ফরাসি উপনিবেশবাদের স্তম্ভ কাঁপানো ঝাঁকুনি

বিজয় প্রসাদ
২০২০ সালেই ফ্রান্স ইউরোপীয় দেশগুলির বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে টাকুবা টাস্ক ফোর্স নামে একটি ইউরোপীয় বাহিনী তৈরি করেছিল। এটা ছিল ফরাসি আগ্রাসনের একটি ইউরোপীয় বর্ম যা এর আগেও পরখ করা হয়েছিল সাহেল অঞ্চলে। তখন বোঝাই গেছে ওটা আসলে ফরাসিদেরই একটি মুখোস। তবে আফ্রিকা মহাদেশে ফরাসি কর্মতৎপরতা শুধুমাত্র ফ্রান্সের স্বার্থকেন্দ্রিক হতে যাচ্ছে না। তার ভূমিকা হয়ে দাঁড়াচ্ছে এই উপমহাদেশে চীন ও রাশিয়া বিরোধী ঠাণ্ডাযুদ্ধে মার্কিনীদের শক্তি যোগানো।

মাদাগাস্কারের ঠিক উত্তরের মায়য়োট ১৮৪৩ সাল থেকেই দূরদেশীয় ফরাসি সাম্রাজ্যের অংশ। ঔপনিবেশিকতা বিরোধী তীব্র আকাঙ্ক্ষার মধ্যে এখনও সেই ভূখণ্ড ‘দূরদেশীয় প্রদেশ’ হিসেবে অব্যাহত রয়েছে। ইউরোপের অন্যান্য ঔপনিবেশিক শক্তির মতো ফ্রান্সও এখনও পৃথিবীর নানা প্রান্তে বহু ভূখণ্ড নিজেদের অধীনস্থ করে রেখেছে (দক্ষিণ আমেরিকার ফরাসি গায়ানা থেকে দক্ষিণ পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের নিউ ক্যালিডোনিয়া অবধি)। দূর দেশের এই প্রদেশগুলির বেশিরভাগই দ্বীপাঞ্চল যা ইন্দোচীন বা ফরাসি পশ্চিম আফ্রিকান অঞ্চলের মত বিস্তৃত এলাকায় ফ্রান্সের কর্তৃত্ব থাকাকালীন সময়কালে ফরাসি নৌবাহিনীর ঘাঁটি ও জ্বালানি ভরার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হত। এমন প্রদেশগুলির বেশিরভাগ এখনও ফ্রান্সের সামরিক তৎপরতার কাজে ব্যবহৃত হয়। (এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার গায়ানা মহাকাশ কেন্দ্র ও পরমাণু পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত প্রবাল দ্বীপগুলি)। 

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ভারত মহাসাগরে গড়ে ওঠা চিডো ঘূর্ণিঝড় পশ্চিমমুখী হয়ে মোজাম্বিকের তটভূমি আছড়ে পড়ার আগে ৩,২০,০০০ জনসংখ্যার মায়য়োট দ্বীপে প্রবল আঘাত হানে। মায়য়োটের রাজধানী মামুদজুর মেয়র ধিনোরাইন এম’কোলো মাইনতির মতে, ‘দ্বীপাঞ্চলে মৃতের সংখ্যা ‘ভয়াবহ’ আকার নেবে। জল, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে আছে, শৌচালয়গুলি ব্যবহার্য অবস্থায় নেই’।  মামুদজুর অধিবাসী মহম্মদ ইসমাইলের বলেছেন, ‘মনে হচ্ছে আমরা একটা পরমাণু যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতির মধ্যে এসে পড়েছি। আমি চোখের সামনে একটা গোটা জনপদ উধাও হয়ে যেতে দেখলাম।’ মায়য়োট কেন্দ্রীয় হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত নার্স কুসেনি বালাহাচি বলেন, ‘গোটা জনপদটাই মানচিত্র থেকে মুছে গেছে’।  ‘প্রলয়ঙ্কর পরিস্থিতি’ কথাটি দ্বীপাঞ্চলের মূলভূমি সহ মায়য়োট দ্বীপপুঞ্জের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দ্বীপগুলির পরিস্থিতির জন্যে ভীষণভাবে সত্য।

এই দ্বীপাঞ্চলের প্রশাসনিক দায়িত্ব যাদের, সেই ফরাসি সরকার ধ্বংসলীলার অব্যবহিত পরেই কিছু ত্রাণ পাঠিয়েছিল। তবু অ্যামেলিয়া মাজোন নামে মায়য়োট কেন্দ্রীয় হাসপাতালের এক বেলজিয়ান নার্স বলেছেন, ‘নিজেদের সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত মনে হচ্ছে আমাদের। আদৌ কোনো ত্রাণ আসছে কিনা সেটাও আমরা জানি না। আমাদের কাছে কোনো খবর নেই। কোনো ধারণাই নেই আমাদের’। কিছুদিন পর ফরাসি রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মায়য়োট পৌঁছে খোনকার রাজপথে চলাফেরা করা সাধারণ মানুষের সাথে দেখা করেছেন। ম্যাক্রোঁ কথা বলা শুরু করতেই অধিবাসীরা তাঁকে টিটকারি করতে শুরু করে। তাঁদেরকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখার জন্যে ক্রমে তাঁরা চরম ক্রোধান্বিত হয়ে ম্যাক্রোঁকে অভিযুক্ত করে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে বলে। ম্যাক্রোঁ দৃশ্যত অস্বস্তিতে পড়ে যান। উত্তরে বলেন, ‘মানুষের এক অংশকে অপরের প্রতি বিদ্বিষ্ট করবেন না।  আপনারা যদি এককে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করান, তবে সর্বনাশ হয়ে যাবে। কারণ আপনারা ফ্রান্সের অংশ হিসেবে আছেন বলে ভাল রয়েছেন। এটা যদি ফ্রান্সের অংশ না হত তবে আপনাদের সর্বনাশ আরও দশ হাজার গুণ বেশি হত।’

মামুদজুতে জনসাধারণের সাথে ম্যাক্রোঁর মুখোমুখি হওয়ার ঘটনার কিছুদিন পর আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল থেকে ফরাসি সৈন্যের অপসারণ শুরু হয়। এর আগের দু’বছর ধরে বুরকিনা ফাসো ও মালি থেকে ফরাসি সৈন্যদের অপসারণ করা হয়। ওখানকার নতুন সরকার জানিয়েছিল, মাঘরেব অঞ্চলে ফরাসি সৈন্যের আল কায়েদা বিরোধী অভিযান ব্যর্থ হয়ে বিপরীত ফলদায়ী হয়েছে, এবং সে জন্যেই ওই সরকারেরা নিজেদের সার্বভৌমত্ব কায়েম করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে। ডিসেম্বরের শেষ অবধি সাহেল অঞ্চলের তৃতীয় দেশ নাইজার থেকেও ফরাসি সৈন্যরা বহিষ্কৃত হয়ে যাবে। এই সৈন্যদল তাদের বর্হিগমন শুরু করেছে দক্ষিণ-পূর্ব নাইজার থেকে চাদের রাজধানী এনজামিনা অবধি দীর্ঘ পথ দিয়ে। ফরাসি শস্ত্র ভাণ্ডারের ভারি বস্তুগুলি চাদ থেকে ক্যামেরুনের দোওয়ালায় পাঠানো হয় যেখান থেকে সেগুলো জাহাজে পাঠানো হয় ফ্রান্সে। বাকি সৈন্যদের ফ্রান্সে পাঠানো হয় আকাশ পথে। সাম্প্রতিক বছরে এটাই ছিল ফরাসিদের বৃহত্তম সামরিক প্রত্যাহারের ঘটনা। 

সাহেল অঞ্চলে ফরাসি সৈন্যের উপস্থিতির বিরুদ্ধে প্রবল জনমতের প্রেক্ষিতে বুরকিনো ফাসো, মালি এবং নাইজারকে নিয়ে গঠিত আঞ্চলিক জোট ফরাসি সৈন্য অপসারণের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।  এই মনোভাব পরিপার্শ্ব অঞ্চলে এতটাই সংক্রমিত হয় যে সাহেল জোটের সদস্য না হয়েও চাদ ও সেনেগালও একই পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রী জাঁ নোয়েল বাহো চাদের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ ইদ্রিস ডেভির সাথে সাক্ষাৎ করেন। সে সময়ে তাঁর হাতে আসে চাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবদেল রামান কুলামাল্লার একটি বিবৃতি, যেখানে বলা হয় যে, চাদ সরকার ১৯৬০ সালে স্বাধীনতা অর্জনের সময়পর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি বাতিল করছে। যেদিন কুলামাল্লা এই বিবৃতিটি প্রকাশ করেন সেদিনই সেনেগালের রাষ্ট্রপতি বাসিরু দিয়োমায়ে ফায়ে ফরাসি সংবাদপত্র ‘লু মন্ডে’কে বলেন, ‘অনতিকালের মধ্যেই সেনেগালে আর কোনও ফরাসি সৈন্য থাকবে না’।

আফ্রিকা মহাদেশে ফরাসি সৈন্যের অবশিষ্ট উপস্থিতি রয়েছে নিম্নলিখিত স্থানে : জিবুতি ও আবিদজানে (কোট ডি ভুয়া বা আইভোরি কোস্ট) অগ্রবর্তী সামরিক ঘাঁটি, ডাকার ও লিব্রেভিলে (গ্যাবন) আঞ্চলিক সহযোগিতা ঘাঁটি এবং রিইউনিয়ন ও মায়য়োটে নৌ বাহিনীর ঘাঁটি। কোট ডি ভুয়া (আইভোরি কোস্ট) বা গ্যাবনের মত দেশে ফরাসি ঘাঁটির অপসারণের দাবিতে দ্রুত জনমত গড়ে উঠছে। ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে আফ্রিকায় ম্যাক্রোঁর দূত জাঁ মারিয়ে বকেল কোট ডি ভুয়ার রাষ্ট্রপতি আলাসসানে কোয়াট্টারার সাথে সাক্ষাৎ করে জানান যে, ফরাসি দেশ আফ্রিকায় তার উপস্থিতিকে ‘পুনর্বিন্যাস’ করতে চায়। এটা বলা প্রকৃতপক্ষে নিজেদের পশ্চাদপসরণকে কৌশলগত রূপান্তর আখ্যা দিয়ে ঢাকা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। অনেক আগেই ২০২৩ সালের ডিসেম্বরেই ফরাসি সরকারের প্রতিরক্ষা পর্ষদ কোট ডি ভুয়া, গ্যাবন ও সেনেগালে সামরিক উপস্থিতি হ্রাস প্রসঙ্গে আলোচনার জন্যে মিলিত হয়েছিল। ঠিক হয়েছিল তিনটি ঘাঁটি অপরিবর্তিত থাকবে : জিবুতির সামরিক ঘাঁটি এবং রিইউনিয়ন ও মেয়য়োটের নৌ বাহিনীর ঘাঁটি অর্থাৎ যে অঞ্চল ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে।

ফ্রান্সের এই ‘পুনর্বিন্যাস’কে পুরোপুরি পশ্চাদপসরণ হিসেবে দেখা সঠিক হবে না। ২০২৪ সালের জুন মাসে ম্যাক্রোঁ সরকার আফ্রিকার জন্যে একটি সামরিক কমান্ড তৈরি করে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকান কমান্ডের অনুরূপ)। প্যারিসে স্থিত এই কমান্ডে আফ্রিকা মহাদেশের ফ্রান্স সমর্থক সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বিশেষ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাৎক্ষণিকভাবে আফ্রিকার দেশগুলিতে ফরাসি স্বার্থ রক্ষায় যাতে দ্রুততার সাথে মোতায়েন করা যায়, সেই প্রস্তুতি সমেত এই বাহিনীকে প্রস্তুত করা হয়। দ্বিতীয়ত, ২০২০ সালেই ফ্রান্স ইউরোপীয় দেশগুলির বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে টাকুবা টাস্ক ফোর্স নামে একটি ইউরোপীয় বাহিনী তৈরি করেছিল। এটা ছিল ফরাসি আগ্রাসনের একটি ইউরোপীয় বর্ম যা এর আগেও পরখ করা হয়েছিল সাহেল অঞ্চলে। তখন বোঝাই গেছে ওটা আসলে ফরাসিদেরই একটি মুখোস। তবে আফ্রিকা মহাদেশে ফরাসি কর্মতৎপরতা শুধুমাত্র ফ্রান্সের স্বার্থকেন্দ্রিক হতে যাচ্ছে না। তার ভূমিকা হয়ে দাঁড়াচ্ছে এই উপমহাদেশে চীন ও রাশিয়া বিরোধী ঠাণ্ডাযুদ্ধে মার্কিনীদের শক্তি যোগানো।

ম্যাক্রোঁর এ-৩৩০ এয়ারবাস ঝটিতি সফরের পর মামুদজু থেকে উড়ে গিয়ে জিবুতিতে অবতরণ করে যেখানে তিনি এরিয়েনে ১৮৮ ঘাঁটিতে ফরাসি সৈন্যদের সাথে নৈশভোজ করেন। এরপর তিনি জিবুতির রাষ্ট্রপতি ইসমাইল ওমর গুলেহরা সাথে (যিনি ক্ষমতায় রয়েছেন ১৯৯৯ সাল থেকে) সাক্ষাৎ করে ফ্রান্সের জন্যে লোহিত সাগরের এই দেশটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। এর থেকে বোঝাই যায়, তারা চাইছে আফ্রিকা মহাদেশের যে কোনো জায়গায় আফ্রিকীয় কমান্ডের ফরাসি সৈন্য মোতায়েনের আগে জিবুতি একটি ঝাঁপ দেওয়ার পাটাতন হিসেবে ব্যবহৃত হোক। ম্যাক্রোঁ অবশ্য সরাসরি এই কথা বলেননি। কীভাবে এই ঘাঁটিটি ‘ভারত মহাসাগর ও ইন্দো-প্রশান্ত সাগরীয়’ দিশায় চালিত হচ্ছে সেটি বলার মধ্য দিয়ে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শীতল যুদ্ধের নিরিখে এই ফরাসি ঘাঁটিকে চীন বিরোধী হিসেবে হাজির করেছেন। জিবুতিতে রয়েছে আটটি দেশের সামরিক ঘাঁটি।  চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, সৌদি আরব, স্পেন, যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (ক্যাম্প লেমোনিয়ের)। এই ঘাঁটিগুলির মধ্যে দূরত্ব খুব বেশি নয় যদিও সেখানে পশ্চিমী ঘাঁটি ও চীনের ঘাঁটির মধ্যে একটি যুযুধান অবস্থান রয়েছে। 

২০১৭ সালে জিবুতি শহরের পশ্চিম দিকে (বেশিরভাগ পশ্চিমী ঘাঁটিগুলি রয়েছে দক্ষিণ দিকে) দোরালেহ বন্দরে চীনের ঘাঁটিটি নির্মিত হয়েছিল রাষ্ট্রসঙ্ঘের জলদস্যু বিরোধী অভিযানে সামিল হওয়ার অঙ্গ হিসেবে। পনেরোটি মালবাহী জাহাজের পোতাশ্রয় এই দোরালেহ বন্দরটি তৈরি করেছিল দুবাই পোর্টস সংস্থা। পরবর্তী সময়ে গুলেহ সরকার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে এর বৃহত্তর অংশীদারিত্ব চায়না মার্চেন্টস নামের চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়। বন্দর প্রকল্পে চীনের এই প্রবেশ ও ঘাঁটি নির্মাণ নিয়ে জিবুতি ও মার্কিন সরকারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স সহ তার অন্য শরিক দেশগুলি জিবুতির ওপর চাপ দিচ্ছে বন্দর প্রকল্প থেকে চীনকে সরিয়ে দেওয়ার জন্যে। এই পরিপ্রেক্ষিতেই ‘ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয়’ শব্দবন্ধটির ব্যবহার তাৎপর্যপূর্ণ। এর থেকে বোঝা যায়, আফ্রিকা মহাদেশে ফরাসি সম্পর্কের ‘পুনর্বিন্যাস’-এর অর্থ হল- আফ্রিকা মহাদেশে চীন ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে যে শীতলযুদ্ধ   হতে চলেছে সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধঃস্তন হিসেবে ফ্রান্সের অধিকতর সক্রিয় ভূমিকাগ্রহণ।

১৯৬০ সালের পূর্ববর্তী সময়পর্বে আফ্রিকার যে দেশগুলি ফরাসি উপনিবেশ ছিল তাদের পক্ষে ফ্রান্সের সাথে সম্পর্কছেদ অতটা সহজ হবে না। এদের মধ্যে ১৪টি দেশ সিএফএ-ফ্রাঙ্ক মুদ্রা ব্যবহার করে। এটা এক ধরনের নিগূঢ় মুদ্রা যা শুধু এই দেশগুলিতেই ব্যবহৃত হয়, এবং যার সাথে এই শর্ত আরোপ রয়েছে যে তাদের বিদেশি মুদ্রাভাণ্ডারের একটি অংশ ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কে গচ্ছিত রাখতে হবে (সিএফএ-ফ্রাঙ্ক হচ্ছে পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার দেশে প্রচলিত দু’ধরনের মুদ্রার নাম যা ব্যবহার করে এই দেশগুলির ২১ কোটি মানুষ। পশ্চিম আফ্রিকার ৮টি দেশের সিএফএ-ফ্রাঙ্ক ও মধ্য আফ্রিকার ৬টি দেশের সিএফএ-ফ্রাঙ্ক নিজেদের মধ্যে বিনিময়যোগ্য নয়। বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডারের একটি অংশ ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কে গচ্ছিত রাখার বিনিময়ে এই দুই সিএফএ-ফ্রাঙ্কের

ইউরোর সাথে স্থির বিনিময় মূল্যের নিশ্চয়তা প্রদান করে ফ্রান্স- অনুবাদক)। সিএফএ-ফ্রাঙ্ক থেকে নিষ্কৃতি এই দেশগুলির অনেকেরই অভীষ্ট হলেও আপাতত এমনটা ঘটার সম্ভাবনা নেই। একইসাথে এই দেশগুলির অনেকেরই নিজেদের অশোধিত সম্পদ প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা নেই। ফলে, নাইজারকে যেমনটা ইউরেনিয়ামের ক্ষেত্রে করতে হয়, তেমনি তাদেরকেও এক্ষেত্রে ফরাসি সংস্থাগুলির উপর নির্ভর করতে হয়। প্রযুক্তিগত এবং শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এ ধরনের সক্ষমতা অর্জন করতে তাদের আরও সময় লাগবে, এবং তার জন্যে প্রয়োজন হবে চীন ও অন্যান্য দেশের সাথে সহযোগিতা চুক্তি, যাকে পশ্চিমের দেশগুলি প্রতিপক্ষ মনে করছে। ফরাসি সৈন্য অপসারণ হয়ত সম্ভব, কিন্তু ফরাসি উপনিবেশবাদের ফাঁস থেকে মুক্তি সহজ নয়।  সাহেল দেশগুলির আঞ্চলিক জোট যারা সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্যে লড়ছে তাদের ওপর সেই বাঁধনটি ইতিমধ্যেই একটি বড় বোঝা। কিন্তু তারা স্পষ্টত এই পথেই হাঁটতে চাইছে।

ভাষান্তর: শুভপ্রসাদ নন্দী মজুমদার

Whatsapp Logo PNGs for Free Downloadপড়ুন মার্কসবাদী পথ, ফলো করুন আমাদের Whatsapp Channel

 


প্রকাশের তারিখ: ০৬-জানুয়ারি-২০২৫

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org