|
ডারউইনবাদের পথেই ইহলোকের স্বর্গঅরুণাভ মিশ্র |
কেনো বিষ হবে না? বিবর্তনই তো সৃষ্টির জায়গা থেকে ঈশ্বরকে হঠিয়ে দেয়। ঈশ্বর যদি সৃষ্টি না করেন, আত্মা যদি তাঁর দেওয়া না হয়, তবে তো কর্মফলের বিচারের ভারও তাঁর নয়। তাহলে স্বর্গ নরক, পাপ-পূণ্য, ইহলোক-পরলোক, পূর্বজন্ম-পরজন্ম, এসব বলে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া যাবে না। ধর্মান্ধদের ঐ কৌশলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে পরলোকে স্বর্গ রচনা করেন। বিবর্তনবাদ সাথী হলে সে কৌশল ব্যর্থ করে তারা ইহলোকের স্বর্গ তৈরিতে প্রয়াসী হবেন। সৃষ্টিবাদ কখনোই তা চায় না। তাই সর্বশক্তি দিয়ে তা ডারউইনবাদের বিরোধিতা করে। |
বাইবেলের জেনেসিস ছ-দিনে বিশ্ব সৃষ্টির কথা বলে। অন্তিম দিনে ঈশ্বর ধুলো থেকে আদি মানব আদম কে প্রথমে সৃষ্টি করেন, অনেকটা নিজের প্রতিমূর্তির মতো। তারপর আদমের পাঁজরের হাড় থেকে ইভ। সৃষ্টিবাদী ইসলাম ধর্মেও বলে ‘আল্লাহ সুবানাহু ওয়াতায়ালা ৬ দিনে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেন’।১ রবিবার থেকে শুক্রবার এই ছয় দিন। ষষ্ঠ দিনেই হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়। শতপথ ব্রাহ্মণে আছে প্রজাপতি ব্রহ্মা নিজেকে পুরুষ ও স্ত্রী রূপী দুই খন্ডে বিভক্ত করার মধ্য দিয়েই মানব সৃষ্টির সূত্রপাত ঘটান। এই সব সৃষ্টিতত্ত্বে বিবর্তনবাদের সামান্যতম জায়গা নেই। ‘লাইফ কামস আফটার লাইফ’ বইতে ইসকনের প্রধান স্বামী প্রভুপাদ বিবর্তনবাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন। কেনো বিষ হবে না? বিবর্তনই তো সৃষ্টির জায়গা থেকে ঈশ্বরকে হঠিয়ে দেয়। ঈশ্বর যদি সৃষ্টি না করেন, আত্মা যদি তাঁর দেওয়া না হয়, তবে তো কর্মফলের বিচারের ভারও তাঁর নয়। তাহলে স্বর্গ নরক, পাপ-পূণ্য, ইহলোক-পরলোক, পূর্বজন্ম-পরজন্ম, এসব বলে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া যাবে না। ধর্মান্ধদের ঐ কৌশলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে পরলোকে স্বর্গ রচনা করেন। বিবর্তনবাদ সাথী হলে সে কৌশল ব্যর্থ করে তারা ইহলোকের স্বর্গ তৈরিতে প্রয়াসী হবেন। সৃষ্টিবাদ কখনোই তা চায় না। তাই সর্বশক্তি দিয়ে তা ডারউইনবাদের বিরোধিতা করে। ডারউইনবাদ ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের পয়লা জুলাই চার্লস রবার্ট ডারউইন এবং আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগত প্রস্তাবনা লিনিয়ান সোসাইটিতে গৃহীত হয়। ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন’ তত্বের এই প্রস্তাবনা বলে, জীবের অন্তঃপ্রজাতি এবং আন্তঃপ্রজাতি বংশানুসৃত পার্থক্য আছে, আর তাদের প্রতিনিয়ত জীবন সংগ্রামে লিপ্ত থেকে টিকে থাকতে হয়। এই জীবন সংগ্রাম চলে খাবার, থাকার জায়গা, সঙ্গী নির্ধারণ, বংশ রক্ষা, অথবা শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে। পরিবর্তিত পরিবেশ ও পরিবর্তিত জীবন সংগ্রামে আপাত প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যগুলি প্রাধান্য পেতে থাকে। যে বৈশিষ্ট্যের বৈচিত্র্যগুলি পরিবেশের যোগ্যতম বলে আনুকূল্য পায় তা প্রসারিত হতে থাকে। প্রকৃতি সেই যোগ্যতম বৈশিষ্ট্যের প্রজাতিকে উত্তীর্ণ করে টিকে থাকার লড়াইয়ে। এই হলো প্রাকৃতিক নির্বাচন। পরবর্তীকালে অভিযোজন এর মাধ্যমে এই বৈশিষ্ট্যগুলি প্রকরণ সংকলন করে ও প্রাকৃতিক নির্বাচন দ্বারা সম্পৃক্ত হয়। ফলে পিতৃ-প্রজাতি থেকে পৃথক এক ভিন্ন প্রজাতি উৎপাদন করে। আদি প্রাণ থেকে মিউটেশন আর ভেরিয়েশন এই দুই হাতিয়ার-বলে বদলাতে বদলাতে আজ সকল প্রজাতি এই অবস্থায় এসেছে। যারা টিকে যায় তারা নতুন বংশধরও রেখে যেতে পারে। বংশধরেরা পিতৃ প্রজাতির গুণাবলী যেমন পায় তেমনি জীবন সংগ্রামে নিজে তাকে বাড়িয়েও নেয়। একেই ডারউইন বলেছিলেন ‘ডিসেন্ট উইথ মডিফিকেশন’ বা ‘পরিবর্তনযুক্ত উত্তরাধিকার’। এই সব কথায় মুড়ে ১৮৫৯ র ২৪শে নভেম্বর প্রকাশিত হয় ডারউইনের বই ‘অরিজিন অফ স্পিসিস’। তার অনেক পরে ১৮৭১ সালে বেরোয় মানবে বিবর্তনের তথ্য সমৃদ্ধ তাঁর ‘দি ডিসেন্ট অফ ম্যান’। বিবর্তনের আধুনিক সংশ্লেষনী তত্ত্বের মধ্য দিয়ে মেন্ডেলের বংশগতি সূত্র এবং ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের মধ্যে সেতু তৈরি করে ডারউইনের ধারণায় যে অসম্পূর্ণতাগুলো ছিল তা দূর করেছেন থিওডোসিয়াস ডবঝনস্কি। অর্জিত গুন কিভাবে পরবর্তী প্রজন্ম যায় তা নিয়েই ছিল অসম্পূর্ণতা। ডবঝনস্কির 'জেনেটিক্স এন্ড দি অরিজিন অফ স্পিসিস' ১৯৩৭ প্রকাশের পর বিজ্ঞানীদের সে সংশয় দূর হয়। বইয়ের একটি অধ্যায়ের নাম ‘নাথিং ইন বায়োলজি মেকস এনি সেন্স একসেপ্ট ইন দা লাইট অফ এভোলিউশন’। ওখানে তিনি লিখেছেন, ‘এটা মনে করা ভুল যে সৃষ্টি ও বিবর্তন জনিত উদ্ভব পরস্পরের বিপরীত। আমি উভয়ের সমর্থক। জৈব বিবর্তন হল প্রকৃতির মাঝে সৃষ্টির একটি প্রক্রিয়া। সৃষ্টি কিন্তু ৪০০৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ঘটেনি। প্রক্রিয়াটি ১০ বিলিয়ন বছর আগে থেকে শুরু হয়ে আজও চলছে।’ বিবর্তন বিরোধিতা সৃষ্টিবাদের পক্ষে আর ডারউইনবাদের বিরোধের শুরু অক্সফোর্ডে, ১৮৬০ এ। তারপর এতে ধারাবাহিক মদত এসেছে আমেরিকা থেকে। ১৯২১-১৯২৯ নয় বছরে ঐ দেশের ২০ টি প্রদেশকে ৪৫ বার আইনি বিধি তৈরির কথা বিচার বিবেচনা করতে হয়েছে বিবর্তনবাদকে পাঠ্য থেকে দূরে রাখার জন্য। ১৯২৫ এ ডেটন স্কুলের জন স্কোপস-এর জরিমানা হয় বিবর্তনে মানুষের উদ্ভব পড়ানোর জন্য। ১৯৫৭ সালে রাশিয়া মহাকাশে স্পুটনিক পাঠালে আমেরিকা জুড়ে বিবর্তনের বিজ্ঞানকে আড়াল করে রাখার সমালোচনা হয়। ফলে ১৯৬৩ সালে পাঠ্য হিসেবে ‘Biological Science: Molecules to man’ চালু হয়, যেখানে মিলার ও ইউরের পরীক্ষায় জীবন তৈরির একটি ধাপ ছাত্র ছাত্রীদের কাছে স্পষ্ট হয়। সৃষ্টিবাদীরা ওই বছরই গড়ে তোলে ‘ক্রিয়েশনিস্ট রিসার্চ সোসাইটি’ আর সৃষ্টিবাদকে ‘বৈজ্ঞানিক সৃষ্টিবাদ’ বলা শুরু করে। আর বলে, সৃষ্টিবাদকে কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় ধরা যাবে না। কারণ, ‘Creator does not create at the whim of a scientist!’২ সৃষ্টিবাদীরাই আজকের ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন এর প্রবক্তা। এরা বলেন, বিবর্তন ঘটনা হলেও তার নকশাটা ঈশ্বরের করা। আমেরিকার আদালত ২০০৫ সালের ২০ সে ডিসেম্বর রায় দিয়ে বলে আই ডি পড়ানো অবৈধ। সারা পৃথিবীজুড়ে তবুও বিবর্তন বিরোধী অন্ধতা ছড়িয়ে চলেছেন এরা। তৈরি করেছেন ‘সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড কালচার’, ‘ডিসকভারি ইনস্টিটিউট’ ‘ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন নেটওয়ার্ক’ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান যাতে সৃষ্টিবাদী ভ্রান্তিতে বৈজ্ঞানিক মোড়ক দেওয়া যায়! সৃষ্টিবাদ বনাম বিবর্তন সৃষ্টিবাদীদের কি যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমাণ দেওয়া যায়নি, যাতে তারা বিবর্তনবাদে আস্থা রাখতে পারেন? উদাহরণ দেখি। বাইবেল বলে সৃষ্টি নবীন, খ্রিস্টপূর্ব ৪০০৪ সালের। অর্থাৎ মাত্র ৬০০০-৬৫০০ বছর বয়স পৃথিবীর। বিজ্ঞানীরা মুখ্যত রুবিডিয়াম-স্ট্রনশিয়াম পদ্ধতির সাহায্য নিয়ে পরিশীলিত ভাবে দেখাতে পেরেছেন, পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪২০ কোটি বছর। প্রমাণ দেখে সৃষ্টিবাদীরা বলেন, ‘ঈশ্বর ১০০০০ বছর আগে এই পৃথিবী এমন করেই তৈরি করেছিলেন যাতে তাকে ৫০০ কোটি বছরের পুরোনো মনে হয়’।৩ একেই বলে, দুরাত্মার ছলের অভাব হয় না। একেই বলে অন্ধবিশ্বাস! গুড এনাফ ব্যাখ্যা করেছেন, ‘Faith had been well defined as a belief which is not altered or shaken by evidence to the contrary’.৪ সৃষ্টিবাদীদের প্রশ্ন ছিল প্রি-ক্যামব্রিয়ান ফসিল ও অন্তর্বর্তী জীবের ফসিল না থাকা নিয়ে। ব্রিটিশ প্যালিওনটোলজিস্ট ল্যাম্বার্ট বেভারলি হ্যালস্টেড বলেছেন, প্রি-কামব্রিয়ান হিসেবে পাথুরে স্টার্মাটোলাইটে নীল সবুজ শৈবালের ফসিল রয়েছে! অঙ্গুরিমাল আর সন্ধিপদীদের মধ্যবর্তী জেলিফিশ, সাগর কলম ও স্প্রিগ্রিনাদের ফসিল পাওয়া গেছে অষ্ট্রেলিয়ার এডিলেডের কাছে।৫ তাছাড়া ইচথিওস্টেগাকে সহজেই মাছ ও উভচরের মাঝে জায়গা দেওয়া যায়। এমন বহু উদাহরণ আছে। সৃষ্টিবাদীরা বলে বেড়ান, বিবর্তন নাকি থার্মোডাইনামিক্স-এর দ্বিতীয় সূত্র, যা বলে সাম্য প্রতিষ্ঠা পর্য্যন্ত শক্তির প্রবাহ চলে উঁচু থেকে নীচুর দিকে, তা মানে না। প্রকৃতিতে শক্তির প্রবাহ উঁচু থেকে নীচুতেই তো হয়, সূর্য থেকে গ্রহে (পৃথিবীতে), সূর্য থেকে গাছ থেকে প্রাণী। কিন্তু সৃষ্টিবাদীরা পৃথিবীকে সূর্য-বিচ্ছিন্ন এক ‘স্বতন্ত্র বদ্ধ অবস্থা’ বলতে চান। সৌর বিশ্ব থেকে এভাবে পৃথিবীকে বিচ্ছিন্ন করা যায় কি? সৃষ্টিবাদীদের এমন কাণ্ড দেখে স্টেফান জে গুল্ড বলেছেন, ‘সৃষ্টিবাদীরা বায়োলজির মতো ফিজিক্সটাও কম জানেন’। আর মায়ার বলেন, ‘ওরা ইচ্ছে করেই তাপগতিবিদ্যার সূত্রকে বিকৃত করছে হয় ভ্রান্তি নয় বিদ্বেষপরায়ন মনোভাব থেকে’।৬ বিপ্লবী আবহাওয়ায় বৈপ্লবিক মতবাদ ডারউইনের তত্ত্ব ছিল বৈপ্লবিক এবং এক সামাজিক বৈপ্লবিক আবহাওয়াতেই তার জায়ন ঘটেছিল। তাঁর বিগল যাত্রার সময় ইংল্যান্ড-এ সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কার আন্দোলন চলছিল। সালটা ছিল ১৮৩১। ১৮৩২ এ মধ্যবিত্তদের ভোটাধিকার দিয়ে ইংল্যান্ডের সংস্কার বিল, বা ‘গ্রেট রিফর্ম এক্ট’ পাশ হল। সে অধিকার পেলোনা নিম্ন আয়ের নাগরিকরা। যাত্রা শেষের বেশ কিছুকাল পরে, ১৮৪৮ নাগাদ যখন তিনি সমস্ত তথ্য নিয়ে অভিব্যক্তি তত্ত্বের ভিত্তি গড়ছেন, তখনও ইংল্যান্ডে এক বিদ্রোহের কাল। আয়ারল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন তখন তীব্র হয়েছে। পার্লামেন্ট তাদের দমনের জন্য আইন পাশ করলো। এই আবহে এক বিপ্লবী তত্ত্ব হিসেবে বিকশিত হলো ডারউইনবাদ। সমস্ত বিপ্লবী তত্ত্বের মতো এটিও প্রচলিত ধারনায় পরিবর্তনের কথা বললো। সৃষ্টির জগৎ থেকে ঈশ্বরকে সরিয়ে রাখলো দূরে। ডারউইনের বিবর্তনবাদ সম্পর্কে এঙ্গেলসের বক্তব্য, ‘এই প্রসঙ্গে সবার আগে ডারউইনের নাম করতে হয়। সমস্ত জৈব প্রজাতি (উদ্ভিদ, প্রাণী এবং মানুষ নিজেই) একটা লক্ষ লক্ষ বছর ব্যাপী দীর্ঘ বিবর্তনের ফল এটা প্রমাণ করে ডারউইন আধিবিদ্যক ধ্যানধারণার উপর চূড়ান্ত আঘাত হানলেন।’ মার্কসও ডারউইন পড়ে খুশি হয়েছিলেন প্রকৃতিবিজ্ঞানে টেলোলজির মৃত্যু এবং তার যৌক্তিক অর্থ পরীক্ষামূলক ভাবে বর্ণিত হতে দেখে। টেলোলজিকে আমরা এককথায় বলতে পারি পরমকারণবাদ। পরমকারণবাদে বলা হয়, এই পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টির পেছনেই এক বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে। বিবর্তনবাদে হল তার অন্ত! মার্কসের মৃত্যুর পর হাইগেট সমাধিক্ষেত্র বক্তৃতায় এঙ্গেলস তাঁর ভূমিকাকে ডারউইনের সঙ্গে তুলনীয় করে মন্তব্য করেন, ‘জীবজগতের বিকাশের নিয়ম যেমন ডারউইন আবিষ্কার করেছিলেন, মার্কস সেভাবেই মানব ইতিহাসের বিকাশের নিয়ম আবিষ্কার করেছিলেন’। 'অস্তিত্বের জন্য সংগ্রামের' ভাবনাটিকে প্রসারিত করে এঙ্গেলস বলেছেন, ‘পুঁজিবাদী ব্যবস্থা মানব সমাজকে এমন জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে যেখানে অস্তিত্বের জন্য সংগ্রামের অর্থ এটাই হতে পারে যে, উৎপাদকেরা উৎপাদন ও বিনিময়ের ব্যবস্থাপনা নিজেদের হাতে নেবে, কারণ এই ব্যবস্থাপনা যাদের হাতে আছে, তারা আর সেটা চালাতে পারছে না। তার অর্থ আপনি সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে পৌঁছবেন।’ ইহলোকের স্বর্গ ডারউইনবাদ ডারউইনের বিগল যাত্রার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ফসল। অভিযান থেকেই অসংখ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে তিনি তার তত্ত্বের পক্ষে যুক্তি যুগিয়ে ছিলেন। সেই নিরিখে ডারউইনবাদকে আমরা অনেকটা চার্বাক দর্শনের অনুসারী বলতে পারি, যেখানে প্রত্যক্ষতার প্রমাণই মুখ্য। অপ্রত্যক্ষতার বদলে এই প্রত্যক্ষতার প্রমাণ মেনে নিলে কি হবে তা বলেছেন হেমন্ত গঙ্গোপাধ্যায়। বলেছেন, ‘প্রত্যক্ষকে প্রমাণ বলে মেনে নিলে প্রত্যক্ষের অযোগ্য পরলোক জন্মান্তর অবিনশ্বর আত্মা, পূর্বজন্মের কর্মফল ও অদৃষ্ট জনিত ইহলোকের দুঃখ ভোগ, পুণ্য কর্ম ও ঈশ্বর উপাসনার দ্বারা স্বর্গলাভ, মুক্তি এ সমস্ত মূর্খ বিশ্বাস আর জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না। নিপীড়িত মানুষ তখন সমস্ত দুঃখ লাঞ্ছনার জন্য উচ্চ বর্ণের শ্রেণী স্বার্থ কলুষিত ধর্মীয় সমাজ ব্যবস্থাকে দায়ী করবে তারা মানুষের বাঁচার অধিকারের দাবিতে বিদ্রোহ করবে।’৭ সেই বিদ্রোহ ঠেকাতেই সৃষ্টিবাদ। যা কর্মফলে পরলোকে স্বর্গের কথা বলে। আর ডারউইনের তত্ত্বে আছে ইহলোকের ঘটনার ইহলৌকিক ব্যাখ্যা। সেই ব্যাখ্যা ইহলোকের স্বর্গ গড়তে মনকে উদ্দীপ্ত করে। তথ্যসূত্র প্রকাশের তারিখ: ১২-ফেব্রুয়ারি-২০২৪ |
© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |