|
রোজা লুক্সেমবার্গের জীবন ও চিন্তা- প্রথম পর্বইরফান হাবিব |
মার্কসের মতে – পুঁজি দুটি ভাগে বিকশিত হয় – ধ্রুবক পুঁজি (কনস্ট্যান্ট ক্যাপিটাল) এবং পরিবর্তনশীল পুঁজি (ভ্যারিয়েবল্ ক্যাপিটাল)। পরিবর্তনশীল পুঁজি হল সেই পুঁজি, যা শ্রমের জন্য ব্যয় করা হয়, অন্যান্য অর্থনীতিবিদেরা যাকে মজুরি ফান্ড বলেন। অতএব, মজুরি ফান্ড শ্রমিকদের মধ্যে বন্টন করা হলে, শ্রমিক কেবল যতটুকু তাঁর মজুরি ততটুকুর সমপরিমাণ কিনতে পারেন – তার বেশি কিনতে পারেন না কারণ তাঁরা কেবল শ্রমিক। |
রোজা লুক্সেমবার্গ-এর শাহাদতের শততম বছরে তাঁর জীবনের স্মৃতিচারণে বক্তৃতা করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। জার্মানির কমিউনিস্ট পার্টি এবং স্পার্টাকাস লীগ-এর নেতা রোজা লুক্সেমবার্গ সহ কার্ল লিবকনেশ্ট-কে ১৯১৯ সালের জানুয়ারি মাসে হত্যা করা হয়েছিল। ফ্রেডরিখ এবার্ট-এর সমাজ-গণতান্ত্রিক (সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক) সরকার কর্তৃক বার্লিন-এর এক বামপন্থী পুলিশ প্রধানকে অপসারণের সূত্র ধরে জার্মানিতে একটি বিদ্রোহ সুচনা হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর ১৯১৮ সালে সমাজ-গণতন্ত্রীরা (সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট) ক্ষমতা লাভ করেছিল। এবার্ট জানুয়ারি-র এই বিপ্লবকে গুঁড়িয়ে দিতে জার্মান সেনাবাহিনীকে ডাকলেন। ১৫ জানুয়ারি বার্লিনের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এই বিদ্রোহের নেতা রোজা লুক্সেমবার্গ ও লিবকনেশ্ট-কে; এরপর নির্যাতন এবং হত্যা করা হয় দুজনকেই। রোজা-র লাশ ফেলে দেওয়া হয় একটি খালে, তাঁর মৃতদেহ কয়েক মাস পরে পাওয়া যায়। লিবকনেশ্ট-কে মাথায় গুলি করে তাঁর দেহ ফেলে রাখা হয় জঙ্গলে। রোজা লুক্সেমবার্গের দীর্ঘদিনের কমরেড, সঙ্গী ও বন্ধু, জোগিচেস, প্রথমে গ্রেপ্তারি থেকে রক্ষা পেয়ে, রোজা-র হত্যাকারীদের খুঁজে বার করার ও তাদের প্রকাশ্যে আনার চেষ্টা করে চলেন, তারপর সেই বছরেরই মার্চ মাসে তিনি নিজেও গ্রেপ্তার ও খুন হন। মার্কসবাদের ইতিহাসে সর্বাধিক পরিচিত মহিলা তাত্ত্বিক রোজা লুক্সেমবার্গ। তিনি মূলত জার্মান ভাষায় লিখতেন। তাঁর রচনাভাণ্ডারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ 'দি অ্যাকুমুলেশন অফ ক্যাপিটাল' ১৯১৩ সালের গোড়ায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এর পর পরই সমালোচকদের উত্তরে তিনি লেখেন 'অ্যাকুমুলেশন অফ ক্যাপিটাল: অ্যান অ্যান্টি-ক্রিটিক'। ইংরেজি অনুবাদে ক্যাপিটাল সংগ্রহের ভূমিকা রয়েছে আরেক নারী অর্থনীতিবিদ জোয়ান রবিনসন। অধ্যাপক পিটার হুডিস ও কেভিন অ্যান্ডারসন কর্তৃক সংকলিত তাঁর নির্বাচিত লেখা বই 'দি রোজা লুক্সেমবার্গ রিডার', শোভনলাল দত্তগুপ্তের সম্পাদনায় ‘রিডিংস ইন রেভলিউশন অ্যান্ড অর্গানাইজেশন: রোজা লুক্সেমবার্গ অ্যান্ড হার ক্রিটিকস’ এবং অপর একটি সম্পাদিত কাজ ‘দি ন্যাশনাল কোয়েশ্চেন: সিলেক্টেড রাইটিংস বাই রোজা লুক্সেমবার্গ’ প্রকাশিত হয়েছে। এগুলি এখন ইংরেজিতে পাওয়া যায় এবং রোজা লুক্সেমবার্গ সম্পর্কে আমার জ্ঞান কার্যত তাঁর এই রচনাগুলিতেই সীমাবদ্ধ। রোজা লুক্সেমবার্গ সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়ে শুরু করি। তিনি ছিলেন একজন পোলিশ ইহুদি, রাশিয়া অধিকৃত পোল্যান্ড সীমান্তের তৎকালীন জামোস্ক-এ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৮৭ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে (রোজা লুক্সেমবার্গ ১৮৭১ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন), তিনি প্রলেতারিয়েত নামে পরিচিত সোশ্যালিস্ট পার্টি অফ পোল্যান্ড-এ যোগদান করেছিলেন। এরপর তাঁর রাজনৈতিক কার্যকলাপ জারপন্থী পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শুরু করায় ১৮৮৯ সালে তিনি জার্মানি চলে যান। সেখানে তাঁর পরিচয় হয় লিও জোগিচেসের সঙ্গে। জোগিচেস এরপর তাঁর উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি রাজনৈতিক দলের একজন উল্লেখযোগ্য সংগঠকও ছিলেন। জোগিচেস আজীবন এমনকী মৃত্যুর পরও রোজা লুক্সেমবার্গ-এর সহায়ক ছিলেন। রোজা লুক্সেমবার্গ-এর লক্ষ্যে তিনিও মৃত্যু বরণ করেন। ১৮৯৩ সালে রোজা লুক্সেমবার্গ জার্মান সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে যোগ দেন। অর্থাৎ, তিনি ছিলেন একজন পোলিশ ইহুদি, যিনি যোগ দিয়েছিলেন জার্মান পার্টিতে। তবে তিনি পোলিশ পার্টি এবং পরবর্তীকালে পোল্যান্ডের সোশাল ডেমোক্রেটিক পার্টির পোলিশ বিষয়বস্তু নিয়ে আগ্রহী ছিলেন। এক্ষেত্রে একটি কথা মনে রাখতে হবে যে, জার্মান পার্টি ছিল সে সময়ে বিশ্বের বৃহত্তম মার্কসবাদী দল। এই অতি সুসংগঠিত পার্টি বহু নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল এবং ফেডারেল পার্লামেন্ট-এর (রাইখস্ট্যাগ) এক তৃতীয়াংশ গঠন করেছিল। শুধু পার্টিই নয়, বিপুল সংখ্যক ট্রেড ইউনিয়ন এবং রোজা লুক্সেমবার্গের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে নারী সংগঠনসহ গণসংগঠনও ছিল। এই জার্মান পার্টি এবং পোলিশ পার্টিতে রোজা লুক্সেমবার্গ প্রচুর সমস্যা ও প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছিলেন। এক্ষেত্রে তাঁর উত্তরগুলি জার্মানির সোশাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্বের থেকে ভিন্ন ছিল। আমি কালানুক্রমিক পদ্ধতিতে শুরু করব না, বরং এমন একটি ক্রম বজায় রেখে আমার কথা বলব, যাতে করে, সম্ভবত ভারতীয় হিসাবে, আমরা আরও বেশি আগ্রহী হব। প্রথম প্রশ্নটি হল উপনিবেশবাদ এবং শ্রমজীবী শ্রেণির আন্দোলন নিয়ে। অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, ইউরোপের শ্রমজীবী শ্রেণির আন্দোলন বহুদিন পর্যন্ত রাজনৈতিক পদক্ষেপের অন্যতম বিষয়বস্তু হিসাবে উপনিবেশবাদকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেনি। এমনকী রাশিয়ান কমিউনিস্ট পার্টি অর্থাৎ বলশেভিকরাও ১৯১৯ সাল থেকে উপনিবেশবাদের প্রসঙ্গটিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ হিসাবে দেখতে শুরু করেছিলেন। এক্ষেত্রে ইউরোপে শ্রমজীবী শ্রেণির আন্দোলনগুলি এই অর্থে অন্তরায় ছিল যে, সেগুলি কেবল নিজের দেশের শ্রমজীবী শ্রেণির সমস্যা নিয়ে ভাবিত ছিল - তাদের মজুরি, সমাজে তাদের গুরুত্ব, নিজেদের দেশের মধ্যে সমাজতন্ত্রের জন্য লড়াই। উপনিবেশবাদের প্রতি সেগুলির আগ্রহ ছিল ক্ষীণ। তাই, উপনিবেশবাদকে না বুঝলে যে পুঁজিবাদকে বোঝা যায় না, তা উপলব্ধি করা রোজা লুক্সেমবার্গ-এর একটি অত্যোৎকৃষ্ট অবদান। এই দুটি বিষয় গভীরভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাঁর ১৯১৩ সালের বই, ‘দি অ্যাকুমুলেশান অফ ক্যাপিটাল’-এ এ প্রসঙ্গ ছিল। রোজা লুক্সেমবার্গ তাঁর পাঠকদের সামনে একটি নির্দিষ্ট ধাঁধা রেখেছিলেন, একে আমি 'লুক্সেমবার্গ ধাঁধা' বলি। পুঁজির বৃদ্ধি, যাকে মার্কস বর্ধিত পুনরুৎপাদন (এক্সটেন্ডেড রিপ্রোডাকশন) বলেছেন, এবং যাকে রোজা লুক্সেমবার্গ সংক্ষিপ্তভাবে বলেছেন সঞ্চয় (অ্যাকুমুলেশন), কেবলমাত্র উদ্বৃত্ত মূল্য উৎপাদনের মাধ্যমেই ঘটতে পারে। এবার তিনি বলছেন - একটি বদ্ধ পুঁজিবাদী সমাজ নিন (মার্কস ‘ক্যাপিটাল’-এর প্রথম খণ্ড এবং তাঁর মৃত্যু পরবর্তী সময়কালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ড যেমনটার উল্লেখ ছিল) - এমন একটি সমাজ যেখানে কেবল দুটি শ্রেণি – পুঁজিপতি এবং শ্রমিক (ইউরোপের সমস্ত দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে বদ্ধ পুঁজিবাদী সমাজ হয়ে ওঠার প্রবণতা তৈরি হচ্ছিল)। এবারে ভাবুন, এরকম একটি বদ্ধ পুঁজিবাদী সমাজে, উদ্বৃত্ত উৎপাদন কীভাবে বাড়ানো যাবে? এইটাই তো সমস্যা। উদ্বৃত্ত কেবল পুঁজিপতিদের কাছে বিক্রি করা যেতে পারে কারণ শ্রমিকেরা তাঁদের মজুরির বাইরে কিনতে পারেন না। তাই কেবলমাত্র পুঁজিপতিরা ডিপার্টমেন্ট ১-এর পণ্য অর্থাৎ মূলধনের পণ্য কিনতে পারে। কিন্তু কীভাবে তারা কিনতে পারে? তারা তাদের নিজস্ব সম্পদ, নিজস্ব উদ্বৃত্ত দিয়ে কেনে। তাহলে এটি কীভাবে বাড়ানো যায়? তাদের উদ্বৃত্ত দিয়ে তারা তাদের নিজস্ব পণ্য কেনে। তারা যা পেয়েছে তা এমনিতেই উদ্বৃত্ত। ফলত, রোজা লুক্সেমবার্গ বলেন যে, একটি বদ্ধ পুঁজিবাদী সমাজে কোন বর্ধিত পুনরুৎপাদন হতে পারে না। তাই মার্কস এ প্রসঙ্গে ভুল নয়, অসম্পূর্ণ ছিলেন। তিনি এক পুঁজিপতির ক্ষেত্রে বর্ধিত পুনরুৎপাদনের উদাহরণ দিয়েছেন। কিন্তু একজন পুঁজিপতির ক্ষেত্রে যা সত্য হতে পারে, গোটা অর্থনীতির ক্ষেত্রে তা সত্য হবে না কারণ একে অপরের কাছ থেকে ক্রয়-বিক্রয় করে পুঁজিপতিরা বাড়তি উদ্বৃত্ত তৈরি করতে পারে না। তাহলে এই বাড়তি উদ্বৃত্ত কীভাবে তৈরি হয়? রোজা লুক্সেমবার্গের যুক্তিতে, বাড়তি উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে কারণ পুঁজিবাদী অর্থনীতি অ-পুঁজিবাদী ক্ষেত্রগুলিকে শোষণ করে – যেমন, কৃষক, উপনিবেশ। ‘নিউইয়র্ক ট্রিবিউন’-এ প্রকাশিত কার্ল মার্কস-এর নিবন্ধগুলি রোজা লুক্সেমবার্গ-এর কাছে ছিল না – সেগুলির পুনর্মুদ্রণ হয়নি। এগুলি কেবলমাত্র সোভিয়েত ইউনিয়ন-এই ছিল ছাপা অবস্থায় পাওয়া যায়। তাই তিনি জানতেন না যে উপনিবেশবাদের উপর কার্ল মার্কসের একটি বিরাট কাজ পাওয়া যায়। ফলত, কীভাবে উপনিবেশগুলি পুঁজিবাদী শক্তি দ্বারা শোষিত হয়, তিনি তার বর্ণনা দিয়েছেন নিজের লেখা দুটি অধ্যায়ে। এগুলি প্রায় মার্কস-এর লেখার মতো ছিল – উপনিবেশবাদী শোষণের বিরুদ্ধে অত্যন্ত শক্তিশালী অভিযোগ। দুটি অধ্যায় হল, জাতীয় অর্থনীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং পণ্য অর্থনীতির সূচনা। এই দুটি অধ্যায়ে তিনি বর্ণনা করেছেন কীভাবে - সামরিক উপায়ে – উপনিবেশবাদী শক্তি, পুঁজিবাদী শক্তি, চীন, ভারত এবং আরব দেশগুলিকে শোষণ করছিল। তাই তিনি যুক্তি দেন যে, সম্প্রসারণের জন্য পুঁজিবাদকে উপনিবেশ দেশগুলিকে শোষণ করতে হবে, সেখানে পুঁজি তৈরি করতে হবে। অন্যথায় সেই দেশগুলিকে বাধ্যতামূলক বাজারে (ক্যাপ্টিভ মার্কেট) পরিণত করতে হবে, ও শোষণের মাধ্যমে তথাকথিত মুক্ত বাণিজ্যের মাধ্যমে নয়, চাপিয়ে দেওয়া বাণিজ্যের মাধ্যমে - অতিরিক্ত পুঁজির জন্য সংস্থান তৈরি করতে হবে। দেখা গেছে যে, (এবং এই কৃতিত্ব বুখারিনের, যিনি দুর্ভাগ্যবশত রোজা লুক্সেমবার্গ-এর একটি কঠোর সমালোচনা লিখেছিলেন, কিন্তু বুখারিনই কার্ল মার্কস-এর উদ্ধৃতিটি পেয়েছিলেন) উপনিবেশবাদী বাণিজ্যে পুঁজিবাদী দেশগুলি থেকে কম মূল্যের পণ্য উপনিবেশ দেশগুলিতে বেশি মূল্যে বিনিময় করা হয়। ফলে এ জাতীয় বাণিজ্যে এক অসম বিনিময় চলে। এখন আমরা জানি যে, উপনিবেশ দেশগুলি থেকে পুঁজিবাদী দেশগুলিতে প্রচুর কিছু প্রবাহিত হয়েছিল। ফলে, রোজা লুক্সেমবার্গ-এর প্রথম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ছিল সম্পূর্ণ তাত্ত্বিক কাজের মাধ্যমে উপনিবেশবাদ-বিরোধী সংগ্রামকে এজেন্ডা হিসাবে তুলে আনা। যদি কেউ পুঁজিবাদের বিরোধিতা করতে চান তবে তাকে অবশ্যই উপনিবেশবাদের বিরোধিতা করতে হবে। এর ভিত্তিতে তিনি জার্মান সরকারের উপনিবেশবাদী নীতি এবং আফ্রিকা ও অন্যান্য আফ্রিকান উপনিবেশগুলিতে গণহত্যার যথেষ্ট আক্রমণ না করার জন্য জার্মান সোশ্যালিস্ট ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্বের সমালোচনা করেছিলেন। অতএব, রোজা লুক্সেমবার্গ-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান হল, একটি তাত্ত্বিক কাজের মাধ্যমে শ্রমিক শ্রেণির আন্দোলনের রণকৌশলে সমগ্র উপনিবেশ প্রসঙ্গটিকে তুলে আনা। দুঃখের কথা হল যে, এই নির্দিষ্ট দিকটি কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল এবং অন্যরা গ্রহণ করেনি। পুঁজিবাদের বিরুদ্ধের লড়াইকে উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধের লড়াইয়ের থেকে আলাদা করা যায় না – এই রকম অত্যন্ত গুরুতর বিষয় যে তিনি উত্থাপন করছেন, সে কথা বিচার না করে বুখারিন, সুইজি এবং অন্যান্যরা রোজা লুক্সেমবার্গ-এর নিবন্ধগুলি নিয়ে সমস্যা তৈরিতে উৎসাহ দিতেন। ১৯১৯ সালে লেনিন যখন কমিউনিস্ট আন্দোলনে ঔপনিবেশিক ও জাতীয় প্রশ্নে তাঁর থিসিস পেশ করেন, তখন এই নির্দিষ্ট বার্তাটি স্পষ্ট করে বলেন। কিন্তু এটি ছিল তাত্ত্বিক ভিত্তি ছাড়াই, যা কি না রোজা লুক্সেমবার্গ দিয়েছিলেন। আমি আর এই বিষয়ে ঢুকছি না। অসম বিনিময় নিয়ে আরঘিরি ইমানুয়েল-এর লেখা রোজা লুক্সেমবার্গ-এর থিসিসের প্রতি আগ্রহ পুনরুজ্জীবিত করেছে। এবং বর্ধিত পুনরুৎপাদন নিয়ে রোজা লুক্সেমবার্গ-এর সমালোচনাকে, অটো বাওয়র, বুখারিন ও সুইজি-র কোনোক্রমে বাতিল করে দেওয়ার চেয়ে উৎকৃষ্ট উপায়ে বিচার করে খতিয়ে দেখতে হবে।
সূত্র— রোজা লুক্সেমবার্গ-এর মৃত্যু শততম বছরে রোজা লুক্সেমবার্গ ফাউন্ডেশন, সাউথ এশিয়া-র সহায়তায়, সেন্টার ফর উইমেন'স ডেভলপমেন্ট স্টাডিস ২০১৯ সালের মার্চ মাসে একটি প্যানেল ডিসকাশান-এর আয়োজন করে। এই প্যানেল ডিসকাশানে বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ইরফান হাবিব, অধ্যাপক উৎসা পট্টনায়ক ও অধ্যাপক চিরশ্রী দাশগুপ্ত। তাঁদের বক্তব্য এরপর সেন্টার ফর উইমেন'স ডেভলপমেন্ট স্টাডিস থেকে পুস্তিকা আকারে ইংরেজিতে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়। আজকের নিবন্ধ অধ্যাপক ইরফান হাবিব-এর বক্তব্যের লিখিত (অনূদিত) রূপ। ভাষান্তর: উর্বা চৌধুরী প্রকাশের তারিখ: ১৫-জানুয়ারি-২০২৪ |
© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |