|
টার্গেট লেনিন, স্বাভাবিকটিম মার্কসবাদী পথ |
|
খেজুরি-গড়বেতা-বিলোনিয়া-সাব্রুম থেকে যাদবপুর-জিয়াগঞ্জ। বিকৃত জান্তব উল্লাসে আক্রান্ত ভ্লাদিমির লেনিন। কোথাও হাতুড়ি-বেলচার ঘায়ে। কোথাও সরাসরি বুলডোজারে। কোথাও রাতের অন্ধকারে। কোথাও দিনেদুপুরে। কখনও সবুজ আবিরে। কখনও গেরুয়া আবিরে। সাক্ষী বাংলা। আজ শুরু নয়। আজ শেষ-ও নয়। দুনিয়ার সব প্রান্তে কমিউনিস্ট বিদ্বেষীদের নিশানায় লেনিন। লক্ষ্য তাঁর মতাদর্শ। অতীতে খেজুড়ি, গড়বেতা, যাদবপুরে। মাঝে বিলোনিয়া, সাব্রুমে। এখন ফের যাদবপুর হয়ে জিয়াগঞ্জে। স্বাভাবিক। কে-না-জানে বিজেপি একটি স্বৈরাচারী দল। গণতন্ত্র-বিরোধী। নেতৃত্বে ফ্যাসিস্ত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। আর সঙ্ঘ সেই কবে থেকেই তো শত্রু চিহ্নিত করে রেখেছে। সঙ্ঘের সর্বোচ্চ মার্গদর্শক, দ্বিতীয় স্বরসঙ্ঘচালক মাধব সদাশিব গোলওয়ালকর বাঞ্চ অব থটস-এ ‘হিন্দু রাষ্ট্রে’ তিনটি ‘অভন্তরীণ বিপদ’কে চিহ্নিত করেছিলেন: মুসলিম, খ্রিস্টান এবং কমিউনিস্ট। এই তো সেদিন, বছর দুয়েক আগের বিজয়া দশমী। নাগপুরে সঙ্ঘের সদরদপ্তরে সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত ব্যবহার করেছেন এক নতুন শব্দবন্ধ– সাংস্কৃতিক মার্কসবাদী। যদিও, ভাগবতের এই শব্দবন্ধ মোটেই ‘ভারতীয়’ নয়। বিদেশ থেকে আমদানি করা। যেমন বলে ফেলেছেন সঙ্ঘের তাত্ত্বিক নেতা রাম মাধব, ‘সাংস্কৃতিক মার্কসবাদ ও জাগ্রতবাদ নিয়ে তাঁর সমালোচনায়, (এবার) পশ্চিমের অনেক বন্ধু খুঁজে পাবেন ভাগবত’ (ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ২৮ অক্টোবর, ২০২৩)। যে রাম মাধব ত্রিপুরায় বিলোনিয়ায় লেনিনের মূর্তি মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার পরে সহজাত উচ্ছ্বাসে টুইট করেছিলেন: ‘চলো পালটাই’! শুনিয়েছিলেন, ‘একজন বিদেশি কূটনীতিক’ এককথায় ‘ত্রিপুরার জয়ের তাৎপর্য যথার্থ ব্যাখ্যা করে’ তাঁকে টেক্সট করেছেন: ‘অভিনন্দন রাম! বিশ্বে কমিউনিস্টদের প্রয়োজন নেই।’ এবং রাম মাধব ঠিকই বলেছেন। সাংস্কৃতিক মার্কসবাদকে ‘উত্তর-আধুনিক’ বলে শোনাতে পারে, তবে এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক দীর্ঘ, বিষাক্ত ইতিহাস (নিউ ইয়র্ক টাইমস, ১৩ নভেম্বর, ২০১৮)। একশো বছর ধরে উগ্র দক্ষিণপন্থীরা এটি ব্যবহার করে আসছেন। আর এখন নব্য ফ্যাসিবাদীরা প্রায়শই ব্যবহার করে চলেছেন। ফ্যাসিবাদ গোড়া থেকেই মার্কসবাদ-কে কখনও ইহুদি বলশেভিকবাদ, বা কখনও সাংস্কৃতিক মার্কসবাদ বলে দেগে দিয়ে আক্রমণ শানিয়েছে। নরওয়ের উগ্র দক্ষিণপন্থী আন্ডের্স ব্রেইভিক— যিনি ২০১১-র জুলাইয়ে অসলোয় এক সামার ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ৭৭ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছেন— তিনি তাঁর দেড় হাজার পাতার ইশ্তেহারে একবার-দু’বার নয়— ৬০০-বার উল্লেখ করেছেন এই শব্দবন্ধ! কেরালায় বামপন্থীদের পরাজয়ে উচ্ছ্বাস চেপে না-রেখে মোদী যেমন দাবি করে বসেছেন, ‘এটা শুধু একটা ক্ষমতার বদল নয়, ভাবনার বদল।’ যেমন আট বছর আগে ত্রিপুরায় বামপন্থীদের হারিয়ে বলেছিলেন: বিজেপির এই জয় নিছক একটি নির্বাচনী জয় নয়, আসলে ‘মতাদর্শের জয়’! ১৩৪ কোটির দেশে মাত্র ৪০ লক্ষ মানুষের বাস, সাকুল্যে ২টি লোকসভা আসন, মেরেকেটে ৬০টি বিধানসভা আসন– এহেন একরত্তি রাজ্যে জয়কে এভাবেই দেখেছিল আরএসএস-বিজেপি। যেমন গোলওয়ালকার ‘প্রধান শত্রু’ চিহ্নিত করে গিয়েছেন! বিপরীতে, বামপন্থীদের অবস্থানও স্পষ্ট: আরএসএস-বিজেপির রাজনৈতিক মতাদর্শই দেশের সামনে সবচেয়ে বড়ো বিপদ। আবার আরএসএস-বিজেপি-ও বিলক্ষণ জানে, বামপন্থীদের মতাদর্শই তাদের কাছে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। দেশে অনেকেই বিজেপির বিরোধী। কিন্তু বামপন্থীরা শুধু বিরোধিতাই করছে না। আরএসএস-বিজেপির রাজনৈতিক মতাদর্শের বিকল্প তুলে ধরছে। আর সে-কারণেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভাগবত তাই বাম মতাদর্শের চ্যালেঞ্জকে ‘মূল শত্রু’ হিসেবে ধরে চিন্তার জগতে বামপন্থী ইকোসিস্টেম ধ্বংস করার কথা বলেছেন। মোদী বা ভাগবতের বিবৃতিতে স্পষ্ট, নির্বাচনী জয়-পরাজয়ের অঙ্ককে পেরিয়ে বামপন্থীদের সঙ্গে তাদের লড়াই এক মতাদর্শগত নির্মাণের বিরুদ্ধে আরেক মতাদর্শগত পরিকল্পনার সংঘাত। অতএব, টার্গেট লেনিন। কে বলবে, মূর্তি ভাঙা যায়, বিকট উল্লাসে তা গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু হাজারো চেষ্টা করেও গুঁড়িয়ে দেওয়া যায় না, যায়নি সমাজতন্ত্রের মহান মতাদর্শকে। আজও দুনিয়ার ‘গ্রামে ও নগরে হাজার লেনিন যুদ্ধ করে। বিদ্যুৎ-ইশারা চোখে, আজকেও অযুত লেনিন ক্রমশ সংক্ষিপ্ত করে বিশ্বব্যাপী প্রতীক্ষিত দিন।’ রেড ফ্ল্যাগ, লাল নিশান। হে মার্কেটের শ্রমিকের তাজা রক্তে রাঙা। তারপর দিন গিয়েছে, বছর গিয়েছে, গিয়েছে শতাব্দী। সম্রাট, সামন্ত থেকে পুঁজিপতি, জোতদার; সাম্রাজ্যবাদী ফ্যাসিস্ত থেকে নয়া ঔপনিবেশকতাবাদী নব্য ফ্যাসিস্ত— বারে বারে মানুষের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে চেয়েছে এই পতাকা। পারেনি। এই গ্রহের যেখানে সূর্যের আলো, সেখানেই লাল পতাকা। আর সেখানেই লেনিন। খেতে কারখানায় হাটে বন্দরে বস্তিতে— যেখানে মানুষ, সেখানেই লাল পতাকা। সেখানেই লেনিন। যেখানে মুক্তির যুদ্ধ, সেখানেই কমরেড লেনিন। এমনকি হিটলারের কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে পর্যন্ত উড়েছে লাল পতাকা। ইতিহাস জানে। আর জানেন জুলিয়াস ফুচিক। যিনি ফ্যাসিস্ত কারাগারে মে-দিন পালনের সেই বিবরণ লিপিবদ্ধ করে গিয়েছেন। এই রাজ্যেও এই সেদিন বক্সা ক্যাম্পের কমিউনিস্ট বন্দিরা লেপের লাল কাপড় কেটে বিধান রায়ের পুলিসকে উপেক্ষা করে মে-দিনে উড়িয়েছেন লাল পতাকা। প্লেখানভ ‘ইসক্রা’য় লিখতেন ভলগিন ছদ্মনামে। ভলগা থেকে ভলগিন। ভলগা ইউরোপীয় রুশদেশের মহানদী। ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ ছদ্মনাম নিলেন লেনিন। লেনা থেকে লেনিন। লেনা সাইবেরীয় রুশ দেশের মহানদী। গোর্কির লেখায় দুনিয়া জানে, কেন প্লেখানভ বেছেছিলেন ভলগাকে, আর কেনই বা ভলগার কোলে জন্মেও উলিয়ানভ ‘অভিশপ্ত’ সাইবেরিয়ার একটি নদীর নাম না-গ্রহণ করে পারেননি। নদী বয়। নদী অন্বয় সৃষ্টি করে। লেনিন এক মহান উৎস থেকে এক অনির্বাণ প্রবাহ। ১৯১৭। মহান নভেম্বর বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা লেনিন। বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা। এই গ্রহের প্রথম সর্বহারা রাষ্ট্র। বিশ শতকের মানব সভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম দিকচিহ্নকারী ঘটনা। শোষণ-ভিত্তিক সমাজের অবসান। পুঁজি ও মুনাফার স্বার্থে নয়, শোষিত-বঞ্চিত জনগণের স্বার্থে রাষ্ট্র— সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে তার প্রথম প্রতিফলন। তারপর, পৃথিবীর মানচিত্রের গায়ে কৃষ্ণচূড়ার মতো নিয়ত ফুটে উঠছে লেনিনের স্বপ্ন। এই গ্রহ নিয়ত হচ্ছে লেনিন। ভারতে মার্কসবাদ ও সমাজতান্ত্রিক ভাবনার আর নাকি কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই। ফল ঘোষণার সন্ধ্যায় এমনই দাবি করেছেন মোদী। কে বলবে, মার্কসবাদ একটি সমাজ দর্শন, একটি জীবনবোধ। বিজ্ঞান ও সামাজিক অসাম্যের ভিত্তির ওপরই দাঁড়িয়ে আছে এই দর্শন। এই দর্শন শ্রেণি-বৈষম্যের অবসানের দিকনির্দেশ করে। পুঁজিবাদী সমাজ গড়ে ওঠা শ্রেণি-বৈষম্য আর অসাম্যের ভিতের ওপর। আর পুঁজিবাদের যত বিকাশ ঘটে, ততই বাড়ে অসাম্য বৈষম্য। পুঁজিবাদী ব্যবস্থাই তাই শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত মানুষের মনে ক্ষোভ-বিক্ষোভের আগুন জ্বালায়। এই বাস্তবতাই মার্কসবাদের প্রাসঙ্গিকতাকে অনিবার্য করে তোলে। সামনে নিয়ে আসে লেনিনকে। লেনিনবাদকে। কে বলবে, বামপন্থীদের কাছে রাজনীতি শুধু নির্বাচনী লড়াই নয়। আবার রাজনীতি শুধু প্রতিফলিত হয় না নির্বাচনের ফলাফলে। বিধানসভায় সংখ্যা কম ঠিকই। কিন্তু, বিধানসভার বাইরে? লক্ষ কোটি মানুষ। বামপন্থীরা শুধু দেশের নৈতিকতা ও বিবেকের অতন্দ্র প্রহরী নয়। বামপন্থীরা সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করার অদম্য যোদ্ধা। লাল ঝান্ডার শক্তি পেশীতে নয়, চেতনায়। তাই একে অবদমিত করা যায় না। অগনিত সংগ্রামী মানুষের লড়াই, আত্মবলিদানের প্রতীক লালপতাকা। যুগ যুগ ধরে যে পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন, বয়ে নিয়ে চলেছেন যাঁরা, সেই রক্তপতাকার অসম্মান কোনও খেটে খাওয়া মানুষ সহ্য করতে পারেন না। কমিউনিস্টরা আত্মসমর্পণ করতে শেখেননি। কোথায় রুশদেশে ভ্লাদিমির লেনিন, আর কোথায় ইকুয়েদর— অথচ, লাতিন আমেরিকার পৌনে দু’কোটির এই একরত্তি দেশটিতে ১৯৫০-২০১৫ সালের মধ্যে ১৮,৪৬৪ জনের নাম রাখা হয়েছে লেনিন! সংখ্যায় এগিয়ে স্তালিন: ১৮,৭২৮ (মিয়ামি হেরাল্ড, ৩ এপ্রিল, ২০১৭)! জারের প্রাসাদে এই রক্তপতাকা উড়িয়েই ঘোষিত হয় অক্টোবর বিপ্লব। রাইখস্ট্যাগে এই লালপতাকা উড়িয়েই ঘোষণা করা হয় হিটলার-ফ্যাসিবাদের মৃত্যু। এই রক্তপতাকা যখন পিকিঙয়ে পতপত করে ওড়ে, তখন চীনের আকাশে লালতারা। এই লালপতাকা উড়িয়েই সেদিন সায়গন হয়েছে হো চি মিন নগরী। এই লাল পতাকাই এই গ্রহের প্রবল পরাক্রান্তা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে একরত্তি দ্বীপরাষ্ট্র কিউবার অর্ধশতাব্দী লড়াইয়ের মূল হাতিয়ার। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপর্যয়ের পরে অনেকেই মনে করেছিলেন এবারে কমিউনিস্ট পার্টি চলে যাবে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। কিন্তু তা হয়নি। বাড়ছে কমিউনিস্ট পার্টির জনপ্রিয়তা আর প্রভাব। গত শতকের নয়ের ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা ঘোষণা করেছিলেন: ইতিহাসের অবসান। জিতেছে পশ্চিমের পুঁজিবাদ। ধনতন্ত্রই সারসত্য, শাশ্বত। এর কোনও বিকল্প নেই। সমাজতন্ত্রের অবসান মানে দ্বন্দ্বের অবসান। সংকটের স্থায়ী অবসান। ধনতন্ত্রই হল সামাজিক বিকাশের শেষ স্তর। দুই দশক যেতে না যেতেই খসে পড়েছে নির্বিকল্প বিশ্ব পুঁজিবাদের বাহারি পলেস্তারা। সেই ফুকুয়ামাই এখন বলছেন, ‘সমাজতন্ত্রেরই ফিরে আসা উচিত’ (নিউ স্টেটসম্যান, ১৭ অক্টোবর, ২০১৮)। রুশ জনগণ এখন ফিরতে চান সোভিয়েত ইউনিয়নে, সমাজতন্ত্রে। লেভাদা সেন্টারের জনমত সমীক্ষায় প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজনই (৭৫ শতাংশ) বলেছেন, দেশের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে ভালো সময় ছিল সোভিয়েত যুগ’! (দ্য মস্কো টাইমস, ২৪ মার্চ, ২০২০)। গতবছর লেভাদা সেন্টারের সমীক্ষায় ৬৭ শতাংশ রুশ নাগরিকই ইতিহাসে লেনিনের ভূমিকাকে দেখেছেন ইতিবাচক দৃষ্টিতে। দু’দশক আগে এই সমীক্ষা যখন প্রথম করা হয়েছিল, তখন এই হার ছিল ৪০ শতাংশ। মানে বৃদ্ধির হার ২৭ শতাংশ! এখন মাত্র ১৭ শতাংশের মধ্যে রয়েছে নেতিবাচক ধারণা। তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো তথ্য হল, প্রবীনদের তুলনায় তরুণদের মনোভাব অনেক বেশি ইতিবাচক। ২০১৫, মেরিয়াম ওয়েবস্টার অনলাইন অভিধানে সবচেয়ে সন্ধানী শব্দ ছিল ‘সমাজতন্ত্র’। ২০১৬, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষা জানাচ্ছে, এই সহস্রাব্দের তরুণদের অধিকাংশই প্রত্যাখ্যান করেছে পুঁজিবাদকে। তিনভাগের একভাগ সমাজতন্ত্রের পক্ষে। ফেব্রুয়ারি, ২০২০। অস্কার নিতে উঠে অস্কারজয়ী তথ্যচিত্র আমেরিকান ফ্যাক্টরি-র অন্যতম পরিচালক জুলিয়া রাইখার্টের গলায় কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোর অমোঘ আহ্বান, ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’। বামপন্থীরা জানে, রাস্তা কেউ কাউকে দেয় না। রাস্তা করে নিতে হয়। রাস্তা কারো একারও নয়। শেষ পর্যন্ত মানুষ ঘুরে দাঁড়ান। এটাই ইতিহাসের শিক্ষা। তাই বামপন্থাকে মোছা যায় না। বাংলার মানুষের সামাজিক চেতনায় বামপন্থার রয়েছে একটি স্থায়ী অবস্থান। তার শিকড় অনেক গভীরে। তা বিকশিত হবেই। বামপন্থীরা গভীরভাবে বিশ্বাস করেন, মানুষই ক্ষমতার উৎস। মানুষ বুঝতে পারবেন। এই প্রচারের ঢেউ ক্ষণিকের আলেয়া মাত্র। তাই ‘গুঁড়িয়ে পাথর, পুড়িয়ে ছবি/ যতই মুছি ওঁকে—/ হাজার লেনিন লক্ষ হয়েই/ জাগেন— কোটি বুকে।’ প্রকাশের তারিখ: ০৭-মে-২০২৬ |
© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |