সন্দেশখালির প্রেক্ষিতে (প্রথম পর্ব)

অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়, কুমার রাণা, অনিতা অগ্নিহোত্রী
শান্তনু দে: কোন পথে বাংলা। কোন পথে বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি-অর্থনীতি-রাজনীতি। সন্দেশখালির ঘটনার পর মার্কসবাদী পথের পক্ষ থেকে আমরা শুনতে চেয়েছি সমাজ-কে নিয়ে যাঁরা সিরিয়াস চিন্তা-ভাবনা করেন তাঁদের মতামত। আমাদের মধ্যে আছেন অনিতা অগ্নিহোত্রী, যাঁর লেখা গল্প উপন্যাসের সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত, যেখানে তিনি তুলে ধরেছেন প্রান্তজনের কথা, খেটে খাওয়া মানুষের কথা। আছেন অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়। সাংবাদিক, দুই বাংলার মানুষের কাছেই যিনি সমান পরিচিত নাম। আছেন কুমার রাণা। দীর্ঘদিন গবেষণার কাজের সঙ্গে যুক্ত। নিয়মিত কলাম লেখক। যখনই আমরা লেখা চেয়েছি কখনও নিরাশ করেননি। আজ খোলামেলা আলোচনা করবেন ওঁরা নিজেরা। পশ্চিমবাংলার রাজনৈতিক বুদ্ধিচর্চায় যে পঙ্কিল আবর্ত তৈরি হয়েছে তাকে কীভাবে স্বচ্ছ ধারায় পরিণত করা যায়, মার্কসবাদী পথ-এর পক্ষ থেকে এটি তারই একটি বিনম্র প্রয়াস। আপনাদের সবাইকে স্বাগত। শুনব আমরা। মতামত আলোচকদের একান্তই নিজস্ব।*

অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়: আমরা তো যথাসম্ভব কথোপকথনের মতো করেই আজকের আলোচনাটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। সেই কারণেই আলোচনার শুরুতেই আমাদের তিনজনের পক্ষ থেকে কয়েকটি কথা একটু বলে নিতে চাই। আজ যে আলোচনাটা করতে যাচ্ছি সেটা করতে গিয়ে আমাদের নিজেদের সঙ্গে কিছু বোঝাপড়া করতে হয়েছে। বোঝাপড়া এই যে এই আলোচনা করার হক আমাদের নিশ্চয়ই আছে, কিন্তু তা সর্বসাধারণের জন্য প্রচার করার এক্তিয়ার আমাদের কতটুক— এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আমরা নিঃসংশয় নই। কিন্তু আজকে আমাদের রাজ্যের পরিস্থিতি এমনই যে এ নিয়ে কেবল নিজেদের মধ্যে কথা বলাটাই আর যথেষ্ট নয়। যেমন এই মুহূর্তে সন্দেশখালির ঘটনাবলী আমাদের মনে যে ভয়ংকর উদ্বেগ সৃষ্টি করে চলেছে তা অন্তত দুটি কারণে জনপরিসরে প্রকাশ করার দরকার আছে বলে মনে হয়।

প্রথমত, প্রকাশ্যে আলোচনা না করলে যা ঘটছে তা নিয়ে আমাদের নিজস্ব অনুধাবনে বিপজ্জনক খামতি থেকে যেতে পারে। বিশেষ করে যখন ক্ষমতার নানা ভাগীদারেরা সত্যকে আড়াল করার জন্য নানাভাবে সক্রিয়। জনপরিসরে আলোচনার মধ্য দিয়ে সত্যকে সামনে আনার জরুরি কাজটি হয়তো কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। দ্বিতীয়ত, যা ঘটছে অন্তত যে-টুকু খবর পাওয়া যাচ্ছে তাকে রাজ্যের এবং দেশেরও সামগ্রিক আর্থিক সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করে দেখার প্রয়োজনটি তুলে ধরা আবশ্যক। আমাদের মনে হয়েছে এই সামগ্রিকতার দিকটিতে যতটা মনঃসংযোগ করা দরকার এখনও পর্যন্ত তেমনটা হতে দেখা যাচ্ছে না।

বাঙালি সম্পর্কে একটা ধারণা প্রচলিত যে তারা কোনও বিষয়েই ঐক্যমতে পৌঁছতে পারে না। ধারণাটা ঠিক, বা বলা যায় ঠিক ছিল। অধুনা সাম-দান-দণ্ড ভেদের চাপে বাঙালির ভিন্নমত হওয়ার ক্ষমতাই যেন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। কিন্তু আমরা একটা ব্যাপারে একমত হতে পারি যে, যা ঘটছে সে বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গিগুলো উঠে আসা খুবই জরুরি। আজকে আমরা যারা এই আলোচনায় একত্র হয়েছি তারা নিজেদের বোধবুদ্ধি দিয়ে পরিস্থিতিকে বিচার করার বোঝার চেষ্টা করব। তাতে মতামতের বিভিন্নতা থাকবে। দৃষ্টির বহুত্বই আমাদের সম্পদ। আশা করতে পারি যে আজকের আলোচনার সূত্র ধরেই আমরা নিজেরা এবং অন্য সহনাগরিকরাও একই সঙ্গে নিজের মত করে এবং যৌথভাবে চিন্তায় ও কাজে এই গভীর সংকটের মোকাবিলার কিছু পাথেয় সংগ্রহ করতে পারি।

এবার কথা হচ্ছে, যদি আমরা গত কিছুদিন ধরে যে কাণ্ডটা পশ্চিমবঙ্গে ঘটছে সেইটাকে সামনে রেখে কিন্তু একই সঙ্গে শুধু এই সন্দেশখালির ঘটনা বলেই নয়, পশ্চিমবঙ্গে সামগ্রিকভাবে একের পর এক যে ভয়ংকর সমস্ত ঘটনার সাক্ষী আমরা থেকেছি অনেককাল ধরে, সেগুলো নিয়ে একটু কথা বলতে পারি। বিশেষ করে এই ঘটনাগুলো যখন ঘটে, ঠিক যেমন এখন ঘটছে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে, তখন তা নিয়ে অনেক শোরগোল হয়, অনেক রকম কথা হয়, খুব উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তার পরে একটা সময়ে গিয়ে প্রায় স্বাভাবিক নিয়মেই ওটা ঝিমিয়ে যায়। তখন কিরকম যেন শোরগোলটাও থেমে যায় এবং আমরা যেন পরের প্লাবনটার জন্য আবার অপেক্ষা করতে থাকি। কিন্তু এই প্রত্যেকটা ঘটনা প্রথমত এই ঘটনাগুলোকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন বলে মনে করার কোনও কারণ নেই। পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক সামাজিক রাজনৈতিক যে পরিস্থিতি, তারই পরিণামগুলো নানারকম ভাবে আমাদের চোখের সামনে যখন বেরিয়ে আসে, আমরা দেখতে পাই। কিন্তু পরিস্থিতিটা অনেক বেশি গভীর, অনেক বেশি ব্যাপক। এবার এই পরিস্থিতিটা নিয়ে একটু গভীরভাবে চিন্তা করার কী উপায় থাকতে পারে, সেটা ভাববার জন্যই আমাদের আজকের বসা বা আলোচনা করা। অনিতাদিকে যদি প্রথমে বলি যে, তোমার কী মনে হয়েছে, এই সন্দেশখালি উপলক্ষ করে, কিন্তু বৃহত্তরভাবে পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে– যদি একটু বলো। 

অনিতা অগ্নিহোত্রী: হ্যাঁ অনির্বাণ, আমি তোমার সঙ্গে পুরো একমত যে সন্দেশখালিকে দেখছি, উদ্বিগ্ন হচ্ছি, কিন্তু একটু সার্বিকভাবে পরিস্থিতিটা দেখার প্রয়োজন আছে। আমরা দেখছি গত এক সপ্তাহ দশ দিন ধরে ওইখানকার স্থানীয় সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ, তাঁদের মধ্যেকার উত্তেজনা, মিছিল দেখছি। এলাকার যারা দুষ্কৃতকারী বলশালী তারা যেই একটু আড়ালে গেছে, ওখানে নেই, তখনই মানুষ বেরিয়ে এসেছেন। মেয়েরা বেরিয়ে এসেছেন এবং তাঁদের ওপর কী নির্যাতন হয়েছে সেই সব কথা তাঁরা ক্যামেরার সামনে বলছেন।

একই সঙ্গে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, সন্দেশখালিতে আজকে আমরা যেটা দেখছি সেটা কিন্তু আজকের ঘটনা নয়। সে-সব ঘটনা ঘটছে বেশ কয়েক বছর ধরে। মানে এই যে একটা ব্যাপার যে, শ্রমজীবী মানুষ, সাধারণ ছোট কৃষক, তাঁদের চাষের জমিগুলো জবরদস্তি নিয়ে, জমিতে জল ঢুকিয়ে সেগুলো ভেড়িতে পরিণত করা হচ্ছে। জমি নেওয়া হল, তার জন্য তাঁদের কিছু পাওনা ছিল লিজের টাকার দরুন। সেগুলো তাঁদের দেওয়া হচ্ছে না সময়মতো। মানুষকে দিয়ে জবরদস্তি কাজ করানো হচ্ছে। কাজের টাকা তাঁরা পাচ্ছেন না। এবং একটা জিনিস, এটা একটা অন্য সংবাদ সূত্রেই আমি পেলাম, একটি কারখানাও ওখানে ছিল। যে কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই কারখানার রপ্তানির জন্য যে চিংড়ি মাছ ওখানকার মৎস্যজীবীরা সরবরাহ করেছিলেন তার টাকা একদল বলশালী, দুষ্কৃতকারী লোক আত্মসাৎ করেছে। এই ঘটনাগুলো তো মানুষের মনে অনেকদিন ধরে রয়েছে। প্রতিরোধের একটা চেষ্টা তো মানুষ করে যাচ্ছেন, কিন্তু করতে পারেননি। যেহেতু সেই সুযোগটা হচ্ছিল না এবং তাঁরা নিজেদের সুরক্ষিত মনে করছিলেন না।

এইখানে আমাকে যেটা সবথেকে বেশি ভাবিয়েছে তা হল এই যে, সরকারের তো একটা সাংবিধানিক দায়িত্ব আছে! এ তো একটা সাধারণ এলাকা নয়। সন্দেশখালিতে জনজাতি বা আদিবাসী এবং তফসিলি জাতি মেশালে ষাট শতাংশের বেশি মানুষ আছেন। এরকম একটা এলাকা যেখানে উপার্জনের জায়গাটা খুব সীমিত, সেখানে স্থানীয় আধিকারিকরা আছেন, তাঁদের মধ্যে বিডিও আছেন, বিএলআরও আছেন, পুলিশ আছে, তাঁরা কী করছিলেন? তাঁরা কি কারও কথাই আগে শোনেননি? তাঁরা যদি না শুনে থাকেন তা হলে কেন শোনেননি? এই জিনিসটা যে আছে, এরকম একটা অঞ্চলে সরকারের একটা যে দায়িত্ব আছে, সেই দায়িত্বের প্রতিফলন কোথায়?

এবং আজকে যে কথাটা উঠছে– আমি দুটো জিনিস নিচ্ছি, মেয়েদের নির্যাতনের প্রসঙ্গে। একটা হচ্ছে যে একদল মানুষ এই নির্যাতনটাকে কেন্দ্র করে ওখানে একটা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। এই ধর্ম বনাম ওই ধর্ম। মেয়েদের ওপর অত্যাচার হয়েছে, যেটা আমার মনে হয় মূল কথা, এবং সেটার একটা প্রতিবাদ করা উচিত। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে যে, একটা জিনিস হয়েছে– এই মেয়েদের নির্যাতন, যেটাকে যৌন নির্যাতন বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আবার পুলিশ আধিকারিকরা বলছেন, মহিলা কমিশন বলছে যে– আমাদের সামনে তো কেউ কিছু বলেনি। তার মানে কি আমরা নিজেদের অভিনন্দিত করব যে, না, এরকম কিছু হয়নি? আমাদের যেটা বুঝতে হবে যে, এমন একটা এলাকা, সুন্দরবনের অন্তর্গত এমন একটা অঞ্চল যেখানে মেয়েরাই কাজ করেন, (পুরুষদের) মাইগ্রেশন খুব বেশি, মেয়েরা সমস্ত শ্রমের কাজ করেন, সেখানে যদি মেয়েদের ডেকে নিয়ে একটা জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হয়, বসিয়ে রাখা হয় জবরদস্তি, রাত্রিবেলা ঘুম থেকে তুলে কাজ করতে বলা হয়, পার্টি অফিসেই হোক বা যেখানেই হোক, এবং তাদের ধমক দেওয়া হয় বা তাদের উপরে বলপ্রয়োগ করার চেষ্টা করা হয়, সেটা যথেষ্ট খারাপ, সেটাই তো একটা অপরাধ। তো আমরা কি সার্বিক পরিস্থিতিটা দেখে এটা ভাবব না যে এই ঘটনাগুলোকে আমাদের মন থেকে মুছে দিলেই যথেষ্ট হতে পারে না? আমাদের তো পরবর্তী একটা দায়িত্বও রয়ে যায়। এই জিনিসটা যে ঘটছে সন্দেশখালিতে, আমি একটু পরে আরও বলব যে অর্থনীতির ক্ষেত্রে মানে বাংলার অর্থনীতির ক্ষেত্রে, এইসব ঘটনাগুলোর তাৎপর্য কী, আমার মনে হয় কুমার তুমি যদি একটু বলো। 

কুমার রাণা: আমি প্রথমেই বলি, যেটা অনিতাদি বলছিলেন, জমিতে জল ঢুকিয়ে দিয়ে ভেড়িতে পরিণত করা, সেই কথাগুলো শুনতে শুনতে একটা ব্যাপার মনে হল। কয়েক দিন আগে একটা রিপোর্ট নতুন করে দেখছিলাম। লিভিং ওয়ার্ল্ড অব দি আদিবাসীজ অব ওয়েস্ট বেঙ্গল বলে একটি রিপোর্ট, প্রতীচী ট্রাস্ট ও এশিয়াটিক সোসাইটির উদ্যোগে যা করা হয়েছিল ২০২০ সালে। তাতে দেখছি সন্দেশখালি অঞ্চলটাতে পঁচিশ শতাংশ আদিবাসী। তাই এখান থেকে নমুনা নেওয়া হয়েছিল। সেখানকার লোকেরা বলছেন, এই রিপোর্টে লেখা আছে, আমি তিনটে জিনিসের উল্লেখ করি। একটা হল, একজন বলছেন যে– আমাদের জমিগুলো নিয়ে ভেড়িতে বদল করে দেওয়া হল। খুব যে বিরাট পরিমাণ জমি তা হয়তো নয়। কিন্তু তাঁর তো সেটুকুই সম্বল। সেইটা নিয়ে ভেড়িতে বদলে দেওয়া হল। দ্বিতীয় একজন বলছেন, যে চোদ্দ দিন কাজ করেছি, সাতশো টাকা ধরিয়ে দিয়ে বাকি টাকা আর দেওয়া হয়নি। তৃতীয় জন বলছেন আমাকে একটা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা পাওয়ার জন্য দশ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এখন সন্দেশখালির লোকরাই এটা বলছেন ২০১৮-১৯ সালে। এই রিপোর্টটা বেরিয়েছিল ২০২০-তে।

এখন, পশ্চিমবাংলার আপনি যে প্রান্তে যাবেন, সর্বত্র এই ধরনের একটা অর্থনীতি, মানে একটা রাজনৈতিক অর্থনীতি তৈরি হয়েছে। যেখানে পার্টি এবং ঠিকাদারি, ব্যবসা, সব দিক থেকে সমস্ত আক্রমণের অভিমুখ হচ্ছে গরিব মানুষ। এখানে শুধু ‘মানুষ’ বললে একটু ভুল হয়। মানে আমাদের একটা পার্থক্য করতে হবে। সন্দেশখালিতে যে নারীরা অত্যাচারিত হয়েছেন তাঁরা প্রথমত খেটে খাওয়া মহিলা। দ্বিতীয় যে জিনিসটা বলব, পশ্চিমবাংলায় যা আর্থিক অবস্থা তাতে কিছু লোকের হাতে এক ধরনের উদ্বৃত্ত আছে, কিন্তু উদ্বৃত্তটাকে সে কোথাও নিয়োগ করবে, পুঁজি নিবেশ করবে তার কোনও জায়গা নেই। ফলে সেটা পলিটিকসে করে। এটা আমরা বেশ কিছু দিন ধরে দেখে আসছি এবং সেইখান থেকে নেতা গড়ার একটা কারখানা পশ্চিমবাংলার রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে। টাকা, নেতা এবং গরিব মানুষের ওপর অত্যাচার– এই একটা লাইন তৈরি হয়েছে।

তৃতীয় যেটা হয়েছে, গরিব মানুষের জন্য এখানে শিক্ষার অবস্থা ভীষণ খারাপ। পশ্চিমবাংলায় শিক্ষা নিয়ে যে দুরবস্থা, এটাকে কতটা খারাপ বলা যায় আমি জানি না। ভয়ানক খারাপ। এই সন্দেশখালিতেই রিপোর্ট দেখছিলাম, আশি শতাংশ বাচ্চা টাকা দিয়ে প্রাইভেট টিউশন পড়ে, তারা তো গরিব বাচ্চা, তাদের বাড়িতেও, দিনে দুশো টাকা রোজগার যাঁদের তাঁদেরও বাচ্চাদের প্রাইভেট টিউশন দিতে হয়, না হলে তাদের লেখাপড়া হবে না। তারপরেও তাদের যে লেখাপড়া হচ্ছে তা নয়। ছয় শতাংশ, সাত শতাংশ ছেলেমেয়ে হায়ার এডুকেশনে যেতে পারছে। এবং সেখানে গিয়েও অনেক জায়গাতে আমরা খবর পাচ্ছি যে নিজের নামটাও লিখতে পারছে না। এর সঙ্গে অর্থনীতিরও একটা যোগ আছে। এটাকে উন্নত না করে যদি ভাবা হয়— হঠাৎ করে আগে অর্থনীতি হয়ে যাবে তারপরে এগুলো করব– এটা হয় না। উল্টোটা হয়। যেটা সারা দেশের অভিজ্ঞতা, সারা বিশ্বের অভিজ্ঞতা, কেরল-তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা।

