নটি উঠে আসে। বহু দেশে এই যন্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে এবং সকলেই জানে, এতে খুব সহজেই কারচুপি করা যায়। ভারতে ব্যবহার হওয়া ইভিএমগুলির ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সূত্রে অন্তত একটি যন্ত্রে নথিবদ্ধ সবকটি ভোট বিজেপি'র পক্ষে ঘুরিয়ে দিতে কারসাজি থাকার খবর পাওয়া গেছে। অদ্ভুতভাবে এদেশের ইভিএমগুলির ক্ষেত্রে প্রমাণ হিসাবে কোনোরকম ছাপা কাগজের চল নেই, সবটাই যন্ত্রস্থ ফলাফলের উপরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এবং আদালতে ইভিএম'র বিরুদ্ধে অগণিত অভিযোগ জমা পড়েছে, সেইসব অভিযোগপত্রই পাষাণপ্রাচীরে সমাধি দেওয়া হয়েছে।

এই সবকিছুই হয়ত মোদীর পক্ষে গেছে, তবু মনে রাখতেই হয় ৩০৩টি আসনসহ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন মাত্র ৬ শতাংশ ভোট বৃদ্ধিতে কীভাবে সম্ভব হল? কোনোরকম অবাস্তব কল্পনা সরিয়ে রেখে এর উত্তর খুঁজে পেতে আমাদের গঠনমূলক সত্যের মুখোমুখি হতে হবে। এই কাজে আমাদের চিন্তাভাবনাকে দুটি ক্ষেত্রে স্থির করতে হবে। প্রথম, ভারতের সংসদে বিরোধীপক্ষের নেতা হতে গেলে সেই দলের পক্ষে সংসদের মোট আসনের ১০ শতাংশ আসন থাকতে হয়, এবং ট্রেজারি বেঞ্চের বাইরে সেই দলকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে হয়। ২০১৪ সাল থেকেই ভারতের সংসদে এরকম বিধিবদ্ধ কোন বিরোধী পক্ষ, বা তার নেতা নেই। দ্বিতীয়, বিজেপি'র হাতে ৩০৩টি আসন থাকলেও মাত্র ৬০টি আসন কম নিয়ে সংসদে ২৪৫ জন সাংসদ রয়েছেন যাঁরা শাসকদলের নন। কেউ দাবী করতে পারে, এই বিশাল বিরোধী পক্ষের মধ্যে কোনোপ্রকার ঐক্য অথবা ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচি কি রয়েছে, যার ভিত্তিতে তারা সরকারের বিরুদ্ধে একজোট হতে পারে? এই দুটি সহজ সত্যের ভিতর দিয়েই আমরা অ-বিজেপি শক্তিগুলির মধ্যেকার বিভেদের মাত্রা পরিমাপ করে নিতে পারি। 


বিচ্ছিন্ন বিরোধীপক্ষ

এই বহুধা বিভক্ত অ-বিজেপি বিরোধীপক্ষের প্রকৃত চিত্রটি বুঝতে, করণ থাপারের সঙ্গে সংঘ পরিবারের প্রবীন নেতা, বর্তমানে দলত্যাগী অরুন শৌরির কথোপকথন সাহায্য করতে পারে। শৌরি উল্লেখ করেছেন, ২০১৯'র নির্বাচনই হয়ত ভারতের শেষ প্রকৃত নির্বাচন এবং এক দীর্ঘকালব্যাপি একনায়কত্ব রোধ করতে বিরোধীদের জন্য শেষ সুযোগ। এই সংক্রান্ত ব্যাখ্যায় তার যুক্তি খুবই সহজ: নিজেদের মধ্যেকার পার্থক্য দূরে সরিয়ে রেখে প্রতিটি আসনে বিজেপি'র বিরুদ্ধে ঐক্যমতে একজন প্রার্থীকে লড়াই করতে দেওয়া হোক। তাঁর দেখানো সংখ্যাতত্বের হিসেব খুবই আকর্ষণীয়: ২০১৯ সালে মোদী সেই সব রাজ্যের ৯০ শতাংশ আসনে জিতেছেন যে রাজ্যগুলির মোট আসন লোকসভার মোট আসনের ৬০ শতাংশ। তার মতে "বিরোধীরা যদি শুধুমাত্র তিনটি রাজ্য উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও মহারাষ্ট্রে একজোট হয় তবে ঐ ৯০ শতাংশ আসনে মোদীর জয়লাভ অসম্ভব হয়ে পড়বে”। তার এই বক্তব্যের কোন জবাব না দেওয়া গেলেও ভারতের রাজনীতিতে বিরোধীদের ভিতরে ঐক্যমত হবার এই রাস্তা যে নেহাতই কাল্পনিক, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। জাতীয়স্তরে সমস্ত বিরোধীপক্ষ একজোট হয়ে সংঘ পরিবারকে নিশ্চিত জয়ের থেকে সরিয়ে দেবার এই চিন্তাভাবনা কংগ্রেসের প্রধান হিসাবে রাহুল বা সোনিয়ার মস্তিষ্কপ্রসূত না হয়ে যে অরুন শৌরির মাথায় এসেছে - এই সত্য নিজ গুণে আমাদের হৃদয়ে ভারতের রাজনীতির প্রতি করুণার উদ্রেক করে।

আগেই বলা হয়েছে, ভারতের রাষ্ট্রশাসনব্যবস্থা এক সন্ধিক্ষণ পেরোচ্ছে। এখানে আরেকটি প্রশ্নও উঠে আসে - এই সন্ধিক্ষণ কি কোনো সম্ভাব্যতায়, যেকোনভাবে বিপরীতমুখী হতে পারে না? এই প্রশ্নটিকে জ্ঞানচর্চার পরিসর থেকে বের করে এনে বাস্তবের মাটিতে হাজির করতে হবে। কারণ ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট যে সাধারণতন্ত্রের জন্ম হয়েছিল, এবং ১৯৫০'র ২৬শে জানুয়ারি যাকে পুনর্জন্ম দেওয়া হয়েছিল, সেই দেশ এখনও সাধারণতন্ত্র হিসেবে টিকে থাকার সবকটি সম্ভাবনার সীমানা পেরিয়ে যায়নি। তাই আমাদের কাজ সহজবোধ্য উপায়ে প্রশ্নটির আলোচনা করা। ধরে নেওয়া যাক, এখন থেকে আরও তিন বছর জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধীদের এই ঠুটো জগন্নাথ অবস্থা বজায় রইল, আরও কয়েকটি রাজ্যে বিজেপি'র অগ্রগতি আটকানো গেল না। তাহলেও নিজেদের সংগঠনের থেকেই আর এস এস খবর পেতে শুরু করবে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে যারই মুখ ব্যবহার করা হোক না কেন আগামী নির্বাচনে বিজেপি'র জয়ী হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তখন কি আগের মতো আরএসএস বিজেপি'কে হারতে দিয়ে পিছিয়ে আসবে? রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বিভিন্ন ক্ষেত্রগুলিকে তারা এমনিই নিজেদের আয়ত্তের বাইরে চলে যেতে দেবে? ভুললে চলবে না, তিন বছর বাদে আরএসএস নিজেদের সংগঠন প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উদযাপনের দোরগোড়ায় পৌঁছে (এক বছর পরেই) এরকম কোন পরাজয় মেনে নিতে রাজি হবে না।  


২০১৪ সালের প্রধান বৈশিষ্টগুলি

২০১৯ পরবর্তী সময়কালে পরিস্থিতি বুঝতে গেলে প্রথমে ২০১৪ থেকে শেষ পাঁচ বছরের প্রধান বৈশিষ্টগুলি আমাদের চিনে নিতে হবে। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সেই প্রথম দেশের বৃহৎ বুর্জোয়া শক্তি প্রকাশ্যে একজোট হয়ে (রাহুল বাজাজ বা ঐরকম দু’একজনকে বাদ রেখে) একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থনে বা বলা চলে নরেন্দ্র মোদী নামে একটি ব্যক্তির সমর্থনে মুখ খুলেছিল। ওই একই সময়ে ভারতের রাজনীতিতে শতাধিক বছর ধরে প্রাধান্য বজায় রেখে চলা কংগ্রেস দলটির অকস্মাৎ পতন ঘটেছিল। একধাক্কায় তারা ২০৬টি আসন থেকে ৪৪টি আসনে নেমে গিয়েছিল। তার আগে একটানা দশবছর দেশের শাসনক্ষমতায় থেকেও এইরকম ধরাশায়ী অবস্থার পিছনে তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাই দায়ী। ২০১৯-এ এসে ৪৪টি আসন থেকে উপরে উঠে ৫২টি আসন পেলেও বলা যায় তাদের গৌরবগাথা ইতিহাসে পর্যবসিত হয়েছে, পুনরুজ্জীবনের কোন লক্ষণই এখনও দেখা যাচ্ছে না।

এই সময়ে নির্বাচনী ফলাফলে বামেদের ক্ষয়প্রাপ্তি ধীরে হলেও অমার্জনীয়। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) ২০০৪ সালে ৪০ টি আসন পেয়েছিল, যা ২০০৯'এ কমে দাঁড়ায় ১৬টি তে। যদিও তখনও অবধি তার প্রাপ্ত ভোট প্রায় অক্ষতই ছিল। ২০১১ সালে তারা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে পরাজিত হয় এবং ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ৯টি আসন জিতে নিজেদের ভোটের ৪০ শতাংশ হারিয়ে ৩.২৪ শতাংশে নেমে আসে, যা ১৯৬৭ সালের পর থেকে তাদের সবচেয়ে খারাপ ফলাফল। সবচেয়ে করুণ অবস্থা হয় পশ্চিমবঙ্গে যেখানে তারা আসন পাওয়ার বিচারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। সেই রাজ্যে তাদের নিজস্ব ভোট ২৯.৯৫ শতাংশ থেকে কমে ৮ শতাংশের কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে। তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, সেখানে বিজেপি'র ভোট ২০১৫ সালে ১৭.০২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৯ সালের নির্বাচনে ৪০.২৫ শতাংশ হয়েছে।



ভাষান্তর: সৌভিক ঘোষ

* ফ্রন্টলাইন পত্রিকার ৩১শে জানুয়ারি ২০২০ সংখ্যায় প্রকাশিত ইংরাজি নিবন্ধের অনুবাদটি উত্তর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র শিরোনামে নন্দন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল

* উত্তরআধুনিকতা, ফ্যাসিবাদ ও মার্কসবাদ শিরোনামটি মার্কসবাদী পথের


প্রকাশের তারিখ: ২৩-ডিসেম্বর-২০২২

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org