|
|
কমিউনিস্টদের লক্ষ্য ও পথ – প্রথম পর্বজ্যোতি বসু |
|
মার্কসবাদ একটি বিজ্ঞান। ডারউইন যেমন প্রকৃতির বিকাশের নিয়ম আবিষ্কার করেছিলেন তেমনি মার্কস আবিষ্কার করেছেন সমাজ বিকাশের নিয়ম। কার্ল মার্কস মৃত্যু শতবর্ষ পালনকালে আমাদের মার্কস-র এই বৈজ্ঞানিক অবদানের কথা স্মরণ করতে হবে। মার্কস ও এঙ্গেলস সমাজ বিকাশের গতি-প্রকৃতির বিস্তারিত অনুশীলন ও গবেষণার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে এসেছিলেন, কমিউনিজম অবশ্যম্ভাবী, এটা কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের মস্তিষ্কপ্রসূত কল্পনা নয়। মার্কস ও এঙ্গেলস-র বৈপ্লবিক তত্ত্বের সাথে পরিচিত হতে হলে এবং সেই তত্ত্বকে দেশের বাস্তব ও সুনির্দিষ্ট অবস্থায় প্রয়োগ করতে হলে প্রথমেই জানা প্রয়োজন- সমাজতন্ত্র কীভাবে বিজ্ঞানে পরিণত হলো। |
|
এক সমাজতন্ত্রের ধারণা নতুন কিছু নয়, মার্কস ও এঙ্গেলস-র বহু আগেই অনেক মনীষী পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থায় শ্রমজীবী জনসাধারণের উপর পুঁজিপতিদের শোষণের তীব্র নিন্দা করেছেন, এই ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি করেছেন এবং সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। এঁদের বলা হতো "কাল্পনিক সমাজবাদী"। কাল্পনিক সমাজবাদীদের মধ্যে ছিলেন সেন্ট সাইমন, ফোরিয়ার, রবার্ট ওয়েন প্রমুখ মনীষীগণ। এঁরা পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় শোষণের চিত্র তুলে ধরতেন বটে কিন্তু এই শোষণের কারণ এবং বৈশিষ্ট্যগুলির ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম ছিলেন না। সে কারণেই তাঁরা ভবিষ্যৎ সমাজব্যবস্থার যে রূপরেখা উপস্থিত করতেন তার কোনো বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তি ছিল না। তাঁরা মানুষ কর্তৃক মানুষের শোষণ ব্যবস্থা বিলোপের কল্পনা করতেন কিন্তু এই শোষণের অবসান বিপ্লবের মধ্যে দিয়েই সম্ভব এবং সে বিপ্লবে সর্বহারাশ্রেণীর নেতৃত্বই চূড়ান্ত ভূমিকা গ্রহণ করবে, এভাবে এই কাল্পনিক সমাজবাদীরা ভাবতেন না। এঁদের কোনো বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গি ছিল না। এঁরা পুঁজিবাদী শোষণের ভিত্তি নিয়ে মাথা ঘামাতেন না। এঙ্গেলস তাঁর "সমাজতন্ত্র- কাল্পনিক ও বৈজ্ঞানিক” গ্রন্থে দেখিয়েছেন: কার্ল মার্কসের দু'টি যুগান্তকারী আবিষ্কারের ফলশ্রুতি হিসাবেই সমাজতন্ত্র বিজ্ঞানে পরিণত হলো: (১) পুঁজিবাদী শোষণের গোপন রহস্য; (২) ইতিহাসের বস্তুবাদী ধারণা। ক্রমবর্ধিত হারে উদ্বৃত্ত মূল্য অর্জনই পুঁজিবাদী শোষণের গোপন রহস্য। সংক্ষেপে ও সরল ভাষায় উদ্বৃত্ত মূল্য অর্জনের ব্যাখ্যা নিম্নরূপ: যদি কোনো কারখানায় একজন শ্রমিককে মালিক ৮ ঘণ্টা খাটিয়ে নেয়, তা হলে তাকে ৪ ঘণ্টার মজুরি দেওয়া হয়, বাকি ৪ ঘণ্টার কাজের জন্য কোনো মজুরি দেওয়া হয় না। যে ৪ ঘণ্টা কাজের জন্য কোনো মজুরি দেওয়া হয় না সেটাই হলো মালিকের উদ্বৃত্ত মূল্যের উৎস। যে শ্রমিককে ৮ ঘণ্টা খাটিয়ে নিয়ে ৪ ঘণ্টার মজুরি দেওয়া হচ্ছে, সে কিন্তু বুঝতে পারছে না তাকে কীভাবে পুঁজিপতি বঞ্চিত করছে। লেনিন বলেছেন, মার্কসের অর্থনৈতিক তত্ত্বের কেন্দ্রবিন্দু হলো উদ্বৃত্ত মূল্যের তত্ত্ব। তাঁর প্রধান গ্রন্থ "ক্যাপিটাল"-এ পুঁজিবাদী সমাজের অনুশীলন করা হয়েছে। মার্কস দেখিয়েছেন, এই ব্যবস্থায়, শ্রম-শক্তি পণ্যে পরিণত হয়েছে এবং এই পণ্য জমি, কারখানা ও উৎপাদনের যন্ত্রসমূহের মালিকদের কাছে বিক্রি হচ্ছে। একজন শ্রমিক দিনের একাংশ অতিবাহিত করেন নিজের এবং পরিবারবর্গের ভরণপোষণের উদ্দেশ্যে, মজুরি রোজগারের জন্য এবং বাকি অংশ অতিবাহিত করেন বিনা মজুরিতে পুঁজিপতির জন্য কাজে। উদ্বৃত্ত মূল্য হলো পুঁজিপতিশ্রেণীর মুনাফা ও সম্পদের উৎস। পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থাই যে সমস্ত দুর্দশার মূলে, নিজেদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শ্রমিকশ্রেণীর মধ্যে যতদিন এই উপলব্ধি না আসছে ততদিন তাঁদের মজুরি-দাসত্ব থেকে মুক্তি নেই। ইতিহাসের বস্তুবাদী ধারণা এবং দ্বন্দ্বমূলক পদ্ধতিই হচ্ছে মার্কসবাদের দার্শনিক ভিত্তি। কার্ল মার্কস স্বয়ং রাজনৈতিক অর্থতত্ত্বের সমালোচনার মুখবন্ধে ইতিহাসের বস্তুবাদী ধারণার নিম্নোক্ত ব্যাখ্যা দিয়েছেন- মানুষ তাদের জীবনের সামাজিক উৎপাদনে এমন কতকগুলি সুনির্দিষ্ট সম্পর্কের মধ্যে প্রবেশ করে যা অপরিহার্য এবং যা তাদের ইচ্ছা বা অনিচ্ছার উপর নির্ভর করে না। এই উৎপাদন সম্পর্কগুলি তাদের উৎপাদন শক্তিসমূহের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। "এই উৎপাদন সম্পর্কগুলির সামগ্রিক অবস্থা হলো সমাজের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ, প্রকৃত বুনিয়াদ, যার উপর গড়ে উঠেছে সৌধ যা সামাজিক চেতনার সুনির্দিষ্ট আকারের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।" মানুষের চেতনা তাদের সত্তা নির্দিষ্ট করে না, বরং তাদের সামাজিক সত্তাই চেতনা নির্দিষ্ট করে। বিকাশের একটা স্তরে সমাজের উৎপাদন শক্তি এবং বর্তমান উৎপাদন সম্পর্কের মধ্যে সংঘাত দেখা দেয়। উৎপাদন শক্তিগুলির বিকাশের আকার থেকে এই সম্পর্কগুলি তাদের বন্ধনে পরিণত হয়। "তারপরই শুরু হয় সামাজিক বিপ্লবের যুগ, অর্থনৈতিক বুনিয়াদের পরিবর্তনের সাথে সাথে বিরাট সৌধের মোটামুটি দ্রুত রূপান্তর ঘটে।" মার্কস আরও বলেছেন: সাধারণভাবে বলতে গেলে এশিয়াটিক, আদিম, সামন্তবাদী এবং আধুনিক বুর্জোয়া উৎপাদন পদ্ধতিকে সমাজের অর্থনৈতিক গঠনে প্রগতিশীল যুগ বলে বর্ণনা দেওয়া যেতে পারে। উৎপাদনের বুর্জোয়া সম্পর্কগুলি উৎপাদনের সামাজিক প্রক্রিয়ার শেষ বৈরী ধরন- ব্যক্তিগত অর্থে বৈরী নয়, এই বৈরী ধরন আত্মপ্রকাশ করেছিল ব্যক্তিদের জীবনের সামাজিক শর্তগুলি থেকে; একই সাথে, "বুর্জোয়া সমাজের গর্ভে বিকাশশীল উৎপাদন শক্তিগুলি সেই বৈরী পরিস্থিতির সমাধানের বৈষয়িক শর্তাবলী সৃষ্টি করে" (মার্কস-এঙ্গেলস মনোনীত রচনাবলী, মস্কো, খণ্ড ১)। এটাই হলো ইতিহাসের বস্তুবাদী ধারণার সারকথা, যা কার্ল মার্কস আবিষ্কার করেছেন। মার্কসীয় পদ্ধতিরও এটাই সারবস্তু। দুই পুরাতন সমাজব্যবস্থার গর্ভেই নতুন সমাজব্যবস্থার জন্ম হয়। পুঁজিবাদের গর্ভে সমাজতন্ত্র- কমিউনিজম জন্মগ্রহণ করছে। উৎপাদন শক্তি এবং উৎপাদন সম্পর্কের মধ্যে অবিরাম সংঘাত চলেছে। পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থায় উৎপাদন শক্তি ও উৎপাদন সম্পর্কের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয় "সামাজিক উৎপাদন এবং ব্যক্তিগত ভোগের মধ্যে দ্বন্দ্বের" আকারে। এই ব্যবস্থায় উৎপাদনের বেশি বেশি সামাজিকীকরণ হয়- লক্ষ লক্ষ শ্রমিক নিয়মিত এক অর্থনৈতিক সংগঠনে পরস্পরের সাথে বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু এই যৌথ শ্রমের ফল ভোগ করে মুষ্টিমেয় পুঁজিপতিশ্রেণী। উৎপাদনে নৈরাজ্য, সঙ্কট এবং জনসাধারণের নিরাপত্তার অভাব তীব্রতর হয়। সামাজিক উৎপাদন এবং ব্যক্তিগত ভোগের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব, উৎপাদনের উপায়গুলিতে পুঁজিবাদী সম্পত্তি বিলোপের, পুঁজিবাদী ব্যবস্থা বিলোপের এবং সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে। উৎপাদন শক্তি এমন এক স্তরে পৌঁছেছে যেখানে উৎপাদন সম্পর্কের আমূল পরিবর্তন ছাড়া উৎপাদন শক্তির পূর্ণ বিকাশ অসম্ভব। এইভাবেই আদিম সাম্যবাদী ব্যবস্থা থেকে জন্ম নিয়েছিল দাস ব্যবস্থা, দাস ব্যবস্থা থেকে ভূমি-দাস, অথবা সামন্তবাদী ব্যবস্থা এবং সামন্তবাদী ব্যবস্থা থেকে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা। সমাজ বিকাশের পরবর্তী উচ্চস্তর হলো সমাজতন্ত্র- কমিউনিজম। মার্কস ও এঙ্গেলস বলেছেন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতিই ভিত্তি যার উপর গড়ে উঠেছে রাজনৈতিক, আইনগত, দার্শনিক, ধর্মীয় এবং বিজ্ঞান বিষয়ক সৌধ। অর্থনৈতিক ভিত্তির পরিবর্তনের সাথে সাথে এই ভিত্তির উপর গড়ে ওঠা সমগ্র সৌধের মোটামুটি দ্রুত পরিবর্তন হয়ে যায়। এঙ্গেলস একটি হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেছেন: ইতিহাসের বস্তুবাদী ধারণা অনুযায়ী "ইতিহাসে চূড়ান্ত নির্ধারক বিষয় হলো সত্যিকারের জীবনে উৎপাদন ও পুনরুৎপাদন।" মার্কস এবং তিনি এর বেশি কিছু বলেননি। এর থেকে কেউ যদি ঐতিহাসিক বস্তুবাদের বিকৃত ব্যাখ্যা করে বলেন যে, অর্থনৈতিক বিষয়ই একমাত্র নির্ধারক বিষয়, তা হলে তিনি এই ধারণাকে অর্থহীন, ভাসা ভাসা এবং অস্বাভাবিক একটি বাক্যে পরিণত করবেন। এঙ্গেলস যোশেফ ব্লকের কাছে প্রেরিত এক পত্রে (২১-২২ সেপ্টেম্বর, ১৮৯০) বলছেন: অর্থনৈতিক পরিস্থিতি হলো ভিত্তি, কিন্তু সৌধের বিভিন্ন উপাদান- শ্রেণীসংগ্রামের রাজনৈতিক আকার ও তার ফলাফল, যেমন একটি সফল যুদ্ধের পর বিজয়ী শ্রেণী কর্তৃক সংবিধান রচনা ইত্যাদি, আইনগত এবং বিশেষ করে অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কে এই সব প্রকৃত সংগ্রামের প্রতিফলন, রাজনৈতিক, আইনগত, দার্শনিক ও ধর্মীয় অভিমত- এগুলিও ঐতিহাসিক সংগ্রামের গতির উপর প্রভাব বিস্তার এবং অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ করে সেগুলির আকার নির্দিষ্ট করে (মার্কস-এঙ্গেলস, মনোনীত পত্রাবলী, মস্কো পৃ. ৩৯৪-৯৫)। ডাবলু বরগিয়াসের কাছে প্রেরিত এক পত্রে এঙ্গেলস ইতিহাসের বস্তুবাদী ধারণার আরও পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিয়েছেন (২৫ জানুয়ারি, ১৮৯৪)। এই পত্রে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের অন্যতম আবিষ্কারক এঙ্গেলস বলেছেন, রাজনৈতিক, আইনগত, দার্শনিক, ধর্মীয়, শিক্ষাগত বিকাশ ইত্যাদির ভিত্তি হলো অর্থনৈতিক। কিন্তু এগুলি পরস্পর পরস্পরকে প্রভাবিত করে, অর্থনৈতিক বুনিয়াদের উপরেও প্রভাব বিস্তার করে। একথা বলা সঠিক হবে না যে, অর্থনৈতিক কারণ এবং পরিস্থিতিই একমাত্র সক্রিয় উপাদান- অন্য সবকিছুই নিষ্ক্রিয়। মানুষই তাদের ইতিহাস রচনা করে, কিন্তু এটা তারা করে একটা নির্দিষ্ট পরিবেশে, যে পরিবেশে তারা মানুষ হয়েছে। এই পরিবেশে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত সম্পর্ক প্রভাবিত করলেও, অর্থনৈতিক সম্পর্কই চূড়ান্ত ভূমিকা গ্রহণ করে। মার্কস ও এঙ্গেলস-র কালে কমিউনিজমের দিকে আকৃষ্ট যুবসমাজ কখনও কখনও অর্থনৈতিক দিকের উপর মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব আরোপ করতো (এঙ্গেলস বলেছেন, এর জন্য মার্কস এবং নীতিও অংশত দায়ী)। বিরুদ্ধবাদীদের সাথে বিতর্ককালে মার্কস ও এঙ্গেলসকে প্রধান নীতির উপর জোর দিতে হয়েছিল, কারণ বিরুদ্ধবাদীরা অর্থনৈতিক বুনিয়াদের অস্তিত্বকে স্বীকার করতেন না- এই দুই মনীষীর অপর দিকগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখের সময় ছিল না। এঙ্গেলস বলেছেন: "কিন্তু ইতিহাসের কোনো অংশ উপস্থিত করার সময়, অর্থাৎ তত্ত্বকে কাজে রূপান্তরিত করার সময় কোনো প্রকারের ভুল বরদাস্ত করা যায় না" (এঙ্গেলস-যোশেফ ব্লকের কাছে প্রেরিত পত্র ২১-২২ সেপ্টেম্বর, ১৮৯০: মার্কস-এঙ্গেলস, মনোনীত পত্রাবলী, মস্কো)। জার্মানির অনেক যুবক লেখকের কাছে "বস্তুবাদী" বাক্যটি ছিল বাৎকেবাৎ- আরও অধ্যয়ন ছাড়াই যে কোনো বিষয়কেই "বস্তুবাদী” মার্কা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হতো। "কিন্তু ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের ধারণা হলো, সর্বোপরি এটা অনুশীলনের পথনির্দেশক...। নতুন করে সমস্ত ইতিহাস অধ্যয়ন করতে হবে, বিভিন্ন সমাজের অস্তিত্বের অবস্থার বিস্তারিত অধ্যয়ন করতে হবে এবং এই অধ্যয়নের ভিত্তিতে রাজনৈতিক, আইনগত, বিজ্ঞান বিষয়ক, দার্শনিক, ধর্মীয় ইত্যাদি অভিমত সম্পর্কে সিদ্ধান্তও টানতে হবে (এঙ্গেলস: একটি পত্র ৫ আগস্ট ১৮৯০)। এঙ্গেলস একই পত্রে উল্লেখ করেছেন এক্ষেত্রে কাজ খুবই কম হয়েছে কারণ খুব কম সংখ্যক লোকই গুরুত্ব দিয়ে কাজটি শুরু করেছেন। মার্কস ও এঙ্গেলস প্রায়ই বলতেন তাঁদের তত্ত্ব একটি পুজার মন্ত্র নয়, এই তত্ত্ব কাজের ক্ষেত্রে পথের নির্দেশ দেয়। মার্কসবাদ "অমোঘ সত্য" বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব স্বীকার করে না- সত্য সব সময়েই আপেক্ষিক। এটাই হলো বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি। মার্কস ও এঙ্গেলস প্রত্যেকটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে স্বাগত জানাতেন এবং সেই আবিষ্কার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতেন। এই দুই মনীষী চেয়েছিলেন কমিউনিস্ট মতাদর্শের অনুগামীগণ অধ্যয়নের মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞানের পরিধি বিস্তার করুক। সি পি আই (এম) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির ত্রৈমাসিক মুখপত্র ‘মার্কসবাদী পথ’ পত্রিকার তৃতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যায় (নভেম্বর ১৯৮৩) জ্যোতি বসুর এই লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল। প্রবন্ধের মূল শিরোনাম ‘মার্কসবাদী দৃষ্টিতে কমিউনিস্টদের লক্ষ্য ও পথ’। ‘মার্কসবাদী পথ’ পত্রিকার এই সংখ্যাটি কার্ল মার্কস মৃত্যুশতবার্ষিকী সংখ্যা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল।
প্রকাশের তারিখ: ১৭-জানুয়ারি-২০২৫ |
|
© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |