|
কিউবার বিপ্লব, যার কারিগর শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরাডব্লিউ টি হুইটনি |
২০০০ সাল থেকেই শিক্ষাক্ষেত্রে তৃতীয় বিপ্লবের সূত্রপাত ঘটতে শুরু করে। কিউবা রাষ্ট্র যাকে ‘ব্যাটল অফ আইডিয়াজ’ বলে অভিহিত করত তার সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এর জন্য প্রয়োজন ছিল এমন ধরনের পঠনপাঠন ব্যবস্থা, যা সামাজিক ন্যায় ও সমতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করবে এবং তার সঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে তাদের নৈতিক ও সামাজিক অবলম্বন হয়ে উঠবে। শিল্পকলায় শিক্ষার পরিসর বৃদ্ধি পেল, সামাজিক কাজের উপর গুরুত্ব দিয়ে নতুন নতুন স্কুল তৈরি হল। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে দৃশ্য, শ্রাব্য এবং কম্পিউটার ভিত্তিক শিখন পদ্ধতি উপলব্ধ হয়ে উঠল। |
বৈষম্যের অবসান ঘটাবার প্রথম পদক্ষেপ ছিল কিউবার শিক্ষাব্যবস্থা। কিউবার স্কুলগুলোর দরজা উন্মুক্ত ছিল কিউবার সমস্ত তরুণ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য। শোষিত শ্রেণিভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্যও, যাতে তারা বিভিন্ন ধরনের কর্মক্ষেত্রে যোগদান করতে পারে এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে কিউবাকে প্রতিষ্ঠিত ও শক্তিশালী করে তোলার কর্মযজ্ঞে প্রত্যেকেই যোগ দিতে পারে। কিউবার সাক্ষরতা কর্মসূচীর শিক্ষকরা গত ডিসেম্বরের ২০ তারিখই হন্ডুরাসে এসে পৌছেছেন। তাঁরা সংখ্যায় ছিলেন প্রায় ১২৩ জন। হন্ডুরাসের সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁরা লেগে পড়েছেন কিউবার বিশেষ শিখন-পদ্ধতি ‘হ্যাঁ, আমিও পারি’ অনুসরণ করে সাক্ষরতার প্রসার ঘটাবার কাজে। এটা এমন একটা পদ্ধতি, যার প্রয়োগ ঘটেছে প্রায় গোটা পৃথিবী জুড়ে। ২২ ডিসেম্বর কিউবার শিক্ষক দিবস। ১৯৬১ সাল ছিল কিউবার ‘শিক্ষাবর্ষ’। ১৯৬১ সালের ওই দিনেই ফিদেল কাস্ত্রো হাভানায় এক বিশাল জনসমুদ্রের সামনে ওই বছরের মতো কিউবার সাক্ষরতা অভিযান শেষ হওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তিনি ঘোষণা করেন কিউবা আজ থেকে ‘নিরক্ষরতা-মুক্ত একটি দেশ’। প্রায় এক লক্ষ তরুণ-তরুণী গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী নিরক্ষর প্রাপ্তবয়স্কদের পড়তে ও লিখতে শেখানোর কাজে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যোগ দিয়েছিল। এই তরুণ-তরুণীরা বেশিরভাগই কিউবার বিভিন্ন শহরের ছেলেমেয়ে। যে পরিবারগুলোকে তারা পড়াত তাদের সঙ্গেই তারা বসবাস করত এবং খেত-খামারের বিভিন্ন কাজও করতো। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন আরও হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক-শিক্ষিকা, ইউনিয়নিস্ট এবং নানান ধরনের শ্রমজীবী মানুষ। শেষ পর্যন্ত ২,৭১,০০০ সংখ্যক সাক্ষরতা স্বেচ্ছাসেবক ৭,০৭,০০০ সংখ্যক কিউবার মানুষকে (মোট জনসংখ্যা ছিল ৭২,৯১,২০০) শেখাতে পেরেছিল কীভাবে পড়তে হয়। কিউবার মানুষের কাছে তাদের ‘হিরো’ হোসে মার্তির আদর্শই ছিল শিক্ষা ও বিপ্লবের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতিভূ। মার্তির বই অন এডুকেশন-এর ভূমিকায় সম্পাদক ফিলিপ ফোনার লিখেছেন, ‘হোসে মার্তির চোখে জনসাধারণের শিক্ষা ছিল স্বাধীনতার ভিত্তি। একটি দেশের সরকার দেশের নাগরিকদের সেবা করতে প্রকৃতই আগ্রহী কিনা তা আসলে নিশ্চিতভাবে বলা যায় কতটা দ্রুততা ও তৎপরতার সঙ্গে তারা দেশের মানুষদের শিক্ষিত করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে তাই দেখে।’ সাক্ষরতা প্রসারের কর্মসূচী বিষয়ে বলতে গিয়ে মার্তির বক্তব্যের সঙ্গে আরও একটু সংযোজন করে ১৯৬১ সালের সেপ্টেম্বরে কাস্ত্রো বলেছিলেন, ‘শিক্ষাক্ষেত্রে বড়সড় বিপ্লব ছাড়া বিপ্লবের কথা কল্পনাও করা যায় না... বিপ্লব ও শিক্ষার ধারণা দুটি প্রায় সমার্থক... বিপ্লব সফলতর হবে শিক্ষাক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটলে তবেই, একদিকে দক্ষ কর্মীদের সংখ্যা যতই বাড়বে ততই বাড়বে দক্ষ ও উপযুক্ত প্রশাসক, শিক্ষক ও বিপ্লবী কর্মীদের সংখ্যা। ফোনার লক্ষ করেছেন ১৯৫৯ সালে কিউবায় ২৩ শতাংশ মানুষ সাক্ষর ছিলেন। ‘গড় স্কুল-শিক্ষা ছিল তৃতীয় শ্রেণির,’ এবং ‘মাত্র কয়েক হাজার’ শিশু মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলে যেত। কাস্ত্রোর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৬১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বিপ্লবী সরকার ১৫০০০ স্কুল স্থাপন করেছিল। ওই সময়ে সামরিক ঘাঁটিগুলোকে স্কুলে রূপান্তরিত করা হয় এবং বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের জন্য স্কুল তৈরি করা হয়। ১৯৭৩ সালের মধ্যে সাক্ষরতা প্রায় সর্বজনীন হয়ে উঠল। ফোনার জানাচ্ছেন, সেই সময়ে প্রায় ১৮,৯৮,০০০টি শিশু প্রাথমিক স্কুলগুলোতে যাচ্ছিল। ৪,৭০,০০০ জন কিশোর-কিশোরী মাধ্যমিক স্তরের স্কুলে ভর্তি ছিল। এই সময়ের মধ্যে একটি ‘দ্বিতীয় শিক্ষা-বিপ্লব’ প্রায় সমাগত হয়ে পড়ে। ২০০০০ জন অতিরিক্ত শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল যাতে মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক-পূর্ব স্কুলগুলোতে আসা এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের তাঁরা সামাল দিতে পারেন। ২০০০ সাল থেকেই শিক্ষাক্ষেত্রে তৃতীয় বিপ্লবের সূত্রপাত ঘটতে শুরু করে। কিউবা রাষ্ট্র যাকে ‘ব্যাটল অফ আইডিয়াজ’ বলে অভিহিত করত তার সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এর জন্য প্রয়োজন ছিল এমন ধরনের পঠনপাঠন ব্যবস্থা, যা সামাজিক ন্যায় ও সমতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করবে এবং তার সঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে তাদের নৈতিক ও সামাজিক অবলম্বন হয়ে উঠবে। শিল্পকলায় শিক্ষার পরিসর বৃদ্ধি পেল, সামাজিক কাজের উপর গুরুত্ব দিয়ে নতুন নতুন স্কুল তৈরি হল। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে দৃশ্য, শ্রব্য এবং কম্পিউটার ভিত্তিক শিখন পদ্ধতি উপলব্ধ হয়ে উঠল। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেল কারণ কর্তৃপক্ষ কম্পিউটার ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি-ভিত্তিক শিখন-সহায়ক উপাদানের মাধ্যমে দূর দূরান্তে ছাত্র-ছাত্রীদের নিজস্ব এলাকাগুলোতে নির্দেশাবলী সম্প্রচার করত। ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ৮০ শতাংশ নিজেদের বাড়ির কাছাকাছি থেকে পড়াশোনা করতে পারছিল। তা সত্ত্বেও কিছু সমস্যা দেখা দিল। হিউম্যানিটিজ ও সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার ছাত্র-ছাত্রীদের তুলনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিভিন্ন শাখাগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কমে গেল। দেশের অর্থনৈতিক বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠনের অবদান আগের চাইতে কমে গেল। অপেক্ষাকৃত কম সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষক হয়ে ওঠার প্রস্তুতি নিতে আগ্রহী হচ্ছিল এবং কুড়ি হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা অপেক্ষাকৃত বেশি আয়ের চাকরির জন্য এই কাজে ইস্তফা দিলেন। এর ফলে সরকার আবার আঞ্চলিক স্তরে বিশ্ববিদ্যালয়-ভিত্তিকপঠনপাঠনের পরিসর কিছুটা সংকুচিত করল, প্রবেশিকা পরীক্ষাগুলো আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক করল, নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হল বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের ওপর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্সগুলোর সময়কাল কমিয়ে দেওয়া হল। ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী ২,৪১,০০০ জন শিক্ষার্থী, বা ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সের মধ্যে প্রতি তিনজন কিউবাবাসীর মধ্যে একজন ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে পড়াশোনা করছে। এদের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় পাঠরত। এবং ৮,৫৪২ জন কলা বিভাগের ছাত্র-ছাত্রী। এর মধ্যে সর্বক্ষণই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধের ফলে নানান প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। ২০২২ সালের গোড়ার দিকে কিউবার শিক্ষা মন্ত্রক একটি রিপোর্ট পেশ করে। সেখানে বলা হয়েছে: অবরোধকালীন সময়ে বৈদেশিক পণ্য ক্রয় করার ক্ষেত্রে কিউবা অসুবিধায় পড়েছে। আমেরিকা ব্যতীত অন্যান্য দেশ থেকে বিভিন্ন দ্রব্য আমদানি করার ক্ষেত্রে পরিবহন মাসুল অত্যন্ত বেশি হওয়ায় দাম বেড়েছে। বিদেশ থেকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কেনা পণ্যসমূহের জন্য অত্যধিক অর্থব্যয় হয়েছে, যা আমদানি করার পক্ষে প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। অবরোধকালীন নিয়মনীতি অনুযায়ী বিভিন্ন নির্দিষ্ট পণ্য যার হয়ত খুব ছোট্ট কোনও একটা উপাদান বা যন্ত্রাংশ আমেরিকান, সেগুলোও ছিল নিষিদ্ধ, তা সেগুলো যেখানেই নির্মিত হোক না কেন। প্রয়োজনীয় নানা পণ্যদ্রব্য যেগুলো প্রায়শই পাওয়া যেত না তাদের তালিকাটা বেশ দীর্ঘ: কাগজ, বই, নোটবই, কম্পিউটার, বিভিন্ন দৃশ্য ও শ্রব্য যন্ত্র, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও উপাদান, লেখার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান, শিল্পকলার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী, খেলাধুলোর সামগ্রী, বিশেষভাবে সক্ষম ছাত্র-ছাত্রীদের যে বিশেষ যন্ত্রপাতিগুলো দরকার, বাদ্যযন্ত্র, রেকর্ডিংয়ের যন্ত্র, ইংরেজি ভাষা শিক্ষার বইপত্র, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেকশন এবং বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। তা সত্ত্বেও, কয়েক দশকের ধারাবাহিক ও একটানা প্রচেষ্টার ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন ধরনের কাজের দায়িত্ব নিতে সক্ষম হয়ে উঠেছিল যে-কাজগুলোর উদ্দেশ্য কিউবার অর্থনীতি ও সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তপোক্তভাবে গড়ে তোলা। ১৯৬০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে কিউবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ১২ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী ‘বৃত্তি’সহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করে, যার মধ্যে ৮০,০০০ ছিলেন চিকিৎসক। ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের মধ্যে ৬৪ শতাংশ ছিলেন মেয়েরা, যেখানে ১৯৫৯ সালে সংখ্যাটা ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। ২০১৯ সালে কিউবার শ্রমিকদের ২.২ শতাংশ ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। ২০১২ সালে কিউবার জিডিপির ৯ শতাংশ শিক্ষাখাতে ব্যয় করা হয়েছিল। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির ৪.৯৬ শতাংশ শিক্ষার জন্য ব্যয় করা হয়। ২০১৮ সালে কিউবা তার জাতীয় বাজেটের ১৩ শতাংশ শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দ করেছিল। ১৯৯৫ সালে মেইন থেকে আসা কিছু পর্যটকদের নিয়ে একটি ছোটো বাস হাভানা থেকে ত্রিনিদাদ যাচ্ছিল, সেই বাসে আমি নিজেও ছিলাম। এক কিউবান মহিলাকে মাঝরাস্তায় লিফট দেওয়া হয়। সেই মহিলা কথাপ্রসঙ্গে বলেন ‘আমরা, কিউবার মানুষেরা চাই আরও বেশি উৎপাদক তৈরি হোক, উপভোক্তা নয়’। ফিদেল কাস্ত্রো ১৯৬১ সালে প্রথম শিক্ষক দিবসে একই কথা বলেছিলেন। হাভানা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পাঠরত নিজের সহপাঠীদের তিনি নাকচ করেছিলেন এই বলে যে, ‘কেবল পড়াশোনা করে উকিল হওয়া ছাড়া ওদের আর কোনও উদ্দেশ্যই নেই’। সেই সময় ‘শাসকশ্রেণি শ্রমিকদের ছেলেমেয়েদের পড়াত না’। ‘গ্রামের মানুষ যারা মোট জনসংখ্যার অর্ধেক তাদের জন্য কোনও মাধ্যমিক স্কুল ছিল না’— এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মত একটা অনুন্নত দেশে যে কোনও ধরনের বিপ্লব সংগঠিত করার ক্ষেত্রে এটা একটা সত্যিকারের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। যে ক’জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষিত কর্মজীবী রয়েছে তারা প্রত্যেকেই উচ্চ আয়সম্পন্ন পরিবার থেকে এসেছে... তারা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাবান শ্রেণির প্রতিনিধি, তাই যুক্তিগত কারণেই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের বিরোধী।’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য বিভিন্ন দেশের বামপন্থীরা প্রায়শই সামাজিক সংস্কারসাধন ও বিপ্লবকে দুটি ভিন্ন প্রজেক্ট হিসেবে দেখেন। এদেশের তরুণ নাগরিকদের সমাজতন্ত্রকে বলবৎ করে তোলার উদ্দেশ্যে যাতে তারা বিভিন্ন কাজে সক্রিয়ভাবে যোগদান করতে পারে তার জন্য প্রস্তুত করে তোলা হয়েছে। কিউবার প্রস্তুতিপর্বের এই অভিজ্ঞতা এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হতে উঠতে পারে। খুব ছোটো ছোটো করে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুলে যেখানে ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে সেখানে কিছু কিছু পুনর্গঠনমূলক সংস্কারসাধনের কাজ চলছে। এই প্রচেষ্টাগুলিই হয়ত ক্রমে বৈপ্লবিক হয়ে উঠতে পারে। এই ধরনের সংশোধনমূলক কাজগুলি হল: ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সমতা ও সমভাব জিইয়ে রাখা, তাদের মধ্যে সামাজিক সমস্যাগুলোর বিষয়ে সম্যক ধারণা তৈরি করা এবং সকলের স্বার্থে কাজে লাগতে পারে এমন কিছু কর্মসূচীমূলক প্রজেক্টে ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহ দেওয়া। ঋণ: পিপলস উইকলি ওয়ার্ল্ড প্রকাশের তারিখ: ১৯-জানুয়ারি-২০২৩ |
© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |