|
|
শুল্কের প্রাচীর গড়ে ধ্বংস করব, গোটা দুনিয়াকে হুমকি ট্রাম্পেরপ্রভাত পট্টনায়েক |
|
রোজা লুক্সেমবার্গ বলেছিলেন যে, পুঁজিবাদের বিকাশ শেষ বিচারে এমন একটা চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছয় যেখানে মানবজাতির সামনে যে কোনও একটা বিষয় বেছে নেওয়ার পরিস্থিতি হাজির হয়। তাকে সমাজতন্ত্র কিংবা বর্বরতা — যে কোনও একটা দিক বেছে নিতে হবে। সেই বিষয়টাই এখন আরও সজোরে ফিরে আসছে। এই পুঁজিবাদ মানবজাতিকে এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে নিয়ে চলেছে যেখানে আসলে রয়েছে পরিব্যাপ্ত ও বর্বরোচিত নয়া ফ্যাসিবাদ। এখান থেকে ধাপে ধাপে সমাজতন্ত্রে রূপান্তরের পথে এগোতে পারলেই মুক্তির একটা দিশা পাওয়া যবে। |
|
অন্য দেশের বিরুদ্ধে উঁচু হারে শুল্ক চাপানোকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করার হুমকি দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনটি হুমকি-বিবৃতি তিনি আগেই দিয়ে ফেলেছেন: প্রথমত, ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলিকে তিনি হুমকি দিয়েছেন যে, যদি তারা ডলারের বদলে অন্য মুদ্রায় বাণিজ্য করার চেষ্টা করে, তাহলে আমেরিকার বাজারে তাদের রপ্তানি করা পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে। দ্বিতীয়ত, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে তিনি এই মর্মে হুমকি দিয়েছেন যে, তাদের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য যদি ইউরোপ আরও বেশি মার্কিন গ্যাস ও খনিজ তেল না কেনে (পণ্য বাণিজ্যে ইউরোপের উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ২০২৩ সালে ২০৮.৭ বিলিয়ন ডলার), তাহলে আমেরিকায় তাদের রপ্তানি করা পণ্যের ওপর চড়া হারে শুল্ক বসানো হবে। তৃতীয়ত, সারা বিশ্ব থেকে আমেরিকায় রপ্তানি করা পণ্যে অন্তত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে এবং চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৬০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। (২০২৩ সালে আমেরিকার সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে চীনের উদ্বৃত্ত ছিল ২৭৯.৪ বিলিয়ন ডলার। তবে ২০১৮ সালে এই উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ৪১৮ বিলিয়ন ডলার। সুতরাং, ২০১৮র তুলনায় ২০২৩ সালে চীনের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ কমেছে। তবে এখনও যা আছে তার পরিমাণ যথেষ্টই।) প্রস্তাবিত এই তিনটি ব্যবস্থারই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনও রাশিয়ার কাছ থেকে যতটুকু প্রাকৃতিক গ্যাস কেনে তার বদলে যদি তারা পুরোটাই মার্কিনি গ্যাস কেনে তাতে হয়ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের খরচ বাড়বে না, তবে এর জেরে নিশ্চিতভাবেই আমেরিকায় গ্যাসের দাম বেড়ে যাবে। হিসাব কষে দেখা গেছে যে এক্ষেত্রে আমেরিকায় গ্যাসের দাম ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর উত্তরে ট্রাম্পের বক্তব্য হল, আমেরিকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো হবে যাতে বাড়তি চাহিদা সামাল দেওয়া যায়। কিন্তু প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে হলে দরকার পুঁজি বিনিয়োগ, এবং সেটা হতে হবে বেসরকারি বিনিয়োগ, যা আমেরিকায় সরকারি আদেশের জেরে করানো যায় না। তাছাড়া অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের উৎপাদনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতির প্রশ্ন। যেহেতু পরিবেশের কারণে তেল ও গ্যাসের ব্যবহার কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, তাই এইস সব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ নাও হতে পারে। যদিও তা করা হয়, তাহলে পরিবেশ সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়টি আরও তীব্র হয়ে উঠবে। আবার, যদি ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির রপ্তানি করা পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়, তাহলে তারাও নিশ্চিতভাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। সেটা আবার আমেরিকার রপ্তানিক্ষেত্রের সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলবে। এসব কিছুই এখনও নিছক সম্ভাবনার গর্ভে। তবে এসবের মধ্যে যেটা অনেক বেশি নিশ্চিতভাবে ঘটবে তা হল, সারা বিশ্ব থেকে আমেরিকায় আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ কর বসবে। এবং চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৬০ শতাংশ কর বসবে। বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এদুয়ের স্পষ্ট একটি প্রভাব নিয়ে আমি আলোচনা করব। ধরে নেওয়া যাক, আমেরিকা এধরনের শুল্ক চাপালে কোনও দেশ তার পাল্টা ব্যবস্থা নেবে না (যদি তারা তেমন কোনও ব্যবস্থা নেয় তাহলে এখন যে যুক্তি আমি পেশ করতে চলেছি তা কিছুটা বদলে যেতে পারে, কিন্তু সেই যুক্তির ধারটা আদৌ পুরোপুরি নাকচ হয়ে যাবে না)। যদি অন্য দেশগুলি রপ্তানি বন্ধ করে দেয় তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই মার্কিন পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাবে এবং সেক্ষেত্রে সেদেশে উৎপাদনের মাত্রা এবং কর্মসংস্থান দুই বাড়বে। বস্তুত ট্রাম্প এই অভিযোগ করেই চলেছেন যে, আমেরিকানরা বিপুল পরিমাণে ইউরোপের তৈরি গাড়ি কেনে, কিন্তু উল্টোটা কখনই হয় না। যদি ইউরোপ থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর শুল্ক চাপানো হয়, তাহলে আমেরিকার মধ্যে আমেরিকায় তৈরি গাড়ির চাহিদা বাড়বে, ফলে উৎপাদন বাড়বে ( এবং গাড়ি শিল্পে কর্মসংস্থানও বাড়বে)। যদি আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্কের হার বাড়ানো হয়, তাহলে জিনিসের দাম বাড়বে এবং জীবনধারনের খরচও বেড়ে যাবে। তখন উপভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতাও কমে যাবে। এবং তারই প্রতিক্রিয়ায় চাহিদা কমায় উৎপাদন কমবে, তার ফলে কর্মসংস্থানও সংকুচিত হবে। যদি মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানোর লক্ষ্যে ট্রাম্প মু্দ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘ব্যয়সঙ্কোচ’এর রাস্তায় হাঁটেন, তাহলে বিষয়টা আরও উচ্চকিতভাবে সামনে আসবে। কিন্তু ধরে নেওয়া যাক, এবং সেটাই সম্ভবত ঘটবে, ট্রাম্পের শুল্ক বাড়ানোর নীতির কারণে আমেরিকায় কর্মসংস্থানে এবং উৎপাদনে নীট বৃদ্ধি ঘটবে। বাকি বিশ্বে একই কারণে, চাহিদা বাড়ানোর কোনও পাল্টা পদক্ষেপ না নেওয়ার এবং মার্কিন বাজার হাতছাড়া হওয়ার কারণে, কর্মসংস্থানের সুযোগ কমবে। সহজ কথায় এর মানে দাঁড়াবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার নিজের দেশের বেকারি বাকি বিশ্বে রপ্তানি করবে। শুল্ক প্রাচীর গড়ার মধ্যে দিয়ে তারা বাকি বিশ্বের প্রতি যে আচরণটা করবে সেটা হল, নিজের প্রতিবেশীকে ভিখারিতে পরিণত করো। সম্প্রসারণমূলক ফিসক্যাল বা রাজকোষ নীতি অনুসরণ করার মাধ্যমে (অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোর জন্যে আর্থিক নীতি একটা ভোঁতা হাতিয়ার) যদি অভ্যন্তরীণ বাজারকে উৎসাহ দিতে পারত বাকি বিশ্ব, তাহলে আমেরিকা শুল্কের প্রাচীর গড়ে তুললেও বাস্তবে তার কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া হত না। তবে চীন ছাড়া অন্য কোনও অর্থনীতির পক্ষেই এটা করা সম্ভব নয়। এধরনের সম্প্রসারণমূলক রাজকোষ নীতি অবশ্যই দু ধরনের চেহারা নিয়ে সামনে আসবে — হয় আরও অনেক বেশি রাজকোষ ঘাটতি, নতুবা পুঁজপতিদের ওপর এবং সাধারণভাবে ধনীদের ওপর আরও অনেক বেশি করের বোঝা, কারণ তারাই তাদের আয়ের অনেক বেশি অংশ সঞ্চয় করতে পারে। শ্রমজীবীরা তাদের আয়ের অধিকাংশটাই ভোগের পিছনে খরচ করে বলে তাদের ওপর করহার বাড়ালে এবং তা থেকে আয় করা অর্থ সরকারি খরচের খাতে ব্যয় করলে শুধুমাত্র মোট চাহিদার আঙ্গিক গঠনের বদল হবে (শ্রমজীবীদের উপভোগ কমবে এবং সরকারি খরচ বাড়বে), কিন্ত এতে মোট চাহিদার পরিমাণ বাড়বে না। কিন্তু যে ধরনের রাজকোষ নীতি নিলে বাস্তবে মোট চাহিদার পরিমাণ বাড়ে, ঠিক সেটারই বিরোধী হল আন্তর্জাতিক লগ্নি পুঁজি। আন্তর্জাতিক লগ্নি পুঁজি একটা নির্দিষ্ট সীমার বাইরে রাজকোষ ঘাটতি বাড়াতে দেয় না (সাধারণত জিডিপির ৩ শতাংশ)। এবং ধনীদের ওপর কোনও রকম কর চাপানোরও বিরোধী এই পুঁজি। কারণ এই টাকাটা আসলে বেশি করে দিতে হয় যারা অর্থের যোগানদার তাদেরই। চাহিদা বাড়ানোর লক্ষ্যে সক্রিয় কোনও অর্থনীতি চালু করার চেষ্টা করলেই পুঁজি সেই দেশ থেকে পলায়নের পথ ধরে এবং দেশের অবস্থা টলোমলো হয়ে পড়ে। কারণ বিশ্বায়িত পুঁজির একাধিপত্যই নিও লিবারাল অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য এবং এই পুঁজির জমানায় রাজকোষ ঘাটতি বাড়ানো সম্ভবই নয়। এমনকী যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপানো শুল্কের কারণে নয়া উদারবাদ থেকে কিছুটা সরতেও হয়, তাহলেও এই ধরনের শাসনের নির্যাসটা একই থেকে যায়। সেটা হল সীমান্তের কোনও রকম বাধা ছাড়াই পুঁজির অবাধ চলাচল, বিশেষ করে লগ্নি পুঁজির চলাচল, এবং এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক লগ্নি পুঁজি কোনওরকম সমঝোতা সহ্য করবে না। বস্তুত এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে ট্রাম্প যখন শুল্ক আরোপের নামে সংরক্ষণবাদের চ্যাম্পিয়ন সাজছেন তখন পুঁজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তিনি একটা কথাও বলছেন না। পুঁজিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা না থাকলে যে কোনও দেশই, যদি তারা রাজকোষ ঘাটতি বাড়ানোর পথ ধরে, তাহলে অনিবার্যভাবে তারা পুঁজি পালিয়ে যাওয়ার বিপদের মুখে পড়বে। সুতরাং এটা স্বাভাবিক যে তারা এই পথ এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করবে। তবে চীনের বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা। বস্তুত, অনেক দিন ধরেই মার্কিন প্রশাসন আমেরিকার বাজারে চীনের পণ্য ঢোকা আটকাচ্ছে এবং আমেরিকার বাজারকে আগলে রাখছে। আগেই আমরা দেখিয়েছি আমেরিকার সঙ্গে চীনের পণ্য রপ্তানি ভিত্তিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কীভাবে ক্রমশ কমছে। সেই ঘটনা থেকে আমেরিকায় চীনের পণ্য আটকানোর বিষয়টা স্পষ্ট। চীন আমেরিকার বাজার হারিয়েছে ঠিকই। তবে সেই ক্ষতি তারা অনেকাংশেই পূরণ করে নিতে পেরেছে তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ বাজারকে সম্প্রসারিত করে। চীন এটা করতে পেরেছে, এবং অন্য দেশগুলি যে এটা করতে পারেনি তার কারণ, চীন অর্থনীতির ‘উদারীকরণে’ যত পদক্ষেপই নিয়ে থাকুক না কেন, এই দেশটি সারের দিক থেকে এখনও মূলত একটি নির্দেশচালিত অর্থনীতি (কমান্ড ইকনমি) যেখানে অর্থনৈতিক বিষয়ে শেষ কথা বলে রাজনৈতিক নেতৃত্বই: চীনে একটা খুব বড় মাপের রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রের অস্তিত্ব রয়েছে, এবং চীনের অর্থনীতিতে সাধারণভাবে রয়েছে অ-পুঁজিবাদী উদ্যোগসমূহ, যাদের বিনিয়োগের সিদ্ধান্তসমূহ, এমনকী মজুরি নীতিও, সরকারি সিদ্ধান্তের দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। এটা মোটেই আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, সারা বিশ্বে যখন বেশ কিছু সময় ধরে প্রকৃত মজুরির হারে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, সেখানে সরকারি নির্দেশের জেরে চীনে প্রকৃত মজুরি বাড়ছে। সুতরাং চীনে যে অভ্যন্তরীণ বাজার প্রসারিত হয়ে চলেছে সেটা ঘটছে আন্তর্জাতিক লগ্নি পুঁজির চোখরাঙানিকে উপেক্ষা করেই, সেখানে আন্তর্জাতিক লগ্নি পুঁজি কোনও বাধা সৃষ্টি করতে পারছে না। অথচ কোনও পুঁজিবাদী দেশই আন্তর্জাতিক লগ্নি পুঁজির এই চোখরাঙানিকে উপেক্ষা করতে পারছে না। সুতরাং, যেখানে মার্কিন সংরক্ষণবাদের প্রভাবকে নীতিগত বিরোধিতা করা সম্ভব সেই চীন বাদে, বাকি বিশ্বে একই কারণে মন্দা আরও ঘনীভূত হবে (যদি দেশগুলি কোনও ভাবে নয়া উদারবাদী জমানার বাইরে এসে দাঁড়ায় তা হলে আলাদা কথা)। বিশেষ করে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলিতে মার্কিন নীতির প্রভাব আরও তীব্র হবে। ট্রাম্পের এই যে সংরক্ষণবাদ তার বিরুদ্ধে ব্রেটন উডসের প্রতিষ্ঠানগুলি চুপ করেই থাকবে। তারাই আবার দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলিকে মুক্ত বাণিজ্যের সুফল নিয়ে ভাষণ শোনাবে এবং দক্ষিণের দেশগুলি যদি কোনও পাল্টা সংরক্ষণবাদী ব্যবস্থা নিতে চায় তাতে বাধা দেবে। একইসঙ্গে দেশগুলিকে বাধ্য করা হবে কঠোরভাবে ‘রাজকোষ ঘাটতি সংক্রান্ত নিয়মগুলি’ মেনে চলতে এবং ধনীদের ওপর কোনও ভাবেই বেশি কর যাতে চাপানো না হয় তাও দেখা হবে (যাতে পুঁজি দেশ ছেড়ে পালিয়ে না যায় সেজন্য এটা করতে হয়)। অতএব দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলিকে ভীরুর মতোই মার্কিন সংরক্ষণবাদকে মেনে নিতে বাধ্য করা হবে। এবং সেকারণে সংরক্ষণবাদের দরুন তৈরি হওয়া মন্দা পরিস্থিতির দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে তাদের পড়তে হবে তো বটেই। সর্বোপরি, রপ্তানি পণ্যের উৎপাদন প্লান্টগুলি অন্যত্র সরে যাওয়ায় এসব দেশে পুঁজির আসার স্রোতও শুকিয়ে যাবে। বাকি বিশ্বে মন্দার প্রবণতা তীব্র হলে দেশে দেশে নিও ফ্যাশিস্টদের শক্তি আরও বাড়বে, যা এখনই সারা বিশ্বজুড়ে দেখা যাচ্ছে। অর্থনৈতিক সঙ্কটের পর্বে কর্পোরেট পুঁজি এবং নিও ফ্যাশিস্টদের জোট গড়ে উঠলে নয়া ফ্যাসিবাদই জোরদার হয়। সুতরাং কোনও ভাবে এই সঙ্কট ঘনীভূত হলে নয়া ফ্যাসিবাদী প্রবণতাই শক্তিশালী হবে, প্রতিটি সঙ্কট জর্জরিত দেশে কোনও অসহায় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে "অপর' হিসাবে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করা হবে এবং এভাবে বাস্তব জীবনের ইস্যুগুলি থেকে যে কোনও আলোচনাকেই বিপথগামী করে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। রোজা লুক্সেমবার্গ বলেছিলেন যে পুঁজিবাদের বিকাশ শেষ বিচারে এমন একটা চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছয় যেখানে মানবজাতির সামনে যে কোনও একটা বিষয় বেছে নেওয়ার পরিস্থিতি হাজির হয়। তাকে সমাজতন্ত্র কিংবা বর্বরতা — যে কোনও একটা দিক বেছে নিতে হবে। সেই বিষয়টাই এখন আরও সজোরে ফিরে আসছে। নয়া উদারবাদী পুঁজি এখন একটা অন্ধ গলিতে গিয়ে পড়েছে, সেটাই পুঁজিবাদের এখনকার পর্যায়। এই পুঁজিবাদ মানবজাতিকে এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে নিয়ে চলেছে যেখানে আসলে রয়েছে পরিব্যাপ্ত ও বর্বরোচিত নয়া ফ্যাসিবাদ। এখান থেকে ধাপে ধাপে সমাজতন্ত্রে রূপান্তরের পথে এগোতে পারলেই মুক্তির একটা দিশা পাওয়া যবে। সূত্র: পিপলস ডেমোক্রেসি
প্রকাশের তারিখ: ০৫-জানুয়ারি-২০২৫ |
|
© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |