৫০তম বছরে বিপ্লবী চেতনা আরও উজ্জ্বল

রাধাকৃষ্ণন এমবি
১৯৬৫ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত এক দশকের মার্কিনীদের যুদ্ধাভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ফিলিপিনসকে নিয়ে গঠিত মিত্র শক্তি ওই দেশের ছোট্ট এলাকার মধ্যে ৭.৮৫ মিলিয়ন টন বোমা বর্ষণ করে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে যত বোমা বর্ষণ হয়েছে এটা ছিল তার তিনগুণ। এর মিলিত ধ্বংসক্ষমতা ছিল ৬৪০টি হিরোশিমার পারমাণবিক বোমার সমান। সেসবকে হেলায় হারিয়ে ভিয়েতনাম তার অগ্রগতি বজায় রেখেছে।

স্থির হয়ে আছে যে ছবিটি

৫০ বছর আগে, ১৯৭৫-এর ৩০ এপ্রিল চীনে নির্মিত সাঁজোয়া ট্যাঙ্ক ৩৯০ এবং সোভিয়েত নির্মিত ট্যাঙ্ক ৮৪৩ উত্তর ভিয়েতনাম থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে সায়গনে এসে দক্ষিণ ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতির প্রাসাদের গেটে আছড়ে পড়েছিল। ট্যাঙ্ক ৮৪৩-এর কমান্ডার ক্যাপ্টেন বুই কুয়াং থান ট্যাঙ্ক থেকে লাফ দিয়ে নেমে জাতীয় মুক্তি মোর্চার পতাকা হাতে ছুটে গেলেন প্রাসাদের চূড়ার দিকে। ১১-৩০ মিনিট নাগাদ রাষ্ট্রপতি প্রাসাদের জাতীয় মুক্তি মোর্চার পতাকা পতপত করে ওড়ার সেই মুহূর্তটি কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে ভিয়েতনামের একীকরণ সম্পন্ন হওয়ার প্রতীক হয়ে রয়েছে।

গণ অভ্যুত্থানের এই বিজয় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সবচেয়ে শোচনীয় পরাজয় হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লিখিত হয়ে আছে। সামরিক বিজয় ছাড়াও, এই মুহূর্তটি একদিকে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশা এবং অন্যদিকে গণবিপ্লবের অদম্য উদ্দীপনাকে উন্মোচিত করেছিল। ৫০ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও রাষ্ট্রপতি প্রাসাদের গেট ভেদ করে সাঁজোয়া ট্যাঙ্ক বহরের এগিয়ে যাওয়ার ছবিটি পুঁজিবাদের শেষ পরিণতির এক বলিষ্ঠ স্মারক হিসেবে থেকে গেছে।

মে দিবসের আগেই দেশের একীকরণ সম্পন্ন করার অনমনীয় বিপ্লবী তৎপরতায়, বিপ্লবী সৈনিকেরা ঝাঁকে ঝাঁকে যখন এগিয়ে গিয়েছিল, তখন মার্কিনীদের পালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনও পথ ছিল না। সায়গনের সিআইএ-র সদর দপ্তরের ছাদ থেকে লজ্জাকর ক্ষিপ্রতার সাথে হেলিকপ্টারে পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যটি যে ফটোগ্রাফে অমর হয়ে আছে, সেটা সাম্রাজ্যবাদের লজ্জাকর পরিণতির সাক্ষ্য বহন করছে। ভিড়ে ঠাসা ছাদে যারা পালানোর জন্যে অপেক্ষমান ছিল তাদের সামান্য কয়েকজনকে নিয়েই পশ্চাদপসরণকারী হেলিকপ্টারটি সেই যে উড়ে গিয়েছিল সেটি আর ফিরে আসে নি।

১৯৫৪ থেকে ১৯৭৫ অবধি দক্ষিণ ভিয়েতনামে সাম্রাজ্যবাদের পুতুল সরকার দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং জনবিরোধী নীতির পাঁকে ছিল নিমজ্জিত। বিপ্লবী শক্তি ক্রমে আগুয়ান হয়েছে আর প্রাণপণে টিঁকে থাকতে মরিয়া চেষ্টা করে গেছে পুতুল সরকারের ভঙ্গুর শাসন। রাষ্ট্রপতি নগুয়েন ভ্যান থিউ কার্যত তখন ভিখিরির মত ওয়াশিংটনের সহায়তা চেয়ে ফিরেছেন। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল তার। ক্রমে এটা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আর কোনও সহায়তা আসবে না। দিন ঘনিয়ে এসেছে টের পেয়েই আত্মীয়-পরিজনদের নিয়ে নগুয়েনকে পালিয়ে যেতে হল তাইওয়ানে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের স্বভাবটাই এমন যে তারা যে দেশগুলিকে যুদ্ধের দিকে এগিয়ে দেয়, তারপর ভিয়েতনামের মতোই, পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পেছন থেকে সরে পড়ে।

১৯৬৫ থেক ১৯৭৫ অবধি এক দশকের মার্কিনীদের যুদ্ধাভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ফিলিপিনসকে নিয়ে গঠিত মিত্র শক্তি ওই দেশের ছোট্ট এলাকার মধ্যে ৭.৮৫ মিলিয়ন টন বোমা বর্ষণ করে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে যত বোমা বর্ষণ হয়েছে এটা ছিল তার তিনগুণ। এর মিলিত ধ্বংসক্ষমতা ছিল ৬৪০টি হিরোশিমার পারমাণবিক বোমার সমান।

লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, এর অর্ধেকই বর্ষণ করা হয়েছিল দক্ষিণ ভিয়েতনামে যা নাকি মার্কিনীরা রক্ষা করবে বলেছিল। একথা স্পষ্টই যে, সাম্রাজ্যবাদী বাহিনী আসলে তাদের নিজেদের লোকেদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধরত ছিল।

অনুমান করা হয়, ৩০ লক্ষ ভিয়েতনামী এবং ৫৮ হাজার মিত্রবাহিনীর সৈন্য সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনে প্রাণ হারিয়েছে। জয়ী পক্ষ ছিলেন ভিয়েতনামের জনগণ। এটা ছিল তৃণমূলস্তরে জাতীয় মুক্তি বাহিনীর প্রতিরোধ যুদ্ধের জয়, যাকে বুক উজাড় করে সমর্থন করেছিলেন সে দেশের কৃষক ও শ্রমিক জনগণ। ভিয়েতনামের ইতিহাস দেখিয়েছে কীভাবে গেরিলা রণকৌশলে সংগঠিত একটি গণআন্দোলন অত্যাধুনিক সামরিক শক্তিকেও পরাস্ত করতে পারে।

সে সময়ের একটি যন্ত্রণাদায়ক আলোকচিত্র রয়েছে যেখানে দেখা যায় দক্ষিণ ভিয়েতনামের রাজধানী সায়গন থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রামে মার্কিনীদের বর্ষণ করা নাপাম বোমা থেকে প্রাণ বাঁচাতে শিশুরা পালাচ্ছে। ছবিটি তুলেছিলেন ভিয়েতনামী ফটোগ্রাফার নিক উট। এই আলোকচিত্রটি ছিল যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

বিপ্লবের তারকা হো চি মিন

হো চি মিন তাঁর গোটা জীবন সমর্পণ করেছিলেন এক মুক্ত ও ঐক্যবদ্ধ ভিয়েতনামের জন্যে। তাঁকে সম্মান জানিয়ে সম্বোধন করা হত ‘বাক হো’ (চাচা হো)। জাতির পিতা এই মানুষটি তাঁর স্বপ্ন সত্যি হওয়ার কয়েক বছর আগে ১৯৬৯ সালে মারা যান। হো চি মিনের আদর্শই ভিয়েতনাম রাষ্ট্র ও সেখানকার কমিউনিস্ট পার্টির ভিত্তিপ্রস্তর। এই আদর্শ দাঁড়িয়ে আছে মার্কসবাদ-লেনিনবাদের মতাদর্শের ওপর। তাঁর আদর্শ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে ভিয়েতনামের জাতীয় স্বাধীনতা, ঐক্য, একীকরণ, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা, নৈতিকতা এবং সমস্ত নাগরিকের মিলিত সমৃদ্ধিতে। ভিয়েতনামী সাংস্কৃতিক পরম্পরার শিকড় যে কনফুসিয়াসের নীতিমালায়, তাকে গ্রহণ করেছিল চাচা হো-র আদর্শ  এবং তার সাথে অন্বয় ঘটিয়েছিল। সমাজতন্ত্র অর্জনের পথে হো চি মিনের বাস্তবমুখী আদর্শ, মতাদর্শগত কট্টরপন্থায় আটকে থাকার বিপরীতে,  পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষালাভ এবং বাস্তবোচিত উদারতাকে স্থান দেয়। ১৯৪৫ সালের স্বাধীনতা ঘোষণা থেকে ১৯৭৫ সালে স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত ভিয়েতনামের একীকরণে কমিউনিস্ট পার্টির বিজয় অর্জনের মধ্যে হো চি মিনের আদর্শে নিহিত থাকা তত্ত্ব ও প্রয়োগের পরস্পর নির্ভরতার গুরুত্বপূর্ণ দিকটিও ফুটে ওঠে। এর মধ্য দিয়ে ধারাবাহিকভাবে এই দুইয়ের সমন্বয়ে শিক্ষাগ্রহণের দৃষ্টিভঙ্গিকেও উৎসাহিত করা হয়। তাঁর প্রতি সম্মান জ্ঞাপনের প্রতীক হিসেবেই ১৯৭৫ সালে একীকরণের পর দক্ষিণ ভিয়েতনামের রাজধানীর নামকরণ হয় হো চি মিন সিটি হিসেবে। ভিয়েতনামের প্রত্যেক নাগরিক এই স্বপ্ন লালন করেন যে, হ্যানয়ের স্মৃতিসৌধে যেখানে তাঁর দেহ জনসাধারণের দর্শনের জন্যে রক্ষিত রয়েছে সেখানে একদিন গিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাবেন। নিবন্ধ লেখক জানেন, বহু সাধারণ মানুষ, অন্তত হাজারের কাছাকাছি, প্রতি বছর বাৎসরিক তীর্থযাত্রার মত পবিত্র কর্তব্য হিসাবে এই শ্রদ্ধা জানানোকে মান্য করেন।

ধানের পুনর্জন্ম

১৯৭৫-এর একীকরণের পর এক ভয়াবহ খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছিল। কার্পেট বম্বিং বা নাগাড়ে বোমা বর্ষণের ফলে জমির রাসায়নিক গুণাবলি বিনষ্ট হয়ে গিয়ে ধানচাষ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বিস্ফোরণ না-হওয়া বোমাগুলিও ছিল আরেকটি সমস্যা ( জমি চাষ করার সময় বিস্ফোরণ এবং মানুষের মৃত্যুর ঘটনা আজও ভিয়েতনামে ঘটে)। ১৯৭৫ সালের ৩০ এপ্রিল মাত্র কয়েক দিনের মতো খাদ্যশস্য জাতীয় মজুতভাণ্ডারে ছিল। খাদ্যসামগ্রীর আশু সরবরাহ এবং সঙ্কটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ড. এম এস স্বামীনাথন ও কয়েকজন বিশেষজ্ঞের একটি দলকে ভিয়েতনামে পাঠিয়েছিলেন। তাঁরা সেখানে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করেন এবং ভিয়েতনামী কৃষকদের জলা জমিতে চাষ, তিন ফসলি প্রথা এবং নতুন বীজ উৎপাদনের পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন। পরবর্তী সময়ে ভিয়েতনামের কৃষকেরা সমবায় চাষ পদ্ধতি গ্রহণ করেন এবং দেশের কৃষি মানচিত্রকে আমূল পাল্টে দিয়ে ভিয়েতনামকে পৃথিবীর প্রথম ৩টি চাল রপ্তানিকারক দেশের একটিতে পরিণত করে। আজকের ভিয়েতনামের শত শত কৃষিবিজ্ঞানী রয়েছেন যারা ভারতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। ড. এম এস স্বামীনাথনের পিএইচডি স্কলার ড. বুই বা বং দীর্ঘদিন ভিয়েতনামের কৃষি দপ্তরের উপমন্ত্রী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

অনুপ্রেরণার অতীত, সম্ভাবনার ভবিষ্যৎ

বিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে ভিয়েতনাম দেখল তার প্রথম দশটি শতকের চীনা শাসনকে, যা ফিরে আসে চীনের দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবিত ভিয়েতনামের সামন্ততন্ত্রের সময়। ১৮৮৪ সালে শুরু হওয়া ফরাসি দখলদারি ভিয়েতনামকে একটি শোষণজর্জর আধা-সামন্ত্রতান্ত্রিক উপনিবেশে পরিণত করে। সেই সময়ে এশিয়ার সবচেয়ে পশ্চাদপদ অঞ্চল ছিল ভিয়েতনাম। ১৯৪৫ সালে হো চি মিনের ঘোষণার পর ১৯৭৫ পর্যন্ত সময়পর্বটি ছিল নয়া-উপনিবেশবাদ বিরোধী প্রতিরোধ সংগ্রামের সময় এবং তখন অর্থনীতি ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত। গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল জাতীয় মুক্তির প্রশ্নে। উল্লেখ করা যেতে পারে, ১৯৫৪ সালের পর উত্তর ভিয়েতনামের মূল লক্ষ্য ছিল সমাজতন্ত্র গড়া, কিন্তু নজর কেন্দ্রীভূত করা হয়েছিল জাতীয় একীকরণের জন্যে জনগণে সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর।

১৯৭৫ সালে একীকরণের পর কেন্দ্রীয় পরিকল্পিত অর্থনীতির নীতি গৃহীত হয়। যুদ্ধ অর্থনীতিকে এতটাই ছারখার করে দিয়েছিল যে কৃষিতে এর বিধ্বংসী আঘাতের ফলশ্রুতিতে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। বোমাবর্ষণের ফলে বিস্তৃত এলাকা বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল। হাসপাতাল, সেতু, চলাচল যোগ্য সড়ক কিংবা বাঁধ বলতে কিছুই ছিল না। সঙ্কট ঘনীভূত হয়ে উঠেছিল।

ভিয়েতনামের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে নতুন সমাজতান্ত্রিক সমাজ গঠনের পথে অসীম আত্মত্যাগ করেছেন। তাঁরা কখনই যুদ্ধে কাকে কী মূল্য দিতে হল তার হিসেব করেননি। হতাশার কাছে আত্মসমর্পণ বা অপরের কৃতকর্মের দিকে অঙ্গুলি নিক্ষেপ করেননি। তারা বরং হেঁটে গেছেন সামনের দিকে যার জন্য সামাজিক ন্যায় এবং প্রগতির লক্ষ্যে তাঁরা ঐক্যবদ্ধ হতে পেরেছেন। অাজকের ভিয়েতনামের টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিই গড়েছে তাদের সেদিনের আত্মত্যাগ। এমনকী ১৯৭৫ সালের পরের কঠিনতম সময়পর্বেও তাদের নজর কেন্দ্রীভূত ছিল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে। যখন নয়ের দশকে গোটা বিশ্বজুড়ে বাজার অর্থনীতির দিকে পুনর্গঠনের যাত্রা শুরু হয়েছিল ঠিক সেই সময়পর্বেই এই দূরদৃষ্টিই ভিয়েতনামকে বিশ্বমানের অর্থনীতিতে উন্নীত করে

রাষ্ট্রের দিকনির্দেশনা এবং বাজারের নীতিমালা, যার শিকড় রয়েছে হো চি মিনের আদর্শে, এর মধ্য দিয়ে ভিয়েতনাম এগিয়ে চলেছে। শুধু এগিয়েই যাচ্ছে না, সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও বেসরকারি মালিকানার নতুন উদ্যোগের মধ্যে ভারসাম্য রেখে বিশ্বের দ্রুততম বিকাশমান অর্থনীতি হয়ে ওঠার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।

পুনর্গঠনের সময় থেকে, অর্থনীতির গড় প্রবৃদ্ধির হার রয়েছে ৬ শতাংশে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে ছয় গুণ, যার ফলে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দরিদ্র দেশ জীবনমানকে উন্নত করতে সমর্থ হয়েছে। ২০১০ সালে দেশে দারিদ্রের হার ছিল ১৪ শতাংশ, এখন সেটা নেমে এসেছে ৩ শতাংশেরও নিচে। কৃষি থেকে শিল্প ও পরিষেবার দিকে অর্থনীতি স্থির পদক্ষেপে রূপান্তরিত হচ্ছে। সবল পরিকাঠামো, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং একটি মেধাবী প্রাণবন্ত নবীন কর্মীবাহিনীর সুবাদে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হচ্ছে, যা ভিয়েতনামকে উৎপাদন শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী কেন্দ্রে পরিণত করবে। আজকের ভিয়েতনামের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই ভারসাম্যপূর্ণ যেখানে কৃষি, শিল্প ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব রয়েছে। প্রযুক্তি (কৃত্রিম মেধা, সবুজ শক্তি), উচ্চমূল্যের পণ্য, কৃষি ও পর্যটনের লক্ষ্যে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি প্রণয়নের মাধ্যমে ভিয়েতনাম গুরুত্ব আরোপ করছে টেকসই প্রবৃদ্ধির ওপর। তাদের সহজাত একাগ্রতা, প্রাণময়তা এবং অঙ্গীকারবদ্ধতার নিরিখে বলা যায় ভিয়েতনাম এই লক্ষ্যগুলিও পূরণে সফল হবে।

লেখক রাধাকৃষ্ণন এম বি কোচিনের মানুষ। ভিয়েতনামে ওষুধ শিল্পে কর্মরত রাধাকৃষ্ণন গত ২৬ বছর ধরে হো চি মিন শহরে বাস করছেন। বিগত ২৬ বছর ধরে তিনি ভিয়েতনামের অগ্রগতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

সূত্র : দৈনিক দেশাভিমানী
ভাষান্তর; শুভপ্রসাদ নন্দী মজুমদার


প্রকাশের তারিখ: ৩০-এপ্রিল-২০২৫

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org