আদিবাসী পরিচিতি, বিশ্বাসের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদীদের প্রভাব

বৃন্দা কারাত
যখন শাহ এসব কথাগুলি বলছেন, তখন ওড়িশার সিজিমালি ও রায়গড়ার আদিবাসী গোষ্ঠীগুলি তাদের পবিত্র পাহাড়কে রক্ষা করার জন্য জমায়েত করছিল বক্সাইট খনি লুঠেরাদের হাত থেকে সেগুলোকে বাঁচাতে যাতে সম্মতি দিয়েছে বিজেপিরই সরকার। ছত্তিশগড়ের হাসদেও অঞ্চলে হাজার হাজার আদিবাসী বছরের পর বছর লড়াই করেছেন তাদের অরণ্যের অধিকার বেসরকারি খনি কর্পোরেশনের হাতে তুলে দেওয়ার বিরুদ্ধে— অথচ আগে ঘোষণা করা হয়েছিল এই সব অরণ্যকে ‘কেউ ঢুকতেই পারবে না’ এমন অঞ্চল হিসাবে বিবেচনা করা হবে। তবে এখনকার শাসকেরা অন্য রকম সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গ্রামসভার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে লক্ষ লক্ষ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এসব গাছের মধ্যে রয়েছে শাল ও করম গাছ।এগুলো হল সেই সব পবিত্র গাছ যাদের ঘিরে আদিবাসীদের উৎসব ও রীতিনীতি পালিত হয়। দিল্লির প্রকৃতি পূজকেরা উল্লেখযোগ্যভাবেই প্রকৃতির অত্যন্ত সুদক্ষ ধ্বংসকারী। 

গত সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সৃষ্ট জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চ (জেএসএম) এবং ‘বনবাসী কল্যাণ আশ্রম’ দিল্লিতে একটা কনক্লেভের আয়োজন করেছিল। এর  নাম দেওয়া হয়েছিল ‘জনজাতি সাংস্কৃতিক সমাগম।’ সারা দেশের হাজার হাজার আদিবাসী এতে যোগ দিয়েছিলেন। এই অনুষ্ঠানের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল রূপকথাসদৃশ বীর বিরসা মুন্ডার ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে সংগঠকেরা স্বীকার করে নেন যে, এই জমায়েতের পিছনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে নানা ধরনের সংস্থা যার মধ্যে ছিল রেল মন্ত্রক থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রক, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা এবং শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকেরা। এখানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ফলে অনুষ্ঠানটি ছিল কার্যত আধা-সামাজিক। সেকারণেই এখানে যে সব বক্তৃতা করা হয়েছে, যে সব দাবি তোলা হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সে সবের যে জবাব দিয়েছেন— সেগুলি অনেক বেশি খুঁটিয়ে যাচাই করার যোগ্য। আপাতদৃষ্টিতে সাংস্কৃতিক জমায়েত যে ধরনের সাধারণ লোকজনকে আমন্ত্রণ করে এটা মোটই সে রকম ছিল না।

জেএসএমের মূল অ্যাজেন্ডা যে ক্রিশ্চান ধর্মে ধর্মান্তরকরণের বিরোধিতা করা, সেটা সকলেই জানে। এই সংগঠনের মূল দাবি হল সেই সব আদিবাসী গোষ্ঠী যারা ক্রিশ্চান হয়েছে তাদের তালিকা থেকে ছাঁটাই করতে হবে এবং তাদের সাংবিধানিক ও আইনি অধিকারগুলি থেকে বঞ্চিত করতে হবে। এবং সেটা করা হচ্ছে এই যুক্তিতে যে, যেহেতু তারা ক্রিশ্চান হয়ে গিয়েছে তাই তারা আর আদিবাসীদের মূল বিশ্বাসগুলি মেনে চলে না। এই সংগঠনটি মধ্য ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে, বিশেষ করে ছত্তিশগড়ে, এই মর্মে হিংসাত্মক প্রচারও চালিয়েছে যেখানে লক্ষ্যবস্তু করে তোলা হয়েছে ক্রিশ্চান ধর্মে ধর্মান্তরিত আদিবাসী পরিবারগুলিকে। এই প্রচার এতদূর পর্যন্ত গেছে যে আদিবাসী গ্রামগুলিতে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমিতে যে সব ক্রিশ্চান আদিবাসীর মৃতদেহ কবর দেওয়া হয়েছিল সেখান থেকে দেহগুলিকে তুলে ফেলতে বাধ্য করা হয়েছে। 

এবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ঝুলে থাকা একটি মামলায়, ভারতের শীর্ষ আদালত এই মর্মে অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করেছে যে, এভাবে কবর থেকে দেহ তুলে ফেলা যাবে না। তবুও এমন ঘটনা ঘটেই চলেছে বিজেপির রাজ্য সরকারগুলির মদতে। 

মৌলিক পার্থক্য

দিল্লির কনক্লেভে তালিকা থেকে ছাঁটাই করার দাবি তোলা হয়েছে আদালতের একটি সাম্প্রতিক রায়ের ভিত্তিতে। সেই রায়ে ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রপতির ঘোষণাকে নতুন করে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছিল তপশিলি জাতির (এসসি) অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা, যারা ‘হিন্দু ছাড়া অন্য ধর্মের’ কথা প্রচার করবে, তারা তপশিলিদের জন্য নির্ধারিত সাবিধানিক ও আইনি সুযোগগুলি পাওয়ার জন্য বৈধ হিসাবে বিবেচিত হবে না। জেএসএমের দাবি হল, এই নীতিকে এখন তপশিলি উপজাতিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে মান্যতা দিতে হবে। তারা বলছে এই পদক্ষেপের জন্য দরকার হবে ‘সংবিধানের দুর্বলতাকে’ দূর করা। এই সংগঠনের একজন নেতা এভাবেই বিষয়টা উপস্থাপিত করেছেন।

যাকে জেএনএম দুর্বলতা বলছে সেটা আসলে একটা মৌলিক পার্থক্য: ভারতের সংবিধান বা আইন, কোনওটাই তপশিলি উপজাতিদের ধর্মের সঙ্গে সংযুক্ত করে বিবেচনা করে না। যদিও তপশিলি জাতিদের ক্ষেত্রে ধর্ম বিবেচনা করা হয়। কনক্লেভের মঞ্চে বিরসা মুন্ডা ও হিন্দুত্বের ছাঁচে ঢালা ‘ভারত মাতা’র ছবি ছাড়াও ছিল প্রয়াত কার্তিক ওরাঁও এর মূর্তি— তিনি ছিলেন সংসদের কংগ্রেস সদস্য। একদা তিনি ওরাঁও গোষ্ঠীর দুজন সদস্যের তপশিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টির বিরোধিতা করে আদালতে মামলা করেছিলেন। কার্তিক ওরাঁওয়ের যুক্তি ছিল, যে দুজন তপশিলি উপজাতির সদস্য প্রার্থী হতে চান তাঁরা আসলে ক্রিশ্চান। এবিষয়ে ১৯৬৩ সালের রুলিংয়ে পাটনা হাইকোর্ট কার্তিক ওরাঁওয়ের আর্জি খারিজ করে জানিয়েছিল, ‘আদিবাসী পরিচিতি ধর্মভিত্তিক নয়।’ এই পরিচিতি দাঁড়িয়ে রয়েছে জাতিগত ও গোষ্ঠীগত আত্মীয়তার সম্পর্কের ওপর এবং একজন ওরাঁও ওরাঁওই থাকবেন, তা তিনি হিন্দু, ক্রিশ্চান কিংবা বৌদ্ধ যাই হোন না কেন।’ পাটনা হাইকোর্ট আরও বলেছিল যে, মূলত ধর্মান্তরিত আদিবাসীরাও গোষ্ঠীর উৎসবে ও উদযাপনে অংশগ্রহণ করেন, এবং আদিবাসী গোষ্ঠীগুলির যে সাধারণ উদ্বেগের বিষয়, তাতেও অন্যদের সঙ্গে যোগ দেন। এই রায়টাই আইনি নজির হয়ে আছে। জেএসএম এটাকেই বদলে দিতে চায়। এবং এটা করার পদ্ধতি হল হাড় হিম করা নিষ্ঠুরতা: ধর্মান্তরিত পরিবারগুলিকে বিচ্ছিন্ন করো, গোষ্ঠীর উৎসবে তারা যাতে যোগ দিতে না পারে সে বিষয়ে বাধ্য করো, এবং গায়ের জোরে বিচ্ছিন্ন করার পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে প্রমাণ করো যে ধর্মান্তরিতরা তাদের আদিবাসী সংস্কৃতিকে বিসর্জন দিয়েছে। এবং ঐতিহ্যগত গ্রামসভাগুলি থেকে তাদের বহিষ্কার করো। প্রথমে কারসাজি করে বিচ্ছিন্ন করা হয়, পরে বলা হয় এটাই হল প্রমাণ।   

অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়ার স্বপক্ষে প্রচার

একইসঙ্গে জেএসএম সজোরে প্রচার করা এই বিষয়টিতে চাপ দিচ্ছে যে, আদিবাসীরা ‘সনাতন পরিবারের’ প্রান্তবাসী জনগোষ্ঠী। কনক্লেভে সংগঠনের জাতীয় কনভেনর ঘোষণা করেছেন, ‘ওরা বলে আদিবাসীরা হিন্দু নয়। এই খেলাটা কী? আমরা সকলেই রামের সন্তান — এটা আমাদের বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র।’  আরেকজন নেতা ঘোষণা করেছেন যে, ‘সনাতন ধর্মের বিশাল গাছের আশ্রয়ে রয়েছে আদিবাসীরা।’ জেএসএমের ধর্মান্তরিতদের ‘ঘর ওয়াপসি’র বিষয়টা পুরোপুরি ঝাপসা – এ সব অনুষ্ঠানে আদিবাসীদের প্রতীক ব্যবহার করা হয় না, করা হয় হিন্দুত্বের প্রতীক।  জেএসএমের বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গীতে আদিবাসীরা হল ‘বনবাসী’- অরণ্যচারী যারা তাদের প্রভু রামের সেবায় উৎসর্গীকৃত, উচ্চবর্ণের দেবতাদের অধীন এবং সেই সব দেবতার আশীর্বাদই তাদের পরিত্রাণ করতে পারে। আদিবাসী গ্রামে হিন্দু দেবতাদের মূর্তি সহ মন্দির নির্মাণ, স্থানীয় দেবতাদের বিষ্ণু, শিব বা দুর্গার রূপভেদ হিসাবে ব্যাখ্যা করা, এবং গ্রামের ঢোকার প্রতিটি বিন্দুতে হনুমানের মূর্তি স্থাপনা করা, এগুলি সবই আধিপত্যবাদী দখলদারির প্রচার। 

সংবিধানের ২৫ ধারার আওতায় আদিবাসীদের যে কোনও ধর্ম বেছে নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। এই ধারাতেই ধর্ম ও নীতির স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বেশ কিছু আইন রয়েছে, যেগুলির মধ্যে কয়েকটি বেশ ভয়ঙ্কর, যা দিয়ে ‘জাল ধর্মান্তরকরণের’ মোকাবিলা করা হয়। আদিবাসীরা হিন্দু, ক্রিশ্চান কিংবা যে কোনও ধর্ম বেছে নিতে পারেন। তবে একজন আদিবাসী রামকে নাকি যীশুকে মানেন তার সঙ্গে তাঁর আদিবাসী পরিচিতির কোনও সম্পর্ক নেই। এটা মৌলিক সাংবিধানিক নীতি। যা মেনে নেওয়া যায় না তা হল এই নীতির বিকৃতি যেখানে বলা হয়, যে আদিবাসী রামের পুজো করছেন তিনিই একমাত্র অদিবাসী সংস্কৃতির ধারক। আর যিনি যীশুকে মানছেন তিনি সেই সংস্কৃতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। তাদের বিশ্বাস, তাদের পুজোর চরিত্র, তাদের সর্বপ্রাণবাদী প্রাচীন ঐতিহ্য ও প্রথা— এসবের জন্য আদিবাসীরা অনে‌ক দিন ধরেই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি চাইছেন। উদাহরণ স্বরূপ ঝাড়খণ্ড বিধানসভা একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে যেখানে জনগণনার সময়ে একটা আলাদা ধর্মের কলাম রাখার কথা বলা হয়েছে যাতে আদিবাসীরা তাদের ধর্মবিশ্বাস উল্লেখ করতে পারেন। এই দাবি সমর্থন করেছেন আদিবাসী বুদ্ধিজীবীরা এবং সারা দেশের অসংখ্য সংগঠন। তবে আদিবাসী বিশ্বাসকে অসম্মান করে সরকার এই দাবিকে অন্যায়ভাবে উপেক্ষা করছে। 

আদিবাসীদের জরুরি ইস্যুগুলি

অমিত শাহ স্বীকৃতি দিয়েছেন সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী অ্যাজেন্ডাগুলিকে। আরও অনেক দূর পর্যন্ত গিয়ে তিনি বলেছেন, জেএসএমের এখনকার প্রচার হল সমসাময়িক কালের ‘উলগুলান।‘ বিরসা মুন্ডার উলগুলান ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ— এবং উল্লেখযোগ্য হল, তিনি ক্রিশ্চান মিশনারীদের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করেছিলেন এই কারণে যে, তিনি তাদের দেখেছিলেন শাসনের হাতিয়ার হিসাবে। এর বিপরীতে শাহর রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা হল, তারা কখনও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়েননি, বরং তাদের সঙ্গে আপোস করেছিলেন। এখন বিরসার নাম ও ঐতিহাসিক উলগুলানের কথা উল্লেখ করা মানে একটা সংকীর্ণতাবাদী প্রচারকে বৈধতা দেওয়া, যে প্রচার চালানো হচ্ছে ধর্মান্তরিত আদিবাসীদের বিরুদ্ধে। এটা বিরসার ঐতিহ্যের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা। শাহ আরও ঘোষণা করেছেন যে, সনাতনীরাও প্রকৃতি পূজক এবং জল, জঙ্গল, পাহাড় রয়েছে ‘আমাদের বিশ্বাসের কেন্দ্রে।’ ওনার কথাগুলো সবই শূন্যগর্ভ। যখন শাহ এসব কথাগুলি বলছেন, তখন ওড়িশার সিজিমালি ও রায়গড়ার আদিবাসী গোষ্ঠীগুলি তাদের পবিত্র পাহাড়কে রক্ষা করার জন্য জমায়েত করছিল বক্সাইট খনি লুঠেরাদের হাত থেকে সেগুলোকে বাঁচাতে যাতে সম্মতি দিয়েছে বিজেপিরই সরকার। ছত্তিশগড়ের হাসদেও অঞ্চলে হাজার হাজার আদিবাসী বছরের পর বছর লড়াই করেছেন তাদের অরণ্যের অধিকার বেসরকারি খনি কর্পোরেশনের হাতে তুলে দেওয়ার বিরুদ্ধে— অথচ আগে ঘোষণা করা হয়েছিল এই সব অরণ্যকে ‘কেউ ঢুকতেই পারবে না’ এমন অঞ্চল হিসাবে বিবেচনা করা হবে। তবে এখনকার শাসকেরা অন্য রকম সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গ্রামসভার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে লক্ষ লক্ষ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এসব গাছের মধ্যে রয়েছে শাল ও করম গাছ।এগুলো হল সেই সব পবিত্র গাছ যাদের ঘিরে আদিবাসীদের উৎসব ও রীতিনীতি পালিত হয়। দিল্লির প্রকৃতি পূজকেরা উল্লেখযোগ্যভাবেই প্রকৃতির অত্যন্ত সুদক্ষ ধ্বংসকারী। 

আদিবাসীদের সামনে যেসব জরুরি ইস্যুগুলি রয়েছে সেগুলো হল তাদের অরণ্যের অধিকার আইনে অন্তর্ঘাত, গ্রামসভার অধিকার কার্যত নিশ্চিহ্ন করা, পঞ্চায়েতে অন্তর্ঘাত চালানো (নির্দিষ্ট করে রাখা এলাকায় সম্প্রসারণ), কিংবা পিইএসএ, সংরক্ষিত পদগুলি বিপুল সংখ্যায় শূন্য পড়ে থাকা, হস্টেলে আদিবাসী পড়ুয়াদের করুণ অবস্থা, স্কলারশিপের বকেয়া টাকা, আদিবাসী এলাকায় নাগরিক সুবিধা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের সুবিধার ঘাটতি, এবং এরকম আরও অনেক সমস্যা।  এই গোটা সময়পর্বে কখনও কোনও ক্ষেত্রেই— জেএসএম আওয়াজ তোলেনি আদিবাসীদের অধিকার রক্ষার স্বার্থে এবং সরকারি মদতে কর্পোরেটদের জল, জঙ্গল, জমি লুঠের বিরুদ্ধে। বরং ধর্মের ভিত্তিতে আদিবাসী গোষ্ঠীগুলিকে বিভক্ত করে তারা সেই সব কোম্পানির স্বার্থের সেবা করেছে যারা আদিবাসীদের উচ্ছেদ করতে চেয়েছে। যারা অধিকার বঞ্চিত তাদের বিভাজিত করে ফেলাটা সবচেয়ে পুরোনো কৌশল। যারা আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাদের কাছে জেএসমের ডাকা জমায়েত ও অমিত শাহের জেএসএম-স্বীকৃতি হল সামনে হাজির হওয়া চ্যালেঞ্জ। এই সব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা যায় এবং অবশ্যই তা করতে হবে আদিবাসীদের প্রতিরোধের ঐক্যবদ্ধ ইচ্ছাশক্তি ও গণতান্ত্রিক শক্তির সম্মিলনের দ্বারা এবং তা সম্পন্ন করতে হবে মহান আদিবাসী বীরদের মর্মতেজকে শক্তি হিসাবে কাজে লাগিয়ে। 

ভাষান্তর: সুচিক্কণ দাস
ঋণ: দ্য হিন্দু


প্রকাশের তারিখ: ০৫-জুন-২০২৬

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org