এইগুলোর দিকে নজর যেহেতু দেওয়া হয়নি, তার ফলে যেটা হয়েছে– আমাদের শ্রমশক্তিকে বাইরে যেতে হচ্ছে। আমাদের শ্রমশক্তি আমরা হারাচ্ছি। আমাদের শ্রমশক্তি কেরল যাচ্ছে, সেটা খারাপ জিনিস নয়। কেউ কেরলে গেল, কাজ পেল, সেটা খারাপ জিনিস নয়। কিন্তু যাওয়ার ফলে যেটা হচ্ছে, এখানে স্থানীয় ক্ষেত্রে– বামপন্থী লব্জতে বললে– যে ওয়ার্কিং ক্লাসটা থেকে গেল সেটা আমাদের লক্ষ্য করতে হবে। স্থানীয় ক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলে মেয়েরাই থেকে গেলেন ওয়ার্কিং ক্লাস হিসেবে। সে কারণে যেখানে যতটুকু প্রতিরোধ হচ্ছে সেটা দুর্নীতির বিরুদ্ধে হোক, সেটা যৌন শোষণের বিরুদ্ধে হোক, এগুলো কিন্তু উঠে আসছে মেয়েদের মধ্যে দিয়ে। এটা খুব তাৎপর্যপূর্ণ একটা ঘটনা। আমার ধারণা যাঁরা গণতান্ত্রিক রাজনীতির কথা বলেন তাঁদের এটা লক্ষ্য করা উচিত এবং এই মেয়েদের ওপর অত্যাচারটা, এটা তো আমরা জানিই, এটা তো খুব পুরনো দিনের কথা যে, এই অত্যাচারটা শুধু যৌন কামনার ব্যাপার নয়, এটা হচ্ছে ক্ষমতার দখলদারি। আমার দখলে থাকবে। সুতরাং এই যে টেনশন বাড়ছে এটা আমার কাছে একটা তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

স্বাস্থ্যের দিক দিয়ে যদি আমরা দেখি– এখন যদি বলা হয় পশ্চিমবাংলায় প্রায় গোটা স্বাস্থ্যব্যবস্থাটা বাজারের হাতে, অর্থাৎ প্রাইভেট প্রপার্টি বা মালিকী পুঁজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, তা হলে ভুল বলা হবে না। বলা হচ্ছে, পাঁচ লক্ষ টাকা বিমা করে দিলাম। এই বিমার মতো ছেলেভোলানো জিনিস আর কিছু হতে পারে না। একটা লোকের পাঁচ লক্ষ টাকার বিমা করে দেওয়া হল। তার কোনও অসুখে যদি পাঁচ লক্ষ টাকা খরচ হয় সে কিন্তু তা পাবে না। সেই ডিটেলগুলোতে আমি যাচ্ছি না। কিন্তু বিমাটা আদৌ কোনও সমাধান নয়। এমনকি যাঁরা বাজার অর্থনীতির কথা বলে এসেছেন, যাঁরা বামপন্থী অর্থনীতির কথা মুখেও আনেন না, পল স্যামুয়েলসন থেকে কেনেথ অ্যারো, অনেকেই কিন্তু পরিষ্কার বলেছেন যে স্বাস্থ্যকে বাজারের জাতে তুলে দেওয়া চলবে না। কিন্তু আমাদের এখানে একেবারে ভারত সরকার যেটা করছে এখানেও সেই একই জিনিস হচ্ছে।

আর যে জিনিসটা আমি বলছিলাম, যেহেতু কিছু উদ্বৃত্ত ঘটছে, গ্রামীণ উদ্বৃত্ত ঘটছে এবং সেইটা নিবেশ করার জায়গা নেই, সেটা পলিটিকসে নিবিষ্ট হচ্ছে। এখানে সেই নিবেশটা করতে পারছে যার মাসল পাওয়ার আছে বা অন্যান্য সোর্স অব কনট্যাক্ট আছে, যোগাযোগ আছে, সে। এর ফলে একটা নতুন মধ্য শ্রেণি তৈরি হয়েছে, কি বর্ধমান, কি হুগলি, কি সন্দেশখালিতে। এই মধ্য শ্রেণিটা কোনও জাতি ধর্মের প্রশ্ন নয়। ভারতীয় জনতা পার্টি এটাকে একেবারে ধর্মের রাজনীতিতে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। কিন্তু এর সঙ্গে ধর্মের কোনও যোগ নেই। কোনও একজনের নাম মোল্লা হতে পারে, মিত্র হতে পারে, মন্ডল হতে পারে, কোনও ঘোষ হতে পারে, কিন্তু এইটা একেবারে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। কিন্তু এই মধ্যমবর্গীয় যে রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গে আমদানি হয়েছে এটা গত দশ-পনেরো বছর, কুড়ি বছর ধরে তার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং গত দশ বছরে এটা খুবই দৃশ্যমান। এই মধ্যমবর্গের সঙ্গে নৈতিকতার কোনও যোগাযোগ নেই। এরা নৈতিকতাটাকে বাড়তি বোঝা বলে মনে করে।

এখানে যে জিনিসটা করতে হবে, আমার মনে হচ্ছে রাজনৈতিক দিক থেকে যেটা খুবই করা দরকার– একটা তো ভালো কাজ হচ্ছে কিছু প্রতিবাদ হচ্ছে– কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এই জিনিসটাকে লক্ষ্য করা দরকার সামগ্রিকভাবে, যে যেগুলো মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনের ব্যাপার– শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ইত্যাদি, সেগুলো নিয়ে সামগ্রিকভাবে আন্দোলন সংগঠিত করা। দুই, বিশেষ করে মেয়েদের ওয়ার্কিং ক্লাস হিসেবে চিহ্নিত করা এবং তাঁদের জন্য রাজনৈতিক কর্মসূচি তৈরি করা। তাঁদের দাবিটা কতখানি তীব্র হলে তবে কলকাতা শহরে চার হাজার-পাঁচ হাজার মহিলা মিড-ডে মিল কর্মীরা এসে মিছিল করতে পারেন, যাঁদের মিছিল করার, কলকাতায় আসার কোনও ক্ষমতা নেই, তাও তাঁরা টেনেহিঁচড়ে এখানে আসছেন। ক্ষমতা নেই, কারণ তাঁদের হাতে পয়সা নেই। কলকাতায় আসতে তো পয়সা লাগে। এই ঘটনাটা এটা দেখিয়ে দেয় যে একটা নতুন ওয়ার্কিং ক্লাস তৈরি হচ্ছে যেটা আমাদের লক্ষ্য করতে হবে। তৃতীয়, রাজনৈতিক নৈতিকতা। যখন অনৈতিকতাটা প্রচণ্ড প্রবল, এবং উভয়পক্ষেই– এখানে যাঁরা সংসদীয় শাসক এবং প্রধান সংসদীয় বিরোধী, প্রধানত তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি– এই দুটো পার্টির সঙ্গে নৈতিকতার যেহেতু কোনও সম্পর্ক নেই, সেখানে এগুলোর বিরোধিতা করার জন্য একমাত্র অস্ত্র হতে পারে রাজনৈতিক নৈতিকতা। এই তিনটে জিনিস আমি বলতে পারি। 

অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়: একটা কথা মনে হচ্ছিল শুনতে শুনতে, বা সাধারণভাবেই মনে হয়, সেটা ভায়োলেন্সের প্রশ্ন, নির্যাতনের প্রশ্ন। প্রথমত, যৌন নির্যাতনের প্রচুর অভিযোগ রয়েছে, এবং সেই অভিযোগ নিয়ে আবার নানারকম প্রতি-অভিযোগ আছে যে– এর মধ্যে অনেকটা বানানো, ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে যে, একটি মেয়েকে বা কিছু মেয়েকে রাত্রিবেলায় যদি কোনও কাজ জোর করে করতে বাধ্য করা হয়– দিনের বেলাতেও যদি কোনও কাজ জোর করে করতে বাধ্য করা হয়– সেটাই তো নির্যাতন। সেইখানে তো এই পাওয়ার, ক্ষমতা; যে পাওয়ারের কথা কুমার বলছেন সেই ক্ষমতার কাঠামোটা তো নিজেই আসলে ভায়োলেন্ট। যখন বাইরে চোখের সামনে একটা হিংস্র কিছু ঘটে তখন আমরা দেখি, তা নিয়ে হইচই করি। কিন্তু এই গোটা জিনিসটাই তো একটা ভায়োলেন্ট স্ট্রাকচার, হিংস্র কাঠামোর মধ্যে হয়েছে। এবং মেয়েদের সব থেকে বেশি প্রতিদিনের যন্ত্রণা, নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে।

এবার, এই চাষের জমিতে জল ঢুকিয়ে ভেড়ি করে দেওয়ার কথা যদি ভাবি, জোর করে বা এমনকি প্রলোভন দেখিয়েও যদি জল ঢুকিয়ে ভেড়ি করার ব্যবস্থা করা হয়, তা হলে ওটার মধ্যেও তো একটা ভয়ংকর ভায়োলেন্স রয়েছে। লক্ষ্য করার বিষয় হল, এই ভায়োলেন্সটা কিন্তু একেবারে ‘রুল অব ক্যাপিটাল’ বা পুঁজির শাসন-এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এই যে ভেড়িগুলো হচ্ছে এগুলো তো ছোটখাটো একটা অর্থনীতির ব্যাপার নয়, মানে ওখানে মাছের চাষ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করব, শহরে পাঠাব, শুধু তার ব্যাপার নয়। যাকে ‘সার্কিট অব গ্লোবাল ক্যাপিটাল’ বা বিশ্বজোড়া পুঁজির চক্র বলে, এটা একেবারে তার অঙ্গ। ফলে, এই গোটা ভায়োলেন্সটা যে উদ্দেশ্য সাধন করছে সেটা হচ্ছে ওই গ্লোবাল ক্যাপিটাল, অতিকায় পুঁজির লক্ষ্য। যে পাওয়ার স্ট্রাকচারের কথা কুমার বলছিলেন তাকে এখন এই বিশ্বপুঁজি নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। সে ওটার মধ্যে দিয়ে এই কাঠামোটাকে লালন করে যাচ্ছে। তার ফলে এইখানে নৈতিকতার কোনও প্রশ্নের, কোনও বিচারের আর জায়গাই থাকছে না। কারণ কী করে আমি মুনাফাটাকে তৈরি করতে পারব, কী করে আমি সারপ্লাসটা বা উদ্বৃত্তটাকে বাড়াব এবং সেই উদ্বৃত্তটা আমি যথাসম্ভব বেশি তুলে নিতে পারব– এই পুরো অর্থনীতিটা আসলে আমার কাছে একটা ভায়োলেন্ট, হিংস্র অর্থনীতি। এটার মধ্যে দুটো দিক আছে, যাকে পুরনো, এবং খুব গুরুত্বপূর্ণ, মার্ক্সীয় পরিভাষায় আমরা প্রিমিটিভ বা অরিজিনাল অ্যাকিউমুলেশান, আদিম সঞ্চয় বলতে পারি, এটা তার গল্প; তার সঙ্গে সঙ্গে মেয়েদের ক্ষেত্রে এবং সাধারণভাবে পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ শ্রমজীবী মানুষের ক্ষেত্রে যে এক্সপ্লয়টেশনটা ঘটে সেটা আসলে সুপার-এক্সপ্লয়টেশন। এটাকে শুধু শোষণ বললে হবে না, এটা শ্রমজীবীদের বেঁচে থাকার ন্যূনতম রসদটুকুও না দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে উদ্বৃত্তটা দখল করে নেওয়ার ব্যবস্থা।

এখান থেকে দ্বিতীয় একটা কথাতে আসা দরকার বলে মনে হয়। আমরা যে শাসকদের দেখছি... পুরনো একটা গানের কথায় বললে, শাসক যে রঙেরই হোক ভয়ানক, জানি আমরা সেটা, আগেও তা দেখেছি, নতুন কিছু নয়... কিন্তু এখন আমরা যে শাসকদের দেখছি, কেন্দ্রে এবং রাজ্যে উভয়তই, সেই শাসকদের কাছ থেকে এই রুল অব ক্যাপিটাল-এর ব্যবস্থাটার বিরুদ্ধে কাজ করার কোনও রকম ভরসা করি না। করতে পারি না। কারণ তাঁরা তো একেবারে আদর্শগত ভাবে পুঁজির সাম্রাজ্যটাকেই ক্রমাগত বিস্তার করার দায়িত্ব নিয়েছেন, নানাভাবে তা করে চলেছেন। সুতরাং এইখানেই সামাজিক রাজনৈতিক সংগঠনের, বিশেষ করে বামপন্থী দল, বামপন্থী সংগঠনের একটা মস্ত বড় দায়িত্ব আছে। এখানে বলা দরকার, একই সঙ্গে দুটো জিনিসই আমরা দেখতে পাচ্ছি। একটা হল, শুধু সন্দেশখালির প্রশ্নে নয় সাধারণভাবে পশ্চিমবঙ্গে সমস্ত সংকটের ক্ষেত্রে, সমস্যার ক্ষেত্রে, হিংস্রতার ক্ষেত্রেই বামপন্থী প্রতিরোধ আমরা দেখছি, এমন নয় যে দেখছি না, যতটা দেখার কথা ছিল তার থেকে অনেক কম দেখছি, কিন্তু দেখছি... 

কুমার রাণা: দেখছি বলেই তো আমরা এসেছি...

অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়: দেখছি বলেই আমরা এসেছি, একদম। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই প্রতিরোধটাকে সম্ভবত আরও অনেকগুলো স্তরে উত্তীর্ণ করা দরকার। কারণ এখনও অব্দি যেটা ঘটছে সেটা হল, কোথাও অন্যায় হলে, দুর্নীতি হলে, কোথাও ক্ষমতার হিংসা একটা চণ্ডমূর্তি ধারণ করলে সেখানে তখন একটা প্রতিরোধ হচ্ছে, কিছুটা প্রতিবাদ হচ্ছে, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি... 

কুমার রাণা: আমার মনে হয় যে কোনও একটা ক্রিয়া ঘটল, তার প্রতিক্রিয়াতে কিছু হচ্ছে। কিন্তু এমন কিছু আমাদের করতে হবে– এবং এটা শুধু রাজনৈতিক দল নয় আমাদেরও এটা করতে হবে– যাতে শাসককে তার প্রতিক্রিয়ায় কিছু করতে হয়। উল্টোটা। অর্থাৎ কর্মসূচিটা যেন শাসকরা ঠিক না করে দেয়। এইটার দিকে কী করে আমরা খেয়াল রাখব আমি জানি না। এটা খুব সহজ কাজ নয়।

অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়: খুব বড় কথা এটা। আপনি যে মেয়েদের আন্দোলনগুলির কথা বলছিলেন, যেমন মিড-ডে মিল কর্মীদের আন্দোলন– সত্যিই গত দু’বছর ধরে তো দেখা গেল, যে কীভাবে একটা আন্দোলন তৈরি করতে হয়। একেবারে নীচের তলা থেকে তা তৈরি হয়ে উঠল। এবং তাতে যে কাজ হয় না তাও তো এখন আর বলতে পারব না। কাজ তো হল! ওই যে মিড-ডে কর্মীদের প্রাপ্য মাসে পাঁচশো টাকাকে হাজার টাকায় বাড়ানো হল, এটা এমনিতে মনে হয় সামান্য, এবং বস্তুতপক্ষে খুব সামান্যই– এখনও, টাকাটা বাড়ানোর পরেও, দিনে যিনি দশ টাকা পেতেন তিনি দিনে কুড়ি টাকা পাবেন বড়জোর। ওটা কি কোনও টাকা? কিছুই নয়। কিন্তু যদি এই একটা আন্দোলনের চাপ না থাকত, তা হলে এই পাঁচশো থেকে এক হাজারটাও হত না। তার মানে আন্দোলনের প্রয়োজন। এবং আন্দোলন নীচের তলা থেকে গড়ে তোলা, এটার একটা বিরাট দরকার আছে। এটাও লক্ষ্য করলাম যে, বাজেটে পাঁচশো থেকে হাজার হওয়ার পরে-পরেই মিড-ডে মিল কর্মীরাও বলেছেন– আমাদের আন্দোলন চলতে থাকবে, আমরা আরও চাপ দেব। একই সঙ্গে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরাও কিন্তু নতুন করে দাবি তুলেছেন... 

কুমার রাণা: মিড-ডে মিল কর্মীরা খুব তাৎপর্যপূর্ণ একটা কথা বলেছেন– আমাদের না-হয় পাঁচশো টাকা বাড়ল, কিন্তু বাচ্চাদের খাবারের জন্য যে বাজেট বরাদ্দ সেইটা না বাড়ালে আমরা কী করে তাদের মুখে খাবার তুলে দেব? 

অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়: এখানে বস্তুতপক্ষে মেয়েদের ভূমিকাটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। 

কুমার রাণা: এবং এটা শিক্ষণীয়। 

অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়: খুব শিক্ষণীয়।

কুমার রাণা: এই নৈতিকতার কথাটা বার বার বলছি এই কারণেই। 

অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়: রাজনৈতিক নৈতিকতার জায়গাটা থেকে দেখতে গেলেই বোঝা যায় যে আমাদের সকলের, বিশেষ করে বামপন্থী সংগঠনের বা দলের, এই জিনিসটা থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। যে, এটা শুধু একটা বিশেষ দাবি নিয়ে আন্দোলনের প্রশ্ন নয়। শুধু আমার টাকাটা বাড়ালে হবে না, বাচ্চাদের মিড-ডে মিলের টাকা বাড়াতে হবে। শিক্ষাখাতে খরচ বাড়াতে হবে। যেটা বামপন্থীরা বলছেন, বলছেন না তা একেবারেই বলব না। কিন্তু এটা আরও জোর দিয়ে বলা দরকার। 

*তিনজনের কথোপকথনের পরিমার্জিত রূপ
অনুলিখনঃ শিঞ্জিনী সরকার 
শেষ পর্ব আগামীকাল

ভিডিওটি দেখুন

 
 



প্রকাশের তারিখ: ২২-ফেব্রুয়ারি-২০২৪

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org