সমাজতান্ত্রিক আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে চীনের পথ

বিজয় প্রসাদ, টিংস চাক
এক দশক আগে সিপিসি-র ১৮তম জাতীয় কংগ্রেসে বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক হু জিনতাও দুর্নীতি শব্দটি উচ্চারণ করেছিলেন একাধিকবার। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন,আমরা যদি এই বিষয়টি সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে না পারি, তবে এটা দলের সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে। এমনকী দলের ধ্বংস বা রাষ্ট্রের পতনও ঘটে যেতে পারে। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শি জিনপিং এর সামনে প্রধান কাজ ছিল এই সমস্যার সামাল দেওয়া।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কংগ্রেস সদ্য অনুষ্ঠিত হল অক্টোবরের ১৬ থেকে ২২ অবধি। ৯ কোটি ৬০ লক্ষ সদস্যের চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিরা প্রতি পাঁচ বছর অন্তর মিলিত হন নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ দিশা নির্ধারণ করার জন্যে। এ বছরের কংগ্রেসের মূল বিষয়ের একটি ছিল ‘আধুনিকতার লক্ষ্যে চীনের পথ’ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের ‘নবজীবন’ ঘটানো। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শি জিনপিং তাঁর উত্থাপিত প্রতিবেদনে ‘একটি আধুনিক সমাজতান্ত্রিক দেশ’ গঠনের লক্ষ্যে আগামী দিনের রূপরেখা তুলে ধরেছেন।

বেশিরভাগ পশ্চিমী সংবাদভাষ্যই বেজিং-এ যে প্রকৃত আলোচনা হয়েছে তা, এড়িয়ে গেছে। তাদের আগ্রহ বেশি ছিল সম্মেলনের আলোচনা নিয়ে আকাশ কুসুম অনুমানে (তার মধ্যে ছিল, সম্মেলনের সমাপ্তি অধিবেশনের মাঝপথে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হু জিনতাও-এর হঠাৎ সম্মেলন কক্ষ থেকে চলে যাওয়াও, যদিও প্রকৃত কারণ ছিল তাঁর অসুস্থতা মাত্র)। লোকের মুখে কথা না বসিয়ে কংগ্রেসে যে আলোচনা হয়েছে সেখানে কান পাতলেই অনেক বেশি বিষয় জানতে পারা যেতো।

সমাজতান্ত্রিক আধুনিকীকরণ

১৯৪৯ সালে কমিউনিস্ট পার্টি যখন চীনের ক্ষমতায় আসে তখন সে দেশ ছিল পৃথিবীর একাদশ দরিদ্রতম দেশ।  ১৮৩৯ সালে চীনে ব্রিটিশ আক্রমণের মধ্য দিয়ে 'অপমানের শতাব্দী'র সূচনার পর এই প্রথম চীন বিশ্বে এক মহাশক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে যেখানে সামাজিক অবস্থা ১৯৪৯ এর তুলনায় বহুগুণ উন্নততর হয়েছে। সম্মেলনস্থল 'গণমিলনায়তন' (গ্রেট হল অব পিপল) থেকে সামান্য হাঁটা দূরত্বে রয়েছে চেয়ারম্যান মাও স্মৃতিকক্ষ যা মানুষকে ১৯৪৯ সালের চীন বিপ্লবের বিপুল সাফল্য ও সমাজে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাবের কথা অবিরত স্মরণ করিয়ে দেয়।

২০১২ সালে ১৮তম কংগ্রেসে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক হন শি জিনপিং এবং ২০১৩ সালের মার্চ মাসে গণসাধারণতন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। এর পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য অতিক্রম করেছে সেই দেশ। অর্থনৈতিকভাবে, চীনের জিডিপি বা মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ২০১৩ সালের ৫৮.৮ ট্রিলিয়ন য়ুনান থেকে ২০২১ সালে ১১৪.৩৭ ট্রিলিয়ন (এক ট্রিলিয়ন মানে এক লক্ষ কোটি) য়ুনান, দ্বিগুণ বৃদ্ধি হয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে এবং ওই সময়পর্বে তাদের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন প্রতি বছর বৃদ্ধি পেয়েছে ৬.৬ শতাংশ হারে। ইতিমধ্যে দেশের মাথাপিছু মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ২০১৩ থেকে ২০২১ এর সময়পর্বে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে চীন বিশ্বের উচ্চ আয়ের দেশগুলির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বিশ্ব অর্থনীতির সাপেক্ষে, ২০২১ সালে চীনের জিডিপি বা মোট ঘরোয়া উৎপাদন দাঁড়িয়েছে বিশ্বের মোট উৎপাদনের ১৮.৫ শতাংশ এবং ২০১৩ থেকে ২০২১ সময়পর্বে বিশ্বের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ৩০ শতাংশ ঘটেছে চীনের সুবাদে। বিশ্বের মোট উৎপাদিত পণ্যের চীনের অংশ ২০১২ সালে ২০ শতাংশের সামান্য বেশি যা ২০২১ সালে দাঁড়িয়েছে ৩০ শতাংশে। ১৯৭৮ সালে অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে চীনের প্রবেশের পর ২০১৪ অবধি ৯.৮ শতাংশ হারে বার্ষিক বৃদ্ধির যে ঐতিহাসিক অর্জন ছিল তাকে ছাপিয়ে গেছে এই সাম্প্রতিক অগ্রগতি। এই অর্থনৈতিক সাফল্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা এবং এটা নানা প্রতিকূলতা ও তার পরিণতি ব্যতিরেকে ঘটেনি।

কংগ্রেসের উদ্বোধনে প্রতিবেদন উত্থাপন করতে গিয়ে এক দশক আগেকার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শি বলেন, ‘সংস্কারের পথে বিপুল সাফল্য অর্জিত হয়েছে, বিমুক্তকরণ এবং সমাজতান্ত্রিক আধুনিকীকরণ.... একইসঙ্গে যদিও বিভিন্ন প্রশ্ন ও সমস্যা- যার কিছু কিছু বছরের পর বছর ধরে মাথাচাড়া দিচ্ছিল এবং কিছু অতি সম্প্রতি দেখা দিয়েছে.. এগুলি জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ দাবি করে।’ তিনি আলোচনাক্রমে ‘দুর্বল, অন্তঃসারশূন্য ও শিথিল পার্টিনেতৃত্বের’ উল্লেখ করে বলেন, ‘মুদ্রা-ভজনা, ভোগবাদ, অহংসর্বস্বতা এবং ইতিহাস প্রাচীন নাস্তিবাদ’ বিকাশের প্রক্রিয়ার গভীরে প্রোথিত একটি সমস্যা যা ‘ভারসাম্যহীন, সমন্বয়বিহীন এবং অস্থিতিশীল’। এক দশক ধরে যিনি দেশকে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন এই কথাগুলি ছিল তার তরফে করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আত্মসমালোচনা।

দুর্নীতি

এক দশক আগে সিপিসি-র ১৮তম কংগ্রেসে বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক হু জিনতাও ‘দুর্নীতি’ শব্দটি উচ্চারণ করেছিলেন একাধিকবার। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘আমরা যদি এই বিষয়টি সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে না পারি, তবে এটা দলের সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে। এমনকী দলের ধ্বংস বা রাষ্ট্রের পতনও ঘটে যেতে পারে।’ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শি জিনপিং এর সামনে প্রধান কাজ ছিল এই সমস্যার সামাল দেওয়া। ২০১৩ সালে পার্টি প্রধান হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে, পার্টি ও সরকারের উচ্চস্তর থেকে মাঠপর্যায় অবধি ছড়িয়ে হয়ে পড়া দুর্নীতির উল্লেখ করে শি বলেন যে তিনি ‘একইসাথে ব্যাঘ্র ও পতঙ্গের বিরুদ্ধে লড়তে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ সরকারি সফর ঘিরে অপ্রয়োজনীয় সভাসমিতি ও ব্যয়বহুল অভ্যর্থনা আয়োজনে রাশ টানতে ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে পার্টি ‘আট দফা’ বিধি চালু করার সঙ্গেই ঘোষণা করে ‘প্রণিধাণ ও ব্যয় সংকোচের’ স্বপক্ষে।

ইতিমধ্যে, শি-র প্রশাসনের ‘গণলাইন প্রচারাভিযান’ এর পরবর্তী সময়ে সরকারি সভার সংখ্যা আগেকার পর্বের তুলনায় ২৫ শতাংশ হ্রাস, ১,৬০,০০০ ভুয়ো কর্মকর্তাকে বেতন-খাতা থেকে অপসারণ এবং ২,৫৮০ টি ‘অপ্রয়োজনীয়’ সরকারি ভবন নির্মাণ বাতিল করা হয়েছে। ২০১২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২২-এর এপ্রিল অবধি এক দশকের সময়পর্বে দুর্নীতি বিরোধী লড়াইয়ে ৪৭ লক্ষ মামলা দায়ের করা হয়েছে ৪৭ লক্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তদন্ত হয়েছে পার্টি সদস্যদের বিরুদ্ধে। চলতি বছরের প্রথম অর্ধেই ২৪ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত হয়েছে, প্রাক্তন মন্ত্রী, প্রাদেশিক রাজ্যপাল এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বৃহত্তম ব্যাঙ্কের প্রধানকে পার্টি থেকে বহিষ্কৃত এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সহ কঠোর শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।

হু জিনতাও-র মন্তব্য ও শি জিনপিং-র অভিযানে এটাই ধরা পড়ে যে, ১৯৭৮ পরবর্তী উচ্চতর অর্থনৈতিক বিকাশের সময়পর্বে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যরা জনগণ থেকে ক্রমান্বয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছিল। রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যকালের শুরুর মাসগুলিতেই শি ‘গণলাইন প্রচারাভিযান’ চালু করেন, যাতে পার্টিকে তৃণমূল স্তরের সাথে ঘনিষ্ঠ বন্ধনে আবদ্ধ করা যায়। ২০১৪ সালে "দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যমাত্রা" ভিত্তিক অভিযানের অংশ হিসেবে ৮,০০,০০০ পার্টি ক্যাডারদের সমীক্ষার জন্যে পাঠানো হয় ১,২৮,০০০ গ্রামে প্রকল্পের কর্মকাণ্ড হিসেবে। কোভিড-১৯ অতিমারীর মধ্যেও ২০২০ সালে, ২০১৫ এর অক্টোবরের সাপেক্ষে চীন সাফল্যের সাথে চরম দরিদ্রতার অবসান ঘটায় বিশ্ব পর্যায়ে ৭৬ শতাংশ হ্রাসে অবদান রাখার পাশাপাশি।

দুর্নীতিগ্রস্ত 'ব্যাঘ্র ও পতঙ্গের' বিরুদ্ধে শি'র কঠোর বক্তব্য ও অভিযান পার্টির আত্মশুদ্ধির পরিসীমা ছাড়িয়ে সরকারের প্রতি চীনের জনগনের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। হার্ভাড কেনেডি স্কুলের অ্যাশ সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্স এন্ড ইনোভেশনের গবেষণাপত্র অনুযায়ী ২০১৬ সালে সরকারের সামগ্রিক কর্মদক্ষতার হার ছিল ৯৩.১ শতাংশ, যেখানে দেখা গেছে অনুন্নত গ্রামাঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বাড়তি সামাজিক পরিষেবা, স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রতি আস্থা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানের ফলেই গ্রামীণ অঞ্চলে সন্তুষ্টি বৃদ্ধি ঘটেছে।

ইতিহাসের সঠিক পক্ষাবলম্বন

২০ তম কংগ্রেসে শি জিনপিং চীনের "অপমানের শতাব্দী"-র উল্লেখ সহ উপনিবেশবাদের ইতিহাসের ওপর আলোকপাত করে আগামীদিনের পথ চলার ক্ষেত্রে এর অভিঘাত নিয়ে আলোচনা করেছেন। শি বলেন, 'আধুনিকীকরণের দিকে এগোতে গিয়ে, কতগুলো দেশগুলো যেভাবে অতীতের মত যুদ্ধ, উপনিবেশ স্থাপন ও লুন্ঠনের পথে হাঁটছে, সে পথ নেবে না চীন। অপরের ক্ষতিসাধনের বিনিময়ে সমৃদ্ধি অর্জনের সেই রক্তমাখা বর্বরতার পথ উন্নয়নকামী দেশগুলির জনগনের প্রভূত দুঃখ যন্ত্রণার কারণ হয়েছে। আমরা ইতিহাসের সঠিক প্রান্তের পক্ষ নেবো এবং মানব প্রগতির পথই অবলম্বন করব।'

চীনের সরকারি প্রতিনিধিরা বারবারই আমাদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে তাদের দেশ বিশ্বের বুকে আধিপত্য কায়েম করতে আগ্রহী নয়। মানব জাতির সামনে উপস্থিত প্রতিবন্ধকতা ও প্রত্যাহ্বানের সমাধানের লক্ষ্যে সচেষ্ট হতে তারা অপর দেশসমূহের সাথে সহযোগিতার সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ২০১৩ সালে 'দ্য বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' নামে "উভয়ে জয়ী" (উইন-উইন) অভিমুখের সহযোগিতা ও বিকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল এবং যার ফলে এখন অবধি ১৫০টি দেশে মোট এক ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে জরুরি ক্ষেত্রের পরিকাঠামো গঠন ও নির্মাণ কেন্দ্রিক চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। পরিবেশগত বিপর্যয় নিয়ে চীনের উদ্বেগের সাক্ষ্য মেলে বিগত এক দশকে গোটা বিশ্বের অরণ্য আচ্ছাদন উদ্যোগের এক চতুর্থাংশের রূপায়ণ সম্ভব করা এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ ও বিদ্যুৎবাহী যন্ত্রের উৎপাদনে সমগ্র বিশ্বে নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার মধ্যে। জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ বিষয়ক নীতিমালায় চীন মুনাফার ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছে জীবনরক্ষায়, অনুদান হিসেবে ৩২৫ মিলিয়ন (এক মিলিয়ন মানে দশ লক্ষ) ডোজ টীকা প্রদান করেছে এবং প্রাণরক্ষা করেছে কোটি কোটি মানুষের। জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এই উদ্যোগের ফলে চীনা জনগনের গড় আয়ু ২০২০ সালে ৭৭.৯৩ বছর থেকে ২০২১ সালে ৭৮.২ বছরে পৌঁছয় এবং প্রথমবারের মত মার্কিন জনগণের গড় আয়ুকে ছাড়িয়ে যায়, যা ছিল ২০২০ সালে ৭৭ বছর ও ২০২১ সালে ৭৬.১ বছর, এই পতন '১৯২১-২৩ এর পর বৃহত্তম দ্বিবার্ষিক পতন'।

চীনের কমিউনিস্টরা এই ঘটনাবলীকে সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন ও সুনিশ্চিত করার সরকারের দীর্ঘমেয়াদী কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখে না। আর মাত্র ২৭ বছর পর চীন বিপ্লবের শতবার্ষিকী উদযাপন করবে। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াং জেমিন দুটো শতবর্ষী লক্ষ্যের কথা বলেছিলেন- কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা (১৯২১) ও চীনের বিপ্লবের (১৯৪৯) এর ১০০ বছর যা ‘সমগ্র চীনের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং সমকালীন সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতিগত কার্যক্রম’-এ স্বাক্ষর রেখেছে। সেই সময়ে মূল নজর ছিল বৃদ্ধির হারে। ২০১৭ সালে শি জিনপিং লক্ষ্যসূচিতে বদল এনে গুরুত্ব প্রদান করেন ‘তিনটি কঠিন লড়াই’: বৃহত্তর অর্থনৈতিক সঙ্কটের লাঘব, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে। এবারের নতুন কংগ্রেস এই 'কঠিন লড়াই'-এর পরিসীমা অতিক্রম করেছে চীনের সার্বভৌমত্ব ও চীনা জনগনের আত্মমর্যাদা সম্প্রসারের লক্ষ্য অর্জনে।

ভাষান্তর: শুভপ্রসাদ নন্দী মজুমদার


প্রকাশের তারিখ: ০২-নভেম্বর-২০২২

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org