|
‘সোসাইটি অফ স্পেকট্যাকলস’—আইটি দুনিয়ার মজদুরদের অবস্থাতিতাস |
এই শ্রমিকদের বেশিরভাগেরই শিরদাঁড়া বেঁকে যাচ্ছে, বদহজম, মাথা যন্ত্রণা, স্পন্ডালাইটিস্ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। অথচ এই শ্রমিকরা ঘাড় ঘোরানোর সময়ও পান না। কাজের চাপের সাথেই বাড়ছে মানসিক অবসাদ। কয়েক মাস আগেই দেশের একটি নামকরা বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থার একজন কর্মী অফিসের ভিতরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁর বাড়ির লোক জানিয়েছিল শরীর খারাপের জন্য দীর্ঘদিন ছুটি চেয়েও তা পাননি, উল্টে চেপেছে অমানবিক কাজের চাপ। কাজের চাপে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন অনেকেই। |
তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের মতো বৈচিত্র্যময় জগৎ এই মুহুর্তে বোধহয় আর দুটি নেই। এই ক্ষেত্রে কাজ করছেন এমন দুজন মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক পরিসর এতটাই আলাদা যে, তা কল্পনাও করা যায় না যতক্ষণ না তাদের মুখোমুখি বসিয়ে কথা বলানো হচ্ছে। কেউ কুড়ি হাজার টাকা মাস মাইনের জন্য লড়াই করছে, কেউ দু লাখ টাকা পাচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষের প্রতি পুঁজিবাদীদের শোষণ ও বঞ্চনার নগ্নতার আধুনিকীকরণ হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের হাত ধরেই। সাদা কলারের এই চাকরিজীবীদের প্রতিনিয়ত যে যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তা অস্বাভাবিক। যে কোনও কলকারখানার শ্রমিক, প্রকল্প শ্রমিকের সাথে তুলনা করলে দেখা যাবে, চাকরির ময়দানে এরাও একইভাবে শোষিত। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বেতন এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির তারতম্যের জন্য এদের শোষণ আঁচ পাওয়া যায় না। এই তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্যপ্রযুক্তি সহায়ক ক্ষেত্রেই এই মুহূর্তে দেশের যুব-শ্রমিকদের একটা বড় অংশ কাজ করছে। এসএসসি-টেট সহ রাজ্য জুড়ে অন্যান্য নিয়োগ দুর্নীতি, কেন্দ্রীয় সরকারের বেসরকারিকরণের মনোভাবের জন্য যখন সরকারি চাকরির বাজার ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে তখন বেশিরভাগ অল্পবয়স্ক ছেলে-মেয়েকেই গিগ-শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে না চাইলে যোগ দিতে হচ্ছে বিভিন্ন ছোট বা বড় আইটিইএস কোম্পানিতে, চলতি ভাষায় আমরা যাকে কলসেন্টার বা বিপিও বলে থাকি। এই কথা ঠিক যে এই নতুন উঠে আসা সুলভ এবং বিরাট ওয়ার্কফোর্সের বেশিরভাগটাই নিজেকে ‘অরাজনৈতিক’ হিসেবে দাবি করছে। তবুও, আমরা তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী ও তথ্যপ্রযুক্তি সহায়ক শ্রমিকদের নিয়ে তৈরি হওয়া সিআইটিইউ অনুমোদিত একটি ইউনিয়নের সদস্যরা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন ৯ জুলাইয়ের সাধারণ ধর্মঘটকে সমর্থন করছি এবং চাইছি ৯ জুলাই কর্পোরেটদের ক্রমাগত চলমান মুনাফার চাকা স্তব্ধ হয়ে যাক, এই একটি দিন হলেও। কেন? কারণ, একটু গভীরে ভাবলে শুধু তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরা একা নয়, সাধারণ মানুষ, গিগ কর্মী, কৃষক, কলকারখানার শ্রমিক, প্রকল্প-শ্রমিক—আমরা প্রত্যেকে একটা বিরাট চক্রব্যূহে আটকে আছি, একসাথে। দশ মিনিটে খাবার, দশ মিনিটে মাসকাবারি, দশ মিনিটে প্রয়োজনীয় সব কিছু যারা হাজির করছে; তারা গিগ শ্রমিক। নব্যপুঁজিবাদের নতুন গিনিপিগ। ন্যূনতম বেতন নেই, কাজের ঘণ্টার হিসেব নেই, সুরক্ষা নেই, স্থায়ী নিয়োগ নেই। বোনাস, মাইনে বাড়া ইত্যাদি তো স্বপ্ন। কাজ শুধু দৌড়ে বেড়ানো। এদের ইনসেনটিভ নির্ধারিত হবে আমি আপনি কতগুলো তারায় ফোনে আঙুল ছোঁয়াচ্ছি তার উপর। ক্রেতার আঙুলের এদিক ওদিক হলে কাজ যাওয়ারও ভয় রয়েছে। কোম্পানি আপনার কেনা জিনিসের পরিবর্তে ভুল করে অন্য কিছু পাঠালে আপনি যাকে গালাগালি করছেন, সে এই গিনিপিগ—গিগ শ্রমিক। আমার আপনার কনজ্যু়মারিজ়মে বুঁদ হয়ে থাকা মাথা এই খোঁজই রাখছে না, দশ মিনিটে ওই জিনিস আমার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে কীভাবে! একটি প্ল্যাটফর্মে তিনশো টাকা আবার অন্য প্ল্যাটফর্মে সেটাই আড়াইশো টাকা। অ্যাপ বদলালে বদলে যাচ্ছে জিনিসটি হাতে আসার নির্ধারিত সময়, বদলে যাচ্ছে তার দাম। আমরা খোঁজ রাখছি না পাঁচশো টাকার জিনিস ঠিক কী কারণে তিনশো টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আবার বহু তথ্যপ্রযুক্তির কর্মীরা নিৰ্দিষ্ট কোম্পানিতে চাকরি না করে ফ্রিল্যান্সে কাজ করেন। গিগ অর্থনীতিতে এদেরও গিগ শ্রমিক বলা হয়। আমরা খেয়াল করছি না ব্লিংক্ইট, অ্যামাজ়ন, সুইগি, জ়েপ্টো, ইনস্টামার্টের ক্রমাগত বদলে যাওয়া ক্যারাওসেলের পিছনে লক্ষ লক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি শ্রমিক তার নিজের জীবনের পনেরো-ষোলো ঘণ্টা হারাচ্ছেন প্রত্যেকদিন। আট ঘণ্টার কাজের হিসেব প্রায় ভুলে গিয়েছেন বেশিরভাগ তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীই। কোভিড পূর্ববর্তী সময়ে একজন কর্মী অফিসে দশ থেকে এগারো ঘণ্টা কাজ করতেন, বাড়ি ফিরতেন। প্রয়োজন হলে ফোন বা মাঝেমধ্যে খুলে বসতেন ল্যাপটপ। কোভিড পরবর্তী সময়ে আর পাঁচটা ‘নিউ নরম্যাল’এর মতো দিনে যখন তখন যতক্ষণ খুশি কাজটাও তথ্যপ্রযুক্তির বা তার সহায়ক কর্মীদের কাছে অত্যন্ত স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। অজুহাত হয়েছে বাড়ি থেকে অফিস বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’। কার্যত অলিখিত ভাবেই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে কাজের নির্দিষ্ট সময়। যদিও কয়েকদিন আগেই নতুন শ্রম কোডের নির্যাসকে মাথায় রেখেই কর্ণাটক সরকার কোনও রকম বেতনবৃদ্ধি ছাড়াই দৈনিক ১২ঘন্টা কাজের নিদান দিয়েছে। এই শ্রমিকদের বেশিরভাগেরই শিরদাঁড়া বেঁকে যাচ্ছে, বদহজম, মাথা যন্ত্রণা, স্পন্ডালাইটিস্ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। অথচ এই শ্রমিকরা ঘাড় ঘোরানোর সময়ও পান না। কাজের চাপের সাথেই বাড়ছে মানসিক অবসাদ। কয়েক মাস আগেই দেশের একটি নামকরা বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থার একজন কর্মী অফিসের ভিতরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁর বাড়ির লোক জানিয়েছিল শরীর খারাপের জন্য দীর্ঘদিন ছুটি চেয়েও তা পাননি, উল্টে চেপেছে অমানবিক কাজের চাপ। কাজের চাপে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন অনেকেই। বললে অত্যুক্তি হবে না যে, টাটা গোষ্ঠী জনমানসে বেসরকারি ক্ষেত্রে সবচেয়ে ‘সুরক্ষিত এবং কর্মীবান্ধব কোম্পানি’ হিসেবে পরিচিত; তারাই ভারতে ‘পিঙ্ক স্লিপ’ প্রচলিত করে ২০১৪ সালে। কাজেই কর্পোরেটের মানবিকতা যে কেবলমাত্র নিজের স্বার্থনির্ভর এই নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। তাই কর্মীদের শারীরিক অবনতি, অবসাদ এমন কি মৃত্যু অব্দি কর্পোরেটের মুনাফার অপরিসীম লোভকে কাবু করতে পারছে না। এই ভয়ঙ্কর কাজের চাপেও যেটা স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি সেটা হল অতিরিক্ত কাজের ঘন্টার হিসেবে অতিরিক্ত মজুরি। কাজের চাপ সামলাতে না পারলে রয়েছে যখন খুশি চাকরি চলে যাওয়ার ভয়। আপনি অফিসে দাঁড়িয়ে, আরও কিছু কলিগকে জুটিয়ে জোর গলায় বলবেন যে অতিরিক্ত মজুরি না দিলে অতিরিক্ত শ্রমও ব্যয় হবে না? সাথে সাথে আপনার জন্য তৈরী হয়ে যাবে ছাঁটাই-চিঠি। মিল পাচ্ছেন কলকারখানার আর পাঁচজন শ্রমিকের সাথে? কিন্তু অমিলটা হল একজন তথাকথিত শ্রমিক যেভাবে তাঁর কাজের পরিসরে ইউনিয়ন করার জোর পান, আপাতভাবে সমাজের উচ্চবিত্ত তথ্যপ্রযুক্তিকর্মী সেই সাহস অর্জন করতে পারেন না অনেকসময়ই। এর একটা বড় কারণ হল, এরা বেশিরভাগই জড়িয়ে আছেন বিভিন্ন মাসিক কিস্তির বেড়াজালে। ফলে চাকরি হারানোর সামর্থ্য বা সাহস কোনোটাই এদের নেই। তাই অন্যায়, শোষণ ইত্যাদি মুখ বুজে সহ্য করে কাজ করে যাওয়াটাকেও এরা সাধারণ বিষয় হিসেবেই মেনে নিয়েছেন। এই চূড়ান্ত চাপের সাথে বাড়ছে নিত্যনৈমিত্তিক নতুন প্রযুক্তি শেখার চাপ। কোম্পানি চাপ দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছে, চাকরি চলে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে সার্টিফিকেট করাচ্ছে, চাপে চাপে সবই হচ্ছে কিন্তু প্রতিবছর মুদ্রাস্ফীতির হার অনুযায়ী বেতন বাড়ছে না। বোনাসের বা বেতন বৃদ্ধির সময় এলেই কমে যাচ্ছে কোম্পানির মুনাফা! অথচ কোম্পানির বিভিন্ন পোর্টাল বা স্টক পারফরমেন্স দেখলে বোঝাই যাচ্ছে যে মুনাফা তো কমেইনি বরং বেড়েছে। কিন্তু টুঁ শব্দ করলে চাকরি চলে যাওয়ার ভয়। যে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বাজারে আসায় মনে হয়েছিল তথ্যপ্রযুক্তি ও সহায়ক কর্মীদের এই বীভৎস কাজের চাপের সুরাহা হবে, সেই এআই-কে ভর করেই ছোট বড় কোম্পানিগুলো নির্দ্বিধায় খরচ কমানোর নামে কর্মী ছাঁটাই করছে। মনে করা হচ্ছে, তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে আগামী কয়েকবছরে চাকরি হারাতে পারে প্রায় ৪০% । একটু আগে যে চক্রব্যূহর কথা লিখেছিলাম তারই আরেক শিকার হলো আইটিইএস অর্থাৎ তথ্যপ্রযুক্তি সহায়করা। অনলাইনে কেনা জিনিস একটু উনিশ-বিশ হলেই আমরা ফোন করছি কাস্টমার কেয়ারে, সেখানে আসলে কোনও তথ্যপ্রযুক্তি সহায়ক শ্রমিক সেই ভর্ৎসনা শুনছেন। যে জিনিসের উৎপাদন বা সরবরাহ কিছুতেই তিনি জড়িত নন, কিন্তু উপভোক্তার চাপের মুখে তাকেই পাঁচ মিনিটের নির্ধারিত সময়ের চ্যাট বা কলে দিতে হবে সব সমস্যার সমাধান। উপভোক্তার পছন্দ না হলে ফোনে আঙুল বুলিয়ে কয়েকটা স্টার কম দিলেই টিম লিডার, ম্যানেজার এসে কর্মীটিকে শাসিয়ে দিয়ে যাবে, মনে করিয়ে দেবে টার্গেট। পরিষেবাভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি সহায়ক ক্ষেত্রে এই দৃশ্য প্রতিটি অফিসের প্রতিটি কিউবিকলের কঠিন বাস্তব। এই আইটিইএস শ্রমিকের বেশিরভাগেরই বেতন মাসে সাত হাজার থেকে শুরু করে পঁচিশ বা তিরিশ হাজার টাকা। অর্থাৎ অধিকাংশই বেতন পান ছাব্বিশ হাজার টাকারও নিচে। সারাদিনে ছোট-বড় বিরতি মিলিয়ে এক ঘণ্টার পাঁচ মিনিটও বেশি বিরতি নিলে কাটা যেতে পারে অর্ধেক দিনের ছুটি। একুশ হাজারের নিচে বেতন প্রাপ্ত কর্মীদেরও দেওয়া হচ্ছে না ইএসআই-এর সুযোগ। বিশাখা গাইডলাইন, POSH কমিটি ইত্যাদি ছোটোখাটো আইটি বা আইটিইএস কোম্পানিগুলিতে অলীক স্বপ্ন। ফলে মহিলা কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষিত নন। মাতৃত্বকালীন ছুটি নিলে, ফিরে এসে দেখছেন হয় চাকরি চলে গেছে বা সরিয়ে দেয়া হয়েছে তুলনামূলক কম গুরুত্ত্বপূর্ণ পদে। SEZ অফিসেও নেই ক্রেশের ব্যবস্থা। মহিলা এবং পুরুষ কর্মীদের বেতনের তারতম্য? তাও আছে। কেরিয়ারের শুরুতে একজন পুরুষ কর্মী যে পরিমাণ আয় করেন একজন মহিলা কর্মী সেই একই কাজ করে আয় করেন প্রায় ১৫.৩৮% কম। পুরুষ কর্মীদের মহিলা কর্মীদের তুলনায় পদোন্নতি হয় প্রায় ৬৫% বেশি। আবার নতুন কর্মীদের বার্ষিক বেতন তিন থেকে ছয় লক্ষ। অথচ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বার্ষিক বেতন কুড়ি থেকে একশো কোটি পর্যন্ত। কর্মী এবং ম্যানেজমেন্টের মাঝে এই বিরাট বেতনের ফারাক শুধু এদের ব্যক্তিগত জীবনকে না, সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্যকেও আরও সুস্পষ্ট করছে। একই কর্মক্ষত্রে চাকরি করা একজন যখন কোটিপতি, তখন বাকিদের দিন গুজরান করতে হচ্ছে ধার করে, যাদের বেশিরভাগেরই নেই আপদকালীন সঞ্চয়টুকুও। নেই বেতনের আশ্বাস, নেই চাকরির স্থায়িত্ব। অধিকাংশ তথ্যপ্রযুক্তি বা তথ্যপ্রযুক্তি সহায়ক কর্মীই চুক্তি নির্ভর কাজ করেন। নেই কাজের জায়গায় সুরক্ষা। অথচ সমাজের বেশিরভাগ মানুষ এসি অফিসে বসা এই শ্রমিকদের আপাত ঝাঁ-চকচকে জীবন দেখে ভেবেই নিয়েছেন এরা আসলে ‘শ্রমিক’ নন। নিতান্তই চাকুরীজীবি। বললে ভুল হবে না যে বেশিরভাগ তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীও নিজেদের সম্পর্কে এই কথাই ভাবেন। যে সময়ে দাঁড়িয়ে সরকারি চাকুরিজীবীদের উপর নেমে আসছে বেসরকারিকরণের প্রবল চাপ, সেই সময়ে দাঁড়িয়ে চাকরি জীবনের শুরুর দিন থেকে বেসরকারি চাপের মুখে কাজ করে যাচ্ছেন যারা; ৯ জুলাইয়ের ধর্মঘট তাদের জন্য আলাদা গুরুত্ব রাখবে একথা বলা বাহুল্য। বেশিরভাগ কর্মীর নিজেকে অন্যান্য ক্ষেত্রের শ্রমিকদের থেকে আলাদা ভাবার যে প্রবণতা সেটিই আজ তাদের প্রতি এই প্রবল শোষণের অন্যতম কারণ। গিগ, কারখানা বা বন্দরের শ্রমিক, সরকারি চাকুরিজীবি, প্রকল্প-শ্রমিক, চাষি—এদের সবার মতোই আমরা তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরাও আসলে শ্রমজীবী। আমরাও একইরকমভাবে পুঁজিবাদের থাবার নিচে চ্যাপ্টা হচ্ছি প্রত্যেকদিন। ধরন আলাদা হলেও, দিনের শেষে শোষণ একই। শুধু উঁচু উঁচু অফিসের মোটা কাচ ভেদ করে সমাজ এই শোষণকে একইভাবে হয়ত এখনও দেখতে পায়নি। কর্পোরেটদের মুনাফার প্রতি লোভ, বর্তমান কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কর্পোরেট-প্রেম এইসবের পাকেচক্রে জড়িয়ে পড়ে আমরা নিজেরাও বুঝছি না কীভাবে এই গোটা একটা জালে আমরা, সাধারণ মানুষ, তথ্যপ্রযুক্তি শ্রমিক, তথ্যপ্রযুক্তি সহায়ক শ্রমিক, গিগ শ্রমিক, অন্যান্য ক্ষেত্রের শ্রমিক, চাষি, পরিবহণ কর্মীরা জড়িয়ে আছি। আমরা সবাই শ্রমিক, সবাই উপোভোক্তা। আর আসল সুতো নাচাচ্ছে কর্পোরেট মালিকেরা। যাদের ছেলের হাজার কোটি টাকা খরচ করা বিয়েতে গিয়ে আমার আপনার ভোটে জেতা মন্ত্রী, আমার আপনার দেওয়া ট্যাক্সের টাকায় বেতন পাওয়া মন্ত্রীরা উৎসব করছে। গোটাটাই একটা চক্রব্যূহ। আমরা ফাঁসছি, ওরা ফাঁসাচ্ছে। আমরা কেউ আলাদা নই। আমরা সবাই এক। তাই ৯ জুলাইয়ের ধর্মঘট সাধারণের। তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরা এই ধর্মঘটে অংশ নিলেও আমরা জানিনা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তার প্রভাব কীভাবে নির্ধারিত হবে কিন্তু তা সত্ত্বেও এটুকি বলাই যায়, এই ধর্মঘট সফল করার সর্বতো চেষ্টা তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরা করবে। প্রকাশের তারিখ: ০৩-জুলাই-২০২৫ |
© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |