চীন বিপ্লবের পঁচাত্তর বছর

টিম মার্কসবাদী পথ
চীনের কমিউনিস্ট পার্টি নিজেই বলেছে, ‘চীন বর্তমানে সমাজতন্ত্রের প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, এবং আরও বহুদিন তাই থাকবে। অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে পশ্চাৎপদ চীনের মতো একটি দেশে সমাজতান্ত্রিক আধুনিকীকরণ– এই ঐতিহাসিক পর্বকে কিছুতেই এড়িয়ে যেতে পারে না। এই পরিস্থিতি চলবে আরও একশ বছরের ওপর। সুতরাং সমাজতান্ত্রিক নির্মাণের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষ পরিস্থিতি মাথায় রেখেই অগ্রসর হতে হবে এবং চীনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সমাজতন্ত্রেরই পথ নিতে হবে।’

১ অক্টোবর, ১৯৪৯, পঁচাত্তর বছর আগে, গণ সাধারণতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠা। মাও জে দঙয়ের সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা: ‘উঠে দাঁড়িয়েছে চীনের জনগণ’! তারপর সাড়ে সাতদশক ধরে এখনও তার অনুরণন। 

চীনের বিপ্লব এক যুগান্তকারী ঘটনা। সেসময় চীন ছিল বিশ্বের বৃহত্তম দেশ। জনসংখ্যা সাড়ে ৪৭ কোটি। এশিয়ার এই দাপুটে দেশটি আঠারো শতক পর্যন্তও ছিল বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি। উনিশ শতকে এসে বাঁধা পড়ে পশ্চিমের শক্তি ও জাপানের দাসত্বের শৃঙ্খলে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষে যুদ্ধবাজ সামন্তপ্রভুদের সঙ্গে জোট বেঁধে ব্রিটেন, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপান তার ভূখণ্ডকে পরিণত করে ক্ষমতার ছিটমহলে। চীন জড়িয়ে পড়ে সামন্ততান্ত্রিক ও আধা-ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের নাগপাশে। ১৯২১, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠার পর থেকে পার্টি হয়ে ওঠে সামন্তবাদ ও উপনিবেশবাদ বিরোধী শক্তির অগ্রদূত। যুদ্ধবাজ সামন্তপ্রভু এবং ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে চীনের জনগণের মুক্তির এই কঠিন সংগ্রাম চলে দীর্ঘ তিন দশক ধরে। দুর্নীতিগ্রস্ত দক্ষিণপন্থী কুয়োমিনতাঙকে হটিয়ে জাপ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জাতীয় প্রতিরোধ সংগ্রামের নেতৃত্বে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি। আর জাপানিদের আত্মসমর্পণের পর চীনের বিপ্লবের চূড়ান্ত লড়াই ছিল কুয়োমিনতাঙয়ের সেনাবাহিনীর সঙ্গে গণমুক্তি ফৌজের গৃহযুদ্ধে। 

সোভিয়েত বিপ্লব থেকে প্রেরণা নিয়েই তিন দশক পর চীনের বিপ্লব। মাও বলেছিলেন, ‘অক্টোবর বিপ্লবের কামানের গোলাবর্ষণের মধ্যে দিয়েই আমরা শিখলাম মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে।’ কিন্তু নিজের দেশের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে সেই শিক্ষাকে সৃজনশীলতার সঙ্গে প্রয়োগ করায় মাও ও তাঁর পার্টি রেখেছে বিরাট দক্ষতার পরিচয়।

গরিব, পিছিয়ে পড়া দেশ থেকে চীন এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঠিক পরেই। বিশ্ব অর্থনৈতিক উৎপাদনে চীনের অবদান ৩০ শতাংশ। ১৯৫১, চীনের জিডিপি ছিল মাত্র ৯৬০ কোটি ডলার। পঁচাত্তর বছরে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি ডলার। জাতীয় অর্থনৈতিক উৎপাদন বেড়েছে ২২৩-গুণ। 

বিশ্বের অন্যতম দুর্বল অর্থনীতি থেকে অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতি। ছয়ের দশকেও চীন মাথাপিছু জিডিপি-তে শুধু উচ্চ-আয়ের দেশগুলি থেকেই পিছিয়ে ছিল না, এমনকি পিছিয়ে ছিল কাম্বোডিয়া, কেনিয়া, সিয়েরা লিওনের মতো দেশের থেকে। ১৯৫২-তে মাথাপিছু জিডিপি ছিল মাত্র ১১৯ ইউয়ান (চীনের নিজস্ব মুদ্রা)। গতবছর তা বেড়ে হয়েছে হয়েছে ৮৯,০০০ ইউয়ানের বেশি (গ্লোবাল টাইমস, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪)। এখন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানুফ্যাকচারার দেশটির নাম চীন। পণ্যসামগ্রীর বৃহত্তম ব্যাপারী। সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার। ১৫০টির বেশি দেশের মুখ্য বাণিজ্যিক অংশীদার। 

ক’দিন আগেও পুঁজিবাদ চীনকে দেখত সস্তা শ্রমের প্রধান উৎস, বিদেশী বিনিয়োগের ‘স্বর্গ’ এবং ধীর উৎপাদনের ‘বিশ্বের কারখানা’ হিসেবে। এখন সেই দেশেই শিল্প ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অগ্রগতি রীতিমতো তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো। নানা ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই ছাপিয়ে গিয়েছে অধিকাংশ উন্নত দেশকে।

বিপ্লবোত্তর চীনের উন্নয়ন রীতিমতো নজিরবিহীন, বিস্ময়কর! কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে মাত্র কয়েকদশকে চীন যে রাস্তা অতিক্রম করেছে, উন্নত দেশগুলির সেই জায়গায় পৌছতে সময় লেগেছিল কয়েকশত বছর। বিশ্ব অর্থনীতিতে চীন এখন স্থিতিশীলতার মূল শক্তি। বিশ্বের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।  

একথা ঠিক, হুরুন রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর হিসেবে চীনে বিলিওনেয়ারের সংখ্যা কবেই ছাপিয়ে গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে। আবার একথাও ঠিক, এই সময়ে চীন ৮০ কোটি মানুষকে তুলে এনেছে দারিদ্রের অতল গহ্বর থেকে (বিশ্বব্যাঙ্কের প্রতিবেদন, ১ এপ্রিল, ২০২২)। আশি কোটি মানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার প্রায় আড়াইগুণ! যার নজির আধুনিক ইতিহাসে আর নেই। রাষ্ট্রসঙ্ঘের দরাজ সার্টিফিকেট: বিশ্ব দারিদ্র্য দূরীকরণের ৭০ শতাংশের বেশি কমিয়েছে একা চীন। দারিদ্র্য দূরীকরণকে চীন নিয়েছে স্ট্র্যাটেজিক কর্তব্য হিসেবে। নিয়েছে নানা পথ। পরিকাঠামো থেকে আর্থিক উন্নয়ন, পর্যটন বিকাশ থেকে বৈদ্যুতিন বাণিজ্য। শেষ পাঁচবছর ২০১৩-১৮, দারিদ্র্য সীমার উপরে তোলা হয়েছে ৮ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষকে। মানে প্রতি মিনিটে ৩০ জন। গ্রামীন এলাকার দারিদ্র্যের হার ১৯৭৮ সালে ছিল ৯৭.৫ শতাংশ। ২০১৮-তে কমে হয়েছে ১.৭ শতাংশ। ২০২০ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্যের পুরোপুরি অবসান।

একথা ঠিক, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিলিওনেয়ারের বাস এমন শহরের তালিকায় চার-পাঁচ ও ছ’নম্বরে যথাক্রমে বেজিঙ, সাঙহাই এবং শেনঝেন। আবার একথাও ঠিক, চরম দারিদ্র্য দূরীকরণে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি এই সময়ে গ্রামে পাঠিয়েছে তার সবচেয়ে যোগ্য, দক্ষ ৩০ লক্ষ পার্টি ক্যাডারকে। সরকারি, অথবা সরকারি মালিকানাধীন সংস্থায় নিজেদের কাজের জায়গা থেকে সরিয়ে তাঁদের পাঠানো হয়েছে এই অভিযানে। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রপতি শি জিনপিঙ যখন চরম দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে ‘সম্পূর্ণ বিজয়ের’ কথা ঘোষণা করছেন, তখন তাঁদের মধ্যে জীবন দিয়েছেন ১,৮০০ জন (সিনহুয়া, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১)। চীনই প্রথম দেশ, যারা পূরণ করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সহস্রাব্দ উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা। 

কৃষি থেকে চীন এখন নিজেকে সরিয়ে এনেছে শিল্পায়নে, পরিষেবা ক্ষেত্রের বিকাশে। ১৯৫২, জিডিপি-তে কৃষির অংশ ছিল ৮৩.৫ শতাংশ। এখন ২০১৮-তে কমে হয়েছে ২৬.১ শতাংশ। একইসময়ে পরিষেবা ক্ষেত্রের অংশ ৯.১ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৬.৩ শতাংশ। শিল্পের অংশ ৭.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৭.৬ শতাংশ। সাড়ে সাত দশকে চীনে নগরায়নের হার (মোট জনসংখ্যার তুলনায় শহরে স্থায়ী আবাসিকের হার) ৫৫.৫২ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৬.১৬ শতাংশ। ১৯৪৯ সালে শহরের সংখ্যা ছিল সাকুল্যে ১২৯টি। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৬৯৪ (সিনহুয়া, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪)। 

বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগের জন্য দেশকে উন্মুক্ত করার সময়, সংগঠিত ও কেন্দ্রীয় পরিকল্পনায় দৃষ্টি থেকেছে তাবৎ জনসংখ্যার অর্থনৈতিক মান বৃদ্ধি, বিশেষত গ্রামাঞ্চলে এবং সবচেয়ে অনুন্নত এলাকায়। যদিও, সবকিছুর পরেও বেড়েছে ধনী-দরিদ্রের ফারাক। গ্রাম-শহরের বৈষম্য। 

১৯৪৮, নিরক্ষরতার হার যেখানে ছিল ৮০ শতাংশের বেশি, এখন সেই দেশে নিরক্ষর মানুষ প্রায় নেই বললেই চলে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান মিলিয়ে বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে যে স্নাতক তৈরি করে, একা চীন তৈরি তার চেয়ে বেশি। উচ্চশিক্ষা-সম্পন্ন শ্রমশক্তির হার এখন ২৫ শতাংশের বেশি। বেকারত্বের হার কমে ৪.৯ শতাংশ। 

১৯৪৯, চীনে গড়আয়ু ছিল মাত্র ৩৫। এখন বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানাচ্ছে, এখন গড়আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭৮.৬ (সিনহুয়া, ২৯, আগস্ট)। ‘এখন ৬৫-বছরের বেশি বয়স্ক মানুষ প্রতিবছর পান বিনামূল্যে মেডিক্যাল চেকআপ।’

সোভিয়েত বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে নানারকম পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছে চীন। সব কি ঠিক হচ্ছে? না। কোনও ভুলত্রুটি কি নেই? আছে। তবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির উপলব্ধির মধ্যেই তা আছে। ভুলত্রুটির ক্ষেত্রগুলিকে তারা স্বীকার করছে, সংশোধনের লক্ষ্যে নিচ্ছে পদক্ষেপ। সোভিয়েতে কেন্দ্রীভূত অর্থনীতির যে ধাঁচা ছিল, তার বদলে তারা বিকেন্দ্রীভূত অর্থনীতি নিয়ে এগোচ্ছে। 

চীনের কমিউনিস্ট পার্টি নিজেই বলেছে, ‘চীন বর্তমানে সমাজতন্ত্রের প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, এবং আরও বহুদিন তাই থাকবে। অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে পশ্চাৎপদ চীনের মতো একটি দেশে সমাজতান্ত্রিক আধুনিকীকরণ– এই ঐতিহাসিক পর্বকে কিছুতেই এড়িয়ে যেতে পারে না। এই পরিস্থিতি চলবে আরও একশ বছরের ওপর। সুতরাং সমাজতান্ত্রিক নির্মাণের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষ পরিস্থিতি মাথায় রেখেই অগ্রসর হতে হবে এবং চীনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সমাজতন্ত্রেরই পথ নিতে হবে।’

চীন যেহেতু বিপ্লবের সময় একটি পশ্চাৎপদ আধা-সামন্ততান্ত্রিক আধা-ঔপনিবেশিক দেশ ছিল, সেকারণে তার অর্থনীতির সমাজতান্ত্রিক রূপান্তর খুবই প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করতে হয়েছিল। এই প্রক্রিয়াকে ওরা বলে, ‘চীনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সমাজতন্ত্র নির্মাণ’। 

‘সমাজতন্ত্রের প্রাথমিক পর্যায়ে আছে’ বলে উৎপাদনের উপকরণের রাষ্ট্রীয় মালিকানার সঙ্গে তারা যৌথ মালিকানা, সমবায় এবং ব্যক্তিগত মালিকানার কথাও বলছে। অবশ্যই অর্থনীতির মূল নিয়ন্ত্রণটা থাকবে রাষ্ট্রের হাতেই। যদিও, বাজারের যে একটা ভূমিকা আছে, তা তারা স্বীকার করে নিয়েছে। এই কাঠামোকে তারা বলছে ‘সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতি’। 

কিছু ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ রাখা হলেও, মানুষের চাহিদা পূরণের জন্য ভোগ্যপণ্যের প্রায় ৭০-৮০শতাংশ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বাজারের হাতে। তবে রেল, তেল, ইস্পাত, টেলি যোগাযোগ, ব্যাঙ্ক, বিদ্যুৎ, বন্দর, খনি, পরিবহন প্রভৃতি মৌলিক ক্ষেত্রগুলি সহ শিল্প মালিকানার ৭০ শতাংশ এখনও রাষ্ট্রীয় মালিকানাতেই আছে। ব্যক্তি মালিকানায় উদ্যোগ তৈরি হচ্ছে। বিদেশী পুঁজিকেও ব্যবসা করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার দাপট এখনও বেশি থাকলেও, অর্থনীতিতে বাড়ছে বেসরকারি সংস্থার প্রাধান্য।

স্বাভাবিক প্রশ্ন উঠেছে, এর ভবিষ্যৎ কী? 

বিদেশী পুঁজি, ব্যক্তি মালিকানার সঙ্গে পুঁজিবাদের খারাপ জিনিসও তো সমাজে ঢুকছে। ব্যক্তি পুঁজি বাড়ছে। কিছু মানুষ ধনী হচ্ছে। মানুষের মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে। বাড়ছে বৈষম্য। বেকারী, দুর্নীতি। বাড়ছে গ্রাম-শহরে আয়ের ব্যবধান। বাড়ছে মজুরির ব্যবধান। সমাজতন্ত্রে কমার কথা। পুঁজিপতিদের পার্টি সদস্য হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কিছু ব্যবসায়ী, উদ্যোগপতি পার্টিতে এসেছে। এর সমাধান কী?

চীনের কমিউনিস্ট পার্টি, চীনের সরকার বলেছে, আধুনিক প্রযুক্তির স্বার্থেই ডাকা হয়েছে বিদেশী পুঁজিকে। যা কিছু সংস্কার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে, তা সমাজতন্ত্রকে শক্তিশালী করার স্বার্থেই। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার নিরিখে চীন এখনও সমাজতন্ত্রের ‘প্রাথমিক পর্যায়ে’ আছে বলে মনে করে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যে সাফল্য অর্জন করেছে, তাতে তারা প্রবেশ করেছে একটি ‘নতুন যুগে’।

এই পরিস্থিতিতে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি দু’টি শতবার্ষিকী লক্ষ্যপূরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০৪৯, চীন বিপ্লবের শতবর্ষের মধ্যে ‘চীনে একটি আধুনিক, সুখসমৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক, সভ্য এবং সম্প্রীতির সমাজতান্ত্রিক দেশে রূপান্তর’। মাঝপথে, ২০৩৫ নাগাদ, চীনকে একটি ‘আধুনিক সমাজতান্ত্রিক সমাজে’ রূপান্তর।

এক অগ্নিপরীক্ষার মধ্যে চীনের সমাজতন্ত্র। 

বিদেশী পুঁজি, ব্যক্তি মালিকানাধীন পুঁজি বিপজ্জনক। একে কীভাবে, কতদিন কর্তৃত্বে রাখা যাবে এটা গুরুত্বপূর্ণ। চীনে সমাজতন্ত্রের যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে, তার উপর শুধু সে দেশেরই নয়, নির্ভর করছে গোটা বিশ্বে একুশ শতকে সমাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ।


প্রকাশের তারিখ: ০১-অক্টোবর-২০২৪

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org