১৯৬৪ সালে সপ্তম পার্টি কংগ্রেসের স্বাগত ভাষণ

জ্যোতি বসু
কলকাতার ত্যাগরাজ হলে সিপিআই(এম)-র সপ্তম কংগ্রেস শুরু হয়েছিল ১৯৬৪-র ৩১ অক্টোবর। শেষ হয়েছিল ৭ নভেম্বর। অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে ডাঙ্গেপন্থীদের সংশোধনবাদী নীতির বিরোধিতা করে যাঁরা বেরিয়ে এসেছিলেন মার্কসবাদ-লেনিনবাদের ভিত্তিতে পার্টিকে পুনর্গঠিত করার সংকল্প নিয়ে তাঁরাই ছিলেন সপ্তম কংগ্রেসের উদ্যোক্তা। সপ্তম কংগ্রেসের শুরুর ঠিক আগেই পার্টির অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতার সঙ্গে তৎকালীন রাজ্য সম্পাদক প্রমোদ দাশগুপ্তকে গ্রেপ্তার করেছিল প্রফুল্ল সেন সরকারের পুলিশ। সপ্তম কংগ্রেসে আগত প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়ে এই ভাষণটি পাঠ করেছিলেন জ্যোতি বসু।

সপ্তম কংগ্রেসে স্বাগত

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির ৭ম কংগ্রেসের প্রতিনিধিবৃন্দ,

প্রিয় কমরেডগণ,

ভারতের পার্টির ঐতিহাসিক ৭ম কংগ্রেসে আগত বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিবৃন্দ, আপনাদের সাদর আন্তরিক স্বাগত জ্ঞাপনের সুযোগ পেয়ে আমরা নিজেদের সম্মানিত মনে করছি। শ্রমিকশ্রেণি এবং সংগ্রামী জনতার শ্রেষ্ঠ সংগঠন কমিউনিস্ট পার্টির যোগ্য নেতা এবং সংগঠক আপনারা, — সাম্রাজ্যবাদ, দেশীয় প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিসমূহ এবং শাসকচক্রের সমস্ত রকম কুৎসা, ষড়যন্ত্র ও আক্রমণের সামনে দৃঢ় হয়েই আপনারা দাঁড়িয়েছেন। সম্পূর্ণ কঠিন ও জটিল অবস্থার মধ্যেও মার্কসবাদ-লেনিনবাদের বিশ্বজয়ী পতাকা আপনারা ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন, নিরলসভাবে জনগণ এবং তাদের সংগ্রামগুলিকে আপনারা সংগঠিত করেছেন। আপনারাই হলেন সংগ্রামী জনতার সেই প্রিয় নেতৃবৃন্দ, কলকাতা মহানগরীতে যাঁরা পদার্পণ করেছেন— যে মহানগরী শ্রমিকশ্রেণি এবং সংগ্রামী জনতার অনেক বীরত্ব এবং গৌরবে পূর্ণ, সংগ্রামে ঐতিহ্যময়ী। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের সংগ্রামী জনতার প্রীতিলাভে ভাগ্যবতী, শাসকশ্রেণির দুঃস্বপ্ন এবং 'মিছিল নগরী' এই কলকাতা মহানগরী আপনাদের স্বাগত জ্ঞাপন করাকে একটি বিশেষ অধিকার বলেই মনে করছে। ...সাম্রাজ্যবাদ এবং শাসকচক্রের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা এবং মুক্তি-সংগ্রামে বুলেট এবং ফাঁসির মঞ্চের সম্মুখীন হয়েও যারা গেয়ে গেলেন জীবনের জয়গান, সেই সংখ্যাতীত শহীদদের পূত স্মৃতিবিজড়িত এই পবিত্র কলকাতা মহানগরী আপনাদের উপস্থিতিতে আজ সম্মানিত।

কমরেডগণ, গত দুই বছর ধরে আমাদের পার্টি এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে চলেছে। এই সময় জনগণ ও পার্টি আদর্শগত, রাজনৈতিক ও সংগঠনগত দিক দিয়ে পার্টির অভ্যন্তরের সংশোধনবাদী গোষ্ঠী ও শাসকশ্রেণির যুগপৎ আক্রমণের সম্মুখীন হয়েছেন। ইতিপূর্বে আর কখনও পার্টি এরকম যুগপৎ ও উৎকট আক্রমণের সম্মুখীন হয়নি।

এই দ্বিমুখী আক্রমণ ধারার বিরুদ্ধে আমাদের জনগণ এবং পার্টিকে সংগ্রাম চালাতে হবে। পার্টি সদস্যদের সংখ্যাগুরু অংশ‍ই সাহস ও দৃঢ়তার সাথে তার সম্মুখীন হয়েছেন। জাতি-দাম্ভিকতা ও সন্ত্রাসের কাছে আত্মসমর্পণে অস্বীকার করে প্রলেতারীয় আন্তর্জাতিকতা এবং মার্কসবাদ-লেনিনবাদের পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়ে, মজুতদারি এবং মুনাফাবাজির অভিশাপে জনগণ মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হন। ১৯৪৩ সালে পঁয়ত্রিশ লক্ষ মানুষ পড়লেন মৃত্যুর কবলে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরে সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী গণসংগ্রাম যখন সমগ্র দেশ প্লাবিত করলো, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের বৃহৎ বুর্জোয়া নেতৃত্ব এই সংগ্রামকে নেতৃত্বদানের পরিবর্তে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সাথে আপসরফা করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হল। দেশ স্বাধীনতা পেলো...। কিন্তু বাংলা হল বিভক্ত। রক্তে প্লাবিত হল দেশ। সে মুক্তিযুদ্ধের পবিত্র রক্তে নয়— ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গার কালো রক্তে।

স্বাধীনতার পরেও পশ্চিমবাংলার জনতা কখনও দমন ও অত্যাচারের কাছে আত্মসমর্পণ করেনি।

ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ব্রিটিশ নীলকরদের অমানুষিক অত্যাচার ও দমনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলো কৃষক সমাজ। দেশের ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি ধরে এই কৃষক বিদ্রোহ একটা ঝাঁকুনি দিল। ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে জমিদার এবং মহাজনদের বিরুদ্ধে কৃষক সমাজ চালালো বিক্ষিপ্ত সংগ্রাম। বিংশ শতাব্দীর সূচনা থেকেই ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে দেশের এই অংশের যুবশক্তি ঝাঁপিয়ে পড়ল বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের মধ্যে। জীবন হাতে নিয়ে সমস্ত নির্যাতন সহ্য করে লড়াই চালাল তারা। ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল তারা জীবনের জয়গান। এই বিশেষ বিপ্লবী ঝোঁক ১৯৩০ সালে বিখ্যাত চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখলের মধ্য দিয়ে তার সংগঠিত প্রকাশ ঘটলো। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ কর্তৃক সম্পাদিত ১৯০৫ সালের বঙ্গ-বিভাগের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল। বাধ্য করল ১৯১১ সালে তা রদ করে দিতে। স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি অধ্যায়ে হাজারে হাজারে সাধারণ মানুষ কংগ্রেসের নেতৃত্বে অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু নভেম্বর বিপ্লবের তুর্য নিনাদ যখন এ দেশে এসে পৌঁছাল, পৌঁছাল কমিউনিজম এবং মানব মুক্তির আহ্বান, গণ-সংগ্রামও তখন ভিন্ন গতি গ্রহণ করতে আরম্ভ করল। কলকাতায় একটি কমিউনিস্ট গোষ্ঠী সংগঠিত হল। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সূচনা যারা প্রত্যক্ষ করেছে কলকাতা তাদের অন্যতম। যাকে কেন্দ্র করে পার্টি সর্বপ্রথম গড়ে উঠেছিল ছিয়াত্তর বছর বয়সকাল সত্ত্বেও সেই কমরেড মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের সক্রিয় কর্ম চঞ্চলতা আজও আমাদের প্রেরণা জোগায়। কলকাতা এবং শিল্প প্রধান অঞ্চলে শ্রমিকশ্রেণির সংগঠন এবং আন্দোলনের নতুন গতি সৃষ্টি হলো। ভারতের রাজনীতিতে শ্রমিকশ্রেণি স্বাধীন শক্তি হিসাবে সর্বপ্রথম আত্মপ্রকাশ করল। আত্মপ্রকাশ করল ১৯৩০-৩২ সালে বুর্জোয়া নেতৃত্ব-মুক্ত কৃষক আন্দোলন এবং কৃষক সংগঠন। স্বাধীনভাবে শ্রমিক ও কৃষকেরা দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পূর্বে বহু গৌরবজনক সংগ্রাম চালাল।

বাংলার বিপ্লবী এবং গণ-সংগ্রামের সমস্ত ঐতিহ্যময় কর্মধারা মার্কসবাদ-লেনিনবাদের পতাকাতলে সম্মিলিত হল। শ্রমিক, কৃষক, মধ্যবিত্ত কর্মচারী এবং ছাত্রদের সংগ্রাম ও আন্দোলন ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর হয়ে উঠতে লাগল।

১৯৪৬-৪৭ সালে বিখ্যাত তেভাগা আন্দোলনে ৬০ লক্ষ ভাগচাষীর অংশগ্রহণ সাম্রাজ্যবাদী সামন্ততন্ত্রী শাসনকে ধরে একটা ঝাঁকুনি দিল। ১৯৪৫-৪৬ সালে কলকাতা মহানগরী রাজদ্রোহীর আকার গ্রহণ করল। আজাদ হিন্দ দিবসে ছাত্র মিছিলে গতি রুদ্ধ করে পুলিসের গুলি চালানোর ফলে কলকাতা এক ভয়ঙ্কর রূপ পরিগ্রহ করল। এরপরে রশিদ আলি দিবসেও আরও ব্যাপক আকারে জনগণের আরও ব্যাপক অংশে বিস্তৃত হয়ে কলকাতা মহানগরী বজ্রনির্ঘোষে প্রতিবাদ জ্ঞাপন করল। কিছুদিনের জন্য সমগ্র কলকাতা এবং শিল্পকেন্দ্রগুলি প্রায় রণক্ষেত্রের রূপ ধারণ করেছিল। ১৯৪৬-এর ২৯শে জুলাই ধর্মঘটী ডাক তার শ্রমিকদের সমর্থনে সমগ্র বাংলা ধর্মঘট এবং হরতালে অংশগ্রহণ করল।

নবতর যুগে (জাতীয় স্বাধীনতার পর) শ্রমিক, কৃষক, কর্মচারী ও ছাত্রদের শ্রেণি ও অংশ বিশেষের সংগ্রাম শক্তি সঞ্চয় আরম্ভ করল। ১৯৪৮ সালে আমরা কিছু ভুল করেছিলাম। কিন্তু সংগ্রামে জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং আমাদের রক্ষা করেছিলেন। তাদেরই সহায়তা ও সমর্থনে ১৯৫২ সালের সাধারণ নির্বাচনে পার্টি প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হয়েছে, উত্তরোত্তর তার শক্তি বৃদ্ধি ঘটেছে।

১৯৫৩ সালে ভিয়েতনাম মুক্তি যুদ্ধের সমর্থনে ভিয়েতনাম দিবসে কলকাতায় ছাত্ররা ধর্মঘট করে রাস্তায় বেরিয়ে এল। ফরাসী সাম্রাজ্যবাদকে ভারত সরকারের তোষামোদ করার নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে তারা রক্ত ঢালল, পুলিসের লাঠি গুলি অস্বীকার করে। ১৯৫৩ সালে ব্রিটিশ ট্রাম কোম্পানির ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে এবং ১৯৫৬ সালে বিহার ও বাংলা সংযুক্তিকরণের নামে বাংলার নাম মুছে দেওয়ার চক্রান্ত ব্যর্থ করার সংগ্রামে পশ্চিমবাংলার সমস্ত শ্রেণির মানুষ সফলতা অর্জন করল। ১৯৫৪ সালে মাধ্যমিক শিক্ষকদের রাজ্যব্যাপী সংগ্রাম পশ্চিমবাংলার গণ-সংগ্রামে নতুন ইন্ধন জোগাল।

প্রতি বৎসরই জনসাধারণ খাদ্য-সংকটের জন্য সংগ্রাম করেন। ১৯৫৯ সালে সেই সংকট হল আরও তীব্র। কলকাতা ও গ্রামের এক লক্ষ মানুষের শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রার উপর সেই বছরই আকস্মিক আক্রমণ চালাল পুলিস, গুলি চালিয়ে বহু লোকের মৃত্যু ঘটাল। এই সংগ্রামে ৮০ জন শহীদ হলেন। প্রথম হলেন প্রায় ২০০ জন, কারাবরণ করলেন প্রায় ২০,০০০ মানুষ।

... ১৯৬০ সালে অতি দৃঢ়তার সাথে পশ্চিমবাংলার মানুষ কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারীদের ধর্মঘটের অংশীদার হল। তাদের দাবির সমর্থনে শ্রমিক, কর্মচারী, ছাত্র সাধারণ মানুষ ১৪ই জুলাইয়ের হরতাল ও ধর্মঘট পালন করলেন।

এই সমস্ত গৌরবজনক সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে রাজ্যের জনগণ বিস্তর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। ১৯৬২ সালে শাসকচক্রের জাতি-দাম্ভিকতার প্রচার, জরুরি অবস্থার নামে বলাহীন দমননীতি জনসাধারণকে ত্রস্ত করল। কিন্তু তাদের সংগ্রামী ঐতিহ্য এই অবস্থা থেকে উত্তীর্ণ হওয়ায় তাদেরকে সাহায্য করল। ১৯৬৩ সালে খাদ্যের দাবিতে সফল ধর্মঘট হল। রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি ও খাদ্যের জন্য এক লক্ষ মানুষের সমাবেশ হল ২৮শে সেপ্টেম্বর কলকাতা ময়দানে। ক্রেতা প্রতিরোধ আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে জনগণ আন্দোলনের নবতর পথ প্রদর্শন করলেন। এই বৎসর যখন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা আকাশ বাতাস কলুষিত করছিল সেই সময় নৃশংস দমনের মুখেও জয় ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস-এর সাত সহস্রাধিক কর্মচারীর পাঁচ মাসব্যাপী দীর্ঘ সংগ্রাম গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং শ্রমিকশ্রেণির সংগ্রামের নতুন শক্তির স্বাক্ষর বহন করে; শ্রমিক, কর্মচারী, কৃষক, সাধারণ মানুষ তাদের সাহায্যে লক্ষাধিক টাকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন। তাদের সমর্থনে ১৬ই জুন সমস্ত ইঞ্জিনিয়ারিং শ্রমিকদের ধর্মঘট উৎকট সরকারি দমন পীড়ন সত্ত্বেও জয়-শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার সমর্থনে এবং খাদ্যের দাবিতে ২০শে জুলাই সাধারণ ধর্মঘট এবং হরতাল সংগঠিত হল। ২৫শে সেপ্টেম্বর পুনরায় ধর্মঘট ও হরতাল সংগঠিত হল খাদ্যের সংকট এবং উচ্চমূল্যের প্রতিবাদে। ১৯৫৯ সালের খাদ্য আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে ১লা সেপ্টেম্বর সমগ্র পশ্চিমবাংলার ছাত্র সমাজ ধর্মঘট পালন করল। এই সমস্ত ধর্মঘটগুলি আমাদের জনগণের সংগ্রামী মেজাজেরই পরিচয় বহন করে।

কমরেডগণ! এই সমস্ত সংগ্রামের মধ্যে জনগণ কেবলমাত্র অভিজ্ঞতাই সঞ্চয় করেনি, তাদের প্রিয় কমিউনিস্ট পার্টিকেও তারা শক্তিশালী করেছে। আমরা অনেক ভুল করেছি, সংশোধনবাদে প্রভাবান্বিত হয়েছি। কিন্তু শ্রমিকশ্রেণি এবং জনগণের সংগ্রামী ঐতিহ্য সংশোধনবাদী চক্রের কবল থেকে পার্টিকে রক্ষা করেছে। এইজন্যই শাসকশ্রেণি এবং সংশোধনবাদী চক্রের আক্রমণ আমাদের উপর প্রচণ্ড। মিছিল-নগরী কলকাতা এবং তার জনগণ তাদের কাছে কেবল দুঃস্বপ্ন নয়, পশ্চিমবাংলার পার্টি তাদের কাছে চোখের বিষ। এইজন্যই শাসকশ্রেণি আমাদের উপর তীক্ষ্ণ আক্রমণ এবং এখন পর্যন্ত নোংরা কুৎসা প্রচার করেছে, বিনা বিচারে ও সামান্য অজুহাতে পার্টির বহু নেতা এবং শ্রমিককে কারারুদ্ধ করেছে। এরসাথে সমান তালে সংশোধনবাদী ডাঙ্গে চক্র পার্টির বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্রে নেমেছে এবং ঘৃণ্য আক্রমণ চালিয়েছে। আপনারা জানেন, পশ্চিমবাংলার পার্টিকে ধ্বংস করার জন্য কত নিচে তারা নেমেছে। আমাদের পার্টি এবং সাধারণ কমরেডরা প্রথম থেকেই অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এবং সংগঠিতভাবে এই দ্বিমুখী আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে এসেছে। কুৎসা এবং সন্ত্রাসকে অস্বীকার করে মার্কসবাদ-লেনিনবাদের পতাকা তারা ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছে, ডাঙ্গে-সেন-লাহিড়ী চক্রকে পরিত্যাগ করেছে, বরং তাদের আরও বেশি বিচ্ছিন্ন করেছে। নেতৃবৃন্দের গ্রেপ্তারের পর, পশ্চিমবাংলার পার্টি সদস্যদের আনুগত্য লাভ করার উদ্দেশ্যে এস এ ডাঙ্গে স্বয়ং যখন কলকাতায় এলেন, সম্পূর্ণ অপমানের মধ্যে দিয়ে তাকে ফিরে যেতে তারা বাধ্য করল। তারা কেবল পার্টিকেই বাঁচালো না, বরং জরুরী অবস্থা অবসানের জন্য এবং বন্দীমুক্তির দাবিতে এক ব্যাপক বিস্তৃত আন্দোলন তারা সৃষ্টি করল। এই আন্দোলনের ফলেই সরকার রাজবন্দীদের মুক্তি দিতে বাধ্য হলেন। আমাদের পার্টি আজ মার্কসবাদ লেনিনবাদের পতাকাতলে আরও বেশি দৃঢ় সংবদ্ধ। ষষ্ঠ পার্টি কংগ্রেসের সময়কার সদস্যদের শতকরা আশি ভাগ সক্রিয়ভাবে আমাদের সঙ্গে আছেন। আরও অনেক পার্টি সদস্য এদের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছেন। কিন্তু আমাদের দুর্বলতার জন্য তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা পার্টিতে গ্রহণ করে নিতে পারিনি।

কমরেড প্রতিনিধিবৃন্দ! সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে পশ্চিমবাংলা এবং কলকাতার পার্টি সদস্য এবং দরদীরা আপনাদের সহযোদ্ধা হওয়ার অধিকার অর্জন করেছে। কলকাতার সপ্তম পার্টি কংগ্রেস আহ্বান করে এই সংগ্রামকেই আপনারা স্বীকৃতি দিয়েছেন, কলকাতার ঐতিহ্যকেই আপনারা সম্মান জানিয়েছেন। এইজন্য আমরা আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। পশ্চিমবাংলা এবং কলকাতার পার্টি সংশোধনবাদী চক্রের যে বরিষ্ঠ নেতাকে অপমানিত হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য করেছিল তারাই আজ আপনাদের জানায় উষ্ণ এবং সশ্রদ্ধ স্বাগত।

... শেষ করার পূর্বে, কমরেডগণ আবার অন্তর থেকে জানাই আপনাদের স্বাগত।

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সপ্তম কংগ্রেস জিন্দাবাদ।

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির পশ্চিমবাংলা রাজ্য কমিটি

৩১-১০-৬৪


প্রকাশের তারিখ: ৩১-অক্টোবর-২০২২

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org